• Colors: Purple Color

দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথমবারের মতো নিজ কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সময় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা এই দেশকে আমাদের প্রথম ও শেষ ঠিকানা বলে মনে করি। তাই দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্যও আমাদেরকেই কাজ করতে হবে।

শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের শাপলা হলে এ মতবিনিময় সভা হয়।

কর্মকর্তা-কর্মাচারীরাও সরকারের অংশ মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের মানুষ অনেক প্রত্যাশা নিয়ে সরকারের দিকে তাকিয়ে আছে। সরকার তখনই ভালো করবে যখন আপনারা সরকারকে সহযোগিতা করবেন।

স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাত, নারী শিক্ষা, কর্মসংস্থান, ক্রীড়াসহ মেনিফেস্টোতে উল্লিখিত সব এজেন্ডা বাস্তবায়নে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সহযোগিতা চেয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রত্যেকটি রাজনৈতিক দলের একটি মেনিফেস্টো থাকে। একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের মধ্য দিয়ে জনগণ বাংলাদেশ জাতীয়তাদী দলের নির্বাচনি ম্যানিফেস্টো বাস্তবায়নের পক্ষে রায় দিয়েছে। তাই মেনিফেস্টোর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী আমাদের কাজ করতে হবে।

দেশের মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিতের তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, তারা যেন নিরাপদ বোধ করেন। আমরা সবাই যদি একসঙ্গ কাজ করি তাহলে নিশ্চয়ই এ লক্ষ্য অর্জন করতে পারব।

এছাড়া দেশ থেকে দুর্নীতি দূর করতেও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা পূর্ণ সহযোগিতা করবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

দেশ ও রাষ্ট্রের স্বার্থে গোপনীয়তার বিষয়গুলো মেনে চলার জন্য কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী। এছাড়া জাতিকে একটি সুশৃঙ্খল জায়গায় নিয়ে আসতে প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের সরকারি নিয়ম-নীতি কঠোরভাবে মেনে চলার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

সভায় প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মির্জা আব্বাস উদ্দিন আহমেদ, মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ, রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, হুমায়ুন কবির, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শামসুল ইসলাম, ডা. জাহেদ উর রহমান ও মাহ্‌দী আমিন উপস্থিত ছিলেন। সভায় প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এবিএম আব্দুস সাত্তার স্বাগত বক্তব্য দেন। পরে কার্যালয়ের গঠন ও কার্যাবলী বিষয়ে একটি উপস্থাপনা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মহাপরিচালক মোহাম্মদ আব্দুল ওয়াদুদ চৌধুরী। এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীন দপ্তর সংস্থার প্রধান, কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন।

পরীক্ষামূলকভাবে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির উদ্বোধন করতে আগামী ১০ মার্চ বগুড়া সফরে আসছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সরকারপ্রধান হিসেবে নিজ জেলা বগুড়ায় হবে তাঁর প্রথম সরকারি সফর। ওই দিন সদর উপজেলার শাখারিয়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডে আনুষ্ঠানিকভাবে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন তিনি। এর মাধ্যমে দেশের ১৪টি উপজেলার একটি করে ওয়ার্ডে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রম শুরু হবে।

আজ শনিবার বগুড়া জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী ও বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য মীর শাহে আলম এসব কথা বলেন। জেলা প্রশাসক মো. তৌফিকুর রহমান সভায় সভাপতিত্ব করেন।

মীর শাহে আলম বলেন, জনগণকে দেওয়া বিএনপির নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, পাইলট প্রকল্প হিসেবে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রম ঈদের আগেই ১৪টি উপজেলায় শুরু হচ্ছে। আগামী ১০ মার্চ বগুড়ায় ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রাথমিকভাবে হতদরিদ্র, দরিদ্র ও নিম্নবিত্ত—এই তিন শ্রেণির লোকজন অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এই কার্ড পাবেন।

