• Colors: Purple Color

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিবসহ (সদ্য সাবেক প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে কর্মরত ছিলেন) তিন সচিবকে নিজ পদ থেকে সরিয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে। আজ সোমবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের পৃথক প্রজ্ঞাপনে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা সচিবেরা হলেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব মো. সাইফুল্লাহ পান্না, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব রেহানা পারভীন এবং ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. কামাল উদ্দিন।

বিএনপির নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার এক সপ্তাহের মাথায় গুরুত্বপূর্ণ এসব পদে পরিবর্তন আনা হয়েছে।এর আগে নতুন সরকার গঠনের আগের তিন দিনে জনপ্রশাসনের দুটি শীর্ষ পদের দুজন কর্মকর্তা নিজে থেকে সরে গেছেন। একজন হলেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব শেখ আবদুর রশীদ, অন্যজন প্রধান উপদেষ্টার মুখ্য সচিব এম সিরাজ উদ্দিন মিয়া। এরপর চুক্তিতে থাকা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব নাসিমুল গনিকে মন্ত্রিপরিষদ সচিব হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব হিসেবে চুক্তিতে নিয়োগ দেওয়া হয় অবসরপ্রাপ্ত সচিব এ বি এম আবদুস সাত্তারকে। তিনি এর আগে বিএনপির চেয়ারম্যানের একান্ত সচিবের দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।

সচিবালয়ের সূত্রগুলো বলছে, প্রশাসনে আরও কিছু পরিবর্তন আসতে পারে। এ ক্ষেত্রে খালি হওয়া স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ চারটি সচিবের পদে যেমন নিয়োগ দেওয়া হবে, তেমনি চুক্তিতে থাকা কয়েকজন সচিবের জায়গায়ও পরিবর্তন আসতে পারে। এ ছাড়া মাঠ প্রশাসনের জেলা প্রশাসকসহ (ডিসি) গুরুত্বপূর্ণ বেশ কিছু পদে পরিবর্তন আসতে পারে।

একইভাবে পুলিশসহ অন্যান্য সরকারি দপ্তরেও পরিবর্তন আসবে বলে মনে করছেন কর্মকর্তারা। এসব নিয়ে এখন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে নানা আলাপ-আলোচনা শুরু হয়েছে। কেউ কেউ পদ পেতেও তৎপর।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ওই বছরের ৮ আগস্ট অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়। এরপর প্রশাসনে ব্যাপক পরিবর্তন করা হয়। প্রথম ছয় মাসেই সিনিয়র সচিব ও সচিব পদে ১৪ জন, গ্রেড-১ পদের ১ জন ও অতিরিক্ত সচিব পদের ১৯ কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়। একই সময়ে সিনিয়র সচিব ও সচিব পদের ২৩ জন, গ্রেড-১ পদের ২ জন ও অতিরিক্ত সচিব পর্যায়ের ৫১ কর্মকর্তাকে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) করা হয়। এরপরও আরও বেশ কিছু কর্মকর্তাকে ওএসডি করা হয়।

অন্যদিকে সচিবসহ বেশ কিছু পদে চুক্তিতে নিয়োগ দেওয়া হয়। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সূত্রমতে, বর্তমানে শুধু সচিব ও সমপর্যায়ের পদে অন্তত ১৬ কর্মকর্তা চুক্তিতে আছেন।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, জনপ্রশাসনে নতুন সরকার এসে পরিবর্তন আনবে, এটা অস্বাভাবিক নয়। তবে তাঁরা আশা করেন, নতুন সরকার অতীতের সরকারগুলোর মতো দলীয়করণ করবে না এবং তা করতে গিয়ে অযোগ্যদের নিয়োগ দেবে না এবং কোনো কর্মকর্তা ‘প্রতিহিংসার’ শিকার হবেন না।

