• Colors: Purple Color

১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ফলাফলের বেশিরভাগই রাতের মধ্যে পাওয়ার প্রত্যাশা করছেন নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে নির্বাচন ভবনে প্রেস ব্রিফিংয়ে এ প্রত্যয় ব্যক্ত করেন নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ।

তিনি জানিয়েছেন, আগামীকাল বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) ব্যালট পেপার ও নির্বাচনী সামগ্রী বিতরণ শুরু হবে, সন্ধ্যার মধ্যে কেন্দ্রে যা ভোটকেন্দ্রে চলে যাবে। সংসদীয় আসন ও গণভোটের ফলাফল একসাথে গণনা হবে এবং ভোটের দিন ব্রিফিং হবে মোট চারবার।

সারাদেশের ভোটের ওপর সংখ্যাগরিষ্ঠের ভিত্তিতে গণভোটের ফলাফল দেওয়া হবে বলেও জানান আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ।

১২ ফেব্রুয়ারি ২৯৯ আসনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেছেন, একটি আসনে ভোট স্থগিত। সাড়ে চারটার পর কেন্দ্রের চৌহদ্দির মধ্যে ভোটার থাকলে তাদেরও ভোট নেয়া হবে। ২ হাজার ২৮ জন প্রার্থী অংশ নিচ্ছেন। যার মধ্যে ৮১ জন নারী প্রার্থী। মোট ৪২ হাজার ৬৫৯ কেন্দ্রে ভোট অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে আনুমানিক ৫০ শতাংশ সাধারণ, বাকি ৫০ শতাংশ গুরুত্বপূর্ণ বা ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র। মোট ভোটার ১২ কোটি ৭৭ লাখের বেশি।

আজ মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত দেশে ৭ লাখ ৩০ হাজার পোস্টাল ব্যালট দেশে পৌঁছানোর কথা বলা হয় ব্রিফিংয়ে।

আরও বলা হয়, ভোটে থাকছেন ৪৫ হাজার ৩৩০ জন দেশীয় পর্যবেক্ষক। ৯ লাখ ৫৮ হাজার জন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মাঠে থাকছেন। ২ হাজার ১০০ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, ৯৫৭ জন বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করবেন। নজরদারি নিশ্চিতে ৯০ ভাগের বেশি কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা আছে। এছাড়া, ড্রোন, বডিওর্ন ক্যামেরা থাকছে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দেশের ২৯৯টি আসনের ৯০ শতাংশের বেশি কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সারা দেশে এখন মোতায়েন আছে বিভিন্ন বাহিনীর ৯ লাখ ৫৮ হাজার সদস্য।

ভোট গ্রহণের দুই দিন আগে আজ মঙ্গলবার ঢাকার আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে নির্বাচন কমিশনার (ইসি) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ এই তথ্য জানিয়েছেন।

আগামী বৃহস্পতিবার ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ও গণভোট হবে। ৩০০ আসনের মধ্যে একটি আসনে ভোট স্থগিত রয়েছে এক প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে।

৪২ হাজারের বেশি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং সার্বক্ষণিক নজরদারির জন্য সিসি ক্যামেরা বসানোর সিদ্ধান্ত হয়েছিল আগেই।

নির্বাচন কমিশনার সানাউল্লাহ ৯০ শতাংশের কথা বললেও কতটি কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে, তার সুনির্দিষ্টভাবে হিসাব দিতে পারেননি। সংখ্যাটি বুধবার জানানো হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

সিসি ক্যামেরা ছাড়াও সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনে বিভিন্ন কেন্দ্রে প্রয়োজন বিবেচনায় ড্রোন, বডি-ওর্ন ক্যামেরাও ব্যবহার করা হবে বলে তিনি জানান।

প্রেস ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সারা দেশে বিভিন্ন বাহিনীর ৯ লাখ ৫৮ হাজার সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। এ ছাড়া ২ হাজার ৯৮ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও ৬৫৭ জন বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োজিত আছেন।

