• Colors: Purple Color

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর দেশের বিভিন্ন জায়গায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কার্যালয় খোলার পেছনে ক্ষমতাসীন দল বিএনপির ‘গ্রিন সিগন্যাল’ (সবুজ সংকেত) রয়েছে বলে মনে করছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, বিএনপির কাছ থেকে ‘গ্রিন সিগন্যাল’ ছাড়া আওয়ামী লীগ এটা করার সুযোগ বা সাহস পেত না।

এবারের নির্বাচনে ভারত, আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যে একধরনের যোগসাজশ হয়েছে বলে মনে করছেন জাতীয় সংসদে বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। এ বিষয়ে হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের রাজনীতিকে পুনর্বাসনের চেষ্টা করা হলে তা কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে।

আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন নাহিদ ইসলাম। সমসাময়িক রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং নতুন সরকারের মন্ত্রিসভা নিয়ে দলীয় পর্যালোচনা জানাতে এই সংবাদ সম্মেলন ডেকেছিল এনসিপি।

বিভিন্ন জেলায় আওয়ামী লীগের কার্যালয় খোলার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের জবাবদিহি দাবি করেন নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, ‘অবিলম্বে প্রশাসনিকভাবে সেই কার্যালয় বন্ধ করায় যদি তারা ব্যর্থ হয়, তাহলে আমরা রাজনৈতিকভাবে প্রতিরোধের ডাক দেব। সেটার জন্য এই সরকারকেও আমরা কাঠগড়ায় দাঁড় করাব ফ্যাসিস্টদের পুনর্বাসনের দায়ে।’ আওয়ামী লীগের কার্যালয় খোলার বিষয়টিকে ব্যাপকভাবে প্রচার করায় কিছু গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।

নতুন সরকার গঠনের সঙ্গে সঙ্গে গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর হস্তক্ষেপ হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ। এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস) ও বেসরকারি এখন টিভির দুটি ঘটনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমরা কোনো দলীয় গণমাধ্যম চাই না। কিন্তু আমরা ইতিমধ্যে সেই প্রবণতা দেখতে পাচ্ছি। আমরা আশা করব, এই মুহূর্ত থেকে এটা বন্ধ হবে, গণমাধ্যম স্বাধীনভাবে কাজ করবে।’

দ্রুত সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণ করে জাতীয় সংসদ ও সংবিধান সংস্কার পরিষদের প্রথম অধিবেশন ডাকার জন্য বিএনপির প্রতি আহ্বান জানান নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, একটি ভুল ব্যাখ্যা ও সংবিধানের দোহাই দেওয়ার মাধ্যমে সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্যপদে শপথ না নিয়ে একধরনের প্রতারণা করা হয়েছে, গণভোটের গণরায়কে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখানো হয়েছে। সংসদকে কার্যকর করতে একই সঙ্গে জাতীয় সংসদ ও সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন ডাকা হোক। সংস্কার পরিষদ ছাড়া এই জাতীয় সংসদের কোনো মূল্য নেই।

আইনের শাসন নিশ্চিত করা, পুলিশে দলীয়করণ বন্ধে ব্যবস্থা নেওয়া, রাস্তাঘাটে চলাফেরায় নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, মব সংস্কৃতি বন্ধ করা, আইনের শাসন নিশ্চিত করা, অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে মাজার ভাঙচুরে জড়িত ব্যক্তিদের বিচার, বিরোধী দলের ওপর দেশের বিভিন্ন জায়গায় দমন-পীড়ন বন্ধ করা এবং নোয়াখালীর হাতিয়ায় ধর্ষণের ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেন নাহিদ ইসলাম। পবিত্র রমজান মাসে দ্রব্যমূল্য সাধারণ ও নিম্নবিত্ত মানুষের নাগালে রাখতে দ্রুত ব্যবস্থা নিতেও নতুন সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

‘নতুন মন্ত্রিসভা পুরোনো বন্দোবস্তের ধারাবাহিকতা’

