যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তি প্রসঙ্গে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির বলেন, ‘কোনো চুক্তিই চূড়ান্ত নয়। প্রতিটি চুক্তিতে সংশোধন ও পুনরায় আলোচনার সুযোগ থাকে। ভবিষ্যতে প্রয়োজন হলে আলোচনা করে বাণিজ্যচুক্তিতে পরিবর্তন আনা সম্ভব।’

আজ বুধবার সকালে সফররত যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী পল কাপুরের সঙ্গে বৈঠক করেন খন্দকার আবদুল মুক্তাদির। বৈঠক শেষে তিনি সাংবাদিকদের এ কথা বলেন।

খন্দকার আবদুল মুক্তাদির আরও বলেন, চুক্তি নিয়ে অতিরিক্ত উদ্বিগ্ন হওয়ার প্রয়োজন নেই। সরকার বিষয়টি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করছে এবং দেশের স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।

সচিবালয়ে বাণিজ্যমন্ত্রীর অফিসকক্ষে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। গত ৯ ফেব্রুয়ারি মার্কিন পাল্টা শুল্ক ইস্যুতে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বাণিজ্যচুক্তি হয়।

আজকের বৈঠকে দুই দেশের মধ্যকার বিদ্যমান বাণিজ্য সম্পর্ক আরও জোরদার করা এবং নতুন নতুন খাতে বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

বৈঠক শেষে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বাণিজ্যচুক্তি নিয়ে পৃথক কোনো আলোচনা হয়নি। এই চুক্তি ইতিমধ্যে স্বাক্ষরিত হয়েছে এবং এটি দুই দেশের মধ্যে একটি রাষ্ট্রীয় চুক্তি। ফলে এ নিয়ে নতুন করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কিছু নেই।

চুক্তিটি বাংলাদেশের স্বার্থের বিরুদ্ধে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে খন্দকার আবদুল মুক্তাদির বলেন, যেকোনো আন্তর্জাতিক চুক্তিতে দুই পক্ষেরই কিছু দাবি থাকে। কিছু ধারা এক পক্ষের অনুকূলে থাকে, আবার কিছু ধারা অন্য পক্ষের জন্য সুবিধাজনক হয়। আলোচনার মাধ্যমে একটি উইন-উইন পরিস্থিতিতে পৌঁছানোর চেষ্টা করা হয়।

খন্দকার আবদুল মুক্তাদির বলেন, এই চুক্তিকে এখনই পুরোপুরি নেতিবাচক বা ইতিবাচক হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এটি একটি বাস্তবতা এবং ভবিষ্যতে বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদারে এর অনেক ধারা কাজে লাগানো যাবে।

খন্দকার আবদুল মুক্তাদির আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চ আদালতের ট্যারিফসংক্রান্ত রায়ের পর পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। বিষয়টি এখনো বিকাশমান।

খন্দকার আবদুল মুক্তাদির জানান, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং ডিজিটাল অবকাঠামো উন্নয়নে সহযোগিতাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে নির্দিষ্টভাবে চুক্তি নিয়ে আলাদা কোনো আলোচনা হয়নি।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে খন্দকার আবদুল মুক্তাদির বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্টের পাঠানো অভিনন্দন বার্তায় বাণিজ্য ও সামরিক বিষয়সংক্রান্ত কিছু বিষয় উল্লেখ থাকলেও, তা নিয়ে বৈঠকে কোনো আলোচনা হয়নি। তিনি আরও বলেন, সামরিক বিষয় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের আওতাভুক্ত নয়।

ভিসা বন্ড প্রসঙ্গে খন্দকার আবদুল মুক্তাদির জানান, বিষয়টি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দেখবে। সরকার চায় দুই দেশের ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীরা যেন সহজে যাতায়াত করতে পারেন এবং কোনো বাধার মুখে না পড়েন।

নতুন সরকারের সঙ্গে কাজ চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ইতিবাচক আশ্বাস পাওয়া গেছে বলেও জানান বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির। তিনি বলেন, কিছু নন-ট্যারিফ বাধা দূর করা গেলে বাংলাদেশে মার্কিন বিনিয়োগ আরও বাড়বে। এতে দেশটি বিদেশি বিনিয়োগের জন্য আরও আকর্ষণীয় হবে।

বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম, বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেন, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবুর রহমান, অতিরিক্ত সচিব মো আবদুর রহিম খান, অতিরিক্ত সচিব খাদিজা নাজনীন এ সময় বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

ঢাকা

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার মন্ত্রিসভার আট প্রতিমন্ত্রীর দফতর পুনর্বণ্টন করে দিয়েছেন। রুলস অব বিজনেসের ক্ষমতাবলে তাদের দফতর বণ্টন করেছেন প্রধানমন্ত্রী। বুধবার (৪ মার্চ) এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।

বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা মো. শরীফুল আলমকে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়; কৃষি মন্ত্রণালয়, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় এবং খাদ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা সুলতান সালাউদ্দিন টুকুকে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়, রেলপথ মন্ত্রণালয় এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা হাবিবুর রশিদকে রেলপথ মন্ত্রণালয় এবং সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ; সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়, রেলপথ মন্ত্রণালয় এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা মো. রাজিব আহসান নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় এবং সেতু বিভাগের দায়িত্ব পেয়েছেন।

এর আগে, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়, রেলপথ মন্ত্রণালয় ও নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাওয়া দুই প্রতিমন্ত্রীর দফতর ভাগ করে দিতে গত ২৬ ফেব্রুয়ারি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে চিঠি দেওয়া হয় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় থেকে। সে অনুযায়ী তাদের দায়িত্ব বন্টন করে আজ প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

এদিকে, অর্থ মন্ত্রণালয় এবং পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকিকে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়; মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা ফারজানা শারমীনকে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা মো. নুরুল হককে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা ববি হাজ্জাজকে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে রেখেছেন প্রধানমন্ত্রী।

সংযুক্ত আরব আমিরাতে আটকে পড়া বাংলাদেশিদের ফিরিয়ে আনতে ঢাকা-দুবাই-ঢাকা রুটে দুইটি বিশেষ ফ্লাইট পরিচালনার ঘোষণা দিয়েছে ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্স। আমেরিকা ও দুবাইয়ের অনুমতি সাপেক্ষে ফ্লাইটগুলো পরিচালিত হবে।

প্রথম ফ্লাইটটি শাহজালাল বিমানবন্দর থেকে আজ বুধবার (৩ মার্চ) সন্ধ্যা ৭টা ২০ মিনিটে দুবাইয়ের উদ্দেশে রওনা দেওয়ার কথা রয়েছে। একই ফ্লাইট দুবাই থেকে স্থানীয় সময় রাত ১২টা ২০ মিনিটে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেওয়ার সময় ঠিক করা হয়েছে।

আগামীকাল বৃহস্পতিবার ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বিকেল ৫টা ১৫ মিনিটে দুবাইয়ের উদ্দেশে অপর বিশেষ ফ্লাইটটি উড্ডয়ন করার কথা। একই ফ্লাইট দুবাই থেকে স্থানীয় সময় রাত ১০টায় ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হবে।

প্রবাসীদের সাথে আটকেপড়া বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ক্রুদেরও ফিরিয়ে আনা হবে।

নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ ইউনিয়ন ভূমি অফিসে বুধবার (৪ মার্চ) সকাল ৯টা ১০ মিনিটের দিকে আকস্মিক পরিদর্শনে যান ভূমি প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। তিনি অফিসে ঢুকে দেখেন কোনো কর্মকর্তা অফিসে আসেননি।

পরে প্রতিমন্ত্রী প্রায় আধাঘণ্টা ভূমি অফিসের বারান্দায় বসে অপেক্ষা করেন। নির্ধারিত সময়ে ভূমি অফিসের কাউকে না পেয়ে ক্ষোভ জানান তিনি।

এ সময় প্রতিমন্ত্রী বলেন, এ ধরনের ঘটনা অনাকাঙ্ক্ষিত। যারা দায়িত্বে অবহেলা করবেন তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার জনগণের জন্য কাজ করবে। এতে কোনো অনিয়ম-দুর্নীতি হলে তা মেনে নেওয়া হবে না।

 

সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়ার ব্যাংক হিসাবের তথ্য তলব করেছে বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)। সোমবার বিএফআইইউর পক্ষ থেকে দেশের সব ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে এ বিষয়ে চিঠি পাঠানো হয়।

চিঠিতে আগামী তিন কর্মদিবসের মধ্যে আসিফ মাহমুদের ব্যক্তিগত ব্যাংক হিসাবের সব তথ্য নথিভুক্ত করে বিএফআইইউতে পাঠানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ৮ আগস্ট অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়। ওই সরকারে জুলাই অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া ছাত্রদের প্রতিনিধি হিসেবে তিনজন উপদেষ্টা হয়েছিলেন। তাঁদের একজন ছিলেন আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া। প্রথমে তিনি শ্রম মন্ত্রণালয় এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন। পরে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে গত বছর ১০ ডিসেম্বর উপদেষ্টার পদ ছাড়েন আসিফ মাহমুদ। পরে তিনি জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন।

আসিফ মাহমুদ আরও বলেন, ‘যেভাবে এটি (ব্যাংক হিসাবের তথ্য তলব) প্রকাশ করা হয়েছে, তা আইনসম্মত হলো কি না, সেই প্রশ্ন উঠছে। আমি নিজেই আগামীকাল নিজের ব্যাংক স্টেটমেন্ট উন্মুক্ত করে দেব।’

বিষয়টি নিয়ে রাতে ফেসবুকে এক পোস্টে আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘আগামীকাল আমি নিজেই ব্যাংক স্টেটমেন্ট সবার জন্য উন্মুক্ত করবো। পদত্যাগের আগেই আয়-সম্পদের হিসাব মন্ত্রিপরিষদ বিভাগকে দিয়ে এসেছি।’

গত ১০ ফেব্রুয়ারি উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে অন্তর্বর্তী সরকার। তাতে দেখা যায়, আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়ার ২০২৫ সালের ৩০ জুনের তথ্য অনুযায়ী মোট সম্পদ ১৫ লাখ ৩৪ হাজার ৭১৭ টাকা এবং তাঁর দায় ২৮ হাজার ৬৬৯ টাকা। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে তাঁর টিআইএন ছিল না বলে উল্লেখ করা হয়।

নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লায় জামায়াতের ইফতার অনুষ্ঠানে বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেমকে ‘ফ্যাসিস্টদের দোসর’ বলে মন্তব্য করায় অবরুদ্ধ করা হয় সংসদ সদস্য আব্দুল্লাহ্ আল আমিনকে। প্রায় দুই ঘণ্টা পর আজ মঙ্গলবার রাত আটটার দিকে পুলিশ গিয়ে তাঁকে উদ্ধার করে।

পঞ্চবটি বিসিক শিল্পনগরী এলাকায় এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে জামায়াতে ইসলামী পেশাজীবী ফোরাম নারায়ণগঞ্জ পূর্ব থানা।

আব্দুল্লাহ্ আল আমিন নারায়ণগঞ্জ-৪ (সদর উপজেলার একাংশ) আসনের সংসদ সদস্য। তিনি জাতীয় নাগরিক পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সদস্যসচিব। তিনি এ আসনে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১–দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের প্রার্থী হয়ে নির্বাচিত হয়েছেন।

জাতীয় পার্টি–দলীয় সাবেক সংসদ সদস্য সেলিম ওসমান বিকেএমইএ সভাপতি থাকাকালে ওই কমিটির নির্বাহী সভাপতি ছিলেন মোহাম্মদ হাতেম। চব্বিশের গণ–অভ্যুত্থানের পর নিটওয়্যার প্রস্তুতকারকদের এই সংগঠনের সভাপতি নির্বাচিত হন মোহাম্মদ হাতেম।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, আজ বিকেলে ওই ইফতার অনুষ্ঠানে সংসদ সদস্য আব্দুল্লাহ্ আল আমিন ও মোহাম্মদ হাতেম আমন্ত্রিত অতিথি ছিলেন। অনুষ্ঠানের শেষের দিকে সংসদ সদস্য আব্দুল্লাহ্ আল আমিন এসে উপস্থিত হন এবং তিনি মঞ্চে বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেমকে দেখে ‘ফ্যাসিস্টদের দোসর’ হিসেবে অভিহিত করে সেখানে বসতে অস্বীকৃতি জানান। তাঁর এই বক্তব্যে বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেমসহ তাঁর অনুসারী ব্যবসায়ীদের নিয়ে ইফতার অনুষ্ঠান বর্জন করেন। সেখানে সংসদ সদস্য আব্দুল্লাহ্ আমিনকে অবরুদ্ধ করেন মোহাম্মদ হাতেমের অনুসারী ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বিএনপি নেতা–কর্মীরা। এ সময় উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে পুলিশ রাত আটটার দিকে আব্দুল্লাহ্ আল আমিনকে উদ্ধার করে নিয়ে যায়।