 নির্বাচনের প্রস্তুতির সর্বশেষ নিয়ে আজ মঙ্গলবার নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের সামনে নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ
নির্বাচনের প্রস্তুতির সর্বশেষ নিয়ে আজ মঙ্গলবার নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের সামনে নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ
 

নির্বাচন কমিশনার সানাউল্লাহ বলেন, ‘বাংলাদেশে এত ফোর্স, এত ক্যাপাসিটি ডেপ্লয় কখনোই করা হয়নি। তাই নির্বাচনে অপ্রীতিকর পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কারণ নেই। এরপরও যদি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটে থাকে, সেটার জন্য আমরা প্রস্তুত আছি।’

নির্বাচনের আগে গত ১৩ ডিসেম্বর থেকে এ পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ৮৫০টি অস্ত্র উদ্ধার করেছে জানিয়ে নির্বাচন কমিশনার বলেন, ‘এই অস্ত্রের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ, আমাদের ধারণা, নির্বাচনে অপব্যবহার করার জন্য আনা হয়েছিল।’

১২ ফেব্রুয়ারি ভোটের দিন প্রতি ২ ঘণ্টা পরপর নির্বাচনের সার্বিক বিষয়ে ইসি জানাবে বলেও জানান নির্বাচন কমিশনার সানাউল্লাহ।

সোনালী ব্যাংক নাটোর শাখার মাধ্যমে ইসলামী ব্যাংক নাটোর শাখায় পাঠানো প্রায় চার কোটি টাকার একটি সন্দেহজনক লেনদেন স্থগিত করা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার দুপুরে নাটোর-২ (সদর ও নলডাঙ্গা) আসনে বিএনপি প্রার্থীর অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে লেনদেনটি স্থগিত রাখা হয়েছে।

নাটোর–২ আসনে বিএনপি প্রার্থী রুহুল কুদ্দুস তালুকদার (দুলু) আজ মঙ্গলবার বিকেলে শহরের নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের জানান, ঢাকা থেকে সোনালী ব্যাংক নাটোর শাখার মাধ্যমে ইসলামী ব্যাংক নাটোর শাখায় সন্দেহভাজন একটি ব্যাংক হিসাবে প্রায় চার কোটি টাকা পাঠানো হয়। জানতে পেরে তিনি জেলার রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে ওই লেনদেন স্থগিত রাখার আবেদন করেন। অভিযোগ পেয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তা সংশ্লিষ্ট ব্যাংক কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাঁদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবহিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলেন। পরে লেনদেনটি স্থগিত করা হয়।

রুহুল কুদ্দুস তালুকদার বলেন, ভোটের ঠিক এক দিন আগে এতগুলো টাকা উত্তোলনের বিষয়টি সন্দেহজনক। এই টাকা ভোট কেনাবেচার কাজে ব্যবহৃত হওয়ার আশঙ্কা আছে। সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে তিনি লেনদেনটি স্থগিত রাখা যুক্তিযুক্ত বলে মনে করেছেন।

ইসলামী ব্যাংক নাটোর শাখার কর্মকর্তা (এভিপি) রেজাউল করিম বলেন, চার কোটি টাকা লেনদেন ইসলামী ব্যাংকের জন্য তেমন কোনো বড় লেনদেন নয়। ভোটের সময় ব্যাংক বন্ধ থাকবে। তাই একটি এটিএম বুথের জন্য এসব টাকার চাহিদাপত্র দেওয়া হয়েছিল। এর মধ্যে সন্দেহের কিছু নেই।

সোনালী ব্যাংক নাটোর প্রধান শাখার কর্মকর্তা (এজিএম) উজ্জল কুমার বলেন, ‘একটি লেনদেনের ব্যাপারে অভিযোগ পাওয়ার পর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেছি। তাদের সিদ্ধান্ত মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।’

নাটোরের জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা আসমা শাহীন বলেন, ইসলামী ব্যাংকের একটি লেনদেনকে একজন প্রার্থী সন্দেহজনক বলে অভিযোগ করেছেন। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