বিএনপি সরকারের ৫০ সদস্যের মন্ত্রিসভায় কোনো নতুনত্ব দেখছেন না বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, ‘এই মন্ত্রিসভা দেখে আমাদের কাছে কোনোভাবে মনে হয়নি, এটি পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। বরং এখানে পুরোনো বন্দোবস্তের ধারাবাহিকতা দেখা যাচ্ছে। এই মন্ত্রিসভায় আঞ্চলিক ভারসাম্য রক্ষা করা হয়নি। মন্ত্রিসভায় নারী, ভিন্ন ধর্মাবলম্বী বা ভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ যথেষ্ট পরিমাণ হয়নি। সার্বিকভাবে এটা প্রতিনিধিত্বমূলক বা অন্তর্ভুক্তিমূলক মন্ত্রিসভা হয়নি।’

নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের গড় বয়স প্রায় ৬০ বছর বলে উল্লেখ করেন নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, মন্ত্রিসভায় কিছু তরুণকে সুযোগ দেওয়া হলেও এতে তারুণ্যের বাংলাদেশের প্রতিফলন হয়নি। সবচেয়ে ‘অ্যালার্মিং’ (উদ্বেগের) বিষয় হলো, এই মন্ত্রিসভায় প্রায় ৬২ শতাংশ মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী ব্যবসায়ী। অর্থাৎ, অর্ধেকের বেশি হচ্ছে ব্যবসায়ী। ব্যবসায়ী হওয়াটা অপরাধ নয়, কিন্তু মন্ত্রিসভায় যে রাজনীতিবিদ এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ থাকা উচিত, সেটা হয়নি।

বিএনপির মন্ত্রিসভায় ব্যাপক আর্থিক অস্বচ্ছতা, দুর্নীতি ও ঋণখেলাপির অভিযোগে অভিযুক্ত, হত্যা মামলার আসামি—এ ধরনের লোককে স্থান দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন এনসিপির শীর্ষ নেতা নাহিদ। কারও নাম উল্লেখ না করে তিনি বলেন, বড় বাজেটের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় এমন একজনকে দেওয়া হলো, যিনি রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ী এবং হত্যা মামলার আসামি।…নতুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দুর্নীতির বিরুদ্ধে অবস্থানের কথা বলছেন। কিন্তু তাঁর নিজের মন্ত্রিসভা ও দলীয় সংসদ সদস্যরা ঋণ কবে পরিশোধ করবেন, দেশের মানুষ সেটা জানতে চায়।

কিছু ভালো ও অভিজ্ঞ লোকও নতুন মন্ত্রিসভায় স্থান পেয়েছেন উল্লেখ করে সেটিকে সাধুবাদও দেন নাহিদ। তিনি বলেন, তবে সার্বিকভাবে পরিবর্তন বা সংস্কারের আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে এই মন্ত্রিসভা যাচ্ছে না। একদিকে তাঁরা (বিএনপির নেতারা) বলছেন, প্লট নেবেন না, গাড়ি নেবেন না। কিন্তু তাঁরা ঋণখেলাপিদের সংসদে নিয়ে গেলেন, মন্ত্রিসভায় স্থান দিয়েছেন। বৈধ সুবিধাকে অস্বীকার করে জনগণের সামনে সাধু সাজা হচ্ছে, অন্যদিকে ঋণখেলাপি ও দুর্নীতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের বড় বাজেটের মন্ত্রণালয় দেওয়া হলো।

বিএনপি সরকারের মন্ত্রিসভায় অন্তর্বর্তী সরকারের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমানের স্থান পাওয়া নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এনসিপির আহ্বায়ক।

‘গণভোট বাতিল হলে সরকারেরও বৈধতা থাকবে না’

গণভোটের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে যে রিট হয়েছে, সে বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে সংবাদ সম্মেলনে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘আমরা মনে করি, আদালত গণভোট বা জনগণের পক্ষেই রায়টা দেবেন। কারণ, যদি গণভোট বাতিল হয়ে যায়, তাহলে এই সংসদ নির্বাচনও প্রশ্নবিদ্ধ হবে। গণভোট বাতিল হলে এই সরকারেরও বৈধতা থাকবে না।’

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের (আইসিটি) কারও বিরুদ্ধে কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ যদি না থাকে, তাহলে সেই সেটআপ পরিবর্তন না করার আহ্বান জানান নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, ট্রাইব্যুনালের সক্ষমতা বাড়ানো যায়।

সংবাদ সম্মেলন সঞ্চালনা করেন এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব। দলের যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিন, মাহবুব আলম, যুগ্ম সদস্যসচিব সালেহউদ্দিন সিফাত, জাতীয় যুবশক্তির আহ্বায়ক তারিকুল ইসলাম প্রমুখ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

