• Colors: Purple Color

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদের বিবরণী প্রকাশ করা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এটা প্রকাশ করেছে। গত ৩০ জুন পর্যন্ত প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের মোট পরিসম্পদ ছিল ১৫ কোটি ৬২ লাখ ৪৪ হাজার ৬৫ টাকার। এক বছর আগে তা ছিল ১৪ কোটি এক লাখ ৩৯ হাজার ৬৭৩ টাকা। অর্থাৎ এক বছরে প্রধান উপদেষ্টার সম্পদ বেড়েছে এক কোটি ৬১ লাখ ৪ হাজার ৩৯২ টাকা।

সঞ্চয়পত্র নগদায়ন, সঞ্চয়ী বা মেয়াদি আমানতে বৃদ্ধি, উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া শেয়ার ইত্যাদি কারণে মোট সম্পদ বেড়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি। প্রধান উপদেষ্টার স্ত্রী আফরোজী ইউনূসের মোট পরিসম্পদ এক কোটি ২৭ লাখ ৬৩ হাজার ৩৬০ টাকা। যা আগের অর্থবছরে ছিল দুই কোটি ১১ লাখ ৭৭ হাজার ২৭৪ টাকা। সে হিসেবে এক বছরে তাঁর সম্পদ কমেছে ৮৪ লাখ ১৩ হাজার ৯১৪ টাকা।

আয়কর আইন অনুযায়ী, একজন করদাতার মালিকানাধীন স্থাবর-অস্থাবর, আর্থিক ও মূলধনী সম্পত্তির সমষ্টি হলো পরিসম্পদ।

২০২৪ সালের ২৫ আগস্ট জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে দুর্নীতির বিরুদ্ধে স্পষ্ট অবস্থানের কথা তুলে ধরে প্রধান উপদেষ্টা বলেছিলেন, সব উপদেষ্টা দ্রুততম সময়ের মধ্যে তাঁদের সম্পদের বিবরণী প্রকাশ করবেন। পর্যায়ক্রমে এটি সরকারি সব কর্মকর্তার ক্ষেত্রেও নিয়মিত ও বাধ্যতামূলক করা হবে। রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে দুর্নীতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণে সংবিধানের ৭৭ অনুচ্ছেদে প্রতিশ্রুত ন্যায়পাল নিয়োগে অধ্যাদেশ প্রণয়ন করা হবে বলেও তিনি ভাষণে উল্লেখ করেছিলেন।

ওই বছরের ১ অক্টোবর ‘অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা এবং সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের আয় ও সম্পদ বিবরণী প্রকাশের নীতিমালা, ২০২৪’ জারি করা হয়। নীতিমালায় বলা হয়, অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা এবং সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তি, যাঁরা সরকার বা প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিযুক্ত, তাঁরা প্রতিবছর আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার সর্বশেষ তারিখের পরবর্তী ১৫ কর্মদিবসের মধ্যে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের মাধ্যমে প্রধান উপদেষ্টার কাছে তাঁদের আয় ও সম্পদের বিবরণী জমা দেবেন। স্ত্রী বা স্বামীর পৃথক আয় থাকলে সেটিও জমা দিতে হবে। এই বিবরণী প্রধান উপদেষ্টা নিজ বিবেচনায় উপযুক্ত পদ্ধতিতে প্রকাশ করবেন।

