হার দিয়ে ত্রিদেশীয় সিরিজ শুরু করল বাংলাদেশের মেয়েরা। এডিনবার্গে ত্রিদেশীয় সিরিজের প্রথম ম্যাচে স্বাগতিক স্কটল্যান্ডের কাছে ৮ উইকেট হেরেছেন নিগার সুলতানারা।

টসে জিতে ব্যাটিং করতে নেমে বাংলাদেশ ২০ ওভারে ৫ উইকেটে ১৩৩ রান তুলেছিল। এই রান স্কটল্যান্ড তাড়া করেছে ৮ উইকেট আর ২৬ বল হাতে রেখে।

স্কটল্যান্ড যেভাবে রান তাড়া করেছে, তাতে একবারও মনে হয়নি বাংলাদেশের মেয়েরা ম্যাচটি জিততে পারে। ওপেনিং জুটিতে স্কটল্যান্ডের দুই ব্যাটার ডার্সি কার্টার–ক্যাথরিন ফ্রেসার মিলে তোলেন ৩৩ রান। ২৩ রান করা কার্টারকে ফিরিয়ে জুটি ভাঙেন রিতু মনি। পরে স্কটিশদের দ্বিতীয় উইকেট জুটি তোলে আরও বেশি রান।

৮০ রানে ফ্রেসারকে ফেরান স্বর্ণা আকতার। ম্যাচের বাকি গল্প অধিনায়ক ক্যাথরিন ব্রাইস ও সারাহ ব্রাইসের। দুজনে মিলে গড়েন ৫৪ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি। ৫৪ রানে অপরাজিত ছিলেন অধিনায়ক ক্যাথরিন। সারাহ অপরাজিত ছিলেন ২৩ রানে।

এর আগে ফিফটি পাওয়ার সম্ভাবনা ছিল বাংলাদেশ অধিনায়কেরও। ৩৯ বলে ৪৬ রানে অপরাজিত ছিলেন নিগার। যৌথভাবে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২২ রান করেন সোবহানা মোস্তারি ও স্বর্ণা। এর আগে বাংলাদেশের শুরুটা ছিল নড়বড়ে।

২৬ রানের মধ্যে ফেরেন দুই ওপেনার জুরাইয়া ফেরদৌস, দিলারা আক্তার। প্রথম দশ ওভার শেষে স্কোরবোর্ডে ছিল মাত্র ৫৪ রান। পরের অংশে নিগার, সোবহানারা লড়াই করলেও তা জয়ের জন্য যথেষ্ট হয়নি।

বাংলাদেশের পরের ম্যাচ ৩১ মে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে।

বাংলাদেশের নারী ফুটবল দলের সবচেয়ে বড় তারকা এখন ঋতুপর্ণা চাকমা। বাংলাদেশকে গত সাফ জেতাতে রেখেছেন বড় ভূমিকা। ফাইনালে তাঁর জয়সূচক গোল স্তব্ধ করে দেয় নেপালিদের। এরপর গত বছর জুলাইয়ে এশিয়ান কাপের বাছাইয়ে স্বাগতিক মিয়ানমারের বিপক্ষে তাঁর বাঁ পায়ের জোড়া গোলে ইতিহাস গড়ে বাংলাদেশ। প্রথমবার বাংলাদেশ ওঠে এশিয়ান কাপের চূড়ান্ত পর্বে।

সেই ঋতুপর্ণা এবার গোয়ায় চলমান সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে হ্যাটট্রিক মিশনে প্রথম ম্যাচে ঠিক আগের মতো আলো কাড়তে পারেননি। তবে মাঠে তাঁর চেষ্টার কোনো কমতি ছিল না। মালদ্বীপ ম্যাচে বাঁ প্রান্ত দিয়ে ২২-২৩টি ক্রস করেছেন।

[caption id="attachment_275270" align="alignnone" width="935"] বাংলাদেশের নারী ফুটবলার ঋতুপর্ণা চাকমা[/caption]

কিন্তু ক্রসগুলো ঠিকঠাক হচ্ছিল না। কোনোটি হয়তো এক পা ভেতরে ঢুকে করতে পারতেন, কোনটি আরেকটু আগেই। সময়ের গরমিল হওয়ায় ক্রস থেকে ভালো ফল আসেনি। যদিও ম্যাচের মাত্র ১১ সেকেন্ডে করা আনিকা রানিয়া সিদ্দিকী যে গোলটি করেছেন, সেটি তাঁরই পাস থেকেই এসেছে।

আজ সকালে মারগাঁওয়ের ডন বস্কো কলেজ মাঠে অনুশীলন শেষে কোচ পিটার বাটলার নিজেই টেনে আনেন ঋতুপর্ণার প্রসঙ্গ। বলেন, ‘ঋতুর জন্য ওই দিনটি খারাপ ছিল এবং এমনটা হতেই পারে।’

এরপর ঋতুকে দেন দরাজ সার্টিফিকেট, ‘ঋতু আমার কাছে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম সেরা উইঙ্গার। সে তরুণ এবং দারুণ প্রতিভাবান; সে দলের জন্য একপশলা টাটকা বাতাসের মতো, তা ছাড়া মনিকা ফিরে আসায় আমি খুশি।’ কোচ প্রশংসা করেছেন আনিকারও। বলেছেন, ‘আনিকা দলের খেলায় সম্পূর্ণ নতুন একটি মাত্রা যোগ করেছে।’

বাটলারের উত্তর, ‘আমরা এখন একটি সম্পূর্ণ আলাদা দল এবং অনেক ভালো ফুটবল খেলছি। আমাদের দলে কিছু প্রকৃত ‘ম্যাচ উইনার’ আছে। বিশেষ করে ভারতের আক্রমণ করার মানসিকতা থাকলে আমাদেরও তা আছে। আমরা যেমন প্রয়োজনবোধে রক্ষণভাগ সামলাতে জানি, তেমনি গোল করার সুযোগও তৈরি করতে পারি।’

