প্রায় ১৫ ঘণ্টা উৎপাদনে থাকার পর আবার বন্ধ হয়ে গেছে দিনাজপুরের পার্বতীপুরে অবস্থিত বড়পুকুরিয়া কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিট।

বয়লারের টিউব ফেটে যাওয়ায় আজ শনিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ১২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন ইউনিটটির উৎপাদন বন্ধ করা হয়। এতে কেন্দ্রটির বিদ্যুৎ উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে।

আগে বুধবার রাত ১০টা ৩ মিনিটে কয়লার সঙ্গে পাথর মিশে আসায় বয়লারের পাইপ ফেটে যায় এবং কুলিং ফ্যান ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে প্রথম ইউনিটটি বন্ধ হয়ে পড়ে। প্রায় ৪৮ ঘণ্টা পর শুক্রবার রাত ৮টার দিকে ইউনিটটি আবার উৎপাদনে ফেরে। তবে অল্প সময়ের মধ্যেই আবার যান্ত্রিক ত্রুটিতে সেটি বন্ধ হয়ে গেল।

কেন্দ্রটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পার্বতীপুরসহ উত্তরাঞ্চলের অন্তত আট জেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহে বিঘ্ন দেখা দিতে পারে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

বিষয়টি নিশ্চিত করে বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রধান প্রকৌশলী আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, বয়লারের টিউব ফেটে যাওয়ায় ইউনিটটির উৎপাদন বন্ধ করতে হয়েছে। বয়লারের বাষ্প ঠান্ডা হতে সময় লাগবে। সব মিলিয়ে মেরামতে পাঁচ থেকে ছয় দিন সময় লাগতে পারে।

ঘন ঘন লোডশেডিং

বড়পুকুরিয়া তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র পুনরায় বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর আট জেলায় ঘন ঘন লোডশেডিং শুরু হয়েছে বলে জানান একাধিক বাসিন্দা। মন্মথপুর ইউনিয়নের রাজাবাসর গ্রামের বাসিন্দা ফরহাদ হোসেন বলেন, দুই ঘণ্টার মধ্যে গড়ে এক ঘণ্টাই বিদ্যুৎ থাকে না। গত চার দিন ধরে এলাকায় ভয়াবহ লোডশেডিং চলছে। বর্তমানে শহরে দিন-রাত মিলিয়ে ১০ থেকে ১২ বার বিদ্যুতের আসা-যাওয়া হচ্ছে, আর ভোল্টেজ ওঠানামা করছে অন্তত ১৫ বার।

এদিকে লোডশেডিংয়ে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের পড়াশোনা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। রাতে পড়তে বসলে বারবার বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় মনোযোগ ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে বলে জানান একাধিক পরীক্ষার্থী। তাঁরা বাধ্য হয়ে মোমবাতি বা চার্জার লাইটের ওপর নির্ভর করছেন। তবে গরমের কারণে পড়ায় মন দিতে পারছেন না।

পলাশবাড়ী ইউনিয়নের বাসিন্দা এসএসসি পরীক্ষার্থী আরিফ রহমান বলেন, পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি প্রতিদিন ১২ ঘণ্টা লোডশেডিংয়ের যে হিসাব দিচ্ছে, বাস্তবতার সঙ্গে এর মিল নেই; এটি কেবল কাগুজে হিসাব। বাস্তবে লোডশেডিং আরও বেশি হচ্ছে।

সৈয়দপুর ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক বাবুল হোসেন বলেন, দুপুরের পর থেকেই প্রতি এক ঘণ্টা পরপর বিদ্যুৎ যাচ্ছে। এতে মিল-কারখানায় উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও উপসর্গ নিয়ে আরও ১১ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) সকাল ৮টা থেকে শনিবার (২৫ এপ্রিল) সকাল ৮টা পর্যন্ত এ ২৪ ঘণ্টায় তাদের মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ে হাসপাতালে নতুন করে ভর্তি হয়েছে ১ হাজার ২৮৭ জন।

শনিবার(২৫ এপ্রিল) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। 

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, গত ১৫ মার্চ থেকে ২৫ এপ্রিল সকাল ৮টা পর্যন্ত মোট সন্দেহভাজন রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩০ হাজার ৬০৭ জনে। এর মধ্যে ৪ হাজার ৪৬০ জনের হাম নিশ্চিত হয়েছে। এ পর্যন্ত সন্দেহভাজন ও নিশ্চিত মিলিয়ে ২০ হাজার ৪৭৫ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

আর ১৭ হাজার ৮১ জন চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। প্রাদুর্ভাব শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত হামে আক্রান্ত হয়ে ৪২টি শিশু মারা গেছে। আর হামের উপসর্গ নিয়ে প্রাণ হারিয়েছে ২০৯টি শিশু।

