• Colors: Purple Color

ফেনী-৩ (দাগনভূঞা-সোনাগাজী) আসনে নিজের নির্বাচনি এলাকায় চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস ও অনিয়ম নির্মূলে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টুর চালু করা হটলাইন ও ওয়েবসাইটে ব্যাপক সাড়া মিলেছে। কার্যক্রম শুরুর মাত্র ৫ দিনেই ১৬৭টি লিখিত অভিযোগ জমা পড়েছে এবং অসংখ্য ফোনকল পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) নিজের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে মন্ত্রী এই তথ্য নিশ্চিত করেন।

ফেসবুক পোস্টে মন্ত্রী লেখেন, আজ পর্যন্ত ওয়েবসাইটে ১৬৭টি অভিযোগ এবং অসংখ্য ফোনকল পেয়েছি। এতেই প্রমাণ হয়েছে, আপনারা পরিবর্তন চান। প্রতিটি অভিযোগ গুরুত্ব সহকারে সমাধান করতে আমরা বদ্ধপরিকর। একই পোস্টে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া হটলাইনে ফোন না করার অনুরোধ জানিয়ে দ্রুত সমাধানের স্বার্থে ওয়েবসাইটে অভিযোগ করার আহ্বান জানান আবদুল আউয়াল মিন্টু।

এর আগে, ১৯ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার দিনগত রাতে নিজের ফেসবুক পেজে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস ও সব ধরনের অনিয়মমুক্ত রাখতে হটলাইন নম্বর ও ওয়েবসাইট খোলার ঘোষণা দেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু। একই সঙ্গে অভিযোগ জানানোর জন্য ০১৭৩০০-০৪৮৪৪ নম্বরটি প্রকাশ করেন।

 

সিলেটে সিএনজিচালিত অটোরিকশা থামিয়ে এক নারীর ব্যাগ ছিনিয়ে নেওয়ার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ভিডিওটি সিলেট নগরের হাউজিং এস্টেট এলাকার। গত সোমবার দুপুরের ছিনতাইয়ের ঘটনাটি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ার পর ছিনতাইকারীদের ধরতে মাঠে নেমেছে পুলিশ।

ছড়িয়ে পড়া ৩৭ সেকেন্ডের ভিডিওতে দেখা যায়, ব্যস্ত সড়কে প্রথমে একটি অটোরিকশার গতিরোধ করে একটি মোটরসাইকেল। পরে আরও দুটি মোটরসাইকেল যোগ হয়। একটি মোটরসাইকেল থেকে এক যুবক নেমে অটোরিকশার ভেতরে বসা এক নারীর কাছ থেকে ব্যাগ টান দেন। এ সময় ওই নারীর সঙ্গে ব্যাগ নিয়ে টানাটানি হয়। শেষ পর্যন্ত ওই যুবক ব্যাগ ছিনিয়ে নিয়ে মোটরসাইকেলে উঠে আরেক আরোহীর সঙ্গে এলাকা ত্যাগ করেন। পরে ওই নারী অটোরিকশা থেকে নেমে মোটরসাইকেলের দিকে যান।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী নারী নগরের হাউজিং এস্টেট এলাকার বাসিন্দা। বাসার পাশেই তিনি ছিনতাইয়ের শিকার হয়েছেন। গত সোমবার দুপুরে তিনি একটি ব্যাংক থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে বাসার উদ্দেশে ফিরছিলেন। এ ঘটনায় ওই নারী সিলেটের বিমানবন্দর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছেন। পুলিশ জানায়, ওই নারীর ব্যাগে নগদ ১৫ হাজার টাকা, কয়েকটি ব্যাংকের চেক বই ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ছিল।

সিলেটের বিমানবন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ মুবাশ্বির আলী বলেন, ঘটনার ভিডিওচিত্র ও আরও বেশ কিছু তথ্যের সূত্র ধরে পুলিশ কাজ করছে। আশা করা যাচ্ছে দ্রুত সময়ের মধ্যে ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে।

পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে প্রতিমন্ত্রী হিসেবে অপাহাড়ি ব্যক্তিকে মনোনীত করার প্রতিবাদ জানিয়েছেন পাহাড়ের ৩৫ বিশিষ্টজন। তাঁরা বলেছেন, সরকারের এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে পার্বত্য চুক্তি চরমভাবে বরখেলাপ করা হয়েছে। তাঁরা পার্বত্য প্রতিমন্ত্রীকে অন্য মন্ত্রণালয়ে পদায়নের দাবি জানিয়েছেন। আজ বুধবার গণমাধ্যমে পাঠানো হয়েছে বিবৃতিটি।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে বিজয়ী হয়ে সরকার গঠন করায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং তাঁর নেতৃত্বাধীন বিএনপিকে অভিনন্দন জানানো হয়েছে বিবৃতিতে। এ ছাড়া নতুন মন্ত্রিসভায় রাঙামাটি-২৯৯ আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য দীপেন দেওয়ানকে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির আলোকে গঠিত পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রী হিসেবে পদায়ন করার সিদ্ধান্তকেও তাঁরা সাধুবাদ জানান। তাঁরা আশা করেন, নতুন মন্ত্রীর নেতৃত্বে আগামী দিনে পার্বত্য চট্টগ্রামের বিবদমান সমস্যা ও সংকট নিরসন এবং পাহাড়ের অধিবাসীদের সামগ্রিক জীবনমান উন্নয়নে পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয় বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণে সক্ষম হবে।

বিবৃতিদাতারা বলেন, ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির (ঘ) খণ্ডের ১৯ ধারায় স্পষ্টভাবে বলা আছে, “উপজাতীয়দের মধ্য হইতে একজন মন্ত্রী নিয়োগ করিয়া পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক একটি মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠা করা হইবে।” এই ধারা অনুসরণ করে দীপেন দেওয়ানকে মন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ করলেও আমরা উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠিত যে চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী) থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য মীর মোহম্মদ হেলাল উদ্দিনকে একই মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী নিয়োগ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে পার্বত্য চুক্তির উক্ত ধারা ভঙ্গ করেছে নবনির্বাচিত সরকার।’

বিবৃতিদাতারা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির মধ্য দিয়ে গঠিত পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মূল কাজ হচ্ছে পার্বত্য চট্টগ্রাম–সম্পর্কিত বাংলাদেশ সরকারের সামগ্রিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ার ক্ষেত্রে সরকারের সঙ্গে পাহাড়ের অধিবাসীদের কার্যকর প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা। সেই সঙ্গে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির আলোকে নির্বাহী সংস্থা হিসেবে বিভিন্ন উদ্যোগ ও কার্যক্রমকে এগিয়ে নেওয়া। সে ক্ষেত্রে রাষ্ট্রের সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় সরকারের কর্মকাণ্ডের মধ্যে পাহাড়ের আদিবাসীদের কার্যকর প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করাও এই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী বা সংশ্লিষ্ট সবার দায়িত্ব। কাজেই এটা খুবই স্বাভাবিক যে মন্ত্রণালয়–সম্পর্কিত নির্বাহী দায়িত্বে যতজনই থাকুক না কেন, সবাই পাহাড়ি বা পাহাড়ের অধিবাসী পাহাড়ি নাগরিক হবেন। তাই পার্বত্য চট্টগ্রাম–সম্পর্কিত সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় পার্বত্য চট্টগ্রামের বাইরের এবং অপাহাড়ি একজনকে প্রতিমন্ত্রী নিযুক্ত করার মধ্য দিয়ে পার্বত্য চুক্তিকে চরমভাবে বরখেলাপ করা হয়েছে।

বিবৃতিদাতারা বলেন, ‘আমরা এযাবৎ লক্ষ করেছি যে পার্বত্য চট্টগ্রাম মন্ত্রণালয়ে কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিযুক্তির ক্ষেত্রে পাহাড়ের পাহাড়ি নাগরিকদের অংশগ্রহণ অত্যন্ত নগণ্য। এ ক্ষেত্রে পার্বত্য চুক্তির মূল প্রস্তাবনা—‘পার্বত্য চট্টগ্রাম একটি উপজাতীয় অধ্যুষিত অঞ্চল’ হবে, তার প্রতিফলনও আমরা পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে খুঁজে পাইনি। অন্যদিকে বর্তমানে সরকারের নেত্বেত্বে থাকা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ঘোষিত ৩১ দফার ২ নম্বর দফার ‘সম্প্রীতিমূলক সমন্বিত রাষ্ট্রসত্তা (রেইনবো নেইশন)’ প্রতিষ্ঠার ধারণা’র সঙ্গেও সাংঘর্ষিক।