১৫ বছর বয়সী এক কিশোর কাঁদছে। এই বয়সী কারও কান্নার নানা কারণ থাকতে পারে। কেউ পরীক্ষায় অঙ্কে কম নম্বর পেয়ে কাঁদতে পারে, কেউ কাঁদতে পারে প্রথমবারের মতো কাউকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে প্রত্যাখ্যাত হয়ে কিংবা কেউ বন্ধুর সঙ্গে ঝগড়া করেও কাঁদতে পারে। গতকাল রাতেও এক কিশোর কেঁদেছে। যদিও বাকিদের কান্নার চেয়ে এই কিশোরের কান্নার পার্থক্যটা বিশাল। তাঁর কান্না গতকাল রাতে ছুঁয়ে গেছে লাখো ক্রিকেটপ্রেমীর মন।

সেই কান্নার দৃশ্য টেলিভিশন পর্দা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখানোর পরপর ভাইরাল হয়েছে। অনেককে আফসোসও করতে দেখা গেছে। ব্যাট হাতে রুদ্রমূর্তি ধারণ করা ছেলেটির হাতে এবারের আইপিএল ট্রফিটা উঠতে পারত। শিরোপা জিততে না পারার আফসোস থাকবে, কিন্তু এই কান্নার দৃশ্য জন্ম দেওয়ার আগে বৈভব সূর্যবংশী নামের এই কিশোর যা করেছেন, তা অবিশ্বাস্য।

ব্যাট হাতে তাঁকে তাণ্ডব করতে দেখে বারবার প্রশ্ন জেগেছে, এটা কি সত্যিকারের খেলা নাকি কোনো ভিডিও গেম।  ক্রিকেটে ব্যাটিং কি তবে এতই যে ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরও এমন বিধ্বংসী হয়ে উঠতে পারেন!

ব্যাটিং মোটেই সহজ কোনো কাজ নয়। কিন্তু সূর্যবংশীর মতো অমিত প্রতিভাধর কেউ এসে হুটহাট ব্যাট করাকে এমন ডাল-ভাত বানিয়ে ফেলেন। গতকাল রাতেও বেঞ্চে বসে কান্নার আগে রাজস্থান রয়্যালসের সূর্যবংশী করেছেন ৪৭ বলে ৯৭ রান। এমন ইনিংস খেলে যেকোনো ব্যাটসম্যান যেভাবে খুশিতে উৎফুল্ল হবেন।

তবে সূর্যবংশীর ক্ষেত্রে মনে হবে, বল বোধ হয় একটু বেশিই খেলেছেন! অবশ্য আর কিবা করার ছিল। একে তো মন্থর উইকেট, তারওপর সঙ্গীরা যখন ক্রিজে আসা-যাওয়ায় ব্যস্ত ছিলেন, তখন স্বভাববিরুদ্ধভাবে একটু ‘দেখেশুনে’ খেলতে হয়েছে তাঁকে। ম্যাচ হারার পাশাপাশি অবশ্য সেঞ্চুরির আক্ষেপও থাকবে তাঁর। শেষ চার ইনিংসের তিনটিতেই যে ‘নার্ভাস নাইন্টিজে’ ফিরেছেন তিনি।

সূর্যবংশীর দল রাজস্থান রয়্যালস শেষ পর্যন্ত ফাইনালে যেতে পারেনি। গুজরাট টাইটানসের কাছে দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে হেরেছে ৭ উইকেটে। সূর্যবংশীও কাছাকাছি গিয়েও সেঞ্চুরি পাননি। কিন্তু তাঁকে দেখতে আসার দর্শকদের মনোরঞ্জন তিনি ঠিকই করেছেন। নিউ চণ্ডীগড়ের উপকণ্ঠে অবস্থিত মহারাজা যাদবীন্দ্র সিং স্টেডিয়ামে তখন আইপিএলের দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ার শুরুর আরও প্রায় তিন ঘণ্টা বাকি।

নিরাপত্তাকর্মীর পাশ কাটিয়ে গ্যালারিতে ঢোকার সময় গর্বভরে সূর্যবংশীর গোলাপি রঙের ০৩ নম্বর জার্সি দেখিয়ে এক কিশোর বলে উঠল, ‘আমরা এসেছি বৈভবকে দেখতে।’ আসলে স্টেডিয়ামে উপস্থিত অসংখ্য দর্শকের মনের কথাই যেন বলছিল সে।

গতকালের আগে এই বিস্ময়বালক গ্রুপ পর্বে এক সপ্তাহের মধ্যে দুটি অসাধারণ ইনিংস খেলে আলোচনায় এসেছিলেন। প্লে-অফে এসে সেই ধারাবাহিকতাকে আরও এক ধাপ ওপরে নিয়ে গেছেন। মাত্র তিন দিনের ব্যবধানে খেলেছেন আরও দুটি দুর্দান্ত ইনিংস। বুধবার তিনি একাই প্যাট কামিন্সদের সব পরিকল্পনা তছনছ করে দিয়েছিলেন। এমন সহজতায় ব্যাট চালিয়েছিলেন, যেন টেলিভিশনে নিজের প্রিয় কার্টুনের চ্যানেল বদলাচ্ছেন।

তবে শুক্রবারের ইনিংসটি ছিল ভিন্ন মাত্রার। সেটি শুধু আরেকটি ঝোড়ো ইনিংসই নয়, বৈভবের প্রতিভার নতুন একটি দিকও সামনে নিয়ে এসেছে। এলিমিনেটর ম্যাচে ব্যবহৃত ৪ নম্বর পিচেই শুক্রবার দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ার অনুষ্ঠিত হয়। বেশি ব্যবহৃত হওয়ায় উইকেটটি ছিল মন্থর এবং অসম বাউন্সের, বিশেষ করে ইনিংসের শুরুর দিকে। গুজরাট টাইটানসের লম্বা গড়নের পেসাররা সেটির পুরো সুবিধা নেন। তারা ধারাবাহিকভাবে বল ছোট লেংথে ফেলে ব্যাটসম্যানদের চাপে রাখেন।

