• Colors: Purple Color

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য প্রার্থী রুমিন ফারহানা প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছে সরাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. আবুবকর সরকারের বিরুদ্ধে পক্ষপাতমূলক আচরণের লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। গতকাল বুধবার বিকেলে তিনি এই অভিযোগ জমা দেন।

লিখিত অভিযোগে রুমিন ফারহানা বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরিপ্রেক্ষিতে তাঁর নির্বাচনী এলাকায় কিছু গুরুতর অনিয়ম পরিলক্ষিত হচ্ছে। এ বিষয়ে ইউএনও মহোদয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি অসৌজন্যমূলক ও অসহযোগিতামূলক আচরণ করেন। আগে বারবার বিএনপি জোটের প্রার্থীর বিভিন্ন অনিয়ম ও আচরণবিধি লঙ্ঘনের বিষয়ে তাঁর দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলেও কোনো ব্যবস্থা নিতে দেখা যায়নি।

রুমিন ফারহানা মুঠোফোনে বলেন, ‘তিনি (ইউএনও) আমার সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেছেন। তাঁর কথাবার্তায় মনে হয়েছে, তিনি দলীয় কোনো প্রার্থীর হয়ে কাজ করছেন। সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের একজন সিনিয়র আইনজীবী ও একজন স্বতন্ত্র নারী প্রার্থী হিসেবে আমার সঙ্গে কি তিনি এমনটি করতে পারেন? প্রতিকার চেয়ে আমি বুধবার বিকেলে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছি।’

সরাইলের ইউএনও ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. আবুবকর সরকার বলেন, ‘বুধবার দুপুরে তাঁর (রুমিন ফারহানা) সঙ্গে মুঠোফোনে কথা হয়েছে এবং আমার পক্ষ থেকে কোনো অসৌজন্যমূলক আচরণের ঘটনা ঘটেনি।’

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর জয়ী সংসদ সদস্যদের শপথ পড়াবেন কে, এ নিয়ে আলোচনা চলছিল কদিন ধরে। সংসদ সচিবালয়-ও এর জন্য উপযুক্ত ব্যক্তির খোঁজে নেমেছে বলে খবর প্রকাশিত হয়।

সংবিধান অনুযায়ী, আগের সংসদের স্পিকারের এই শপথ পাঠ করানোর কথা। কিন্তু চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের পর ওই বছরের ২ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী পদত্যাগ করেন। বিগত সংসদের ডেপুটি স্পিকার শামসুল হক টুকু এখন কারাগারে আছেন। তিনি এখনো পদত্যাগ করেননি।

সংবিধানের ৭৪ (৬) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, নতুন স্পিকার কার্যভার গ্রহণ না করা পর্যন্ত আগের সংসদের স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকার নিজ পদে বহাল আছেন বলে গণ্য হবেন।

এই অবস্থায়ই শপথ পড়ানো নিয়ে প্রশ্ন যেমন আছে, তেমিন সংসদ সচিবালয়ের উপযুক্ত ব্যক্তি খোঁজার উদ্যোগও আইনি প্রশ্নের জন্ম দেয়।

এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশন অবস্থান পরিষ্কার করলো। ইসি আব্দুর রহমানেল মাছউদ আজ বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) জানালেন, স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার না থাকায় সংবিধান অনুযায়ী নব নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ পড়াতে পারবেন সিইসি।

এদিকে, বাংলাদেশের সংবিধানের ১৪৮(১) ও ১৪৮(২) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, সাধারণত স্পিকার বা স্পিকারের মনোনীত ব্যক্তি নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ পাঠ করাবেন। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই সুযোগ না থাকায় কার্যকর হচ্ছে সংবিধানের ১৪৮(২ক) অনুচ্ছেদ।

এই অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, গেজেট প্রকাশের পর তিন দিনের মধ্যে স্পিকার বা তার মনোনীত কেউ শপথ পাঠ না করালে পরবর্তী তিন দিনের মধ্যে প্রধান নির্বাচন কমিশনার নিজেই এমপিদের শপথ পড়াতে পারবেন।

এছাড়া, সংবিধানের তফসিল-৩ অনুযায়ী স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার উভয়েই দায়িত্বে না থাকলে রাষ্ট্রপতির অনুমোদন সাপেক্ষে প্রধান নির্বাচন কমিশনার শপথ পাঠ করাতে পারেন।

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট-২০২৬ আয়োজনে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সব প্রস্তুতি এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে। নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার জানিয়েছেন, ভোটগ্রহণের জন্য কমিশন পুরোপুরি প্রস্তুত এবং এখন কেবল ভোটারদের কেন্দ্রে এসে ভোটাধিকার প্রয়োগের অপেক্ষা। 

বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা- বাসসকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, আমাদের সব প্রস্তুতি শেষ। ভোটাররা এখন কেন্দ্রে গিয়ে নির্ভয়ে তাদের রায় দেবেন, এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

ইসি কমিশনার জানান, দেশের ১১৬টি সংসদীয় আসনে ইতিমধ্যেই ব্যালট পেপার পৌঁছে দেওয়া হয়েছে এবং বাকি আসনগুলোতে আগামী ৭ ফেব্রুয়ারির মধ্যে ব্যালট পৌঁছে যাবে। আদালতের নির্দেশে শেষ মুহূর্তে কিছু প্রার্থীর প্রার্থিতা ফিরে পাওয়ার কারণে কয়েকটি আসনে ব্যালট পুনর্মুদ্রণ করতে হয়েছে, যার ফলে সরবরাহে সামান্য বিলম্ব হয়েছে বলে ইসি সচিবালয় জানিয়েছে। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই তা রিটার্নিং কর্মকর্তাদের দপ্তরে পৌঁছাবে বলে আশ্বস্ত করা হয়েছে।

কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার জানান, বাংলাদেশের ইতিহাসে এর আগে এত বিপুল সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কখনো নির্বাচনী মাঠে দেখা যায়নি। ভোটারদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নির্বাচনের সাতদিন আগে থেকেই সেনাবাহিনী মাঠে থাকবে এবং আনসার সদস্যরা আটদিন দায়িত্ব পালন করবেন। পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা ইতিমধ্যেই দেশজুড়ে সক্রিয় রয়েছেন। এছাড়া নির্বাচনী এলাকায় শান্তি বজায় রাখতে ১ হাজার ৫০ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এবং জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটরা ৮ থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মাঠে থেকে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করবেন।

ইসি সূত্রে জানা গেছে, এবারের নির্বাচনে মোট ভোটারের সংখ্যা ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৭৯৩ জন। যার মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৪৮ লাখের বেশি এবং নারী ভোটার ৬ কোটি ২৮ লাখের ওপরে। তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ১ হাজার ২৩২ জন। 

গাজীপুর-২ আসনে সবচেয়ে বেশি ৮ লাখ ৪ হাজার ভোটার এবং ঝালকাঠি-১ আসনে সবচেয়ে কম ২ লাখ ২৮ হাজার ভোটার রয়েছেন। প্রায় ২ হাজার ৩৪ জন প্রার্থী ৩০০টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যেখানে বিএনপি ২৮৮ জন প্রার্থী নিয়ে সবচেয়ে এগিয়ে। তবে শেরপুর-৩ আসনে জামায়াত প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে সেখানে ভোট স্থগিত করা হয়েছে।

নির্বাচন কমিশন প্রত্যাশা করছে এবারের নির্বাচনে অন্তত ৫৫ শতাংশ বা তার বেশি ভোটার উপস্থিত হতে পারেন। দেশি ও বিদেশি প্রায় ৫৬ হাজার পর্যবেক্ষক এই গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করবেন।

প্রবাসীদের সুবিধার্থে পোস্টাল ব্যালটের ব্যবস্থা করা হয়েছে, যেখানে ইতিমধ্যেই বড় সংখ্যক ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন।

এদিকে আগামী ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টায় সকল প্রচার-প্রচারণা বন্ধ হবে, এর ঠিক ৪৮ ঘণ্টা পর ১২ ফেব্রুয়ারি দেশবাসী তাদের পরবর্তী সরকার নির্ধারণে ভোট দেবেন।

 

রাজধানীর উত্তর বাড্ডা এলাকার পোস্ট অফিস গলির একটি বাড়ি থেকে শীর্ষ সন্ত্রাসী সুব্রত বাইন ঘনিষ্ঠ সহযোগী মেহেদী হাসান ওরফে দীপুকে গ্রেপ্তার করেছে সেনাবাহিনীর নেতৃত্বাধীন যৌথবাহিনীর একটি বিশেষ দল। পুলিশ বলছে, বাড়িটি মেহেদী হাসানেরই।  ওই বাড়ির তিন তলার একটি ফ্ল্যাট থেকে ১১টি অত্যাধুনিক বিদেশি অস্ত্র ও ৩৯৪টি গুলি উদ্ধার করা হয়েছে।

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) বাড্ডা অঞ্চলের সহকারী কমিশনার আসাদুজ্জামান বলেন, গতকাল শুক্রবার মেহেদী হাসানকে অস্ত্র ও গুলিসহ গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে একটি মামলা হয়েছে।  তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচদিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে।

