• Colors: Purple Color

গতকাল জাপানে অনুষ্ঠিত হয়েছিল সাধারণ নির্বাচন। যেখানে ভূমিধস জয় পেয়েছে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির দল লিবারাল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি (এলডিপি)। পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে এলডিপি।

জাপানের সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম এনএইচকের সংগৃহীত ফলাফল অনুযায়ী, ৪৬৫ আসনের নিম্নকক্ষে তাকাইচির এলডিপি এরই মধ্যে ৩৫২টি আসনে জয়ী হয়েছে, যা সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ২৩৩টি আসনের চেয়ে অনেক বেশি। যদিও এখনো নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক ফল ঘোষণা করা হয়নি।

জয়ের আভাস পাওয়ার পর সাংবাদিকদের তাকাইচি বলেন, আমরা ক্রমাগত একটি দায়িত্বশীল ও সক্রিয় আর্থিক নীতির গুরুত্বের ওপর জোর দিয়েছি। আমরা আর্থিক নীতির স্থায়িত্বকে অগ্রাধিকার দেব এবং প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ নিশ্চিত করব।

সানায়ে তাকাইচি ব্যক্তিগতভাবে ব্যাপক জনপ্রিয় হলেও, গত সাত দশকের অধিকাংশ সময় জাপানের ক্ষমতায় থাকা এলডিপি সাম্প্রতিক সময়ে তহবিল জালিয়াতি ও ধর্মীয় কেলেঙ্কারির কারণে বেশ চাপে ছিল। দলের রাজনৈতিক ভাগ্য পরিবর্তনের আশায় প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেয়ার মাত্র তিন মাস পরেই তিনি আগাম নির্বাচনের ডাক দিয়েছিলেন।

সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, জাপানের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তাকাইচি দলীয় নেতা হওয়ার মাত্র চার মাস পরই জনগণের কাছ থেকে স্পষ্ট ম্যান্ডেট চাইতেই এই নির্বাচন ডাকেন।

তার সম্ভাব্য সাফল্য তার দুই পূর্বসূরির সঙ্গে স্পষ্টভাবে বিপরীত, যাদের আমলে দুর্নীতি কেলেঙ্কারি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির কারণে এলডিপি সংসদীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারিয়েছিল।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর দীর্ঘ সময় ধরে জাপানে এলডিপি নেতৃত্বাধীন জোট সরকার ক্ষমতায় রয়েছে, যার অন্যতম কারণ শক্তিশালী বিরোধী দলের অভাব।

অনেকে এই নির্বাচনকে ঝুঁকিপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখেছিলেন, কারণ এলডিপি সংসদের উভয় কক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারিয়েছিল এবং কুমেইতো দলের সঙ্গে তাদের কয়েক দশকের পুরনো জোটও ভেঙে পড়ে।

তবে তাকাইচির ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা দলকে সুবিধা এনে দিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। তার সরকারের অনুমোদনের হার বেশিরভাগ সময়ই ৭০ শতাংশের ওপরে ছিল।

সূত্র : বিবিসি

 

অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ প্রায় শেষ হয়ে এলেও উপদেষ্টাদের সম্পদের বিবরণ এখনো প্রকাশ করা হয়নি। ২০২৪ সালের আগস্টে দায়িত্ব গ্রহণের দুই সপ্তাহের মাথায় জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, দ্রুততম সময়ের মধ্যে তাঁর সরকারের সব উপদেষ্টার সম্পদের বিবরণ প্রকাশ করা হবে।

