স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে ১৭ বছর ধরে বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা রাজনৈতিক হয়রানিমূলক এক হাজার ছয়টি মামলা প্রত্যাহারের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা (পরিচালক) ফয়সল হাসান স্বাক্ষরিত এক খুদে বার্তায় আজ রোববার এ তথ্য জানানো হয়।
খুদে বার্তায় আরও বলা হয়, মামলাগুলো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ছিল এবং এগুলোকে বিরোধীদলীয় নেতা-কর্মীদের হয়রানি ও ভিন্নমত দমনের জন্য ব্যবহার করা হয়েছিল।
এর আগে ৮ ফেব্রুয়ারি আইন মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, হেফাজতে ইসলাম, গণ অধিকার পরিষদসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে করা রাজনৈতিক হয়রানিমূলক মামলাগুলোর মধ্যে ২৩ হাজার ৮৬৫টি মামলা প্রত্যাহারের সুপারিশ করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। ফলে প্রায় পাঁচ লাখ মানুষ হয়রানিমূলক মামলা থেকে অব্যাহতি পেয়েছেন।
জাপানে দক্ষ কর্মী পাঠাতে বিশেষ আগ্রহ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে এক ফলোআপ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে সেখানে এ বিষয়ে আলোচনা হয়।
এর আগে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে ‘আনন্দময় ও কর্মমুখী শিক্ষাব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, ক্রীড়া অবকাঠামো ও প্রশিক্ষণ সম্প্রসারণ’ বিষয়ে এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে জাপানে কর্মী পাঠাতে বিশেষ আগ্রহ প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী।
এদিন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রণালয় সিনিয়র সচিব ড. নেয়ামত উল্যাহ ভূঁইয়া এতে সভাপতিত্ব করেন। সভায় প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এবং প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক উপস্থিত ছিলেন।
সভায় জানানো হয়, নবগঠিত সরকারের যে নির্বাচনী ইশতেহার রয়েছে তারমধ্যে ২০টি কার্যক্রম রয়েছে, যেগুলো প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক মন্ত্রণালয়ের সাথে সম্পৃক্ত। এ সরকারের অর্থাৎ বিএনপি দলীয় ইশতেহার যেহেতু জনগণ সমর্থন দিয়েছে, সেহেতু এটি একটি জাতীয় কর্মসূচিতে পরিণত হয়েছে। এই জাতীয় কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য কী ধরনের কার্যক্রম গ্রহণ করা যায়, সে বিষয়ে প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় জানানো হয়, সভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাপানে বাংলাদেশ থেকে লোক পাঠানোর বিষয়ে বিশেষ আগ্রহ প্রকাশ করেন। বিশেষ করে জাপানে ২০৪০ সালের মধ্যে প্রায় ১ কোটি ১০ লাখ তরুণ বয়সীদের প্রয়োজন হবে। এখন আমাদের বাংলাদেশে প্রায় ২৩ লাখ অতিরিক্ত যুব শ্রমশক্তি আছে। আমরা কীভাবে তাদের দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তরিত করে জাপানসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে পাঠানো যায়, এ বিষয়গুলো নিয়ে সভায় বিস্তারিত আলোচনা হয়।
