• Colors: Purple Color

ঢাকা

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তি প্রসঙ্গে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির বলেন, ‘কোনো চুক্তিই চূড়ান্ত নয়। প্রতিটি চুক্তিতে সংশোধন ও পুনরায় আলোচনার সুযোগ থাকে। ভবিষ্যতে প্রয়োজন হলে আলোচনা করে বাণিজ্যচুক্তিতে পরিবর্তন আনা সম্ভব।’

আজ বুধবার সকালে সফররত যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী পল কাপুরের সঙ্গে বৈঠক করেন খন্দকার আবদুল মুক্তাদির। বৈঠক শেষে তিনি সাংবাদিকদের এ কথা বলেন।

খন্দকার আবদুল মুক্তাদির আরও বলেন, চুক্তি নিয়ে অতিরিক্ত উদ্বিগ্ন হওয়ার প্রয়োজন নেই। সরকার বিষয়টি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করছে এবং দেশের স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।

সচিবালয়ে বাণিজ্যমন্ত্রীর অফিসকক্ষে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। গত ৯ ফেব্রুয়ারি মার্কিন পাল্টা শুল্ক ইস্যুতে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বাণিজ্যচুক্তি হয়।

আজকের বৈঠকে দুই দেশের মধ্যকার বিদ্যমান বাণিজ্য সম্পর্ক আরও জোরদার করা এবং নতুন নতুন খাতে বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

বৈঠক শেষে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বাণিজ্যচুক্তি নিয়ে পৃথক কোনো আলোচনা হয়নি। এই চুক্তি ইতিমধ্যে স্বাক্ষরিত হয়েছে এবং এটি দুই দেশের মধ্যে একটি রাষ্ট্রীয় চুক্তি। ফলে এ নিয়ে নতুন করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কিছু নেই।

চুক্তিটি বাংলাদেশের স্বার্থের বিরুদ্ধে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে খন্দকার আবদুল মুক্তাদির বলেন, যেকোনো আন্তর্জাতিক চুক্তিতে দুই পক্ষেরই কিছু দাবি থাকে। কিছু ধারা এক পক্ষের অনুকূলে থাকে, আবার কিছু ধারা অন্য পক্ষের জন্য সুবিধাজনক হয়। আলোচনার মাধ্যমে একটি উইন-উইন পরিস্থিতিতে পৌঁছানোর চেষ্টা করা হয়।

খন্দকার আবদুল মুক্তাদির বলেন, এই চুক্তিকে এখনই পুরোপুরি নেতিবাচক বা ইতিবাচক হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এটি একটি বাস্তবতা এবং ভবিষ্যতে বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদারে এর অনেক ধারা কাজে লাগানো যাবে।

খন্দকার আবদুল মুক্তাদির আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চ আদালতের ট্যারিফসংক্রান্ত রায়ের পর পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। বিষয়টি এখনো বিকাশমান।

খন্দকার আবদুল মুক্তাদির জানান, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং ডিজিটাল অবকাঠামো উন্নয়নে সহযোগিতাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে নির্দিষ্টভাবে চুক্তি নিয়ে আলাদা কোনো আলোচনা হয়নি।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে খন্দকার আবদুল মুক্তাদির বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্টের পাঠানো অভিনন্দন বার্তায় বাণিজ্য ও সামরিক বিষয়সংক্রান্ত কিছু বিষয় উল্লেখ থাকলেও, তা নিয়ে বৈঠকে কোনো আলোচনা হয়নি। তিনি আরও বলেন, সামরিক বিষয় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের আওতাভুক্ত নয়।

ভিসা বন্ড প্রসঙ্গে খন্দকার আবদুল মুক্তাদির জানান, বিষয়টি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দেখবে। সরকার চায় দুই দেশের ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীরা যেন সহজে যাতায়াত করতে পারেন এবং কোনো বাধার মুখে না পড়েন।