শিগগির সারা দেশে খাল খনন কর্মসূচি শুরু করবে নতুন সরকার। ১৮০ দিনের মধ্যে কর্মসূচির আওতায় বেশির ভাগ খাল খনন করা হবে। পাশাপাশি ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালু করার লক্ষ্যে কমিটি গঠন করা হয়েছে। প্রাথমিক পর্যায়ে দেশের আটটি বিভাগের প্রতিটিতে একটি করে উপজেলায় এই কার্ড চালুর ব্যবস্থা করা হবে।

আজ বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আন্তমন্ত্রণালয় সভায় এই সিদ্ধান্ত হয়। এ ছাড়া একই সভায় প্রতিবছর পাঁচ কোটি করে বৃক্ষরোপণের সিদ্ধান্ত হয়েছে।

বৈঠক শেষে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু এবং পানিসম্পদমন্ত্রী মো. শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি সাংবাদিকদের এসব সিদ্ধান্ত জানান

খাল খনন কর্মসূচির বিষয়ে পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের খাল খনন কর্মসূচির প্রসঙ্গ টেনে বলেন, জিয়াউর রহমান এই কর্মসূচিকে একটি বিপ্লবে পরিণত করেছিলেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নির্বাচনের আগে থেকে বারবার উল্লেখ করেছেন, খাল পুনঃখননের মাধ্যমে মানুষ যেন সুবিধা পায়। আন্তমন্ত্রণালয় সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে স্থানীয় সরকার, পানি, দুর্যোগ ও কৃষি মন্ত্রণালয় বসে ঠিক করবে কবে নাগাদ এটি শুরু হবে। শুরু হবে খুব শিগগির। ১৮০ দিনের মধ্যে এই কাজের বেশির ভাগ করা হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

আন্তমন্ত্রণালয় সভার প্রসঙ্গে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু জানান, প্রতিবছর পাঁচ কোটি বৃক্ষরোপণ করা হবে। মে মাসে শুরু হবে। এ বছর হয়তো পাঁচ কোটি সম্ভব হবে না। তবে আগামী বছর এই ঘাটতি পূরণ করা হবে।

ফ্যামিলি কার্ড দিতে কমিটি

এর আগে সচিবালয়েই নির্বাচনী অঙ্গীকার অনুযায়ী ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালু করার লক্ষ্যে কর্মপরিকল্পনা চূড়ান্ত করতে আন্তমন্ত্রণালয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীরা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

এই বৈঠকের সিদ্ধান্তের আলোকে পরে ১৫ সদস্যের ‘ফ্যামিলি কার্ড প্রদানসংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি’ গঠন করা হয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রজ্ঞাপনে এই কমিটি গঠনের কথা জানানো হয়।

অর্থমন্ত্রীকে সভাপতি করে গঠিত কমিটির সদস্যরা হলেন মহিলা ও শিশু এবং সমাজকল্যাণমন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী, মহিলা ও শিশু এবং সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী, উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন ও রেহান আসিফ আসাদ, মন্ত্রিপরিষদ সচিব, মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব, নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সচিব, অর্থ বিভাগের সচিব, তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিভাগের সচিব, স্থানীয় সরকার সচিব, পরিকল্পনা সচিব ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব।

এই কমিটি ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়নের একটি উপযুক্ত ডিজাইন ও সুবিধাভোগী নির্বাচন পদ্ধতি প্রণয়ন করবে। কমিটির কাজের মধ্যে আরও আছে প্রাথমিক পর্যায়ে দেশের আটটি বিভাগের প্রতিটিতে একটি উপজেলায় ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালুর ব্যবস্থা, নারীদের জন্য বিদ্যমান অন্য কোনো কর্মসূচিকে ভিত্তি হিসেবে ব্যবহার করা যায় কি না পর্যালোচনা, সুবিধাভোগীদের তথ্যভান্ডার প্রণয়নের লক্ষ্যে জাতীয় পরিচয়পত্র ও জাতীয় খানার তথ্যভান্ডার আন্তযোগাযোগ স্থাপনের ডিজিটাল এমআইএস প্রণয়নের সুপারিশ এবং আসন্ন ঈদুল ফিতরের আগে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বিতরণ করার লক্ষ্যে ২৪ ফেব্রুয়ারির মধ্যে প্রাথমিক প্রতিবেদন প্রণয়ন করা।