 

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সম্প্রতি আবহাওয়া নিয়ে একটি পোস্ট দেখা যাচ্ছে। পোস্টে দাবি করা হচ্ছে, ‘উচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে… ২৯ এপ্রিল থেকে ১২ মে পর্যন্ত, সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত, কোনো ব্যক্তি যেন বাইরে (খোলা আকাশের নিচে) না যান, কারণ আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে যে তাপমাত্রা ৪৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস থেকে ৫৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বাড়তে পারে।…নিচে দেওয়া হয়েছে বেসামরিক প্রতিরক্ষা অধিদপ্তর নাগরিক ও বাসিন্দাদের নিম্নলিখিত বিষয়ে সতর্ক করছে।’

পোস্টের শেষে লেখা রয়েছে অনুগ্রহ করে এই তথ্যটি শেয়ার করুন, কারণ অন্যরাও হয়তো এটি জানেন না এবং প্রথমবারের মতো পড়ছেন।

That's Vogue By Sabrin নামে একটি ফেসবুক পেজে দেওয়া পোস্টে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত, ১৯ হাজারের বেশি প্রতিক্রিয়া পড়েছে, মন্তব্য প্রায় এক হাজার এবং ৮ হাজারের বেশি শেয়ার হয়েছে।

পেজটির ফলোয়ারের সংখ্যা এক লাখ ৮১ হাজার। পেজটি নারীদের পোশাক বিক্রি নিয়ে কনটেন্ট বানায়। আবহাওয়া–সংক্রান্ত পোস্ট নিয়ে পেজটির অ্যাডমিন সাবরিন সুলতানা বলেন, বেসরকারি একটি টিভি চ্যানেল থেকে পাওয়া এই পোস্ট তিনি অন্যদের সতর্ক করতে শেয়ার করেছেন। তিনি বলেন, ফেসবুকে অনেকেই আবহাওয়া নিয়ে এই পোস্ট দিয়েছেন।

 

আবহাওয়াবিষয়ক পোস্টটি সত্য নয় বলে তাঁকে জানায় প্রথম আলোর ফ্যাক্ট চেক বিভাগ। এ বিষয়ে তিনি বলেন, অনেক বছর ধরে কাজ করছেন, যদি তিনি ভুল তথ্য ফেসবুক পেজে পোস্ট করে থাকেন তাহলে ফেসবুক কর্তৃপক্ষ বিষয়টি দেখবে।

যে টিভি চ্যানেলটির কথা তিনি বলেছেন ফ্যাক্ট চেক করে দেখা গেছে চ্যানেলটি এমন কোনো সংবাদ প্রকাশ করেনি।

Hater chowa-হাতের ছোঁয়া নামে আরেকটি পেজের ফলোয়ারের সংখ্যা তিন লাখ ৩১ হাজার। নারীদের পোশাক ও জীবনযাপন–বিষয়ক কনটেন্ট বানানো হয় এই পেজে। আবহাওয়া নিয়ে ভুয়া পোস্ট নিয়ে পেজটির অ্যাডমিন বশিরুল আলম তপন বলেন, শুধু তাঁরা নন বড় বড় পেজগুলো এটি পোস্ট করেছে। তিনি বলেন, ‘মডারেটর দিয়েছে তাই পোস্ট করা হয়েছে। পোস্ট যদি ভুয়া হয় তাহলে তাদের ভুল হয়েছে।’

 

আবহাওয়ার এই সতর্কবার্তার পোস্ট নিয়ে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। অধিদপ্তর বলেছে, এটি পুরোপুরি ভুয়া ও বিভ্রান্তিকর। আসলে, ‘বেসামরিক প্রতিরক্ষা অধিদপ্তর’ নামে বাংলাদেশে কোনো সরকারি প্রতিষ্ঠানই নেই। ফলে এই নামে প্রচারিত সতর্কবার্তার কোনো বিশ্বাসযোগ্যতা নেই।

 

বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক মো. মমিনুল ইসলাম এই বার্তাকে ‘সর্বৈব ভুয়া, মিথ্যা ও ক্ষতিকর’ বলেছেন। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার কোনো রেকর্ড নেই এবং বাস্তব পরিস্থিতিতে এমন তাপমাত্রা হওয়ার সম্ভাবনাও নেই।’ এ ধরনের গুজব ছড়ানো জনমনে অযথা আতঙ্ক তৈরি করে বলেও তিনি সতর্ক করেন।

আবহাওয়া অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ২৭ থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে তাপমাত্রা আরও বেড়ে যাওয়ার বদলে কিছুটা কমতে পারে।