বগুড়া–৪ (কাহালু ও নন্দীগ্রাম) আসনে জামায়াত প্রার্থীর সমর্থকদের হামলায় চোখে গুরুতর আঘাত পেয়েছেন নন্দীগ্রাম উপজেলার থালতা-মাঝগ্রাম ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মাসুদ রানা (মজিদ)। তাঁকে ঢাকার জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

এদিকে মাসুদ রানা চোখের দৃষ্টি হারিয়েছেন– এমন খবর শুনে তাঁর মা রাবেয়া বেওয়া (৬৫) হঠাৎ অসুস্থ হয়ে মারা গেছেন। আজ মঙ্গলবার বেলা আড়াইটার দিকে নন্দীগ্রামের পারশুন গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। রাবেয়া বেওয়া ওই গ্রামের প্রয়াত মোহাম্মদ আলী আকন্দের স্ত্রী।

আহত মাসুদ রানার ছেলে কলেজছাত্র সিয়াম আকন্দ বলেন, তাঁর বাবার দৃষ্টিশক্তি হারানোর খবর শুনে দাদির (রাবেয়া বেওয়া) হার্ট অ্যাটাক হয়। কিছুক্ষণের মধ্যে তিনি মারা যান।

বিএনপির প্রার্থী মোশারফ হোসেন জানান, হামলার পর আহত মাসুদ রানাকে নিয়ে তাঁর স্ত্রী সালমা বেগম শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসক তাঁর ডান চোখ হারানোর কথা বলেন। আজ দুপুরের দিকে সালমা বেগম মুঠোফোনে বাড়িতে তাঁর শাশুড়ি রাবেয়া বেওয়াকে বিষয়টি জানান। ছেলের চোখে হারানোর খবর জানার পরপরই তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। কিছুক্ষণের মধ্যেই মৃত্যু হয়। তাঁকে হাসপাতালে নেওয়ার সময়ও পাওয়া যায়নি।

এর আগে সোমবার রাতে নন্দীগ্রামের পারশুন গ্রামে জামায়াতের প্রার্থী মোস্তফা ফয়সালের পক্ষে ভোট কেনার অভিযোগে স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতা বেলাল হোসেন ও জামায়াতের কর্মী ফারুক হোসেনকে আটক করেন ধানের শীষের সমর্থকেরা। ওই দুজনকে থালতা–মাঝগ্রাম ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মাসুদ রানার পারশুন গ্রামের বাড়িতে আটকে রেখে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে রাত ১২টার দিকে অর্ধশতাধিক মোটরসাইকেলে লাঠিসোঁটা নিয়ে দাঁড়িপাল্লার সমর্থকেরা মাসুদ রানার বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর চালান। হামলায় মাসুদ রানা গুরুতর আহত হন এবং তাঁর চোখ গুরুতর জখম হয়। হামলাকারীরা বেলাল ও ফারুককে নিয়ে চলে যান।
আহত মাসুদ রানাকে প্রথমে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি ঘটলে তাঁকে আজ দুপুরের দিকে ঢাকায় জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে পাঠানো হয়।

শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চক্ষু বিভাগের প্রধান পল্লব সেন বলেন, গুরুতর জখম হয়ে মাসুদ রানা এক চোখের দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন। দৃষ্টিশক্তি ফেরাতে চোখে জটিল অস্ত্রোপচার দরকার। এ কারণে তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলন
এ ঘটনায় জামায়াতে ইসলামীকে দায়ী করে আজ বগুড়া প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করা হয়। এ সময় আহত মাসুদ রানার ছেলে সিয়াম আকন্দ অভিযোগ করেন, ‘জামায়াত–শিবিরের নেতা–কর্মীরা মধ্যরাতে আমাদের বাড়িসহ কয়েকটি বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর চালান। এ সময় মা–বাবাসহ বাড়ির লোকজনকে বেধড়ক মারধর করা হয়। একপর্যায়ে জামায়াত–শিবিরের নেতা–কর্মীরা আমার বাবার চোখ উপড়ে ফেলানোর চেষ্টা করেন। এতে তাঁর চোখ গুরুতর জখম হয়ে দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন।’