কিন্তু এতদিনেও তা প্রকাশ না করায় সমালোচনা হচ্ছিল। এ বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম গত সোমবার জানিয়েছিলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদের বিবরণী দু-এক দিনের মধ্যে প্রকাশ করা হবে।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ৮ আগস্ট অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়। পরে কয়েক দফায় নতুন উপদেষ্টা নিয়োগ দেওয়া হয়। সংযোজন-বিয়োজনের পর বর্তমানে উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যসংখ্যা প্রধান উপদেষ্টাসহ ২১। এ ছাড়া উপদেষ্টা পদমর্যাদায় বিশেষ সহকারী, বিশেষ দূত ও জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা চারজন। প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় প্রধান উপদেষ্টার চার বিশেষ সহকারী দায়িত্ব পালন করছেন। আজ তাঁদের সবার সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করা হলো।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক যাত্রায় একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক বলে জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেওয়ার সময় এই কথা বলেছেন তিনি।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, এই নির্বাচন শুধু আরেকটি নিয়মিত নির্বাচন নয়। এটি একটি গণঅভ্যুত্থানের পর দেশের প্রথম জাতীয় নির্বাচন। দীর্ঘ সময় ধরে জমে থাকা ক্ষোভ, বৈষম্য, বঞ্চনা ও অবিচারের বিরুদ্ধে জনগণের যে জাগরণ আমরা দেখেছি, এই নির্বাচন তার সাংবিধানিক প্রকাশ। রাজপথের সেই দাবি আজ আপনাদের ব্যালটের মাধ্যমে উচ্চারিত হতে যাচ্ছে। তাই এই নির্বাচন বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক যাত্রায় একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক।

‘এই নির্বাচনের মাধ্যমে আমরা শুধু জনপ্রতিনিধি নির্বাচন করছি না— একই সাথে আমরা সিদ্ধান্ত নিচ্ছি, বাংলাদেশ কোন পথে এগোবে। আমরা কি একটি বৈষম্যহীন, ন্যায়ভিত্তিক ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র গড়তে পারব, নাকি আবারও পুরোনো ক্ষমতাকেন্দ্রিক ও অনিয়ন্ত্রিত বৃত্তে ফিরে যাব—এই প্রশ্নের উত্তর দেবে গণভোট।’

তিনি আরও বলেন, আমি সকল প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর প্রতি আন্তরিক আহ্বান জানাই—নির্বাচনের ফলাফল যাই হোক না কেন, ব্যক্তিগত বা দলীয় স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে জাতির বৃহত্তর স্বার্থকে প্রাধান্য দিন। বিজয় যেমন গণতন্ত্রের অংশ, তেমনি পরাজয়ও গণতন্ত্রের অবিচ্ছেদ্য সত্য। নির্বাচনের পর সবাই মিলে একটি নতুন, ন্যায়ভিত্তিক, গণতান্ত্রিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ গড়ার কাজে আত্মনিয়োগ করুন।

 

ঢাকা

নাগরিক সুরক্ষা ও মানবিক সহায়তা কার্যক্রমের আওতায় বাংলাদেশে রোহিঙ্গা শরণার্থী ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচিকে (ডব্লিউএফপি) অতিরিক্ত ২০ লাখ ইউরো (যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ২৯১৪৮৯২০০ টাকা) অনুদান দিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)।

মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) ডব্লিউএফপির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, নতুন এই অনুদানের ফলে ২০২৫ সালে বাংলাদেশে ডব্লিউএফপিতে ইইউর মোট অবদান বেড়ে দাঁড়াল ১ কোটি ৫৩ লাখ ইউরোতে। এই অর্থ রোহিঙ্গা শরণার্থী ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য জীবন রক্ষাকারী খাদ্য ও পুষ্টি সহায়তা নিশ্চিত করতে ব্যবহৃত হবে।

বাংলাদেশে ইইউ মানবিক সহায়তার প্রধান ডেভিড জাপ্পা বলেন, ২০২৫ সাল বিশ্বব্যাপী মানবিক কার্যক্রমের জন্য একটি চ্যালেঞ্জিং বছর। তবুও রোহিঙ্গা এবং তাদের আশ্রয়দাতা সম্প্রদায়ের প্রতি ইইউ দৃঢ়ভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সংকটে থাকা মানুষের প্রতি সংহতি ও সমর্থন ইইউর প্রতিষ্ঠাতা নীতির অংশ।

ডব্লিউএফপি বর্তমানে ই-ভাউচার ব্যবস্থার মাধ্যমে পুরো রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে খাদ্য সহায়তা দিয়ে আসছে। প্রায় ১২ লাখ মানুষ এই সহায়তার আওতায় রয়েছে, যার মধ্যে ২০২৪-২০২৫ সময়ে নতুন আসা প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার রোহিঙ্গাও অন্তর্ভুক্ত। প্রতিটি পরিবার মাসে ১২ মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ সহায়তা পায়, যা দিয়ে তারা প্রধান ও তাজা খাদ্যসামগ্রী কিনতে পারে।