এর আগে গতকাল শুক্রবার ঐতিহাসিক মহাস্থানগড়ে হজরত শাহ সুলতান মাহমুদ বলখী (রহ.)–এর মাজার জিয়ারত শেষে প্রতিমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, ‘কিছু প্রতারক ও দালাল শ্রেণির লোক ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড দেওয়ার কথা বলে মানুষের কাছ থেকে টাকা নিচ্ছেন বলে প্রধানমন্ত্রীসহ তাঁদের কাছে অভিযোগ এসেছে। এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে বার্তা হলো, দয়া করে ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডের জন্য কাউকে কোনো টাকাপয়সা দেবেন না। এটা সবাই পাবেন এবং ন্যায্যতার ভিত্তিতে সরকারি কর্মকর্তাদের মাধ্যমে তালিকা হবে। কোনো দলীয়করণ হবে না। দুই–তিন বছরের মধ্যে চার কোটি পরিবারই ফ্যামিলি কার্ড পাবে।’

জেলা সমাজসেবা অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, পরীক্ষামূলকভাবে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের জন্য সদর উপজেলার শাখারিয়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডে সমাজসেবা অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে উপকারভোগীদের তথ্য সংগ্রহের কার্যক্রম চলছে। ইতিমধ্যে জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে সভাপতি করে আলাদা দুটি জেলা ও উপজেলা কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ ছাড়া ইউনিয়ন, ওয়ার্ড পর্যায়েও আলাদা কমিটি করা হয়েছে।

গত মঙ্গলবার সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলনকক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে ফ্যামিলি কার্ডবিষয়ক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভা শেষে সমাজকল্যাণমন্ত্রী আবু জাফর মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন সাংবাদিকদের জানান, পরীক্ষামূলকভাবে আগামী ১০ মার্চ ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রাথমিকভাবে দেশের ১৪টি উপজেলার একটি ইউনিয়নের একটি ওয়ার্ডে এই কার্ড দেওয়া হবে। এর আওতায় প্রতিটি পরিবার মাসে আড়াই হাজার টাকা করে সহায়তা পাবে।

দেশের যে ১৪টি ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডে পরীক্ষামূলকভাবে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রম শুরু হবে সেগুলো হলো ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের বনানী এলাকার আওতাধীন কড়াইল, সাততলা ও ভাষানটেক বস্তি; মিরপুর শাহ আলী এলাকার আলী মিয়ার টেক বস্তি ও ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাগানবাড়ি বস্তি; বগুড়া সদর উপজেলার শাখারিয়া, রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার একটি ওয়ার্ড, চট্টগ্রামের পতেঙ্গা উপজেলার একটি ওয়ার্ড, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্জারামপুর উপজেলার একটি ওয়ার্ড, বান্দরবানের লামা উপজেলার একটি ওয়ার্ড, খুলনার খালিশপুর উপজেলার একটি ওয়ার্ড, ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার একটি ওয়ার্ড, সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার একটি ওয়ার্ড, কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলার একটি ওয়ার্ড, নাটোরের লালপুর উপজেলার একটি ওয়ার্ড, ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার একটি ওয়ার্ড ও দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলার একটি ওয়ার্ড।

ঈদযাত্রায় সড়ক, রেল ও নৌপথে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের চেষ্টা করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সতর্ক করেছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। তিনি বলেন, সুনির্দিষ্ট চাঁদাবাজির তথ্য পাওয়া গেলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।

আজ শনিবার বেলা ১১টার দিকে নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষ্যা নদী ও বন্দরে পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে এ কথা বলেন মন্ত্রী। এর আগে তিনি নারায়ণগঞ্জের নদীবন্দরে নির্মাণাধীন বিভিন্ন ভবনের কাজ পরিদর্শন করেন।

মন্ত্রী রবিউল আলম বলেন, এবারের ঈদযাত্রা গতবারের তুলনায় স্বস্তিদায়ক ও নিরাপদ করতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। সম্ভাব্য ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলো চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ঈদের সময় সংশ্লিষ্ট সব সংস্থা তৎপর থাকবে।

মন্ত্রী বলেন, ঢাকা-সিলেট ও ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে যানজট এড়াতে আগাম পরিকল্পনা ও প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি নৌপথে টোলের নামে অবৈধ টাকা আদায় বন্ধে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। এরপরও যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নৌপথে লাইটার জাহাজ থেকে সময়মতো গমসহ পণ্য খালাস না করার অভিযোগ প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, এতে বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের কৃত্রিম সংকট তৈরি হতে পারে। এ ধরনের অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে একটি জাহাজে গম খালাসে বিলম্বের প্রমাণ পাওয়া গেছে। এ ধরনের কার্যক্রম কীভাবে বেগবান করা যায়, তার ওপর জোর দেওয়া হবে।