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বগুড়া জেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম ও বগুড়া–৪ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী ও জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মোশারফ হোসেন।

বগুড়া প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেছেন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মোস্তফা ফয়সাল। আজ বিকেলে
বগুড়া প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেছেন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মোস্তফা ফয়সাল। আজ বিকেলে
 

ওই ঘটনায় আজ বিকেলে বগুড়া প্রেসক্লাবে পাল্টা সংবাদ সম্মেলন করে জামায়াতে ইসলামী। দলের প্রার্থী মোস্তফা ফয়সাল বলেন, টাকা বিতরণের অভিযোগ ভিত্তিহীন। গতকাল রাতে দাঁড়িপাল্লার পক্ষে ভোট চাওয়ার জন্য পারশুন গ্রামে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের কর্মী ফারুক হোসেন প্রচার কার্যক্রম চালাচ্ছিলেন। সেই মুহূর্তে বিএনপি নেতা মাসুদ রানার নেতৃত্বে তাঁকে বেধড়ক মারধর করা হয় এবং মাসুদের বাড়িতে তাঁকে বেধে রাখা হয়। পরে পুলিশ প্রশাসনকে জানালে দ্রুত কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। বিক্ষুব্ধ জনতা তাঁকে উদ্ধার করতে গেলে ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মাসুদ রানার নেতৃত্বে তাঁর লোকজন হামলা করেন। এতে দাঁড়িপাল্লার বেশ কিছু কর্মী গুরুতর আহত হন। তবে তিনি স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি বেলাল হোসেনের বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি।

সংবাদ সম্মেলনে বগুড়া শহর জামায়াতের আমির আবিদুর রহমান, সেক্রেটারি আ স ম আবদুল মালেক, শহর শিবিরের সভাপতি হাবিবুল্লাহ খন্দকার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

নন্দীগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মিজানুর রহমান বলেন, ধানের শীষের সমর্থকেরা দাঁড়িপাল্লার দুই কর্মীকে আটক করেছেন, এমন খবর পেয়ে জামায়াতের কর্মীরা সেখানে গিয়ে তাঁদের উদ্ধার করে নিয়ে গেছেন। এ ঘটনায় কোনো পক্ষই এখনো মামলা দায়ের করেনি।

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ঠিক আগমুহূর্তে জার্মান সংবাদমাধ্যম ডয়চে ভেলেকে দেওয়া এক একান্ত সাক্ষাৎকারে নিজের রাজনৈতিক দর্শন, রাষ্ট্র পরিচালনার পরিকল্পনা এবং আগামীর চ্যালেঞ্জ নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

মঙ্গলবার (৯ ফেব্রুয়ারি) প্রকাশিত এই সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, নির্বাচনে জয়লাভ করলে বিএনপি এককভাবে সরকার গঠন করবে। দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসন শেষে দেশে ফেরা এবং নির্বাচনি ডামাডোলের মাঝে মাতৃবিয়োগের শোক—এই দুইয়ের মধ্যে সামঞ্জস্য বজায় রাখাই তার জীবনের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তারেক রহমান বলেন, আমরা আশাবাদী যে এই নির্বাচন সুষ্ঠু হবে এবং মানুষ তাদের প্রত্যাশা অনুযায়ী ভোট দিতে পারবে। দেশের একটি ভারসাম্যপূর্ণ রাষ্ট্রকাঠামো নিশ্চিত করতে কাউকে না কাউকে বিরোধী দলে থাকতে হবে। তাই সবাই মিলে সরকার গঠনের চেয়ে এককভাবে সরকার গঠন এবং শক্তিশালী বিরোধী দল থাকা গণতন্ত্রের জন্য জরুরি বলে তিনি মনে করেন।

৫ই আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, রাজনীতিতে মানুষ যাকে গ্রহণ করবে না, শক্তি প্রয়োগ করে তাকে কেউ টিকিয়ে রাখতে পারবে না।

দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠী নারীকে নিয়ে বিএনপির ভাবনার কথা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, বেগম খালেদা জিয়া মেয়েদের দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষা অবৈতনিক করেছিলেন। বিএনপি ক্ষমতায় আসলে এই সুযোগ আরও উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত বিস্তৃত করা হবে। এছাড়া প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর গৃহিণীদের জন্য রাষ্ট্রীয়ভাবে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালুর পরিকল্পনা রয়েছে, যার মাধ্যমে তাদের স্বাবলম্বী করা হবে। এছাড়াও প্রতিবন্ধী, তরুণ ও বয়স্ক—সমাজের প্রতিটি স্তরের মানুষের জন্য ইশতেহারে সুনির্দিষ্ট কর্মসূচি রাখা হয়েছে।

বৈদেশিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্বের প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, আমি প্রতিনিধিত্ব করি আমার দেশের মানুষের। যদি এমন কোনো চুক্তি হয় যা বাংলাদেশের মানুষের স্বার্থের পরিপন্থী, তবে সেই দেশের সঙ্গে স্বাভাবিকভাবেই দূরত্ব তৈরি হবে। দেশের স্বার্থ রক্ষা করাই হবে আমাদের সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার।

গত দেড় দশকে সংঘটিত গুম ও খুনের বিচার প্রসঙ্গে বিএনপি চেয়ারম্যান অত্যন্ত কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, একটি সভ্য দেশে মানুষ গুম হয়ে যাবে আর তার বিচার হবে না, এটা হতে পারে না। দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী প্রতিটি ভুক্তভোগী পরিবার বিচার পাওয়ার অধিকার রাখে।

তিনি আশ্বস্ত করেন, গণতান্ত্রিক আন্দোলনে যারা গুম ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, তাদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হবে।

দলের কিছু প্রার্থীর বিরুদ্ধে ঋণখেলাপির অভিযোগের বিষয়ে তারেক রহমান বলেন, দুর্নীতি এবং ব্যবসায়িক কারণে ডিফল্ট হওয়া সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়। বিগত স্বৈরাচারী সরকার বিএনপির ব্যবসায়ী নেতাকর্মীদের ওপর মামলা-হামলা চালিয়ে তাদের ব্যবসা-বাণিজ্য ধ্বংস করে দিয়েছে এবং ন্যায্য ব্যাংক ঋণ থেকে বঞ্চিত করেছে। এ কারণেই অনেকে প্রতিকূল পরিস্থিতির শিকার হয়ে ডিফল্ট হয়েছেন, যা কোনোভাবেই দুর্নীতির সঙ্গে তুলনীয় নয়। দুর্নীতি দমনে বিএনপির ইশতেহারে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করা হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আজ বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন। 

এদিন সন্ধ্যায় বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি), বাংলাদেশ বেতারসহ দেশের সব বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল ও রেডিওতে একযোগে এই ভাষণ সম্প্রচার করা হবে।

মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) এক বার্তায় বিষয়টি নিশ্চিত করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

ধারণা করা হচ্ছে, ভাষণে নির্বাচনের সার্বিক প্রস্তুতি সম্পর্কে দেশবাসীকে অবহিত করবেন এবং ভোটারদের নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগের আহ্বান জানাবেন সিইসি।

এছাড়া, দেশজুড়ে নির্বাচনি সামগ্রী বিতরণ, ৪২ হাজার ৬৫৯টি ভোটকেন্দ্রের সামগ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েও বক্তব্য রাখবেন তিনি। ’

ভাষণে সিইসি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ৯ লাখ ৫৮ হাজার সদস্য মোতায়েন, ভোটকেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপন ও ড্রোন নজরদারির মাধ্যমে সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করার বিষয়টি তুলে ধরবেন। একইসঙ্গে একটি অবাধ, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজনের ক্ষেত্রে কমিশনের দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করবেন তিনি।

এর আগে, গত বছরের ১১ ডিসেম্বর জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছিলেন সিইসি। সে অনুযায়ী, আগামীকাল ১২ ফেব্রুয়ারি দেশব্যাপী অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন।

 

আমাদের অনুসরণ করুন

 

সর্বাধিক পড়ুন

  • সপ্তাহ

  • মাস

  • সব