এ ছাড়া শিশু এবং গর্ভবতী ও স্তন্যদানকারী মায়েদের অপুষ্টি প্রতিরোধ ও চিকিৎসা, ৪ থেকে ১৪ বছর বয়সী প্রায় ২ লাখ ৬০ হাজার রোহিঙ্গা শিশুর জন্য স্কুল মিল এবং রোহিঙ্গা ও স্থানীয় উভয় সম্প্রদায়ের জন্য জীবিকা ও সক্ষমতা বৃদ্ধির কার্যক্রম পরিচালনা করছে ডব্লিউএফপি।

ডব্লিউএফপি বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত কান্ট্রি ডিরেক্টর সিমোন লসন পার্চমেন্ট বলেন, ইইউর সময়োপযোগী অবদান এবং দীর্ঘস্থায়ী অংশীদারিত্বের জন্য আমরা কৃতজ্ঞ। এই ধরনের প্রতিশ্রুতির মাধ্যমেই ক্রমবর্ধমান চাহিদার সঙ্গে তাল মিলিয়ে সহায়তা দেওয়া সম্ভব।

নবম বছরে প্রবেশ করা রোহিঙ্গা সংকট এখনও তীব্র তহবিল ঘাটতির মুখে। ২০২৬ সালে জীবন রক্ষাকারী খাদ্য ও পুষ্টি সহায়তা কর্মসূচি চালিয়ে যেতে ডব্লিউএফপির প্রয়োজন হবে প্রায় ১৪ কোটি ৭০ লাখ মার্কিন ডলার। নতুন অর্থ সহায়তা না এলে এপ্রিলের শুরু থেকেই এই কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টারা রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন কেন্দ্রে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এদিন সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত ২৯৯টি আসনে একযোগে স্বচ্ছ ব্যালট বাক্সের মাধ্যমে ভোটগ্রহণ চলবে।

সচিবালয় ও বিভিন্ন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, অধিকাংশ উপদেষ্টা নির্বাচনের দিন ঢাকায় অবস্থান করবেন এবং নিজ নিজ এলাকার নির্ধারিত কেন্দ্রে ভোট দেবেন।

আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসভুক্ত উদয়ন হাইস্কুল এন্ড কলেজ কেন্দ্রে ভোট দেবেন। একই এলাকার ইউনিভার্সিটি ল্যাবরেটরী স্কুল কেন্দ্রে ভোট দেবেন শিক্ষা উপদেষ্টা ড. সিআর আবরার।

এছাড়া রাজধানীর মিরপুর ১২ নম্বর এলাকার ই ব্লকের একটি কেন্দ্রে ভোট দেবেন সমাজকল্যাণ উপদেষ্টা শারমীন এস মুরশিদ। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার শ্যামলী শিশু মেলার কাছের একটি কেন্দ্রে এবং নৌপরিবহন উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন মহাখালী ডিওএসএইচ এলাকার একটি স্কুল কেন্দ্রে ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন।

ঢাকার অন্যান্য এলাকার মধ্যে উত্তরা ১০ নম্বর সেক্টর প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দেবেন ভূমি উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান গুলশান-২ এর গুলশান মডেল স্কুল এন্ড কলেজ কেন্দ্রে এবং বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন ধানমন্ডির একটি কেন্দ্রে ভোট দেবেন। তবে ঢাকার বাইরে চট্টগ্রামের মেহেদীবাগ এলাকায় ভোট দেবেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ উপদেষ্টা ফারুক-ই-আজম।

ধর্ম উপদেষ্টা ড. খালিদ হোসেন জানিয়েছেন, জরুরি দাপ্তরিক কাজের কারণে তিনি সম্ভবত এবার চট্টগ্রামে নিজ কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিতে পারছেন না। মঙ্গলবার তিনি ধর্ম মন্ত্রণালয় থেকে আনুষ্ঠানিক বিদায় নিয়েছেন বলেও জানান।

