• Colors: Purple Color

পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক (অতিরিক্ত আইজিপি) পদমর্যাদার পাঁচজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে অবসরে পাঠিয়েছে সরকার। গতকাল রোববার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পুলিশ-১ অধিশাখার এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে প্রজ্ঞাপনে স্বাক্ষর করেন জ্যেষ্ঠ সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, নৌ পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি কুসুম দেওয়ান, রাজশাহীর সারদা বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমির অধ্যক্ষ মো. তওফিক মাহবুব চৌধুরী ও পুলিশ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত আইজিপি (ট্রেনিং রিজার্ভ-টিআর পদে) মো. মাসুদুর রহমান ভূঞাকে সরকারি চাকরি থেকে অবসর দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) হিসেবে থাকা পুলিশ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত আইজিপি আবু হাসান মুহম্মদ তারিক ও একই মন্ত্রণালয়ের ওএসডি থাকা মোহা. আবদুল আলীম মাহমুদকে সরকারি চাকরি থেকে অবসর প্রদান করা হলো। সরকারি চাকরি আইন (২০১৮ সালের ৫৭ নম্বর আইন)–এর ধারার বিধান অনুযায়ী, জনস্বার্থে এই কর্মকর্তাদের সরকারি চাকরি থেকে অবসর প্রদান করা হলো।

পুলিশ সদর দপ্তর সূত্র জানায়, আবু হাসান মুহম্মদ তারিক ১২তম বিসিএস ক্যাডারের (পুলিশ)। বাকি চারজন ১৫তম বিসিএস ক্যাডারের (পুলিশ)। গত বছরের ২৭ জুলাই ঢাকার মিরপুরে অবস্থিত পুলিশ স্টাফ কলেজের রেক্টর অতিরিক্ত আইজিপি আবু হাসান মুহাম্মদ তারিককে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) করে সরকার। পুলিশের ১২তম ব্যাচের কর্মকর্তা আবু হাসান মুহম্মদ তারিক আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ২০২২ সালের ১৭ জানুয়ারি অতিরিক্ত আইজিপি পদে পদোন্নতি পান। ওই বছরের ২ ফেব্রুয়ারি তিনি রাজশাহী পুলিশ একাডেমির অধ্যক্ষ হন।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়। গত বছরের ২৫ ফেব্রুয়ারি অতিরিক্ত আইজিপি আলীম মাহমুদকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ওএসডি করে সরকার।

২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনকে যারা নিজেদের একক সম্পত্তি হিসেবে দাবি করছে, তাদের তালিকা তৈরি করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির। সোমবার (০৯ মার্চ) বেলা ১১টার সময় এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এই মন্তব্য করেন।

আইজিপি আরও বলেন, আমরাও রাজপথে ছিলাম। জুলাই বিপ্লব কারও বাপের সম্পত্তি নয়। এ সময় পুলিশের মহাপরিদর্শক জানান, ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান বিন হাদির হত্যাকারীকে অচিরেই দেশে আনা হবে। 

আইজিপি বলেন, আমি দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছি। চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে দল-মতনির্বিশেষে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। দলীয় কোনো বিবেচনার সুযোগ নেই। ইতোমধ্যে মাঠপর্যায়ে পুলিশ কর্মকর্তাদের এ বিষয়ে সুস্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ব্লক রেট দিয়ে সন্ত্রাসী চাঁদাবাজ মাদক ব্যবসায়ী অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে এবং চলমান আছে।

চাঞ্চল্যকর কোনো ঘটনার সঙ্গে সঙ্গে গুরুত্ব দিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থল পরিদর্শনসহ যথাযথ আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। গণধর্ষণ, ধর্ষণসহ নারীর প্রতি সহিংসতার কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান তিনি। আমরা সিআইডিকে আরও আধুনিকীকরণের মাধ্যমে মামলা তদন্তের গুণগত মান বাড়াতে চাই। মামলার তদন্তকার দ্রুত সম্পন্ন করে প্রকৃত অপরাধীদের বিচার নিশ্চিত করতে আমরা অঙ্গীকারবদ্ধ।