ভুয়া সতর্কবার্তাটিতে আরও বলা হয়েছে, অতিরিক্ত গরমে মোবাইল ফোন বিস্ফোরিত হতে পারে, গাড়িতে বিভিন্ন জিনিস না রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে এবং সাপ-বিছা বেরিয়ে আসার আশঙ্কার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসব তথ্যের বেশির ভাগই অতিরঞ্জিত এবং বৈজ্ঞানিক ভিত্তিহীন।

মো. মমিনুল ইসলাম বলেন, কে বা কারা এসব বার্তা ছড়িয়েছে তাঁদের চিহ্নিত করা উচিত এবং দেশের প্রচলিত আইনে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের জ্যেষ্ঠ আবহাওয়াবিদ মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিক বলেন, এ ধরনের তথ্য ছড়ানো খুবই ক্ষতিকর। যে সময়ে ৪৫ থেকে ৫০ ডিগ্রি তাপমাত্রার কথা বলা হচ্ছে, সেই সময়ে তাপমাত্রা ৩৫ থেকে ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকতে পারে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক জনগণকে এমন ভুয়া বার্তা শেয়ার না করার জন্য আহ্বান জানিয়েছে।

দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোয় হামলার আশঙ্কা নিয়ে সতর্কতামূলক নির্দেশনা জারি করেছে পুলিশ সদর দপ্তর। নিষিদ্ধঘোষিত একটি উগ্রবাদী সংগঠনের সদস্যের সঙ্গে একটি বাহিনীর চাকরিচ্যুত দুই সদস্যের যোগাযোগের তথ্য পাওয়ার পর এই নির্দেশনা জারি করা হয়।

২৩ এপ্রিল পুলিশ সদর দপ্তর থেকে দেশের বিভিন্ন ইউনিটে এ–সংক্রান্ত একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে।

চিঠিতে বলা হয়, সম্প্রতি গ্রেপ্তার হওয়া নিষিদ্ধঘোষিত উগ্রবাদী সংগঠনের সদস্য ইসতিয়াক আহম্মেদের (যিনি সামী, আবু বক্কর ও আবু মোহাম্মদ নামেও পরিচিত) সঙ্গে একটি বাহিনীর চাকরিচ্যুত দুই সদস্যের নিয়মিত যোগাযোগের বিষয়ে তথ্য পাওয়া গেছে। তাঁদের কর্মকাণ্ড দেশের সার্বিক নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করছে পুলিশ।

পুলিশ সদর দপ্তরের চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জাতীয় সংসদ ভবন, বাংলাদেশ পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্য বা স্থাপনা, ধর্মীয় উপাসনালয়, বিনোদনকেন্দ্র, শাহবাগ চত্বরসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় বোমা বিস্ফোরণ বা ধারালো অস্ত্র ও আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করে হামলার পরিকল্পনা করতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে।

পাশাপাশি বিভিন্ন বাহিনীর অস্ত্রাগারে হামলার পরিকল্পনাও তারা নিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা জোরদার করার জন্য সংশ্লিষ্ট ইউনিটগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে নজরদারি বাড়ানো এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে পুলিশের কোনো কর্মকর্তা আনুষ্ঠানিকভাবে বক্তব্য দিতে রাজি হননি। তবে পুলিশ সদর দপ্তরের একাধিক সূত্র এবং মাঠপর্যায়ের কয়েকজন কর্মকর্তা চিঠি পাঠানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, সাম্প্রতিক সময়ে প্রাপ্ত গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলায় আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

  • জুলাই শহীদ পরিবারের পাশাপাশি জুলাই যোদ্ধারাও পাবেন সহায়তা।
  • নিম্ন আদালত থেকে আপিল বিভাগ পর্যন্ত বিনা মূল্যে আইনি সহায়তা।
  • বাদী ও আসামি—উভয় অবস্থাতেই সহায়তা পাওয়ার সুযোগ।
  • দরিদ্র, নারী-শিশু, শ্রমিকসহ ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠী আগেই সুবিধার আওতায় ছিল।

ঢাকা

বিএনপির বহিষ্কৃত নেতা ইসহাক সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় নাগরিক পার্টিতে (এনসিপি) যোগ দিয়েছেন। এ ছাড়া অবিভক্ত বাংলার মুখ্যমন্ত্রী শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হকের নাতনি ফেরসামিন হক ইকবাল (ফ্লোরা), কনটেন্ট ক্রিয়েটর নুরুজ্জামান কাফি ও আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রেলের অনিয়ম নিয়ে আন্দোলন করে আলোচনায় আসা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী মহিউদ্দিন রনিও এনসিপিতে যোগ দিয়েছেন।