পার্বত্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীকে অন্য মন্ত্রণালয়ে পদায়ন করতে বিবৃতিদাতারা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে দাবি জানান। এর পাশাপাশি পার্বত্য চট্টগ্রাম মন্ত্রণালয়ের কর্মকতা ও কর্মচারী নিযুক্তির ক্ষেত্রে পাহাড়ি আদিবাসী নাগরিকদের অগ্রাধিকার দেওয়ার দাবি জানান।

বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেছেন বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম, পার্বত্য চট্টগ্রাম ‘ক’ অঞ্চলের সভাপতি প্রকৃতি রঞ্জন চাকমা, এম এন লারমা মেমোরিয়াল ফাউন্ডেশনের সভপতি বিজয় কেতন চাকমা, সাবেক সিভিল সার্জন ডা. মং উষা থোয়াই মারমা, জুম ঈসথেটিক কাউন্সিলের সভাপতি শিশির চাকমা, সিএইচটি রাইটার্স ইউনিয়নের সভাপতি মংক্যশৈনু (নেভী), অধ্যাপক মধুমঙ্গল চাকমা, জুম্ম শরণার্থী কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক সন্তোষিত চাকমা বকুল, উন্নয়নকর্মী নমিতা চাকমা, বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের সাধারণ সম্পাদক ইন্টুমনি চাকমা, খাগড়াছড়ি জেলা শাখার সভাপতি নব কুমার চাকমা, চিত্রশিল্পী জিংমুলিয়ান বম, লেখক জিরকুং সাহু, লেখক ক্যসামং মারমা, প্রকৌশলী মোহনী রঞ্জন চাকমা, সুরেন্দ্র লাল চাকমা, জহর বিকাশ চাকমা, জ্ঞানেন্দু বিকাশ চাকমা, শিক্ষাবিদ প্রসন্ন কুমার চাকমা, আদিবাসী পাহাড়ী বৈদ্য শাস্ত্রীয় বহুমুখী কল্যাণ সমিতির সভাপতি শুক্র কুমার চাকমা, ইন্দুলাল চাকমা, সাংবাদিক সাথোয়াই মারমা, বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সহসভাপতি পলাশ কুসুম চাকমা, যতীন বিহারী চাকমা, সাগর রানী চাকমা, বিজয় গিরি চাকমা, সংস্কৃতিকর্মী থুয়াসা খিয়াং, মালেকা চাকমা, হেডম্যান চন্দ্রশেখর তালুকদার, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের রাঙামাটি শাখার সহসভাপতি লোমা লুসাই, সমাজকর্মী স্মৃতি শংকর চাকমা, নারীনেত্রী শান্তিমায়া ত্রিপুরা, শিল্পী জুনান তঞ্চঙ্গ্যা, মইচা প্রু মারমা, শ্যামা চাকমা, এবং সাংবাদিক ত্রিপন জয় ত্রিপুরা।

অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, নতুন সরকারের যে কর্মসূচি আছে, যে অগ্রাধিকার আছে এবং যে চিন্তাভাবনা আছে—এগুলো বাস্তবায়নের জন্য যেখানে যেখানে প্রয়োজন, সেখানেই পরিবর্তন হবে।’ তিনি জানান, আরও পরিবর্তন হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুরের নিয়োগ বাতিল এবং নতুন গভর্নর নিয়োগ প্রসঙ্গে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী এ কথা বলেন।

আহসান এইচ মনসুরকে সরিয়ে আজ বুধবার দুপুরে মো. মোস্তাকুর রহমানকে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর পদে নিয়োগ দিয়েছে সরকার। বিকেল পৌনে চারটায় অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ এ জন্য দুটি প্রজ্ঞাপন জারি করে। একটিতে গভর্নর পদে আহসান এইচ মনসুরের নিয়োগের অবশিষ্ট মেয়াদ বাতিল করা হয়। অন্যটিতে মো. মোস্তাকুর রহমানকে অন্য সব প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনের সঙ্গে কর্ম-সম্পর্ক পরিত্যাগের শর্তে তাঁর যোগদানের তারিখ থেকে চার বছরের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর পদে নিয়োগ দেওয়া হয়।

এরপর সাংবাদিকেরা সচিবালয়ে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর কাছে জানতে চান, কোন বিবেচনায় গভর্নর পরিবর্তন করা হলো?

জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘বিবেচনার তো কিছু নেই। একটা নতুন সরকার এসেছে। নতুন সরকারের অগ্রাধিকার আছে। পরিবর্তন শুধু বাংলাদেশ ব্যাংকেই হয়নি। এটা অনেক জায়গায় হচ্ছে এবং হতেই থাকবে।’

অর্থমন্ত্রী বলেন, নতুন সরকারের যে কর্মসূচি আছে, যে অগ্রাধিকার আছে এবং যে চিন্তাভাবনা আছে—এগুলো বাস্তবায়নের জন্য যেখানে যেখানে প্রয়োজন, সেখানেই পরিবর্তন হবে। প্রয়োজনে আরও অনেক জায়গায় পরিবর্তন হবে এবং এটা খুবই স্বাভাবিক ঘটনা।

গণ–অভ্যত্থানের মাধ্যমে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতন হয়। পরে অন্তর্বর্তী সরকার এসে ওই বছরের ১৫ আগস্ট বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর হিসেবে আহসান এইচ মনসুরকে নিয়োগ দেয়। এখন বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতায় আসার ৯ দিনের মাথায় আহসান এইচ মনসুরের নিয়োগ বাতিল করে নতুন গভর্নর নিয়োগ দেয়।

বাজারে গরুর মাংসের কেজি ৭৫০ থেকে ৮০০ টাকা। এই দামে মাংস কিনতে হিমশিম খান নিম্ন ও মধ্য আয়ের মানুষ। সংসারের খরচ সামলে অনেকের পক্ষেই পাতে মাংস তোলা কঠিন হয়ে যায়। কেউ কেউ অল্প পরিমাণে মাংস কিনতে চাইলেও অনেক বিক্রেতা তা বিক্রি করতে চান না। এমন বাস্তবতায় ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার এনায়েতনগর ইউনিয়নের ধর্মগঞ্জ পাকাপুল এলাকার তরুণ মাংস বিক্রেতা আল আমিন।

‘আলমের গোশতের দোকান’ নামে তাঁর দোকানে প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ১০০ টাকায় ১২৫ গ্রাম হাড় ও চর্বিছাড়া গরুর মাংস বিক্রি করা হচ্ছে। সঙ্গে দেওয়া হচ্ছে দুটি আলু। আট মাস ধরে এভাবে মাংস বিক্রি করছেন আল আমিন। শ্রমজীবী ও নিম্ন আয়ের মানুষের মধ্যে এটা ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।

সদরের ধর্মগঞ্জ পাকাপুল এলাকায় আলমের গোশতের দোকান কোথায় জানতে চাইলে স্থানীয় লোকজন সহজেই দেখিয়ে দেন। অনেকে ১০০ টাকায় মাংস বিক্রির বিষয়টিও নিজ উদ্যোগী হয়ে জানালেন। প্রতিদিন একটি গরু জবাই করে বিক্রি করা হয়। সকাল ৬টা থেকে রাত পর্যন্ত চলে বেচাকেনা। তবে শুক্র ও শনিবার বেশি বেচাকেনা হয়।

এনায়েতনগর ইউনিয়নের ধর্মগঞ্জসহ আশপাশের এলাকায় পোশাকশ্রমিক, দিনমজুরসহ স্বল্প আয়ের মানুষের বসবাস বেশি। অনেকে ‘ব্যাচেলর’ হিসেবে কক্ষ ভাড়া নিয়ে থাকেন। তাঁদের পক্ষে এক কেজি বা আধা কেজি মাংস কেনা কষ্টকর। ১০০ টাকার নির্দিষ্ট প্যাকেজ তাঁদের জন্য স্বস্তির।

মাংস বিক্রেতা আল আমিন প্রথম আলোকে বলেন, ‘অনেকেই দোকানে এসে ১০০ টাকার মাংস চাইতে লজ্জা পান। তাই নির্দিষ্টভাবে ১০০ টাকায় ১২৫ গ্রাম হাড় ও তেলছাড়া মাংস দিচ্ছি, সঙ্গে দুই পিস আলু। এতে আমার বিক্রি বেড়েছে। আর নিম্ন আয়ের মানুষও মাংস খেতে পারছেন।’ তিনি বলেন, হাড় ও তেল আলাদাভাবে হালিমের দোকানে বিক্রি করেন। এতে তাঁর লোকসান হয় না।