অন্য প্রান্ত থেকে সূর্যবংশী দেখেছেন, মাত্র দুই ওভারের মধ্যে ফিরে গেছেন যশ্বসী জয়সওয়াল ও ধ্রুব জুরেল। এরপর চোটের কারণে রবীন্দ্র জাদেজার অনুপস্থিতিতে দুর্বল হয়ে পড়া মিডল-অর্ডারের দায়িত্বও অনেকটা কাঁধে তুলে নিতে হয় তাঁকে।

এর মধ্যেই হেলমেটে বলের আঘাতও সহ্য করতে হয়েছে। স্বভাবতই আক্রমণাত্মক ও নির্ভার ক্রিকেট খেলেন বৈভব। কিন্তু চারপাশে এত প্রতিকূলতা তৈরি হওয়ায় সেদিন নিজের স্বাভাবিক প্রবৃত্তিকে কিছুটা নিয়ন্ত্রণে রাখেন তিনি। পরিস্থিতি বুঝে খেলেছেন, ধৈর্য দেখিয়েছেন এবং সমাধান খুঁজেছেন প্রতিটি চ্যালেঞ্জের।

ব্যাট হাতে তাণ্ডব চালিয়েছেন সূর্যবংশী
ব্যাট হাতে তাণ্ডব চালিয়েছেন সূর্যবংশী, এএফপি

প্রথম ছক্কা মারতে তাঁকে অপেক্ষা করতে হয়েছে ১৪ বল পর্যন্ত। আইপিএলে এটিই ছিল তাঁর সবচেয়ে ধীরগতির ফিফটি, যদিও সেটিও এসেছে মাত্র ৩১ বলে। প্রায় ১৮ ওভার ক্রিজে ছিলেন তিনি, টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারে যা তাঁর দীর্ঘতম ইনিংস। ম্যাচ শেষে রাজস্থান রয়্যালসের প্রধান কোচ কুমার সাঙ্গাকারা বলেন, ‘আজ ও অসাধারণ ব্যাটিং করেছে। চারপাশে উইকেট পড়ছিল, ফলে এটি অনেক কঠিন একটি ইনিংস ছিল। কিন্তু ও স্নায়ুর দৃঢ়তা ধরে রেখেছে। আমাদের লড়াই করার মতো স্কোর এনে দেওয়ার পেছনে সবচেয়ে বড় অবদান ওর।’

সাঙ্গাকারা আরও বলেন, ‘মাত্র ১৫ বছর বয়সী একজন ক্রিকেটারের জন্য ও অবিশ্বাস্য রকম পরিণত। খেলার পরিস্থিতি খুব ভালোভাবে বুঝতে পারে, ম্যাচও দারুণ পড়ে। আর সবচেয়ে বড় কথা, ওর মধ্যে কোনো ভয় নেই।’

বৈভব সূর্যবংশী কতটা পরিণত ক্রিকেট খেলেন, তা বোঝা যায় তাঁর ব্যাটিংয়ে। তিনি এমনকি টেস্ট ও ওয়ানডেতে ভারতের অধিনায়ক শুভমান গিলের ফিল্ড সাজানোর পরিকল্পনাও ভেস্তে দিতে পারেন, বদলে দিতে পারেন মোহাম্মদ সিরাজের বোলিং পরিকল্পনা।

রাজস্থানের বিদায়ে হতাশ সূর্যবংশী
রাজস্থানের বিদায়ে হতাশ সূর্যবংশী, রয়টার্স
 

ইনিংসের তৃতীয় ওভারে গিল শর্ট ফাইন লেগ থেকে একজন ফিল্ডারকে কভার-পয়েন্টে সরিয়ে এনে অফ সাইডের ভেতরের বৃত্ত আরও শক্ত করেছিলেন। তখন লেগ সাইডের সীমানায় একমাত্র ফিল্ডার ছিলেন ডিপ স্কয়ার লেগে, যেখানে এর আগে আউট হয়েছিলেন জয়সওয়াল। সূর্যবংশী সেই ফাঁকটাই কাজে লাগান। ব্যাক অব আ লেংথ ডেলিভারিকে দুর্দান্ত এক সুইপ করে ফাইন লেগ অঞ্চলে পাঠিয়ে দেন, যে শট ওই দৈর্ঘ্যের বলে খুব কম ব্যাটসম্যানই খেলতে পারেন।

পরের বলেও একই কৌশল। প্রায় দাঁড়িয়ে থেকেই তিনি বলটিকে একই ফাঁক গলে গুজরাট টাইটানসের ডাগআউটের দিকে পাঠান। শটটি দেখে গুজরাটের কোচ আশিস নেহরাও নিজের আসন ছেড়ে উঠে দাঁড়ান। আর গ্যালারিতে থাকা ২৫ হাজারের বেশি দর্শকও উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়েন।

এরপরও দর্শকদের রোমাঞ্চে ভাসিয়ে যেতে থাকেন বৈভব। পরের ওভারে কাগিসো রাবাদা নিজের পরিচিত হার্ড লেংথ থেকে সরে আসতেই ১৫২ কিলোমিটার গতির বল মিড-অফের ওপর দিয়ে চার মেরে দেন তিনি। প্রেস বক্সের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা এক কিশোর তখন বৈভবের ০৩ নম্বর জার্সি উঁচিয়ে ধরে জোরে জোরে নাড়াচ্ছিল। তার সঙ্গে থাকা বড়রাও উঠে দাঁড়িয়ে করতালি দিচ্ছিলেন প্রাণভরে। শেষ পর্যন্ত তাঁর আনন্দময় ইনিংসটা থেমেছে ৯৭ রানে।