উল্লেখ্য, একই দিনে সংসদ নির্বাচন এবং গণভোট অনুষ্ঠিত হওয়ায় ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সরকার ও নির্বাচন কমিশন একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ভোট গ্রহণ হবে আগামীকাল বৃহস্পতিবার। নির্বাচন সামনে রেখে ভোট উৎসবে মেতেছে সারা দেশ। এর সঙ্গে ভোটের আগে ও পরে মিলিয়ে চার দিনের ছুটিতে রাজধানী ঢাকা ছেড়ে গ্রামের বাড়িতে যাচ্ছেন হাজার হাজার মানুষ। ট্রেন ও বাসে ঈদের ছুটির মতো মানুষের চাপ। অনেকেই আসন না পেয়ে ট্রেনের ছাদে উঠে পড়েন। মানুষের উপচে পড়া ভিড়ে যানজটও তৈরি হয়েছে।

বিকেলে কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে সিরাজগঞ্জে যাওয়ার জন্য ট্রেনে ওঠেন মোস্তাফিজুর রহমান। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘অনেক মানুষ উৎসবমুখর পরিবেশে নিজ এলাকায় ভোট দিতে যাচ্ছেন। আমি অনেক কষ্ট করে ট্রেনে উঠতে পেরেছি, কিন্তু এখনো অনেকে দাঁড়িয়ে আছেন, তাঁরা উঠতে পারছেন না। অনেকে বাধ্য হয়ে ঝুঁকি নিয়ে ছাদে উঠে গেছেন। ঈদের ছুটিতে যে রকম বিশেষ ট্রেনের ব্যবস্থা রাখা হয়, এবার কিন্তু সে রকম করা হয়নি। সরকারের উচিত ছিল বিশেষ ট্রেনের ব্যবস্থা করা।’

রাজধানী ছাড়ছেন মানুষ। গাবতলী এলাকা। ১০ ফেব্রুয়ারি
রাজধানী ছাড়ছেন মানুষ। গাবতলী এলাকা। ১০ ফেব্রুয়ারি
 

জীবনে প্রথমবার ভোট দিতে গ্রামের বাড়ি ময়মনসিংহে যাচ্ছেন রুমান হাসান। তিনি বলেন, সরকারের এই দিকে বিশেষ দৃষ্টি দেওয়া উচিত ছিল। প্রতিটি দিনের জন্য আলাদা আলাদা বিশেষ ট্রেনের ব্যবস্থা করলে মানুষকে এত ভোগান্তি পোহাতে হতো না। এখনো এক দিন রয়েছে, সরকারের উচিত দ্রুত এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া।

কোনো আসন না পেয়ে ট্রেনের বগির দরজার পাশে কোনোমতে বাবার সঙ্গে দাঁড়িয়ে ছিলেন সাবিহা সুলতানা। ওই অবস্থাতেই তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘প্রথমবার ভোট দিতে যাচ্ছি (কিশোরগঞ্জ)। কোনোমতে উঠে দাঁড়ালাম। এখন ঠিকমতো বাড়িতে পৌঁছাতে পারলেই স্বস্তি।’

আজ গাজীপুরের টঙ্গী রেলস্টেশনে যাত্রীর চাপ ছিল সাধারণ দিনের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি। প্রায় প্রতিটি ট্রেনে ছিল যাত্রীর অতিরিক্ত চাপ। যাঁরা ট্রেনের ভেতরে জায়গা পাননি, তাঁরা ছাদে চড়েই রওনা দেন গ্রামের বাড়িতে। তাঁরা প্রায় সবাই শ্রমজীবী মানুষ।

কমলাপুর রেলস্টেশনের ব্যবস্থাপক মো. সাজেদুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, গত সোমবার থেকে ঘরে ফেরা মানুষের চাপ বেড়েছে। মঙ্গলবার সকালেও যাত্রীদের ভিড় ছিল অনেক। সব ট্রেন সময়মতো ছেড়ে গেলেও বুড়িমারী এক্সপ্রেস দেরিতে আসে এবং দেরিতে ছেড়ে যায়। রেলওয়ের পক্ষ থেকে ট্রেনের ছাদে ওঠার অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না। তবে অনেক যাত্রী বিভিন্নভাবে ছাদে ওঠার চেষ্টা করছেন।