প্রধান উপদেষ্টার এই ঘোষণাকে ইতিবাচকভাবে দেখেছিল বিভিন্ন মহল। তবে প্রায় দেড় বছর হলেও সেই প্রতিশ্রুতির বাস্তব প্রতিফলন দেখা যায়নি। অর্থনীতিবিদ ও দুর্নীতিবিরোধী সংস্থাগুলোর শীর্ষ পর্যায়ের ব্যক্তিরা বলছেন, একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত স্থাপনের সুযোগ তৈরি হয়েছিল, কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে তার সুফল দেশবাসী দেখেনি, যা হতাশাজনক।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ৮ আগস্ট অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়। পরে কয়েক দফায় নতুন উপদেষ্টা নিয়োগ দেওয়া হয়। সংযোজন-বিয়োজনের পর বর্তমানে উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যসংখ্যা প্রধান উপদেষ্টাসহ ২১। এ ছাড়া উপদেষ্টা পদমর্যাদায় বিশেষ সহকারী, বিশেষ দূত ও জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা চারজন। প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় প্রধান উপদেষ্টার চার বিশেষ সহকারী এবং বাংলাদেশ বিনিয়োগ বোর্ডের নির্বাহী চেয়ারম্যানও দায়িত্ব পালন করছেন।

অর্থনীতিবিদ ও দুর্নীতিবিরোধী সংস্থাগুলোর শীর্ষ পর্যায়ের ব্যক্তিরা বলছেন, একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত স্থাপনের সুযোগ তৈরি হয়েছিল, কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে তার সুফল দেশবাসী দেখেনি, যা হতাশাজনক।

২০২৪ সালের ২৫ আগস্ট জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে দুর্নীতির বিরুদ্ধে স্পষ্ট অবস্থানের কথা তুলে ধরে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, সব উপদেষ্টা দ্রুততম সময়ের মধ্যে তাঁদের সম্পদের বিবরণ প্রকাশ করবেন। পর্যায়ক্রমে এটি সব সরকারি কর্মকর্তার ক্ষেত্রেও নিয়মিত ও বাধ্যতামূলক করা হবে। রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে দুর্নীতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণে সংবিধানের ৭৭ অনুচ্ছেদে প্রতিশ্রুত ন্যায়পাল নিয়োগে অধ্যাদেশ প্রণয়ন করা হবে বলেও তিনি ভাষণে উল্লেখ করেন।

ওই বছরের ১ অক্টোবর ‘অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা এবং সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের আয় ও সম্পদ বিবরণী প্রকাশের নীতিমালা, ২০২৪’ জারি করা হয়। নীতিমালায় বলা হয়, অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা এবং সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তি, যাঁরা সরকার বা প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিযুক্ত, তাঁরা প্রতিবছর আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার সর্বশেষ তারিখের পরবর্তী ১৫ কর্মদিবসের মধ্যে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের মাধ্যমে প্রধান উপদেষ্টার কাছে তাঁদের আয় ও সম্পদের বিবরণী জমা দেবেন। স্ত্রী বা স্বামীর পৃথক আয় থাকলে সেটিও জমা দিতে হবে। এই বিবরণী প্রধান উপদেষ্টা স্বীয় (নিজ) বিবেচনায় উপযুক্ত পদ্ধতিতে প্রকাশ করবেন।

প্রথম আলোর পক্ষ থেকে উপদেষ্টাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সবার সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি। তবে যাঁদের সঙ্গে কথা হয়েছে, তাঁরা সম্পদের বিবরণী জমা দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন।

সম্পদের বিবরণী জমা পড়েছে, প্রকাশ হয়নি

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বেশির ভাগ উপদেষ্টাই তাঁদের সম্পদের বিবরণী মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে জমা দিয়েছেন। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের একজন কর্মকর্তা বলেন, সম্পদ বিবরণী জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া এখনো চলমান আছে। আগের আয়কর বছরে সবাই রিটার্ন জমা দিয়েছিলেন।

প্রথম আলোর পক্ষ থেকে উপদেষ্টাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সবার সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি। তবে যাঁদের সঙ্গে কথা হয়েছে, তাঁরা সম্পদের বিবরণী জমা দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন।

অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, ‘আমি বেশ আগেই জমা দিয়েছি।’ আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল বলেছেন, তিনি গত বছর এবং এ বছরও বিবরণী জমা দিয়েছেন। খাদ্য ও ভূমি উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার একই কথা বলেছেন।

পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগম এবং পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সুপ্রদীপ চাকমা সম্পদের বিবরণী জমা দিয়েছেন বলে প্রথম আলোকে জানিয়েছেন।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খানও জমা দিয়েছেন। এটি তিনি ফেসবুকেও জানিয়েছেন। গত ২৬ জানুয়ারি তিনি ফেসবুকে জানান, নীতিমালা অনুসারে তাঁর ও তাঁর স্ত্রীর ২০২৪-২৫ অর্থবছরের আয় ও সম্পদ বিবরণী মন্ত্রিপরিষদ সচিবের দপ্তরে জমা দেওয়া হয়েছে। এর আগে ২০২৩-২৪ অর্থবছরের কার্যবিবরণীও দাখিল করা হয়েছে। এটি ২০২৫ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত আয় ও সম্পদের বিবরণী। ২০২৫-২৬ অর্থবছর সমাপ্তির পর আবার আয় ও সম্পদ বিবরণী মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে দাখিল করবেন।

পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগম এবং পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সুপ্রদীপ চাকমা সম্পদের বিবরণী জমা দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন।

একাধিকবার সময় বৃদ্ধির পর এখন ২০২৫-২৬ অর্থবছরের আয়কর রিটার্ন দাখিলের শেষ সময় ২৮ ফেব্রুয়ারি। আইনগতভাবে চলতি আয়কর বছরের সময় এখনো থাকলেও এর আগে একটি আয়কর বছর ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে। আর বাস্তবতা হলো, অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদও একেবারে শেষ প্রান্তে। ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এরপর দায়িত্ব নেবে নতুন সরকার।

উপদেষ্টাদের সম্পদের বিবরণী প্রকাশে জাতির উদ্দেশে প্রধান উপদেষ্টার ঘোষণার পর মানুষের মধ্যে আশার সঞ্চার হয়েছিল যে এই সরকার রাষ্ট্র সংস্কার, গণতান্ত্রিক চর্চা ও জবাবদিহি চর্চা প্রতিষ্ঠা করবে। এতে একটি নতুন চর্চার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল।ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান

এমন পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠেছে, দুই অর্থবছরে আয়কর রিটার্ন দাখিলের সময়সীমা প্রায় শেষ হলেও কেন এখনো উপদেষ্টাদের সম্পদের হিসাব জনসমক্ষে প্রকাশ করেনি সরকার? গত বৃহস্পতিবার উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠক শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে একজন সাংবাদিক এ প্রশ্ন করেন। জবাবে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেন, ‘আমরা আশা করছি, এটা অচিরেই দেখতে পাবেন। আমাদের সময় যখন শেষ হয়ে আসবে, তখন দেখতে পাবেন।’

নেতিবাচক দৃষ্টান্ত

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, উপদেষ্টাদের সম্পদের বিবরণী প্রকাশে জাতির উদ্দেশে প্রধান উপদেষ্টার ঘোষণার পর মানুষের মধ্যে আশার সঞ্চার হয়েছিল যে এই সরকার রাষ্ট্র সংস্কার, গণতান্ত্রিক চর্চা ও জবাবদিহি চর্চা প্রতিষ্ঠা করবে। এতে একটি নতুন চর্চার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে এখন পর্যন্ত তার সুফল দেশবাসী দেখেনি, যা সরকারের জন্য যেমন বিব্রতকর, তেমনি দেশবাসীর জন্য হতাশাজনক। এটি সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে প্রদত্ত অঙ্গীকারের বরখেলাপ; যা নেতিবাচক দৃষ্টান্ত স্থাপন করল।

অতীতের নির্বাচনে পুলিশকে যেভাবে ব্যবহার করা হয়েছে, সেটা থেকে বেরিয়ে নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করে উদাহরণ সৃষ্টি করা হবে বলে জনিয়েছেন ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী।

সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পুলিশের নিরাপত্তা সংক্রান্ত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।

প্রধান উপদেষ্টার বাসভবনে ঢোকার চেষ্টা করলে আমরা তো বসে থাকতে পারি না। গেল শুক্রবার লাঠি হাতে আন্দোলনকারীদের পেটানোর অভিযোগে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা জানান তিনি।

১০- ২০ জন লোক যারা রাস্তা বন্ধ করে জনভোগান্তি সৃষ্টি করছে তাদেরকে প্রতিহত করার আহ্বান জানান ডিএনপি কমিশনার। প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন এলাকায় যেকোনো আন্দোলন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ উল্লেখ করে কমিশনার বলেন, নির্বাচনের কয়েকদিন আগে এমন আন্দোলন সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

শেখ মো. সাজ্জাত আলী বলেন, রাজধানীতে ২ হাজার ১৩১টি কেন্দ্র রয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র ১ হাজার ১৪টি। এখানে ৪ জন করে পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। ৩৭টি কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ। এখানে ৭ জন করে পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন।

নির্বাচনে কোনো থ্রেট নেই জানিয়ে শেখ মো. সাজ্জাত আলী বলেন, সাধারণ সময়ের চেয়ে পরিবেশ ভালো। চমৎকার পরিবেশ রয়েছে।

 

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে ভোটকেন্দ্রে মোবাইল নিয়ে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ভোটকেন্দ্রের ৪০০ গজের মধ্যে মোবাইল ফোন নিয়ে যাওয়া যাবে না। সাধারণ ভোটার থেকে শুরু করে এই তালিকায় থাকবে সাংবাদিকরাও। 

ইসির এই সিদ্ধান্ত নিয়ে চলছে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা। এর মধ্যেই বিষয়টি নিয়ে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ঢাকা-১১ আসনের ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। ভোটকেন্দ্রে মোবাইল নিষিদ্ধের বিধি পরিবর্তন না করলে নির্বাচন কমিশন (ইসি) ঘেরাওয়ের ‍হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।

সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর মোহাম্মদপুরে ১১ দলের নির্বাচনি জনসভায় বক্তব্যকালে এই হুঁশিয়ারি দেন নাহিদ ইসলাম।

তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন একটি বিজ্ঞপ্তি দিয়ে বলেছে ভোটকেন্দ্রের ৪০০ গজের আওতায় নাকি মোবাইল নিয়ে ঢুকা যাবে না। ইসি কোন জায়গা থেকে এই বিধি-বিধান বের করছে, আমরা জানি না। কার পরিকল্পনার আদলে নির্বাচন কমিশন কাজ করছে, এটা জনগণের সামনে স্পষ্ট হচ্ছে। আমরা হুঁশিয়ারি দিচ্ছি, আজ সন্ধ্যার মধ্যে এই বিধি-বিধান পরিবর্তন করুন, না হলে মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) নির্বাচন কমিশন ঘেরাও হবে।

নাহিদ বলেন, আমরা এতদিন কিছু বলিনি। সব সহ্য করে গেছি। নির্বাচনের দ্বারপ্রান্তে এসে এই ধরনের ভোট কারচুপি, মিডিয়াকে ব্ল্যাকআউট করে দেয়া হবে, মানুষের তথ্য অধিকারকে রোধ করে দেয়া হবে এই ধরনের কোনো আইন করা হলে সেই আইন মেনে নেওয়া হবে না।

নির্বাচন কমিশনকে উদ্দেশ্য করে ঢাকা-১১ আসনের এই প্রার্থী আরও বলেন, এতদিন যা করেছেন করেছেন, কিন্তু ১২ ফেব্রুয়ারি যদি কোনো ধরনের পক্ষপাতিত্ব করার পরিকল্পনা থাকে, ফ্যাস্টিস্ট আমলের নির্বাচন কমিশনের যে পরিণতি হয়েছিল তার চেয়েও এই নির্বাচন কমিশনের ভয়াবহ পরিণতি হবে।

