টেনশন…টেনশন!

মেহেদী হাসান মিরাজ ক্যাচটা ফেলে দিলেন গালিতে। তাইজুল ইসলাম আর লিটন দাসের ভুল–বোঝাবুঝিতে পরের ক্যাচটার জন্য গেলেনই–না কেউ। শরীরী ভাষায় ভয় ও দুশ্চিন্তার ছাপ স্পষ্ট। সমর্থকদের মনেও প্রশ্ন, কী হচ্ছে এসব!

শেষে অবশ্য যা হওয়ার কথা ছিল, তা–ই হয়েছে। ‘একটা ভালো বলের…’ জন্য যে অপেক্ষা ছিল, তা শেষ হয়েছে তাইজুল ইসলামের হাত ধরে। স্লিপে নাজমুল হোসেনের হাতে ক্যাচ তুলে দিয়েছেন সাজিদ খান।

আগের উইকেটের জন্য ৭২ বলের অপেক্ষা ছিল, পরের দুটির জন্য কেবল ১২ বল। ওই যে একটা উইকেট আরেকটা নিয়ে আসে! শরীফুল ইসলামের বলে মোহাম্মদ রিজওয়ান ৯৪ রান করে বিদায় নিতেই বাংলাদেশ পেয়ে যায় উদ্‌যাপনের উপলক্ষ। শেষ পর্যন্ত পাকিস্তান থেমেছে ৩৫৮ রানে। ৬ উইকেট নিয়ে জয়ের নায়ক তাইজুল।

গতকাল সালমান আগা আর মোহাম্মদ রিজওয়ানের ১৩৪ রানের জুটি ভয় ধরিয়ে দিয়েছিল বাংলাদেশকে। তবে শেষ বিকেলে দুই উইকেট নিয়ে কালই নিজেদের অস্বস্তি কাটিয়ে দিয়েছিলেন তাইজুল। আজ সকালে বাংলাদেশের জন্য খেলাটা ছিল ৩ উইকেটের, পাকিস্তানের ১২১ রানের।

জয়ের নায়ক তাইজুল
জয়ের নায়ক তাইজুল
 

যদিও সেই আশঙ্কা দূর হতে খুব বেশি সময় লাগেনি। ১৫ মিনিট দেরিতে শুরু হওয়া ম্যাচটা শেষ করতে বাংলাদেশের লেগেছে এক ঘণ্টা। রিজওয়ানের ৯৪ ছাড়া ২৮ রান করেন সাজিদও। এ দুজন ফিরতেই আজ সকালেও বিশ্ব রেকর্ড গড়ে রানতাড়ার যেটুকু সম্ভাবনা ছিল, তা শেষ হয়েছে ৭৮ রানের হারে।

বাংলাদেশের সিরিজ জয়ের উল্লাস
বাংলাদেশের সিরিজ জয়ের উল্লাস
 

শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে খুররম শাহজাদকে ফিরিয়ে উল্লাসে মেতে ওঠে বাংলাদেশ। বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেটের আড়াই যুগে মনে রাখার মতো একটা স্মৃতিও তৈরি হয়ে গেছে এর মধ্যে। নিজেদের টেস্ট ইতিহাসে এবারই প্রথম কোনো দলকে পরপর চার ম্যাচে হারানো স্বাদ পেল বাংলাদেশ। অথচ এই পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথম ১৩ টেস্টে জয় ছিল না একটিও।

বাংলাদেশ যোগ্যতর দল হিসেবে, তা বোধ হয় না বললেও চলছে। মিরপুর আর সিলেট টেস্ট মিলিয়ে এমন খুব কম সময়ই এসেছে, যখন মনে হয়েছে, পাকিস্তান এগিয়ে গেছে। কোথাও সেই সম্ভাবনা তৈরি হলে বাংলাদেশ ম্যাচে ফিরেছে মুহূর্তেই। প্রতিবারই হার মানতে হয়েছে পাকিস্তানকে। এর ফলে হয়তো ভবিষ্যতের রোমাঞ্চকর এক পথচলার শুরুও হয়ে গেছে।

বয়স তাঁর জন্য কেবলই একটা সংখ্যা, নাকি এক অনন্ত যৌবনের বিজ্ঞাপন?

ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোকে দেখলে এই প্রশ্নটা বারবার মাথায় আসতেই পারে। ৪১ পেরিয়ে গেছেন এবং এই বয়সে খেলতে যাচ্ছেন আরও একটা বিশ্বকাপ। অবশ্য এই বিশ্বকাপে তাঁর দলে থাকা নিয়ে সন্দেহ কখনোই ছিল না। পর্তুগালের কোচ রবার্তো মার্তিনেজ অনেকবারই বলেছেন, রোনালদোকে ছাড়া বিশ্বকাপে যাওয়ার কথা তিনি ভাবছেন না।

ফুটবল বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথম পুরুষ খেলোয়াড় হিসেবে রেকর্ড ষষ্ঠবারের মতো বিশ্বমঞ্চে নামতে যাচ্ছেন তিনি। অবশ্য লিওনেল মেসিও আর্জেন্টিনার জার্সিতে ডাক পেলে রোনালদোর এই রেকর্ডে ভাগ বসাবেন।

মার্তিনেজ দল ঘোষণা করেছেন ২৭ জনের। তবে বিশ্বকাপের জন্য ফিফার নিয়ম মেনে চূড়ান্ত দল হতে হবে ২৩ থেকে ২৬ জনের। আসলে গত বছর সবাইকে কাঁদিয়ে না ফেরার দেশে চলে যাওয়া পর্তুগিজ তারকা দিয়োগো জোতাকেও প্রতীকি ‘সদস্য’ ধরে নিয়ে ২৭ জনের নাম ঘোষণা করেন কোচ। তাঁর মূল স্কোয়াড ২৬ জনেরই।

রোনালদো ও ব্রুনো ফার্নান্দেজ।
রোনালদো ও ব্রুনো ফার্নান্দেজ। রয়টার্স
 

মার্তিনেজের ঘোষিত দলে খুবই অনুমিতভাবে রোনালদোর সঙ্গী হিসেবে আছেন ব্রুনো ফার্নান্দেজ, ভিতিনিয়া, জোয়াও নেভেস ও নুনো মেন্দেসের মতো তারকারা। আবার চমকও আছে। চার বছর পর গত মার্চে জাতীয় দলে ফেরা রিয়াল সোসিয়েদাদের ফরোয়ার্ড গনসালো গেদেস জায়গা করে নিয়েছেন বিশ্বকাপ স্কোয়াডে। আছেন মাত্র ৪টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলা মায়োর্কার ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার সামুয়েল কোস্তা। দলে সুযোগ না পাওয়াদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ওয়েস্ট হামের মাতেউস ফার্নান্দেজ, বেনফিকার ডিফেন্ডার আন্তোনিও সিলভা এবং ফরোয়ার্ড পালিনিও, পেড্রো গনকালভেস ও রিকার্ডো হোর্তা।

