বিশ্বকাপ শুরুর আগেই বড় ধাক্কা খেল জাপান। চোটের কারণে কাওরু মিতোমাকে ছাড়াই আজ বিশ্বকাপের চূড়ান্ত দল ঘোষণা করেন ‘ব্লু সামুরাই’দের কোচ হাজিমে মোরিয়াসু। ২৬ জনের স্কোয়াড ঘোষণার পর উইঙ্গার মিতোমাকে দলে না পাওয়ার হতাশায় বেশ আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন এই জাপানি কোচ। মোরিয়াসুর ভাষায়, মিতোমার অনুপস্থিতিতে জাপান এক ‘বড় ভরসা’কে হারাল।

গত সপ্তাহে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে উলভারহ্যাম্পটনের বিপক্ষে ব্রাইটনের ৩-০ গোলে জয়ের ম্যাচে হ্যামস্ট্রিংয়ে চোট পান মিতোমা। জাপানের মেডিক্যাল টিম পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে জানিয়েছে, বিশ্বকাপের আগে ব্রাইটন উইঙ্গারের সেরে ওঠার মতো পর্যাপ্ত সময় নেই।

ফলে ২৮ বছর বয়সী এই তারকাকে স্কোয়াডের বাইরে রেখেই পরিকল্পনা সাজাতে হয় কোচকে। অথচ গত মার্চেই ওয়েম্বলিতে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে জাপানের ১-০ গোলের জয়ের নায়ক ছিলেন মিতোমা।

আগামী ১১ জুন শুরু হবে বিশ্বকাপ। এবার আয়োজক দেশ যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডা। ‘এফ’ গ্রুপে জাপানের প্রতিপক্ষ নেদারল্যান্ডস, সুইডেন ও তিউনিসিয়া। ১৪ জুন টেক্সাসের আর্লিংটনে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে জাপান।

টোকিওতে প্রায় ৩০০ সংবাদকর্মীর সামনে ২৬ সদস্যের চূড়ান্ত দল ঘোষণার সময় বাদ পড়া খেলোয়াড়দের কথা বলতে গিয়ে মোরিয়াসুর চোখ ছলছল করে ওঠে। তবে দলে ব্যাকআপ খেলোয়াড়দের ওপর পূর্ণ আস্থা রয়েছে তাঁর। মোরিয়াসু বলেন, ‘যাঁরা জাপানের খেলা দেখেছেন, তাঁরা সবাই জানেন, দলে মিতোমা কত বড় এক ভরসা।

তবে গত বছর আমরা যখন প্রীতি ম্যাচে ব্রাজিলকে প্রথমবারের মতো হারালাম, তখনো কিন্তু মিতোমা দলে ছিলেন না। এটাই আমাদের দলের মূল মন্ত্র—যে–ই একাদশে আসুক না কেন, দল যেন তার সেরা পারফরম্যান্সটাই ধরে রাখতে পারে।’

‘ব্লু সামুরাই’দের কোচ হাজিমে মোরিয়াসু
‘ব্লু সামুরাই’দের কোচ হাজিমে মোরিয়াসুরয়টার্স

সর্বশেষ ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে জার্মানি ও স্পেনকে হারিয়ে জাপানের রূপকথা লেখার পেছনে বড় ভূমিকা ছিল মিতোমার। সেবার শেষ ষোলোতে ক্রোয়েশিয়ার কাছে টাইব্রেকারে হেরে বিদায় নিয়েছিল তারা। মিতোমার ছিটকে যাওয়া নিয়ে মোরিয়াসু বলেন, ‘অন্য যেকোনো মানুষের চেয়ে এই ধাক্কা তাকে বেশি পোড়াবে। আমি আশা করি, এই মানসিক কষ্ট কাটিয়ে সে দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠবে এবং চেনা ছন্দে মাঠে ফিরবে।’

মিতোমা ছাড়াও চোটের কারণে স্কোয়াড থেকে ছিটকে গেছেন মোনাকো ফরোয়ার্ড তাকুমি নামামিনো। গত ডিসেম্বরের শেষের দিকে বাঁ হাঁটুর এসিএল (অ্যান্টেরিওর ক্রুসিয়েট লিগামেন্ট) ছিঁড়ে যাওয়ায় মাঠের বাইরে ছিটকে পড়েন।

চোটে ২০২৪ সালের জুনের পর জাপানের হয়ে কোনো ম্যাচ না খেললেও আয়াক্স ডিফেন্ডার তাকেহিরো তোমিয়াসুকে দলে রাখা হয়েছে। এ ছাড়া দলে আছেন ক্রিস্টাল প্যালেসের দাইচি কামাদা, লিভারপুলের ওয়াতারু এনদো এবং রিয়াল সোসিয়েদাদের তাকেফুসা কুবো।

গত মার্চে গ্লাসগোতে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ১-০ গোলের জয়ের ম্যাচে আন্তর্জাতিক ফুটবলে অভিষিক্ত ভলফসবুর্গের কেন্টো শিওগাই ডাক পেয়েছেন বিশ্বকাপ স্কোয়াডে। এ ছাড়া ৩৯ বছর বয়সে নিজের পঞ্চম বিশ্বকাপ খেলতে যাচ্ছেন অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার ইউতো নাগাতোমো।

মিতোমার অনুপস্থিতি সত্ত্বেও বিশ্বকাপ জয়ের লক্ষ্য থেকে সরছেন না মোরিয়াসু, ‘বিশ্বকাপ অবশ্যই এক বিশেষ মঞ্চ, তবে সে জন্য আমরা আমাদের কাজের ধরন বদলে ফেলব না। আমি বিশ্বাস করি, বিশ্বকাপ আমাদের দীর্ঘ প্রক্রিয়ারই একটি অংশ এবং আমি খেলোয়াড়দের সব সময় বলি যে প্রক্রিয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।’

জাপানের বিশ্বকাপ স্কোয়াড:

গোলকিপার: জিওন সুজুকি, কেইসুকে ওসাকো, তোমোকি হায়াকাওয়া। ডিফেন্ডার: ইউতো নাগাতোমো, শোগো তানিগুচি, কো ইতাকুরা, সুয়োশি ওয়াতানাবে, তাকেহিরো তোমিয়াসু, হিরোকি ইতো, আয়ুমু সেকো, ইউকিনারি সুগাওয়ারা, জুন্নোসুকে সুজুকি। মিডফিল্ডার/ফরোয়ার্ড: ওয়াতারু এনদো, জুনিয়া ইতো, দাইচি কামাদা, কোকি ওগাওয়া, দাইজেন মায়েদা, রিতসু দোয়ান, আয়াসে উয়েদা, আও তানাকা, কেইতো নাকামুরা, কাইশু সানো, তাকেফুসা কুবো, ইউইতো সুজুকি, কেন্টো শিওগাই, কেইসুকে গোতো।