 

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ বলেছেন, ভোটকেন্দ্রের ৪০০ গজের মধ্যে মুঠোফোন নিষিদ্ধের অর্থ হলো, সবাইকে নিজের মুঠোফোন ঘরে রেখে যেতে হবে। এমনকি কোনো মোজো সাংবাদিক বা সিটিজেন জার্নালিজমও অ্যালাউড না। এটা স্পষ্টত হঠকারী সিদ্ধান্ত। ইঞ্জিনিয়ারিং বা জালিয়াতি করার ইচ্ছা থাকলেই কেবল এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া যায়। অবিলম্বে এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করা উচিত।

আজ সোমবার বেলা ১১টা ২৫ মিনিটে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে হাসনাত আবদুল্লাহ এ কথা বলেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি কুমিল্লা-৪ আসনে ১১-দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের প্রার্থী। দুপুর ১২টা ৩৮ মিনিটে একই পোস্ট নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দিয়েছেন এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম। তিনি পঞ্চগড়-১ আসনে ১১-দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের প্রার্থী।

সারজিস আলম আজ দুপুর ১২টা ৩৮ মিনিটে একই পোস্ট নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দিয়েছেন
সারজিস আলম আজ দুপুর ১২টা ৩৮ মিনিটে একই পোস্ট নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দিয়েছেনকোলাজ: প্রথম আলো

গতকাল রোববার নির্বাচন কমিশনের (ইসি) এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে ভোটকেন্দ্রের ভেতরে মুঠোফোন নিয়ে যেতে পারবেন না ভোটাররা।

ইসির বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘ভোটকেন্দ্রের ৪০০ গজ ব্যাসার্ধের মধ্যে ফোন নিয়ে যাওয়া যাবে না।’

ইসির এ সিদ্ধান্তের বিষয়ে ফেসবুকে পোস্ট দিলেন হাসনাত আবদুল্লাহ। তাঁর পোস্টে লেখা হয়, ভোটকেন্দ্রের ৪০০ গজের মধ্যে মোবাইল ফোন নিষিদ্ধের অর্থ হলো, সবাইকে নিজের মোবাইল ঘরে রেখে যেতে হবে। এমনকি কোনো মোজো সাংবাদিক বা সিটিজেন জার্নালিজমও অ্যালাউড না। এটা স্পষ্টত হঠকারী সিদ্ধান্ত। ইঞ্জিনিয়ারিং বা জালিয়াতি করার ইচ্ছে থাকলেই কেবল এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া যায়।

ভোটকেন্দ্রের ৪০০ গজের মধ্যে মুঠোফোন নিয়ে না যাওয়ার কোনো লজিক নেই বলে পোস্টে উল্লেখ করেন হাসনাত আবদুল্লাহ। তিনি লিখেছেন, এমনটা আগে কখনো দেখেননি। এটার মানে কোনো বিপদ হলেও কল করে কাউকে জানানো যাবে না। অনেকে নিরাপত্তাহীনতার জন্য মুঠোফোন নিতে না পারলে ভোট দিতেও যাবে না।

হাসনাত আবদুল্লাহ লিখেছেন, সিসি ক্যামেরা থাকলেও তাৎক্ষণিক কোনো কাজে দেবে না। মোবাইলের মাধ্যমে সাংবাদিকেরা যেভাবে ভূমিকা রাখতে পারবে, অনিয়ম-জালিয়াতির চিত্র দেখাতে পারবে, তা ক্যামেরা পারবে না। কেন্দ্র দখল, ভোটচুরি ঠেকাতে ব্যক্তিগত ফোন কার্যকর হবে। সঙ্গে সঙ্গেই ভিডিও রেকর্ড হয়ে যাবে। হয়তো এসব জালিয়াতির ভিডিও কেউ যাতে করতে না পারে, সে জন্য ৪০০ গজের মধ্যে মোবাইল ফোন নিষিদ্ধ করেছে নির্বাচন কমিশন। এটা সুস্পষ্টভাবে ভোট চুরির সুযোগ করে দেওয়া।