মাংস কিনতে আসা রিকশাচালক শাহাদাৎ হোসেন বলেন, ‘পোলাপান মাংস খাইতে চাইলে আগে ভয়ে মাংসের দোকানে যাইতাম না। এক কেজি ও আধা কেজি মাংস কেনার সামর্থ্য নেই। এখানে ১০০ টাকায় কিনে খেতে পারছি।’

ঢালীপাড়া এলাকার গৃহিণী শাহীনা আক্তার বলেন, ‘এই দোকানে ১০০ টাকায় মাংস বিক্রি করে শুনে এসেছি। আমি ২০০ টাকার মাংস কিনেছি। সঙ্গে তারা আলুও দিয়েছে।’

১০০ টাকার প্যাকেজ চালুর বিষয়ে আল আমিন বলেন, আট মাস আগে এক নারী দোকানের সামনে অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে ছিলেন। তখন তাঁর কাছে জিজ্ঞাসা করলে জানান, কোরবানির ঈদের সময় মাংস খেয়েছিলেন, এরপর আর মাংস খাননি। থলে থেকে ১০০ টাকার নোট বের করে দিয়ে মাংস চাইলে তিনি তাঁকে মাংস দেন। মাংস পেয়ে ওই নারী কেঁদে ফেলেন। ওই ঘটনার পর তিনি সবার জন্য ১০০ টাকার নির্দিষ্ট মাংসের প্যাকেজ চালু করেন। তিনি বলেন, ‘কেউ যেন মাংস না খেয়ে থাকে—একজন মাংস বিক্রেতা হিসেবে এটা দেখতে খারাপ লাগে। আমি হয়তো খুব বেশি লাভ করছি না। কিন্তু মানুষের দোয়া পাচ্ছি।’

আল আমিনের বাবা আলম মিয়া ২২ বছর ধরে সদর উপজেলার এনায়েতনগর ইউনিয়নের চতলার মাঠ এলাকায় আফাজের বাজারে মাংস বিক্রি করেন। প্রতি সপ্তাহে ফরিদপুরের টেপাখোলা, মালিগ্রাম, পাড়াগ্রাম; রাজশাহী সিটি হাটসহ বিভিন্ন হাট থেকে ১০ থেকে ১২টি গরু সংগ্রহ করেন। পরে সেই গরু নারায়ণগঞ্জে এনে বিক্রি করেন।

ছেলের এমন উদ্যোগে খুশি বাবা আলম মিয়া। তিনি বলেন, ‘ছেলেকে বলেছি, যত দিন তোমার এই ব্যবসা থাকবে, তত দিন তুমি এটা চালু রাখবে।’ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম ফয়েজ উদ্দিন বলেন, ‘আল আমিনের মতো অন্যরা এমন উদ্যোগ নিলে সামর্থ্য অনুযায়ী নিম্ন ও মধ্য আয়ের মানুষেরাও মাংস কিনে খেতে পারবে।’

আবারও শক্তিশালী ভূমিকম্পে কেঁপে উঠেছে দেশ। ভূমিকম্পটির মূল উৎপত্তিস্থল মিয়ানমার হলেও ভূমিকম্পে কেঁপে উঠেছে বান্দরবানসহ সীমান্তবর্তী বেশ কিছু এলাকা। কম্পন টের পাওয়া গেছে রাজধানী ঢাকাতেও।

বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) রাত ১০টা ৫২ মিনিটে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। রিখটার স্কেলে ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৫ দশমিক ২।

ভূমিকম্প বিষয়ক ওয়েবসাইট ভলকানো ডিসকভারির তথ্য অনুযায়ী, মূল কেন্দ্রে ভূমিকম্পটির গভীরতা ছিল ১০১ কিলোমিটার। 

অন্যদিকে ইএমএসসি ওয়েবসাইট অনুযায়ী, ভূমিকম্পটির অবস্থান ছিল ২৩ দশমিক ০৪১১ ডিগ্রি উত্তর অক্ষাংশ ও ৯৪ দশমিক ৭২৬৮ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমাংশে। ভূপৃষ্ঠ থেকে এর গভীরতা ছিল ১০১ কিলোমিটার।

উৎপত্তিস্থল ছিল মিয়ানমারের সাংগাই অঞ্চলের মনিওয়া শহর থেকে প্রায় ১১২ কিলোমিটার উত্তর-উত্তরপশ্চিমে এবং মাওলাইক শহর থেকে প্রায় ৭৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে।

আমাদের অনুসরণ করুন

 

সর্বাধিক পড়ুন

  • সপ্তাহ

  • মাস

  • সব