ক্ষমতাসীন বিএনপির ইশতেহারেও এ বিষয়ে প্রতিশ্রুতি আছে। বলা হয়েছে, ‘মেরিটোক্রেসির বাংলাদেশ’ বিনির্মাণে মেধা, সততা, সৃজনশীলতা, দক্ষতা, অভিজ্ঞতা ও প্রশিক্ষণ, বেসামরিক ও সামরিক প্রশাসনে নিয়োগ, বদলি ও পদোন্নতিতে যোগ্যতাই একমাত্র মাপকাঠি হিসেবে বিবেচনা করা হবে। কেউ যাতে অন্যায়ভাবে বঞ্চিত না হয়, সেটাও নিশ্চিত করা হবে।

বান্দরবানের রোয়াংছড়ি উপজেলায় নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে একটি পাহাড়ি সশস্ত্র গোষ্ঠীর গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। এতে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। ঘটনাস্থল থেকে একটি সাবমেশিনগান (এসএমজি), ম্যাগাজিন ও গুলি উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে নিরাপত্তা বাহিনীর সূত্র।

আজ সোমবার বিকেল চারটার দিকে বান্দরবান–রুমা সড়কের মুরুং বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এলাকাটি রোয়াংছড়ি উপজেলার তারাছা ইউনিয়নের অন্তর্গত হলেও রুমা উপজেলা সদরের কাছাকাছি।

নিরাপত্তা বাহিনী, পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গোলাগুলির পর নিরাপত্তা বাহিনী ঘটনাস্থলে তল্লাশি চালিয়ে জলপাই রঙের পোশাক পরা এক ব্যক্তিকে গুরুতর আহত অবস্থায় পায়। তাঁর কাছ থেকে ১টি এসএমজি, ২টি ম্যাগাজিন, ১৪৩টি গুলি ও অন্য সামগ্রী উদ্ধার করা হয়। পরে তাঁকে বান্দরবান সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

বান্দরবান সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা দিলীপ চৌধুরী বলেন, নিরাপত্তা বাহিনী একজনকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে আসে। মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।

নিরাপত্তা বাহিনীর একটি সূত্র জানায়, বিকেলে সড়কে গাড়ি থামিয়ে একদল সশস্ত্র ব্যক্তি চাঁদাবাজি করছিল। এ সময় বান্দরবান থেকে রুমার দিকে যাওয়ার পথে নিরাপত্তা বাহিনীর একটি দল সেখানে পৌঁছালে সশস্ত্র ব্যক্তিরা প্রথমে গুলি চালায়। পরে পাল্টা গুলি চালালে একজন আহত হন।

রোয়াংছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এম সাবের আহমেদ বলেন, একটি পাহাড়ি সশস্ত্র গোষ্ঠীর সঙ্গে গোলাগুলির ঘটনায় আহত এক ব্যক্তিকে উদ্ধার করা হয়। হাসপাতালে নেওয়ার পথে তাঁর মৃত্যু হয়। তাঁর পরিচয় এখনো জানা যায়নি। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।

[caption id="attachment_267948" align="alignnone" width="1037"] বান্দরবান সদর হাসপাতাল, ছবি: সংগৃহীত[/caption]

এদিকে রাত সোয়া ১১টার দিকে বাংলাদেশ আর্মির ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রেস বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানানো হয়, আজ বিকেল পাঁচটায় গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বান্দরবানের রোয়াংছড়ি উপজেলার মুরং বাজার এলাকায় জেএসএসের (মূল) সশস্ত্র দলের বিরুদ্ধে একটি অভিযান চালানো হয়। এ সময় সেনাসদস্যরা সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের দলটিকে অবৈধভাবে চাঁদা আদায়কালে শনাক্ত করতে সক্ষম হন। পরিস্থিতি বিবেচনায় জেএসএস সদস্যরা পালানোর চেষ্টার সময় সেনাবাহিনীর টহল দলের ওপর গুলিবর্ষণ করে। সেনাবাহিনীর টহল দল পাল্টা গুলিবর্ষণ করে তাদের ধাওয়া করে। প্রাথমিকভাবে তারা একটি স্কুলঘরে আশ্রয় নেওয়ার চেষ্টা করে। একপর্যায়ে ওই স্থান থেকে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। এই অভিযানে সেনা টহল দল ঘটনাস্থল‌ তল্লাশি চালিয়ে ইউনিফর্ম পরিহিত হ্লামংনু মার্মা নামের একজন সশস্ত্র জেএসএস সদস্যকে অস্ত্র–গোলাবারুদসহ গুলিবিদ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করে।