নতুন সরকারের সঙ্গে কাজ চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ইতিবাচক আশ্বাস পাওয়া গেছে বলেও জানান বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির। তিনি বলেন, কিছু নন-ট্যারিফ বাধা দূর করা গেলে বাংলাদেশে মার্কিন বিনিয়োগ আরও বাড়বে। এতে দেশটি বিদেশি বিনিয়োগের জন্য আরও আকর্ষণীয় হবে।

বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম, বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেন, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবুর রহমান, অতিরিক্ত সচিব মো আবদুর রহিম খান, অতিরিক্ত সচিব খাদিজা নাজনীন এ সময় বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

চাঁদাবাজ ও অস্ত্রধারী দাগি আসামিদের বিরুদ্ধে ঢাকাসহ সারাদেশে সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। বুধবার (৪ মার্চ) বেলা ১১টায় ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের একথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ঢাকা থেকে শুরু হবে, সারাদেশেই চাঁদাবাজ ও অস্ত্রধারী, দাগি আসামিদের তালিকা করা হচ্ছে। নির্মোহ তালিকা করে অভিযান পরিচালনা করে তাদের আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে। 

তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে জনগণের উদ্দেশ্যে বলেন, আমরা প্রত্যাশা করি দেশের সব জনগণ সহযোগিতা করবেন। আমরা জনগণকে আশ্বস্ত করতে চাই, দেশের শান্তিশৃঙ্খলা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিশ্চিত করা হবে। আশা করি আমরা খুব শিগগিরই পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ করতে পারি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমি আজকে ডিএমপি হেডকোয়ার্টার পরিদর্শনে এসেছিলাম। ডিএমপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, এডিশনাল কমিশনার, যুগ্ম কমিশনার, ডিসি, এডিসি এবং ৫০ থানার ওসিদের সবার সঙ্গে কথা বলেছি। তাদের সমস্যা শুনেছি এবং আমাদের যে ইনস্ট্রাকশন সেগুলো আমরা জানিয়েছি। 

তিনি বলেন, আমাদের মূল উদ্দেশ্য ও বর্তমান সরকারের প্রধানতম অগ্রাধিকার হচ্ছে আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নত করা এবং জনগণে স্বস্তি প্রদান করা এবং দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা। সেজন্য পুলিশের ভূমিকা অগ্রগণ্য। আমরা সবাই জানি। 

বিগত সরকারের আমলে পুলিশের কালিমা উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যেহেতু বাংলাদেশ বিগত সময়ে একটা ফ্যাসিস্ট সরকার ব্যবস্থার মধ্যে ছিল। সেই সময় অন্যান্য সব প্রতিষ্ঠানের মতো পুলিশের এই প্রতিষ্ঠানটিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেই জায়গা থেকে আমরা ক্রমান্বয়ে আজকের এই পর্যায়ে এসেছি। জনমনে যাতে আস্থাটা আমরা সৃষ্টি করতে পারি। 

তিনি দাবি করে বলেন, পুলিশের যে ঐতিহাসিক ভূমিকা ছিল সেই ভূমিকায় আমরা আবার অবতীর্ণ হয়েছি এবং মানুষ যাতে মনে করে পুলিশ সত্যিকারভাবে জনগণের বন্ধু এবং সেই হিসেবে আমরা পুলিশ ফোর্সকে পরিচালিত করবো। আমি সবার মধ্যে তাদের বডি ল্যাঙ্গুয়েজ দেখতে পেয়েছি তারা সবাই সংকল্পবদ্ধ। দেশ ও জাতির কল্যাণে তারা যে কোনো ত্যাগ স্বীকার করতে প্রস্তুত এবং তাদের প্রতিষ্ঠান হিসেবে তাদের কপালে যে অতীতে কালিমা লেপন করে দেওয়া হয়েছিল সেজন্য তারা নিজেরা দায়ী নয়। একটা ফ্যাসিবাদী রেজিমের কারণে কিছু সংখ্যক লোক সেই কর্মকাণ্ড চালিয়েছে। যার দোষটা প্রতিষ্ঠান হিসেবে এই প্রতিষ্ঠানের উপরে এসে পড়েছে। সেজন্য প্রতিষ্ঠান দায়ী নয়।

