চীনে তৈরি স্মার্টফোন ও অন্যান্য ইলেকট্রনিকস পণ্য শুল্ক থেকে অব্যাহতি পাবে না বলে ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, এসব পণ্যকে কেবল একটি নতুন ‘শুল্ক বিভাগের’ অধীনে আনা হচ্ছে। খবর বিবিসি

এর আগে শুক্রবার একটি সরকারি ঘোষণায় জানানো হয়েছিল, কিছু ইলেকট্রনিকস পণ্য ১৪৫% পর্যন্ত শুল্ক থেকে রেহাই পাবে, যার ফলে আজ সোমবার ইউরোপীয় শেয়ারবাজারে ঊর্ধ্বগতি দেখা যায়।

তবে আগের দিন রোববার মার্কিন কর্মকর্তারা জানান, এসব পণ্য এখন ‘সেমিকন্ডাক্টর শুল্ক’-এর আওতায় পড়বে। ট্রাম্প জানান, সোমবার তিনি নতুন শুল্কের বিস্তারিত তুলে ধরবেন।

মার্কিন বাণিজ্যমন্ত্রী হাওয়ার্ড লুটনিক বলেন, আমাদের ওষুধ, সেমিকন্ডাক্টর ও ইলেকট্রনিকস আমাদের দেশেই উৎপাদন করতে হবে। এই নতুন শুল্ক ইতোমধ্যে আরোপিত বৈশ্বিক শুল্কের পাশাপাশি কার্যকর হবে, যেগুলো ৯০ দিনের জন্য স্থগিত রাখা হয়েছিল।

শনিবার প্রকাশিত একটি কাস্টমস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছিল, স্মার্টফোন, কম্পিউটার ও কিছু ইলেকট্রনিক পণ্য চীনের ওপর আরোপিত ১২৫% শুল্কের বাইরে থাকবে।

তবে ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়ে দেন, এসব পণ্যের জন্য কোনো শুল্ক অব্যাহতি নেই এবং তিনি ওই কাস্টমস নোটিশ সংক্রান্ত সংবাদকে ‘ভুল’ বলে দাবি করেন। তিনি বলেন, এই পণ্যগুলো কেবল অন্য একটি শুল্ক বিভাগের আওতায় আনা হচ্ছে।

ট্রাম্প আরও বলেন, আমরা সেমিকন্ডাক্টর এবং পুরো ইলেকট্রনিকস সাপ্লাই চেইন-এর ওপর ‘ন্যাশনাল সিকিউরিটি ট্যারিফ ইনভেস্টিগেশন’ শুরু করতে যাচ্ছি।

হোয়াইট হাউজ জানিয়েছে, অন্যান্য দেশের সঙ্গে আরও ভালো বাণিজ্য চুক্তির জন্যই শুল্ককে কৌশল হিসেবে ব্যবহার করছেন ট্রাম্প। তাদের দাবি, এতে করে বৈশ্বিক বাণিজ্যে যে বৈষম্য রয়েছে, তা দূর হবে এবং উৎপাদন ও যুক্তরাষ্ট্রে কর্মসংস্থান ফিরে আসবে।

তবে ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এখনই চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে ট্রাম্পের বৈঠকের কোনও পরিকল্পনা নেই। এই অবস্থায় যুক্তরাষ্ট্র-চীন বাণিজ্য উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে বলেই ধারণা বিশ্লেষকদের।

চীন এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছে, ট্রাম্প যেন শুল্কনীতি সম্পূর্ণভাবে বাতিল করেন এবং “পারস্পরিক সম্মান ও সহযোগিতার সঠিক পথে” ফিরে আসেন।

চীনের পাল্টা শুল্কের জবাবে ৫০ শতাংশ শুল্কারোপের হুমকি দিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, প্রেসিডেন্টের ঘোষণা অনুযায়ী চীনা বেশকিছু পণ্যের ওপর ১০৪ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। বুধবার থেকে এটি কার্যকর হবে।

হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিটের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

 
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (৮ এপ্রিল) এক সংবাদ সম্মেলনে হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি জানান, আজ বুধবার থেকেই চীনের ওপর এ শুল্ক কার্যকর হবে।
 