আজ শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর কাকরাইলে ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশে (আইডিইবি) এক অনুষ্ঠানে তাঁরা এনসিপিতে যোগ দেন। ‘রাজনৈতিক নেতা ও নাগরিকদের এনসিপিতে যোগদান’ শীর্ষক এ অনুষ্ঠানে এনসিপির আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলামসহ দলটির শীর্ষ পর্যায়ের কয়েকজন নেতা উপস্থিত ছিলেন।

ফেরসামিন বিদেশে থাকায় অনুষ্ঠানে সশরীর উপস্থিত থাকতে পারেননি। অন্যরা অনুষ্ঠানের মঞ্চে ছিলেন। নাম ঘোষণার পর ইসহাক সরকার, নুরুজ্জামান কাফি ও মহিউদ্দিন রনিকে ফুল দিয়ে বরণ করে নেন নাহিদ ইসলাম।

এ অনুষ্ঠানে অংশ নিতে বেলা সোয়া তিনটার দিকে আইডিইবিতে এসে পৌঁছান এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ও মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া। এনসিপির নেতা-কর্মীরা তাঁদের স্লোগান দিতে দিতে অনুষ্ঠানস্থলে নিয়ে আসেন।

এর কিছুক্ষণ পর নেতা-কর্মীদের নিয়ে অনুষ্ঠানস্থলে আসেন ইসহাক সরকার। এ সময় নেতা-কর্মীরা ‘পুরান ঢাকার ইসহাক ভাই, আমরা তোমায় ভুলি নাই’, ‘জুলাই যোদ্ধা ইসহাক ভাই, আমরা তোমায় ভুলি নাই’, ‘দুর্দিনের ইসহাক ভাই, আমরা তোমায় ভুলি নাই’, ‘এনসিপি-জনতা, গড়ে তোলো একতা’ ইত্যাদি বলে স্লোগান দেন।

বেলা সাড়ে তিনটায় অনুষ্ঠান শুরু হয়। মঞ্চে ছিলেন এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া।

পবিত্র কোরআন থেকে তিলাওয়াতের মধ্য দিয়ে মূল অনুষ্ঠান শুরু হয়। এরপর জাতীয় সংগীত বাজানো হয়। সবাই দাঁড়িয়ে জাতীয় সংগীতের সঙ্গে কণ্ঠ মেলান। প্রথমে বক্তব্য দেন এনসিপির ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক আলাউদ্দীন মোহাম্মদ ও সদস্যসচিব এস এম শাহরিয়ার। বক্তব্য দেন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৭ আসনে এনসিপির মনোনীত প্রার্থী তারেক আহম্মেদ আদেল।

এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর বক্তব্যের পর বক্তব্য দেন দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। এনসিপিতে যোগদানকারীদের নাম ঘোষণা করে নাহিদ বলেন, ‘এনসিপিতে কেন্দ্রীয়ভাবে যোগ দিচ্ছেন ফেরসামিন হক ইকবাল। তিনি বিদেশে আছেন। তিনি শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হকের নাতনি। বরিশালের কৃতী সন্তান হিসেবে তিনি এনসিপিতে কাজ করবেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পরিচিত মুখ নুরুজ্জামান কাফিকে তরুণ প্রজন্মের প্রতিনিধি হিসেবে এনসিপিতে স্বাগত। জুলাইয়ের সহযোদ্ধা মহিউদ্দিন রনিকেও স্বাগত জানাই। আমরা সবাই এনসিপিতে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে যাব।’

ইসহাক সরকারকে এ আয়োজনের প্রধান আকর্ষণ হিসেবে উল্লেখ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘ইসহাক সরকারকে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার প্রয়োজন নেই। ছাত্রদল, যুবদলে তিনি কেন্দ্রীয়ভাবে নেতৃত্ব দিয়েছেন। ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে তাঁর বিরুদ্ধে অসংখ্য মামলা ছিল। তিনি আমাদের সহযোদ্ধা। তিনি আগে বিরোধী রাজনীতি করেছেন, এখনো বিরোধী রাজনীতিই করবেন।’

এনসিপির আহ্বায়ক আরও বলেন, ‘ইসহাক সরকার আমাদের জন্য অনুপ্রেরণা। ইসহাক সরকার সব সুযোগ-সুবিধাকে একদিকে ঠেলে দিয়ে জনগণ ও তরুণদের পক্ষে দাঁড়িয়েছেন। ইসহাক সরকারের সঙ্গে তাঁর অসংখ্য অনুসারী এনসিপিতে যোগ দিচ্ছেন। তাঁদেরও স্বাগত জানাই।’