কে এই সন্ত্রাসী দীপু

পুলিশ সূত্র জানায়, শীর্ষ সন্ত্রাসী সুব্রত বাইনের হয়ে রামপুরা,বনশ্রী, বাড্ডা,ভাটারা,বারিধারা ও গুলশান এলাকার অপরাধ নিয়ন্ত্রণ করে আসছিলেন মেহেদী হাসান দীপু। মেহেদী ও তাঁর সহযোগীদের কাছে আরও অস্ত্র রয়েছে। অস্ত্রগুলো মূলত  সুব্রত বাইন ও আরেক শীর্ষ সন্ত্রাসী মোল্লা মাসুদের। গত বছরের মে মাসে কুষ্টিয়া শহরে যৌথ বাহিনী অভিযানে সুব্রত বাইন ও মোল্লা মাসুদকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে সুব্রত বাইনের হয়ে অপরাধ জগৎ নিয়ন্ত্রণ করে আসছিলেন মেহেদী হাসান।

পুলিশ জানায়, আমলার এজাহারে বলা হয়েছে, গ্রেপ্তার মেহেদী হাসান সুব্রত বাইনের সহযোগী। তিনি দীর্ঘদিন ধরে বাড্ডা, ভাটারাসহ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অস্ত্র-গোলাবারুদ বিক্রি করে আসছিলেন।

নব্বইয়ের দশকে ঢাকার অপরাধজগতের আলোচিত নাম ছিল সুব্রত বাইন। আধিপত্য বিস্তার করে দরপত্র নিয়ন্ত্রণ ও বিভিন্ন স্থানে চাঁদাবাজিতে তাঁর নাম আসা ছিল তখনকার নিয়মিত ঘটনা। এসব কাজ করতে গিয়ে অসংখ্য খুন-জখমের ঘটনাও ঘটেছে।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র বলছে, সুব্রত বাইনের সহযোগী হিসেবে মেহেদী হাসান, ওয়াসির মাহমুদ সাঈদ ওরফে বড় সাঈদ, গোলাম মর্তুজা বাবু ওরফে মধু বাবু,সোহেল ওরফে কান্নি সোহেল কাজ করেন। গত এক বছরে এরা একাধিক খুনের ঘটনা ঘটিয়েছে। এরমধ্যে গত বছরের ২০ মার্চ গুলশানের পুলিশ প্লাজার সামনে ইন্টারনেট সংযোগের ব্যবসার সঙ্গে জড়িত সুমন নামের এক ব্যক্তিকে গুলি করে হত্যা করা হয়। এ হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ওয়াসির মাহমুদ সাঈদকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের দুই মাস পর জামিনে বেরিয়ে আসেন সাঈদ।

মেহেদী হাসানের সঙ্গে বাড্ডা ৩৭ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর মো. জাহাঙ্গীর আলম ও তাঁর ভাই আলমগীরেরও ঘনিষ্ঠতা রয়েছে বলে পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে।

পুলিশ সূত্র জানায়, ৫ আগস্টের পর প্রকাশ্যে আসেন সুব্রত বাইন। প্রতিবেশী দেশ থেকে বেশকিছু অস্ত্র সংগ্রহ করেন। পরে তিনি এলাকায় আধিপত্য বিস্তার শুরু করেন। মেরুল বাড্ডার আবাসিক এলাকার ভেতরে থাকা একটি মাছের আড়ত থেকেই দিনে কয়েক লাখ টাকা চাঁদা তুলতেন সুব্রত বাইন ও তাঁর সহযোগীরা। সুব্রত বাইন গ্রেপ্তারের পর মাছের আড়তটি নিয়ন্ত্রণ করতেন মেহেদী হাসান। এ ছাড়া গাড়ির শো রুমে,তৈরি পোশাক কারখানায়সহ বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে চাঁদাবাজি ও ঝুট ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করতেন তিনি।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) একটি সূত্র বলছে, বাড্ডা,ভাটাররাসহ বিভিন্ন এলাকায় ভাড়াটে খুনি হিসেবে কাজ করতেন মেহেদী হাসান ও তাঁর সহযোগীরা। তাঁরা বিভিন্ন এলাকার সন্ত্রাসীদের কাছে অস্ত্রও ভাড়া দিতেন। সুব্রত বাইনের অস্ত্রগুলো মেহেদী হাসান ও গোলাম মর্তুজা বাবু ওরফে মধু বাবুর কাছে রয়েছে। মধু বাবুর কাছেও আরও অন্তত ১৩ থেকে ১৪টি অস্ত্র রয়েছে।

গত ১৯ এপ্রিল রাতে রাজধানীর হাতিরঝিল থানাধীন নয়াটোলা মোড়ল গলির ‘দি ঝিল ক্যাফে’র সামনে যুবদল নেতা মো. আরিফ সিকদারকে গুলি করা হয়। পরে তিনি চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।  এ হত্যার সঙ্গে সুব্রত বাইনের সহযোগীরা জড়িত ছিল। এই হত্যা মামলায় সুব্রত বাইনের মেয়ে খাদিজা ইয়াসমিনকে রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করে ডিবি পুলিশ।