বিশ্বকাপে ‘কে’ গ্রুপে পর্তুগালের প্রতিপক্ষ কলম্বিয়া, উজবেকিস্তান ও ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো। বিশ্বকাপের মূল লড়াইয়ে নামার আগে নিজেদের ঝালিয়ে নিতে ঘরের মাঠে দুটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে পর্তুগাল—৬ জুন চিলির বিপক্ষে এবং ১০ জুন নাইজেরিয়ার বিপক্ষে।

পর্তুগালের বিশ্বকাপ স্কোয়াড

গোলরক্ষক: জোসে সা, রুই সিলভা, রিকার্দে ভেলিও। ডিফেন্ডার: জোয়াও কানসেলো, মাতেউস নুনেস, নুনো মেন্দেস, রুবেন দিয়াস, গনসালো ইনাসিও, দিয়োগো দালত, তমাস আরাউজো, রেনাতো ভেইগা, নেলসন সেমেদো। মিডফিল্ডার: ব্রুনো ফার্নান্দেজ, বের্নার্দো সিলভা, জোয়াও নেভেস, ভিতিনিয়া, রুবেন নেভেস, সামুয়েল কস্তা। ফরোয়ার্ড: ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো, গনসালো রামোস, রাফায়েল লিয়াও, ফ্রান্সিসকো ত্রিনকাও, জোয়াও ফেলিক্স, পেদ্রো নেতো, ফ্রান্সিসকো কনসেইসাও, গনসালো গেদেস।

ফিরলেন শান মাসুদও 

পাকিস্তান দ্বিতীয় ইনিংস: ৪৫ ওভারে ১৬২/৫। জয়ের জন্য ২৭৫ রান চাই পাকিস্তানের। বাংলাদেশের দরকার ৫ উইকেট।

সৌদ শাকিলের পর ফিরলেন পাকিস্তান অধিনায়ক শান মাসুদও। তাইজুলের বলে শর্ট লেগে মাহমুদুল হাসান জয়ের হাতে ক্যাচ দিয়েছেন ৭১ রান করা এ ব্যাটসম্যান।

সৌদ শাকিল আউট

পাকিস্তান দ্বিতীয় ইনিংস: ৪৪ ওভারে ১৫৬/৪। জয়ের জন্য ২৮১ রান চাই পাকিস্তানের। বাংলাদেশের দরকার ৬ উইকেট।

৪৪ তম ওভারের চতুর্থ বলে নাহিদ রানার অফ স্টাম্পের বাইরের বল খেলতে গিয়ে উইকেটকিপার লিটন দাসকে ক্যাচ দেন সৌদ শাকিল। মাঠের আম্পায়ার আউট দেওয়ার পর শাকিল রিভিউ নিয়েও বাঁচতে পারেননি। ২১ বলে ৬ রান করেছেন শাকিল।

ক্রিজে নতুন ব্যাটসম্যান সালমান আগা। ৬৫ রানে অপরাজিত শান মাসুদ।

সোমবার সকাল থেকে অনেকেই চোখ রাখছিলেন ঘড়ির কাঁটায়। কেউ কেউ নিশ্চয়ই মোবাইল ফোনে অ্যালার্মও সেট করে রেখেছিলেন। রাত ২টায় কতিপয় নিশাচর মানুষ ছাড়া কে আর জেগে থাকেন!

কিন্তু ব্রাজিলের বিশ্বকাপ দল তো বাংলাদেশ সময়ে ঘোষণা করবে না; ফলে নেইমার দলে আছেন কি না, তা জানতে অ্যালার্মই ভরসা। নাহ্‌, আনচেলত্তি বিশেষ কোনো চমক উপহার দেননি। জনমতকে পাশ কাটিয়ে ফিটনেস রিপোর্ট কিংবা সাম্প্রতিক সময়ে খেলার অভিজ্ঞতাকে গুরুত্বও দিতে পারেননি। ফলাফল, চতুর্থবারের মতো বিশ্বকাপ খেলতে যাচ্ছেন নেইমার। সর্বশেষ ব্রাজিলের হয়ে নেইমার খেলেছেন ২০২৩ সালের অক্টোবরে।

নেইমারের ব্রাজিল দলে ডাক পাওয়াটা তাঁর ভক্তদের জন্য বিশেষ আনন্দের। পাশাপাশি এটি কার্লো আনচেলত্তির দল নির্বাচনের দর্শনকেই যেন প্রতিফলিত করছে। চূড়ান্ত দল ঘোষণার আগে কিছু পজিশন নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকলেও ইতালিয়ান কোচ শেষ পর্যন্ত ভরসা রেখেছেন পরীক্ষিত ও নির্ভরযোগ্য খেলোয়াড়দের ওপর। সে তালিকার সবচেয়ে বড় নাম নিঃসন্দেহে সান্তোসের ১০ নম্বর জার্সিধারী নেইমার।

ব্রাজিলের বিশ্বকাপ দলে খুব বেশি চমক যেমন নেই, আবার পুরোপুরি রক্ষণাত্মক দলও এটি নয়; বরং পুরোনো নির্ভরযোগ্য তারকাদের সঙ্গে নতুন শক্তির একটি ভারসাম্য তৈরির চেষ্টা করেছেন আনচেলত্তি।

আরও পড়ুন

নেইমারকে নিয়েই বিশ্বকাপ খেলতে যাবে ব্রাজিল

নেইমারকে নিয়েই বিশ্বকাপ খেলতে যাবে ব্রাজিল

শুরুতেই আসা যাক নেতৃত্ব প্রসঙ্গে। মাঠে সব সময় নেতৃত্ব না দিলেও এই দলে নেতৃত্বের কেন্দ্রবিন্দু এখন অনেকটাই নেইমার। কারণ, এত দিন দলের প্রধান ভরসা হিসেবে দেখা রাফিনিয়া ও ভিনিসিয়ুস জুনিয়র এখনো জাতীয় দলে প্রত্যাশামতো ধারাবাহিক হতে পারেননি।

