• Colors: Purple Color

মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে ভাষা আন্দোলনের বীর শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বিশেষ স্মারক ডাকটিকিট উন্মোচন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। 

শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সকালে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে অবস্থিত প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে তিনি এই ডাকটিকিট উন্মোচন করেন। দায়িত্ব গ্রহণের পর এদিনই প্রথমবারের মতো তেজগাঁওয়ের কার্যালয়ে অফিস শুরু করেন তিনি। 

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে কর্মদিবসের শুরুতে তিনি একটি স্বর্ণচাঁপা গাছের চারা রোপণ করেন। এর আগে সকাল ১০টা ১০ মিনিটে তিনি তেজগাঁও কার্যালয়ে পৌঁছান। সেখানে তাকে স্বাগত জানান প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার এবং অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন।

কার্যালয়ের মূল ভবনে প্রবেশের আগে এক আবেগঘন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার শাসনামলে দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সঙ্গে কুশলাদি বিনিময় করেন। অনেককে নাম ধরে ডেকে কাছে টেনে নেন তিনি। দেশের প্রধানমন্ত্রীকে এত কাছ থেকে পেয়ে উপস্থিত অনেক কর্মচারীই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।

 

সারাদেশে ৪ কোটি ১০ লাখ পরিবার রয়েছে। আর চলতি ফেব্রুয়ারি মাস থেকে সরকার ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ শুরু করবে বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।

শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) বরিশালে একুশে ফেব্রুয়ারির আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন। 

তথ্যমন্ত্রী বলেন, রক্তের বিনিময়ে শুধু বারবার আন্দোলন করলে হবে না। দেশকে সুন্দর করে গড়ার পরিকল্পনাও আমাদের থাকতে হবে। সে ধারাবাহিকতায় আমরা ক্ষমতায় আসার আগে ৩১ দফা রাষ্ট্র মেরামতের পরিকল্পনা দিয়েছি। আমাদের সকল প্রতিশ্রুতি জনগণের কাছে পরিষ্কার করেছি। কেননা আমরা জনগণের সাথে সম্পৃক্ত থাকতে চাই। 

প্রশাসনের স্বকীয়তা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়ে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, প্রশাসনের সাথে জনগণের সম্পর্কটা পরিষ্কার না থাকলে অহেতুক ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়। বিগত সময়ে আমরা দেখেছি প্রশাসনকে দলীয় বাহিনী হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। যে অন্যায় অত্যাচারের বিরুদ্ধে আমাদের রক্ত দিয়ে পরিবর্তন আনতে হলো তা কোনো নতুন প্রশাসন করে নাই। এই প্রশাসনেই আছে। যারা ইচ্ছায় সেটা করেছেন তাদের অবশ্যই চিহ্নিত হতে হবে। যারা অনিচ্ছায় করেছেন তাদের কে আমি সম্মান দেই। তা না হলে আমরা আমাদের পরিকল্পনা মোতাবেক চলতে পারবো না। 

কুষ্টিয়া শহরের বাইপাস সড়কে গ্যাস সিলিন্ডারবাহী ট্রাক ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে পাঁচজন নিহত হয়েছেন। শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে কুষ্টিয়া শহর বাইপাসের কুষ্টিয়া স্টোরের সামনে মর্মান্তিক এ দুর্ঘটনা ঘটে। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, নিহতদের মধ্যে সিএনজি অটোরিকশার চালকসহ চারজন যাত্রী রয়েছেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, যাত্রীবোঝাই সিএনজিটি শহরের কবুরহাট এলাকা থেকে বাইপাস হয়ে যাচ্ছিল। এ সময় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি গ্যাস সিলিন্ডারবাহী ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সিএনজিটির সঙ্গে সরাসরি সংঘর্ষে জড়ায়। এতে সিএনজিটি দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই তিনজনের মৃত্যু হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় অপর দুজনকে উদ্ধার করে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতাল-এ নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁদেরও মৃত্যু হয়।

খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ পরিচালনা করেন। দুর্ঘটনার পর কিছু সময়ের জন্য সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হলেও পুলিশের তৎপরতায় পরে তা স্বাভাবিক হয়।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে হাইওয়ে পুলিশের পরিদর্শক জয়দেব বলেন, দুর্ঘটনাকবলিত যানবাহন দুটি জব্দ করা হয়েছে। তবে ট্রাকচালক পলাতক রয়েছেন। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

