জ্বালানি তেলের সরবরাহ নিশ্চিত করতে এবং বাজারে কৃত্রিম সংকট প্রতিরোধে সারা দেশে ভ্রাম্যমাণ আদালত (মোবাইল কোর্ট) পরিচালনার নির্দেশ দিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।

সোমবার (৯ মার্চ) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জেলা ম্যাজিস্ট্রেট পরিবীক্ষণ শাখা থেকে দেশের সব জেলা প্রশাসককে (ডিসি) এই নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব নাহিদা আক্তার তানিয়ার সই করা পত্রে জানানো হয়, জ্বালানি তেলের বাজারে শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং কোনো ধরনের কৃত্রিম সংকট যেন তৈরি না হয়, তা নিশ্চিত করতেই এই বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

চিঠিতে মূলত তেলের অবৈধ মজুত গড়ে তোলা বন্ধ করা, নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অতিরিক্ত দামে তেল বিক্রি প্রতিহত করা এবং খোলা বাজারে তেল বিক্রি ও পাচার রোধে কড়া নজরদারির মাধ্যমে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট বা ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিতে বলা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ থেকে গত ৮ মার্চ একটি সূত্রের মাধ্যমে এই মোবাইল কোর্ট পরিচালনার জন্য অনুরোধ জানানো হয়। সেই অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতেই জনস্বার্থে এবং তেলের সরবরাহ নিরবচ্ছিন্ন রাখতে মাঠ প্রশাসনকে এই নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এই নির্দেশের পর সারা দেশের জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে জেলা প্রশাসকদের তদারকিতে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা বাজার মনিটরিং এবং মোবাইল কোর্ট পরিচালনা শুরু করবেন। নির্দেশনায় স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে, জনস্বার্থে এই কার্যক্রম দ্রুত কার্যকর করতে হবে।

 

সরকারের পাঁচজন মন্ত্রী এবং প্রধানমন্ত্রীর একজন উপদেষ্টার নাম সংশোধন করা হয়েছে।

রোববার (৮ মার্চ) নাম সংশোধন করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসনে জয়লাভ করে গত ১৭ ফেব্রুয়ারি সরকার গঠন করে বিএনপি। ওইদিনই ৫০ সদস্যের মন্ত্রিসভা গঠন করে দলটি। নতুন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের দপ্তর বণ্টন করে প্রজ্ঞাপন জারি করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।

অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী ‘আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী’র নাম পরিবর্তন করে করা হয়েছে ‘আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী’; পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী ‘আব্দুল আউয়াল মিন্টু’র নাম করা হয়েছে ‘আবদুল আউয়াল মিন্টু’; ধর্মমন্ত্রী ‘কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ’ এর নাম ‘কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন (কায়কোবাদ)’ করা হয়েছে।

কৃষি, খাদ্য এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী ‘মোহাম্মদ আমিন উর রশীদ’ এর নাম ‘মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ’; পানিসম্পদ মন্ত্রী ‘মো. শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি’র নাম সংশোধন করে ‘মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি’ করা হয়েছে।

এছাড়া, প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় নিযুক্ত প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ‘ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শামসুল ইসলাম’ এর নাম সংশোধন করে করা হয়েছে ‘ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম’।

এছাড়া, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী হাফিজ উদ্দিন আহমেদ এর নাম সংশোধন করে ‘হাফিজ উদ্দিন আহমদ’ করার আবেদন করেছেন। এরইমধ্যে এ সংক্রান্ত আবেদন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠানো হয়েছে।

 

ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধে দুবাইতে নিহত প্রবাসী বাংলাদেশি আহমেদ আলীর মরদেহ দেশে এসে পৌঁছেছে।

সোমবার (৯ মার্চ) আমিরাত এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে সকাল ৮টা ৫৫ মিনিটে আলীর মরদেহ বহনকারী বিমানটি ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।

এসময় নিহতের স্বজনরা ছাড়াও সরকারের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, 'বাংলাদেশের নাগরিকদের গুরুত্ব সরকারের কাছে সবথেকে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আলী আহমেদের পরিবারের পাশে থাকবে সরকার। প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হবে।

ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধে আরও ১৪ জন আহত হয়েছে; যাদের সর্বোচ্চ চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে জানান প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর। মধ্যপ্রাচ্যের ঝুকিপূর্ণ এলাকা এড়িয়ে চলতে প্রবাসীদের অনুরোধ জানান তিনি।

এয়ারপোর্টের সার্বিক কার্যক্রম শেষে অভ্যন্তরীণ বিমানযোগে মরদেহ নেয়া হয় সিলেটের মৌলভীবাজারে। স্বজনরা জানান, আহমেদ আলী দীর্ঘদিন ধরে সংযুক্ত আরব আমিরাতের আজমান শহরে বসবাস করতেন। ইরানের ছোড়া একটি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে গেলো ২৮ ফেব্রুয়ারি তিনি নিহত হন। গ্রামের বাড়িতে পারিবারিক কবরস্থানেই সমাহিত করা হবে তাকে।

 

 

২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনকে যারা নিজেদের একক সম্পত্তি হিসেবে দাবি করছে, তাদের তালিকা তৈরি করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির। সোমবার (০৯ মার্চ) বেলা ১১টার সময় এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এই মন্তব্য করেন।

আইজিপি আরও বলেন, আমরাও রাজপথে ছিলাম। জুলাই বিপ্লব কারও বাপের সম্পত্তি নয়। এ সময় পুলিশের মহাপরিদর্শক জানান, ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান বিন হাদির হত্যাকারীকে অচিরেই দেশে আনা হবে। 

আইজিপি বলেন, আমি দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছি। চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে দল-মতনির্বিশেষে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। দলীয় কোনো বিবেচনার সুযোগ নেই। ইতোমধ্যে মাঠপর্যায়ে পুলিশ কর্মকর্তাদের এ বিষয়ে সুস্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ব্লক রেট দিয়ে সন্ত্রাসী চাঁদাবাজ মাদক ব্যবসায়ী অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে এবং চলমান আছে।

চাঞ্চল্যকর কোনো ঘটনার সঙ্গে সঙ্গে গুরুত্ব দিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থল পরিদর্শনসহ যথাযথ আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। গণধর্ষণ, ধর্ষণসহ নারীর প্রতি সহিংসতার কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান তিনি। আমরা সিআইডিকে আরও আধুনিকীকরণের মাধ্যমে মামলা তদন্তের গুণগত মান বাড়াতে চাই। মামলার তদন্তকার দ্রুত সম্পন্ন করে প্রকৃত অপরাধীদের বিচার নিশ্চিত করতে আমরা অঙ্গীকারবদ্ধ।

তিনি আরও বলেন, আমরা এমনভাবে জনগণকে সেবা দিতে চাই, যাতে থানায় আগত মানুষ হাসিমুখে থানা থেকে ফিরে যেতে পারে। পুলিশের বিরুদ্ধে যাতে কোনো ধরনের কমপ্লেইন না থাকে। পুলিশের রিঅ্যাকশন টাইম ন্যূনতম পর্যায়ে নিয়ে আসা হবে।

আইজিপি বলেন, গত ১২ ফেব্রুয়ারি উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন সরকার গঠিত হয়েছে। সরকারের অন্যতম প্রধান অঙ্গীকার দেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা করা। সে লক্ষ্যে দেশের স্বাভাবিক আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখা হবে আমাদের অন্যতম প্রধান অঙ্গীকার।

 

পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক (অতিরিক্ত আইজিপি) পদমর্যাদার পাঁচজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে অবসরে পাঠিয়েছে সরকার। গতকাল রোববার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পুলিশ-১ অধিশাখার এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে প্রজ্ঞাপনে স্বাক্ষর করেন জ্যেষ্ঠ সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, নৌ পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি কুসুম দেওয়ান, রাজশাহীর সারদা বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমির অধ্যক্ষ মো. তওফিক মাহবুব চৌধুরী ও পুলিশ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত আইজিপি (ট্রেনিং রিজার্ভ-টিআর পদে) মো. মাসুদুর রহমান ভূঞাকে সরকারি চাকরি থেকে অবসর দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) হিসেবে থাকা পুলিশ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত আইজিপি আবু হাসান মুহম্মদ তারিক ও একই মন্ত্রণালয়ের ওএসডি থাকা মোহা. আবদুল আলীম মাহমুদকে সরকারি চাকরি থেকে অবসর প্রদান করা হলো। সরকারি চাকরি আইন (২০১৮ সালের ৫৭ নম্বর আইন)–এর ধারার বিধান অনুযায়ী, জনস্বার্থে এই কর্মকর্তাদের সরকারি চাকরি থেকে অবসর প্রদান করা হলো।

পুলিশ সদর দপ্তর সূত্র জানায়, আবু হাসান মুহম্মদ তারিক ১২তম বিসিএস ক্যাডারের (পুলিশ)। বাকি চারজন ১৫তম বিসিএস ক্যাডারের (পুলিশ)। গত বছরের ২৭ জুলাই ঢাকার মিরপুরে অবস্থিত পুলিশ স্টাফ কলেজের রেক্টর অতিরিক্ত আইজিপি আবু হাসান মুহাম্মদ তারিককে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) করে সরকার। পুলিশের ১২তম ব্যাচের কর্মকর্তা আবু হাসান মুহম্মদ তারিক আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ২০২২ সালের ১৭ জানুয়ারি অতিরিক্ত আইজিপি পদে পদোন্নতি পান। ওই বছরের ২ ফেব্রুয়ারি তিনি রাজশাহী পুলিশ একাডেমির অধ্যক্ষ হন।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়। গত বছরের ২৫ ফেব্রুয়ারি অতিরিক্ত আইজিপি আলীম মাহমুদকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ওএসডি করে সরকার।

বাংলাদেশে সাংবাদিকতা শিক্ষার অন্যতম পথিকৃৎ অধ্যাপক সাখাওয়াত আলী খান ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। গতকাল রোববার রাতে রাজধানীর একটি হাসপাতালে তিনি মারা যান। তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৫ বছর।

পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অধ্যাপক সাখাওয়াত আলী খান কিছুদিন আগে স্ট্রোক করেন। তখন কয়েক দিন হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে তাঁকে বাসায় নেওয়া হয়। এর মধ্যে রোববার রাতে তিনি আবার অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হলে মৃত ঘোষণা করা হয়।

অধ্যাপক সাখাওয়াত আলী খানের জানাজা আজ সোমবার সকাল ১০টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে অনুষ্ঠিত হবে। এরপর তাঁর মরদেহ নেওয়া হবে নরসিংদীর শিবপুর উপজেলায়। সেখানে ধানুয়া গ্রামে তাঁর দাফন সম্পন্ন হবে।

অধ্যাপক সাখাওয়াত আলী খান ২০০৮ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ থেকে অবসরে যান। এরপর তিনি সেখানে পাঁচ বছর সংখ্যাতিরিক্ত (সুপার নিউমারারি) অধ্যাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। মৃত্যুর আগে পর্যন্ত তিনি বিভাগটির ‘অনারারি প্রফেসর’ ছিলেন।

অধ্যাপক সাখাওয়াত আলী খান ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সাংবাদিকতা বিভাগের খণ্ডকালীন উপদেষ্টা এবং ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশ (ইউল্যাব)-এর সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

অধ্যাপক সাখাওয়াত আলী খান নরসিংদীর শিবপুর উপজেলায় এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে ১৯৪১ সালে জন্মগ্রহণ করেন। শিক্ষকতা পেশায় আসার আগে প্রায় এক দশক তিনি বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে সাংবাদিকতা করেছেন।

অধ্যাপক সাখাওয়াত আলী খান কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এবং সোসাইটি ফর এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট-এর চেয়ারম্যান ছিলেন।