তবে এটি রিয়াল তারকা ভিনিসিয়ুস ও বার্সেলোনা উইঙ্গার রাফিনিয়ার জন্য খারাপ খবর নয়; বরং গত এক দশকের বেশি সময় ধরে ব্রাজিল ফুটবলের সবচেয়ে বড় তারকাকে পাশে পাওয়ায় চাপ কিছুটা কমেছে তাঁদের ওপর। দুজনে আরও স্বচ্ছন্দে খেলতে পারবেন। শুধু নেইমারই নন, পুরো দল নির্বাচনেই অভিজ্ঞতার ছাপ স্পষ্ট। ২৬ সদস্যের দলে ১৫ জনই খেলেছেন ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে। এই শতকে বিশ্বকাপে ব্রাজিল দলে এত বেশি ‘অভিজ্ঞ’ খেলোয়াড় আর কখনো দেখা যায়নি। আনচেলত্তি হয়তো বুঝেছেন, বিশ্বকাপের মতো টুর্নামেন্টে শুধু প্রতিভা নয়, মানসিক দৃঢ়তা এবং বড় ম্যাচ সামলানোর অভিজ্ঞতাও গুরুত্বপূর্ণ।

নেইমারেই আস্থা আনচেলত্তির
নেইমারেই আস্থা আনচেলত্তিরইনস্টাগ্রাম

গোলকিপার বিভাগে ওয়েভারতনের অন্তর্ভুক্তি সেটারই উদাহরণ। আলিসন বেকার চোটের কারণে দীর্ঘ সময় বাইরে ছিলেন, আর এদেরসনও ধারাবাহিক নন। তাই ব্রাজিল দলে এবার তৃতীয় গোলকিপারের গুরুত্ব বেশ বেড়ে গেছে। তরুণ বিকল্পদের ওপর আস্থা রাখা কঠিন। এই জায়গার জন্য আলোচনায় থাকা বেন্তো ও হুগো সোউজা সাম্প্রতিক সময়ে বেশ কিছু ভুল করেছেন, যা সমর্থকদের উদ্বিগ্ন করে তোলে। কোচিং স্টাফরাও সম্ভবত পুরোপুরি নিশ্চিন্ত ছিলেন না।

তাই ৩৮ বছর বয়সী অভিজ্ঞ ওয়েভারতনের ওপরই ভরসা করেছেন আনচেলত্তি। তাঁর অভিজ্ঞতা ও স্থিরতা ইতালিয়ান এই কোচকে নিশ্চয়ই বাড়তি আস্থা দিয়েছে। ১৭ বছরের পেশাদার ক্যারিয়ারে ওয়েভারতন ২০১৬ সালে গ্রীষ্মকালীন অলিম্পিকে সোনা জিতেছেন এবং ২০২২ বিশ্বকাপের স্কোয়াডেও ছিলেন।

কোচের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই আনচেলত্তি অভিজ্ঞ ও মানসিকভাবে প্রস্তুত খেলোয়াড়দের ওপরই বেশি আস্থার ইঙ্গিত দিয়ে রেখেছিলেন। পজিশনভিত্তিক বিশ্লেষণে রক্ষণভাগ ও মাঝমাঠে তাঁর সেই বার্তারই যেন প্রতিফলন দেখা গেছে। এ দুটি জায়গায় তারুণ্য বা প্রতিভার দ্যুতির চেয়ে অভিজ্ঞতার আকরেই আশ্রয় নিয়েছেন আনচেলত্তি।

মার্কিনিওস ও গ্যাব্রিয়েলকে কেন্দ্র করে ডিফেন্স গড়া হয়েছে। মাঝমাঠে আছেন কাসেমিরো ও ব্রুনো গিমারেস। বিশেষ করে কাসেমিরোর দলে জায়গা পাওয়া দেখিয়ে দিচ্ছে, আনচেলত্তি এখনো বড় ম্যাচের অভিজ্ঞতাকে মূল্য দেন। একই কারণে দানিলো ও অ্যালেক্স সান্দ্রোর মতো খেলোয়াড়েরাও দলে জায়গা পেয়েছেন।

ব্রাজিল কোচ কার্লো আনচেলত্তি
ব্রাজিল কোচ কার্লো আনচেলত্তিএএফপি

তবে দলটি শুধু অভিজ্ঞদের নিয়েই নয়। আনচেলত্তি নতুনদের জন্যও দরজা খোলা রেখেছেন। বিশেষত ফরোয়ার্ড লাইনে ম্যাচের মোড় ঘোরাতে অভিজ্ঞতার সঙ্গে প্রতিভার মিশেল ঘটিয়েছেন ব্রাজিল কোচ। এনদ্রিক, লুইস হেনরিক, রায়ান এবং ইগর থিয়াগোর মতো তরুণদের অন্তর্ভুক্তি জানাচ্ছে, বিশ্বকাপে ম্যাচের দৃশ্যপট বদলাতে কিছু তরুণ তুর্কিকে তুরুপের তাস হিসেবে ব্যবহার করবেন আনচেলত্তি।

বিশেষ করে এনদ্রিক ব্রাজিলের আক্রমণে বাড়তি গতি ও অপ্রত্যাশিত কিছু এনে দিতে পারেন। তবে এই জায়গায় এস্তেভাও এবং রদ্রিগোর না থাকাও আনচেলত্তি ও ব্রাজিল সমর্থকদের জন্য আক্ষেপের। এস্তেভাও আনচেলত্তির অধীনে সবচেয়ে কার্যকরী হয়ে উঠেছিলেন। গোল করার পাশাপাশি সৃষ্টিশীলতার দিক থেকেও দারুণ সম্ভাবনাময় এই তরুণ। কিন্তু চোট ভেঙে দিয়েছে তাঁর বিশ্বকাপ–স্বপ্ন।

সব মিলিয়ে ব্রাজিলের এই দল ‘গ্যালাকটিকো’ ধরনের ঝলমলে স্কোয়াড নয়; বরং বাস্তবমুখী একটি দল। এখানে প্রতিভা আছে, অভিজ্ঞতা আছে, আবার কিছু অনিশ্চয়তাও আছে। সবচেয়ে বড় প্রশ্ন রয়ে গেছে নেইমারের শারীরিক অবস্থা এবং ভিনিসিয়ুসদের ধারাবাহিকতা নিয়ে। তবে আনচেলত্তির মতো অভিজ্ঞ কোচের অধীনে দলটি অন্তত আগের চেয়ে বেশি ভারসাম্যপূর্ণ ও পরিণত মনে হচ্ছে। এই ব্রাজিল হয়তো ২০০২ সালের মতো ভয়ংকর আক্রমণাত্মক নয়, কিন্তু বিশ্বকাপের মতো টুর্নামেন্টে অনেক সময় এমন পরিণত, সংগঠিত দলই শেষ পর্যন্ত সবচেয়ে বিপজ্জনক হয়ে ওঠে।

বিশ্বকাপে নেইমার থাকবেন কি থাকবেন না—গত কয়েক মাস ধরে ফুটবল দুনিয়ার অলিগলিতে এর চেয়ে বড় কোনো ‘সাসপেন্স’ সম্ভবত ছিল না। চোট, অস্ত্রোপচার, ফিটনেস ফিরে পাওয়ার লড়াই আর মাঠের বাইরের হাজারো গুঞ্জন পেরিয়ে অবশেষে যবনিকা নামল সেই নাটকের।