এর আগে গত বুধবার (২ এপ্রিল) যুক্তরাষ্ট্রে আমদানি করা বেশিরভাগ পণ্যের ওপর ১০ শতাংশ ন্যূনতম শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সেদিন চীনের ওপর নতুন করে ৩৪ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেন তিনি যা পূর্বে আরোপিত শুল্কসহ ৫৪ শতাংশে দাঁড়ায়।
 
ট্রাম্পের ঘোষণার পরদিন বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) চীন এক বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রকে শুল্ক আরোপের পদক্ষেপ বাতিল করার আহ্বান জানায় এবং পরদিন শুক্রবার (৪ এপ্রিল) যুক্তরাষ্ট্র থেকে আসা সব পণ্যের ওপর ৩৪ শতাংশ শুল্ক আরোপ করে।
 
জবাবে চীনের ওপর অতিরিক্ত ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপের হুমকি দেন ট্রাম্প। সোমবার (৭ এপ্রিল) ট্রুথ সোশ্যালে তিনি লেখেন, ‘চীন যদি মঙ্গলবারের (৮ এপ্রিল) মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যের ওপর ৩৪ শতাংশ শুল্ক প্রত্যাহার না করে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র বুধবার (৯ এপ্রিল) থেকে কার্যকরভাবে চীনের ওপর অতিরিক্ত আরও ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করবে। সেই সঙ্গে আমাদের সাথে চীনের অনুরোধকৃত সব আলোচনা বাতিল করা হবে।’
 
বেঁধে দেয়া সময়সীমার মধ্যে বেইজিং মার্কিন পণ্যের ওপর থেকে শুল্ক প্রত্যাহার না করায় এই ঘোষণা যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এই ঘোষণা এলো।
 
এর আগে এক্স, ট্রুথ সোশ্যালসহ একাধিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্টে ট্রাম্প লেখেন, 'তেলের দাম কমেছে, সুদের হার কমেছে, খাদ্যের দাম কমেছে, কোনো মূল্যস্ফীতি নেই। যেসব দেশ আমাদের শোষণ করত, শুল্কের মাধ্যমে তাদের কাছ থেকে দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত যুক্তরাষ্ট্র এখন সপ্তাহে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার আদায় করছে।’
 
পোস্টে চীনকে ‘সবচেয়ে বড় শোষক’ বলে আখ্যা দেন ট্রাম্প। তিনি লেখেন, ‘সবচেয়ে বড় শোষক চীনের বাজার ভেঙে পড়ছে। তারা আমার সতর্কবার্তা উপেক্ষা করে, পাল্টা প্রতিক্রিয়া না দেখানোর অনুরোধ অগ্রাহ্য করে আরও ৩৪ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে—যা তাদের আগের অবিশ্বাস্য উচ্চ শুল্কগুলোর ওপর বসানো হয়েছে!'
 
ট্রাম্পের শুল্ক আরোপের হুমকির প্রতিক্রিয়ায় ‘শেষ পর্যন্ত’ লড়াই চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করেছে বেইজিং। চীনা বাণিজ্য মন্ত্রণালয় মুখপাত্র মঙ্গলবার বলেন, ‘চীনের বিরুদ্ধে শুল্ক বাড়ানোর মার্কিন হুমকি একটি ভুলের ওপর আরেকটি ভুল। এর মধ্য দিয়ে আবারও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতারণা করার স্বভাব প্রকাশ পেয়েছে। চীন কখনোই এটা মেনে নেবে না।’
 

ইরানের রাজধানী তেহরানসহ বিভিন্ন শহরে ব্যাপক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। তেহরানের মধ্যাঞ্চলে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় হওয়ার শব্দের পাশাপাশি রাজধানীর পূর্ব ও পশ্চিমাঞ্চলে শক্তিশালী বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের অব্যাহত বিমান হামলার মুখে ইরানের আরও অনেক শহরেই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটছে।

বার্তা সংস্থাগুলোর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বন্দর আব্বাসে একটি রেডিও স্টেশন লক্ষ্য করে চালানো হামলায় একজন নিহত হয়েছেন।