বাস, ট্রাক, পিকআপ যেটা পাওয়া গেছে, সেটাতে চড়েই মানুষ বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন। গাবতলী এলাকা। ১০ ফেব্রুয়ারি
বাস, ট্রাক, পিকআপ যেটা পাওয়া গেছে, সেটাতে চড়েই মানুষ বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন। গাবতলী এলাকা। ১০ ফেব্রুয়ারি
 

নির্বাচন উপলক্ষে ঘোষিত বিশেষ ছুটিতে অন্যান্য শ্রেণি–পেশার মানুষের পাশাপাশি বাড়িতে যাচ্ছেন কারখানার শ্রমিকেরাও। আজ সকালে তাঁরা একযোগে রওনা দেওয়ায় গাজীপুরের ঢাকা–টাঙ্গাইল ও ঢাকা–ময়মনসিংহ মহাসড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।

সকাল থেকেই কালিয়াকৈর উপজেলার চন্দ্রা, সফিপুর, মৌচাক ও কোনাবাড়ী এলাকায় বাস, ট্রাক, প্রাইভেট কারসহ বিভিন্ন যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখা যায়। স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় কয়েক গুণ বেশি সময় লাগছে যাত্রীদের গন্তব্যে পৌঁছাতে। সন্ধ্যা পৌনে ছয়টা পর্যন্ত একই রকম ভিড় দেখা যায়। চন্দ্রা থেকে উভয় দিকে প্রায় ১০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে যানজট লেগে থাকে এবং যানবাহন থেমে থেমে চলতে দেখা যায়।

দুপুরে চন্দ্রা ত্রিমোড় এলাকায় কথা হয় মিরপুর এলাকার পোশাকশ্রমিক রফিকুল ইসলামের সঙ্গে। যানজটের কারণে বাসের জানালার পাশে বসা রফিকুলের মুখে ছিল বিরক্তি ভাব। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, কারখানা থেকে ভোট দেওয়ার জন্য ছুটি পেয়েই সকালে রওনা দিয়েছেন, কিন্তু এক ঘণ্টার বেশি সময় ধরে একই জায়গায় দাঁড়িয়ে আছেন। কখন বাড়িতে পৌঁছাবেন, তা নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছেন তিনি।

চন্দ্রা মোড়ে কথা হয় গৃহকর্মী হাসিনা বেগমের সঙ্গে। তিনি বলেন, ভোট দেওয়ার জন্যই এত কষ্ট করে বাড়িতে যাচ্ছেন। কিন্তু রাস্তার এই দীর্ঘ যানজটে ছোট সন্তান নিয়ে ভোগান্তি বেড়ে গেছে।

বাসের অপেক্ষায় কাউন্টারে যাত্রীরা। কল্যাণপুর এলাকা, ১০ ফেব্রুয়ারি
বাসের অপেক্ষায় কাউন্টারে যাত্রীরা। কল্যাণপুর এলাকা, ১০ ফেব্রুয়ারি
 

গাজীপুরের জয়দেবপুর জংশনে ঘরমুখী মানুষের উপচে পড়া ভিড় ছিল সকাল থেকে। পর্যাপ্ত ট্রেন না থাকায় অনেক যাত্রীকে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়।

ঢাকার সড়কপথেও আজ একই ধরনের চাপ ছিল। যাত্রীর তুলনায় যানবাহনের সংখ্যা কম থাকায় যাত্রীরা গাড়ির সংকটে পড়েন। বাস, ট্রাক, পিকআপ—যা সামনে পাওয়া গেছে, তাতে করেই যাত্রা করেন তাঁরা। পর্যাপ্ত গাড়ি না থাকায় টিকিট না পাওয়া, অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগও করেন যাত্রীদের অনেকে।

ভিড় ছিল ঢাকার সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালেও। দিনভর বিভিন্ন গন্তব্যে যাত্রী নিয়ে লঞ্চ ছেড়ে যায়। সাধারণ দিনের চেয়ে সেখানেও ভিড় ছিল কয়েক গুণ বেশি।

আমাদের অনুসরণ করুন

 

সর্বাধিক পড়ুন

  • সপ্তাহ

  • মাস

  • সব