রিও ডি জেনিরোর ‘মিউজিয়াম অব টুমরো’তে আজ সংবাদ সম্মেলনে ব্রাজিল কোচ কার্লো আনচেলত্তি যখন ২৬ জনের চূড়ান্ত তালিকা পড়লেন, সেখানে সবচেয়ে কাঙ্খিত নামটা তাঁরই ছিল। অবশেষে আনচেলত্তির কন্ঠে উচ্চারিত হলো সেই নাম—নেইমার জুনিয়র।

হ্যাঁ, নন্দিত এবং কখনো কখনো নিন্দিত এই মহাতারকাকে নিয়েই বিশ্বকাপে যাচ্ছে ব্রাজিল। দল ঘোষণার জমকালো অনুষ্ঠানে যখন ৩৪ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ডের নাম উচ্চারণ করলেন আনচেলত্তি, করতালির গর্জনে মুখরিত হয়ে উঠল চারপাশ। মিলনায়তন জুড়ে বয়ে গেল আনন্দের সুনামি।

বার্সেলোনা ও পিএসজির সাবেক এই ফরোয়ার্ডকে দলের ডাকার আগে কোচ আনচেলত্তিও কম পরীক্ষা নেননি। ২০২৩ সালে উরুগুয়ের বিপক্ষে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের ম্যাচে হাঁটুতে চোট পাওয়ার পর থেকে নেইমার ছিলেন জাতীয় দলের রাডারের বাইরে। চোট আর ফর্মহীনতার দোলাচলে গত মার্চে ফ্রান্স ও ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচেও তাকে বাইরে রেখেছিলেন ইতালিয়ান মাস্টারমাইন্ড। তাঁর ফিটনেস নিয়ে কোচের মনে ছিল একরাশ সংশয়।

রিও ডি জেনিরোর ‘মিউজিয়াম অব টুমরো’তে ব্রাজিলের বিশ্বকাপ দল ঘোষণা করছেন আনচেলত্তি।
রিও ডি জেনিরোর ‘মিউজিয়াম অব টুমরো’তে ব্রাজিলের বিশ্বকাপ দল ঘোষণা করছেন আনচেলত্তি।সিবিএফ

সৌদি আরবের চোটজর্জর অধ্যায় চুকিয়ে গত জানুয়ারিতে নেইমার ফিরে আসেন শৈশবের ক্লাব সান্তোসে। আর সেখানেই যেন নতুন করে প্রাণ ফিরে পান। চেনা আঙিনায় নিজেকে নতুন করে প্রমাণ করেই আদায় করে নিলেন আনচেলত্তির ‘ছাড়পত্র’। ২০১৪, ২০১৮ এবং ২০২২ বিশ্বকাপের পর এবার ক্যারিয়ারের চতুর্থ বিশ্বকাপ খেলতে যাচ্ছেন ব্রাজিলের ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা (১২৮ ম্যাচে ৭৯ গোল)।

আগামী ১৩ জুন মরক্কোর বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে হেক্সা জয়ের মিশন শুরু করবে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। গ্রুপ ‘সি’-তে ব্রাজিলের বাকি দুই প্রতিপক্ষ হাইতি ও স্কটল্যান্ড।

বিশ্বকাপের ব্রাজিল দল:

গোলরক্ষক: আলিসন (লিভারপুল), এদেরসন (ফেনারবাচে), ওয়েভারতন (গ্রেমিও)। ডিফেন্ডার: অ্যালেক্স সান্দ্রো (ফ্ল্যামেঙ্গো), ব্রেমার (জুভেন্টাস), দানিলো (ফ্ল্যামেঙ্গো), দগলাস সান্তোস (জেনিত), গ্যাব্রিয়েল (আর্সেনাল), রজার ইবানেজ (আল-আহলি), লিও পেরেইরা (ফ্ল্যামেঙ্গো), মার্কিনিওস (পিএসজি), ওয়েসলি (রোমা)। মিডফিল্ডার: ব্রুনো গিমারেস (নিউক্যাসল), কাসেমিরো (ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড), দানিলো (বোতাফোগো), ফাবিনিও (আল-ইত্তিহাদ), লুকাস পাকেতা (ফ্ল্যামেঙ্গো)। ফরোয়ার্ড: এনদ্রিক (লিওঁ), গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লি (আর্সেনাল), ইগর থিয়াগো (ব্রেন্টফোর্ড), লুইস এনরিকে (জেনিত), মাথেউস কুনিয়া (ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড), নেইমার (সান্তোস), রাফিনিয়া (বার্সেলোনা), রায়ান (বোর্নমাউথ), ভিনিসিয়ুস জুনিয়র (রিয়াল মাদ্রিদ)।

সিলেট টেস্টটা জিততে হলে এখন পাকিস্তানকে রেকর্ড বইয়ে ওলটপালট করতে হবে। নিজেদের ইতিহাস তো দূর, টেস্ট ক্রিকেটের ১৫০ বছরের ইতিহাসেই কখনো ৪৩৬ রান তাড়া করে জেতার ঘটনা নেই। ২০০৩ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সর্বোচ্চ ৪১৮ রান করেছিল ইংল্যান্ডের বিপক্ষে। এ ছাড়া যে তিনবার টেস্টে চার শর বেশি রান তাড়া হয়েছে, সেগুলোর সর্বশেষ ঘটনাটিও ১৮ বছর আগের। এমন পরিস্থিতিতে বোলিং দলের নির্ভার হওয়ার কথা থাকলেও বাংলাদেশ তা নয়।

সিলেট টেস্টের তৃতীয় দিন শেষে সংবাদ সম্মেলনে এসে তাইজুল ইসলাম বললেন, ‘আরও একটু লম্বা করতে পারলে হয়তো দলের জন্য ভালো হতো। কারণ, উইকেট এখনো (ব্যাটিংয়ের জন্য) ভালো। আমরা যদি আরও কিছু জুটি গড়তে পারতাম, হয়তো ভালো হতো।’

দ্বিতীয় ইনিংসে সেঞ্চুরি করে মুশফিকুর রহিমই বাংলাদেশের লিডটা ৪০০ পার করে দিতে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছেন। তবু শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে আউট হওয়ার পর তাঁকে হতাশই দেখা গেছে। বাউন্ডারি লাইন পার করে হতাশায় হেলমেটও ছুড়ে মেরেছেন ১৩৭ রান করা মুশফিক। সেটি কি আরও কিছু রান করতে না পারার কারণে?
তাইজুল উত্তরে বলেছেন, ‘আমরা যদি স্কোরবোর্ডে আরও ২০-৩০-৪০ রান যোগ করতে পারতাম হয়তো দলের জন্য ভালো হতো। এখানে হতাশার কিছু নেই। কারণ, সব সময় যে ১০০% (চাওয়ামতো) হবে, এমনটাও নয়।’