গত বছর চ্যাম্পিয়নস ট্রফির পর আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় বলে দিয়েছিলেন ওয়ানডেকে, তারও তিন বছর আগে টি–টুয়েন্টি সংস্করণ থেকেও সরে দাঁড়ান। ৩৯ বছর বয়সী মুশফিকুর রহিম এখন খেলেন শুধু টেস্টে। এ সংস্করণে পারফর্ম করছেন নিয়মিত, তাঁর ফিটনেস নিয়ে তো প্রশ্ন ছিল না কখনোই।

এর মধ্যে গত বছর ওয়ানডে দলও পরপর চারটা সিরিজ হেরেছিল। ভালো করতে পারছিল না মিডল অর্ডার। মুশফিকুর রহিমকে তাই ওয়ানডেতে আবারও ফেরার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। তাতে অবশ্য সাড়া দেননি।

কেন? সিলেটে পাকিস্তানের বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্টের আগে আজ সংবাদ সম্মেলনে উত্তর দিলেন মুশফিক, ‘ওয়ানডে ক্রিকেটে যেটা বললেন, আমার কাছে (প্রস্তাব) এসেছিল। কিন্তু আমি মনে করি, বাংলাদেশ দল ইনশা আল্লাহ এমন একটা পর্যায়ে এখন আছে এবং ভবিষ্যতেও যাবে, আমি মনে করি যে আমার ও রকম সার্ভিস দরকার হবে না।’

বাংলাদেশের তিন সংস্করণে অধিনায়ক ছিলেন মুশফিক। দেশের হয়ে ২৭৪ ওয়ানডে খেলে তাঁর সেঞ্চুরি ৯টি, ৩৬.৪২ গড়ে করেছেন ৭৭৯৫ রান। তবে এখন আর রঙিন পোশাকের ক্রিকেটে ফেরার পরিকল্পনা নেই তাঁর। গত দেড় দশক আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের ব্যস্ততায় পরিবারকে সময় দিতে পারেননি, সেটি করতে পেরেই খুশি মুশফিক।

সিলেটে অনুশীলনের ফাঁকে মুশফিক
সিলেটে অনুশীলনের ফাঁকে মুশফিক
 

টেস্ট ক্রিকেটেও এখন বেশ ভালো করছে বাংলাদেশ, মুশফিক সেটা উপভোগও করছেন। সর্বশেষ মিরপুর টেস্টেও পাকিস্তানকে হারানোর পথে দুই ইনিংসে ৭১ ও ২২ রানের ইনিংসে দলের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

লম্বা ক্যারিয়ারে ৬ বছরে ৩৪ টেস্টে অধিনায়কও ছিলেন মুশফিক। দুই দশক আর ১০২ ম্যাচের ক্যারিয়ারে এই সংস্করণে তিনি সাক্ষী হয়েছেন অনেক উত্থান–পতনেরও।

মুশফিক মনে করেন, ধারাবাহিকতা বিবেচনায় টেস্টে এখনই সেরা দল বাংলাদেশের।
মুশফিক বলেন, ‘আগেও অনেক দারুণ ব্যক্তিগত পারফরমার ছিল। কিন্তু সব মিলিয়ে আপনি যদি বলেন ধারাবাহিকতার দিক থেকে, যদি আপনি খেয়াল করে দেখেন, অবশ্যই এখন যে টেস্ট দলটা খেলছে, সব সময়ের চেয়ে বেশি ধারাবাহিক। আগে আমরা এক বছরে গড়ে হয়তো সর্বোচ্চ তিনটা টেস্ট খেলতাম, এ রকম হলে ফল পাওয়া খুব কঠিন। এখন ৮–১০টা খেলি, আগের থেকে এটা ভালো।’

এখন পারফরমারের সংখ্যাও বেশি বলে মনে করেন মুশফিক, ‘এখন যারা আছে, তারা অভিজ্ঞ। সেদিক থেকে বলব, তারা তাদের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে, তারা পারফর্ম করছে, যেটা আমি বললাম একটু আগে যে পারফরমারের সংখ্যাটা অনেক বেশি। পারফরমারের সংখ্যা যখন একটা দলে ৫ থেকে ৭–৮ জন হবে, সেই দলটা যেকোনো সংস্করণেই হোক তারা ভালো করবে।’

কতদিন খেলবেন, সে বিষয়ে এখনো সিদ্ধান্ত নেননি মুশফিক
কতদিন খেলবেন, সে বিষয়ে এখনো সিদ্ধান্ত নেননি মুশফিক
 

বয়স এখন চল্লিশ চলছে। বাংলাদেশের প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে ১০০ টেস্টও খেলেছেন। আর কত দিন ক্রিকেট খেলতে চান? এমন প্রশ্নের উত্তরে মুশফিক বলেছেন, ‘আপাতত কোনো লক্ষ্য নেই। কালকের ম্যাচটাই শেষ হয়ে যেতে পারে আবার...বাকিটা উপরওয়ালা জানে। মৃত্যুর আগে শেষ কয়টা দিন বেঁচে থাকার খুব ইচ্ছা (হাসি)। বেঁচে থেকে যে কয়টা দিন মাঠে কাটাতে পারি, এই ইচ্ছাটাই আছে। এখন ছাড়ব বা কবে ছাড়ব, এটা আসলে এখনো সিদ্ধান্ত নিইনি। ভালো সময় থাকতেই ছাড়ব ইনশা আল্লাহ।’

সিলেট আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে আগামীকাল সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে পাকিস্তানের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। দুই ম্যাচের সিরিজে ১–০ ব্যবধানে এগিয়ে স্বাগতিকরা।

বেঞ্চ থেকে ৬৯ মিনিটে মাঠে নামেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। ঊরুর চোট কাটিয়ে ফেরা এই স্ট্রাইকারকে মোটেও ভালোভাবে নিতে পারেননি রিয়াল মাদ্রিদের সমর্থকেরা। সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে অনেক ফাঁকা আসনের মধ্যে যাঁরা ছিলেন, বেশির ভাগই দুয়ো দেন এমবাপ্পেকে।