চিকিৎসার জন্য পুলিশের সহায়তায় জরুরি ভিত্তিতে তাঁকে বান্দরবান সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। অভিযান শেষে ঘটনাস্থল থেকে ১টি সাবমেশিনগান, এসএমজির ১৪৩টি গুলি, পিস্তলের ১৪টি গুলিসহ সরঞ্জামাদি উদ্ধার করা হয়।

রোজা উপলক্ষে সয়াবিন তেল, চিনি, ছোলা, ট্যাং, গরুর মাংস ও চালের দাম কমানোর ঘোষণা দিয়েছেন কারওয়ান বাজারের ব্যবসায়ীরা। রাজধানীর বৃহত্তম এই পাইকারি বাজারের ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, আগের বিক্রয় মূল্য থেকে সয়াবিন তেল পাঁচ লিটারে ৫ টাকা, চিনি কেজিতে ১ টাকা, ট্যাং (বিদেশি) দুই কেজিতে ২০ টাকা, ছোলা কেজিতে ২ টাকা, গরুর মাংস কেজিতে ৩০ টাকা ও মিনিকেট চাল কেজিতে ১ টাকা কমে বিক্রি করবেন তাঁরা।

আজ সোমবার সকালে কারওয়ান বাজারের কিচেন মার্কেটে ইসলামিয়া শান্তি সমিতির কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এই ঘোষণা দেন কারওয়ান বাজারের ব্যবসায়ীরা। সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে ইসলামিয়া শান্তি সমিতি। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ঢাকা ১২ আসনের নির্বাচিত সংসদ সদস্য সাইফুল আলম। আরও উপস্থিত ছিলেন কারওয়ান বাজারের পাকা মার্কেট আড়তদার মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম ও কিচেন মার্কেটের সাংগঠনিক সম্পাদক বেলায়েত হোসেনসহ অন্য ব্যবসায়ীরা।

সংবাদ সম্মেলনে ব্যবসায়ীরা বলেন, ‘আমাদের একটাই দাবি চাঁদাবাজি বন্ধ করা। কারওয়ান বাজারে যদি চাঁদাবাজি বন্ধ হয়, তাহলে প্রতিটি পণ্যের দাম আরও কমবে।’

এ সময় সংসদ সদস্য সাইফুল আলম বলেন, ‘আমরা সব ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে কিছু পণ্যের দাম কমিয়েছি। কারও ওপর চাপিয়ে দিতে চাইনি। রোজায় দায়িত্ববোধ ও নৈতিকতা থেকে লাভের অংশ থেকে ব্যবসায়ীরা এ ছাড় দিয়েছেন।’

সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, দাম কমানোর আগে বাজারে রূপচাঁদা ব্র্যান্ডের ৫ লিটার সয়াবিন তেল আগে বিক্রি হতো ৯৪৫ টাকা। রোজা উপলক্ষে এই মূল্য ৫ টাকা কমিয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ৯৪০ টাকা। আর ফ্রেশ ব্র্যান্ডের ৫ লিটার সয়াবিন তেলের আগের বিক্রয় মূল্য ছিল ৯৪০ টাকা। আর এখন নতুন দাম হবে ৯৩৫ টাকা। আর ফ্রেশ ব্র্যান্ডের এক কেজি চিনি আগে বিক্রি হতো ১০৪ টাকা। এখন বিক্রি করা হবে ১০৩ টাকায়।

এ ছাড়া দুই কেজির ট্যাং (বিদেশি) বাজারে বিক্রি হতো ১ হাজার ৫৮০ টাকায়। এখন বিক্রি করা হবে ১ হাজার ৫৬০ টাকায়। গরুর মাংসের আগের বিক্রয় মূল্য ছিল ৭৮০ টাকা। এখন নতুন করে বিক্রয় মূল্য নির্ধারণ করা হবে ৭৫০ টাকা। মিনিকেট চালের আগের বিক্রয় মূল্য ছিল ৮২ টাকা। এখন নতুন দাম ঠিক করা হয়েছে ৮১ টাকা।