মুশফিকের সঙ্গে ৭৭ রানের জুটির পথে ২২ রান করেন তাইজুল ইসলাম
মুশফিকের সঙ্গে ৭৭ রানের জুটির পথে ২২ রান করেন তাইজুল ইসলাম
 

যেহেতু বাংলাদেশ স্কোরবোর্ডে কিছু রান কম হয়েছে মনে করছে, চ্যালেঞ্জটা তাই বোলারদেরই বেশি। তাইজুলও তাঁদের একজন। নিজেদের ঠিকঠাক বোলিং করতে হবে, তা মনে করালেও এই বাঁহাতি স্পিনার আবার এটাও বলেছেন, কাজটা সহজ হবে না পাকিস্তানের জন্যও, ‘এটা চতুর্থ ইনিংস। উইকেট এখনো ভালো আছে। কিন্তু দিন শেষে আমাদের লক্ষ্যটা (কত) দেখতে হবে। তারা যখন (কত রানের লক্ষ্য এই) সংখ্যাটা দেখবে হয়তো মাথায় অনেক কিছু কাজ করতে পারে। উইকেট যে রকম ভালো আছে, সে রকম আমাদেরও শৃঙ্খলা মেনে বোলিং করতে হবে।’

পাকিস্তান তাদের ইতিহাসে কখনো ৪০০–এর বেশি রান তাড়া করে জিততে পারেনি। ২০১৫ সালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ৩৭৭ রান তাড়াই তাদের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। এখন সেই রেকর্ড ভাঙতে তো হবেই, গড়তে হবে নতুন বিশ্ব রেকর্ড। আজ ২ ওভার খেলে কোনো রান হারিয়ে শূন্য রান করা পাকিস্তান কতটা আত্মবিশ্বাসী?

এমন প্রশ্নের উত্তরে পাকিস্তানের হয়ে সংবাদ সম্মেলনে আসা উমর গুল যা বললেন, তাতে আশাবাদের ছাপই বেশি, ‘এখনো দুই দিন আছে, যদিও বৃষ্টির সম্ভাবনা আছে, কিন্তু আমরা মানসিকভাবে তৈরি যে যথেষ্ট সময় হাতে আছে। আমরা যদি পুরোটা সময় ব্যাট করতে পারি, তাহলে জেতার সুযোগ আছে। আমরা ড্র করতে চাইছি না। আমরা রান তাড়ার জন্য প্রস্তুত আছি।’

সে জন্য দলের ব্যাটসম্যানদের কী করতে হবে, তা–ও বলে গেছেন এই পেস বোলিং কোচ গুল, ‘দুই–তিনটা ভালো জুটি গুরুত্বপূর্ণ। ৪৩৭ রান তাড়া করতে আপনাকে সাহসী হতে হবে আর ইতিবাচক ক্রিকেট খেলতে হবে। ক্রিকেটে সবকিছুই সম্ভব, দুই দলেরই সম্ভাবনা আছে।’

২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের জন্য ২৬ সদস্যের দল ঘোষণা করেছে ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো (ডিআর কঙ্গো)। ৫২ বছর পর বিশ্বকাপে ফিরতে যাওয়া দলটির চূড়ান্ত স্কোয়াড ঘোষণা করেছেন কোচ সেবাস্তিয়ান দেসাব্রে। ডিআর কঙ্গোর বিশ্বকাপ দলে সুযোগ পেয়েছেন অভিজ্ঞ খেলোয়াড় গায়েল কাকুতা।

আগামী মাসে কানাডা, মেক্সিকো ও যুক্তরাষ্ট্রে শুরু হতে যাওয়া বিশ্বকাপের চূড়ান্ত পর্ব চলাকালীন ৩৫ বছরে পা দেবেন কাকুতা। গত দুই বছরে কঙ্গোর হয়ে তিনি খেলেছেন মাত্র দুটি ম্যাচ। বছরের শুরুতে মরক্কোয় অনুষ্ঠিত আফ্রিকা কাপ অব নেশনসের চূড়ান্ত পর্বে বিকল্প হিসেবে তাঁকে দলে নেওয়া হয়েছিল।

তবে গত মার্চে মেক্সিকোয় অনুষ্ঠিত আন্তমহাদেশীয় প্লে-অফে জ্যামাইকাকে হারিয়ে দশম আফ্রিকান দেশ হিসেবে কঙ্গো যখন ২০২৬ বিশ্বকাপের টিকিট নিশ্চিত করে, তখন কাকুতা দলে ছিলেন না। ফলে অনেকেই তাঁর ক্যারিয়ারের শেষ দেখে ফেলেছিলেন।

কাকুতা একসময় চেলসির উদীয়মান বিস্ময়বালক ছিলেন। কিশোর বয়সে ফ্রান্স থেকে তাঁর চেলসিতে যোগ দেওয়া নিয়ে বেশ আলোচনা হয়েছিল। তবে স্ট্যামফোর্ড ব্রিজে তিনি প্রত্যাশা অনুযায়ী জ্বলে উঠতে পারেননি। এর পর থেকে তিনি ৯টি ভিন্ন দেশের ১৫টি ক্লাবের হয়ে খেলেছেন। বর্তমানে তিনি গ্রিক ক্লাব লারিসায় খেলেন।

আজ দল ঘোষণার সময়ে কোচ বলেছেন, ‘আমরা সবাই প্রায় চার বছর ধরে একসঙ্গে আছি। বিশ্বকাপ কোনো পরীক্ষা-নিরীক্ষা বা খেলোয়াড় তৈরি করার জায়গা নয়।’ ১৯৭৪ সালের পর আবার বিশ্বকাপে ফিরে দলটির লক্ষ্য শেষ ৩২–এ যাওয়া। এ বিষয়ে কোচ বলেন, ‘আমরা আমাদের সেরা ফুটবলটা খেলতে চাই—লক্ষ্য প্রথম পর্ব পার হওয়া। আমি বিশ্বাস করি, এই সামর্থ্য আমাদের আছে।’

বিশ্বকাপে ডিআর কঙ্গো খেলবে ‘কে’ গ্রুপে—প্রতিপক্ষ পর্তুগাল, কলম্বিয়া ও উজবেকিস্তান।

ডিআর কঙ্গোর বিশ্বকাপ স্কোয়াড:

গোলকিপার: ম্যাথিউ ইপোলো, টিমোথি ফায়ুলু, লিওনেল এমপাসি
ডিফেন্ডার: ডিলান বাতুবিৎসিকা, রকি বুশিরি, গেডন কালুলু, স্টিভ কাপুয়াদি, জোরিস কায়েম্বে, আর্থার মাসুয়াকু, চ্যান্সেল এমবেম্বা, অ্যাক্সেল তুয়ানজেবে, অ্যারন ওয়ান-বিসাকা
মিডফিল্ডার: থিও বঙ্গোন্ডা, ব্রায়ান সিপেঙ্গা, মেশাক এলিয়া, গায়েল কাকুতা, ইডো কায়েম্বে, নাথানিয়েল এমবুকু, স্যামুয়েল মুতুসামি, এনগালায়েন মুকাউ, চার্লস পিকেল, নোয়াহ সাদিকি
ফরোয়ার্ড: সেড্রিক বাকাম্বু, সাইমন বানজা, ফিস্তোন মায়েলে, ইয়োয়ান উইসা।

শেষ হচ্ছে অপেক্ষা, আর মাত্র কয়েক ঘণ্টা পর ব্রাজিলের বিশ্বকাপ স্কোয়াড ঘোষণা করবেন কার্লো আনচেলত্তি। যেখানে সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হতে যাচ্ছে নেইমার ইস্যু। পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত যে, শুধু বিশ্বকাপ দল ঘোষণা কাভার করতে ১৩টি দেশের প্রায় ৭০০ সাংবাদিক ব্রাজিলের পাড়ি জমিয়েছেন।

বাংলাদেশ সময় সোমবার (১৮ মে) দিবাগত রাত ২টায় রিও ডি জেনেইরোর বিখ্যাত মিউজিয়াম অব টমোরোতে আনুষ্ঠানিকভাবে বিশ্বকাপের জন্য ব্রাজিলের চূড়ান্ত দল ঘোষণা করবেন কোচ আনচেলত্তি।

সেলেসাওদের বিশ্বকাপে দল ঘোষণা কাভার করতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে প্রায় ৭০০ সাংবাদিক উপস্থিত থাকবেন। ব্রাজিলিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনের (সিবিএফ) বরাতে এমনটাই জানিয়েছে দেশটির জনপ্রিয় সংবাদমাধ্যম ও’গ্লোবো। 

সিবিএফ জানিয়েছে, অনুষ্ঠানটি দুই ভাগে আয়োজন করা হবে। মূল মঞ্চে প্রায় এক হাজার মানুষের বসার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে, যেখানে সাংবাদিকদের পাশাপাশি অতিথি ও পৃষ্ঠপোষকরাও থাকবেন। এ ছাড়া আলাদা একটি অডিটোরিয়ামে সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেবেন আনচেলত্তি।

৩৪০ আসনের ওই অডিটোরিয়ামে থাকছে বিশেষ কিছু নিয়মও। ক্যামেরাপারসন ও সাউন্ড টেকনিশিয়ানদের নির্ধারিত স্থানে সরঞ্জাম বসাতে হবে। ফটোগ্রাফারের সংখ্যাও সীমিত রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রতিটি টিভি চ্যানেলকে মাত্র একটি ক্যামেরা ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

ব্রাজিলের বিশ্বকাপে দল ঘোষণা কাভার করতে ব্রাজিলের বাইরে আরও ১৩টি দেশের সাংবাদিক নিবন্ধন করেছেন। তালিকায় রয়েছে আর্জেন্টিনা, চিলি, যুক্তরাষ্ট্র, এল সালভাদর, ইংল্যান্ড, স্কটল্যান্ড, রাশিয়া, ইতালি, স্পেন, চীন, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাংলাদেশ ও জাপান।

 

৫ গোলের রোমাঞ্চকর এক লড়াইয়ে নটিংহাম ফরেস্টকে ৩–২ গোলে হারিয়েছে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। ঘরের মাঠে আজ রাতে ইউনাইটেডের জয়ের পথে নতুন রেকর্ড গড়েছেন ব্রুনো ফার্নান্দেজ। এক মৌসুমে সবচেয়ে বেশি গোলে সহায়তার রেকর্ডে ভাগ বসিয়েছেন তিনি।

ওল্ড ট্রাফোর্ডে ম্যাচের ৭৫ মিনিটে ফার্নান্দেজের ডান দিক থেকে দেওয়া ক্রস থেকে ‘রেড ডেভিল’দের হয়ে তৃতীয় গোলটি করেন ব্রায়ান এমবেউমো। এর মধ্য দিয়ে এক মৌসুমে ২০ অ্যাসিস্টে পৌঁছে যান ফার্নান্দেজ। যার ফলে তিনি ছুঁয়ে ফেলেছে শীর্ষে থাকা সাবেক আর্সেনাল তারকা থিয়েরি অঁরি (২০০২–০৩ মৌসুম) ও ম্যানচেস্টার সিটি কিংবদন্তি কেভিন ডি ব্রুইনাকে (২০১৯–২০)।

লিগে এখনো ইউনাইটেডের এক ম্যাচ বাকি আছে। অর্থাৎ বাকি দুজনকে পেছনে ফেলে এককভাবে শীর্ষে ওঠার সুযোগ আছে ফার্নান্দেজের। পর্তুগিজ মিডফিল্ডারের রেকর্ডছোঁয়া রাতে এমবেউমো ছাড়া ইউনাটেডের অন্য গোল দুটি আসে লুক শ ও মাতেউস কুনহার কাছ থেকে। আর নটিংহাম ফরেস্টের হয়ে গোল করেন মোরাতো ও মরগান গিভস–হোয়াইট।

এই ম্যাচটা বিশেষ হয়ে থাকবে ব্রাজিলিয়ান তারকা কাসেমিরোর জন্যও। ম্যাচে ৭৯ মিনিটে বদলি হিসেবে মাঠ ছাড়ার সময় পুরো ওল্ড ট্রাফোর্ড দাঁড়িয়ে সম্মান জানায় এই মিডফিল্ডারকে। মৌসুম শেষেই ইউনাইটেডকে বিদায় জানাবেন অভিজ্ঞ এই ফুটবল তারকা।

কাসেমিরো ও ফার্নান্দেজের উদ্‌যাপন
কাসেমিরো ও ফার্নান্দেজের উদ্‌যাপনরয়টার্স

এই জয়ের মধ্য দিয়ে ৩৭ ম্যাচে ৬৮ পয়েন্ট নিয়ে প্রিমিয়ার লিগে তৃতীয় স্থান নিশ্চিত করেছে মাইকেল ক্যারিকের ইউনাইটেড। তবে ধ্বংসস্তূপ থেকে দলটিকে টেনে তোলা ক্যারিককে এখনো স্থায়ী কোচ হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়নি।