এ বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক সার্কেল) মো. হাসিনুজ্জামান বলেন, একটি ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠানে সংসদ সদস্যের বক্তব্য ঘিরে বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম ইফতার অনুষ্ঠান থেকে ওয়াক আউট করেন। এ সময় সেখানে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। অতিরিক্ত পুলিশ গিয়ে এমপি মহোদয়কে নিরাপত্তা দিয়ে তাঁর কার্যালয়ে নিয়ে যান।

প্রশাসনের কাছে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি এমপির

ওই ঘটনার পর মঙ্গলবার রাতে সংসদ সদস্য আব্দুল্লাহ্ আল আমিন জেলা এনসিপি কার্যালয়ে তাৎক্ষণিক সংবাদ সম্মেলন করেন। তিনি অভিযোগ করেন, ‘বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম সাহেব ফ্যাসিস্টদের দোসর। তাই তাঁর সঙ্গে মঞ্চে বসতে অস্বীকৃতি জানিয়ে দর্শকসারিতে বসি। এর জেরে মোহাম্মদ হাতেম ও তাঁর অনুসারীরা অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করেন। ইফতারের পর মোহাম্মদ হাতেমের অনুসারীরা দেশি অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে আমাদের নেতা–কর্মীদের ওপর হামলার হুমকি দেন এবং পাঁচজন নেতা–কর্মীকে আহত করেন।’

আব্দুল্লাহ্ আল আমিন আরও বলেন, ‘ফ্যাসিস্টকে কোনোভাবে পুনর্বাসন দেখতে চাই না। জনগণ গুন্ডামি চায় না। যারা মব করেছে, দেশি অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে অবস্থান নিয়েছে, অবশ্যই প্রশাসনকে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। ফ্যাসিস্টদের যেভাবে ছাত্র-জনতা বিতাড়িত করেছে, প্রয়োজনে ছাত্র-জনতা আবার ফ্যাসিস্টদের বিরুদ্ধে রাজপথে নামবে।’

‘শিল্পমালিকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছিল’

এ বিষয়ে বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম সাংবাদিকদের বলেন, ‘ওই অনুষ্ঠানে আমাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। সেখানে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নেতারও ছিলেন। আমাদের এমপি আব্দুল্লাহ্ আল আমিন মহোদয় তাঁর বক্তব্যের একপর্যায়ে আমাকে ফ্যাসিবাদের দোসর বলে সম্বোধন করলে উপস্থিত শিল্পমালিকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছিল। এরপর আমি মালিকদের নিয়ে অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করি। আমরা বের হয়ে চলে যাওয়ার পর, উনারা (শিল্পমালিকেরা) আয়োজকদের কাছে জানতে চান, কেন আমাদের দাওয়াত দিয়ে ডেকে এনে আমাদের সভাপতিকে অপমান করা হলো। এর পরিপ্রেক্ষিতে এখানে আরও মালিকেরা জড়ো হন।’

মোহাম্মদ হাতেম আরও বলেন, ‘আমি এসপি সাহেবকে জানাই, আমাদের সংসদ সদস্যকে নিরাপদে যাতে সরিয়ে নেওয়া হয়। আমাদের ব্যবসায়ী নেতাদের সেখানে পাঠিয়েছি এবং পুলিশকে অনুরোধ করেছি, উনাকে কোনোভাবেই যেন অসম্মানিত না করা হয়। পরে অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের উপস্থিতিতে উনাকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়।’

তিন দিনের সফরে ঢাকায় পৌঁছেছেন দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী পল কাপুর।

