• Colors: Purple Color

বোনের করা প্রতারণা ও জালিয়াতির অভিযোগের একটি মামলায় ট্রান্সকম গ্রুপের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) সিমিন রহমান এবং তাঁর মা ট্রান্সকম গ্রুপের চেয়ারম্যান শাহনাজ রহমানসহ ছয়জনকে অব্যাহতির আদেশ দিয়েছেন আদালত। ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত আজ সোমবার গুলশান থানার এই মামলায় শুনানি নিয়ে তাঁদের অব্যাহতির আদেশ দেন। এর মধ্য দিয়ে সিমিন রহমান, শাহনাজ রহমানসহ ট্রান্সকম গ্রুপের অন্যান্য কর্মকর্তার বিরুদ্ধে শাযরেহ্ হকের দায়ের করা চারটি মামলার সব কটি থেকে তাঁরা অব্যাহতি পেলেন।

গুলশান থানার ২০(০২)২৪ নম্বর মামলায় আজ আদালত আসামিদের অব্যাহতির আবেদন মঞ্জুর করেন। অভিযোগ থেকে অব্যাহতির আবেদন শুনানিতে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা বলেন, শেয়ার হস্তান্তর জালিয়াতির মামলায় শেয়ার হস্তান্তর দলিল ফরম-১১৭ উদ্ধার বা কোনো রূপ বিশেষজ্ঞ পরীক্ষা ছাড়াই অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে। অভিযোগপত্রে ২০২৩ সালের ছাপানো কিছু স্ট্যাম্পকে এই মামলার শেয়ার হস্তান্তর-সংক্রান্ত এফিডেভিট বিবেচনায় অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। কিন্তু মামলায় ওই সব শেয়ার ২০২০ সালে পরিপূর্ণভাবে হস্তান্তর হয়েছে এবং ২০২০ সালেই রেজিস্ট্রার অব জয়েন্ট স্টক কোম্পানিজ অ্যান্ড ফার্মস (আরজেএসসি) কর্তৃক গৃহীত হয়। ২০২৩ সালে সরবরাহ করা স্ট্যাম্প তার আগের সময়ে ব্যবহার করা অসম্ভব অর্থাৎ স্ট্যাম্প ছাপানোর আগের সময়ে তার ব্যবহার সম্ভব নয়। আদালত অভিযোগ গঠনের কোনো উপাদান না থাকায় বিবাদীদের এই মামলা থেকে অব্যাহতি দেন।

ট্রান্সকম লিমিটেডের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ও সিইও ছিলেন লতিফুর রহমান। তিনি জীবদ্দশায় তাঁর অবর্তমানে কোম্পানির ব্যবস্থাপনা এবং তাঁর নিজস্ব শেয়ারের বণ্টন-সংক্রান্ত ২০২০ সালের ১২ জুন একটি ডিড অব সেটেলমেন্ট (সমঝোতা দলিল) সম্পাদন করেন। তাতে লতিফুর রহমান ছাড়াও তাঁর পরিবারের সব সদস্য অর্থাৎ তাঁর স্ত্রী শাহনাজ রহমান, বড় মেয়ে সিমিন রহমান, ছোট মেয়ে শাযরেহ্ হক ও ছেলে আরশাদ ওয়ালিউর রহমান ওই সমঝোতা দলিলের সব শর্ত মেনে সম্মতিসূচক স্বাক্ষর দেন। পরে তা কোম্পানির বোর্ড সভায় অনুমোদিত হয়। সমঝোতা দলিল সম্পাদনের পর লতিফুর রহমান রেজিস্ট্রার অব জয়েন্ট স্টক কোম্পানিজ অ্যান্ড ফার্মস (আরজেএসসি) কর্তৃক প্রণীত শেয়ার হস্তান্তর-সংক্রান্ত ফরম-১১৭ স্বাক্ষরের মাধ্যমে তাঁর নিজের মালিকানাধীন কোম্পানি ট্রান্সকম লিমিটেডের ২৩ হাজার ৬০০ শেয়ারের মধ্যে ১৪ হাজার ১৬০টি শেয়ার তাঁর বড় মেয়ে সিমিন রহমান, ৪ হাজার ৭২০টি শেয়ার তাঁর ছোট মেয়ে শাযরেহ্ হক এবং ৪ হাজার ৭২০টি শেয়ার ছেলে আরশাদ ওয়ালিউর রহমানের বরাবরে হস্তান্তর করেছেন। পরবর্তী সময়ে ওই ফরম-১১৭ গুলো আরজেএসসিতে জমা দেওয়া হলে আরজেএসসি কর্তৃক যথারীতি শেয়ার হালনাগাদপূর্বক শেয়ারহোল্ডারদের শেয়ারসংখ্যা-সংবলিত শিডিউল-এক্স ইস্যু করা হয়। লতিফুর রহমান ২০২০ সালের ১ জুলাই মৃত্যুবরণ করেন। লতিফুর রহমানের মৃত্যুর পর দীর্ঘ প্রায় চার বছর কোম্পানি খুব সুন্দরভাবে পরিচালিত হয়ে আসছিল। লতিফুর রহমানের দুই কন্যা সিমিন রহমান, শাযরেহ্ হক এবং এক ছেলে আরশাদ ওয়ালিউর রহমান পরবর্তী সময়ে ২০২১-২২ এবং ২০২২-২৩ করবর্ষে তাঁদের ব্যক্তিগত ইনকাম ট্যাক্স রিটার্নে (আয়কর বিবরণী) ২৩ হাজার ৬০০ শেয়ার থেকে তাঁদের বরাবর হস্তান্তরিত শেয়ার প্রদর্শনও করেন।