এছাড়া খোররামাবাদ ও উর্মিয়া শহরের দুটি আবাসিক এলাকায় হামলায় বেশ কয়েকজন বেসামরিক নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন। ইরানে চলমান হামলায় এ পর্যন্ত অন্তত ১ হাজার ৫০০ জনের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে। তবে হামলার তীব্রতা বিবেচনায় এ সংখ্যা আরও বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এদিকে ইসফাহান, কারাজ ও আহভাজেও ভয়াবহ বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া গেছে। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর আহভাজে একটি হাসপাতালও হামলার কবলে পড়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে।

ইতিমধ্যে ইরানিয়ান রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত ৮০ হাজারের বেশি বেসামরিক স্থাপনা হামলার শিকার হয়েছে, যার মধ্যে বেশ কিছু ভবন মাটির সঙ্গে মিশে গেছে।

ক্ষতিগ্রস্ত এসব স্থাপনার তালিকায় রয়েছে হাসপাতাল, স্কুল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও রেড ক্রিসেন্টের নিজস্ব কার্যালয়ও।

তথ্যসূত্র: আল–জাজিরা

মধ্য আফ্রিকার দেশ গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রের পূর্বাঞ্চলে একটি কোলটান খনিতে ভয়াবহ ভূমিধসে দুই শতাধিক মানুষের মৃত্যু হয়েছে। দেশটির খনি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে প্রায় ৭০ জন শিশু রয়েছে।

কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, টানা ভারী বৃষ্টির পর পূর্বাঞ্চলের নর্থ কিভু প্রদেশের রুবায়া এলাকার কোলটান খনিতে হঠাৎ মাটি ধসে পড়ে। সেই সময় খনির ভেতরে ও আশপাশে বহু শ্রমিক কাজ করছিলেন। মুহূর্তের মধ্যে তারা মাটির নিচে চাপা পড়েন।

দুর্ঘটনার পর উদ্ধারকারীরা ঘটনাস্থল থেকে বিপুলসংখ্যক মরদেহ উদ্ধার করেন। আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে নিকটবর্তী শহর গোমার বিভিন্ন হাসপাতাল ও চিকিৎসাকেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে।

তবে ঘটনাটি নিয়ে ভিন্ন দাবি করেছে খনি এলাকা নিয়ন্ত্রণকারী এম২৩ বিদ্রোহী গোষ্ঠী। তাদের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, এটি ভূমিধস নয়, বরং বোমা হামলার ঘটনা এবং এতে মাত্র পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে।

অন্যদিকে খনিতে কর্মরত এক শ্রমিক জানান, উদ্ধার অভিযানে অংশ নিয়ে তিনি নিজেই দুই শতাধিক মরদেহ উদ্ধার করতে সহায়তা করেছেন। তার দাবি, প্রকৃত মৃতের সংখ্যা প্রকাশ করা হচ্ছে না।

রুবায়া অঞ্চলটি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কোলটান উৎপাদন কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। এখান থেকে বিশ্বের প্রায় ১৫ শতাংশ কোলটান সরবরাহ হয়। কোলটান থেকে তৈরি ট্যান্টালাম আধুনিক প্রযুক্তি শিল্পের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ধাতু। মোবাইল ফোন, কম্পিউটার, মহাকাশযানের যন্ত্রাংশ এবং গ্যাস টারবাইনের মতো বিভিন্ন প্রযুক্তিপণ্যে এটি ব্যবহৃত হয়।

এর আগে চলতি বছরের জানুয়ারির শেষদিকে একই এলাকায় আরেকটি খনি ধসে দুই শতাধিক মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। সে সময় কঙ্গো সরকার অভিযোগ করেছিল, পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছাড়া অবৈধ খনন কার্যক্রম চালানোর কারণেই এমন দুর্ঘটনা ঘটছে। সূত্র: আল-জাজিরা

 