এরপর ইসহাক সরকারসহ এনসিপিতে যোগ দেওয়া নেতাদের একে একে ফুল দিয়ে বরণ করে নেন নাহিদ ইসলাম। পরে তিনি ও নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী অন্য একটি অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার উদ্দেশে আইডিইবি থেকে চলে যান। এরপর সাংস্কৃতিক মুক্তিজোটের নেতা মাকসুদুর রহমান সোহেলও এনসিপিতে যোগ দেন। এনসিপির অন্য নেতারা তাঁকেও ফুল দিয়ে বরণ করেন।

ইসহাক সরকারসহ সদ্য এনসিপিতে যোগ দেওয়া ব্যক্তিরা এরপর তাঁদের অনুভূতি প্রকাশ করে বক্তব্য দেন। এনসিপির সংসদ সদস্য আবদুল্লাহ আল আমিন, শীর্ষস্থানীয় নেতা সারজিস আলম ও আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়াও অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন।

এর আগে ১৯ এপ্রিল আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি), ইউনাইটেড পিপলস বাংলাদেশ (আপ বাংলাদেশ) ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ৪৪ জন নেতা এনসিপিতে যোগ দেন। অবশ্য ওই ৪৪ জনের অধিকাংশই ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক নেতাদের উদ্যোগে গঠিত রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম আপ বাংলাদেশের নেতা-কর্মী।

ছুটির দিনে ফিলিং স্টেশনগুলোয় তেলের জন্য লম্বা লাইন আজ শুক্রবার অনেকটাই ছোট। গত কয়েক দিনের তুলনায় লাইনের দৈর্ঘ্য কমে এসেছে।

সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রাজধানীর মৎস্য ভবন মোড়ে রমনা ফিলিং স্টেশনে কথা হয় মোটরসাইকেলের রাইড শেয়ারের চালক মোহাম্মদ আলীর সঙ্গে। তেল নেওয়া শেষে তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘গত শনিবার ১০ ঘণ্টা দাঁড়িয়ে ৫০০ টাকার তেল পেয়েছিলাম। কিন্তু আজ মাত্র ১৫ মিনিট দাঁড়িয়ে ১ হাজার টাকার তেল পেলাম। আমার কাছে অবিশ্বাস্য মনে হচ্ছে, লাইন এত কমে যাবে কল্পনাও করিনি।’

মোটরসাইকেল ও প্রাইভেট কারের লাইন দেখে চালকেরা বলছেন এটি অবিশ্বাস্য। তাঁরা কল্পনাও করেনি এত দ্রুত তেলের এই লাইন কমতে পারে।

আজ রাজধানীর শাহবাগ ও মৎস্য ভবন মোড়ের ফিলিং স্টেশন ঘুরে এমন চিত্র দেখা যায়। হঠাৎ লাইন কেন এত কমে গেছে বলে মনে করছেন—এমন প্রশ্নের জবাবে চালক মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘দাম বাড়ানোর জন্য নাটক হইছে, আমার যত সম্ভব মনে হয়। দাম বাড়ার পর হঠাৎ এখন কেন কমে গেল লাইন? সরকার চাইলে আগে থেকে সবকিছু ঠিক করতে পারত।’

তেলের জন্য লাইন একবারে কম। আজ শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রমনা ফিলিং স্টেশনে
তেলের জন্য লাইন একবারে কম। আজ শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রমনা ফিলিং স্টেশনে
 

এই ফিলিং স্টেশনে ২০ মিনিটের ভেতরে তেল পেলেন বলে জানান প্রাইভেট কারের চালক ওমায়ের রহমান। তিনি জানান, অন্যান্য দিন ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় চলে গেছে তেল নিতে। আজকে এত অল্প সময়ে তেল নিতে পারবেন, তা ভাবেননি। দাম বাড়ার কারণে তেলের লাইন কমে গেছে বলে জানান এই চালক।

গত শুক্রবার এই রমনা ফিলিং স্টেশনে আজকের মতো একই সময়ে ৪২২টি মোটরসাইকেল ও ৩৫৮টি প্রাইভেট কার তেলের জন্য অপেক্ষায় দেখা গিয়েছিল। আজ সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটে ৭২টি মোটরসাইকেল ও ২৫টি প্রাইভেট কার তেলের জন্য অপেক্ষায় দেখা গেছে।

পরীবাগের মেঘনা মডেল ফিলিং স্টেশনেও তেলের লাইন ছোট দেখা গেছে। গত শুক্রবার এই ফিলিং স্টেশনে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ৫১৮টি মোটরসাইকেল ও ৪৯৩টি প্রাইভেট কার তেলের জন্য অপেক্ষায় থাকতে দেখা গিয়েছিল। সেখানে আজ বেলা ১১টার দিকে মাত্র ১১২টি মোটরসাইকেল ও ৪২টি প্রাইভেট কার তেলের জন্য অপেক্ষায় থাকতে দেখা গেছে।

