• Colors: Purple Color

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হস্তক্ষেপে অপহরণের সোয়া এক ঘণ্টার মধ্যে এক স্কুলছাত্রকে উদ্ধার করেছে ‍পুলিশ। আজ মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর খিলগাঁওয়ের নির্মাণাধীন একটি ভবন থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়। ওই স্কুলছাত্রের বাবা খন্দকার শামীম তথ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মচারী।

পুলিশ সূত্র জানায়, আজ বিকেলে খন্দকার শামীম সচিবালয়ে তথ্য মন্ত্রণালয়ে ছিলেন। ছেলে অপহৃত হওয়ার খবর শুনে তিনি কাঁদতে কাঁদতে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে ঢুকে পড়েন। এ সময় প্রধানমন্ত্রী বের হচ্ছিলেন। তিনি প্রধানমন্ত্রীকে ছেলে অপহৃত হওয়ার বিষয়টি জানান। খবরটি শুনেই পুলিশের রমনা বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মাসুদ আলমকে ফোন করে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

পরে শিশুটিকে উদ্ধার অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়া উপকমিশনার মাসুদ আলম বলেন, বিকেল পৌনে চারটার দিকে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ পাওয়ার পর স্কুলছাত্রকে উদ্ধারে অভিযান শুরু করেন। ছাত্রটি খিলগাঁওয়ের ন্যাশনাল ল্যাবরেটরি আইডিয়াল স্কুলে নবম শ্রেণিতে পড়ে। বেলা আড়াইটার সময় স্কুল থেকে বের হওয়ার পর চার-পাঁচজন তাকে খিলগাঁওয়ের জোড়পুকুর এলাকায় সাততলা নির্মাণাধীন ভবনে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে চড়থাপ্পড় দেওয়া হয় এবং নির্যাতন করা হয়। এরপর তার বাবার নম্বর নিয়ে ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণ চায় অপহরণকারীরা। না হলে মেরে ফেলার হুমকি দেয় তারা। পুলিশ প্রথমে টাকা পাঠানোর আশ্বাস দিয়ে অপহরণকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ করে। কোন নম্বরে টাকা পাঠানো হবে, তাদের কাছে সেই নম্বর চাওয়া হয়। তারা প্রথমে নম্বর দিতে দেরি করছিল, দর-কষাকষিও চলে।

পুলিশ কর্মকর্তা মাসুদ আলম বলেন, মুক্তিপণের টাকা নিয়ে দর-কষাকষির মধ্যে পুলিশ তাদের অবস্থান শনাক্ত করে ফেলে এবং ছাত্রটিকে খুঁজে বের করার চেষ্টা শুরু হয়। টের পেয়ে অপহরণকীরা ছাত্রকে রেখে পালিয়ে যায়। এরপর বিকেল পাঁচটার দিকে নির্মাণাধীন ওই ভবনে অভিযান চালিয়ে ছাত্রটিকে উদ্ধার করা হয়।

ইসলামি সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) এক জরুরি বৈঠকে অংশ নিতে আজ (২৪ ফেব্রুয়ারি) রাতে সৌদি আরব যাচ্ছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান।

আগামী বৃহস্পতিবার জেদ্দায় অনুষ্ঠেয় মন্ত্রী পর্যায়ের ওই বৈঠকে অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের আগ্রাসনের বিষয়ে আলোচনা হবে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ওআইসির জরুরি অধিবেশনে যোগ দিতে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে জেদ্দা যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ূন কবির।

জানা গেছে, ওআইসির জরুরি অধিবেশনে যোগ দেওয়ার ফাঁকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী সংস্থার সদস্য একাধিক দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করতে পারেন। সৌদি সফর শেষে আগামী শনিবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের দেশে ফেরার কথা রয়েছে।

প্রসঙ্গত, অধিকৃত পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের ভূমি অবৈধভাবে দখলের পর ইসরায়েল সরকার সেখানে নতুন করে ইহুদি বসতি স্থাপনের ঘোষণা দিয়েছে। বসতি স্থাপনের পাশাপাশি এই এলাকাকে ইসরায়েলের সার্বভৌম এলাকা হিসেবে ঘোষণা করা হবে। ইসরায়েলের ওই সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে ওআইসির এই জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ইসরায়েলি অবৈধ দখলদারত্বের অবসান কীভাবে ঘটানো যায়, তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে এই বৈঠকে। ওআইসি মনে করছে, ইসরায়েলের ওই অবৈধ সিদ্ধান্তের ফলে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের আইনি, রাজনৈতিক ও জনসংখ্যাগত অবস্থার নেতিবাচক পরিবর্তন আসবে, যা ফিলিস্তিন সমস্যার দ্বিরাষ্ট্রীয় সমাধানের পরিকল্পনাকে মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন করবে।