লতিফুর রহমানের মৃত্যুর প্রায় চার বছর পর ২০২৪ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি তাঁর কন্যা শাযরেহ্ হক কোম্পানির কর্ণধার সিমিন রহমান এবং তাঁর মা শাহনাজ রহমান চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে অবস্থানকালে গুলশান থানায় প্রায় একই অভিযোগ ও একই ধারায় তিনটি মামলা দায়ের করেন, যা গুলশান থানার মামলা নম্বর ২০(০২)২৪, ২১(০২)২৪ ও ২২(০২)২৪। এসব মামলার কারণে সিমিন রহমান ও তাঁর মা বাংলাদেশে প্রবেশের নিষেধাজ্ঞা থাকায় তাঁরা হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন দায়ের করে ২০২৪ সালের ২১ মার্চ বাংলাদেশে প্রবেশের অনুমতি পান। সিমিন রহমানের বাংলাদেশে প্রবেশ বাধাগ্রস্ত করার লক্ষ্যে শাযরেহ্ হক একই দিন দিবাগত রাত ১২টা ৫ মিনিটে অর্থাৎ ২০২৪ সালের ২২ মার্চ লতিফুর রহমানের ছেলে আরশাদ ওয়ালিউর রহমানের ৯ মাস আগের স্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে সিমিন রহমান ও অন্যদের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। গুলশান থানার ১৯(০৩)২৪ নম্বর হত্যা মামলা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) তদন্ত করে কোনো ধরনের সঠিকতা না পেয়ে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করে। পরে আদালত সেটি গ্রহণ করে সিমিন রহমানসহ অন্যদের অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেন।

অপর মামলাগুলোও পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) তদন্ত করে। এর মধ্যে ২২(০২)২৪ নম্বর মামলায় অভিযোগ ছিল, লতিফুর রহমানের স্ত্রী শাহনাজ রহমান স্বামীর মৃত্যুর পর নমিনি হিসেবে লতিফুর রহমানের টাকা উত্তোলন করে ট্রান্সকম ইলেকট্রনিকস লিমিটেডের ৯ হাজার শেয়ার কেনেন। ওই মামলা পিবিআই তদন্ত শেষে টাকা উত্তোলন এবং ৯ হাজার শেয়ার কেনায় কোনো অনিয়ম না থাকায় চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করে, যা পরবর্তী সময়ে আদালত গ্রহণ করে বিবাদীদের অব্যাহতি দেন।

লতিফুর রহমানের সম্পাদিত ডিড অব সেটেলমেন্ট জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে তৈরি করা হয়েছে দাবি করে দায়ের করা ২১(০২)২৪ নম্বর মামলায় তদন্ত কর্মকর্তা ডিড অব সেটেলমেন্ট এবং যে সভায় সেটি অনুমোদিত হয়, তার কাগজপত্র জব্দ করে সিআইডি কর্তৃক বিশেষজ্ঞ পরীক্ষা করান। ওই বিশেষজ্ঞ পরীক্ষার মতামত অনুসারে ডিড অব সেটেলমেন্ট এবং বোর্ড সভায় লতিফুর রহমান, তাঁর ছেলে আরশাদ ওয়ালিউর রহমান এমনকি বাদী শাযরেহ্ হকের স্বাক্ষর সঠিক বলে প্রতীয়মান হয়। এর ভিত্তিতে তদন্ত কর্মকর্তা মামলায় চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। আদালত তা গ্রহণ করে বিবাদীদের অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেন।

আজকে ২০(০২)২৪ নম্বর মামলায় অব্যাহতির আদেশের মাধ্যমে সিমিন রহমান, তাঁর মা শাহনাজ রহমানসহ ট্রান্সকম গ্রুপের অন্য কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে শাযরেহ্ হকের দায়ের করা চারটি মামলা থেকেই তাঁরা অব্যাহতি পেলেন।

রাজধানীর কারওয়ান বাজারের কাঠপট্টিতে কাঠের দোকানে আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে। সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাতের দিকে ফায়ার সার্ভিসের প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।

এর আগে, রাত ১০টা ২৮ মিনিটের দিকে আগুন লাগার খবর পায় ফায়ার সার্ভিস। তাৎক্ষণিক পাঁচটি ইউনিট সেখানে কাজ করে। পরে আরও ৫টি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে দুই ঘণ্টার চেষ্টায় রাত ১২টা ৩৮ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

তবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যায়নি।

এ বিষয়ে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের পরিচালক (অপারেশন অ্যান্ড মেইন্টেইন্যান্স) লে. কর্নেল মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, আগুন নিয়ন্ত্রণে মোট ১১টি ইউনিট কাজ করেছে। মূলত কাঠের স-মিল থেকে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। কোনো ধরনের হতাহতের সংবাদ পাওয়া যায়নি। আগুন পুরোপুরি নির্বাপন করতে সময় লাগবে।