মঙ্গলবার (৩ মার্চ) রাতে তিনি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান।

খসড়া সূচি অনুযায়ী, বুধবার (৪ মার্চ) সকালে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে বৈঠক করবেন পল কাপুর। এছাড়া, এই সফরে তিনি যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশের কৌশলগত সম্পর্ক আরও জোরদার করতে সরকারি কর্মকর্তা ও ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দের সঙ্গে বৈঠক করবেন।

গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে ভারতীয় বংশোদ্ভূত পল কাপুরকে দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী পদের জন্য মনোনীত করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন সিনেটের পররাষ্ট্র সম্পর্কবিষয়ক কমিটিতে অনুমোদনের পর গত অক্টোবরে তার নিয়োগ চূড়ান্ত হয়।

ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর গত দুইদিনে ইরান পরিচালিত পাল্টা হামলা 'অপারেশন ট্রু প্রমিজ-৪'-এ অন্তত ৬৫০ মার্কিন সেনা হতাহত হয়েছে।

মঙ্গলবার (৩ মার্চ) আইআরজিসির বরাত দিয়ে এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে ইরানের বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সি।

প্রতিবেদনে বলা হয়, যুদ্ধের প্রথম দুই দিনে ৬৫০ জন আমেরিকান সেনা নিহত বা আহত হয়েছে। ইরানি গোয়েন্দা সংস্থা ও যুদ্ধক্ষেত্র থেকে পাওয়া খবরের ওপর ভিত্তি করে সংখ্যা নিশ্চিত করেছে বলে দাবি আইআরজিসির।

যদিও ইরানের এসব দাবিকে ভিত্তিহীন আখ্যা দিয়েছে ওয়াশিংটন। এতো ক্ষয়ক্ষতির কোনো তথ্য দেয়নি উপসাগরীয় দেশগুলোও।

চুক্তি ভিত্তিতে চার মন্ত্রণালয় ও বিভাগে চারজন সচিব নিয়োগ দিয়েছে সরকার। আজ মঙ্গলবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের চারটি পৃথক প্রজ্ঞাপনে এই নিয়োগের কথা জানানো হয়। তাঁরা সবাই অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা।

নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত সচিবদের মধ্যে মো. শহীদুল হাসানকে স্থানীয় সরকার বিভাগে, রফিকুল আই মোহাম্মদকে কৃষি মন্ত্রণালয়ে, আবদুল খালেককে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগে এবং মো. কামরুজ্জামান চৌধুরীকে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। সবাইকে এক বছরের জন্য চুক্তিতে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

এর আগে গত রোববার মুন্সী আলাউদ্দিন আল আজাদকে এক বছরের জন্য চুক্তিতে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সচিব করা হয়।

কিছুদিন ধরেই জনপ্রশাসনে সচিব পর্যায়ে পরিবর্তন করছে নতুন সরকার। কারও কারও চুক্তি বাতিল করা হয়েছে। আবার কয়েকজন সচিবকে সরিয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হয়েছে।

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবদুল মোমেন পদত্যাগ করেছেন।

এ ছাড়া দুদকের দুই কমিশনার মিঞা মুহাম্মদ আলি আকবার আজিজী ও ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) হাফিজ আহ্‌সান ফরিদও পদত্যাগ করেছেন।

আজ মঙ্গলবার বেলা আড়াইটার পরপর দুদকের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবদুল মোমেনকে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের দিকে যেতে দেখা যায়। এ সময় তাঁর হাতে একটি কাগজ ছিল।

দুদকের দুই কমিশনার মিঞা মুহাম্মদ আলি আকবার আজিজী (বাঁয়ে) ও ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) হাফিজ আহ্‌সান ফরিদ
দুদকের দুই কমিশনার মিঞা মুহাম্মদ আলি আকবার আজিজী (বাঁয়ে) ও ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) হাফিজ আহ্‌সান ফরিদ, ছবি: দুদকের ওয়েবসাইট
 

একই সময়ে দুদকের কমিশনার মিঞা মুহাম্মদ আলি আকবার আজিজীও মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের দিকে যান। অল্প কিছুক্ষণ পর বেলা পৌনে তিনটার দিকে তাঁরা বেরিয়ে আসেন।