তিনি আরও বলেন, আমরা এমনভাবে জনগণকে সেবা দিতে চাই, যাতে থানায় আগত মানুষ হাসিমুখে থানা থেকে ফিরে যেতে পারে। পুলিশের বিরুদ্ধে যাতে কোনো ধরনের কমপ্লেইন না থাকে। পুলিশের রিঅ্যাকশন টাইম ন্যূনতম পর্যায়ে নিয়ে আসা হবে।

আইজিপি বলেন, গত ১২ ফেব্রুয়ারি উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন সরকার গঠিত হয়েছে। সরকারের অন্যতম প্রধান অঙ্গীকার দেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা করা। সে লক্ষ্যে দেশের স্বাভাবিক আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখা হবে আমাদের অন্যতম প্রধান অঙ্গীকার।

 

ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধে দুবাইতে নিহত প্রবাসী বাংলাদেশি আহমেদ আলীর মরদেহ দেশে এসে পৌঁছেছে।

সোমবার (৯ মার্চ) আমিরাত এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে সকাল ৮টা ৫৫ মিনিটে আলীর মরদেহ বহনকারী বিমানটি ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।

এসময় নিহতের স্বজনরা ছাড়াও সরকারের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, 'বাংলাদেশের নাগরিকদের গুরুত্ব সরকারের কাছে সবথেকে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আলী আহমেদের পরিবারের পাশে থাকবে সরকার। প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হবে।

ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধে আরও ১৪ জন আহত হয়েছে; যাদের সর্বোচ্চ চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে জানান প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর। মধ্যপ্রাচ্যের ঝুকিপূর্ণ এলাকা এড়িয়ে চলতে প্রবাসীদের অনুরোধ জানান তিনি।

এয়ারপোর্টের সার্বিক কার্যক্রম শেষে অভ্যন্তরীণ বিমানযোগে মরদেহ নেয়া হয় সিলেটের মৌলভীবাজারে। স্বজনরা জানান, আহমেদ আলী দীর্ঘদিন ধরে সংযুক্ত আরব আমিরাতের আজমান শহরে বসবাস করতেন। ইরানের ছোড়া একটি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে গেলো ২৮ ফেব্রুয়ারি তিনি নিহত হন। গ্রামের বাড়িতে পারিবারিক কবরস্থানেই সমাহিত করা হবে তাকে।

 

 

সরকারের পাঁচজন মন্ত্রী এবং প্রধানমন্ত্রীর একজন উপদেষ্টার নাম সংশোধন করা হয়েছে।

রোববার (৮ মার্চ) নাম সংশোধন করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসনে জয়লাভ করে গত ১৭ ফেব্রুয়ারি সরকার গঠন করে বিএনপি। ওইদিনই ৫০ সদস্যের মন্ত্রিসভা গঠন করে দলটি। নতুন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের দপ্তর বণ্টন করে প্রজ্ঞাপন জারি করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।

অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী ‘আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী’র নাম পরিবর্তন করে করা হয়েছে ‘আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী’; পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী ‘আব্দুল আউয়াল মিন্টু’র নাম করা হয়েছে ‘আবদুল আউয়াল মিন্টু’; ধর্মমন্ত্রী ‘কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ’ এর নাম ‘কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন (কায়কোবাদ)’ করা হয়েছে।

কৃষি, খাদ্য এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী ‘মোহাম্মদ আমিন উর রশীদ’ এর নাম ‘মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ’; পানিসম্পদ মন্ত্রী ‘মো. শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি’র নাম সংশোধন করে ‘মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি’ করা হয়েছে।

এছাড়া, প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় নিযুক্ত প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ‘ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শামসুল ইসলাম’ এর নাম সংশোধন করে করা হয়েছে ‘ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম’।

এছাড়া, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী হাফিজ উদ্দিন আহমেদ এর নাম সংশোধন করে ‘হাফিজ উদ্দিন আহমদ’ করার আবেদন করেছেন। এরইমধ্যে এ সংক্রান্ত আবেদন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠানো হয়েছে।

 

জ্বালানি তেলের সরবরাহ নিশ্চিত করতে এবং বাজারে কৃত্রিম সংকট প্রতিরোধে সারা দেশে ভ্রাম্যমাণ আদালত (মোবাইল কোর্ট) পরিচালনার নির্দেশ দিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।