অধ্যাপক সাখাওয়াত আলী খান ১৫টি দেশের বিভিন্ন সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেছেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সাউদার্ন ইলিনয় ইউনিভার্সিটিতে ভিজিটিং স্কলার হিসেবে কাজ করেছেন। দেশি-বিদেশি জার্নালে তাঁর ৩০টিরও বেশি গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে। তাঁর গবেষণার প্রিয় বিষয় ছিল ‘সাংবাদিকতা ও রাজনীতির মিথস্ক্রিয়া’। তিনি বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিলের সদস্য এবং প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশের (পিআইবি) ব্যবস্থাপনা বোর্ডের সদস্য হিসেবে একাধিকবার দায়িত্ব পালন করেছেন।

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুরে যৌথ বাহিনী অভিযান শুরু করেছে। আজ সোমবার সকাল ছয়টা থেকে সেনাবাহিনী, পুলিশ, র‍্যাবের এই যৌথ অভিযানে প্রায় চার হাজার সদস্য অংশগ্রহণ করছেন।

গত জানুয়ারি মাসে অভিযানে গিয়ে র‍্যাব কর্মকর্তা নিহত হওয়ার পর নতুন করে আলোচনায় আসে জঙ্গল সলিমপুর। এরপর সেখানে সমন্বিত অভিযান চালানোর বিষয়টি সামনে আসে। জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে থাকায় তখন আর অভিযান চালানো হয়নি।

চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের অতিরিক্ত সুপার (গণমাধ্যম) মো. রাসেল আজ সকালে বলেন, ‘যৌথ বাহিনীর চার হাজার সদস্য অভিযানে অংশ নিচ্ছেন। অভিযানের বিস্তারিত পরে জানানো হবে।’

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা বিভিন্ন দলে ভাগ হয়ে অভিযানে অংশ নিচ্ছেন। অতীতে অভিযানে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছিল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এ কারণে তারা অভিযানে কৌশল অবলম্বন করছে।

গত ১৯ জানুয়ারি জঙ্গল সলিমপুরে অভিযান চালাতে গিয়ে সন্ত্রাসী হামলায় নিহত হন র‍্যাব-৭-এর উপসহকারী পরিচালক (নায়েব সুবেদার) মোতালেব হোসেন ভূঁইয়া।

এ ঘটনায় সীতাকুণ্ড থানায় মামলা করে র‍্যাব। এতে প্রধান আসামি করা হয় মোহাম্মদ ইয়াসিনকে। মামলায় ইয়াসিন, নুরুল হক ভান্ডারীসহ ২৯ জনের নাম উল্লেখ করা হয়। অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয় ২০০ জনকে।

মামলার এজাহারে বলা হয়, র‍্যাব সদস্যরা আসামি ধরতে গেলে তাঁদের ওপর সন্ত্রাসী মোহাম্মদ ইয়াসিনের নির্দেশে রামদা, কিরিচ ও লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলা চালানো হয়। ছিনিয়ে নেওয়া হয় আটক এক আসামিকে। চার র‍্যাব সদস্যকে অপহরণ করে নিয়ে যান আসামিরা। পরে সেনাবাহিনী ও পুলিশ তাঁদের উদ্ধার করে।

সীতাকুণ্ড উপজেলায় হলেও নগরের কাছেই এই এলাকা। এলাকাটির পূর্ব দিকে রয়েছে হাটহাজারী উপজেলা, দক্ষিণে বায়েজিদ বোস্তামী থানা।

জঙ্গল সলিমপুর দুর্গম পাহাড়ি এলাকা হওয়ায় তা হয়ে উঠেছে সন্ত্রাসীদের ‘নিরাপদ আস্তানা’। চার দশক ধরে সরকারি পাহাড় কেটে এখানে গড়ে উঠেছে কয়েক হাজার অবৈধ বসতি।

এখনো পাহাড় কেটে চলছে প্লট-বাণিজ্য। আর এই বাণিজ্য ও দখল টিকিয়ে রাখতে এলাকাটিতে গড়ে তোলা হয়েছে সন্ত্রাসী বাহিনী। এলাকাটিতে সার্বক্ষণিক সশস্ত্র পাহারায় থাকে এসব সন্ত্রাসী।