দেশে বর্তমানে ৪৪০টিরও বেশি স্থানে সীমিত পরিসরে ৫জি সেবা চালু হয়েছে। এই কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণের জন্য অবকাঠামো শক্তিশালী করার কাজও চলছে। তবে কৃষি, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও উৎপাদন খাতসহ গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলোর প্রস্তুতির ওপর পূর্ণাঙ্গ ৫জি সেবা চালু নির্ভর করবে।

ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম বলেছেন, বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ৫জি ইকোসিস্টেম ব্যবহারের জন্য উপযুক্ত খাতগুলো চিহ্নিত করার কার্যক্রম চলছে। একই সঙ্গে নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ, স্পেকট্রাম পরিকল্পনা, ট্রান্সমিশন ব্যবস্থা উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক ব্যান্ডউইথ বৃদ্ধির কার্যক্রমও এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, বাণিজ্যিক পর্যায়ে ৫জি সেবা চালুর প্রক্রিয়া এখনও চলমান। তবে ইতোমধ্যে আবাসিক ও শিল্প এলাকাসহ দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সীমিত আকারে ৫জি সেবা চালু করা হয়েছে। রাজধানীর আবাসিক এলাকা, বিমানবন্দর, রেলস্টেশন ও রেস্তোরাঁসহ প্রায় ৪০টি স্থান বর্তমানে ৫জি নেটওয়ার্কের আওতায় এসেছে।

মন্ত্রী বলেন, ঢাকার বাইরে কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, রংপুর, বরিশাল, খুলনা ও সিলেটের ৪শ’টিরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ স্থানও সীমিত পরিসরের ৫জি সেবা চালু হয়েছে। সংসদের সর্বশেষ অধিবেশনে লিখিত প্রশ্নোত্তরে তিনি এ কথা জানান। নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের কাজ এগিয়ে চললেও ৫জি প্রযুক্তির পূর্ণ সুফল পেতে যেসব খাত এ প্রযুক্তি ব্যবহার করবে, সেসব খাতের প্রস্তুতিও জরুরি।

এ লক্ষ্যে বাংলাদেশের বাস্তবতায় কোন কোন শিল্পখাত ৫জি প্রযুক্তি ব্যবস্থার জন্য সবচেয়ে উপযোগী, তা নির্ধারণেও কাজ চলছে।

দেশের প্রস্তুতি কৌশলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হল ট্রান্সমিশন অবকাঠামো শক্তিশালী করা। ‘৫জি সক্ষমতার জন্য বিটিসিএল অপটিক্যাল ফাইবার ট্রান্সমিশন নেটওয়ার্ক উন্নয়ন’ প্রকল্পের আওতায় নিরবচ্ছিন্ন ট্রান্সমিশন সেবা নিশ্চিত করতে দেশের ৬৪ জেলা ও সংশ্লিষ্ট উপজেলাকে ব্যাকআপ অপটিক্যাল ফাইবার ক্যাবলের (ওএফসি) মাধ্যমে সংযুক্ত করা হচ্ছে।

একই সঙ্গে জেলা থেকে জেলা এবং জেলা থেকে উপজেলায় উচ্চগতির ব্যান্ডউইথ সরবরাহের জন্য এএসওএন  (অটোমেটিক্যালি সুইচড অপটিক্যাল নেটওয়ার্ক)-সক্ষম ডিডব্লিউডিএম সরঞ্জাম স্থাপন করা হচ্ছে। ঢাকা মহানগর এলাকাতেও ব্যাকআপ সংযোগ স্থাপন করা হচ্ছে।

মন্ত্রী বলেন, অপটিক্যাল ফাইবার ও যন্ত্রপাতি স্থাপনের প্রায় ৭৯ শতাংশ কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। ২০২৬ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। এতে ভবিষ্যতে ৫জি সম্প্রসারণের জন্য আরও শক্তিশালী ট্রান্সমিশন অবকাঠামো গড়ে উঠবে।