ম্যাচটি জিতে দলীয়ভাবেও অসাধারণ একটি মাইলফলক স্পর্শ করেছে ইউনাইটেড। ১৯৮৪ সাল থেকে এখন পর্যন্ত টানা ৪০০ ম্যাচে প্রথমার্ধে এগিয়ে থাকার পর কখনো হারেনি ইউনাইটেড। ৩৬৫ ম্যাচ জিতেছে ও বাকি ৩৫ ম্যাচে ড্র করেছে।

দেশের দ্রুততম মানবের খেতাব নিজের দখলেই রাখলেন ট্র্যাক অ্যান্ড ফিল্ডের রাজা ইমরানুর রহমান। অন্যদিকে, গত সামার প্রতিযোগিতার ধাক্কা সামলে মেয়েদের ট্র্যাকে নিজের হারানো মুকুট পুনরুদ্ধার করেছেন শিরিন আক্তার। আজ ঢাকা জাতীয় স্টেডিয়ামে শুরু হওয়া ৪৯তম জাতীয় অ্যাথলেটিকসের প্রথম দিনেই ১০০ মিটার স্প্রিন্টে নিজ নিজ ইভেন্টে শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করেন এই দুই তারকা।

পুরুষদের ১০০ মিটার স্প্রিন্টে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর ইমরানুর রহমান যথারীতি সহজেই জিতেছেন। ঘড়ির কাঁটা ১০.৫৮ সেকেন্ড ছুঁতেই ফিনিশিং লাইন পার হন তিনি। এই ইভেন্টে ১০.৮৬ সেকেন্ড সময় নিয়ে দ্বিতীয় হয়েছেন নৌবাহিনীরই মোহাম্মদ ইসমাইল। আর ১০.৯১ সেকেন্ড টাইমিং করে তৃতীয় হয়েছেন বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর নাইম ইসলাম।

ইমরানুর রহমান যথারীতি সহজেই জিতেছেন। ঘড়ির কাঁটা ১০.৫৮ সেকেন্ড ছুঁতেই ফিনিশিং লাইন পার হন তিনি।
ইমরানুর রহমান যথারীতি সহজেই জিতেছেন। ঘড়ির কাঁটা ১০.৫৮ সেকেন্ড ছুঁতেই ফিনিশিং লাইন পার হন তিনি।অ্যাথলেটিকস ফেডারেশন

সর্বশেষ গত আগস্টে জাতীয় সামার অ্যাথলেটিকসে ১০.৬৪ সেকেন্ড সময় নিয়ে প্রথম হয়েছিলেন ইমরানুর। সেই তুলনায় এবার তাঁর টাইমিংয়ে কিছুটা উন্নতি হয়েছে। ২০২২ সাল থেকে এ পর্যন্ত দেশের মাটিতে টানা ৭টি প্রতিযোগিতার মধ্যে ৬টিতে অংশ নিয়ে সবগুলোই জিতেছেন ইমরানুর।

বাংলাদেশের কারও কাছে হেরে যাওয়ার কোনো শঙ্কা কাজ করছিল কি না—এমন প্রশ্নে আত্মবিশ্বাসী ইমরানুর বলেন, তিনি তাঁর সতীর্থদের সম্মান করেন, তবে নিজের ওপর বিশ্বাস ছিল যে ভালো করবেন এবং প্রথম হবেন। চোট কাটিয়ে ট্র্যাকে ফিরেই এই সাফল্য পাওয়ায় বেশ উচ্ছ্বসিত দেখায় দেশের এই দ্রুততম মানবকে। এটি তাঁর ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ দ্রুততম মানবের খেতাব। এক প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘সামনে এশিয়ান ও কমনওয়েলথ এবং আগামী বছর এসএ গেমস আছে। ধাপে ধাপে আমি এগোতে চাই। আশা করি এই গেমসগুলোয় ভালো করতে পারব।’

১২.১০ সেকেন্ড সময় নিয়ে তিনি আবারও দেশের দ্রুততম মানবী হয়েছেন শিরিন।
১২.১০ সেকেন্ড সময় নিয়ে তিনি আবারও দেশের দ্রুততম মানবী হয়েছেন শিরিন।অ্যাথলেটিকস ফেডারেশন

এদিকে গত আগস্টে জাতীয় সামার অ্যাথলেটিকসে সুমাইয়া দেওয়ানের কাছে হেরে মুকুট হারিয়েছিলেন শিরিন আক্তার। সেবার সুমাইয়ার ১২.১৯ সেকেন্ডের বিপরীতে শিরিনের টাইমিং ছিল ১২.২১ সেকেন্ড। এবার জাতীয় অ্যাথলেটিকসে ১২.১০ সেকেন্ড সময় নিয়ে আবারও দেশের দ্রুততম মানবী হয়েছেন শিরিন। অন্যদিকে সামার অ্যাথলেটিকসের চ্যাম্পিয়ন সুমাইয়া এবার সেরা তিনেই থাকতে পারেননি, হয়েছেন চতুর্থ।

এটি শিরিন আক্তারের ক্যারিয়ারের ১৭তম দ্রুততম মানবীর খেতাব। আর এই জয়ের মধ্য দিয়ে তিনি ছুঁয়ে ফেলেছেন দেশের সাবেক কৃতী স্প্রিন্টার নাজমুন নাহার বিউটির ১৭ বার দ্রুততম মানবী হওয়ার রেকর্ড। আজ স্টেডিয়ামে উপস্থিত থেকে শিরিনের এই রেকর্ড ছোঁয়া নিজের চোখে দেখেন বিউটি। শিরিনকে অভিনন্দন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘শিরিন আমার ১৭ বারের রেকর্ড ছুঁয়েছে, তাই ওকে অভিনন্দন জানাই এবং আশা করি সে সামনে আরও ভালো করবে।’

সেরা হয়ে শিরিনের উদযাপন।
সেরা হয়ে শিরিনের উদযাপন।অ্যাথলেটিকস ফেডারেশন

মুকুট ফিরে পাওয়ার পর মিশ্র এক অনুভূতি প্রকাশ করেন শিরিন আক্তার। গত বছর বিয়ের পিঁড়িতে বসা শিরিনের জন্য এটিই বিয়ের পর প্রথম সাফল্য। ট্র্যাকে এতই মগ্ন ছিলেন যে বিয়ের কথা মনে করিয়ে দিতেই হেসে বলেন, ‘আমি তো ভুলেই গিয়েছিলাম যে বিয়ে করেছি!’
খেলাধুলার পাশাপাশি নিজের পড়াশোনা নিয়েও বড় পরিকল্পনা রয়েছে শিরিনের। উচ্চশিক্ষার জন্য দেশের বাইরে পিএইচডি করার ইচ্ছা আছে তাঁর। ১৭তম বার চ্যাম্পিয়ন হয়ে বিউটির রেকর্ড ছোঁয়া প্রসঙ্গে বলেন, ‘আমি বিউটি আপারটা জানি না। তবে এটা আমি ১৭ বার দ্রুততম মানবী হয়েছি।’ এমন সাফল্যের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে বলেন, ‘১০০ মিটারে প্রথম হওয়াটা দারুণ ভালো লাগার।’