এই ফিলিং স্টেশনে তেলের জন্য অপেক্ষায় থাকতে দেখা যায় মোটরসাইকেলচালক সাব্বির মিলনকে। তিনি জানান, গত শুক্রবার তেলের জন্য ৬ ঘণ্টার বেশি সময় অপেক্ষা করেছিলেন। আজ লাইনে দাঁড়িয়েছিলেন ১০ মিনিট। তবে এখনো তেল পাননি। তাঁর সামনে ৬০ থেকে ৭০টি মোটরসাইকেল আছে। আশা করছেন এক ঘণ্টার ভেতরে তেল পেয়ে যাবেন।

লাইনের দৈর্ঘ্য অনেকটাই কমে গেছে। বেলা ১১টার দিকে পরীবাগের মেঘনা মডেল ফিলিং স্টেশন থেকে তোলা
লাইনের দৈর্ঘ্য অনেকটাই কমে গেছে। বেলা ১১টার দিকে পরীবাগের মেঘনা মডেল ফিলিং স্টেশন থেকে তোলা
 

ফুয়েল পাস ছাড়া মোটরসাইকেলে তেল না দেওয়া ও তেলের দাম বাড়ার কারণে লাইন কমে গেছে বলে উল্লেখ করেন এই মোটরসাইকেলচালক। তিনি বলেন, ‘ফুয়েল পাস ছাড়া তেল না দেওয়ার ফলে লাইন অনেকটা কমেছে। এ ছাড়া দাম বাড়ার কারণে আগের মতো অনেকে আর নিতে আসেন না। ফলে এই ভিড়টা কমে গেছে। আশা করি আরও কমে যাবে।’

প্রাইভেট কারের চালক মানিক মিয়া বলেন, ‘আজ লাইনে দাঁড়িয়েছিলাম সকাল সাড়ে ৯টার দিকে। দেড় ঘণ্টার ভেতরে তেল পেলাম। আগে ১ হাজার ৫০০ টাকার তেল পেলেও আজকে ২ হাজার তেল পেয়েছি। সরকার আগে থেকে এসব বিষয়ে গুরুত্ব দিলে আমাদের এত ভোগান্তি পোহাতে হতো না।’

সরকার সরবরাহ বাড়ালে তেলের জন্য লাইন আরও কমে যাবে মনে করেন মোটরসাইকেলচালক হাসিবুল আজম। তিনি জানান, এত দিন যথাযথ ব্যবস্থা না নেওয়ার কারণে ভোগান্তি হয়েছে। সরকার যথাযথ ব্যবস্থা নিলে এ রকম ভোগান্তি সবাইকে পোহাতে হতো না।

বৈশ্বিক জ্বালানিসংকটের মধ্যে এবার দেশের ইতিহাসে জ্বালানি তেলের দাম সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। প্রতি লিটার ডিজেলের দাম ১১৫ টাকা, কেরোসিন ১৩০ টাকা, অকটেন ১৪০ টাকা ও পেট্রলের দাম ১৩৫ টাকা হয়েছে। গত রোববার থেকে নতুন এই দাম কার্যকর হয়েছে। জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর পর ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরে এবং আন্তজেলা বাসের ভাড়া প্রতি কিলোমিটারে ১১ পয়সা বাড়ানো হয়েছে।

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হামের লক্ষণ নিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও ৪৭ শিশু ভর্তি হয়েছে। বর্তমানে চিকিৎসাধীন আছে ৭৭ শিশু।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে আজ শুক্রবার সকাল ৮টা পর্যন্ত হামের লক্ষণ নিয়ে নতুন করে ৪৭ শিশু ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভর্তি হয়েছে।

গত ১৭ মার্চ থেকে আজ সকাল পর্যন্ত হামের লক্ষণ নিয়ে ভর্তি হয় ৭৯৫ জন শিশু। এর মধ্যে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছে ৭০২ শিশু। মৃত্যু হয়েছে ১৬ শিশুর। বর্তমানে চিকিৎসাধীন ৭৭ শিশু। গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছে আরও ৩৫টি শিশু।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে এক-দুজন করে হামের লক্ষণ নিয়ে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিভাগে ভর্তি হতে শুরু করে। মার্চের মাঝামাঝি থেকে রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকে। রোগীদের চিকিৎসায় হাসপাতালে ৬৪ শয্যাবিশিষ্ট পৃথক আইসোলেশন ওয়ার্ড আছে। সেখানে তিনটি মেডিকেল টিম গঠন করে চিকিৎসা চলছে।

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) মোহাম্মদ মাইনউদ্দিন খান বলেন, ২৪ ঘণ্টায় আরও নতুন ৪৭ শিশু হামের লক্ষণ নিয়ে ভর্তি হয়েছে। এ সময়ে কোনো শিশু মারা যায়নি।