তিন সচিবকে নিজ পদ থেকে সরানোর পর নয়জন সচিব ও সিনিয়র সচিবের চুক্তির অবশিষ্ট মেয়াদ বাতিল করেছে সরকার। আজ সোমবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের পৃথক প্রজ্ঞাপনে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।

চুক্তি বাতিল করা সচিবেরা হলেন পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য মোখলেস উর রহমান, এস এম আকমল হোসেন, কাইয়ুম আরা বেগম, বিশ্বব্যাংকের বিকল্প নির্বাহী পরিচালক শরীফা খান, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের মো. সাইদুর রহমান, তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিভাগের শীষ হায়দার চৌধুরী, জাতীয় পরিকল্পনা ও উন্নয়ন একাডেমির মহাপরিচালক (সিনিয়র সচিব) সিদ্দিক জোবায়ের, ভূমি আপিল বোর্ডের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ইউসুফ এবং মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মমতাজ আহমেদ।

সারাদেশের বিভিন্ন উপজেলা ও থানা পর্যায়ের ১১২ জন নির্বাচন কর্মকর্তাকে একযোগে বদলি করা হয়েছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সম্পন্ন হওয়ার পরপরই বড় এই রদবদল আনলো নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) নির্বাচন কমিশনের জনবল ব্যবস্থাপনা শাখার সহকারী সচিব মোহাম্মদ শহীদুর রহমান স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এই বদলির নির্দেশনা জারি করা হয়।

অফিস আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে, নির্বাচন কমিশন সচিবালয়সহ দেশের বিভিন্ন উপজেলা ও থানায় কর্মরত ১১২ জন নির্বাচন কর্মকর্তাকে বর্তমান কর্মস্থল থেকে সরিয়ে নতুন কর্মস্থলে পদায়ন করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আগামী ১ মার্চের মধ্যে বর্তমান কর্মস্থল থেকে অবমুক্ত হতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দায়িত্ব হস্তান্তর না করলে তারা ওইদিন অপরাহ্ণে বর্তমান কর্মস্থল থেকে সরাসরি অবমুক্ত হয়েছেন বলে গণ্য হবেন।

জনস্বার্থে জারি করা এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে বলেও এতে উল্লেখ করা হয়।

 

 

 

অতিক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের অর্থায়নের জন্য গঠিত তহবিল থেকে ২ কোটি টাকা নগদে তুলে নিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের কয়েকজন কর্মকর্তা। বিদেশে প্রশিক্ষণের নামে এই অর্থ তুলে নিয়েছেন তাঁরা।