প্রযুক্তিটির বাস্তবায়নে সরকার বিভিন্ন নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থাও গ্রহণ করেছে। মোবাইল অপারেটরদের প্রযুক্তি-নিরপেক্ষ লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে। ৫জি সেবার জন্য ২.৩ গিগাহার্টজ ও ২.৬ গিগাহার্টজ ব্যান্ড থেকে স্পেকট্রাম বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, ৫জি সম্প্রসারণ এবং চতুর্থ শিল্পবিপ্লব বাস্তবায়নের জন্য পর্যাপ্ত স্পেকট্রাম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ লক্ষ্যে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) একটি স্পেকট্রাম রোডম্যাপ প্রণয়ন করেছে। সে অনুযায়ী, ২০২৭ সালে ৩.৫ গিগাহার্টজ ব্যান্ডে নতুন স্পেকট্রাম উন্মুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

সাশ্রয়ী মূল্যে সেবা প্রদান ও মান উন্নয়নেও পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সরকার গ্রাহকবান্ধব ইন্টারনেট শুল্ক চালু করেছে এবং ২০২৬ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইন্টারনেটের মূল্য পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে।
সেবার মান নিশ্চিতে কোয়ালিটি অব সার্ভিস ও এক্সপেরিয়েন্সের মানদ- চালু করা হয়েছে। সেখানে সেবামান ও অভিজ্ঞতার প্রয়োজনীয়তার পাশাপাশি জরিমানার বিধানও রাখা হয়েছে।

প্রত্যন্ত ও সুবিধাবঞ্চিত অঞ্চলে নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ এবং ভবিষ্যতের ৫জি সেবার প্রস্তুতির লক্ষ্যে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন টেলিটক দুটি বড় প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। এসব প্রকল্পের আওতায় ৩ হাজার ৪২০টি স্থানে উচ্চগতির ৪জি সরঞ্জাম স্থাপন করা হবে।

মন্ত্রী জানান, টেলিটক ইতোমধ্যে ভয়েস ওভার ওয়াইফাই (ভিওওয়াইফাই), ভয়েস ওভার এলটিই (ভিওএলটিই) চালু করেছে এবং সীমিতসংখ্যক ব্যবহারকারীর জন্য চারটি স্থানে পাইলট ৫জি সেবা চালু করেছে। চলমান প্রকল্পগুলোর কাজ দ্রুত শেষ করতেও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ডেটার গতি বাড়াতে ও নেটওয়ার্কের আওতা সম্প্রসারণে বৈদেশিক সহায়তায় আরও দুটি প্রকল্প গ্রহণের পরিকল্পনা রয়েছে। এসব প্রকল্পের আওতায় ২ হাজার নতুন ৪জি সাইট এবং ১ হাজার ৬০০টি ৫জি সক্ষম সাইট স্থাপন করা হবে। এতে দেশজুড়ে ইন্টারনেট সেবা ও কভারেজ আরও উন্নত হবে।

স্থলভিত্তিক অবকাঠামোর পাশাপাশি ৫জি সেবার ভবিষ্যৎ চাহিদা মেটাতে আন্তর্জাতিক সংযোগ ব্যবস্থাও জোরদার করা হচ্ছে। বাংলাদেশ সাবমেরিন কেবল পিএলসি (বিএসসিপিএলসি) বর্তমানে সি-মি-উই ৪ এবং সি-মি-উই ৫ সাবমেরিন ক্যাবল ব্যবস্থার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ব্যান্ডউইথ সরবরাহ করছে।

দুটি ব্যবস্থার সম্মিলিত সক্ষমতা প্রায় ৭ হাজার ২২০ জিবিপিএস। এর মধ্যে ৯৯.৯৯৯ শতাংশ নেটওয়ার্ক নির্ভরযোগ্যতা বজায় রেখে দেশে বর্তমানে প্রায় ৪ হাজার ১০০ জিবিপিএস সরবরাহ করা হচ্ছে।

ভবিষ্যৎ ব্যান্ডউইথ চাহিদা পূরণে সি-মি-উই ৬ কনসোর্টিয়ামের আওতায় দেশের তৃতীয় সাবমেরিন ক্যাবল স্থাপনের কাজ এগিয়ে চলছে।

চলতি বছরের শেষ নাগাদ প্রকল্পটি শেষ হলে আরও ৩০ হাজার জিবিপিএস ব্যান্ডউইথ যুক্ত হবে। এতে বাংলাদেশের মোট আন্তর্জাতিক ব্যান্ডউইথ সক্ষমতা প্রায় ৩৮ হাজার জিবিপিএসে উন্নীত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