ডিবি পুলিশের একটি সূত্র বলছে, সুব্রত বাইন কুমিল্লার কারাগারে রয়েছেন। বাবার সঙ্গে দেখা করে সুব্রত বাইনের সহযোগি মেহেদী হাসান, মধু বাবুসহ বিভিন্নজনকে বার্তা পৌঁছে দিতেন খাদিজা ।

পুলিশ জানায়, গতকাল মেহেদী হাসানকে গ্রেপ্তারের সময় উত্তর বাড্ডার ওই বাড়ি থেকে অস্ত্র ও গুলি ছাড়াও পিস্তলের ৮টি ম্যাগাজিন, ৩২ টি কার্তুজ, একটি ২২ উজি মেশিনগান রাইফেল, উজি রাইফেলের দুটি ম্যাগাজিন, তিনটি চায়নিজ কুড়াল, একটি টাইগার হান্টিং কমান্ডো চাকু, দুটি ওয়াকিটকি, একটি ওয়াকিটকি ব্যাটারি, তিনটি পিস্তলের সাইড কভার ও একটি ল্যাপটপ উদ্ধার করা হয়েছে।

আসন্ন গণভোট ও জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটারদের ভোটপ্রদান সহজ করতে ভোটার নম্বর ও ভোটকেন্দ্রের তথ্য জানার জন্য চারটি সহজ পদ্ধতি চালু করেছে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এসব পদ্ধতির মাধ্যমে ভোটাররা দ্রুত ও নির্ভুলভাবে তাদের ভোটার নম্বর ও ভোটকেন্দ্রের তথ্য জানতে পারবেন।

শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান নির্বাচন কমিশনের জনসংযোগ পরিচালক মো. রুহুল আমিন মল্লিক।

পদ্ধতি-১: Smart Election Management BD অ্যাপ

ভোটাররা Smart Election Management BD অ্যাপের মাধ্যমে ভোটার নম্বর ও ভোটকেন্দ্রের তথ্য জানতে পারবেন।

এজন্য Play Store বা App Store থেকে অ্যাপটি ডাউনলোড করে ইনস্টল করতে হবে। ইনস্টল শেষে ড্যাশবোর্ড থেকে ‘ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন’ নির্বাচন করে ‘ভোটকেন্দ্র খুঁজুন’ অপশনে ক্লিক করতে হবে। এরপর এনআইডি নম্বর ও জন্ম তারিখ ইনপুট দিলে ভোটার নম্বর, ভোটার ক্রমিক নম্বর, ভোটকেন্দ্রের নাম ও ঠিকানা প্রদর্শিত হবে।

পদ্ধতি-২: হটলাইন নম্বর ১০৫

ভোটার নম্বর ও ভোটকেন্দ্রের তথ্য জানার জন্য দেশের যে কোনো ভোটার হটলাইন নম্বর ১০৫-এ কল করতে পারবেন।
বিজ্ঞাপন

কল করার পর অপারেটরের সঙ্গে কথা বলতে ৯ প্রেস করতে হবে। এ পদ্ধতিতে তথ্য জানতে ভোটারের এনআইডি নম্বর ও জন্ম তারিখ প্রয়োজন হবে। প্রতিদিন ভোর ৬টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত এই সেবা চালু থাকবে।

পদ্ধতি-৩: এসএমএসের মাধ্যমে

এসএমএসের মাধ্যমে তথ্য জানতে মোবাইলের মেসেজ অপশনে গিয়ে PC <স্পেস> এনআইডি নম্বর লিখে ১০৫ নম্বরে পাঠাতে হবে।

ফিরতি এসএমএসের মাধ্যমে ভোটার নম্বর ও ভোটকেন্দ্রের তথ্য জানানো হবে।

পদ্ধতি-৪: নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইট

নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটের মাধ্যমেও ভোটার নম্বর ও ভোটকেন্দ্রের তথ্য জানা যাবে। এজন্য যেকোনো ব্রাউজার থেকে ecs.gov.bd ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে ‘ভোটকেন্দ্র’ মেনুতে ক্লিক করতে হবে। সেখানে দুটি উপায়ে তথ্য খোঁজা যাবে। প্রথমত, নির্বাচনি এলাকা ও উপজেলা/থানা নির্বাচন করে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রের তালিকা দেখা যাবে।

দ্বিতীয়ত, এনআইডি নম্বর ও জন্ম তারিখ দিয়ে অনুসন্ধান করলে ভোটার নম্বর ও ভোটকেন্দ্রের তথ্য পাওয়া যাবে। এছাড়া ভোটকেন্দ্রের অবস্থান গুগল ম্যাপে দেখার সুবিধাও রয়েছে।

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি গণভোট ও জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

গোপালগঞ্জ থেকে

আমাদের অনুসরণ করুন

 

সর্বাধিক পড়ুন

  • সপ্তাহ

  • মাস

  • সব