এবারের নির্বাচন কেবল একটি ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রক্রিয়া নয়, এটি বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার নতুন অভিযাত্রার সূচনা বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেন, এর মাধ্যমে নতুন বাংলাদেশের জন্ম হয়েছে।

অন্তর্বর্তী সরকারের বিদায় উপলক্ষে আজ সোমবার রাতে জাতির উদ্দেশে এক ভাষণে এ কথা বলেন প্রধান উপদেষ্টা। এ সময় তিনি দীর্ঘ ১৭ বছর পর একটি উৎসবমুখর, অংশগ্রহণমূলক ও শান্তিপূর্ণ জাতীয় নির্বাচন সফলভাবে সম্পন্ন করার জন্য দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানান।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, এই নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণ, ভোটার, রাজনৈতিক দল, প্রার্থী, নির্বাচন–সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সম্মিলিতভাবে একটি প্রশংসনীয় নজির সৃষ্টি করেছে। ভবিষ্যতে বাংলাদেশের নির্বাচন কেমন হওয়া উচিত—এই নির্বাচন তার একটি উৎকৃষ্ট উদাহরণ হয়ে থাকবে।

১৮ মাসের অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করার কথা উল্লেখ করে অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, ‘একটি নির্বাচিত সরকারের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তরের প্রাক্কালে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে আজ আমি আপনাদের কাছ থেকে বিদায় নেওয়ার জন্য উপস্থিত হয়েছি।’ এ সময় তিনি ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের সময়ের কথা উল্লেখ করেন। তিনি কীভাবে দায়িত্বে এলেন, সেই ব্যাখ্যা দেন।

দায়িত্ব পালনের চ্যালেঞ্জের কথা উল্লেখ করে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, সরকারের ভেতরে যারা পালিয়ে যায়নি, তাদের মধ্যে কাকে বিশ্বাস করবেন, কাকে করবেন না—এটি মহাসংকট হয়ে দাঁড়াল। যতই মৃতদেহের, অঙ্গপ্রত্যঙ্গহীন দেহের সন্ধান আসছিল, ততই তারা চিহ্নিত হচ্ছিল। তিনি বলেন, দেড় যুগ পর দেশে একটি জাতীয় নির্বাচন এবং ব্যাপক সাংবিধানিক পরিবর্তনের জন্য সর্বসম্মত জুলাই সনদের ওপর গণভোট অনুষ্ঠান হলো। এই নির্বাচনে উৎসবমুখর পরিবেশ, দেশের সর্বত্র একটা ঈদের পরিবেশ ছিল, যা ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

এই প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচনে জয়ী ও পরাজিত সবাইকে অভিনন্দন জানান প্রধান উপদেষ্টা। তিনি বলেন, ‘হার-জিতই হলো গণতন্ত্রের সৌন্দর্য। যাঁরা জয়ী হয়েছেন, তাঁরা মোট ভোটের প্রায় অর্ধেক পেয়েছেন। যাঁরা জয়ী হতে পারেননি, তাঁরাও মোট ভোটের অর্ধেক পেয়েছেন। যাঁরা জয়ী হতে পারেননি, তাঁরা এই জেনে আশ্বস্ত হবেন যে প্রায় অর্ধেক ভোটার আপনাদের ওপর আস্থা রেখেছে। আগামী দিন নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করবে—এর মাধ্যমে আমাদের ১৮ মাসের দায়িত্বের সমাপ্তি হবে।’

সরকারে থাকার সময় প্রচেষ্টার কোনো ঘাটতি ছিল না উল্লেখ করে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, ‘আমরা মানবতাবিরোধী অপরাধ, দুর্নীতি ও অনিয়মের বিচারপ্রক্রিয়াকে রাজনীতি ও প্রতিশোধের ঊর্ধ্বে রেখেছি। ভঙ্গুর প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রশাসনিক, বাণিজ্যিক, আর্থিক সংস্কারে হাত দিয়েছি; যাতে ভবিষ্যতে কোনো সরকার জনগণের ইচ্ছার বিরুদ্ধে নিজেকে স্থাপন করতে না পারে। আর সর্বোপরি আমরা একটি উৎসবমুখর, অবাধ, নিরপেক্ষ, শান্তিপূর্ণ, পরিচ্ছন্ন ও বিশ্বাসযোগ্য জাতীয় নির্বাচনের আয়োজন করেছি, যার মাধ্যমে জনগণ আবার তাদের ভোটাধিকার ফিরে পেয়েছে।’ এর জন্য জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ, আহতদের শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।

অভ্যুত্থান-পরবর্তী এক উত্তাল সময়ে দেশকে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক ধারায় ফিরিয়ে আনতে সশস্ত্র বাহিনীর ভূমিকার প্রশংসা করেন প্রধান উপদেষ্টা। একই সঙ্গে যখনই কোনো সংকটময় পরিস্থিতির উদ্ভব হয়েছে, তখনই দেশের রাজনৈতিক নেতৃত্ব তাৎক্ষণিকভাবে সাড়া দিয়েছেন। তাঁরা সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। এই পারস্পরিক দায়িত্ববোধ ও সংযমই দেশকে অস্থিরতার পথ থেকে স্থিতিশীলতার দিকে এগিয়ে নিতে সহায়ক হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