 

কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) উপর্যুপরি ছুরিকাঘাতে সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি ও সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনা নিহত হয়েছেন। একই সময় রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের কর্মচারী ফজলুর রহমানকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।

আজ বুধবার বিকেল চারটার দিকে ক্যাম্পাসের থিওলজি অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ অনুষদ ভবনের সমাজকল্যাণ বিভাগে এ ঘটনা ঘটে। কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) হোসেন ঈমাম বিষয়টি প্রথম আলোকে নিশ্চিত করেছেন।

আরএমও হোসেন ঈমাম বলেন, হাসপাতালের জরুরি বিভাগে আনার সময় ওই শিক্ষক বেঁচে ছিলেন। তবে ওয়ার্ডে নিয়ে চিকিৎসা শুরু করামাত্রই তিনি মারা যান। তাঁর মাথায় উপর্যুপরি আঘাত করা ছিল। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তাঁর মৃত্যু হয়েছে। আরেকজন পুরুষকে আনা হয়েছে। তাঁর অবস্থাও গুরুতর। তাঁকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন  বলেন, খুবই দুঃখজনক ঘটনা ঘটেছে। শিক্ষক মারা গেছেন।

সরকারে থাকা অবস্থায় বা এর আগে-পরে জীবনে কখনো কোনো দুর্নীতি করেননি উল্লেখ করে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। অন্তর্বর্তী সরকারের বিদায়ের পর তার দুর্নীতির নতুন নতুন খবর ডালাপালা মেলছে উল্লেখ করে এ প্রসঙ্গে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন তিনি।

আজ বুধবার রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে ‘আসিফ নজরুলের দুর্নীতি?’ শিরোনামে দেওয়া এক পোস্টে এসব কথা বলেছেন তিনি।

সাবেক আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের ফেসবুক পোস্টটি নিচে তুলে ধরা হলো:

আসিফ নজরুলের দুর্নীতি?

আসিফ নজরুল আমেরিকায় বাড়ি কিনেছেন। বউ-বাচ্চা সব আমেরিকায় চলে গেছে। সেও শীঘ্রই আমেরিকায় ভেগে যাবে—এরকম একটা গুজব বছরখানেক আগে ইউটিউবে ছাড়া হয়। বিপুল সংখ্যক মানুষ এটি দেখেন এবং কিছু লোক তা বিশ্বাস করাও শুরু করেন!

এর কিছুদিন পর খালেদ মুহিউদ্দিন-এর একটি অনুষ্ঠানে প্রসঙ্গটি ওঠে। আমি হাসব না কাঁদব বুঝতে পারি না। শুধু বলি, আমেরিকায় বাড়ি কিনলে রেকর্ড থাকে, কেউ তা লুকাতে পারে না। খালেদের অনুষ্ঠানে আমি সকল ইউটিউবার, সাংবাদিক ও গোয়েন্দাদের চ্যালেঞ্জ করি—আমেরিকায় আমার বাড়ি থাকলে তার প্রমাণ খুঁজে বের করার জন্য। (আমি এই অনুরোধও করি, এই সংবাদের সত্যতা বের করতে না পারলে যে মিথ্যাবাদীরা এটি ছড়িয়েছে, তাদের কোনো কথা যেন কেউ বিশ্বাস না করে।)

এই চ্যালেঞ্জ জানানোর পর প্রায় আট মাস অতিবাহিত হয়েছে। কিন্তু আমেরিকায় আমার বাড়ি আছে, এমন কোনো ঠিকানা, দলিল, সাক্ষ্য-প্রমাণ কেউ দিতে পারেনি। পারার কথাও নয়। কারণ আমেরিকা কেন, বাংলাদেশের বাইরে বিশ্বের কোনো দেশেই আমার বাড়ি নেই। কোনো রকম সম্পত্তিও নেই।