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে দায়িত্ব গ্রহণের জন্য অভিনন্দন জানিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) দেওয়া ওই অভিনন্দন বার্তায় বাংলাদেশ–যুক্তরাজ্যের অংশীদারত্ব আরও জোরদার করা এবং অভিন্ন অগ্রাধিকারগুলো এগিয়ে নিতে একসঙ্গে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী।

বার্তাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও ঢাকাস্থ ব্রিটিশ হাইকমিশন। 

চিঠিতে কিয়ার স্টারমার লিখেছেন, ‘আমি বাংলাদেশের নির্বাচনে আপনার বিজয় এবং প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আপনার দায়িত্ব গ্রহণ নিশ্চিত হওয়ায় আন্তরিক অভিনন্দন জানাতে লিখছি।’

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যুক্তরাজ্য ও বাংলাদেশের ঘনিষ্ঠ ও দীর্ঘদিনের সম্পর্ক রয়েছে। আমি বিশ্বাস করি, আপনার নেতৃত্বে আমাদের সহযোগিতা কেবলই বৃদ্ধি পাবে, যা আমাদের অভিন্ন মূল্যবোধ ও সমৃদ্ধ ইতিহাসের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠবে।’

স্টারমার লিখেছেন, ‘আমি আমাদের অংশীদারত্ব শক্তিশালী করতে এবং অভিন্ন অগ্রাধিকারগুলো এগিয়ে নিতে আপনার সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার প্রত্যাশা করছি। বাংলাদেশে অন্যতম বৃহত্তম বিদেশি বিনিয়োগকারী হিসেবে আমরা আমাদের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক আরও সম্প্রসারণের আশা করছি।’

চিঠিতে কিয়ার স্টারমার বলেন, ‘আমি অবৈধ অভিবাসন মোকাবিলা, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবের বিরুদ্ধে লড়াই এবং আমাদের দীর্ঘদিনের প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করার জন্য আরও সহযোগিতার সুযোগকে স্বাগত জানাই।’

সবশেষে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্য আমাদের এই দুই দেশের অংশীদারত্বের পরবর্তী অধ্যায়ে একসঙ্গে কাজ করার অপেক্ষায় রইলাম।

পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেছেন, দেশের যেসব নদী খনন প্রয়োজন এবং যেসব জলাশয় দখল রয়েছে, সেগুলো দ্রুত দখলমুক্ত করা হবে। একইসাথে, সাধারণ মানুষ ও প্রশাসনসহ কিছু মন্ত্রণালয়কে সাথে নিয়ে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে খাল খনন কর্মসূচি শুরু হবে।

বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) রাতে পঞ্চগড় সার্কিট হাউজে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এক সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ১৯৭৭ সাল থেকে ১৯৮১ সাল পর্যন্ত প্রায় দুই হাজারের বেশি মাইল খাল খনন করেছিলেন। সেই খাল খনন কর্মসূচিকে আবারও আগামী ১৫ দিনের মধ্যে সামনে আনা হবে। একইসাথে আবহাওয়া ও পরিবেশের বিষয়টি বিবেচনায় রেখে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিও করা হবে বলে জানান তিনি।

আলোচনা সভায় প্রতিমন্ত্রী জেলা প্রশাসন, পুলিশ, বিজিবি, স্বাস্থ্য বিভাগসহ বিভিন্ন দফতরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।

 

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ব্যক্তিগত সহকারী চিকিৎসক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) যুগ্ম মহাসচিব ডা. মনোয়ারুল কাদির বিটু।

বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে।

 

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, বর্তমানে বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্ডিওলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত ডা. মনোয়ারুল কাদির বিটু প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত সহকারী চিকিৎসক হিসেবে প্রেষণে দায়িত্ব পালন করবেন।

নতুন দায়িত্বে যোগদানের পর থেকে তিনি এ পদে দায়িত্ব পালন করবেন বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়।

 

 

 

ফুটবলে ‘ইনভিন্সিবল’ বা ‘অপরাজেয়’ তকমাটা আর্সেনালের সেই বিখ্যাত মৌসুমের জন্য বরাদ্দ। কিন্তু তুর্কমেনিস্তানের এক অখ্যাত ক্লাবের কীর্তি শুনলে আর্সেন ওয়েঙ্গারও হয়তো চশমাটা ঠিক করে নিয়ে একবার হিসাব মিলিয়ে দেখতেন। ক্লাবটির নাম এফকে আরকাদাগ। ২০২৩ সালের এপ্রিলে জন্ম, আর এর মধ্যেই তারা ফুটবল ইতিহাসের সব গাণিতিক হিসাব উল্টে দিয়েছে।