[caption id="attachment_267441" align="alignnone" width="917"] সোমবার রাতে জাতির উদ্দেশে বিদায়ী ভাষণ দেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস, ছবি: প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং[/caption]

সংস্কার বাস্তবায়ন

প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ইউনূস বলেন, গণ-অভ্যুত্থানের সময় দেয়ালে দেয়ালে তরুণেরা যে নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন এঁকেছিল, এর কেন্দ্র ছিল প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার। সেই প্রত্যাশা বাস্তবায়নে অন্তর্বর্তী সরকার প্রায় ১৩০টি নতুন আইন ও সংশোধনী প্রণয়ন করেছে। প্রায় ৬০০টি নির্বাহী আদেশ জারি করেছে, যার প্রায় ৮৪ শতাংশ ইতিমধ্যে বাস্তবায়িত হয়েছে। এসব সংস্কার নাগরিক অধিকারকে সংহত করেছে, বিচারব্যবস্থাকে শক্তিশালী করেছে। এ ছাড়া গুম, খুন ও বিচারবহির্ভূত হত্যার সংস্কৃতি যেন আর কখনো ফিরে না আসে, সেটা নিশ্চিত হয়েছে।

ধাপে ধাপে পুলিশের নাজুক অবস্থা ঘটানো হয়েছে জানিয়ে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, এখন পুলিশ আর মারণাস্ত্র ব্যবহার করে না। বেআইনিভাবে কাউকে তুলে নিয়ে যায় না। ‘বন্দুকযুদ্ধের’ নামে হত্যা করে না। পুলিশ ও গোয়েন্দা বাহিনীর ভয়ে কাউকে ‘ডিলিট বাটন’ চাপতে হয় না। জনবান্ধব ও জবাবদিহিমূলক বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে পুলিশ কমিশন অধ্যাদেশ ২০২৫ প্রণয়ন করা হয়েছে। বিচার বিভাগকে স্বাধীন ও শক্তিশালী করতে পৃথক সচিবালয় গঠন, বিচারক নিয়োগে স্বচ্ছ কাঠামো এবং দেওয়ানি ও ফৌজদারি আইনে যুগান্তকারী সংস্কার করা হয়েছে।

স্বৈরাচার যেন ফিরে না আসে

আওয়ামী লীগের শাসনামলের গুম-খুনসহ নিপীড়নের কথা উল্লেখ করে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ভবিষ্যতে আর কখনো যেন কোনো জালেম মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে। আর কখনো যেন ফ্যাসিবাদ প্রতিষ্ঠিত না হয়, শত শত আয়নাঘর সৃষ্টি না হয়। আবার যেন বিচারবহির্ভূত হত্যা ফিরে না আসে। এর জন্য কেবল রাজনৈতিক অঙ্গীকারই যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বিচারব্যবস্থা ও রাষ্ট্রীয় কাঠামোর মৌলিক ও গভীর সংস্কার। এই উপলব্ধি থেকেই অন্তর্বর্তী সরকার তার সংস্কার কর্মসূচিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছে।

অধ্যাপক ইউনূস বলেন, ‘জুলাইয়ের রক্তাক্ত স্মৃতি এখনো আমাদের মধ্যে তাজা হয়ে আছে। যারা ভয়াবহ নিপীড়ন ও নির্যাতন চালিয়েছে, তাদের বিচার করা এবং যেন আর কেউ এ ধরনের দুঃশাসন কায়েম করতে না পারে, সেটা নিশ্চিত করা আমাদের গুরুদায়িত্ব।’

বিচার একটা চলমান প্রক্রিয়া জানিয়ে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, একাধিক ট্রাইব্যুনাল সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। ইতিমধ্যে একাধিক মামলার রায় ঘোষিত হয়েছে। গুমের মতো সেই ভয়াবহ মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিচারও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে শুরু হয়েছে। বেশ কিছু মামলার বিচারিক কার্যক্রম শেষের পথে। আগামী দিনগুলোতেও বিচারিক প্রক্রিয়া অত্যন্ত নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছতার সঙ্গে এগিয়ে যাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

জুলাই সনদকে অন্তর্বর্তী সরকারের সবচেয়ে বড় অর্জন উল্লেখ করে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘গণভোটে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতায় তা বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত দিয়েছে দেশের মানুষ। জুলাই সনদের বাস্তবায়ন হলে ফ্যাসিবাদ ফিরে আসার পথগুলো চিরতরে বন্ধ হয়ে যাবে। আশা করব এটা নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে বাস্তবায়িত হবে।’

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের ছোট–বড় ভালো–মন্দ অনেক কথা ভুলে গেলেও জুলাই সনদের কথা জাতি কখনো ভুলবে না।

