দেশের বিনিয়োগ পরিবেশকে আরও গতিশীল ও সমন্বিত করতে বড় ধরনের প্রশাসনিক সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এরই অংশ হিসেবে বিডা, বেপজা ও বেজাসহ গুরুত্বপূর্ণ ছয়টি সরকারি সংস্থাকে বিলুপ্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এসব সংস্থাকে একীভূত করে ‘বিনিয়োগ উন্নয়ন সংস্থা’ নামে একটি নতুন দপ্তর গঠন করা হবে।

বিলুপ্ত হতে যাওয়া সংস্থাগুলো হলো— বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা), বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা কর্তৃপক্ষ (বেপজা), বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা), বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষ, সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব (পিপিপি) কর্তৃপক্ষ এবং বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প কর্পোরেশন (বিসিক)।

রোববার (১৯ এপ্রিল) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ৬ সংস্থা বিলুপ্ত করে গঠন করা হচ্ছে বিনিয়োগ উন্নয়ন সংস্থা নামের নতুন দপ্তর; যেখানে থাকবে না কাগুজে নথির চল। চালু করা হবে ডি নথি।

সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, এসব সংস্থা একীভূত করে ‘বিনিয়োগ উন্নয়ন সংস্থা’ নামে একটি নতুন দপ্তর গঠন করা হবে। নতুন এই কাঠামোয় বিনিয়োগ সংক্রান্ত সব সেবা এক ছাতার নিচে আনা হবে এবং কাগজভিত্তিক ফাইলিংয়ের পরিবর্তে চালু করা হবে ডিজিটাল নথি (ডি-নথি) ব্যবস্থা।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বিনিয়োগ প্রক্রিয়াকে সহজ ও দ্রুত করতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে বিনিয়োগ প্রক্রিয়ায় একাধিক দপ্তরের সম্পৃক্ততার কারণে সময়ক্ষেপণ ও জটিলতা তৈরি হয় বলে মনে করছে সরকার।

নতুন কাঠামোতে প্রতিটি ধাপ ডিজিটালাইজড করার পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে বিনিয়োগকারীদের বিভিন্ন দপ্তরে ঘুরতে না হয়। পাশাপাশি ফাইল প্রসেসিংয়ের দীর্ঘসূত্রতা কমিয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ব্যবস্থা রাখা হবে।

এরই মধ্যে সংস্থাগুলো বিলুপ্তি, জনবল পুনর্বিন্যাস, নতুন অর্গানোগ্রাম প্রণয়ন এবং আইনি কাঠামো তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। একাধিক কমিটিও গঠন করা হয়েছে এ প্রক্রিয়া বাস্তবায়নের জন্য।

সব খসড়া ও চূড়ান্ত পরিকল্পনা আগামী ২ জুলাই প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে উপস্থাপন করা হবে বলে জানা গেছে।

 

জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে সরকারের অবস্থানের সমালোচনা করে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা প্রশ্ন তুলেছেন, যদি জ্বালানির কোনো সংকটই না থাকে, তাহলে এত লম্বা লাইন কেন? দামই বাড়াতে হয় কেন? অফিস কর্মসূচির সময় পরিবর্তন করতে হয় কেন?

রোববার (১৯ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে ৭১ বিধিতে জরুরি জনগুরুত্বসম্পন্ন মনোযোগ আকর্ষণের নোটিশের আলোচনায় রুমিন ফারহানা এ কথা বলেন।

বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য, চলতি সংসদে স্বতন্ত্র সদস্য রুমিনের বক্তব্যের সময় সরকারি দল বিএনপির সদস্যরা আপত্তি জানান। সরকারি দলের এ আচরণের সমালোচনা করে বিরোধী দলীয় নেতা শফিকুর রহমান সংসদে বলেন, একজন স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য বক্তব্য দেওয়ার সময় ট্রেজারি বেঞ্চ থেকে কিছু সদস্য এমন কিছু অঙ্গভঙ্গি করেছেন, যেটা তার বিবেকে আঘাত লেগেছে। তিনি এর নিন্দা জানান।