বাংলাদেশ তার অদক্ষ শ্রমশক্তিকে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তরিত করে কীভাবে বিদেশে পাঠানো যায়, বিদেশে শ্রমে নিয়োজিত করা যায়—এই বিষয়গুলো নিয়েও আলোচনা হয়। আলোচনার মধ্যে বিশেষভাবে স্থান পেয়েছে বাংলাদেশ বিশ্বে শুধু অদক্ষ শ্রমিক সরবরাহ করে থাকে। এই পরিস্থিতি থেকে বের হয়ে আমাদের বিদেশের শ্রমবাজারে দক্ষ এবং আধা দক্ষ শ্রমিক রফতানির ওপর জোর দিতে হবে।
বিশেষ করে জাপানে যেহেতু এখন তাদের যুবকশ্রেণি কমে যাচ্ছে, সে কারণে যেসব ট্রেডে তাদের লোক দরকার, সেসব ট্রেড অনুযায়ী প্রশিক্ষণ দেওয়ার জন্য এবং ভাষা শিক্ষা দেওয়ার জন্য আগে ৩৩টি টিটিসিতে ট্রেড রিলেটেড প্রশিক্ষণ সুনির্দিষ্ট করা হয়েছিল। এখন প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সংস্থা থেকে জাপানের চাহিদার কথা বিবেচনা করে আরও ২০টি যোগ করে মোট ৫৩ টিটিসিতে জাপানি ভাষা শিক্ষা এবং দক্ষতা প্রশিক্ষণ দেয়াও হচ্ছে। জাপানি ভাষা প্রশিক্ষণের জন্য যদিও শিক্ষকের অপ্রতুলতা রয়েছে। কীভাবে আরও বেশি পরিমাণে জাপানি ভাষা শিক্ষা দেওয়ার জন্য আরও বেশি শিক্ষক নিয়োগ করা যায়—এসব বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।
জাপানি ভাষা শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ দেওয়ার জন্য আমাদের যে ২০০ বেসরকারি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র রয়েছে, বিদেশে শ্রমিকের প্রেরণকারী এজেন্সি রয়েছে—সেগুলোর কাছ থেকে আরও কী ধরনের সহযোগিতা পাওয়া যায়, তা নিয়েও সভায় আলোচনা হয়।
এছাড়া কীভাবে শ্রমবাজারের বিষয়ে প্রস্তুতি নেওয়া যায়—যাতে করে অন্যান্য দেশের আগেই জাপানের শ্রম বাজারে আমরা আমাদের শ্রমশক্তি রফতানি করতে পারি, এ বিষয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয় এবং কতগুলো কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়।
এগুলো ধীরে ধীরে বাস্তবায়নের মাধ্যমে একটা পূর্ণাঙ্গ কর্মপরিকল্পনা প্রধানমন্ত্রীর কাছে আগামী ৭ দিনের মধ্যে উপস্থাপনের জন্য সভায় সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। কর্মকর্তাদের মধ্যে এসব কার্যক্রম বণ্টন করে দেওয়া হয়েছে। আগামী দুই দিন পরেই সেটার ফলোআপ আবার পুনরায় গ্রহণ করা হবে বলে মন্ত্রী নির্দেশনা প্রদান করেন। কাজের অগ্রগতি পর্যালোচনার জন্য আগামী দুই কর্ম দিবস পরেই আবার বসা হবে বলে সভায় জানানো হয়।
এছাড়া, জাপানে জনশক্তি প্রেরণ ও প্রশিক্ষণের বিষয়ে যেসব স্টেক হোল্ডার রয়েছে এবং শিক্ষক, ছাত্রদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার বিষয়ে, শিক্ষকদের নিয়োজিত করার বিষয়ে যেসব অংশীজন রয়েছে, এসব স্টেকহোল্ডার বা অংশীজনদের নিয়ে পরশু একটা মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হবে বলে আজকে সভায় সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সবার মতামতের ভিত্তিতে একটা পূর্ণাঙ্গ কর্মপত্র বা সুপারিশমালা প্রণয়ন করে বর্তমান সরকারের নির্বাচনি ইশতেহারের যাতে সফল বাস্তবায়ন হয়— সেদিকে লক্ষ রেখে প্রধানমন্ত্রীর কাছে সুপারিশগুলো পাঠানো হবে বলে সভায় জানানো হয়।