দর্শকদের এমন আনন্দ অবশ্য পুরো আইপিএল মৌসুমজুড়ে দিয়েছেন সূর্যবংশী। একের পর এক চার-ছক্কায় এখন পর্যন্ত টুর্নামেন্ট সর্বোচ্চ ৭৭৬ রান তাঁর। ১৬ ইনিংসে ২৩৭.৩০ স্ট্রাইক রেট ও ৪৮.৫০ গড়ে এই রান করেছেন তিনি। ৭২২ রান করে দ্বিতীয় স্থানে থাকা গিল ফাইনাল নিশ্চিত করায় তাঁর সামনে সুযোগ আছে সূর্যবংশীকে টপকে যাওয়ার। যদিও এখনো ৫৫ রানে পিছিয়ে আছেন ভারতের টেস্ট অধিনায়ক। সেই কোটা পূরণ করতে ব্যর্থ হলে ‘অরেঞ্জ ক্যাপ’টা সূর্যবংশীর কাছেই থেকে যাবে।

এবারের আসরে গেইলের ছক্কার রেকর্ডসহ অসংখ্য রেকর্ড ভেঙেছেন সূর্যবংশী। গতকাল রাতের ৭ ছক্কাসহ তাঁর মোট ৭২টি। টি-টুয়েন্টি ক্রিকেটের ইতিহাসে কোনো টুর্নামেন্টে এটিই কোনো ব্যাটসম্যানের সর্বোচ্চ ছক্কার রেকর্ড। ২০১২ আইপিএলে ৫৯টি ছক্কা মেরে আগের রেকর্ডটি গড়েছিলেন ক্রিস গেইল।

সূর্যবংশীর এসব রেকর্ড কে ভাঙবেন?

হয়তো বৈভব সূর্যবংশী নিজেই! বয়সটা মনে আছে তো?

ঢাকা

ইংলিশ ফুটবলের অন্যতম সফল ক্লাব আর্সেনাল। তবে ইউরোপীয় ফুটবলের আসরে এখনও পুরোপুরি ‘মহাশক্তি’ হয়ে উঠতে পারেনি তারা। কারণ, ক্লাবটির ঝুলিতে এখনও নেই কোনো উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ শিরোপা। ইউরোপীয় ক্লাব ফুটবলের সবচেয়ে বড় মর্যাদার এই পুরস্কারটি ছাড়া কোনো ক্লাবই ইউরোপীয় ফুটবলের এলিট কাতারে জায়গা করে নিতে পারে না।

আগামীকাল শনিবার (৩০ মে) স্থানীয় সময় রাত ১০টায় চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ফাইনালে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন প্যারিস সেইন্ট জার্মেইর বিপক্ষে মাঠে নামবে গানাররা।  

ম্যাচটি শুধু একটি ট্রফির লড়াই নয়, বরং এটি আর্সেনালের ইতিহাস বদলে দেওয়ার সুযোগ। কোচ মিকেল আর্তেতার দল জিততে পারলে সেটিই হবে ক্লাবটির প্রথম চ্যাম্পিয়ন্স লিগ শিরোপা।

আর্সেনালের ইতিহাসে দেশীয় সাফল্যের অভাব নেই। ১৯৭১ সালের ডাবল জয়, ২০০৪ সালে টানা ৪৯ ম্যাচ অপরাজিত থাকার ‘ইনভিনসিবলস’ খেতাব এসব মুহূর্ত ইংলিশ ফুটবলের ইতিহাসে বিশেষভাবে স্মরণীয়। কিন্তু ইউরোপের সেরা ক্লাবগুলোর তালিকায় রিয়াল মাদ্রিদ, এসি মিলান, লিভারপুল, বার্সেলোনা  কিংবা বায়ার্ন মিউনিখের  পাশে আর্সেনালকে বসাতে গেলে বড় ঘাটতি হয়ে দাঁড়ায় ইউরোপিয়ান কাপের অনুপস্থিতি। 

বিশ্লেষকদের মতে, ঘরোয়া সাফল্য যত বড়ই হোক, চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ছাড়া বৈশ্বিক মর্যাদা পূর্ণতা পায় না। যেমন এসি মিলান কিংবা আয়াক্স এখন আগের মতো প্রভাবশালী না হলেও, ইউরোপিয়ান সাফল্যের কারণে আজও তাদের আলাদা মর্যাদা রয়েছে।

গত বছর, চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয়ের পর পিএসজির অবস্থানও বদলে গেছে। আগে শুধুমাত্র ফরাসি লিগে আধিপত্যের জন্য সমালোচিত হলেও, এখন কোচ লুইস এনরিকের দলকে ইউরোপের অন্যতম সেরা দল হিসেবে দেখা হয়।

গত বছর চ্যাম্পিয়ন্স লিগ সেমিফাইনালে  পিএসজি'র বিপক্ষে আর্সেনালের একটি আক্রমণ

ফাইনালে পিএসজি ফেভারিট হলেও আর্সেনালকে হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই। চলতি মৌসুমে ইউরোপিয়ান প্রতিযোগিতায় এখনো অপরাজিত আর্তেতার দল। বিশেষ করে রক্ষণভাগের দৃঢ়তা ও সেট-পিস থেকে গোল করার দক্ষতা তাদের বড় শক্তি।

বিশ্লেষকদের মতে, ম্যাচে আর্সেনাল যদি প্রথম গোল করতে পারে, তাহলে ম্যাচ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার সামর্থ্য তাদের রয়েছে। চলতি চ্যাম্পিয়ন্স লিগে প্রথম গোল করা প্রতিটি ম্যাচেই জিতেছে গানাররা।