নিজের বক্তব্যে রুমিন ফারহানা বলেন, কাদম্বিনী মরিয়া প্রমাণ করিল যে কাদম্বিনী মরে নাই। আমাদের তেলের দাম শেষমেষ বৃদ্ধিই হইল। কিন্তু তার আগে আমরা দেখলাম কয়েক কিলোমিটারজুড়ে লম্বা লাইন। মাঝরাত পর্যন্ত ড্রাইভাররা দাঁড়িয়ে আছেন, তারা তেল পাচ্ছেন না। কিন্তু সরকারের সে ব্যাপারে কোনো হেলদোল নেই।

রুমিন ফারহানা বলেন, মন্ত্রীরা যখন সংসদে বক্তব্য দেন, তখন তারা অবলীলায় বলেন বাংলাদেশে জ্বালানির কোনো ঘাটতি নেই। কিন্তু যখন তেল নিতে যায়, তখন দেখা যায় তিন কিলোমিটার লম্বা লাইন।

সন্ধ্যা সাতটার মধ্যে মার্কেট বন্ধ করা, অফিসের কর্মঘণ্টা কমানোর সরকারি সিদ্ধান্তের কথা উল্লেখ করে রুমিন ফারহানা বলেন, প্রশ্ন হচ্ছে, যদি জ্বালানির কোনো সংকটই না থাকে, তাহলে এত লম্বা লাইনই–বা কেন? দামই–বা বাড়াইতে হয় কেন? অফিস কর্মসূচির সময় পরিবর্তন করতে হয় কেন? এই প্রশ্নগুলো তো ওঠে!

স্পিকারের উদ্দেশে রুমিন ফারহানা বলেন, আপনার মাধ্যমে এই সংসদের কাছে আমি জানতে চাই, জ্বালানিমন্ত্রীরা যখন গণমাধ্যমে কথা বলেন, তখন মনে হয় বাংলাদেশে আল্লাহর রহমতে কোনো সংকট নেই। ওনারা যদি পরিষ্কার করে বলেন বাংলাদেশে বর্তমানে কত দিনের অকটেন ও ডিজেলের মজুত আছে, কত দিন চলতে পারবে, পাম্পগুলো কেন পর্যাপ্ত পরিমাণ তেল পায় না?’ রুমিন ফারহানা বক্তব্য দেওয়ার সময় সরকারি দলের কোনো কোনো সংসদ সদস্যকে হাত নেড়ে কিছু বলতে দেখা যায়। রুমিনের বক্তব্যের পর সরকারি দলের সদস্যরা হইচই করতে থাকেন। তখন স্পিকার সংসদ সদস্যদের সংসদের শৃঙ্খলা বজায় রাখার আহ্বান জানান।

এ পর্যায়ে বিরোধী দলীয় নেতা শফিকুর রহমান বলেন, এই সংসদ দেশের সর্বোচ্চ সম্মানের জায়গা। যারা এখানে নির্বাচিত হয়ে এসেছেন, দেশের জনগণের সমর্থন, ভোট, ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা নিয়ে এসেছেন। আমরা সব সদস্যের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলব, কোনো সংসদ সদস্য যখন দাঁড়িয়ে কোনো কথা বলবেন, তা নিয়ন্ত্রণ অথবা তাকে এলাও করার একক এখতিয়ার হচ্ছে স্পিকারের।

বিরোধী দলীয় নেতা শফিকুর রহমান বলেন, আজ লক্ষ করলাম যে একজন স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য তিনি যখন কথা বলছিলেন, দুঃখজনকভাবে ট্রেজারি বেঞ্চ থেকে সম্মানিত কিছু সদস্য এমন কিছু অঙ্গভঙ্গি করেছেন, যেটা আমার বিবেকে আঘাত লেগেছে। আমি এটা আশা করি না।

চার–পাঁচবার নির্বাচিত হয়েছেন, এমন সংসদ সদস্যদের কেউ কেউও এ কাজ করেছেন উল্লেখ করে শফিকুর রহমান বলেন, আমি এখানে তাদের নাম বলে আমি নিজে লজ্জা পেতে চাই না।