পররাষ্ট্রনীতিতে জাতীয় স্বার্থ

পররাষ্ট্রনীতিতে দেশের সার্বভৌমত্ব, জাতীয় স্বার্থ ও দেশের মর্যাদা—এই তিনটি মূল ভিত্তি দৃঢ়ভাবে পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছেন বলে উল্লেখ করেন অধ্যাপক ইউনূস। নোবেল বিজয়ী এই অর্থনীতিবিদ বলেন, বাংলাদেশ এখন নতজানু পররাষ্ট্রনীতি কিংবা অপর দেশের নির্দেশনা ও পরামর্শনির্ভর নয়। আজকের বাংলাদেশ নিজের স্বাধীন স্বার্থ রক্ষায় আত্মবিশ্বাসী, সক্রিয় ও দায়িত্বশীল। ভারসাম্য বজায় রেখে ভবিষ্যতের জন্য প্রয়োজনীয় কৌশলগত সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম—এমন একটি রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশ আজ নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

খোলা সমুদ্র কেবল ভৌগোলিক সীমারেখা নয়—এটি দেশকে বিশ্ব অর্থনীতির সঙ্গে যুক্ত হওয়ার উন্মুক্ত দরজা বলে মন্তব্য করেন প্রধান উপদেষ্টা। তিনি বলেন, নেপাল, ভুটান ও সেভেন সিস্টার্সকে (উত্তর-পূর্ব ভারত) নিয়ে এ অঞ্চলে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির বিশাল সম্ভাবনা রয়েছে। অর্থনৈতিক অঞ্চল, বাণিজ্যচুক্তি ও শুল্কমুক্ত বাজারে প্রবেশের সুযোগের মধ্য দিয়ে এ অঞ্চলে একটি বৈশ্বিক উৎপাদন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে ওঠার শক্তিশালী ভিত্তি প্রতিষ্ঠিত হবে। এর জন্য বন্দরগুলোর দক্ষতা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নেওয়ার জন্য আন্তর্জাতিক বন্দর পরিচালনা কোম্পানির সঙ্গে চুক্তির কাজ অনেক এগিয়েছে। বন্দরের দক্ষতা বাড়াতে না পারলে অর্থনৈতিক অর্জনে দেশ পিছিয়ে যাবে।

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও শুল্কচুক্তি সম্পন্ন হয়েছে জানিয়ে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, এটি কেবল একটি বাণিজ্যিক সুবিধা নয়; এটি বাংলাদেশের অর্থনীতি, কর্মসংস্থান, শিল্পায়ন এবং আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক অবস্থানকে দীর্ঘ মেয়াদে শক্তিশালী করার জন্য একটি কৌশলগত ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে।

অন্তর্বর্তী সরকার ধ্বংসস্তূপ পরিষ্কার করে প্রতিষ্ঠান দাঁড় করিয়ে তারপর সংস্কারের পথ গেছে জানিয়ে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার বিদায় নিচ্ছে। কিন্তু গণতন্ত্র, জবাবদিহি, বাক্‌স্বাধীনতা ও অধিকার চর্চার যে ধারা শুরু হয়েছে, তা যেন কখনো থেমে না যায়। তিনি বলেন, ‘আমরা রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব ছেড়ে গেলেও নতুন বাংলাদেশ গড়ার সার্বিক দায়িত্ব আমার, আপনার, আমাদের সবার। আমাদের সবার দায়িত্ব দেশকে সত্যিকারের গণতন্ত্র হিসেবে পরিস্ফুটিত করা। জুলাই গণ-অভ্যুত্থান আমাদের জন্য এই দরজা খুলে দিয়েছে, আমরা যদি স্বপ্ন, আকাঙ্ক্ষা ও শক্তিকে বাঁচিয়ে রাখতে পারি, তবে বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা কেউ থামাতে পারবে না।’

বিএনপি থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা শেষ পর্যন্ত সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে আজ মঙ্গলবার শপথ নেবেন কি না, তা নিয়ে সংশয় কাটেনি। ‘অনেকগুলো হয়-এর পরে’ সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ হলে হতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ।

অবশ্য নবনির্বাচিতদের দুটি শপথের প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে জাতীয় সংসদ সচিবালয়। জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে নির্বাচিতরা আজ দুটি শপথ নেবেন।

গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হওয়ায় এখন জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ অনুযায়ী, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠিত হওয়ার কথা। সে হিসেবে নির্বাচিতরা প্রথমে সংসদ সদস্য হিসেবে এবং এরপর সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেবেন। কিন্তু বিএনপি থেকে নির্বাচিত ২০৯ জন সংসদ সদস্য সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ না নিলে এই পরিষদ গঠন এবং সংবিধান সংস্কার কার্যক্রম ঝুলে যাওয়ার আশঙ্কা আছে।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, আজ বিএনপির সংসদ সদস্যরা সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ না নিলে শুরুতেই হোঁচট খাবে অন্তর্বর্তী সরকারের নেওয়া সংস্কার কার্যক্রম। এতে নতুন রাজনৈতিক সংকটও তৈরি হতে পারে।

বিএনপি মনে করে, বিদ্যমান সংবিধানে সংবিধান সংস্কার পরিষদ বলে কিছু নেই। বিদ্যমান সংবিধানের তৃতীয় তফসিলে বিভিন্ন পদের শপথের বিষয়ে বলা আছে। সেখানে সংসদ সদস্যদের শপথের কথা আছে। সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথের বিষয় নেই। প্রধান নির্বাচন কমিশনারেরও এ ধরনের শপথ পড়ানোর এখতিয়ার নেই।