মৌসুমে ৪১ ম্যাচে ৪১ গোল করা কোনো খেলোয়াড় সমর্থকদের দুয়োর শিকার হলে বুঝতে হবে, সমস্যা মাঠের বাইরের। এমবাপ্পের ক্ষেত্রেও তা মিথ্যা নয়। তবে গতকাল রাতে লা লিগায় ওভিয়েদোর বিপক্ষে রিয়ালের ২-০ গোলে জয়ের পর সমর্থকদের দুয়ো নিয়ে ফরাসি তারকার মধ্যে তেমন হেলদোল দেখা গেল না।

ম্যাচ শেষে সাংবাদিকদের এমবাপ্পে বলেন, ‘দুয়ো...এটাই জীবন। মানুষ ক্ষুব্ধ থাকলে তাদের মতামত পাল্টানো কঠিন। রিয়াল মাদ্রিদ এবং আমার মতো বিখ্যাত খেলোয়াড়ের জীবনে এটা মেনে নিতেই হবে।’

গঞ্জালো গার্সিয়া ও জুড বেলিংহামের দুই অর্ধের গোলে রিয়াল জিতলেও ব্যাপারটা এখানেই শেষ হয়নি। বরং নতুন এক বিতর্কের সূত্রপাত করেছেন এমবাপ্পে। ওভিয়েদোর বিপক্ষে রিয়ালের একাদশে সুযোগ না পাওয়ার বিষয়ে তাঁর ভাষ্য বেশ চমকে দেওয়ার মতো। এমবাপ্পের দাবি, রিয়াল কোচ আলভারো আরবেলোয়া তাঁকে বলেছেন, তিনি বর্তমানে রিয়ালে পছন্দের তালিকায় চতুর্থ স্ট্রাইকার!

বেঞ্চে বসেছিলেন এমবাপ্পে
বেঞ্চে বসেছিলেন এমবাপ্পেএএফপি

শুনুন এমবাপ্পের মুখেই, ‘ভালো আছি, শতভাগ প্রস্তুত। (একাদশে) খেলতে পারিনি; কারণ, কোচ আমাকে জানিয়েছেন, তাঁর কাছে আমি দলের চতুর্থ পছন্দের স্ট্রাইকার। আমি মাস্তানতুয়োনো, ভিনিসিয়ুস ও গঞ্জালো থেকে পিছিয়ে। আমি এটা মেনে নিয়েছি এবং যতটুকু খেলার সময় পেয়েছি খেলেছি। সম্ভবত ভালোই খেলেছি।’

ভিনিসিয়ুস, মাস্তানতুয়েনো ও গার্সিয়াকে রিয়ালের একাদশের হয়ে মাঠে নামান আরবেলোয়া। বেঞ্চ থেকে মাঠে নামা বেলিংহামের গোলের উৎস ছিল এমবাপ্পের পাস। ফরাসি তারকা রিয়ালের একাদশে ফেরার লক্ষ্যে বলেন, ‘একাদশের হয়ে নামার জন্য প্রস্তুত ছিলাম। তবে আমি কোচের ওপর রাগান্বিত নই। সব সময় কোচের সিদ্ধান্তকে সম্মান করতে হয়। আমি একাদশে ফেরার চেষ্টা করব।’

সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে রিয়াল সমর্থকদের কড়া সমালোচনার মুখে পড়েছেন দলের সর্বোচ্চ গোলদাতা এমবাপ্পে। সমর্থকদের অভিযোগ, ক্লাবের প্রতি এমবাপ্পের নিবেদনে ঘাটতি আছে। বিশেষ করে চোটের কারণে গত সপ্তাহে ‘এল ক্লাসিকো’তে তাঁর খেলতে না পারা এবং ম্যাচটি জিতে বার্সেলোনা লিগ শিরোপা নিশ্চিত করায় ভক্তদের ক্ষোভ আরও বেড়েছে। পাশাপাশি চোট থেকে সেরে ওঠার সময়ে এমবাপ্পের সারদিনিয়ায় ছুটি কাটাতে যাওয়ার বিষয়টিও ভালোভাবে নেননি রিয়ালের সমর্থকেরা। যদিও এমবাপ্পের দাবি, ‘ক্লাবের অনুমতি নিয়েছিলাম। লোকে কী বলছে, বুঝতে পারছি না। তবে আমাকে এটা মেতে নিতে হবে।’

ম্যাচ–পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে এমবাপ্পের মন্তব্য নিয়ে প্রশ্ন করা হলে বিস্ময় প্রকাশ করেন আরবেলোয়া। রিয়ালের কোচ বলেন, ‘আমার যদি চারজন ফরোয়ার্ড থাকত! আমার তো চারজন ফরোয়ার্ডই নেই। আর আমি এমবাপ্পেকে এমন কিছু কখনোই বলিনি। হতে পারে সে আমার কথা ভুল বুঝেছে। এর বাইরে আমার আর কিছু বলার নেই। কোনো অবস্থাতেই আমি তাকে “চতুর্থ পছন্দের” ফরোয়ার্ড বলতে পারি না।’

রিয়াল কোচ আলভারো আরবেলোয়া
রিয়াল কোচ আলভারো আরবেলোয়াএএফপি

আরবেলোয়া এরপর দলে নিজের কর্তৃত্বের কথা স্মরণ করিয়ে দেন, ‘আমি কোচ, কে খেলবে আর কে খেলবে না, সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব আমার। ম্যাচের আগে তার সঙ্গে আমার কথা হয়েছিল। সে সেটা কীভাবে নিয়েছে, আমি জানি না। যে খেলোয়াড় চার দিন আগেও বেঞ্চে বসার মতো অবস্থায় ছিল না, আজ (কাল রাতে) তার একাদশে থাকা উচিত নয়। এটা ফাইনাল বা বাঁচা-মরার লড়াই ছিল না যে তাকে নামাতেই হবে। কারও সঙ্গেই আমার কোনো বিরোধ নেই।’

আরবেলোয়া আরও বলেন, ‘এমবাপ্পে খেলতে না পেরে অখুশি, তা আমি বুঝতে পারছি। পরিস্থিতি বিবেচনা করেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এটিই ছিল সবচেয়ে যৌক্তিক ও স্বাভাবিক কাজ।’

এমবাপ্পের অভিযোগের বিষয়ে সরাসরি মন্তব্য করতে রাজি হননি আরবেলোয়া, ‘আপনারা চাইলে “মিক্সড জোনে” কিলিয়ানের দেওয়া বক্তব্য আমাকে দেখাতে পারেন, তখন আমরা এটি নিয়ে আলোচনা করতে পারি। সে ঠিক কী বলেছে, তা না শোনা পর্যন্ত আমি তার বাক্য ধরে মন্তব্য করতে চাই না। তবে আমি যতক্ষণ দায়িত্বে আছি, কে খেলবে আর কে খেলবে না, সেই সিদ্ধান্ত আমিই নেব। তাদের নামে (কতটা বড়) আমার কিছু যায়–আসে না।’