সোমবার (৯ মার্চ) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জেলা ম্যাজিস্ট্রেট পরিবীক্ষণ শাখা থেকে দেশের সব জেলা প্রশাসককে (ডিসি) এই নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব নাহিদা আক্তার তানিয়ার সই করা পত্রে জানানো হয়, জ্বালানি তেলের বাজারে শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং কোনো ধরনের কৃত্রিম সংকট যেন তৈরি না হয়, তা নিশ্চিত করতেই এই বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

চিঠিতে মূলত তেলের অবৈধ মজুত গড়ে তোলা বন্ধ করা, নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অতিরিক্ত দামে তেল বিক্রি প্রতিহত করা এবং খোলা বাজারে তেল বিক্রি ও পাচার রোধে কড়া নজরদারির মাধ্যমে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট বা ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিতে বলা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ থেকে গত ৮ মার্চ একটি সূত্রের মাধ্যমে এই মোবাইল কোর্ট পরিচালনার জন্য অনুরোধ জানানো হয়। সেই অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতেই জনস্বার্থে এবং তেলের সরবরাহ নিরবচ্ছিন্ন রাখতে মাঠ প্রশাসনকে এই নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এই নির্দেশের পর সারা দেশের জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে জেলা প্রশাসকদের তদারকিতে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা বাজার মনিটরিং এবং মোবাইল কোর্ট পরিচালনা শুরু করবেন। নির্দেশনায় স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে, জনস্বার্থে এই কার্যক্রম দ্রুত কার্যকর করতে হবে।

 

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদি হত্যার অভিযোগে ভারতের কলকাতায় গ্রেফতার দুই বাংলাদেশিকে ফেরত চাইতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। ইতোমধ্যে দেশটির কাছে কনস্যুলার অ্যাকসেস চাওয়া হয়েছে।

সোমবার (৯ মার্চ) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ এসব তথ্য জানান।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, হাদি হত্যাকাণ্ডে সন্দেহভাজন হিসেবে কলকাতা পুলিশ দুজনকে গ্রেফতার করেছে বলে গতকাল আমরা জানতে পেরেছি এবং তাদেরকে ১৪ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে।

এ নিয়ে তিনি আরও বলেন, 'কলকাতার উপ-কমিশনার ইতোমধ্যে যোগাযোগ করেছে। আমরা ভারতের কাছে কনস্যুলার অ্যাক্সেস চেয়েছি। কারণ, আমাদের কাছে যে তথ্য আছে, তা এখন পর্যন্ত যথেষ্ট নয়। কনস্যুলার অ্যাকসেস পাওয়া মাত্রই আমরা সামনের দিকে এগোতে পারবো। ভারতের সাথে আমাদের বন্দি বিনিময় চুক্তি আছে। যদি আসামিরা শনাক্ত হয়, তাহলে আমরা ভারত সরকারের সাথে বন্দি বিনিময় চুক্তির মাধ্যমে বন্দিদেরকে ফেরত আনার ব্যবস্থা করবো।'

এই কনস্যুলার অ্যাকসেস পেলে বাংলাদেশের কর্মকর্তারা বন্দিদের পরিচয় যাচাই করার পাশাপাশি জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারবেন বলে জানান শামা ওবায়েদ। তারপরই বন্দি প্রত‍্যার্পন চুক্তির আওতায় গ্রেফতারকৃতদের ফেরানোর চেষ্টা করা হবে।

উল্লেখ্য, গত বছরের ১২ ডিসেম্বর দুপুরে ঢাকার পল্টনের বক্স কালভার্ট রোড ধরে রিকশা করে যাওয়ার সময় গুলিতে গুরুতর আহত হন ওসমান হাদি। এরপর সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ১৮ ডিসেম্বর তিনি মারা যান।

হাদি হত্যাকাণ্ডের প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ ও তার সহযোগী আলমগীর হোসেনকে গত শনিবার দিবাগত রাতে গ্রেফতার করেছে ভারতীয় পুলিশ। বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী পশ্চিমবঙ্গের বনগাঁ এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদেরকে গ্রেফতারের কথা গতকাল রোববার পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্সের (এসটিএফ) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।

আমাদের অনুসরণ করুন

 

সর্বাধিক পড়ুন

  • সপ্তাহ

  • মাস

  • সব