এ ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে নিন্দা জানান জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। এর আগে নোটিশের আলোচনায় গাজীপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য সালাহউদ্দীন বলেন, এখন তার নির্বাচনী এলাকা গাজীপুরের কাপাসিয়ায় ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিং হয়। সেখানে চিকিৎসাব্যবস্থা ব্যাপকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বিদ্যুৎ না থাকার কারণে সেচব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। এসএসসি পরীক্ষার্থীরা হায় হায় করছে। তিনি বলেন, সংসদের বিভিন্ন পণ্য ক্রয়ে ব্যাপক দুর্নীতি হয়েছে বলে নজরে এসেছে। অতীতেও এমন দুর্নীতি হয়েছে। এটা যেন বন্ধ হয়, সে জন্য উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে তিনি আশা করেন।

ঢাকা

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় ও জেলা পর্যায়ের সকল পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন দলটির নেত্রী ফারাহা এমদাদ। কেন্দ্রীয় কমিটিতে তার সম্মতি ছাড়াই পদ দেওয়ার অভিযোগ তুলে শনিবার (১৮ এপ্রিল) তিনি এই ঘোষণা দেন।

শনিবার দুপুরে 'জাতীয় নারী শক্তি'র ৫৩ সদস্যবিশিষ্ট কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা করা হয়। সেখানে ফারাহা এমদাদকে ‘সংগঠক’ পদে রাখা হয়। কিন্তু ফারাহার অভিযোগ, তাকে এই পদে অন্তর্ভুক্ত করার আগে কোনো ধরনের ‘সম্মতি’ নেওয়া হয়নি বা বিষয়টি ‘অবহিত’ করা হয়নি। অনুমতি ছাড়া কমিটিতে নাম আসায় ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি দল ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন।

শনিবার বিকেলে নিজের ফেসবুক প্রোফাইলে পদত্যাগপত্র শেয়ার করে ফারাহা এমদাদ লেখেন, এনসিপির সঙ্গে আমার পথচলা এখানেই শেষ। সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত থাকাকালে যদি কারও মনে কষ্ট দিয়ে থাকি, তার জন্য দুঃখিত। সবাই ভালো থাকবেন।

সন্ধ্যায় গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে ফারাহা এমদাদ তার পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি স্পষ্ট জানান, কেন্দ্রীয় এবং জেলা পর্যায়ের আর কোনো সাংগঠনিক দায়িত্বে তিনি থাকছেন না। এই পদত্যাগের ফলে জাতীয় নাগরিক পার্টির অভ্যন্তরীণ সাংগঠনিক সমন্বয় নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

ফারাহা এমদাদ জানান, তার সঙ্গে কোনো ধরনের আলোচনা ছাড়াই তাকে নতুন কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যা অনৈতিক। তাই স্বেচ্ছায় পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।

এ বিষয়ে কুমিল্লা মহানগর এনসিপির যুগ্ম সমন্বয়কারী মাসুমুল বারী কাউছার বলেন, জাতীয় নারী শক্তির কেন্দ্রীয় কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় অভিমান করে ফারাহা এমদাদ পদত্যাগ করেছেন। তাকে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার জন্য অনুরোধ করা হয়েছিল, তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত তার নিজের। 

 

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সদস্য হতে সংরক্ষিত নারী আসনে বেবী নাজনীন, কনকচাঁপা, দিলরুবা খান, রিজিয়া পারভীন, দিঠি আনোয়ার, রিনা খানসহ সংস্কৃতি অঙ্গনের বেশ কয়েকজন তারকার মনোনয়ন সংগ্রহের কথা শোনা গেছে। তাঁরা এরই মধ্যে সাক্ষাৎকার গ্রহণ পর্বেও অংশ নিয়েছেন। সেই তালিকায় যুক্ত হলো ছোট পর্দার অভিনেত্রী রুকাইয়া জাহান চমকের নাম। কুষ্টিয়া থেকে সংরক্ষিত আসনে বিএনপির দলীয় মনোনয়ন নিয়েছেন তিনি। সম্প্রতি ক্ষমতাসীন দল বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন—গণমাধ্যমে এমনটাই জানিয়েছেন চমক।