রিয়ালে বেশ কিছুদিন ধরেই গৃহদাহ চলছে। এর আগে ফেদে ভালভের্দে ও অরেলিয়েঁ চুয়ামেনির মধ্যে মারামারির খবর চাউর হয়েছে সংবাদমাধ্যমে। বড় কোনো শিরোপা জয় ছাড়া এবার টানা দ্বিতীয় মৌসুম শেষ করবে রিয়াল। মৌসুমে মাঝপথে জাবি আলোনসোকে সরিয়ে আরবেলোয়াকে কোচের দায়িত্ব দেওয়া হয়। এমবাপ্পে এ মৌসুমের পারফরম্যান্স নিয়ে বলেন, ‘আমাদের শুরুটা ভালো ছিল। কিন্তু মৌসুমের দ্বিতীয়ার্ধে সব হারিয়ে ফেলেছি...জাবির সঙ্গে আমার সম্পর্ক খুব ভালো। সবাই জানে আমি তাকে কেমন মনে করি। কিন্তু আমাদের সামনে তাকাতে হবে এবং উন্নতি করতে হবে।’

আরবেলোয়ার সঙ্গে বিরোধ অস্বীকার করেছেন এমবাপ্পে
আরবেলোয়ার সঙ্গে বিরোধ অস্বীকার করেছেন এমবাপ্পে, এএফপি
 

মৌসুম শেষে আরবেলোয়ার জায়গায় রিয়াল যে নতুন কোচ আনবে, সেটা মোটামুটি পরিষ্কার। গুঞ্জন আছে, রিয়ালের ড্রেসিংরুমের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছেন আরবেলোয়া। তবে আরবেলোয়ার সঙ্গে কোনো সমস্যা না হওয়ার দাবি করেছেন এমবাপ্পে, ‘আরবেলোয়ার সঙ্গে সমস্যা নেই। সবারই নিজস্ব চিন্তাভাবনা আছে। খেলার সময় বের করতে আমাকে মাস্তানতুয়োনো, ভিনি ও গঞ্জালোর চেয়ে ভালো হতে পরিশ্রম করতে হবে।’

লা লিগার চলতি মৌসুমে আর দুই ম্যাচ খেলবে রিয়াল। ৩৬ ম্যাচে ৯১ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে বার্সেলোনা। সমান ম্যাচে ৮০ পয়েন্ট নিয়ে দুইয়ে আরবেলোয়ার দল।

দুই যুগ ধরে বিশ্বকাপ না জেতা ব্রাজিলের আশা-ভরসার কেন্দ্রে এবার কার্লো আনচেলত্তি। নিজেদের ইতিহাসে কখনো বাইরে থেকে কোচ না আনা দেশটি ইতালির এই কোচকে দিয়েছে জাতীয় দলের দায়িত্ব। আনচেলত্তি সেই ভরসার কতটা প্রতিদান দিতে পারবেন, সেটা বোঝা যাবে আগামী মাসে শুরু হতে যাওয়া ২৩তম ফিফা বিশ্বকাপে।

তবে বিশ্বকাপের জন্য রওনা দেওয়ার আগে নতুন খবর, শুধু ২০২৬ বিশ্বকাপ নয়, পরের আসরের জন্যও তাঁর ওপর ভরসা করছে ব্রাজিল। আজ কনফেডারেশন অব ব্রাজিল ফুটবল (সিবিএফ) জানিয়েছে, ইতালিয়ান এই কোচ চুক্তির মেয়াদ আরও চার বছর বাড়িয়েছেন। যার অর্থ, ২০৩০ বিশ্বকাপেও ব্রাজিল কোচের দায়িত্বে থাকবেন আনচেলত্তি।

৬৬ বছর বয়সী আনচেলত্তি ২০২৫ সালের মে মাসে ব্রাজিল কোচের দায়িত্ব নেন। পাঁচবারের চ্যাম্পিয়নস লিগজয়ী আনচেলত্তির কোচিং ক্যারিয়ারে এটিই প্রথম কোনো জাতীয় দলের নেওয়া। প্রাথমিকভাবে চুক্তি হয়েছিল ২০২৬ বিশ্বকাপ পর্যন্ত মেয়াদ ধরে। তবে সেই বিশ্বকাপের দল ঘোষণার আগেই মেয়াদ বাড়ল আরও এক আসর।

সিবিএফের অফিশিয়াল এক্স পেজে আনচেলত্তির একটি ভিডিও বার্তা প্রকাশ করা হয়েছে। সেখানে আনচেলত্তিকে বলতে শোনা যায়, ‘এক বছর আগে আমি ব্রাজিলে এসেছিলাম এবং বুঝতে পেরেছিলাম এই দেশটির কাছে ফুটবলের মানে কী। আমরা জাতীয় দলকে আবারও বিশ্বের শীর্ষে ফিরিয়ে আনার জন্য কাজ করছি, কিন্তু সিবিএফ এবং আমি—উভয়েই আরও বেশি কিছু চাই। আমরা অত্যন্ত আনন্দের সঙ্গে ঘোষণা করছি যে আমরা ২০৩০ বিশ্বকাপ পর্যন্ত একসাথে পথ চলা অব্যাহত রাখব।’

২০৩০ বিশ্বকাপ পর্যন্ত ব্রাজিলের ডাগআউটে থাকবেন কার্লো আনচেলত্তি
২০৩০ বিশ্বকাপ পর্যন্ত ব্রাজিলের ডাগআউটে থাকবেন কার্লো আনচেলত্তিইনস্টাগ্রাম/কার্লো আনচেলত্তি

এ পর্যন্ত আনচেলত্তির অধীনে ব্রাজিল ১০টি ম্যাচ খেলেছে, জিতেছে পাঁচটি, ড্র দুটি, হার তিনটি। সিবিএফ সভাপতি সামির শাউদ এই চুক্তির মেয়াদ বৃদ্ধিকে একটি ‘ঐতিহাসিক দিন’ হিসেবে অভিহিত করে বলেছেন, এটি ব্রাজিলীয় ফুটবলের ভবিষ্যতের জন্য একটি কৌশলগত পদক্ষেপ।