 

রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে মাদকবিরোধী অভিযান চলাকালে শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকদের ওপর মারধরের ঘটনায় পুলিশের চার সদস্যকে প্রত্যাহার (ক্লোজড) করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) রমনা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মাসুদ আলম।

এর আগে, সোমবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) রাতে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ডিসি মাসুদ আলমের নেতৃত্বে মাদকবিরোধী অভিযান চালায় পুলিশ। এ সময় দুই মাল্টিমিডিয়া সাংবাদিক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নাঈম উদ্দীনসহ কয়েকজন দর্শনার্থী পুলিশের মারধরের শিকার হন।

সেসব ঘটনার একাধিক ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়।

এরপর মঙ্গলবার দুপুরে ডিসি মাসুদ আলমকে অপসারণের দাবিতে শাহবাগ থানার সামনে বিক্ষোভ করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

মেক্সিকোর সশস্ত্র বাহিনীর সাম্প্রতিক এক অভিযানে দেশটির মাদক সম্রাট নেমেসিও ওসেগুয়েরা নিহত হয়েছেন। ‘এল মেনচো’ নামে পরিচিত ওসেগুয়েরা কুখ্যাত মাদক চক্র জালিস্কো নিউ জেনারেশনের (সিজেএনজি) নেতা ছিলেন। তাঁর মৃত্যুর পর মেক্সিকোতে সহিংসতার ঘটনাও ঘটেছে।

মেক্সিকোর সেনাবাহিনী বলেছে, গত রোববার পশ্চিমাঞ্চলীয় জালিস্কো রাজ্যের তাপালপা শহরে সেনাদের সঙ্গে সংঘর্ষে ওসেগুয়েরা আহত হন। তাঁকে মেক্সিকো সিটিতে নেওয়ার পথে তিনি মারা যান।

মেক্সিকোতে নিহত বা গ্রেপ্তার হওয়া মাদক সম্রাটদের তালিকায় সর্বশেষ সংযোজন ওসেগুয়েরা। তাঁর আগেও বিভিন্ন সময়ে অনেক মাদক সম্রাট গ্রেপ্তার বা নিহত হয়েছেন। তেমন কয়েকটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক—

জুলাই ২০২৪

মেক্সিকোর মাদক ব্যবসায়ী ইসমায়েল ‘এল মায়ো’ জাম্বাদা গার্সিয়াকে টেক্সাসের এল পাসো শহরের কাছে একটি বিমানঘাঁটি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাঁর মাদক চক্র সিনালোয়ার অংশীদার ও মাদক সম্রাট হোয়াকিন ‘এল চাপো’ গুজমানের ছেলে হোয়াকিন গুজমান লোপেজ সঙ্গে ছিলেন।

জাম্বাদা পরে দাবি করেন, লোপেজ তাঁকে অপহরণ করে মার্কিন এজেন্টদের কাছে হস্তান্তর করেছিলেন। তবে গুজমান পরিবারের একজন আইনজীবীর দাবি, দীর্ঘ আলোচনার পর স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণ করেছিলেন জাম্বাদা।

জানুয়ারি ২০২৩

এল চাপোর আরেক ছেলে ওভিদিও গুজমান লোপেজকে উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় সিনালোয়া রাজ্যের রাজধানী কুলিয়াকান থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এর আগে ২০১৯ সালের অক্টোবরেও ওভিদিও গুজমানকে অল্প সময়ের জন্য আটক করা হয়েছিল। কিন্তু তখন তাঁর চক্রের প্রতিক্রিয়ায় রক্তপাত এড়াতে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট আন্দ্রেস ম্যানুয়েল লোপেজ ওব্রাদর তাঁকে মুক্তি দেওয়ার নির্দেশ দেন।

মেক্সিকোর মাদক সম্রাট এল চাপো
মেক্সিকোর মাদক সম্রাট এল চাপোছবি: রয়টার্স ফাইল ছবি

জুলাই ২০২২

মেক্সিকোর নৌবাহিনী মাদক সম্রাট রাফায়েল কারো কুইনতেরোকে গ্রেপ্তারের ঘোষণা দেয়। তিনি ১৯৮৫ সালে এক মার্কিন মাদকবিরোধী এজেন্টকে অপহরণ, নির্যাতন ও হত্যার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হয়েছিলেন তিনি।

জুলাই ২০১৯

মেক্সিকোর কুখ্যাত মাদক সম্রাট হোয়াকিন ‘এল চাপো’ গুজমান এক নৃশংস অপরাধ চক্র পরিচালনার দায়ে দোষী সাব্যস্ত হন। ওই চক্রের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে বিপুল পরিমাণ মাদক পাচারের অভিযোগ আছে। এল চাপোকে দোষী সাব্যস্ত করে যাজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