রুকাইয়া জাহান চমক
রুকাইয়া জাহান চমক, ছবি : চমকের ফেসবুক
 

সংরক্ষিত নারী আসনের প্রার্থীদের সাক্ষাৎকার শুরু করেছে বিএনপি। গতকাল শুক্রবার বিকেলে মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার নেন দলটির মনোনয়ন বোর্ডের সদস্যরা। সাক্ষাৎকার শেষে চমক গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আমি দেশের জন্য কাজ করতে চাই, বিশেষ করে নারীদের জন্য। সে জন্য একটা প্ল্যাটফর্ম দরকার ছিল। আমার মনে হয়েছে, বিএনপির সঙ্গে যুক্ত হলে আমার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হবে। কথা বলে ইতিবাচক মনে হয়েছে। আমি শতভাগ আশাবাদী। দলীয় সিদ্ধান্ত ইতিবাচকভাবে নেব।

রুকাইয়া জাহান চমক
রুকাইয়া জাহান চমকফেসবুক থেকে

এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চমক লিখেছেন, ‘নতুন জার্নি শুরু করলাম। আলহামদুলিল্লাহ। শীঘ্রই বিস্তারিত জানাব। পাশে থেকো, দোয়ায় রেখো।’
রুকাইয়া জাহান চমকের জন্ম বরিশালে, তবে বেড়ে ওঠা ও পড়াশোনা ঢাকায়। ২০১৭ সালে মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ প্রতিযোগিতায় দ্বিতীয় রানারআপ হয়ে বিনোদন অঙ্গনে পথচলা শুরু চমকের।

২০২০ সালে ছোট পর্দায় অভিনয় শুরু করেন তিনি। তাঁর উল্লেখযোগ্য নাটক ও সিরিজ হলো ‘হায়দার’, ‘হাউস নং ৯৬’, ‘মহানগর’, ‘সাদা প্রাইভেট’, ‘অসমাপ্ত’ ও ‘ভাইরাল হাজব্যান্ড’।

লেবাননের ১০ দিনের চলমান যুদ্ধবিরতির মধ্যে বিশ্ব বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণ উন্মুক্ত করে দিয়েছে ইরান। ফলে এই প্রণালি দিয়ে সব বাণিজ্যিক জাহাজ অতিক্রম করতে পারবে।

তবে প্রণালিটিতে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ বহাল থাকার বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, সমঝোতার প্রক্রিয়াটি খুব দ্রুত শেষ হওয়া উচিত।

শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স অ্যাকাউন্টে এ কথা জানান ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি।
সেখানে তিনি বলেন, লেবাননের যুদ্ধবিরতির মধ্যে হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণ উন্মুক্ত। লেবাননে ১০ দিনের যুদ্ধবিরতির সময়ে এই প্রণালি দিয়ে সব বাণিজ্যিক জাহাজ অতিক্রম করতে পারবে।

এদিকে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, হরমুজ প্রণালি এখন সম্পূর্ণ খোলা এবং ব্যবসার জন্য প্রস্তুত। তবে ইরানের সঙ্গে চূড়ান্ত চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ (নেভাল ব্লকেড) বহাল থাকবে।

এ বিষয়ে তিনি আর বলেন, আলোচনার বেশিরভাগ বিষয় ইতোমধ্যে সমঝোতায় পৌঁছেছে। ফলে পুরো প্রক্রিয়াটি খুব দ্রুত শেষ হওয়া উচিত।

এর আগে লেবাননে যুদ্ধবিরতি কার্যকর করা ইরানের অন্যতম দাবি ছিল। পরে ডোনাল্ড ট্রাম্প বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) রাতে লেবাননে ১০ দিনের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেন।

 

আজ শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) দিবাগত রাতে শুরু হচ্ছে হজ ফ্লাইট। ৪১৯ হজ যাত্রী নিয়ে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে রাত ১২টা ২০ মিনিটে মক্কার উদ্দেশে যাত্রা শুরু করবেন মুসল্লিরা। রাতে হজ ফ্লাইট উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রীর আগমন ঘিরে বিমানবন্দর এলাকায় কয়েক স্তরের নিরাপত্তা নেওয়া হয়েছে।

জানা যায়, আশকোনা হজ ক্যাম্পে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি সেরে নিচ্ছেন আল্লাহর ঘরের মেহমানরা। শনিবার হজ যাত্রার প্রথম দিনে ১৪টি ফ্লাইট ছেড়ে যাবে। এ বছর বাংলাদেশ থেকে সাড়ে ৭৮ হাজার মুসল্লি হজ পালনের জন্য নিবন্ধন করেছেন। এর মধ্যে সরকারিভাবে ৪ হাজার ৫৬৫ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় যাচ্ছেন ৭৩ হাজার ৯৩৫ জন।