২০০২ বিশ্বকাপে সর্বশেষ ট্রফি জেতা ব্রাজিল এবার টুর্নামেন্ট শুরু করবে ১৩ জুন মরক্কোর বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে। ‘সি’ গ্রুপে তাদের অন্য দুই প্রতিপক্ষ হাইতি ও স্কটল্যান্ড। বিশ্বকাপের জন্য ১৮ মে দল ঘোষণা করার কথা আনচেলত্তির।

সময় এখন নাহিদ রানার। বাংলাদেশের এই ফাস্ট বোলার এবার এপ্রিল মাসের জন্য আইসিসির মাসসেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হয়েছেন। গত এপ্রিলে ঘরের মাঠে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ৩ ওয়ানডে খেলে উইকেট নেন ৮টি। ওই পারফরম্যান্সই তাঁকে মাসসেরা বানিয়েছে।

এই সিরিজের আগে ও পরে নাহিদ রানা পারফর্ম করেছেন। গত মার্চে পাকিস্তানের বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজেও তিনি ৮ উইকেট নিয়েছিলেন। এরপর সর্বশেষ পাকিস্তানের বিপক্ষে মিরপুর টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসে তিনি করেছেন ক্যারিয়ারসেরা বোলিং। নেন ৪০ রানে ৫ উইকেট।

নাহিদ রানা এই প্রথম আইসিসির মাসসেরা পুরস্কার জিতলেন। গত বছরের এপ্রিলে অলরাউন্ডার মেহেদী হাসান মিরাজের পর বাংলাদেশের প্রথম পুরুষ খেলোয়াড় হিসেবে এই পুরস্কার জিতলেন নাহিদ রানা। তাঁর আগে বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের মধ্যে এই স্বীকৃতি পেয়েছেন মুশফিকুর রহিম, সাকিব আল হাসান (২ বার) ও মেহেদী হাসান মিরাজ।

মিরপুর টেস্টে পাকিস্তানের বিপক্ষে দ্বিতীয় ইনিংসে ৫ উইকেট নিয়েছেন নাহিদ রানা
মিরপুর টেস্টে পাকিস্তানের বিপক্ষে দ্বিতীয় ইনিংসে ৫ উইকেট নিয়েছেন নাহিদ রানা
 

মাসসেরা নাহিদ রানা বলেন, ‘নিউজিল্যান্ডের মতো বিশ্বমানের দলের বিপক্ষে ভালো পারফর্ম করে আইসিসির মাসসেরা খেলোয়াড় হতে পারাটা দারুণ এক অনুভূতি। এটি দেশের মাটিতে পারফর্ম করতে পারা সিরিজটিকে আরও বিশেষ করে তুলেছে এবং এই সিরিজটি আমি সব সময় মনে রাখব।’

সেই সিরিজে নাহিদ রানার শুরুটা ভালো হয়নি। প্রথম ম্যাচে ৬৫ রান খরচায় নেন ১ উইকেট। তবে দ্বিতীয় ওয়ানডেতেই তিনি ঘুরে দাঁড়ান এবং ওয়ানডে ক্যারিয়ারের দ্বিতীয়বারের মতো নেন ৫ উইকেট।

এর আগে চলতি বছরের মার্চে পাকিস্তানের বিপক্ষে তিনি প্রথমবার ৫ উইকেট পেয়েছিলেন। নিউজিল্যান্ড সিরিজের শেষ ম্যাচে নাহিদ রানা নেন ২ উইকেট। সিরিজসেরা খেলোয়াড়ও হন এই ফাস্ট বোলার।

মেয়েদের মাসসেরা হয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকার লরা ভলভার্ট।

টানা পঞ্চম লিগ শিরোপা জিততে ড্র যথেষ্ট ছিল। কিন্তু লেঁসের মাঠে গতকাল রাতে পয়েন্ট ভাগাভাগি নয়, পূর্ণ ৩ পয়েন্ট তুলে নিয়েছে পিএসজি। লেঁসকে হারিয়েছে ২-০ গোলে। এ জয়েই লিগ আঁ জয় নিশ্চিত করেছে লুইস এনরিকের দল।

৩৩ ম্যাচে ৭৬ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে পিএসজি। সমান ম্যাচে ৬৭ পয়েন্ট নিয়ে দুইয়ে লেঁস। দুই দলই আর একটি করে ম্যাচ খেলবে। লেঁস তাদের শেষ ম্যাচে জিতলেও ৯ পয়েন্টের এ ব্যবধান ঘোচানো সম্ভব নয়।

লিগ আঁ থেকে সর্বোচ্চ শিরোপা জয়ের রেকর্ডটি আগেই গড়েছে পিএসজি। এবার ১৪তম শিরোপা জিতে সেই রেকর্ডই আরও উঁচুতে নিয়ে গেল লুইস এনরিকের দল। স্প্যানিশ কোচ এনরিকে ২০২৩ সালে কোচের দায়িত্ব নেওয়ার পর এটি তাঁদের তৃতীয় লিগ শিরোপা। ফ্রেঞ্চ সুপার কাপ ও লিগজয়ী পিএসজির এ মৌসুমে ‘ট্রেবল’ জয়ের সুযোগও আছে। ৩০ মে বুদাপেস্টে চ্যাম্পিয়নস লিগ ফাইনালে আর্সেনালের মুখোমুখি হবে এনরিকের দল। ফরাসি ক্লাবটি এই মৌসুমে ফ্রেঞ্চ ফিফা ইন্টারকন্টিনেন্টাল কাপ ও উয়েফা সুপার কাপও জিতেছে।

ফরাসি ফুটবলে আধিপত্য ধরে রেখেছে পিএসজি। গতকাল রাতে লেঁসের বিপক্ষে জয়ের পর খেলোয়াড়দের উল্লাস
ফরাসি ফুটবলে আধিপত্য ধরে রেখেছে পিএসজি। গতকাল রাতে লেঁসের বিপক্ষে জয়ের পর খেলোয়াড়দের উল্লাস,এএফপি
 

পিএসজির জেতা ১৪ লিগ শিরোপার মধ্যে সর্বশেষ ১৪ বছরে এসেছে ১২টি শিরোপা। কাতারি ধনকুবের নাসের আল খেলাইফির মালিকানায় আসার পর এ সাফল্য পেয়েছে পার্ক দে প্রিন্সেসের ক্লাবটি। ২০০২ থেকে ২০০৮ পর্যন্ত টানা সাতবার লিগ জিতেছে লিঁও। টানা পাঁচবার লিগ জিতে পিএসজি এ তালিকায় দ্বিতীয় সেরা।