সাতক্ষীরার কালিগঞ্জে ৩ হাজার ৩৬০ কেজি অপরিপক্ব ও ক্ষতিকর রাসায়নিক মিশ্রিত আম বাজারজাত করার সময় জব্দ করে ধ্বংস করেছে যৌথ বাহিনী।

বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) বিকেলে উপজেলার ভাড়াশিমলা ইউনিয়নের শুইলপুর এলাকায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সন ও বিজিবির যৌথভাবে এ অভিযান পরিচালিত হয়।

কালিগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন জানায়, ইথিলিন নামক হরমোন ব্যবহার করে অপরিপক্ব আম পাকিয়ে ঢাকায় পাঠানো হচ্ছে—এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালানো হয়। এ সময় ঢাকাগামী একটি পিকআপ তল্লাশি করে ১৬৮ ক্যারেটে থাকা ৩ হাজার ৩৬০ কেজি আম জব্দ করা হয়। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্দেশে জব্দকৃত আমগুলো শুইলপুর বিজিবি ক্যাম্প সংলগ্ন বেড়িবাঁধ সড়কে রোলার দিয়ে পিষে বিনষ্ট করা হয়।

কালিগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাইনুল ইসলাম খান জানান, ক্ষতিকর রাসায়নিক মিশ্রিত আম পরিবহনের দায়ে পিকআপ চালক শাহিন হোসেনকে এক হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত না হওয়ার শর্তে মুচলেকা নিয়ে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

তবে জব্দকৃত আমে ঠিক কী ধরনের রাসায়নিক ছিল, তার মাত্রা কতটুকু এবং তা পরীক্ষাগারে যাচাই করা হয়েছিল কি না। এ বিষয়ে স্পষ্ট করে কিছু জানানো হয়নি। এ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

 

ভয়াল রানা প্লাজা ট্রাজেডির ১৩ বছর আজ। আজকের এদিনে ঘটে যায় দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় দুর্ঘটনা। প্রাণ ঝড়ে হাজারেরও বেশি পোশাক শ্রমিকের। তবে অবহেলায় হাজারো প্রাণ হত্যার বিচার এখনও অনিশ্চিত। সর্বোচ্চ আদালত নির্দেশ দিলেও সাক্ষীই হাজির করতে পারছে না পুলিশ। এদিকে নিহতদের পরিবার তাদের স্বজন ও স্বপ্ন হত্যার বিচার চান। 

২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল। সকাল বেলা, কোনো কিছু বুঝে উঠার আগেই কয়েক হাজার শ্রমিক নিয়ে ধসে পড়ে সাভারের রানা প্লাজা। চার্জশিট অনুযায়ী দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় দুর্ঘটনায় প্রাণ হারায় ১১৩৬ জন। গুরুতর আহত হয় কয়েক হাজার পোশাক শ্রমিক। এমন ভয়াবহ দুর্ঘটনায় বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পের কর্মপরিবেশ ও নিরাপত্তা নিয়ে উঠে বড় প্রশ্ন। নচে চড়ে বসে গোটা বিশ্ব। যদিও সেই ঘটনার কেটে গেছে ১৩ টি বছর। সেদিন সকালের ভয়াবহ স্মৃতি এখনো তাজা আহতদের কাছে। 

রানা প্লাজা ধসের ঘটনায় হাজারো প্রাণ হত্যায় অবহেলার অভিযোগের প্রমাণ পাওয়া যায়। ২০১৫ সালে ভবন মালিক সোহেল রানাসহ ৪১ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেয় সিআইডি। ঢাকার জেলা জজ আদালতে মামলাটির বিচার শুরু হয় ২০১৬ তে। যদিও এরপর একের পর এক আসামি, বিচার স্থগিত চেয়ে হাইকোর্টে যাওয়ায় মামলাটির বিচার থমকে থাকে ২০২২ পর্যন্ত। পরে নানা চড়াই উতরাই পেরিয়ে আবারও শুরু হয় মামলার কার্যক্রম। 

রানা প্লাজা ধসের ঘটনায় করা হত্যা মামলায় সাক্ষী করা হয় ৫৯৪ জনকে। কিন্তু এখন পর্যন্ত সাক্ষ্য দিয়েছেন মাত্র ১৪৫ জন। গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষীদের আদালতে উপস্থিত করতে বারবার আদেশ দিলেও সাক্ষী হাজির করতে পারছে না পুলিশ। দেশের সর্বোচ্চ আদালতের আপিল বিভাগ ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে, ৬ মাসের মধ্যে মামলা শেষ করতে নির্দেশ দিলে তাতেও কর্ণপাত করেননি সাক্ষী, পুলিশ, বিচারক কেউই। 