মন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক ব্যান্ডউইথ সক্ষমতা বৃদ্ধি পেলে দেশে ব্যাপক পরিসরে ৫জি সেবা চালুর ক্ষেত্রে মোবাইল অপারেটরদের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হবে। সামগ্রিকভাবে সরকারের চলমান উদ্যোগগুলো ইঙ্গিত দিচ্ছে, বাংলাদেশ সীমিত পরীক্ষামূলক পর্যায় পেরিয়ে ব্যাপকভিত্তিক ৫জি গ্রহণের ভিত্তি নির্মাণে এগিয়ে যাচ্ছে। তবে পূর্ণাঙ্গ ৫জি সেবায় উত্তরণ ক্যাবল নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ ও স্পেকট্রাম প্রাপ্যতার ওপর নয়, বরং মূল শিল্পখাতগুলো এই প্রযুক্তি কার্যকরভাবে ব্যবহারে কতটা প্রস্তুত তার ওপরও নির্ভর করবে।

 

পৃথিবীর বুকে মানুষের বেঁচে থাকার সবচেয়ে বড় উপাদান হলো বিশুদ্ধ পানি। কিন্তু এই পানির বুকেই যখন বিষাক্ত আর্সেনিক লুকিয়ে থাকে, তখন তা মানব সভ্যতার জন্য এক নীরব মহাবিপর্যয় ডেকে আনে। বিশ্বজুড়ে প্রায় ২০ কোটিরও বেশি মানুষ বর্তমানে আর্সেনিকযুক্ত দূষিত পানি পানের মারাত্মক ঝুঁকিতে রয়েছেন। বড় বড় আধুনিক পানি শোধনাগারগুলো পানি থেকে আর্সেনিক দূর করতে পারলেও, দরিদ্র ও অনুন্নত অঞ্চল কিংবা প্রত্যন্ত এলাকার সাধারণ নলকূপের পানিতে আর্সেনিক বিষক্রিয়ার সমস্যা থেকেই যায়। এবার বিশেষ ধরনের টি-ব্যাগের মাধ্যমে পানি থেকে ৯০ শতাংশেরও বেশি আর্সেনিক সফলভাবে দূর করার পদ্ধতি উদ্ভাবন করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের ভিক টান নামের এক শিক্ষার্থী। যুক্তরাষ্ট্রের কেমিক্যাল সোসাইটির বিজ্ঞান সাময়িকী এসিএস ওমেগাতে প্রকাশিত এই গবেষণা ফলাফলে এসব তথ্য জানা গেছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা মানুষের পানের জন্য প্রতি লিটার পানিতে সর্বোচ্চ ১০ মাইক্রোগ্রাম আর্সেনিকের সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছে। কিন্তু মাটির নিচের খনিজ থেকে প্রাকৃতিক উপায়ে কিংবা খনি খননের মতো মানবিক কর্মকাণ্ডের কারণে ভূগর্ভস্থ পানিতে আর্সেনিকের মাত্রা এই সীমার চেয়ে অনেক বেশি থাকে। সাধারণত এই বিষ দূর করতে রিভার্স অসমোসিসের মতো অত্যন্ত উচ্চ প্রযুক্তিসম্পন্ন ও ব্যয়বহুল ব্যবস্থার প্রয়োজন হয়। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মতো যেসব অঞ্চলে বড় বড় পানি শোধনাগার নেই, সেখানে আর্সেনিকের প্রকোপ অনেক বেশি। এর ফলে লাখ লাখ মানুষ আর্সেনিক বিষক্রিয়ায় ভুগছেন এবং দীর্ঘমেয়াদি ক্যানসার ও শিশুদের মানসিক বিকাশের মতো নানা জটিল রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। এই চরম বাস্তবতায় দাঁড়িয়ে বিজ্ঞানী অ্যাডাম ব্রাউনশগের নেতৃত্বে একদল বিজ্ঞানীর সঙ্গে কাজ করার সময় ভিক টান আর্সেনিক দূর করার সহজ একটি পদ্ধতির কথা জানান, যা মূলত এক কাপ চা বানানোর মতোই সহজ।