গত সপ্তাহেই লিগ শিরোপা একপ্রকার নিশ্চিত করে রেখেছিল লুইস এনরিকের দল। ব্রেস্তকে ১-০ গোলে হারিয়ে নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী লেঁসের চেয়ে ৬ পয়েন্ট ব্যবধানে এগিয়ে যায় তারা। হাতে মাত্র দুই ম্যাচ বাকি থাকা এবং গোল ব্যবধানে যোজন যোজন ব্যবধানে এগিয়ে থাকায় পিএসজির শিরোপা জয় ছিল কেবল সময়ের ব্যাপার।

লেঁসের মাঠে ২৯ মিনিটে গোল করেন পিএসজি উইঙ্গার খিচা কাভারাস্কেইয়া। ৯৩ মিনিটে দ্বিতীয় গোলটি সেনেগালের ফরোয়ার্ড ইব্রাহিম এমবায়ের। জয়ের পর সম্প্রচারক চ্যানেল বিইন স্পোর্টসকে পিএসজি তারকা উসমান দেম্বেলে বলেন, ‘আমরা জিততে এসেছিলাম। তবে আমাদের মূল লক্ষ্য ৩০ মের ফাইনালের জন্য নিজেদের প্রস্তুত করা। আগামী রোববার (প্যারিস এফসির বিপক্ষে) আমাদের আরও একটি ম্যাচ আছে। আমরা এই শিরোপা উদ্‌যাপন করব; কারণ, এখন আমরা আনুষ্ঠানিকভাবেই চ্যাম্পিয়ন।’

ইতালিয়ান কাপের ট্রফি হাতে ইন্টার মিলানের খেলৈায়াড়রা
ইতালিয়ান কাপের ট্রফি হাতে ইন্টার মিলানের খেলৈায়াড়রা, এএফপি

ইন্টার মিলানের ‘ডাবল’

রোমে গতকাল রাতে লাৎসিওকে ২-০ গোলে হারিয়ে ইতালিয়ান কাপ জিতেছে ইন্টার মিলান। ১৪ মিনিটে লাৎসিও রাইটব্যাক অ্যাডাম মারুসিচের আত্মঘাতী গোলে এগিয়ে যায় ইন্টার। ৩৫ মিনিটে ইন্টারের হয়ে দ্বিতীয় গোলটি করেন আর্জেন্টাইন স্ট্রাইকার লাওতারো মার্তিনেজ।

এর আগে ২১তম লিগ জয় নিশ্চিত করে ইন্টার। ২০১০ সালের পর এই প্রথম এক মৌসুমে কাপ ও লিগ জিতল তারা। জোসে মরিনিওর অধীনে ২০১০ সালে চ্যাম্পিয়নস লিগ, সিরি ‘আ’ ও কাপ জিতেছিল ইন্টার।

জয়ের পর ইন্টারের কোচ ক্রিস্টিয়ান চিভু বলেন, ‘চমৎকার একটি মৌসুমে এই ট্রফিগুলো আমাদের প্রাপ্য ছিল। লিগ ও কাপ—একই সঙ্গে দুটি জেতা সহজ কথা নয়। আমরা দারুণ খুশি।’

দেশের ইতিহাসের প্রথম ফুটসাল লিগ শুরু হচ্ছে আগামীকাল। মিরপুরের শহীদ সোহরাওয়ার্দী ইনডোর স্টেডিয়ামে পুরুষ ও নারী বিভাগে অংশ নেবে ১১টি করে দল।

ফুটসাল লিগের প্রথম আসরে অংশ নিতে যাওয়া দলগুলো হলো বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, আনসার, বিকেএসপি, চাঁদপুর জেলা, ঢাকা অ্যাথলেটিক, ফকির এফসি, আইএম টেন, স্পোর্টস ফিল্ড লজিস্টিকস, টেকভিল ফুটসাল ক্লাব, ওয়ারিয়র স্পোর্টস একাডেমি ও জেনন এফসি।

লিগের প্রথম দিনে মাঠে নামবে তিনটি দল। বিকেল ৫টায় উদ্বোধনী ম্যাচে মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও বিকেএসপির নারী দল। সন্ধ্যা ৭টায় শুরু পুরুষ বিভাগের প্রথম ম্যাচেও খেলবে একই দল দুটি। দিনের শেষ ম্যাচে রাত ৯টায় খেলবে পুরুষ বিভাগের জেনন এফসি ও ঢাকা অ্যাথলেটিক।

ফুটসালের প্রথম আসরে তারকাবহুল স্কোয়াড গড়েছে আইএম টেন এফসি। সাফ ফুটসাল জয়ী ৮ জন–সাবিনা খাতুন, কৃষ্ণা রানী, মাসুরা পারভীন, স্বপ্না আক্তার, লিপি আক্তার, নিলুফা ইয়াসমিন, মার্জিয়া আক্তার ও মাতসুশিমা সুমাইয়া খেলবেন এই দলের হয়ে।

এ ছাড়া ওয়ারিয়র স্পোর্টসের জার্সিতে দেখা যাবে সাফজয়ী দুই খেলোয়াড় সুমি খাতুন ও ইতি রানীকে। অন্যান্য দলের মধ্যে সেনাবাহিনীর জার্সিতে দেখা যাবে মেহেনুর আক্তার ও নওশন জাহানকে। টেকভিল ফুটসাল ক্লাবে নাম লিখিয়েছেন সানজিদা আক্তার ও ফায়েদ আজিম।

ছেলেদের বিভাগে আইএম টেনের হয়ে মাঠ মাতাবেন কাজী ইব্রাহিম ও মঈদ আহমেদ। ফকির এফসির হয়ে খেলবেন জাতীয় দলের ফয়সাল হোসেন।

লিগের সূচিতে প্রথম পর্বের পর লম্বা বিরতি রাখা হয়েছে। ২৪ মে থেকে ২২ জুলাই টানা দুই মাস লিগ বন্ধ থাকবে। বাফুফের ফুটসাল কমিটির চেয়ারম্যান ইমরানুর রহমান জানিয়েছেন, ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপের উন্মাদনার কথা বিবেচনা করে দীর্ঘ বিরতির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘ফুটবল বিশ্বকাপ সামনে, তখন কে দেখবে আমাদের খেলা। দর্শক দরকার আছে। তাই বিরতিটা সেভাবেই দেওয়া। যাতে বিশ্বকাপ শেষ করে দ্বিতীয় পর্ব শুরু করা যায়।’