র‍্যাবের ওপর হামলার আগে জঙ্গল সলিমপুরে গত বছরের অক্টোবরে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে একজন নিহত হন। পরদিন সেখানে সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে সন্ত্রাসীদের হামলা ও মারধরের শিকার হন দুই সাংবাদিক।

পুলিশ ও জঙ্গল সলিমপুরের লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এলাকাটিতে দুটি সন্ত্রাসী পক্ষ রয়েছে। একটি পক্ষের নেতৃত্বে রয়েছেন মোহাম্মদ ইয়াসিন, অপর পক্ষে রোকন উদ্দিন।

ইয়াসিন বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সীতাকুণ্ডের সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগের নেতা এস এম আল মামুনের অনুসারী ছিলেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে ইয়াসিন নিজেকে বিএনপি নেতা ও স্থানীয় সংসদ সদস্য আসলাম চৌধুরীর অনুসারী দাবি করে আসছেন।

র‍্যাব কর্মকর্তা নিহত হওয়ার পর এ ব্যাপারে গণমাধ্যমে বিবৃতি দিয়ে আসলাম চৌধুরী বলেন, জঙ্গল সলিমপুরে তাঁর কোনো অনুসারী নেই। ঘটনার সঙ্গে বিএনপির কেউ জড়িত নন।

ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যাকাণ্ডের প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ ও তাঁর সহযোগী আলমগীর হোসেনকে গ্রেপ্তার করেছে ভারতীয় পুলিশ। শনিবার দিবাগত রাতে বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী পশ্চিমবঙ্গের বনগাঁও এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আজ রোববার পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্সের (এসটিএফ) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গোপন ও বিশ্বাসযোগ্য তথ্য ছিল যে, বাংলাদেশে চাঁদাবাজি ও হত্যাকাণ্ডসহ গুরুতর অপরাধ করার পর দুই বাংলাদেশি নাগরিক তাদের দেশ থেকে পালিয়ে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করেছে। সুযোগ পেলে তারা আবার বাংলাদেশে ফিরে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বনগাঁও সীমান্ত এলাকায় আশ্রয় নেওয়ার চেষ্টা করছিল।

ব্যাটারিচালিত রিকশায় বসা শরিফ ওসমান বিন হাদিকে গুলি করেন মোটরসাইকেলের পেছনে বসা ব্যক্তি। ১২ ডিসেম্বর দুপুরে ঢাকার পুরানা পল্টনের বক্স কালভার্ট সড়কে
ব্যাটারিচালিত রিকশায় বসা শরিফ ওসমান বিন হাদিকে গুলি করেন মোটরসাইকেলের পেছনে বসা ব্যক্তি। ১২ ডিসেম্বর দুপুরে ঢাকার পুরানা পল্টনের বক্স কালভার্ট সড়কেছবি: সিসি ক্যামেরার ফুটেজ থেকে নেওয়া

এসটিএফ জানায়, এই তথ্যের ভিত্তিতে ৭-৮ মার্চ মধ্যবর্তী রাতে (শনিবার রাতে) অভিযান চালিয়ে বনগাঁ এলাকা থেকে দুই বাংলাদেশি নাগরিককে আটক করা হয়। তারা হলেন-পটুয়াখালীর রাহুল ওরফে ফয়সাল করিম মাসুদ (৩৭) এবং ঢাকার আলমগীর হোসেন (৩৪)।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দুজনকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে রাহুল ওরফে ফয়সাল করিম মাসুদ সহযোগী আলমগীর হোসেনকে সঙ্গে নিয়ে বাংলাদেশে রাজনৈতিক কর্মী শরীফ ওসমান হাদিকে হত্যা করেন এবং পালিয়ে যান। তারা মেঘালয় সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভারতীয় ভূখণ্ডে প্রবেশ করেন। ভারতের বিভিন্ন স্থানে ঘোরাফেরা করার পর শেষ পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গের বনগাঁ এলাকায় আসেন। তাদের উদ্দেশ্য ছিল, সুযোগ পেলে আবার বাংলাদেশে ফিরে যাওয়া।