গতকাল সোমবার গুলশানে বিএনপির চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক কার্যালয়ের সামনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ বিষয়ে কথা বলেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনের সাংবিধানিক দায়িত্ব হলো জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও রাষ্ট্রপতি নির্বাচন পরিচালনা করা। সাংবিধানিকভাবে স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকার ‘অ্যাভেইলেবল’ না থাকলে বা অপারগ হলে বা তাঁদের মনোনীত প্রতিনিধি না থাকলে দ্বিতীয় বিকল্প হচ্ছে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ পড়াবেন। সে হিসেবে মঙ্গলবার (আজ) সকাল ১০টায় জাতীয় সংসদে নির্বাচিত সদস্যদের শপথ হবে। এটা সিইসির সাংবিধানিক এখতিয়ার আছে।

বিএনপির এই নেতা আরও বলেন, ‘এর বাইরে...সংবিধান সংস্কার পরিষদ, এটা যদি কনস্টিটিউশনে (সংবিধান) ধারণ হয়, সেই মর্মে অ্যামেন্ডমেন্ট (সংশোধন) হয় এবং সেই শপথ পরিচালনার জন্য সংবিধানের তৃতীয় তফসিলে ফরম হয়, কে শপথ পাঠ করাবেন, সেটা নির্ধারিত হয়—এতগুলো হয়-এর পরে, তারপরে হলে হতে পারে।’

গতকাল বিকেলে সংসদ সচিবালয় এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, আজ সকাল ১০টায় জাতীয় সংসদ ভবনের শপথকক্ষে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণ এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণ পর্যায়ক্রমে অনুষ্ঠিত হবে।

শপথ নেবে জামায়াত-এনসিপি

বিএনপির দিক থেকে সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার বিষয়টি স্পষ্ট করা না হলেও জামায়াত ও এনসিপি জানিয়েছে, তাদের সংসদ সদস্যরা শপথ নেবেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ গতকাল রাতে মুঠোফোনে বলেন, জুলাই সনদে সংবিধান সংস্কার পরিষদের বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে। সেই সনদ বাস্তবায়নের ওপর গণভোট হয়েছে। মানুষ ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়ে সংস্কার বাস্তবায়নের পক্ষে রায় দিয়েছেন। জামায়াত সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ নেবে।

গতকাল সন্ধ্যায় যমুনায় জুলাই সনদে সই করার পর এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমাদের দল থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা আগামীকাল (আজ) শপথ গ্রহণ করবেন। আমরা একই সঙ্গে দুটো শপথ গ্রহণ করতে যাচ্ছি। আমাদের ওপর দেশের মানুষ যে আস্থা রেখেছে, আমরা তা বাস্তবায়ন করব।’

এদিকে গতকাল রাত নয়টার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এনসিপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান ও দলটির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া লিখেছেন, ‘“সংবিধান সংস্কার পরিষদ” সদস্য শপথ আগামীকাল (আজ) নির্ধারিত সময়েই হতে হবে। “সংবিধানে নেই” মর্মে যদি “সংবিধান সংস্কার পরিষদ” সদস্য হিসেবে শপথ না নিতে চান, তাহলে সংসদ সদস্য হিসেবে শপথেরও কোনো মানে নেই। ২০২৬ সালে নির্বাচন কোন সংবিধানে ছিল জনাব সালাহউদ্দিন আহমদ?’

পরে এসব বিষয়ে বিশেষজ্ঞদেরও মত নিয়েছিল জাতীয় ঐকমত্য কমিশন। শেষ পর্যন্ত গত বছরের ১৩ নভেম্বর রাষ্ট্রপতি ‘জুলাই সনদ (সংবিধান সংস্কার) আদেশ’ জারি করেন। সেখানে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের বিষয়টিও রাখা হয়।

সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) প্রধান নির্বাহী ও সাবেক ঐকমত্য কমিশনের সদস্য বদিউল আলম মজুমদার বলেন, বিদ্যমান সংবিধানে অনেক কিছুই নেই। যেভাবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন হয়েছে, সেটিও বর্তমান সংবিধানে নেই। তিনি মনে করেন, গত ১৫-১৬ বছরের স্বৈরশাসনের পর গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার দ্বারপ্রান্তে এসে এখন এসব বিতর্ক তৈরি করা অহেতুক। গণভোটে হ্যাঁ–এর পক্ষে মানুষ ভোট দিয়েছে। অন্যদিকে বিএনপি সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে। বিএনপি বিশালত্ব ও সমঝোতার মনোভাব দেখিয়ে সমস্যার সমাধানের লক্ষ্যে তাদের পদক্ষেপ নেবে, এটাই নাগরিক হিসেবে তিনি আশা করেন।

বিদ্যমান সংবিধান অনুযায়ী, সংসদের দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের সমর্থনে সংবিধান সংশোধন করা যায়। কিন্তু এবার নিয়মিত সংসদ নয়, সংবিধান সংস্কারে কাজ করবে সংবিধান সংস্কার পরিষদ—এমনটি বলা হয়েছে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশে।