ফেব্রুয়ারি ২০১৫

মেক্সিকোর পুলিশের শীর্ষ অপরাধীদের তালিকায় মাদক সম্রাট সারভান্দো ‘লা তুতা’–এর নাম ছিল। ২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে গোমেজকে মেক্সিকান ফেডারেল পুলিশ গ্রেপ্তার করে।

ফেব্রুয়ারি ২০১৪

মেক্সিকো ও মার্কিন কর্মকর্তারা সমুদ্রতীরবর্তী পর্যটন শহর মাজাতলান থেকে মাদক সম্রাট হোয়াকিন ‘এল চাপো’ গুজমানকে গ্রেপ্তার করেন। ২০১৫ সালের জুলাইয়ে টলুকার কাছে সর্বোচ্চ নিরাপত্তাবেষ্টিত কারাগার থেকে পালিয়ে যান ‘এল চাপো’। ২০১৬ সালের জানুয়ারিতে তাঁকে আবারও গ্রেপ্তার করা হয়।

জুলাই ২০১৩

উত্তর মেক্সিকোর কর্তৃপক্ষ ‘লস জেটাস’ নামের মাদক চক্রের নেতা মিগুয়েল অ্যাঞ্জেল ত্রেভিনো মোরালেসকে গ্রেপ্তার করে। তিনি ‘জেড ফর্টি’ নামে পরিচিত।

অক্টোবর ২০১২

মেক্সিকান মেরিন বাহিনীর অভিযানে লস জেটাস মাদক চক্রের প্রতিষ্ঠাতা ও শীর্ষ নেতা হেরিবের্তো লাজকানো নিহত হন। তিনি ‘এল লাজকা’ নামে পরিচিত ছিলেন।

অক্টোবর ২০১২

মেক্সিকোর মেরিন বাহিনী জেটাসের আঞ্চলিক নেতা সালভাদর আলফোনসো মার্তিনেজ এসকোবেদোকে গ্রেপ্তার করে।

মাদক সম্রাট সারভান্দো ‘লা তুতা’ ২০১৫ সালে গ্রেপ্তার হন
মাদক সম্রাট সারভান্দো ‘লা তুতা’ ২০১৫ সালে গ্রেপ্তার হন, ছবি: রয়টার্স ফাইল ছবি

সেপ্টেম্বর ২০১২

জেটাসের নেতা ইভান ভেলাসকেজ কাবালেরোকে মেক্সিকোর মধ্যাঞ্চলীয় এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি ‘এল তালিবান’ বা ‘জেড–ফিফটি’ নামে পরিচিত।

সেপ্টেম্বর ২০১২

মেক্সিকান মেরিন বাহিনী গালফ চক্রের সন্দেহভাজন শীর্ষ নেতা হোর্হে এদুয়ার্দো কোস্তিয়া সানচেজকে গ্রেপ্তার করে। তিনি ‘এল কস’ নামে পরিচিত। তাঁকে ধরিয়ে দেওয়ার জন্য মার্কিন কর্তৃপক্ষ ৫০ লাখ ডলার পুরস্কার ঘোষণা করেছিল।

ডিসেম্বর ২০১০

লা ফামিলিয়া মাদক চক্রের নেতা নাজারিও মোরেনো গনজালেস মেক্সিকোর মধ্যাঞ্চলে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন।। তিনি ‘দ্য ক্রেজিয়েস্ট ওয়ান’ নামে পরিচিত ছিলেন।

নভেম্বর ২০১০

গালফ চক্রের নেতা এজেকিয়েল কার্দেনাস মেক্সিকোর নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন। তিনি ‘টনি টরমান্টা’ নামে পরিচিত ছিলেন।

আগস্ট ২০১০

বেলত্রান লেইভা চক্রের নেতা এদগার ভালদেজ ভিয়ারেয়ালকে মেক্সিকো সিটির কাছ থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি ‘লা বার্বি’ নামে পরিচিত।

জুলাই ২০১০

গুয়াদালাহারার কাছে জাপোপান শহরের একটি বাড়িতে মেক্সিকোর সেনাবাহিনীর অভিযানে সিনালোয়া চক্রের শীর্ষ নেতা ইগনাসিও কোরোনেল ভিয়ারেয়াল নিহত হন। তিনি ‘নাচো’ নামে পরিচিত ছিলেন।

ডিসেম্বর ২০০৯

কুয়েরনাভাকায় মেক্সিকোর মেরিন বাহিনীর অভিযানে বেলত্রান লেইভা চক্রের নেতা আরতুরো বেলত্রান লেইভা নিহত হন।

স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। এমনটাই জানিয়েছেন দলটির স্থানীয় সরকার নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান ও এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম।

মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

সারজিস আলম বলেন, আগামীতে দেশ নতুন একটা গণতান্ত্রিক উত্তরণের পথে যাচ্ছে। এনসিপি তৃতীয় প্রধান রাজনৈতিক দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে।

এ সময় তিনি বলেন, নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে জাতীয় নির্বাচন পার করেছে এনসিপি। তাই স্থানীয় সরকার নির্বাচনে যাতে কোনো ধরনের ভুল না হয়, সে বিষয়ে সজাগ থাকবে দলটি।

এনসিপি নেতা বলেন, উপজেলা ও সাংগঠনিক অঞ্চলে গিয়ে আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে স্থানীয় পর্যায়ে প্রাথমিকভাবে প্রার্থী ঘোষণা করা হবে।

অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ সময়ে করা বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যকার প্রতিরক্ষা ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা সংক্রান্ত চুক্তির সুষ্ঠু বাস্তবায়ন নিশ্চিতে কাজ করবে জাপান। আজ মঙ্গলবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন ঢাকায় জাপানের রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনিচি।

জাপানের রাষ্ট্রদূত বলেন, বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নিয়ে কথা হয়েছে। জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী এবং বাংলাদেশের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের দুই দেশের সম্পর্কের কৌশলগত অংশীদারত্ব পুনর্ব্যক্তের বিষয়টিসহ অবাধ ও মুক্ত ভারত প্রশান্ত মহাসাগরের দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। পাশাপাশি সম্প্রতি দুই দেশের মধ্যে সই হওয়া দুটি চুক্তি—একটি হলো অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি, আরেকটি প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ও প্রযুক্তি হস্তান্তর চুক্তি। দুই পক্ষই এই চুক্তিগুলোর সুষ্ঠু বাস্তবায়ন নিশ্চিতে কাজ করার বিষয়টি পুনর্ব্যক্ত করেছে।

জাপানে জনশক্তি রপ্তানি নিয়ে জানতে চাইলে সাইদা শিনিচি বলেন, ‘আমরা জাপানে দক্ষ শ্রমব্যবস্থা সম্পর্কেও কথা বলেছি। আমাদের জানানো হয়েছে, জাপানি ভাষা শিক্ষার মাধ্যমে বাংলাদেশ থেকে দক্ষ শ্রমিকের সংখ্যা বাড়ছে। আমাদের অবস্থানও একই, আমরা জাপানি ভাষা শিক্ষক পাঠিয়ে সরকার ও বেসরকারি সংস্থাগুলোকে সহযোগিতা করছি। এ ছাড়া বিভিন্ন পদ্ধতির মধ্যে আমরা জাপানি ভাষার প্রতিযোগিতাও করছি।’

বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল ও মাতারবাড়ী প্রকল্প নিয়ে প্রশ্ন করলে রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘বৈঠকে আমরা অর্থনৈতিক সহযোগিতার বিষয়ে আলোচনা করেছি। তবে এর বিস্তারিত মন্তব্য করব না।’

‘স্বার্থের বিরুদ্ধে হলে বিবেচনায় নেওয়া হবে’

জাপানের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সৌজন্য সাক্ষাতে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির। জাপানের সঙ্গে সম্পাদিত প্রতিরক্ষা চুক্তি নিয়ে নতুন সরকারের অবস্থান সম্পর্কে জানতে চাইলে হুমায়ুন কবির বলেন, ‘বৈঠকে জাপানের রাষ্ট্রদূত উল্লেখ করেছেন যে চুক্তি হয়েছে। আমরা দেখি চুক্তিতে কী আছে, দেখি অন্তর্বর্তী সরকার কী রেখে গেছে। বিষয়টি দেখে আমরা পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেব। চুক্তি যদি জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতে হয়, তাহলে বাস্তবায়ন হতে পারে। আর স্বার্থের ভিত্তিতে না হলে আমরা বিবেচনায় নেব। দেখি, অন্তর্বর্তী সরকার আমাদের জন্য কী রেখে গেছে। সেটা না দেখে তো এখন বলা যাবে না।’

‘সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারও সঙ্গে বৈরিতা নয়’ এ পররাষ্ট্রনীতি থেকে বাংলাদেশ সরে গেছে কি না, জানতে চাইলে হুমায়ুন কবির বলেন, ‘বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি হবে “সবার আগে বাংলাদেশ”। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির মূল কেন্দ্রে থাকবে বাংলাদেশের মানুষের স্বার্থ, সার্বভৌম ও অখণ্ডতা। এটাকে বজায় রেখে অভিন্ন সম্মান ও স্বার্থের মাধ্যমে আমরা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কগুলো করব।’

আমাদের অনুসরণ করুন

 

সর্বাধিক পড়ুন

  • সপ্তাহ

  • মাস

  • সব