স্পেশাল টাস্ক ফোর্স জানায়, এ বিষয়ে একটি মামলা করা হয়েছে। আজ সংশ্লিষ্ট আদালতে হাজির করার পর তাদের পুলিশ হেফাজতে পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে আরও তদন্ত চলছে।

ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদি ঢাকা–৮ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চেয়েছিলেন। এ জন্য তিনি বেশ কিছু দিন ধরে গণসংযোগ করে আসছিলেন। গত বছর ১২ ডিসেম্বর জুমার নামাজের কিছুক্ষণ পর রাজধানীর পুরানা পল্টনের কালভার্ট রোডে রিকশায় থাকা ওসমান হাদিকে গুলি করে দুর্বৃত্তরা। তাঁকে মাথায় গুলি করার পর আততায়ীরা মোটরসাইকেল নিয়ে পালিয়ে যায়। পরে ওসমান হাদিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। সেখানে ১৮ ডিসেম্বর তিনি মারা যান।

আলোচিত এই হত্যাকাণ্ডের তদন্তে যুক্ত বাংলাদেশের পুলিশ কর্মকর্তাদের ভাষ্য মতে, শরিফ ওসমান বিন হাদি নতুন ধারার রাজনীতি শুরু করেছিলেন। সেই রাজনীতির কারণেই ঢাকা মহানগর উত্তর যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও মিরপুর এলাকার সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর তাইজুল ইসলাম চৌধুরীর (বাপ্পী) নির্দেশনা ও পরিকল্পনায় শরিফ ওসমান বিন হাদিকে গুলি করে হত্যা করা হয়। শরিফ ওসমান হাদিকে গুলি করেছিলেন ফয়সাল করিম। তাঁকে সহযোগিতা করেন আলমগীর হোসেন। ফয়সাল করিম ছাত্রলীগের সাবেক নেতা ও আলমগীর আদাবর থানা যুবলীগের কর্মী। এই হত্যাকাণ্ডের পর ফয়সাল ও আলমগীর ছাড়াও সাবেক কাউন্সিলর তাইজুল ইসলামও ভারতে পালিয়ে যান বলে তদন্ত–সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ধারণা।

পর্তুগাল, পোল্যান্ড, মেক্সিকো ও মালদ্বীপে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পাওয়া বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত যথাক্রমে এম মাহফুজুল হক, মো. ময়নুল ইসলাম, এম মুশফিকুল ফজল (আনসারী) ও মো. নাজমুল ইসলামকে প্রত্যাহার করে ঢাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বদলি করা হয়েছে। আজ রোববার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।

এই চার রাষ্ট্রদূতকে চুক্তিতে নিয়োগ দিয়েছিল সাবেক অন্তর্বর্তী সরকার। তাঁদের মধ্যে মাহফুজুল হক সাবেক সচিব। ময়নুল ইসলাম পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি)। অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর ময়নুল ইসলামকে আইজিপি করা হয়েছিল। কয়েক মাসের মাথায় ২০২৪ সালের ২০ নভেম্বর বাহারুল আলমকে আইজিপি নিয়োগ দিয়ে ময়নুল ইসলামকে রাষ্ট্রদূত করেছিল অন্তর্বর্তী সরকার।

সাংবাদিক মুশফিকুল ফজল দীর্ঘদিন যুক্তরাষ্ট্রে ছিলেন। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের দমন–পীড়নের বিভিন্ন ঘটনা তিনি নিয়মিত যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর ও জাতিসংঘের মহাসচিবের মুখপাত্রের ব্রিফিংয়ে তুলে ধরতেন। গণ–অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর তাঁকে মেক্সিকোতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত করা হয়েছিল।

আর মো. নাজমুল ইসলাম একজন একাডেমিক। তুরস্কের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াতেন তিনি। তাঁকে চুক্তিতে মালদ্বীপে রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ দিয়েছিল অন্তর্বর্তী সরকার।