ফুটবলবিশ্বে ভালোবাসা পাওয়ার চেয়ে সম্মান অর্জনই বেশি গুরুত্বপূর্ণ, এমনটাই মনে করেন অনেকে। আর সেই সম্মানকে স্থায়ী রূপ দিতে আর্সেনালের সামনে এখন সবচেয়ে বড় সুযোগ চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয়।

(সূত্র: দ্য টেলিগ্রাফ) 

বিশ্বসেরা অ্যাথলেটদের জন্য জুতায় বিশেষভাবে নকশা তৈরি করে আলোচনায় ব্রিটিশ শিল্পী জর্ডান ডসন। নিজের শোবার ঘরে বসে শুরু করা ছোট্ট উদ্যোগই তাকে পৌঁছে দিয়েছে আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনের তারকাদের কাছে।

লন্ডনের এক পাব-এ বসে সিএনএনকে নিজের কাজ দেখাচ্ছিলেন ৩১ বছর বয়সী ডসন। ব্যাগ থেকে বের করলেন একজোড়া ফুটবল বুট। বললেন, 'এগুলো ঘানার প্লেয়ার আন্তোয়ান সেমেনিওর জন্য। বিশ্বকাপে এগুলো পরবেন তিনি।'

সাধারণ সাদা বুটকে রঙ, নকশা আর ব্যক্তিগত গল্পে ভরিয়ে তোলাই ডসনের বিশেষত্ব। তার ডিজাইন করা বুট ব্যবহার করেছেন কিলিয়ান এমবাপ্পে, মার্কাস রাশফোর্ড, এনজো ফার্নান্দেজ ও জিয়ানলুইজি দোন্নারুম্মার মতো তারকা ফুটবলাররা।

শৈশব থেকেই আঁকাআঁকির প্রতি ঝোঁক ছিল ডসনের। স্কুলজীবনে শিল্পকলায় সময় কাটাতেন বেশি। পরে লন্ডনের চেলসি কলেজ অব আর্টসে ফাইন আর্ট নিয়ে পড়াশোনা করেন। তবে সেই ডিগ্রি নিয়ে সরাসরি কাজ পাওয়া সহজ ছিল না।

জীবিকা চালাতে লন্ডনের একটি নাইকি স্টোরে চাকরি নেন তিনি। সেখান থেকেই বাড়িতে নিয়ে আসা অতিরিক্ত জুতাকে ক্যানভাস হিসেবে ব্যবহার শুরু করেন। ধীরে ধীরে জুতা আর শিল্প—দুই ভালোবাসাকে একসঙ্গে মিশিয়ে তৈরি করেন নিজস্ব স্টাইল।

শুরুর দিকে প্রায় ৩০টি প্রতিষ্ঠানের কাছে কাজের প্রস্তাব দিয়েও সাড়া পাননি। তবে ২০১৮ সালে, নাইকির একটি ক্যাম্পেইনে কাজের সুযোগ পেয়ে ভাগ্য বদলে যায় তার।

এক ব্র্যান্ড ইভেন্টে পরিচয় হয় ইংল্যান্ড ফুটবলার ডেকলান রাইসের সঙ্গে। রাইসের জন্য বিশেষ বুট ডিজাইন করার পর থেকেই একে একে আরও ফুটবলারের সঙ্গে কাজের সুযোগ আসে।

ডসন জানান, তিনি শুধু নাম বা পতাকার ডিজাইন করেন না। বরং প্রতিটি খেলোয়াড়ের ব্যক্তিত্ব ও গল্প তুলে ধরার চেষ্টা করেন বুটের নকশায়।

বর্তমানে ফুটবলের বাইরে এনবিএ, এনএফএল ও ফর্মুলা ওয়ানের তারকাদের সঙ্গেও কাজ করার স্বপ্ন দেখছেন এই শিল্পী। এরই মধ্যে রেড বুলের একটি ফর্মুলা ওয়ান গাড়ির জন্যও ডিজাইন করেছেন তিনি।

ডসনের ভাষায়, 'আমি সবসময় বড় স্বপ্ন দেখতে পছন্দ করি। প্রতিটি খেলাধুলার সর্বোচ্চ পর্যায়ের তারকাদের জন্য কাজ করতে চাই।'

 

গোয়া থেকে

গোয়া থেকে

২০২৬ বিশ্বকাপের জন্য ২৬ সদস্যের দল ঘোষণা করেছে আর্জেন্টিনা। কোচ লিওনেল স্কালোনির ঘোষিত দলে সবচেয়ে বেশি প্রতিনিধিত্ব করছে ইউরোপের শীর্ষ লিগে খেলা দলগুলো। স্কালোনি অভিজ্ঞতা ও সর্বোচ্চ পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় খেলার অভ্যাস—এ দুই বিষয়কে গুরুত্ব দিয়েই দল সাজিয়েছেন; যেখানে সবচেয়ে বেশি খেলোয়াড় জায়গা স্প্যানিশ ক্লাব আতলেতিকো মাদ্রিদ থেকে।

এই ক্লাব থেকে সব মিলিয়ে দলে আছেন সর্বোচ্চ ছয়জন খেলোয়াড়। আতলেতিকো থেকে জায়গা পাওয়া সেই খেলোয়াড়েরা হলেন হুয়ান মুসো, নাহুয়েল মলিনা, হুলিয়ান আলভারেজ, নিকো গনসালেস, থিয়াগো আলমাদা ও জুলিয়ানো সিমিওনে।