জাপানে কর্মী পাঠানোর বিষয়ে সব কর্মকর্তাকে দক্ষতা ও আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ এগিয়ে নেওয়ার জন্য প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এবং প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক আহ্বান জানান।
মালয়েশিয়ার সাবাহ রাজ্যের উপকূলে ৭ দশমিক ১ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। মার্কিন ভূতাত্ত্বিকেরা এই তথ্য জানিয়েছেন।
মালয়েশিয়ার সাবাহ রাজ্য বোর্নিও দ্বীপে অবস্থিত। স্থানীয় সময় রোববার দিবাগত রাত ১২টা ৫৭ মিনিটে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল উপকূলীয় সাবাহ রাজ্যের রাজধানী কোটা কিনাবালু থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে। ভূপৃষ্ঠ থেকে এর গভীরতা ছিল ৬১৯ দশমিক ৮ কিলোমিটার।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামের সঙ্গেও দেখা করেন তিনি।
রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তাদের এ সৌজন্য সাক্ষাৎ হয়।
পরে এক ব্রিফিংয়ে প্রণয় ভার্মা বলেন, বাংলাদেশে নতুন সরকারের সঙ্গে ইতিবাচক, গঠনমূলক ও ভবিষ্যতমুখী মনোভাব নিয়ে ভারত সহযোগিতা এগিয়ে নিতে চায়। সব ক্ষেত্রে জনগণকেন্দ্রিক সহযোগিতা জোরদারের লক্ষ্যে বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী ভারত।
ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনের পর ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির শুভেচ্ছাবার্তা এবং শপথ অনুষ্ঠানে ভারতের লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার অংশগ্রহণ ও চিঠি হস্তান্তরের কথা মনে করিয়ে দিয়ে ভারতীয় হাইকমিশনার বলেন, তারই ধারাবাহিকতায় রোববার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে তার এ সৌজন্য সাক্ষাৎ।
আর্টিকেল ১৫’, ‘মুল্ক’ এবং ‘থাপ্পড়’-এর মতো সামাজিক বার্তাবহী ছবির জন্য পরিচিত পরিচালক অনুভব সিনহা। এবার তিনি ‘অসসি’ ছবির মাধ্যমে দর্শকদের সামনে তুলে ধরেছেন সমাজের এক গুরুতর বিষয়। দিল্লির পটভূমিকায় নির্মিত এই ছবির গল্প শুধু একটি পরিবারের নয়, বরং সেই আতঙ্কের গল্প, যা সমাজে প্রতিটি নারী প্রতিমুহূর্তে অনুভব করেন।
কাহিনি
‘অসসি’—ভারতে প্রতিদিন ঘটে যাওয়া ধর্ষণের আনুমানিক সংখ্যার দিকেই এই নাম ইঙ্গিত করে। ছবির শুরুতেই এক গা শিউরে ওঠা দৃশ্য। এক রাতে দিল্লির সুনসান এক মেট্রো স্টেশনের বাইরে থেকে পরিমা নামের (কানি কুসরুতি) এক স্কুলশিক্ষিকাকে একদল উচ্ছৃঙ্খল যুবক গাড়িতে তুলে নেয়। এরপর চলন্ত গাড়ির মধ্যে অত্যন্ত নির্মমভাবে একে একে ধর্ষণ করে তাকে। এমনকি কার মধ্যে পুরুষত্ব বেশি, তা নিয়ে তাদের মধ্যে জোর প্রতিযোগিতা চলেছিল সেই অভিশপ্ত রাতে। এরপর তারা সেই শিক্ষিকাকে অর্ধনগ্ন অবস্থায় রেললাইনে ফেলে চলে যায়। পরদিন সকালে স্থানীয় এক যুবক ক্ষতবিক্ষত অবস্থায় অচেতন পরিমাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখান থেকে গল্প ফিরে যায় অতীতে।