ধর্ম মন্ত্রণালয় জানায়, হজ যাত্রীদের জন্য এ বছর ২০৭টি ফ্লাইট পরিচালনা করা হবে। সবশেষ ফ্লাইট ছেড়ে যাবে ২১ মে। হজের আনুষ্ঠানিকতা শেষে ৩০ মে থেকে ফিরতি ফ্লাইট শুরু হবে।

জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) মুখপাত্র রাশেদ প্রধানের ব্যক্তিগত সচিব (পিএস) জনি নন্দীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

আজ শুক্রবার দুপুরে রাজধানীর মোহাম্মদপুরে রাশেদ প্রধানের বাসার সামনে থেকে জনি নন্দীকে নিয়ে যায় পুলিশ।

পুলিশের মোহাম্মদপুর অঞ্চলের অতিরিক্ত উপকমিশনার জুয়েল রানা বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নিয়ে জাগপাপ্রধানের আক্রমণাত্মক মন্তব্যের প্রতিবাদে তাঁর বাসার সামনে কয়েকজন অবস্থান নেন। এ সময় পুলিশ তাঁদের সরিয়ে দেয়। রাশেদ প্রধানের বাসার অদূরে আন্দোলনকারী দুই ব্যক্তি সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছিলেন। এ সময় রাশেদ প্রধানের পিএস জনি নন্দী আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা চালান। একপর্যায়ে পুলিশ তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য মোহাম্মদপুর থানায় নিয়ে যায়।

রাঙামাটিতে ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টের (ইউপিডিএফ-প্রসীত) এক সদস্যকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। একই সময়ে গুলিতে আহত হয়েছেন তাঁর দুই বোন। আজ শুক্রবার সকাল সোয়া ছয়টার দিকে সদর উপজেলার কুতুকছড়ি ইউনিয়নের কুতুকছড়ি উপরপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত ব্যক্তির নাম ধর্মশিং চাকমা (৩৯)। তিনি কুতুকছড়ির ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মৃত ধনঞ্জয় চাকমার ছেলে। ইউপিডিএফের (প্রসীত) যুব সংগঠন গণতান্ত্রিক যুব ফোরামের কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি ছিলেন ধর্মশিং।

আহত দুজন হলেন ধর্মশিংয়ের দুই বোন ভাগ্যশোভা চাকমা (৩১) ও কৃপাসোনা চাকমা (৪৫)। তাঁদের রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক সৈকত আকবর বলেন, ‘ভাগ্যশোভা চাকমা ও কৃপা সোনা চাকমা নামের দুই নারীকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়। তাঁদের দুজনের হাতে গুলি লেগেছে। প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে তাঁদের উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রামে পাঠানো হয়েছে।’

জানতে চাইলে রাঙামাটির কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জসীম উদ্দীন সকাল ১০টার দিকে বলেন, গোলাগুলিতে একজনের মৃত্যুর খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যাচ্ছে। এ বিষয়ে বিস্তারিত পরে জানানো হবে।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরুর প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। উৎপাদন শুরু করতে প্রথম ইউনিটের জন্য কমিশনিং লাইসেন্স পেল রূপপুর বিদ্যুৎ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ। এর ফলে উৎপাদন শুরু করতে আর কোনো বাধা নেই। এ মাসের শেষ দিকে প্রথম ইউনিটের চুল্লিপাত্রে পারমাণবিক জ্বালানি প্রবেশ করানো শুরু হতে পারে। এর মধ্য দিয়েই ধীরে ধীরে শুরু হবে বিদ্যুৎ উৎপাদন।

রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রকল্প পরিচালক মো. কবীর হোসেন বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন। বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ আজ বৃহস্পতিবার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রকে কমিশনিং লাইসেন্স ও উৎপাদন কাজ শুরুর অনুমোদন দিয়েছে।

রাশিয়ার আর্থিক ও কারিগরি সহায়তায় পাবনার রূপপুরে নির্মিত হচ্ছে দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন পরমাণু শক্তি কমিশন। এ প্রকল্পের আওতায় ঠিকাদার হিসেবে ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াটের দুটি ইউনিট নির্মাণ করছে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পরমাণু সংস্থা রোসাটমের সহযোগী প্রতিষ্ঠান অ্যাটমস্ট্রয়এক্সপোর্ট। পাবনার রূপপুরে নির্মিত হচ্ছে এ বিদ্যুৎকেন্দ্র।