এদিকে মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

 

দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সমুদ্রবন্দর মোংলার পূর্ণ সক্ষমতা কাজে লাগানোর পরিকল্পনা করছে সরকার। শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে মোংলা বন্দর পরিদর্শন শেষে সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম রবি এ কথা বলেন।

নৌ-পরিবহন মন্ত্রী বলেন, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বিপুল সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে আমদানি-রফতানি কার্যক্রমকে মোংলা বন্দরকেন্দ্রিক করার পরিকল্পনা করছে সরকার। বিগত সরকারের সময় মোংলা বন্দর নিয়ে হওয়া বিভিন্ন চুক্তি বাতিল হবে কিনা— এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, “চুক্তিগুলো আমরা স্টাডি করব। যদি দেশের স্বার্থ রক্ষা হয় এবং আমাদের জন্য সহায়ক হয়, তাহলে সেগুলো পুনর্বিবেচনা করে কার্যকর রাখা হবে।”

জাতীয় অর্থনীতিতে মোংলা বন্দরের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করলে এটিকে একটি পূর্ণাঙ্গ ও সফল সামুদ্রিক বন্দরে পরিণত করা সম্ভব। বর্তমানে রেল ও নৌ যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো থাকলেও তা আরও আধুনিক ও গতিশীল করা প্রয়োজন। স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে মোংলা বন্দরকে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বন্দর হিসেবে গড়ে তোলা হবে। কিছু অবকাঠামোগত সুবিধা বাস্তবায়ন করা গেলে মোংলা বন্দরকে সক্ষম ও সফল বন্দরে রূপান্তর করা সম্ভব।

আগামী ছয় মাসের মধ্যেই বন্দরের ব্যবস্থাপনায় আমূল পরিবর্তন আনা হবে বলেও জানান তিনি।

ময়মনসিংহ নগরের ঐতিহ্যবাহী আনন্দ মোহন কলেজের দুই শিক্ষার্থী ব্রহ্মপুত্র নদের পাড়ে বেড়াতে গিয়ে ছিনতাইকারী ‘কিশোর গ্যাং’–এর কবলে পড়েছিলেন। ব্রহ্মপুত্র নদ সাঁতরে একজন বেঁচে ফিরলেও গতকাল শুক্রবার রাতে অন্যজনের মরদেহ উদ্ধার হয়েছে। এ ঘটনার পর নতুন করে ময়মনসিংহে ‘কিশোর গ্যাং’–এর অপতৎপরতা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। অপতৎপরতা রোধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি নাগরিক সমাজের।

মারা যাওয়া শিক্ষার্থীর নাম নুরুল্লাহ শাওন (২৬)। তিনি আনন্দ মোহন কলেজের রসায়ন বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র ছিলেন। তাঁর বাড়ি কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার জালালপুর ইউনিয়নের চর জাকালিয়া গ্রামে।

গত বুধবার বিকেলে জয়নুল আবেদিন উদ্যান এলাকা থেকে নুরুল্লাহ শাওন ও তাঁর বন্ধু মঞ্জুরুল আহসান (রিয়াদ) ব্রহ্মপুত্র নদের বিপরীত পাশে বেড়াতে যান। সন্ধ্যা ছয়টার দিকে তাঁদের দুজনকে ঘিরে ধরে ‘যা আছে বের করতে বলে’ সাতজনের একটি কিশোর দল। নৌকাভাড়া ছাড়া কোনো টাকা নেই জানালে দুজনকে মারধর করা হয়। একপর্যায়ে নুরুল্লাহ প্রতিবাদ করলে বেদম মারতে শুরু করে। তখন দুই বন্ধু দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করেন। চারজন পিছু নেয় শাওনের এবং তিনজন পিছু নেয় মঞ্জুরুলের। মঞ্জুরুল ব্রহ্মপুত্র নদে নেমে সাঁতরে পার হতে পারলেও নুরুল্লাহর সন্ধান পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে গতকাল রাতে তাঁর মরদেহ উদ্ধার হয়।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার বিকেলে নিহত নুরুল্লাহর মা সাহিদা বেগম কোতোয়ালি মডেল থানায় একটি অভিযোগ করেন। সাতজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতপরিচয় তিন থেকে চারজনকে আসামি করে দেওয়া অভিযোগটি সন্ধ্যায় মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করে পুলিশ। অভিযুক্ত কিশোরদের সবার বয়স ১৩ থেকে ১৬ বছরের মধ্যে। তারা নগরের বিভিন্ন বিদ্যালয়ে সপ্তম থেকে নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী। সবাই নগরের চর জেলখানা বিন পাড়া এলাকার বাসিন্দা। সাত কিশোরই বিন সম্প্রদায়ের। তাদের মধ্যে ১৫ বছর বয়সী একজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কিশোর সংশোধনাগারে পাঠানো হয়েছে।