ফুটসাল মূলত ফুটবলের একটি সংক্ষিপ্ত রূপ, যেখানে বল নিয়ন্ত্রণ এবং দ্রুত খেলার ওপর জোর দেওয়া হয়। ৫ খেলোয়াড়ের ফুটসালে সর্বোচ্চ ১২ জন ব্যবহার করা যায়, বদলি করা যায় যত খুশি। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ১৯৩০ সাল থেকে প্রচলিত থাকলেও বাংলাদেশে এর বড় উদ্যোগে পথচলা শুরু ২০১৮ সালে মেয়েদের এএফসি চ্যাম্পিয়নশিপের মাধ্যমে।

এরপর ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে এশিয়ান কাপ বাছাই দিয়ে প্রথম কোনো আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে অংশ নেয় জাতীয় পুরুষ ফুটসাল দল।
সর্বশেষ গত জানুয়ারিতে প্রথম সাফ নারী ফুটসালে অংশ নিয়ে শিরোপা জেতে বাংলাদেশ। ওই একই সময়ে ছেলেদের ফুটসালে বাংলাদেশ সাত দলের মধ্যে পঞ্চম হয়। সেই সাফল্যের ধারাবাহিকতায় এবার ঘরোয়া লিগের মাধ্যমে দেশে ফুটসালের নতুন পথচলা শুরু হচ্ছে।

১৩ ম্যাচের ১২টিতেই হার, একটি ড্র—এমন বিবর্ণ রেকর্ড নিয়েই ২০২৪ সালে পাকিস্তানে টেস্ট সিরিজ খেলতে গিয়েছিল বাংলাদেশ। এরপর ইতিহাস, বাংলাদেশ জেতে দুটি টেস্টই। সেই ধারাবাহিকতায় এবার ঘরের মাঠেও জিতে পাকিস্তানের বিপক্ষে টানা তৃতীয় জয়। টেস্টে বাংলাদেশ আর কোনো দলকে কি টানা তিনবার হারিয়েছে, আর কী কী রেকর্ডই বা হলো বাংলাদেশের জয়ের দিনে—
 
• পাকিস্তানের আগে বাংলাদেশ টানা তিন টেস্টে হারিয়েছে শুধু জিম্বাবুয়ে ও আয়ারল্যান্ডকে। টানা জয়ের রেকর্ডটা জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে, ২০১৩ ও ২০১৪ সাল মিলিয়ে টানা চার টেস্টে।
• টেস্টে পাকিস্তানের চেয়ে বাংলাদেশ বেশি হারিয়েছে শুধু দুটি দলকে—জিম্বাবুয়ে (৯) ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ (৫)।  আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে খেলা তিন টেস্টেই জিতেছে বাংলাদেশ।
বাংলাদেশের জয়ের পর নাহিদ রানার উদ্‌যাপনটা দেখার মতোই হলো
বাংলাদেশের জয়ের পর নাহিদ রানার উদ্‌যাপনটা দেখার মতোই হলোশামসুল হক

নাহিদ রানার ৫/৪০

• ১১ টেস্টের ক্যারিয়ারে নাহিদ রানার সেরা বোলিং। আগের সেরা ৫/৬১, ২০২৪ সালে কিংস্টনে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে।
• টেস্টের চতুর্থ ইনিংসে বাংলাদেশের প্রথম পেসার হিসেবে ৫ উইকেট পেলেন নাহিদ রানা। আগের সেরা তাসকিন আহমেদের (৪/৩৭), ২০২৩ সালে আফগানিস্তানের বিপক্ষে।
• টেস্টে পাকিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশের কোনো পেসারের সেরা বোলিং। আগের সেরা হাসান মাহমুদের (৫/৪৩), ২০২৪ সালে রাওয়ালপিন্ডিতে দ্বিতীয় টেস্টে।
• বাংলাদেশ জিতেছে, এমন টেস্টে কোনো পেসারের দ্বিতীয় সেরা বোলিং। সেরা ইবাদত হোসেনের (৬/৪৬), ২০২২ সালে মাউন্ট মঙ্গানুইয়ে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে।
• ঘরের মাঠে বাংলাদেশের পেসারদের দ্বিতীয় সেরা বোলিং। সেরা শাহাদাত হোসেনের (৬/২৭), ২০০৮ সালে মিরপুরেই দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে। শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে বাংলাদেশের পেসাররা ইনিংসে ৫ উইকেট পেয়েছেন এই দুবারই।
 
এই টেস্টে বাংলাদেশের পেসারদের নেওয়া উইকেট–সংখ্যা। মিরপুরে মাত্র দ্বিতীয়বার এক ম্যাচে বাংলাদেশের পেসাররা ১০ উইকেট পেলেন। ২০২৩ সালে আফগানিস্তানের বিপক্ষে ১৪ উইকেট পেয়েছিলেন পেসাররা।
১৩ রানের জন্য জোড়া সেঞ্চুরি পাননি নাজমুল
১৩ রানের জন্য জোড়া সেঞ্চুরি পাননি নাজমুলপ্রথম আলো

নাজমুল হোসেনের কীর্তি

• তৃতীয়বার টেস্টের দুই ইনিংসেই ৮০ ছাড়ালেন নাজমুল। বাংলাদেশের আরও কারও দুবার নেই এই কীর্তি।
• বাংলাদেশ জিতেছে, এমন টেস্টে অধিনায়কদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি রান এখন নাজমুলের (৫২০)। পেছনে পড়েছেন মুশফিকুর রহিম (৪৫৮)।
• মাত্র ১৩ রানের জন্যই টেস্ট ইতিহাসে চতুর্থ ব্যাটসম্যান হিসেবে তৃতীয়বার জোড়া সেঞ্চুরির কীর্তি ছুঁতে পারেননি।

বাংলাদেশের ১০৪ রানের জয়

পাকিস্তানের বিপক্ষে টানা তিন টেস্ট জয়। দেশের মাটিতে প্রথম। সে হিসাবে পাকিস্তানের বিপক্ষে এই জয়টাকে ঐতিহাসিকই বলতে হবে।

মিরপুর টেস্টে পাকিস্তানকে ১০৪ রানে হারিয়েছে বাংলাদেশ দল। টেস্ট জিততে পাকিস্তানকে দ্বিতীয় ইনিংসে করতে হতো ২৬৮ রান। পাকিস্তান গুটিয়ে গেছে ১৬৩ রানে।