রূপপুর সূত্র বলছে, চুল্লিপাত্রে পারমাণবিক জ্বালানি প্রবেশ করাতে এক মাস সময় লাগে। এরপর কিছু কিছু করে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হবে। একই সঙ্গে চলবে নানা ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা। এতে সব পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষ করে রূপপুরের প্রথম ইউনিট থেকে বাণিজ্যিকভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হতে পারে আগামী জুলাইয়ে।

তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জ্বালানি প্রবেশের পর অন্তত ছয় মাস ধরে পরীক্ষামূলক উৎপাদন চলবে। এ সময় ধাপে ধাপে পরীক্ষা ও আন্তর্জাতিক অনুমতি নিতে হবে। এতে সেপ্টেম্বরের আগে বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরুর তেমন সম্ভাবনা নেই।

নতুন দুটি দিবস পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এর মধ্যে ৬ জুলাইকে পল্লী উন্নয়ন দিবস এবং ৭ নভেম্বরকে বিপ্লব ও সংহতি দিবস হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদের বৈঠক শেষে এ তথ্য জানিয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণি।

বৈঠক শেষে ব্রিফিংয়ে তিনি জানান, ৬ জুলাই পল্লী উন্নয়ন দিবস হিসেবে পালন করা হবে। তবে, এদিন সরকারি ছুটি থাকবে না। এছাড়া, ৭ নভেম্বর বিপ্লব ও সংহতি দিবস হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। সরকারি ছুটি হিসেবে দিনটি পালিত হবে।

বৈঠকের আলোচনার বিষয়ে জানিয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, বৈঠকে ‘নবায়নযোগ্য জ্বালানি নীতিমালা, ২০২৫’ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। ২০৩০ সালের মধ্যে সোলার পাওয়ার দিয়ে ১০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। এর জন্য একটি কমিটি করা হয়েছে।

এসময় সরকার মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের ফলে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে বর্তমান জ্বালানি সংকট মোকাবিলার চেষ্টা করছে বলেও উল্লেখ করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণি।

এর আগে, সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ছাড়াও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান, ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু, তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী মো. আরিফুল হক চৌধুরী, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানমসহ অন্যান্য সদস্যরা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

 

ছবির ফ্রেমটা বাঁধাই করে রাখার মতোই। একসঙ্গে জাতীয় দলের এত অধিনায়ক কি এর আগে দেখা গেছে কোথাও? উত্তরটা খুঁজে পাওয়া কঠিনই হবে বোধ হয়। আজ এমনই একটা উপলক্ষ এসেছিল বিসিবির এক আয়োজনের কারণে।

সোনারগাঁ হোটেলে জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়কদের হাতে ‘ক্যাপ্টেনস্ কার্ড’ তুলে দিয়েছেন বিসিবির অ্যাডহক কমিটির সভাপতি তামিম ইকবাল। আজীবন মেয়াদের এই কার্ড দিয়ে এখন বিসিবির যেকোনো ধরনের ইভেন্টেই ঢুকতে পারবেন তারা। সাবেক অধিনায়কদের জন্য স্বাস্থ্য বিমারও ব্যবস্থা করবে বিসিবি।

এই কার্ডের মাহাত্ম্য ব্যাখ্যা করে তামিম বলেছেন, ‘আমি নিশ্চিত এখানে যাঁরা যাঁরা আছেন অধিনায়ক, সবার মধ্যেই একটা ইনসিকিউরিটি কাজ করত যে যদি আমি মাঠে যাই, যদি আমাকে না চেনে, যদি আমাকে থামায়, ইজ্জত–সম্মান থাকবে কি না। এটা আমারও হয়েছে কোনো না কোনো সময়।’

এই দ্বিধাটুকু কাটাতেই এবার অধিনায়কদের জন্য ক্যাপ্টেনস কার্ড তুলে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন তামিম। তিনি নিজেও সাবেক অধিনায়ক হিসেবে কার্ড নিয়েছেন আরেক সাবেক অধিনায়ক শফিকুল হক হীরার হাত থেকে।