ছিনতাইকারী কিশোর গ্যাংয়ের ধাওয়ায় নিখোঁজের পর কলেজছাত্রের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় গতকাল রাত থেকেই অনেকে ফেসবুকে সমালোচনা শুরু করেন। লাশ উদ্ধারের পর গতকাল রাত ১১টা থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত নগরের টাউন হল এলাকায় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন আনন্দ মোহন কলেজের শিক্ষার্থীরা। এ সময় প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত অভিযুক্ত কিশোরদের আইনের আওতায় আনার আশ্বাস দিলে তাঁরা সড়ক ছেড়ে দেন।

আনন্দ মোহন কলেজ শাখা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক তানজিল আহমেদ বলেন, শহরকে ছিনতাই ও মাদকমুক্ত করতে হবে এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। হত্যায় জড়িত প্রত্যেককে দ্রুততম সময়ের মধ্যে শাস্তির আওতায় নিয়ে আসতে হবে।

গত ৩ জানুয়ারি নগরের জিলা স্কুলের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী মিফতাহুল জান্নাত নিলয় তালুকদারকে (১৫) ছুরিকাঘাত করে তারই সহপাঠীরা। ‘কিশোর গ্যাং’–এ যোগ না দেওয়ায় স্কুল বন্ধের দিন সহপাঠীরা বাসা থেকে স্কুলে ডেকে নিয়ে পিঠে, হাতে, কোমর ও পায়ে অন্তত সাতটি ছুরিকাঘাত করে। এ ঘটনায় ১০ জানুয়ারি কোতোয়ালি মডেল থানায় একটি মামলা করেন মিফতাহুল জান্নাতের বাবা। মামলায় চারজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতপরিচয় চার থেকে পাঁচজনকে আসামি করা হয়। আসামিরা জিলা স্কুলের দশম শ্রেণির ডে শিফটের শিক্ষার্থী। আর মিফতাহুল মর্নিং শিফটের শিক্ষার্থী ছিল।

মিফতাহুলের বাবা সাদেকুল ইসলাম তখন বলেছিলেন, ‘ঘটনার দিন বিকেলে আমার ছেলেকে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে যায় তার সহপাঠীরা। স্কুলের ভেতরে কথা–কাটাকাটির এক পর্যায়ে ছুরিকাঘাত করে। যারা ছুরিকাঘাত করে, তারা সবাই মাদকাসক্ত। আমার ছেলেকে তাদের দলে নিতে চেয়েছিল। সে যেতে রাজি না হওয়ায় ছুরিকাঘাত করা হয়। আমি এর বিচার চাই।’

স্থানীয় লোকজন জানান, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উঠতি বয়সী শিক্ষার্থীরা দল বেঁধে গ্যাং কালচারে জড়িয়ে পড়ছে। মাদকের সঙ্গেও জড়াচ্ছে। এক দল আরেক দলের সঙ্গে মারধর, ছিনতাই—এসব ঘটনা প্রায়ই ঘটছে। কিন্তু এসব রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।

ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘কিশোর দলটি নিজেদের এলাকায় সন্ধ্যার দিকে যারা ঘুরতে যায়, তাদের “ঠেক” দিত। তারা সবাই অপ্রাপ্তবয়স্ক এবং বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী। ঘটনার পর থেকে দলটিকে পাওয়া যাচ্ছে না। তারা মুঠোফোনও ব্যবহার করে না। পরিবারগুলোও খুবই দরিদ্র। একজনকে ধরে কিশোর সংশোধনাগারে পাঠানো হয়েছে। রিমান্ড হলে বিস্তারিত জানতে পারতাম। কিন্তু অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় সেই সুযোগ নেই। অন্যদের ধরতে পারলে হয়তো বিস্তারিত জানা যাবে, আসলে কী ঘটেছিল।’

পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, ‘আমরা সুরতহালে নিহত শিক্ষার্থীর শরীরে আঘাতের চিহ্ন পাইনি। পানিতে পড়ে গেলে যেসব চিহ্ন থাকে, সেগুলো ছিল। আমাদের ধারণা, পানিতে ডুবেই মৃত্যু হয়েছে। কিশোর দলটির প্ররোচনা রয়েছে। ছিনতাইয়ের জন্য তারা ধাওয়া না করলে এমন হতো না।’ কিশোর গ্যাং নিয়ে তিনি বলেন, ‘তারা একজনের কমান্ডে চলে। যখনই এক দিকে যায়, দল বেঁধে যায়। কেউ কেউ মাদক সেবনের সঙ্গে জড়িত। সবাই কারও শেল্টারে চলে, এমন নয়। বেশির ভাগ অপ্রাপ্তবয়স্ক। এদের খুব সফটলি হ্যান্ডল করতে হয়। আমরা এসব নিয়ে কাজ করছি।’

সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) ময়মনসিংহ মহানগরের সম্পাদক আলী ইউসুফ বলেন, কিশোর গ্যাং ও ছিনতাইকারী দলের দৌরাত্ম্য ও মাদক নিয়ে নগরবাসী দীর্ঘদিন ধরেই উদ্বিগ্ন। এ জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অবজ্ঞা দায়ী। কঠোরভাবে এগুলো নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ ধারণ করবে। জনপ্রতিনিধিদেরও এ বিষয়ে কাজ করতে হবে।

দিনাজপুর পৌরসভার টানা তিনবারের মেয়র থাকার পর নানা ‘মিথ্যা মামলা’ দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছিল বলে দাবি করেছেন দিনাজপুর-৩ (সদর) আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম। তাঁর ভাষ্য, ‘মাত্র দেড় কেজি চাল চুরিসহ নানা মিথ্যা মামলা দিয়ে কারাগারে পাঠিয়েছিল। আজকে আমাকে মেয়র থেকে এমপি বানিয়েছেন। আমার অনেক দায়িত্ব। জেলার রাস্তাঘাট সংস্কারের বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে কর্তব্যকাজ শুরু করব।’

আজ শনিবার দুপুরে দিনাজপুর শহরের ঘাষিপাড়া এলাকায় জেলা বিএনপির কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন জাহাঙ্গীর আলম।

লিখিত বক্তব্যে সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, বর্তমান সরকার শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অর্থনীতি, শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান, নারীর ক্ষমতায়নসহ অগ্রাধিকার ভিত্তিতে আটটি পরিকল্পনা গ্রহণ করছে। দিনাজপুরের উন্নয়নেও বাস্তবসম্মত ও সুস্পষ্ট পরিকল্পনা আছে। তাঁর দাবি, শিক্ষা বোর্ড, মেডিক্যাল কলেজ, জিয়া হার্ট ফাউন্ডেশনসহ জেলার গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলো বিএনপি সরকারের সময় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

জেলায় ভারী শিল্পকারখানার অভাব দূর করা, একটি অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা, গুরুত্বপূর্ণ সড়ক চার লেনে উন্নীত করা, মাদক প্রতিরোধ জোরদার, হাসকিং মিল আধুনিকায়ন এবং গোর-এ-শহীদ বড় মাঠের মালিকানা-সংক্রান্ত জটিলতা সমাধানের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানান এই সংসদ সদস্য। পাশাপাশি দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করে সরকারি-বেসরকারি সব ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা, টেন্ডার বাণিজ্য ও চাঁদাবাজি দমনের অঙ্গীকারও করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সহসভাপতি রফিকুল ইসলাম, খালেকুজ্জামান, সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মোস্তফা কামাল মিলন, শিল্প ও বণিক সমিতির সভাপতি আবু বক্বর সিদ্দিক, ছাত্রদলের আহ্বায়ক রুবেল ইসলাম প্রমুখ।

আমাদের অনুসরণ করুন

 

সর্বাধিক পড়ুন

  • সপ্তাহ

  • মাস

  • সব