গাড়িতে ওঠার সময় আবদুল মোমেনের কাছে তাঁর পদত্যাগের বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়। তবে তিনি স্পষ্ট করে কিছু বলেননি।

পরে আলি আকবার আজিজীর কাছে জানতে চাইলে তিনি তিনজনের পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

আলি আকবার আজিজী তাঁকে বহনকারী গাড়ি থেকে দুদকের পতাকা নামানো দেখিয়ে বলেন, ‘এই যে আমি ফ্ল্যাগ ডাউন করে দিয়েছি।

রাজধানীর তেজগাঁও শিল্পাঞ্চলে অবস্থিত ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের লতিফ ছাত্রাবাসে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। গতকাল সোমবার দিবাগত রাত একটার দিকে এ সংঘর্ষ হয়। এতে অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। তাঁদের মধ্যে চারজনের আঘাত গুরুতর বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় ছাত্রদল ও ছাত্রশিবির পরস্পরকে দোষারোপ করছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ক্যাম্পাসে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে প্রথমে বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। পরে তা পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষে রূপ নেয়। একপর্যায়ে দেশি অস্ত্র নিয়ে লতিফ ছাত্রাবাসের কক্ষে ঢুকে হামলার ঘটনা ঘটে। এতে কয়েকজন শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হন।

সংঘর্ষের জেরে রাতভর ক্যাম্পাসে উত্তেজনা বিরাজ করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) ইবনে মিজান সাংবাদিকদের বলেন, মধ্যরাতে লতিফ ছাত্রাবাসে ছাত্রদের মধ্যে মারামারির খবর পাওয়া যায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। এ ঘটনায় চারজন গুরুতর আহত হয়েছেন। এ ছাড়া আরও কয়েকজনের আহত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে।

গতকাল রাতে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের সংঘর্ষের ঘটনা নিয়ে তাঁর ফেসবুকে একটি পোস্ট দেন। পোস্টে তিনি বলেন, শিবিরের সন্ত্রাসীরা দেশি অস্ত্র নিয়ে লতিফ ছাত্রাবাসের কক্ষে ঢুকে ছাত্রদল ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা করেছে। কক্ষের ভেতরে ঢুকে ছাত্রদলের একজন সহযোদ্ধাকে রামদা দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করেছে। অনেকেই আহত হয়েছেন। ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিটিউটে সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়ে শিবিরের সন্ত্রাসীদের প্রতিহত করা হবে। শিবিরের সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার ও বিচার দাবি করেছেন তিনি। ছাত্রদলের রক্ত ঝরালে রক্তের বদলা নেওয়া হবে। বিগত সাড়ে ১৫ বছর ছাত্রদলের রক্ত ঝরেছে। বিগত দেড় বছর প্রতিটি ক্যাম্পাসে ছাত্রদল মবের শিকার হয়েছে। আজও পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে ছাত্রদলের রক্ত ঝরল। অনেক ছাড় দেওয়া হয়েছে। আর ছাড় দেওয়া হবে না।

একদিকে খুন, ধর্ষণ ও চাঁদাবাজিতে জনজীবন বিপর্যস্ত, অন্যদিকে ক্যাম্পাসগুলোতে চলছে ছাত্রলীগীয় কায়দায় হামলা ও দখলদারত্ব। আর প্রশাসন বরাবরের মতোই সেই পুরোনো চাটুকার ভূমিকায় লিপ্ত। সরকারকে অবিলম্বে নিজেদের দলীয় ক্যাডার বাহিনীকে সামলাতে বলেন তিনি। নইলে ক্যাম্পাসে সবার সহাবস্থান বিঘ্নিত করে আবার দখলদারত্ব ও সহিংসতা কায়েমের জন্য সরকারকে চড়া মূল্য দিতে হবে।

ঘটনার বিষয়ে ডিসি ইবনে মিজান সাংবাদিকদের বলেন, ছাত্রদের সঙ্গে ছাত্রাবাস প্রশাসন বসে বিষয়টি সমাধানের উদ্যোগ নেবে। কেউ আইনগত ব্যবস্থা নিতে চাইলে তা–ও নেওয়া যাবে।