হাসনাত আবদুল্লাহ আরও লিখেছেন, ‘অবিলম্বে এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করা উচিত।’

১২ ফেব্রুয়ারি (বৃহস্পতিবার) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। সেদিন সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত সারা দেশে ২৯৯টি সংসদীয় আসনে একযোগে স্বচ্ছ ব্যালট বাক্সে ব্যালট পেপারের মাধ্যমে ভোট গ্রহণ করা হবে।

রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ নিয়ে সমালোচনা করে নয়, জনগণের ভাগ্য বদলের সুস্পষ্ট পরিকল্পনা দিয়েই দেশের উপকার করা সম্ভব বলেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

আজ সোমবার দুপুরে রাজধানীর কলাবাগান ক্রীড়াচক্রের মাঠে আয়োজিত ঢাকা-১০ আসনের নির্বাচনী জনসভায় তারেক রহমান এসব কথা বলেন। জনসভায় ঢাকা–১০ আসনে বিএনপির প্রার্থী রবিউল আলম রবি সভাপতিত্ব করেন।

তারেক রহমান বলেন, ‘আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি—যে বিশ্বাস শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ধারণ করতেন, যে বিশ্বাস দেশনেত্রী খালেদা জিয়া ধারণ করেছেন—বাংলাদেশই আমাদের প্রথম এবং শেষ ঠিকানা। সব অত্যাচার-নির্যাতনের মধ্যেও তিনি দেশ ছেড়ে যাননি। বলেছেন, এই দেশের মানুষই তাঁর পরিবার। আসুন, আমরা পরিশ্রম করি, ঐক্যবদ্ধ থাকি, দেশকে গড়ে তুলি। কারণ সবার আগে—বাংলাদেশ।’

তারেক রহমান বলেন, ‘আজকের এই নির্বাচনী জনসভায় আমরা চাইলে আমাদের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের নিয়ে অনেক কথা বলতে পারি। বিভিন্ন ব্যক্তি, বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সমালোচনা করতে পারি। কিন্তু শুধু কথা বললেই কি দেশের বা জনগণের কোনো লাভ হয়? না—লাভ হয় না। দেশ ও জনগণের প্রকৃত লাভ তখনই হয়, যখন একটি রাজনৈতিক দলের হাতে থাকে জনগণের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য সুস্পষ্ট পরিকল্পনা ও কার্যকর কর্মসূচি। ’

বিএনপি কৃষকদের পাশে দাঁড়াতে কৃষি কার্ড, দেশের মায়েদের, গৃহিণীদের পাশে দাঁড়াতে ফ্যামিলি কার্ড চালু করবেন বলে জানান তারেক রহমান। গ্রাম ও শহরের প্রান্তিক, খেটে খাওয়া নারীদের স্বাবলম্বী করে গড়ে তুলতেই এটি করা হবে বলেন তিনি।

সারা দেশের স্কুলশিক্ষকদের পর্যায়ক্রমে কম্পিউটার প্রদানের মাধ্যমে প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা নিশ্চিত করা হবে বলেন তারেক রহমান। শহর ও গ্রাম—সব জায়গায় প্রান্তিক মানুষের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের পরিকল্পনার কথা জানান তিনি।

প্রায় দেড় কোটির মতো প্রবাসী ভাই-বোনের কষ্টার্জিত বৈদেশিক মুদ্রায় দেশ চলে বলেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, তাঁদের হয়রানি কমাতে, নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং দেশে ফিরে সম্মানজনক জীবন নিশ্চিত করতে চালু করা হবে প্রবাসী কার্ড।

দেশের ধর্মীয় ব্যক্তিত্বদের বিষয়ে তারেক রহমান বলেন, মসজিদ, মাদ্রাসার ইমাম, খতিব, মুয়াজ্জিন ও অন্যান্য ধর্মীয় গুরুদের অনেকেই মানবেতর জীবনযাপন করেন। বিএনপি সরকার গঠন করলে তাঁদের জন্য সম্মানজনক জীবনের নিশ্চয়তা দেওয়া হবে।