এই ক্লাব থেকে লিওনেল মেসি ও রদ্রিগো দি পল বিশ্বকাপ দলে সুযোগ পেয়েছেন। এ ছাড়া শীর্ষ তারকাদের মধ্যে ইংল্যান্ডের লিভারপুল থেকে অ্যালেক্সিস ম্যাক আলিস্টার, চেলসি থেকে জায়গা পেয়েছেন এনজো ফার্নান্দেজ, অ্যাস্টন ভিলা থেকে এমিলিয়ানো মার্তিনেজ, ইতালির ইন্টার মিলান থেকে লাওতারো মার্তিনেজ এবং এএস রোমা থেকে লিয়ান্দ্রো পারেদেস স্কোয়াডে সুযোগ পেয়েছেন।
আলভারেজের আতলেতিকো মাদ্রিদ থেকে ৬ জন খেলোয়াড় সুযোগ পেয়েছেন
আলভারেজের আতলেতিকো মাদ্রিদ থেকে ৬ জন খেলোয়াড় সুযোগ পেয়েছেন এক্স

লিগভিত্তিক খেলোয়াড় বণ্টনের ক্ষেত্রে শীর্ষে আছে স্পেনের লা লিগা, যেখানে মোট সাতজন খেলোয়াড় আছেন। এই সাতজনের মধ্যে ছয়জনই আবার আতলেতিকোর। স্প্যানিশ ক্লাব থেকে সুযোগ পাওয়ার অন্যজন হলেন রিয়াল বেতিসের জিওভানি লো সেলসো।

দ্বিতীয় স্থানে আছে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ। যেখানে আর্জেন্টিনার পাঁচজন খেলোয়াড় খেলছেন। তাঁরা হলেন অ্যাস্টন ভিলার মার্তিনেজ, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের লিসান্দ্রো মার্তিনেজ, টটেনহামের ক্রিস্টিয়ান রোমেরো, লিভারপুলের অ্যালেক্সিস ম্যাক আলিস্টার এবং চেলসির এনজো ফার্নান্দেজ।

তৃতীয় স্থানে রয়েছে ফ্রান্সের লিগ ‘আঁ’, যেখান থেকে পাঁচজন আর্জেন্টাইন খেলোয়াড় বিশ্বকাপ মিশনে যাবেন—মার্সেইয়ের রুলি, বালের্দি, মেদিনা, স্ট্রাসবুর্গের ভ্যালেন্তিন বার্কো ও লিওঁর নিকোলাস তাগলিয়াফিকো।

তিনটি লিগে রয়েছে সমান দুটি করে প্রতিনিধিত্ব। আর্জেন্টিনা প্রফেশনাল ফুটবল লিগ, সিরি আ এবং মেজর লিগ সকার—এই তিন লিগ থেকেই এসেছে দুজন করে খেলোয়াড়। আর্জেন্টিনা লিগ থেকে ডাক পেয়েছেন বোকা জুনিয়র্সের পারেদেস এবং রিভার প্লেটের গনসালো মন্তিয়েল।

ইতালির সিরি ‘আ’ থেকে আছেন ইন্টার মিলানের লাওতারো মার্তিনেজ এবং কোমোর নিকো পাজ, আর যুক্তরাষ্ট্রের মেজর লিগ সকার থেকে প্রতিনিধিত্ব করছেন ইন্টার মায়ামির লিওনেল মেসি এবং রদ্রিগো দি পল। এ ছাড়া পর্তুগিজ লিগ থেকে একমাত্র খেলোয়াড় হিসেবে আছেন বেনফিকার নিকোলাস ওতামেন্দি এবং ব্রাজিলিয়ান লিগ থেকে আছেন পালমেইরাসে খেলা হোসে ম্যানুয়েল লোপেজ।

বিশ্বকাপজয়ী আর্জেন্টিনার অধিনায়ক হিসেবে ২০২৬ বিশ্বকাপেও খেলবেন লিওনেল মেসি। বৃহস্পতিবার রাতে ২৬ সদস্যের দল ঘোষণা করেছেন কোচ লিওনেল স্কালোনি। সেই দলেই জায়গা পেয়েছেন ৩৮ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড।

২০২২ সালে কাতার বিশ্বকাপে ফ্রান্সকে টাইব্রেকারে হারিয়ে আর্জেন্টিনাকে তৃতীয় শিরোপা এনে দিয়েছিলেন মেসি। এবার খেলতে নামলে এটি হবে তাঁর ষষ্ঠ বিশ্বকাপ। এর মধ্য দিয়ে পুরুষ ফুটবলে বিশ্বকাপের ছয়টি আসরে খেলা একমাত্র ফুটবলারদের তালিকায় ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর পাশে নাম লেখাবেন তিনি।

বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলার রেকর্ডও এখন মেসির দখলে। এখন পর্যন্ত তিনি খেলেছেন ২৬টি ম্যাচ। ২০২২ বিশ্বকাপে সেরা গোলরক্ষকের পুরস্কার জেতা এমিলিয়ানো মার্তিনেজও আছেন দলে। ইংলিশ ক্লাব ফুটবলে খেলা লিসান্দ্রো মার্তিনেজ, ক্রিস্তিয়ান রোমেরো, আলেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার ও এনসো ফার্নান্দেজও জায়গা পেয়েছেন স্কোয়াডে। দলে আছেন এই সময়ের আলোচিত তরুণ নিকো পাজও।

যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোয় বসবে এবারের বিশ্বকাপ। ‘জে’ গ্রুপে থাকা আর্জেন্টিনা নিজেদের প্রথম ম্যাচ খেলবে ১৭ জুন আলজেরিয়ার বিপক্ষে, কানসাস সিটিতে। এরপর ডালাসে ২২ জুন অস্ট্রিয়া ও ২৮ জুন জর্ডানের মুখোমুখি হবে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা।