দলগুলোর সঙ্গে সাবেক জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের আলোচনায় এ ধরনের একটি পরিষদ গঠনের বিষয়টি এসেছিল। তখন, বিশেষ করে জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপির পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, সংবিধান-সম্পর্কিত যেসব সংস্কার প্রস্তাব জুলাই সনদে আছে, সেগুলো বাস্তবায়িত হলে সংবিধানের মৌলিক কাঠামোয় বড় পরিবর্তন আসবে। নিয়মিত সংসদ সংবিধানের মৌলিক কাঠামোয় পরিবর্তন আনতে পারে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠার সুযোগ আছে। এভাবে সংবিধান সংশোধন করা হলে পরে এটি আদালতে চ্যালেঞ্জ হতে পারে। কিন্তু যদি আগামী সংসদকে সংবিধান সংস্কারের বিশেষ ক্ষমতা দেওয়া হয়, তাহলে চ্যালেঞ্জ করার সুযোগ থাকবে না। তবে ওই আলোচনায় বিএনপি এ ধরনের পরিষদ গঠনের প্রয়োজন নেই—এমন মত দিয়েছিল।

এ ছাড়া সনদ বাস্তবায়নে অধ্যাদেশ নয়, একটি আদেশ জারির প্রস্তাব দিয়েছিল জামায়াতে ইসলামী, এনসিপিসহ কয়েকটি দল। অন্যদিকে বিএনপি এর বিপক্ষে ছিল। তারা বলেছিল, এ ধরনের আদেশ জারির কোনো সুযোগ নেই। রাষ্ট্রপতি অধ্যাদেশ জারি করতে পারেন।

দুই হাসপাতালে ধারাবাহিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর অভিনেত্রী তানিয়া বৃষ্টির মস্তিষ্কে টিউমার ধরা পড়ে। চিকিৎসকদের পরামর্শে গত রোববার বিকেলে চার ঘণ্টাব্যাপী অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়। সোমবার সকালে তাঁকে কেবিনে স্থানান্তর করা হয়েছে। বর্তমানে শারীরিক অবস্থা ‘মোটামুটি ভালো’জানিয়েছেন নির্মাতা সকাল আহমেদ।

সকাল আহমেদের ভাষ্য, ‘চিকিৎসকেরা ২৪ ঘণ্টা নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখেছেন। একদম কম কথা বলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। অস্ত্রোপচারের আগে যে শঙ্কা ছিল, আপাতত তা কেটে গেছে। কেবিনে নেওয়ার পর আমরা কয়েকজন সহকর্মী দেখতে গিয়েছিলাম।’

পরিবারের অনুরোধ
চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, অস্ত্রোপচারে কোনো জটিলতা হয়নি। তবে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলছেন তারা।

পোস্ট-অপারেটিভ কিছু জটিলতার আশঙ্কা থাকায় এখনই পুরোপুরি বিপদমুক্ত বলা যাচ্ছে না। পরিবারের পক্ষ থেকে অনুরোধ করা হয়েছে, হাসপাতালে অযথা ভিড় না করতে এবং অতিরিক্ত ফোনকল দিয়ে বিব্রত না করতে। এমন সংবেদনশীল সময়ে মানসিক স্থিতি ও পূর্ণ বিশ্রামই সবচেয়ে জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। সবাইকে দোয়া করার আহ্বানও জানানো হয়েছে।

অভিনেত্রী তানিয়া বৃষ্টি। ছবি: ফেসবুক থেকে
অভিনেত্রী তানিয়া বৃষ্টি। ছবি: ফেসবুক থেকে

অসুস্থতার শুরু যেভাবে
পরিচালক সকাল আহমেদ জানান, বেশ কিছুদিন ধরে তানিয়া তীব্র মাথাব্যথা, জ্বর-ঠান্ডা ও শারীরিক অস্বস্তিতে ভুগছিলেন। প্রথমে বিষয়টি তেমন গুরুত্ব দেননি। কয়েক দিন আগে অবস্থার অবনতি হলে উত্তরার একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানকার পরীক্ষা-নিরীক্ষায় ব্রেন টিউমার ধরা পড়ে। পরে ঢাকার আরেকটি হাসপাতালে পুনরায় পরীক্ষা করানো হলে একই ফলাফল আসে। এরপর সেখানেই অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়।

অস্ত্রোপচারের আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেই লিখেছিলেন, ‘কাল আমার মাথায় অস্ত্রোপচার, দোয়া করবেন সবাই। ব্রেন টিউমার।’ তাঁর সেই পোস্ট ছড়িয়ে পড়তেই ভক্ত-শুভাকাঙ্ক্ষী ও সহকর্মীদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দেয়।