স্বামী বিনয় (মোহাম্মদ জিশান আয়ুব) ও ছেলে ধ্রুবকে নিয়ে সুখে সংসার করছিল পরিমা। বিনয় এক সুপারমার্কেটে কাজ করে। পরিমার সাজানো–গোছানো সংসারে আর্থিক প্রাচুর্য না থাকলেও ভালোবাসা আর আস্থা ছিল ভরপুর। তাই শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত স্ত্রী পরিমার হাত শক্ত করে ধরে রেখেছিল বিনয়। স্ত্রীর শরীর এবং মনের দগদগে ক্ষতকে ভালোবাসা দিয়ে সারিয়ে তোলার চেষ্টা করেছিল বিনয়। এদিকে একরত্তি ধ্রুবের শিশুমন হয়তো বুঝেছিল তার মায়ের সঙ্গে চরম অন্যায় কিছু হয়েছে। তাই সে তার বাবাকে এগিয়ে যাওয়ার সাহস জুগিয়েছিল। ছোট্টো ধ্রুব এক রাতেই যেন অনেক বড় হয়ে গিয়েছিল। এরপর শুরু হয় তদন্ত। ধর্ষণকারীদের গ্রেপ্তার করতে পুলিশকে বেশি বেগ পেতে হয়নি। কিন্তু তাদের আদালতে দোষী প্রমাণ করাটাই ছিল সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। পরিমার পাশে এসে দাঁড়ায় আইনজীবী রাভি (তাপসী পান্নু)।

আইনি যুদ্ধে উঠে আসে সমাজব্যবস্থার আসল এবং ঘৃণ্য চেহারা। কাহিনি যত এগোয়, তত উঠে আসে পিতৃতান্ত্রিক মানসিকতা, পুলিশি ব্যবস্থার দুর্নীতি, ক্ষমতা আর প্রতিপত্তির অপব্যবহার এবং সমাজের অসংবেদনশীলতাসহ আরও অনেক দিক। ছবির শুরুতে একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃশ্য আছে, যেখানে বিনয় তার ছেলেকে মেয়েদের সম্মান করার শিক্ষা দেয়। এই বার্তাটিতে স্পষ্ট যে সঠিক শিক্ষা থেকেই গড়ে ওঠে সংবেদনশীল সমাজ।
ধর্ষণে অভিযুক্ত যুবকদের মধ্যে একজনের বাবা কীভাবে নিজের অর্থবল ব্যবহার করে সিস্টেমের সঙ্গে মিলেমিশে মামলাকে ভিন্ন খাতে ঘোরানোর চেষ্টা করে, তা দেখানো হয়েছে। অন্যদিকে আদালতে নির্যাতিতার পক্ষে লড়তে গিয়ে রাভিকে উপযুক্ত প্রমাণের অভাবে বারবার পরাজয়ের মুখে পড়তে হয়।
ক্ষমতার কাছে ন্যায় যেন বারবার মাথা নত করে। এখানে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘প্রশ্ন’ কবিতার সেই বাক্যটি আপনাকে বারবার মনে করিয়ে দেবে, ‘বিচারের বাণী নীরবে নিভৃতে কাঁদে’। তবে আদালতের ভেতর এমন কিছু সত্য সামনে আসে, যার সামনে শুধু নির্যাতিতার পরিবারই নয়, আদালতও সঠিক বিচার করতে নিজেকে অসহায় মনে করে। এদিকে রাভির সঙ্গে তার ভগ্নিপতি কার্তিকের (কুমুদ মিশ্রা) এক সমান্তরাল কাহিনি ছবির সঙ্গে এগোয়। কার্তিকের এক অন্ধকার অতীত আছে। এক পথ দুর্ঘটনায় তিনি তার স্ত্রীকে চিরতরে হারিয়েছে। ‘হিট অ্যান্ড রান’ মামলায় দোষীরা কেউ ধরা পড়েনি। তবে পরিচালক অনুভব সিনহা কার্তিকের স্ত্রীর ঘটনাটা স্পষ্টভাবে তুলে ধরেননি। আদালতের সামনে রাভি যখন অভিযুক্তদের দোষী সাব্যস্ত করতে বারবার হোঁচট খাচ্ছে, তখন এক ছাতাধারী ব্যক্তির আবির্ভাব হয়। ধর্ষণের দায়ে অভিযুক্ত যুবকদের মধ্যে কয়েকজনকে নির্মমভাবে হত্যা করে সেই অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি। ছাতার আড়ালে তিনি একের পর এক ধর্ষণকারীকে হত্যা করে। ছাতার আড়ালের ব্যক্তিটি কে, আর রাভি কি পারবে দোষীদের আইনি সাজা দিতে, পরিমা কি পাবে সঠিক বিচার, এসব প্রশ্নের জবাব পেতে দেখতে হবে ‘অসসি’। অনুভব সিনহা ও গৌরব সোলাঙ্কি লিখিত এই গল্প বাস্তব ঘটনার অনুপ্রেরণায় নির্মিত।

ভালো-মন্দ