গতবার ১০০ মিটারে হেরে কিছু কথা বলে ফেলেছিলেন ট্র্যাকে, তার জন্য সবার কাছে ক্ষমা চান তিনি। আজ সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, সবাই তাঁর প্রতি বিশ্বাস রেখেছেন এবং সমর্থন দিয়েছেন। এই সাফল্যের পেছনে কোচ আবদুল্লাহেল কাফি, বাংলাদেশ নৌবাহিনী, বিকেএসপি, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়সহ সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদ দেন তিনি।

আঁতোয়ান সেমেনিয়োর জাদুকরী এক গোলে চেলসিকে হারিয়ে এফএ কাপের শিরোপা ঘরে তুলল ম্যানচেস্টার সিটি। শনিবার (১৬ মে) লন্ডনের ওয়েম্বলি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত রোমাঞ্চকর ফাইনালে ব্লুজদের ১-০ ব্যবধানে হারিয়ে ঘরোয়া কাপ ডাবল পূর্ণ করল পেপ গার্দিওলার শিষ্যরা। গত মার্চে লিগ কাপ জয়ের পর এটি সিটির চলতি মৌসুমের দ্বিতীয় ট্রফি।

টানটান উত্তেজনার এই ম্যাচের প্রথমার্ধ গোলশূন্য থাকার পর ডেডলক ভাঙেন ঘানার ফরোয়ার্ড সেমেনিয়ো। গত জানুয়ারিতে ম্যান সিটিতে যোগ দেওয়া এই তারকা ম্যাচের ৭২তম মিনিটে আর্লিং হালান্ডের ক্রস থেকে নিখুঁত ব্যাক-হিলে চেলসির গোলরক্ষক রবার্ট সানচেজকে পরাস্ত করেন। গোলটি উদযাপনে ফেটে পড়ে পুরো ওয়েম্বলি। চেলসির হয়ে এনজো ফার্নান্দেজ, জোয়াও পেদ্রো এবং লিয়াম ডেলাপ বেশ কয়েকটি সুযোগ পেলেও গোল করতে ব্যর্থ হন। 

ম্যানসিটিতে এটিই শেষ মৌসুম হতে যাচ্ছে অধিনায়ক বার্নার্ডো সিলভা ও ডিফেন্ডার জন স্টোনসের। প্রিন্স উইলিয়ামের হাত থেকে ট্রফি নেওয়ার পর এই দুই তারকা একসঙ্গেই তা উঁচিয়ে ধরেন। এই জয়কে অত্যন্ত স্পেশাল বলে উল্লেখ করেন এবং প্রিমিয়ার লিগ জয়ের স্বপ্ন এখনো বেঁচে আছে বলে জানান বিদায়ী অধিনায়ক সিলভা। লিগ টেবিলে আর্সেনালের চেয়ে মাত্র ২ পয়েন্ট পিছিয়ে থাকা সিটি আগামী মঙ্গলবার মুখোমুখি হবে বোর্নমাউথের। 

এদিকে, চেলসির জন্য এটি ছিল টানা সপ্তম ঘরোয়া কাপ ফাইনালের পরাজয়। ব্লুজদের আমেরিকান মালিকপক্ষ ‘ব্লুকো’ যখন অন্তর্বর্তীকালীন কোচ ক্যালাম ম্যাকফার্লেনের জায়গায় নতুন ফুল-টাইম ম্যানেজার খুঁজছে, ঠিক তখন এই হার তাদের আগামী মৌসুমে ইউরোপিয়ান ফুটবলে খেলার আশাকে আরও ক্ষীণ করে দিল।

অন্যদিকে, ১০ বছরে সিটিকে অষ্টম এফএ কাপ এনে দিয়ে পেপ গার্দিওলা হয়তো ক্লাব ছাড়ার সেরা মঞ্চটি তৈরি করে নিলেন, আর চেলসিকে ডুবালেন আরেক মৌসুমের হতাশায়।

 

বিশ্বকাপ ফুটবলের অফিসিয়াল থিম সং হিসেবে মুক্তি পেল প্রখ্যাত কণ্ঠশিল্পী শাকিরা ও নাইজেরিয়ান সংগীতশিল্পী বুর্না বয়ের কণ্ঠে গাওয়া ‘দাই দাই’ গানটি। সপ্তাহখানেক আগে এক মিনিট ৭ সেকেন্ডের টিজারে ঝলক দেখান কলম্বিয়ান পপ তারকা শাকিরা।

গানটি মুক্তির ঘোষণা দিয়ে শুক্রবার (১৫ মে) ফিফা জানিয়েছে, এর থেকে প্রাপ্ত রয়্যালটি জমা হবে তাদের গ্লোবাল সিটিজেন এডুকেশন ফান্ডে। বিশ্বজুড়ে শিশুদের মানসম্মত শিক্ষা ও ফুটবলে সুযোগ তৈরির লক্ষ্যে এই অর্থ ব্যয় করা হবে, আর টুর্নামেন্ট শেষে প্রায় ১০ কোটি ডলার সংগ্রহের লক্ষ্য রয়েছে সংস্থাটির।

যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে হবে বিশ্বকাপ ইতিহাসের সবচেয়ে বড় আসর। ১১ জুন থেকে শুরু হয়ে চলবে ১৯ জুলাই পর্যন্ত। ফিফা জানিয়েছে, নিউ জার্সিতে অনুষ্ঠিত ফাইনালের হাফ টাইমে ম্যাডোনা, শাকিরা ও কোরিয়ান পপ গ্রুপ বিটিএস ভক্ত-সমর্থকদের আনন্দে মাতাবেন। তার আগ পর্যন্ত তাদের হৃদয়ে ঢেউ তুলবে ৩ মিনিট ৪৫ সেকেন্ডের ‘দাই দাই’।

বিশ্বকাপের মঞ্চে শাকিরা অবশ্য নতুন মুখ নন। ২০১০ সালের ‘ওয়াকা ওয়াকা’ থিম সং দিয়ে তিনি ব্যাপক জনপ্রিয়তা পান। এছাড়া ২০০৬ ও ২০১৪ সালের বিশ্বকাপ ফাইনালেও তার পারফরম্যান্স মাতিয়েছিল দর্শকদের।