বিএনপির আরও অনেক পরিকল্পনা আছে জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘সবগুলোর (পরিকল্পনা) মূল লক্ষ্য একটাই, বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দুর্ভিক্ষকবলিত বাংলাদেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করেছিলেন, এমনকি খাদ্য রপ্তানিকারক দেশে পরিণত করেছিলেন। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বাংলাদেশ শিল্পায়নের পথে এগিয়ে যায়। তখন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম বাংলাদেশকে ‘এমার্জিং টাইগার’ বলে স্বীকৃতি দেয়। তিনি (খালেদা জিয়া) মেয়েদের জন্য দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত বিনা মূল্যে শিক্ষা নিশ্চিত করেছিলেন। এই ইতিহাসই প্রমাণ করে—বিএনপি অভিজ্ঞতার আলোকে দেশ পরিচালনা করতে সক্ষম।’

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি দেশের মানুষের জন্য একটি কাঙ্খিত দিন উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, ‘১২ তারিখের নির্বাচন শুধু একটি ভোটের দিন নয়। এই নির্বাচন সেই ভোট, যার জন্য বাংলাদেশের মানুষ ১৬ বছর অপেক্ষা করেছে।’

নির্বাচন নিয়ে ষড়যন্ত্র আছে, অপচেষ্টা আছে উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, ‘আমরা দেখেছি, একটি পক্ষের লোকজন নকল ব্যালটের সিল বানাতে গিয়ে ধরা পড়েছে। তাই ঢাকা–১০ সহ সারা দেশের গণতন্ত্রপ্রত্যাশী মানুষকে সতর্ক থাকতে হবে। কেউ যদি বিকাশ নম্বর, এনআইডি নম্বর বা অন্য কোনো তথ্য চায়, বুঝতে হবে সেখানে ষড়যন্ত্র আছে। এসব অপচেষ্টা রুখে না দিলে শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত ভোটাধিকার আবারও হুমকির মুখে পড়তে পারে।’

এর আগে বনানী বাজারসংলগ্ন মাঠে আয়োজিত ঢাকা-১৭ আসনের নির্বাচনী জনসভায় তারেক রহমান বক্তব্য দেন। সেখানে তিনি নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ে তোলার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, বিএনপির লক্ষ্য এমন একটি রাষ্ট্র গঠন করা, যেখানে সব নাগরিক দিন–রাত যেকোনো সময় নিরাপদে চলাফেরা করতে পারবেন এবং পরিবার নিয়ে নিশ্চিন্তে বসবাস করতে পারবেন।

তারেক রহমান আজ নিজ নির্বাচনী এলাকা এবং ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাতটি সংসদীয় আসনে মোট আটটি জনসভায় অংশ নেবেন। বনানী ও কলাবাগানের পর ঢাকা-৮ আসনে পীরজঙ্গী মাজার রোডে, ঢাকা-৯ আসনে মান্ডা তরুণ সংঘ মাঠে , ঢাকা-৫ আসনে যাত্রাবাড়ী শহীদ ফারুক রোডে জনসভায় তারেক রহমানের বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে। এ ছাড়া ঢাকা-৪ আসনে জুরাইন-দয়াগঞ্জ রোডে , ঢাকা-৬ আসনে ধূপখোলা মাঠে এবং ঢাকা-৭ আসনে লালবাগ বালুর মাঠে তিনি জনসভায় বক্তব্য দেবেন।

এর আগে গতকাল রোববার তারেক রহমান ঢাকা উত্তরের ছয়টি সংসদীয় আসনে জনসভায় অংশ নেন।

আমাদের অনুসরণ করুন

 

সর্বাধিক পড়ুন

  • সপ্তাহ

  • মাস

  • সব