দীর্ঘদিন পর আবার এক শক্তিশালী চরিত্রের মাধ্যমে বড় পর্দায় ফিরছেন তাপসী পান্নু। তিনি ‘রাভি’র চরিত্রটি দক্ষতার সঙ্গে ফুটিয়ে তুলেছেন। ছবিতে জিশান আয়ুবের চরিত্রে গভীরতা রয়েছে। তবে তাঁর মতো অভিনেতাকে আরও ভালোভাবে ব্যবহার করতে পারতেন পরিচালক। কোথাও কোথাও জিশানের চরিত্রে আবেগ কম মনে হয়েছে। কানি কুসরুতির অভিনয় প্রশংসনীয়। তিনি এক ধর্ষিতা নারীর মানসিক ও শারীরিক যন্ত্রণা অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে ফুটিয়ে তুলেছেন। কুমুদ মিশ্রার চরিত্রটিও বেশ জটিল ও গম্ভীর, যা তিনি অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে পর্দায় উপস্থাপন করেছেন। মনোজ পাহওয়া এবং রেবতীর অভিনয় চরিত্র অনুযায়ী যথাযথ। তবে নাসিরুদ্দিন শাহর মতো অভিজ্ঞ অভিনেতাকে অতিথি শিল্পীর ভূমিকাতে আরও সুন্দর করে ব্যবহার করা যেত। তার চরিত্রটি অসম্পূর্ণ মনে হয়েছে। ‘অসসি’ ছবির কাহিনি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত বেঁধে রাখবে। তবে কাহিনি কখনো কখনো বিক্ষিপ্ত এবং অস্পষ্ট মনে হয়েছে। বেশ কিছু চরিত্র এবং সম্পর্ক স্পষ্টভাবে খোলাসা করেননি পরিচালক। অনুভব সিনহার মতো দক্ষ পরিচালকের থেকে আরও দক্ষ পরিচালনা আশা করা হয়েছিল। কাহিনি কোথাও কোথাও অস্পষ্ট মনে হয়েছে।
শেষ কথা
‘অসসি’ শুধু বিনোদনের জন্য নয়, এটি ভারতে নারী নিরাপত্তা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তোলে। ছবিটি শেষে একাধিক প্রশ্ন রাখে, কবে সেই সময় আসবে, যখন নারীরা যেকোনো সময় নিঃসংকোচে সমাজে স্বাধীনভাবে শ্বাস নিতে পারবে এবং নিরাপদ বোধ করবে? ভারতে প্রতি ২০ মিনিটে একটি ধর্ষণের ঘটনা নথিভুক্ত হয়, এই সত্যটি পুরো ছবিজুড়ে দর্শককে মনে করিয়ে দেওয়া হয়। অনুভব সিনহার ‘অসসি’ নারী-পুরুষ সবার অন্তরাত্মাকে নাড়িয়ে দেবে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। এই ছবির গল্পের মাধ্যমে তিনি সমাজের কঠিন বাস্তবতা তুলে ধরেছেন। কথায় আছে, চলচ্চিত্র সমাজের আয়না, আর তার প্রভাব ইতিবাচক পরিবর্তন আনার জন্য হওয়া উচিত। এই ছবি ঠিক সেটাই করতে চেয়েছে। ‘অসসি’ ২০ ফেব্রুয়ারি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেয়েছে।

রাজধানীর কলাবাগান থানার ১৬নং ওয়ার্ড বিএনপির সহ-সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলামকে গুলি করার ঘটনা ঘটেছে।
রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) রাত ৯টার দিকে বসুন্ধরা শপিং কমপ্লেক্সের বিপরীত পাশে কলাবাগান থানার গেট সংলগ্ন এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।
ঘটনার সাথে সাথে বিএনপির নেতা কর্মীরা আহত শফিকুলকে নিয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। দ্রুত হাসপাতালের জরুরি বিভাগে তার চিকিৎসাও দেন চিকিৎসকরা।
হাসপাতালে চিকিৎসা নেয়ার পর আহত শফিকুল জানান, চাঁদামুক্ত ১৬নং ওয়ার্ড গড়ার চেষ্টায় বাধা হিসেবেই এই ঘটনা ঘটিয়েছে অজ্ঞাত সন্ত্রাসীরা। বলেন, তার দোকানে বসে থাকা অবস্থায় ১০-১৫ জন সন্ত্রাসী এসে তার দোকান থেকে চাঁদা দাবি করে। তিনি বাধা দিতেই তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়ে এক ব্যক্তি। এসময় তিনি তাকে লক্ষ্য করে ছোড়া গুলি হাত দিয়ে ঠেকাতে গেলে হাতে গুলিবিদ্ধ হন।