এই কার্ড দিয়ে এখন থেকে জাতীয় দলের বর্তমান ক্রিকেটারদের মতোই বিসিবির মেডিকেল বিভাগের চিকিৎসা পাবেন সাবেক অধিনায়করা। প্রয়োজনে বিদেশে চিকিৎসার জন্যও সাহায্য করবে বিসিবি।

আকরাম খানের ক্যাপ্টেনস কার্ড
আকরাম খানের ক্যাপ্টেনস কার্ড
 

১৯৭৭ সালে বাংলাদেশের প্রথম আন্তর্জাতিক ম্যাচের অধিনায়ক শামীম কবির মারা গেছেন। এর বাইরে এখন পর্যন্ত পুরুষ দলে তিন সংস্করণ মিলিয়ে অধিনায়কত্ব করেছেন ২৬ জন। নারী ক্রিকেটে সবমিলিয়ে অধিনায়কত্ব করেছেন ৬ জন, তাদের মধ্যে শুধু রুমানা আহমেদই উপস্থিত ছিলেন আজ।বাংলাদেশ নারী দলে তিনি ছাড়াও অধিনায়ক ছিলেন তাজকিয়া আক্তার, সালমা খাতুন, জাহানারা আলম, নিগার সুলতানা ও ফাহিমা খাতুন।

পুরুষ ক্রিকেটারদের মধ্যে কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা আওয়ামী লীগের সাবেক তিন সংসদ সদস্য নাঈমুর রহমান, সাকিব আল হাসান ও মাশরাফি বিন মুর্তজা ছিলেন না আজকের অনুষ্ঠানে। গত ৭ এপ্রিল আমিনুল ইসলামের নেতৃত্বাধীন বোর্ড ভেঙে দিয়ে তামিমের নেতৃত্বে অ্যাডহক কমিটি হয়েছে। আগের বোর্ডে থাকা তিন অধিনায়ক আমিনুল, ফারুক আহমেদ ও খালেদ মাসুদও আসেননি আজ।

ছেলেদের দলের বাকি ২০ অধিনায়ক রকিবুল হাসান, শফিকুল হক হীরা, গাজী আশরাফ হোসেন, মিনহাজুল আবেদীন, আকরাম খান, খালেদ মাহমুদ, হাবিবুল বাশার, রাজিন সালেহ, শাহরিয়ার নাফীস, মোহাম্মদ আশরাফুল, মুশফিকুর রহিম, তামিম ইকবাল, মাহমুদউল্লাহ, মুমিনুল হক, লিটন দাস, নুরুল হাসান, মোসাদ্দেক হোসেন, নাজমুল হোসেন, মেহেদী হাসান মিরাজ ও জাকের আলী ক্যাপ্টেনস কার্ড নিয়েছেন।

তিন অধিনায়ক শফিকুল হক হীরা, রকিবুল হক ও হাবিবুল বাশার
তিন অধিনায়ক শফিকুল হক হীরা, রকিবুল হক ও হাবিবুল বাশার
 

তবে সাবেক অধিনায়কদের সবাইকেই এই অনুষ্ঠানে আসার আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল বলে জানিয়েছেন তামিম। সবাইকে অবশ্য নয়, সাবেক সভাপতি আমিনুলকে আমন্ত্রণ জানাতে গিয়েও পারেননি, ‘আমি বুলবুল ভাইকে কল করেছি, ওনাকে মেসেজ পাঠিয়েছি, তারপর বুঝতে পারলাম আমিও ব্লকড্।’

তবে যাঁরা এখনও কার্ড নেননি, তাঁরা চাইলে যেকোনো সময় এসেই তা নিতে পারবেন বলে জানিয়েছেন তামিম, ‘যখনই আপনারা পারেন, যখনই আপনারা দেশে আসবেন, প্লিজ কার্ডটা গ্রহণ করবেন। এটা সবসময় আপনাদের জন্য বিসিবিতে থাকবে। বাংলাদেশ ক্রিকেটে আপনাদের অবদান অনেক। আমি রাজনীতি বা বিসিবিতে সম্প্রতি যা হয়েছে, তা নিয়ে বলতে চাই না। আমরা সবাই ক্রিকেটার এবং একে–অন্যকে সম্মান করি।’