কদিন আগে ইন্টার মায়ামির হয়ে এমএলএস ম্যাচে বদলি হয়ে মাঠ ছাড়েন মেসি। সে সময় তাঁর চোটে পড়ার গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে। পরে ক্লাব জানায়, মেসি চোটে পড়েননি। তিনি বাঁ পায়ের হ্যামস্ট্রিংয়ে পেশিতে ক্লান্তি অনুভব করছিলেন। আর্জেন্টিনার জার্সিতে এখন পর্যন্ত ১৯৮ ম্যাচ খেলেছেন মেসি। বিশ্বকাপের আগে হন্ডুরাস ও আইসল্যান্ডের বিপক্ষে দুটি প্রীতি ম্যাচে খেললে ২০০ ম্যাচের মাইলফলকও ছুঁয়ে ফেলবেন তিনি।

আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ দল:

গোলরক্ষক: হুয়ান মুসো (আতলেতিকো মাদ্রিদ), গেরোনিমো রুই (মার্সেই), এমিলিয়ানো মার্তিনেজ (অ্যাস্টন ভিলা)।

ডিফেন্ডার: লেওনার্দো বালের্দি (মার্সেই), নিকোলাস তাগলিয়াফিকো (লিঁও), গনসালো মন্তিয়েল (রিভার প্লেট), লিসান্দ্রো মার্তিনেজ (ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড), ক্রিস্তিয়ান রোমেরো (টটেনহাম), নিকোলাস ওতামেন্দি (বেনফিকা), ফাকুন্দো মেদিনা (মার্সেই), নাহুয়েল মলিনা (আতলেতিকো মাদ্রিদ)।

মিডফিল্ডার: লিয়ান্দ্রো পারেদেস (রিভার প্লেট), রদ্রিগো দি পল (ইন্টার মায়ামি), ভালেন্তিন বার্কো (স্ট্রাসবুর্গ), জিওভানি লো সেলসো (রিয়াল বেতিস), এজেকিয়েল পালাসিওস (বায়ার লেভারকুসেন), আলেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার (লিভারপুল), এনজো ফার্নান্দেজ (চেলসি)।

ফরোয়ার্ড: হুলিয়ান আলভারেজ (আতলেতিকো মাদ্রিদ), লিওনেল মেসি (ইন্টার মায়ামি), নিকোলাস গনসালেস (আতলেতিকো মাদ্রিদ), তিয়াগো আলমাদা (আতলেতিকো মাদ্রিদ), জুলিয়ানো সিমিওনে (আতলেতিকো মাদ্রিদ), নিকো পাজ (কোমো), হোসে ম্যানুয়েল লোপেস (পালমেইরাস), লাওতারো মার্তিনেজ (ইন্টার মিলান)।

সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপ ২০২৬-এ নিজেদের প্রথম ম্যাচেই দুর্দান্ত ও দাপুটে জয় তুলে নিয়েছে বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল। বৃহস্পতিবার (২৮ মে) নেপালের কাঠমান্ডুর ঐতিহাসিক দশরথ রঙ্গশালা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হয় এই ম্যাচ। গ্রুপ পর্বের এই ম্যাচে মালদ্বীপকে ৪-২ গোলের বড় ব্যবধানে হারিয়েছে বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল।  

এই দাপুটে জয়ের ফলে টুর্নামেন্টের সেমিফাইনাল নিশ্চিত করার পাশাপাশি টানা তৃতীয়বার দক্ষিণ এশিয়ার শ্রেষ্ঠত্বের শিরোপা জেতার  অভিযানে দারুণ এক শুভ সূচনা করল বাংলাদেশ।

ম্যাচের শুরু থেকেই ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশের মেয়েরা প্রতিপক্ষের ওপর চড়াও হয়ে আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে। শক্তিশালী আক্রমণভাগের তোপে ম্যাচের প্রথমার্ধেই ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায় সাবিনা-প্রীতিরা। চমৎকার পাসিং ও মাঝমাঠের নিখুঁত নিয়ন্ত্রণে ম্যাচের পুরোটা সময় মালদ্বীপের রক্ষণভাগকে ব্যস্ত রাখে বাংলাদেশের ফরোয়ার্ডরা।

তবে দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে বাংলাদেশের রক্ষণভাগের কিছুটা ভুলের সুযোগ নিয়ে মালদ্বীপ ম্যাচে ঘুরে দাঁড়ায় এবং আকস্মিক স্কোরলাইন ২-২ সমতায় নিয়ে আসে। অবশ্য সমতায় ফেরার সেই আনন্দ মালদ্বীপের জন্য বেশি দীর্ঘ হতে দেয়নি বাংলাদেশ। কৌশলের দ্রুত পরিবর্তন এনে মাঠের নিয়ন্ত্রণ আবারও নিজেদের হাতে তুলে নেয় লাল-সবুজের মেয়েরা। ম্যাচের শেষভাগে সুরভী আক্তার প্রীতির দুর্দান্ত ফিনিশিং এবং উমেলার আকর্ষণীয় স্ট্রাইকে আরও দুটি গোল করে বড় ব্যবধান নিশ্চিত করে বাংলাদেশ। শেষ পর্যন্ত ৪-২ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা।

গ্রুপ পর্বের প্রথম ম্যাচেই পূর্ণ ৩ পয়েন্ট পাওয়ার সুবাদে টুর্নামেন্টের শেষ চারের টিকিট নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ। উল্লেখ্য, গত দুই আসরের (২০২২ এবং ২০২৪) চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশের মূল লক্ষ্য এবার টানা তৃতীয় শিরোপার হ্যাটট্রিক ঘরে তোলা।

 

২৯ বলে ১২ ছক্কায় ৯৭ রান। স্ট্রাইকরেট ৩৩৪.৪৮। কাল নিউ চণ্ডীগড়ে আইপিএলের এলিমিনেটর ম্যাচে এমন ইনিংস খেলেছেন ১৫ বছর বয়সী সূর্যবংশী। এমন ইনিংস খেলার পথে অসংখ্য রেকর্ড গড়েছেন এই কিশোর। সঙ্গে সানরাইজার্স হায়দরাবাদের বিপক্ষে ৪৭ রানের জয়ে তাঁর দল রাজস্থান রয়্যালসও পৌঁছে গেছে কোয়ালিফায়ারে।
৬৫