নদীপথে দূষণের অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান মন্ত্রী। এ ছাড়া দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা নারায়ণগঞ্জ ডাবল লাইন রেল প্রকল্প দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

এ সময় নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ, নৌপরিবহন সচিব ড. নুরুন নাহার চৌধুরী, বিআইডব্লিউটিএর চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল আরিফ আহমেদসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী বলেছেন, গণমাধ্যম যেন গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় কোনো বাঁধা ছাড়া স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে তা নিশ্চিত করবে সরকার। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনা রয়েছে গণমাধ্যম যেন অভাবে না থাকে এবং গণমাধ্যম যেন গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নির্বিঘ্নে কোনো বাঁধা ছাড়া পূর্ণ স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে।

শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে ময়মনসিংহ প্রেসক্লাব মিলনায়তনে বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের সাংবাদিকদের মেধাবী শিক্ষার্থী সন্তানদের বৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

এ সময় প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, আমরা একটি যুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশের গণতন্ত্র পুণরুদ্ধার করতে পেরেছি এবং এখানে গণমাধ্যম যেভাবে সহযোগিতা করেছে, এই অবদান ভুলবার মতো নয়। যদি গণমাধ্যম সঠিক তথ্য জনগণের মাঝে তুলে না ধরতেন তাহলে এই গণতন্ত্র আমরা নাও পেতে পারতাম। আমরা চাই গণমাধ্যম বিকশিত হউক। তবে এটা করতে গেলে অবশ্যই সাংবাদিক ভাই বোনদের যে সমস্যাগুলো আছে এটা সমাধান করা প্রয়োজন। সাংবাদিক ভাই বোনদের সমস্যা সমাধান ছাড়া গণমাধ্যম বিকশিত হবে না।

তিনি বলেন, সাংবাদিকদের কল্যাণে সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের পরিধি বাড়ানো হবে। প্রকৃত সাংবাদিকরা যেন তাদের পেশাদারিত্ব বজায় রাখতে পারে। সরকার গণমাধ্যমের উপর কোনো কিছু চাপিয়ে দিতে চায় না। তারেক রহমানের সরকার গণমাধ্যম বান্ধব সরকার। আমরা জণগণের সরকার। জনগণের ভোটের মাধ্যমে আমরা এই সরকারের দায়িত্ব পেয়েছি। আপনাদের অবদান আমরা শ্রদ্ধাভরে স্মরণ রাখবো। কারন আপনারা যে বস্তুনিষ্ট সংবাদ প্রচার করে গেছেন তা গণতন্ত্র টিকিয়ে রাখবার জন্য অব্যাহত রাখবেন।

বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্ট ময়মনসিংহ জেলা সভাপতি ও জেলা প্রশাসক মো. সাইফুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের উপ-পরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ) এবিএম রফিকুল ইসলাম, র‌্যাব-১৪ অধিনায়ক নয়মুল হাসান, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন-বিএফইউজে মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরী, পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন-বিএফইউজে সাংগঠনিক সম্পাদক এরফানুল হক নাহিদ, সদস্য ম. হামিদুল হক মানিক, সাংবাদিক ইউনিয়ন ময়মনসিংহ সভাপতি এম আইয়ুব আলী, সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম প্রমুখ।

টাঙ্গাইল-৮ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জোয়াহেরুল ইসলাম ভারতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।

শুক্রবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে জোয়াহেরুল ইসলামের মৃত্যু হয় (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। তাঁর বয়স হয়েছিল ৭০ বছর।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর পালিয়ে ভারতে চলে যান জোয়াহেরুল ইসলাম। পারিবারিক সূত্র জানায়, বার্ধক্যজনিত নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন জোয়াহেরুল। সেখানে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে কলকাতার দমদম এলাকার ফিনিক্স মেডিকেল সেন্টারে তাঁকে ভর্তি করা হয়। এক সপ্তাহের বেশি সময় তিনি ওই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। শেষ ছয় দিন তাঁকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়। চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, মাল্টি অর্গান ফেইলিওরের কারণে তাঁর মৃত্যু হয়েছে।