দ্বিতীয় ইনিংসে ম্যাজিকাল বোলিং করেছনে নাহিদ রানা। ৪০ রানে নিয়েছেন ৫ উইকেট, যা তাঁর ক্যারিয়ার সেরা। টেস্ট ক্যারিয়ারে এ নিয়ে দ্বিতীয়বার ৫ উইকেট নিয়েছেন নাহিদ রানা। দ্বিতীয় ইনিংসে অন্যরাও তাদের কাজটা করেছেন। তাইজুল ও তাসকিন নিয়েছেন দুটি করে উইকেট। মিরাজ নিয়েছেন ১ উইকেট।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

বাংলাদেশ: ৪১৩ ও ২৪০/৯ (নাজমুল ৮৭, মুমিনুল ৫৬, মিরাজ ২৪, মুশফিক ২২, তাসকিন ১১; হাসান ৩/৫২, নোমান ৩/৭৬, শাহিন ২/৫৪)।

পাকিস্তান: ৩৮৬ ও ১৬৩ (ফজল ৬৬, সালমান ২৬; নাহিদ রানা ৫/৪০, তাইজুল ২/২২)

ফল: বাংলাদেশ ১০৪ রানে জয়ী

বাংলাদেশের ইনিংস ঘোষণা

নাহ, অলআউট হতে চায়নি বাংলাদেশ। তাসকিন আউট হওয়ার পরই ৯ উইকেটে ২৪০ রানে নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংস ঘোষণা করেছে নাজমুলের দল। দুই ইনিংস মিলিয়ে লিড ২৬৭ রানের। অর্থাৎ মিরপুর টেস্ট জিততে দুই সেশনের একটি বেশি সময় ব্যাট করে পাকিস্তানকে ২৬৮ রান করতে হবে। আলোকস্বল্পতা কিংবা বৃষ্টি হানা না দিলে দিনের বাকি সময়ে ৭৫ ওভারের খেলা হতে পারে।

মিরপুরে চতুর্থ ইনিংসে ২০৯ রানের বেশি তাড়া করে জিততে পারেনি কোনো দল। ২০১০ সালে বাংলাদেশের দেওয়া ২০৯ রানের লক্ষ্য তাড়া করে ৯ উইকেটে জেতে ইংল্যান্ড।

৫০.৩ ওভারে ৩ উইকেটে ১৫২ রান নিয়ে চতুর্থ দিনের খেলা শেষ করেছিলেন নাজমুল ও মুশফিক। আজ শেষ দিনে সকালের সেশনে ৮৮ রানে হারিয়েছে ৬ উইকেট। ইনিংস ঘোষণার আগে আজ ২১ ওভার ব্যাট করেছে বাংলাদেশ। সব মিলিয়ে বাংলাদেশ দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করেছে ৭০.৩ ওভার।

সকালের সেশনে একটু থিতু হওয়ার পর তাড়াহুড়ো করে রান তোলার চেষ্টা করেন ব্যাটসম্যানরা। ৮৭ রানে আউট হন নাজমুল। মিরাজ ২৪ ও মুশফিক ২২ রান করেন। পাকিস্তানের হয়ে ৩টি করে উইকেট নেন হাসান আলী ও নোমান আলী।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

বাংলাদেশ: ৪১৩ ও ২৪০/৯ (নাজমুল ৮৭, মুমিনুল ৫৬, মিরাজ ২৪, মুশফিক ২২, তাসকিন ১১; হাসান ৩/৫২, নোমান ৩/৭৬, শাহিন ২/৫৪)।

পাকিস্তান: ৩৮৬।

চতুর্থ দিনের খেলা শেষে...

আলোক–স্বল্পতায় আজও খেলা শেষ হলো আগে। চতুর্থ দিনের খেলা শেষে বাংলাদেশের লিড ১৭৯ রানের।

নাজমুল ৫৮ ও মুশফিক ১৬ রান নিয়ে কাল দিনের খেলা শুরু করবেন।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

বাংলাদেশ: ৪১৩ ও ৫০.৩ ওভারে ১৫২/৩ (নাজমুল ৫৮*, মুমিনুল ৫৬; হাসান ১/২৩, আব্বাস ১/৩৫)

পাকিস্তান ১ম ইনিংস: ৩৮৬

বাংলাদেশের লিড এখন ১৭৯

বাংলাদেশ: ৫০ ওভারে ১৫২/৩ ও ৪১৩। পাকিস্তান ১ম ইনিংস: ৩৮৬।

এবার মুশফিককে নিয়ে জুটি গড়েছেন নাজমুল। বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক ৫৮ রানে ব্যাটিং করছেন, মুশফিক ১৬ রানে।

গত টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের না খেলার সিদ্ধান্ত তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি করেছে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়। কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে একই মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন অনুবিভাগ) ড. এ কে এম অলি উল্যাকে।

কমিটির অন্য দুই সদস্য হলেন জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক হাবিবুল বাশার ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবি ও ক্রীড়া সংগঠক ব্যারিস্টার ফয়সাল দস্তগীর। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রনালয়ের সিনিয়র সহকারি সচিব অংগ্যজাই মারমা স্বাক্ষরিত এক নোটিশে কমিটিকে ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে তাদের প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র প্রথম আলোকে কমিটি গঠনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক হাবিবুল বাশার
জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক হাবিবুল বাশার
 

এ বছরের ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ৮ মার্চ পর্যন্ত ভারত ও শ্রীলঙ্কায় হয়েছে সর্বশেষ টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপ। নিরাপত্তাশঙ্কার কারণে আইসিসির কাছে টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের ম্যাচগুলো ভারত থেকে সরিয়ে শ্রীলঙ্কায় দেওয়ার আবেদন জানিয়েছিল বিসিবি। তবে আইসিসি সে অনুরোধ না রাখায় বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নির্দেশে টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপে না খেলার সিদ্ধান্ত নেয় বিসিবি। পরে তৎকালীন ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুলও বলেন, নিরাপত্তার কথা ভেবে এটা ছিল সরকারের সিদ্ধান্ত।

এর আগে কিছু উগ্রবাদী গোষ্ঠীর হুমকির মুখে বাংলাদেশের পেসার মোস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দিয়েছিল ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড। তাদের ওই সিদ্ধান্তের পরই ভারতে বাংলাদেশের খেলোয়াড়, কোচ, কর্মকর্তা ও বিশ্বকাপ কাভার করতে যাওয়া সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে সাবেক বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলামের বোর্ড, তবে সেটি বিবেচনায় নেয়নি আইসিসি।

গত মার্চে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নেওয়ার পর এই ঘটনা তদন্তের কথা জানিয়েছিলেন প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। এবার তিন সদস্যের তদন্ত কমিটিও করা হলো।