এবারের আইপিএলে মোট ৬৫টি ছক্কা হাঁকিয়েছেন সূর্যবংশী। টি–টুয়েন্টি ক্রিকেটের ইতিহাসে কোনো টুর্নামেন্টে এটিই কোনো ব্যাটসম্যানের সর্বোচ্চ ছক্কার রেকর্ড। ২০১২ আইপিএলে ৫৯টি ছক্কা মেরে আগের রেকর্ডটি গড়েছিলেন ক্রিস গেইল।

২৬৬

গেইল ৫৯টি ছক্কা মারতে খেলেছিলেন ৪৫৬ বল। আর সূর্যবংশী গেইলের রেকর্ড ভেঙে ৬৫টি ছক্কা মারলেন মাত্র ২৬৬ বলে!

২৪২.৮৫ স্ট্রাইক রেট

চলতি মৌসুমে ১৫ ইনিংসে সূর্যবংশীর মোট রান ৬৮০। টি–টুয়েন্টি ইতিহাসের প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে এক টুর্নামেন্টে ২০০–এর বেশি স্ট্রাইক রেটে (২৪২.৮৫) ৬০০ রান করেছেন সূর্যবংশী। ২০২২ সালের টি–টুয়েন্টি ব্লাস্টে ১৯২.২৮ স্ট্রাইক রেটে ৬২৩ রান করে এত দিন এই তালিকার শীর্ষে ছিলেন দক্ষিণ আফ্রিকার রাইলি রুশো।

কাল ১২ টি ছক্কা মেরেছেন সূর্যবংশী
কাল ১২ টি ছক্কা মেরেছেন সূর্যবংশী, এএফপি
৩৩৪.৪৮ স্ট্রাইক রেট

এলিমিনেটরে সূর্যবংশী ৯৭ রানের ইনিংস খেলেছেন ৩৩৪.৪৮ স্ট্রাইক রেটে। আইপিএলের ইতিহাসে ৯০ বা তার বেশি রানের ইনিংসে এটিই সর্বোচ্চ স্ট্রাইক রেটের রেকর্ড।

১৬ বল

কাল মাত্র ১৬ বলে ফিফটি করেন সূর্যবংশী। আইপিএলের প্লে-অফ বা নকআউট পর্বের ইতিহাসে এটি যৌথভাবে দ্রুততম ফিফটি। ২০১৪ সালে কিংস ইলেভেন পাঞ্জাবের বিপক্ষে দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে চেন্নাই সুপার কিংসের সুরেশ রায়নাও ১৬ বলে ফিফটি করেছিলেন।

১২ ছক্কা

এলিমিনেটরে মাত্র ২৯ বলের ইনিংসে ১২টি ছক্কা মারেন সূর্যবংশী। আইপিএলের এক ইনিংসে কোনো ভারতীয় ব্যাটসম্যানের সর্বোচ্চ ছক্কার রেকর্ড এটি। এর আগেও তিনি একবার ১২টি ছক্কা মেরেছিলেন, সেটিও এসেছিল এই হায়দরাবাদের বিপক্ষেই।

তবে আইপিএলের প্লে-অফ বা নকআউট ম্যাচে এটিই এখন সর্বোচ্চ ছক্কার রেকর্ড। ২০২৩ সালে মুম্বাই ইন্ডিয়ানসের বিপক্ষে শুবমান গিল ১০টি ছক্কা মেরে এত দিন শীর্ষে ছিলেন।

২৪ বল

ইনিংসের প্রথম ১০টি ছক্কা মারতে সূর্যবংশী খেলেছেন মাত্র ২৪ বল। আইপিএলে এত কম বলে ১০টি ছক্কা আর কেউ মারতে পারেননি। ২০১৩ সালে পুনে ওয়ারিয়র্সের বিপক্ষে অপরাজিত ১৭৫ রানের সেই বিখ্যাত ইনিংসে প্রথম ১০টি ছক্কা মারতে গেইল খেলেছিলেন ২৭ বল।

৮ ছক্কা

কাল ১২টি ছক্কার মধ্যে ৮টিই সূর্যবংশী মেরেছেন প্রথম পাওয়ারপ্লেতে। আইপিএলের ইতিহাসে পাওয়ারপ্লেতে এটিই সর্বোচ্চ ছক্কার রেকর্ড। এর আগে পাঁচজন ব্যাটসম্যান পাওয়ারপ্লেতে ৭টি করে ছক্কা মেরেছিলেন, যার মধ্যে চলতি মৌসুমে জয়পুরে সূর্যবংশীর নিজেরও একটি ইনিংস ছিল।

পাওয়ারপ্লের প্রথম ৬ ওভারেই সূর্যবংশী রান তুলেছেন ৪৯০
পাওয়ারপ্লের প্রথম ৬ ওভারেই সূর্যবংশী রান তুলেছেন ৪৯০এএফপি
৪৯০

এই মৌসুমে শুধু পাওয়ারপ্লের প্রথম ৬ ওভারেই সূর্যবংশী রান তুলেছেন ৪৯০। ২০১৬ সালের আইপিএলে পাওয়ারপ্লেতে ডেভিড ওয়ার্নারের করা ৪৬৭ রানের রেকর্ড ভেঙেছেন এই কিশোর।

৩০০+

আইপিএলের ৩০০–এর বেশি স্ট্রাইকরেটে সূর্যবংশী পঞ্চাশোর্ধ রানের ইনিংস খেলেছেন ৩ বার, যা আইপিএল ইতিহাসে সর্বোচ্চ।