এদিকে মামলার একমাত্র গ্রেফতার আসামি সোহেল রানার আইনজীবী এখনও মনে করেন রানা নির্দোষ। বলেন, অন্যায়ভাবে আটকে রাখা হয়েছে তাকে। এমন নৃশংস ঘটনার বিচার নিয়েও এখন তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। আগামী ৩০ এপ্রিল এ মামলায় ফের সাক্ষ্যগ্রহণ হওয়ার কথা রয়েছে। যদি রাষ্ট্রপক্ষ আদালতে সাক্ষী হাজির করতে পারে তবেই মামলাটি নিষ্পত্তির দিকে এগিয়ে যাবে। 

এদিকে, সাভারে রানা প্লাজা ধসে নিহত শ্রমিকদের ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন আহত শ্রমিক, নিহত শ্রমিকদের স্বজন, শিল্প পুলিশ ও বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের নেতা-কর্মীরা। শুক্রবার সকালে ধসে পড়া রানা প্লাজার সামনে নির্মিত অস্থায়ী স্মৃতিস্তম্ভে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। এসময় আহত ও নিহত শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণ দাবি করেন তারা। পাশাপাশি শ্রমিক হত্যার সঙ্গে জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানায় বিভিন্ন সংগঠন। 

সকালে দিবসটি উপলক্ষ্যে রানা প্লাজার সামনে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে শ্রমিক সংগঠনগুলো।

ঢাকার ধামরাইয়ে ঘরে ঢুকে এসএসসি পরীক্ষার্থী নাহিদা আক্তারকে (১৬) কুপিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। 

বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) বিকেলে পৌরসভার লাকুড়িয়াপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। 

নিহত নাহিদা আক্তারের মা লিজা আক্তার একজন প্রবাসী আর বাবা নুর হোসেন বরিশালে থাকেন। তিনি নানীর সঙ্গে থাকেন এবং ধামরাই সেন্ট্রাল স্কুলের বানিজ্য বিভাগ থেকে চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছিলেন। 

নিহত নাহিদার পরিবারের সদস্যরা জানান, ঘটনার দিন বিকেলে নাহিদা আক্তার নিজ ঘরে পড়াশোনা করছিলেন। একপর্যায়ে নানী দুধ আনার জন্য বাইরে যান। যাওয়ার আগে তিনি নাহিদাকে ভেতর থেকে ঘরের দড়জা বন্ধ রাখতে এবং তিনি না ফেরা পর্যন্ত অপরিচিত কেউ আসলে দরজা না খোলার নির্দেশ দেন। এরপর বাইরে থেকে ফিরে এসে দেলোয়ারা বেগম ঘরের দরজা খোলা এবং রান্না ঘরে রক্তাক্ত অবস্থায় নাহিদাকে পরে থাকতে দেখে চিৎকার করলে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসেন। পরে নাহিদাকে স্থানীয় একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখান থেকে সাভারের গণস্বাস্থ্য সমাজভিত্তিক মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। 

নিহতের নানী দেলোয়ারা বেগম বলেন, দুধ আনতে গেছিলাম। যাওয়ার আগে দরজার সামনে খারাইয়া (দাঁড়িয়ে) ছিলাম যাতে ভেতর থিকা ছিটকিনি দেয়। কইয়া গেছিলাম কেউ আইলে দড়জা খুলবা না, আমি আইলে আর মামারা আইলে খুলবা। তখন ও বলে নানু আমার গোসল করতে একঘন্টা দেড়ঘন্টা লাগবে তুমি একঘন্টা দেড়ঘন্টা পরে আইয়ো। ফিরা আইয়া দেখি দুয়ার মেলা (দরজা খোলা)। চুলার পাড়ে দেখি লাম্বা হইয়া পইরা রইছে। দেহি কানেরতা নাইকা গলার চেইনও নাইকা। 

নিহতের মামা মো. খোকন বলেন, আম্মা (নিহতের নানী) বাসার বাইরে দুধ আনতে যান। দুধ নিয়ে বাসায় এসে দেখেন ফ্লোরে নাহিদা রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। পরে তাকে প্রথমে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়, সেখান থেকে সাভারের গণস্বাস্থ্য সমাজভিত্তিক মেডিকেল কলেজে নিলে ডাক্তার নাহিদাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ধামরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হুদা খান বলেন, সন্ধ্যা ৭টা ৫০ মিনিটের দিকে একজন সংবাদকর্মীর মাধ্যমে ঘটনাটি জানতে পারি। তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোসহ এ ঘটনায় পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন। আশা করছি দ্রুতই ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে।

 

চট্টগ্রাম ও মিকেল চাকমা, রাঙামাটি