নিয়ম অনুযায়ী, এসএমই–সংক্রান্ত বিষয়ে বিদেশে প্রশিক্ষণ গ্রহণের ক্ষেত্রে এই তহবিল থেকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তাদের অর্থ খরচের অনুমতি দেওয়া হয়। তবে বৈধ পথে সেই অর্থ বিদেশে নিতে হয়। এ জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্রও দাখিল করতে হয় সংশ্লিষ্টদের। কিন্তু অভিযুক্ত কর্মকর্তারা বিদেশে প্রশিক্ষণের নামে তহবিল থেকে নগদে অর্থ সংগ্রহ করলেও তা বিদেশে পাঠানো হয়নি।  মূলত প্রশিক্ষণের নামে তহবিল থেকে টাকা তুলে তা নিজেদের মধ্যে ভাগ–বাঁটোয়ারা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একাধিক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এ অনিয়মের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা যায়, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমোদন সাপেক্ষে বাংলাদেশ ব্যাংকের বিভিন্ন পর্যায়ের চার কর্মকর্তা তিন দফায় দুই মাসে পাঁচটি দেশে প্রশিক্ষণ সফরে যান। এসব কর্মকর্তা হলেন পরিচালক মুনিরা ইসলাম, অতিরিক্ত পরিচালক তারিকুল ইসলাম ও টুটুল হোসেন মল্লিক ও যুগ্ম পরিচালক প্রশান্ত মোহন চক্রবর্ত্তী। এসব কর্মকর্তা প্রশিক্ষণের জন্য দুই মাসে থাইল্যান্ড, মালদ্বীপ, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর ও দক্ষিণ কোরিয়া সফর করেন। নিয়ম অনুযায়ী, বাংলাদেশের কোনো কর্মকর্তারা বিদেশে কোনো প্রশিক্ষণে গেলে সেই প্রশিক্ষণের অংশগ্রহণের জন্য নির্ধারিত মাশুল বাংলাদেশ ব্যাংকের ফরেক্স রিজার্ভ অ্যান্ড ট্রেজারি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের মাধ্যমে বিদেশে পাঠাতে হয়। কিন্তু উল্লিখিত কর্মকর্তারা বাংলাদেশ ব্যাংকের তহবিলের অর্থে বিদেশি প্রশিক্ষণে গেলেও প্রশিক্ষণের কোনো অর্থ নিয়ম মেনে বিদেশে পাঠাননি। বরং নগদে এই অর্থ তুলে নিয়ে নিজেদের মধ্যে ভাগ–বাঁটোয়ারা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে । বিষয়টি অভ্যন্তরীণভাবে জানাজানি হওয়ার পর প্রশিক্ষণের তথ্য যাচাই–বাছাইয়েরও উদ্যোগ নেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অ্যাকাউন্ট অ্যান্ড বাজেটিং বিভাগ। তাতে দেখা যায়, এই চার কর্মকর্তা যেসব প্রশিক্ষণে অংশ নিয়েছেন, সেগুলোর আয়োজনের সঙ্গে যুক্ত ছিল বিভিন্ন দেশের ট্রাভেল এজেন্সি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান প্রথম আলোকে বলেন, ‘ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমোদনের ভিত্তিতে প্রশিক্ষণের অর্থ তহবিলের হিসাব থেকে উত্তোলন করা হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী, প্রশিক্ষণের খরচ ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে বিদেশে পাঠানোর কথা। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে সফরের সব আয়োজন সম্পন্ন করা হয়েছে। এখন এটা নিয়ে অভিযোগ ওঠায় বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখব। এই টাকা কোথায় ব্যবহার করা হয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হবে।’

জানা যায়, ২০১৭ সালের নভেম্বরে প্রায় ২৪ কোটি মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ অর্থ নিয়ে সেকেন্ড স্মল অ্যান্ড মিডিয়াম সাইজড এন্টারপ্রাইজ ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট (এসএমইডিপি-২) শীর্ষক এই পুনঃ অর্থায়ন তহবিল গঠন করা হয়। এ তহবিলের উদ্দেশ্য ছিল ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে গ্রাম ও শহরের উদ্যোক্তাদের স্বল্প সুদে ঋণ দেওয়া, যাতে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয় এবং ক্ষুদ্র ব্যবসা সম্প্রসারিত হতে পারে। মূল প্রকল্পটি ২০২৪ সালে শেষ হয়। পূর্ববর্তী প্রকল্পের অব্যবহৃত অর্থ থেকে ২০২৫ সালে প্রায় ১ হাজার ২০০ কোটি টাকার একটি নতুন তহবিল গঠন করা হয়। এই তহবিল থেকে ৯৫০ কোটি টাকা সোনালী ব্যাংকের মাধ্যমে সরকারি ট্রেজারি বিলে বিনিয়োগ করা হয়েছিল। এই বিল থেকে প্রায় ৪৬ কোটি ৭৪ টাকা সুদ বাবদ আয় হয়েছে। এ আয়ের মধ্যে ৪০ কোটি টাকা সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংককে দেওয়া হয়। বাকি ৬ কোটি টাকার মধ্যে গবেষণার জন্য ২ কোটি ৭৪ লাখ টাকা রাখা হয়। এ ছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ ও উন্নয়নের জন্য রাখা হয় ৪ কোটি টাকা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের যে চার কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নিয়ম লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে, সেই বিষয়ে তাঁদের একজনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি সরাসরি এটা নিয়ে কথা বলেননি। তিনি জানান, এ বিষয়ে যা বলার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র বলবেন।

আমাদের অনুসরণ করুন

 

সর্বাধিক পড়ুন

  • সপ্তাহ

  • মাস

  • সব