সহকর্মীদের প্রার্থনা
অভিনেত্রী মেহজাবীন চৌধুরী লিখেছেন, ‘তোমার জন্য প্রার্থনা প্রিয়। দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠো।’ সামিরা খান মাহি ফেসবুকে ছবি শেয়ার করে লিখেছেন, ‘হাসপাতালের বিছানায় নয়, তোমাকে আবার হাসিমুখে আমাদের মাঝে দেখতে চাই।’ অভিনেত্রী তমা মির্জাও দ্রুত আরোগ্য কামনা করেছেন। এ ছাড়া চয়নিকা চৌধুরী, কচি খন্দকার, তানিম রহমান অংশুসহ অনেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দোয়া চেয়েছেন। কেউ ভাগ করে নিয়েছেন কাজের স্মৃতি, কেউ শেয়ার করেছেন পুরোনো হাসিমুখের ছবি। প্রায় প্রতিটি বার্তায় একটাই প্রার্থনা—দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠুন তানিয়া।

ব্যস্ত সময়ের মাঝেই থমকে যাওয়া
বর্তমান সময়ের ব্যস্ত অভিনেত্রীদের মধ্যে তানিয়া বৃষ্টি অন্যতম। নিয়মিত নাটকে অভিনয়ের মাধ্যমে দর্শকের প্রশংসা কুড়িয়েছেন তিনি। ২০১৫ সালে আকরাম খান পরিচালিত চলচ্চিত্র ‘ঘাসফুল’ দিয়ে বড় পর্দায় অভিষেক। ২০১৯ সালে মুক্তি পায় তাঁর অভিনীত ‘গোয়েন্দাগিরি’। দীর্ঘ বিরতির পর আবারও সিনেমায় ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। রায়হান খানের পরিচালনায় ‘ট্রাইব্যুনাল’ সিনেমায় কাজের কথাও ছিল। ঠিক এমন সময়েই অসুস্থতার খবর ভক্তদের উদ্বিগ্ন করে তোলে।

অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে প্রায় ১৩০টি নতুন আইন ও সংশোধনী প্রণয়ন এবং প্রায় ৬০০টি নির্বাহী আদেশ জারি হয়েছে, যার প্রায় ৮৪ শতাংশ ইতোমধ্যে বাস্তবায়িত হয়েছে।

সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) রাত সোয়া নয়টায় জাতির উদ্দেশে বিটিভিতে দেওয়া বিদায়ী ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা এ তথ্য জানান।

মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের সময় দেয়ালে দেয়ালে তরুণরা যে নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন এঁকেছিল— তার কেন্দ্র ছিল প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার। সেই প্রত্যাশা বাস্তবায়নে অন্তর্বর্তী সরকার প্রায় ১৩০টি নতুন আইন ও সংশোধনী প্রণয়ন করেছে এবং প্রায় ৬০০টি নির্বাহী আদেশ জারি করেছে, যার প্রায় ৮৪ শতাংশ ইতোমধ্যে বাস্তবায়িত হয়েছে।

'এই সংস্কারসমূহ নাগরিক অধিকারকে সংহত করেছে, বিচারব্যবস্থাকে শক্তিশালী করেছে এবং গুম, খুন ও বিচারবহির্ভূত হত্যার সংস্কৃতি যেন আর কখনো ফিরে না আসে সেটা নিশ্চিত করেছে'— যোগ করেন তিনি।

মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, আমরা দায়িত্ব গ্রহণের সময় দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ছিল অত্যন্ত ভঙ্গুর। থানাগুলো ছিল পুলিশশূন্য, জনগণের মধ্যে আস্থার বদলে ভয় ও শঙ্কা তৈরি হয়েছিল। ধাপে ধাপে আমরা সেই অবস্থার পরিবর্তন ঘটিয়েছি। আজ পুলিশ আর মারণাস্ত্র ব্যবহার করে না, বেআইনিভাবে কাউকে তুলে নিয়ে যায় না, ‘বন্দুকযুদ্ধের’ নামে হত্যা করে না, পুলিশ ও গোয়েন্দাবাহিনীর ভয়ে কাউকে ডিলিট বাটন চাপতে হয় না। জনবান্ধব ও জবাবদিহিমূলক বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে পুলিশ কমিশন অধ্যাদেশ ২০২৫ প্রণয়ন করা হয়েছে।

বিচার বিভাগকে স্বাধীন ও শক্তিশালী করতে পৃথক সচিবালয় গঠন, বিচারক নিয়োগে স্বচ্ছ কাঠামো এবং দেওয়ানি ও ফৌজদারি আইনে যুগান্তকারী সংস্কার করা হয়েছে বলেও ভাষণে উল্লেখ করেন প্রধান উপদেষ্টা। এজন্য সেপারেশন অব জুডিশিয়ারি করতে মাজদার হোসেন মামলার রায় আমরাবাস্তবায়ন করার কথা জানায়।

তিনি আরও বললেন, গুমকে মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন সংশোধন করা হয়েছে। বিচার প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ করতে রায় সরাসরি সম্প্রচারের সুযোগ, বিদেশি আইনজীবী নিয়োগ এবং অন্তর্বর্তী আপিলের বিধান যুক্ত করা হয়েছে। বাংলাদেশ যেন আর কখনো মানবাধিকারহীন রাষ্ট্রে পরিণত না হয়— সে লক্ষ্যে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছে এবং কমিশন গঠন করা হয়েছে।

আমাদের অনুসরণ করুন

 

সর্বাধিক পড়ুন

  • সপ্তাহ

  • মাস

  • সব