এই সব খবর আমার সহকর্মীদের অনেকে পাত্তাই দিতে চান না। আমিও চাই না। কিন্তু আমি জানি আমাকে বহু মানুষ ভালোবাসেন, আমার জন্য দোয়া করেন। তাদের একজনও যদি এসব মিথ্যোচারে কষ্ট পেয়ে থাকেন, তার জন্য আমার কিছু কথা স্পষ্টভাবে বলা প্রয়োজন। আমার বক্তব্য এখানে অন-রেকর্ড বলে রাখলাম তার মতো মানুষদের এবং অন্য যে কারো জন্য।

আমার বক্তব্য-১. আমি সরকারে থাকা অবস্থায় বা এর আগে-পরে জীবনে কখনো কোনো দুর্নীতি করিনি। এক টাকা—আবার বলি, এক টাকাও দুর্নীতি করিনি। আমার জ্ঞাতসারে কাউকে দুর্নীতি করতেও দিইনি। আমি কোনো নতুন ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলিনি, আমার কোনো নতুন সম্পদ হয়নি, আয়কর দেওয়ার সময় আমি কোনো সম্পদ অপ্রদর্শিত রাখিনি। আমি কোনো দুর্নীতি করিনি, করার প্রশ্নই আসে না।

বক্তব্য-২. আমি কোনো স্বজনপ্রীতিও করিনি। সরকারে থাকা অবস্থায় আমার পরিবার বা আত্মীয়স্বজনকে বিন্দুমাত্র সুবিধা দিইনি বা তাদের কোনো অনৈতিক সুবিধা পাইয়ে দিইনি। আমি প্রায় পাঁচ হাজার আইন কর্মকর্তা নিয়োগ দিয়েছি, একজন আত্মীয়কেও নিয়োগ দেইনি। আমার আত্মীয়রা কখনো কারও পক্ষে তদবির করার সুযোগও পাননি।

বক্তব্য-৩. আমি কখনো এলাকাপ্রীতি করিনি। উপদেষ্টা থাকাকালে আমার গ্রামের বাড়ি বা ঢাকা শহরে, যেখানে আমি বেড়ে উঠেছি, সেখানে একবারও যাইনি। তবে আমি লালবাগ শাহী মসজিদের জরুরি উন্নয়নের জন্য ধর্ম মন্ত্রণালয়ের কাছ থেকে অল্প কিছু আর্থিক সহযোগিতা নিয়মানুগভাবে পেতে সহযোগিতা করেছি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ও ডাকসুর আবেদনক্রমে ক্রিকেট বোর্ডের কাছে অনুরোধ করে ঢাবির খেলার মাঠের উন্নয়নের জন্য কিছু অনুদান এনে দিয়েছি। এর বাইরে কারও জন্য অনুদানের অনুরোধও আমি কখনো করিনি।

আমি বহু জঘন্য ও পৈশাচিক মিথ্যাচার সহ্য করে যাচ্ছি। আমাদের মহানবী (সাঃ) থেকে শুরু করে বহু উলামায়ে কেরাম এরচেয়েও অনেক বেশি মিথ্যাচার ও অপবাদের শিকার হয়েছেন। আমি তাদের তুলনায় নিতান্ত নগণ্য মানুষ। কিন্তু চুরি করে বা অন্যের হক মেরে বেঁচে থাকার জন্য আমার জন্ম হয়নি। আল্লাহ আমাকে এভাবে সৃষ্টি করেননি।

যারা আমার বিরুদ্ধে অপবাদ রটাচ্ছেন, তাদের সঙ্গে ঝগড়াঝাঁটি করার রুচি আমার নেই। কিন্তু এই আত্মবিশ্বাস আমার আছে যে, দিনশেষে আমার কোনো ক্ষতি আপনারা করতে পারবেন না। আমাকে গত বিশ বছরে বহু অপবাদ দেওয়া হয়েছে। কোনো লাভ হয়নি। আল্লাহ আছেন, আমার জন্য তিনিই যথেষ্ট।