চুক্তিতে নিয়োগ পাওয়া এই চারজনের সঙ্গে যুক্তরাজ্যে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার আবিদা ইসলামকেও প্রত্যাহার করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বদলি করা হয়েছে। পেশাদার কূটনীতিক আবিদা ইসলামকে গত বছরের জানুয়ারিতে লন্ডনে হাইকমিশনার হিসেবে নিয়োগ দিয়েছিল গত অন্তর্বর্তী সরকার। ১৫ ব্যাচের ওই কূটনৈতিক যুক্তরাজ্যে বহুল আলোচিত হাইকমিশনার সাইদা মুনা তাসনিমের স্থলাভিষিক্ত হন। শুরু থেকেই আবিদা ইসলামের নিয়োগ নিয়ে আপত্তি ছিল বিএনপি-জামায়াতের।

এসব রাষ্ট্রদূত ও হাইকমিশনারকে অতিসত্বর ঢাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে যোগ দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী পবিত্র ঈদুল ফিতরের আগেই পরীক্ষামূলকভাবে দেশের ৪ হাজার ৯০৮টি মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খতিবদের মাসিক সম্মানী দেওয়া শুরু করতে যাচ্ছে নতুন সরকার।

একই সঙ্গে ৯৯০টি মন্দির, ১৪৪টি বৌদ্ধবিহার এবং ৩৯৬টি গির্জার পুরোহিত, বিহারের অধ্যক্ষ, যাজকসহ উপাসনালয়ের সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদেরও এই সম্মানী দেওয়া হবে।

সরকারি পরিকল্পনা অনুযায়ী, ইমামরা মাসে পাঁচ হাজার টাকা, মুয়াজ্জিনরা তিন হাজার টাকা এবং খাদেমরা দুই হাজার টাকা করে সম্মানী পাবেন। মন্দিরের পুরোহিতরা পাবেন পাঁচ হাজার টাকা, সেবায়েত তিন হাজার টাকা, বৌদ্ধবিহারের অধ্যক্ষ পাঁচ হাজার ও উপাধ্যক্ষ তিন হাজার টাকা এবং গির্জার যাজকেরা পাঁচ হাজার ও সহকারী যাজকেরা তিন হাজার টাকা করে সম্মানী পাবেন।

আজ রোববার সচিবালয়ে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের এক সভা শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসনবিষয়ক উপদেষ্টা মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ। সভায় ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ, পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ সাকিসহ কয়েকজন সচিব উপস্থিত ছিলেন।

মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ বলেন, মাসিক সম্মানীর পাশাপাশি ধর্মীয় উৎসব উপলক্ষে বিশেষ ভাতাও দেওয়া হবে। পবিত্র ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের এক হাজার টাকা করে উৎসব ভাতা দেওয়া হবে। অন্যদিকে দুর্গাপূজা, বুদ্ধপূর্ণিমা ও বড়দিন উপলক্ষে দুই হাজার টাকা করে ভাতা দেওয়া হবে।

সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, এবার পরীক্ষামূলকভাবে কার্যক্রম শুরু হলেও আগামী চার অর্থবছরে ধাপে ধাপে সারা দেশের সব মসজিদ ও অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের এই সম্মানীর আওতায় আনা হবে।

ইসমাইল জবিউল্লাহ বলেন, চলতি অর্থবছরে এই কর্মসূচি বাস্তবায়নে প্রায় ২৭ কোটি ১৩ লাখ টাকা প্রয়োজন হবে। ১৫ মার্চের মধ্যে সোনালী ব্যাংকের মাধ্যমে উপকারভোগী ব্যক্তিদের কাছে সম্মানীর টাকা পৌঁছে দেওয়া হবে। এর আগে ১৪ মার্চ রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন।

ইসমাইল জবিউল্লাহ আরও বলেন, দেশের সব মসজিদ, মন্দির, বৌদ্ধবিহার বা প্যাগোডা এবং গির্জাকে অন্তর্ভুক্ত করে পুরো কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হলে বার্ষিক ব্যয় দাঁড়াবে প্রায় ৪ হাজার ৪০০ কোটি টাকা।