রেকর্ড বই বলছে, জন্মের পর থেকে লিগে আজ পর্যন্ত একটি পয়েন্টও হারায়নি তারা। ৮২ ম্যাচের সব কটিতে জয়! টানা তিনবার লিগ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পথে তাদের এই জয়যাত্রা যতটা না ফুটবলীয়, তার চেয়েও বেশি বোধ হয় রাজনৈতিক ক্ষমতার এক প্রদর্শন।

এই দাপটের উৎস খুঁজতে গেলে ফুটবল মাঠ ছাড়িয়ে আপনাকে তাকাতে হবে তুর্কমেনিস্তানের সাবেক প্রেসিডেন্ট গুরবানগুলি বেরদিমুহামেদভের দিকে। তাঁর উপাধি ‘আরকাদাগ’—যার অর্থ ‘রক্ষাকর্তা’। ৩৩০ কোটি ডলার খরচ করে তিনি যে ‘স্মার্ট সিটি’ বানিয়েছেন, সেই শহরের নামেই এই ক্লাব। আর সেই নামের মহিমা রাখতেই কি না, পুরো দেশের সেরা সব ফুটবলারকে এক ছাদের নিচে জড়ো করে বানানো হয়েছে এক ‘ড্রিম টিম’। যে লিগে কোনো বিদেশি খেলোয়াড় নেই, সেখানে ঘরের সব সেরা প্রতিভা এক দলে থাকলে যা হয়—পুরো তুর্কমেন ফুটবলই এখন আরকাদাগের পকেটে।

 

লিগের পাশাপাশি ঘরোয়া কাপেও তারা রীতিমতো অপ্রতিরোধ্য। ১৪টি কাপ ম্যাচের সব কটিতে জিতে তারা ঘরে তুলেছে তিনটি তুর্কমেনিস্তান কাপ আর দুটি সুপার কাপ। তবে আরকাদাগের এই অজেয় রথ থেমেছে শেষ পর্যন্ত মহাদেশীয় মঞ্চে গিয়ে। ২০২৪-২৫ মৌসুমে এএফসি চ্যালেঞ্জ লিগে কুয়েতের আল আরাবির কাছে হেরে তাদের ৬১ ম্যাচের টানা জয়ের রেকর্ড থামে। যদিও শেষ হাসিটা তারাই হেসেছে—প্রথমবার অংশ নিয়েই টুর্নামেন্টের ট্রফিটা জিতে নিয়েছে তুর্কমেনরা।

গল্পের মোড় এরপর ঘোরে এবারের এএফসি চ্যাম্পিয়নস লিগ টু-তে। গ্রুপ পর্বের বৈতরণি পার হয়ে নকআউট পর্বে তাদের সামনে এসে দাঁড়াল সৌদি আরবের মহা তারকাখচিত ক্লাব আল নাসর। ফুটবল রোমান্টিকরা চাতক পাখির মতো চেয়ে ছিলেন এক দ্বৈরথের দিকে—আরকাদাগ বনাম ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো।

কিন্তু ১১ ফেব্রুয়ারি তুর্কমেনিস্তানের মাটিতে প্রথম লেগের ম্যাচে সিআরসেভেনকে দেখা গেল না। গুঞ্জন উঠল, পিআইএফ-এর ওপর অভিমানে তিনি ম্যাচ বয়কট করেছেন। রোনালদোবিহীন আল নাসর ১-০ গোলে জিতল। মাঝে লিগে একটি ম্যাচ খেললেও ১৮ ফেব্রুয়ারি ফিরতি লেগে রিয়াদেও আরকাদাগের বিপক্ষে রোনালদোকে নামানো হলো না। সেখানেও স্কোরলাইন সেই একই, ১-০।

পাঁচটা ব্যালন ডি’অর কিংবা হাজার ছোঁয়া গোলের মালিক রোনালদো কি তবে তুর্কমেনিস্তানের এই ‘অজেয়’ দুর্গের সামনে দাঁড়াতে ভয় পেয়ে গিয়েছিলেন?

আমাদের অনুসরণ করুন

 

সর্বাধিক পড়ুন

  • সপ্তাহ

  • মাস

  • সব