জোয়াহেরুলের মৃত্যুর সময় হাসপাতালে ছিলেন তাঁর স্ত্রী ও এক মেয়ে। স্ত্রী মেডিক্যাল ভিসায় কলকাতায় অবস্থান করছিলেন। অন্যদিকে বাবার অসুস্থতার খবর পেয়ে সম্প্রতি কলকাতায় যান মেয়ে জাকিয়া ইসলাম।

প্রবীণ আইনজীবী জোয়াহেরুল ইসলাম টাঙ্গাইল-৮ (বাসাইল-সখীপুর) আসন থেকে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। করটিয়া সরকারি সা’দত কলেজ ছাত্র সংসদ নির্বাচনে ছাত্রলীগ মনোনীত প্যানেল থেকে ভিপি নির্বাচিত হয়ে দুই মেয়াদে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের কাছে তিনি ‘ভিপি জোয়াহের’ নামেই বেশি পরিচিত ছিলেন।

জোয়াহেরুলের ভাই আতোয়ার রহমান উপজেলার যাদবপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, ‘আমরা চাই, আমার ভাইয়ের মরদেহ আমাদের গ্রামে আনা হোক। সে জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।’

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা এবং মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন স্থাপনা লক্ষ্য করে তেহরানের পাল্টা হামলায় মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধাবস্থা বিরাজ করছে। সৃষ্ট পরিস্থিতিতে কুয়েত, আরব আমিরাত, বাহরাইন ও ইরাকে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের উদ্দেশে দেশগুলোতে থাকা বাংলাদেশের দূতাবাস আলাদা আলাদ সতর্কবার্তা দিয়েছে। পাশাপাশি চালু করেছে হটলাইন নম্বার-ও।

কাতারের দোহারে বাংলাদেশ দূতাবাসের জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে দেশটিতে অবস্থানরত সব প্রবাসী বাংলাদেশি নাগরিককে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, নিরাপত্তার স্বার্থে সবাইকে সামরিক স্থাপনার আশপাশ থেকে দূরে থাকতে হবে এবং নিজ নিজ বাসা বা নিরাপদ স্থানে অবস্থান করতে হবে। পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রবাসীদের সবসময় সঙ্গে নগদ টাকা, কাতার আইডি, হেলথ কার্ড, প্রয়োজনীয় ওষুধ, মোবাইল চার্জার এবং শুকনো খাবারসহ প্রয়োজনীয় সামগ্রী রাখার পরামর্শ-ও দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত অতি প্রয়োজন ছাড়া বাইরে বের না হওয়ার জন্যও অনুরোধ জানিয়েছে দূতাবাস।

কাতারের প্রচলিত আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকার আহ্বান জানিয়ে দূতাবাস বলেছে, কাতার সরকারের বিবৃতি ও নির্দেশনা অনুযায়ী চলতে হবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ-সংক্রান্ত কোনো ছবি বা ভিডিও আপলোড করা কাতারের আইনের পরিপন্থী বলেও সতর্ক করা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে সবাইকে সংযত ও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

প্রায় কাছাকাছি সর্তকর্তাবার্তা জারি করেছে আরব আমিরাত, বাহরাইন ও ইরাকে থাকা বাংলাদেশের দূতাবাস। এর মধ্যে খোলা আকাশের নিচে অবস্থান এবং বড় কোনো জামায়াতে যোগ না দিতেও বলছে দূতাবাস।

জরুরি প্রয়োজনে যোগাযোগে হটলাইন চালু:

কাতার:

হটলাইন নম্বর: +৯৭৪৩৩৬৬২০০০

ইমেইল: This email address is being protected from spambots. You need JavaScript enabled to view it.

বাহরাইন:

হটলাইন নম্বর: +৯৭৩৩৩৩৭৫১৫৫

ইমেইল: This email address is being protected from spambots. You need JavaScript enabled to view it.

আরব আমিরাত:

হটলাইন নম্বর: +৯৭১২৪৪৬৫১০০ 

ইমেইল: This email address is being protected from spambots. You need JavaScript enabled to view it.

ইরাক:

হটলাইন নম্বর: +৯৬৪৭৮২৭৮৮৩৬৮০

ইমেইল: This email address is being protected from spambots. You need JavaScript enabled to view it.

আমাদের অনুসরণ করুন

 

সর্বাধিক পড়ুন

  • সপ্তাহ

  • মাস

  • সব