সরকার চার ধাপে এই কর্মসূচি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা নিয়েছে। প্রথম ধাপে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বরাদ্দ লাগবে প্রায় ১ হাজার ১০০ কোটি টাকা। পরের বছর ২০২৭-২৮ অর্থবছরে ব্যয় দাঁড়াবে প্রায় ২ হাজার ২০০ কোটি টাকা। ২০২৮-২৯ অর্থবছরে প্রায় ৩ হাজার ৩০০ কোটি টাকা এবং ২০২৯-৩০ অর্থবছরে পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নে প্রয়োজন হবে ৪ হাজার ৪০০ কোটি টাকা।

জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে করা মামলায় পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত।

আজ রোববার ঢাকার মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতের বিচারক সাব্বির ফয়েজ দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দেওয়া অভিযোগপত্র আমলে নিয়ে তাঁর বিরুদ্ধে এই পরোয়ানা জারি করেন। একই সঙ্গে আগামী ৩০ মার্চ গ্রেপ্তারসংক্রান্ত বিষয়ে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. রিয়াজ হোসেন এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর দুদকের উপপরিচালক হাফিজুল ইসলাম বাদী হয়ে বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে মামলাটি করেন। পরে তদন্ত শেষে ২০২৫ সালের ৩০ নভেম্বর তাঁর বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন, সম্পদের তথ্য গোপন এবং মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগে অভিযোগপত্র জমা দেয় দুদক।

তদন্তে মোট ১৫ কোটি ৬৮ লাখ টাকার সম্পদ অর্জনের প্রমাণ পাওয়া গেলেও বৈধ আয়ের উৎস হিসেবে পাওয়া গেছে ৬ কোটি ৫৯ লাখ ৪২ হাজার ৬৬৮ টাকা। ব্যয় বাদ দিলে নিট সঞ্চয় দাঁড়ায় ৪ কোটি ৬৩ লাখ ৫৬ হাজার ৬৭৫ টাকা। এ হিসাবে তাঁর জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদের পরিমাণ ১১ কোটি ৪ লাখ ৪৩ হাজার ৫৭৬ টাকা।

অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়, এসব অর্থের অবৈধ উৎস, প্রকৃতি ও মালিকানা গোপন করে বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও যৌথ মূলধনি প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ, স্থানান্তর ও রূপান্তর করেছেন বেনজীর আহমেদ।

প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসকে মানহানির অভিযোগে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর বিরুদ্ধে মামলার আবেদন করা হয়েছে। 

রোববার (৮ মার্চ) সকালে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে (সিএমএম) মামলার আবেদনটি করেন রমনা থানা বিএনপির সভাপতি আশরাফুল ইসলাম।

এ সময় আদালত বাদীর জবানবন্দি রেকর্ড করে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে আদালতে হাজির হতে সমন জারি করেছেন।

বাদী পক্ষের আইনজীবী মো. আমিরুল ইসলাম আমির এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, ‘ইতিমধ্যে আমরা মামলাটির আবেদন জমা দিয়েছি। সকাল ১১টার দিকে মামলার আবেদনের ওপর শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।’

মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী গত ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে শাপলা কলি প্রতীক নিয়ে মির্জা আব্বাসের সঙ্গে বিপুল ভোটে হেরে যায়। নির্বাচনের সময় তিনি বিভন্ন সময়ে মিথ্যা ও মানহানিকর বক্তব্য দিয়েছেন। এসব বক্তব্য ফেসবুক ও ইউটিউবে ভাইরাল করে দিয়ে মির্জা আব্বাসের সম্মান ক্ষুণ্ন করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, সবশেষ জাতীয় নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন মির্জা আব্বাস ও নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। ভোটের মাঠে কথার যুদ্ধে একপাক্ষিকভাবে বেশ আটঘাট বেঁধেই নামতে দেখা গিয়েছিল এনসিপির এ নেতাকে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী মির্জা আব্বাসকে নিয়ে  তার করা বেশকিছু মন্তব্য ভাইরালও হয়। অবশ্য ভোটে জয়লাভ করতে পারেননি তিনি। এই আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন মির্জা আব্বাস।