হাসবুনাল্লাহু ওয়া নিয়ামাল ওয়াকিল।

মাদারীপুরে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের হামলায় নারীসহ আহত হয়েছেন অন্তত আটজন। এ সময় অন্তত ২০টি হাতবোমার বিস্ফোরণ ঘটিয়ে পাঁচটি বসতঘর, দুটি দোকান ও দুটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়েছে। এ সময় এক ইউপি সদস্যের বসতঘরে আগুন দেওয়া হয়েছে।

বুধবার বিকেল পাঁচটার দিকে সদর উপজেলার মস্তফাপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। হামলায় আহত ব্যক্তিদের মধ্যে ছয়জনের নাম–পরিচয় পাওয়া গেছে। তাঁরা হলেন মস্তফাপুর ইউনিয়ন পরিষদের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য হাবিব হাওলাদার (৩৫), তাঁর মা হাসিয়া বেগম (৬০), একই এলাকার মকবুল হাওলাদার (৬০), নাসির হাওলাদার (৪৫), জাকির হাওলাদার (৪২), ইদ্রিস হাওলাদার (২৫)। আহত ব্যক্তিদের মাদারীপুর ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

এরপর বুধবার দুপুরে শামচু সরদার মস্তফাপুর এলাকায় গেলে তাঁকে ধাওয়া করে হাওলাদার বংশের লোকজন। এর পরেই শামচু সরদার ও তাঁর লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে হাবিব হাওলাদারের বাড়িতে হামলা চালায়। এ সময় অন্তত ২০টি হাতবোমা বিস্ফোরণ ঘটিয়ে পুরো এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করা হয়। পরে ইউপি সদস্য হাবিব হাওলাদারের বাড়িতে ভাঙচুর ও লুটপাট শেষে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। এ ছাড়া হাওলাদার বংশের আরও চারটি ঘরে ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়। এ সময় দুটি মোটরসাইকেল ও দুটি দোকানঘরে ভাঙচুর চালানো হয়। শামচু সরদারের লোকজনের হামলা প্রতিরোধ করতে গেলে ইফতারের আগে দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে আহত হন উভয় পক্ষের অন্তত আটজন। খবর পেয়ে সদর থানার পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

বর্তমানে ফের সংঘর্ষ এড়াতে ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

মিজু হাওলাদার নামে ক্ষতিগ্রস্ত এক দোকানি বলেন, ‘আমার সঙ্গে কারও কোনো দ্বন্দ্ব নেই। তবু আমার দোকানের শাটার কুপিয়ে ভেঙে ফেলা হয়েছে। আমার ক্ষতি করে কার কী লাভ হলো জানি না। আমি এ ঘটনার বিচার চাই।’

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে শামচু সরদারের মুঠোফোনে কল দেওয়া হলে সংযোগ বন্ধ পাওয়া যায়। তাঁর চাচাতো ভাই সোহরাব সরদার বলেন, ‘ছোটরা ধাওয়াধাওয়ি করেছে। সংঘর্ষে আমরা তো কেউ যাইনি। তবু আমাদের টানা হচ্ছে। আর হাবিবের ঘরে আগুন দেওয়া বা ভাঙচুর লুটপাটের বিষয় আমাদের কিছু জানা নেই। এটা তারা নিজেরা করে আমাদের নামে ষড়যন্ত্র করে অভিযোগ দিচ্ছে।’

মাদারীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ মুঠোফোনে বলেন, মস্তফাপুরের দুই পক্ষ দুই মাস আগেও ব্যাপক সংঘর্ষে জড়িয়েছিল। পরে পুলিশ তাদের আসামি করে মামলা করে। দুই পক্ষের লোকজনই হাইকোর্ট ও নিম্ন আদালত থেকে জামিন নিয়ে এলাকায় ফিরে এসেছে। পরে আজ সকালে প্রথমে ছোটদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পরে এক পক্ষ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে অন্য পক্ষকের বাড়িঘরে বোমার বিস্ফোরণ ঘটিয়ে হামলা চালায়। খবর পেয়ে পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের ১৪টি শেল নিক্ষেপ করে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এ ঘটনায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। তবে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

আমাদের অনুসরণ করুন

 

সর্বাধিক পড়ুন

  • সপ্তাহ

  • মাস

  • সব