নিজের এই যুগান্তকারী আবিষ্কারের বিষয়ে ভিক টান বলেন, বিশুদ্ধ পানি পাওয়ার বিষয়টি কোনো দামি বা বড় অবকাঠামোর ওপর নির্ভরশীল হওয়া উচিত নয়। আমাদের এই গবেষণা প্রমাণ করে খুব সাধারণ এবং কম খরচের উপাদানগুলোকেও বৈজ্ঞানিক উপায়ে উন্নত করে পানি থেকে আর্সেনিক দূর করার মতো বড় ও মাপযোগ্য সমাধানে রূপ দেওয়া সম্ভব। এটি বিশ্বের অন্যতম জরুরি জনস্বাস্থ্য সংকটের একটি সহজ সমাধান।

বিজ্ঞানীরা আগেই আবিষ্কার করেছিলেন, চা তৈরির প্রক্রিয়া চলাকালীন পানির ভেতরে থাকা আর্সেনিকের মতো ভারী ধাতুগুলো স্বাভাবিকভাবেই টি-ব্যাগের গায়ে আটকে যায়। এই ধারণাকে কাজে লাগিয়ে ভিক টান এবং অন্য বিজ্ঞানীরা বিশেষভাবে আর্সেনিক শুষে নেওয়ার উপযোগী একটি টি-ব্যাগের নকশা করেন। এরপর তাঁরা চুম্বকীয় আয়রন অক্সাইড ন্যানোকণা এবং গুঁড়া করা ডিমের খোসা দিয়ে পূর্ণ করেন টি-ব্যাগটি। বিজ্ঞানীদের মতে, এই দুটি উপাদানই পানি থেকে আর্সেনিক শুষে নেওয়ার ক্ষেত্রে অত্যন্ত কার্যকর। ফলাফল ছিল অত্যন্ত চমকপ্রদ। মাত্র একটি টি-ব্যাগ পানি থেকে অন্তত ৯০ শতাংশ আর্সেনিক আয়রন দূর করতে পেরেছে। ৬ ঘণ্টার একটি বিশেষ পরীক্ষায় দেখা গেছে, এটি ৫০ মিলিলিটার দূষিত পানি থেকে ৯৮ শতাংশের বেশি আর্সেনিক টেনে নিয়েছে।

বাংলাদেশের নলকূপে পাওয়া আর্সেনিকযুক্ত পানির নমুনার মতো তৈরি একটি বিশেষ মিশ্রণে টি–ব্যাগটির পরীক্ষা করেছেন বিজ্ঞানীরা। দেখা গেছে, টি-ব্যাগটি পানির আর্সেনিককে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্ধারিত নিরাপদ সীমার চেয়েও নিচে নামিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছে। একটি ব্যবহৃত টি-ব্যাগ ফেলে না দিয়ে সেটিকে আবার পরিষ্কার করে, ক্ষারীয় দ্রবণে ধুয়ে ও শুকিয়ে নিয়ে সর্বোচ্চ পাঁচবার পর্যন্ত পুনরায় ব্যবহার করা যায়। তবে প্রতিবার ব্যবহারের পর এর আর্সেনিক দূর করার ক্ষমতা প্রায় ২০ শতাংশ করে কমতে থাকে। এই টি-ব্যাগের সাহায্যে মাত্র এক লিটার পানি সম্পূর্ণ আর্সেনিকমুক্ত করতে খরচ হয় মাত্র ৭ সেন্ট। এটি রিভার্স অসমোসিসের মতো দামি প্রযুক্তির তুলনায় অনেক কম সাশ্রয়ী।

বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, এই কাজ একটি বৈশ্বিক স্বাস্থ্য সমস্যার নতুন এবং সহজ সমাধান প্রদর্শন করে। তাদের ভবিষ্যৎ লক্ষ্য হলো এই উদ্ভাবনকে আরও উন্নত করে দ্রুত সাধারণ মানুষের হাতের নাগালে পৌঁছে দেওয়া।  বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম আর্সেনিকপ্রবণ অঞ্চল। ডিমের খোসা এবং আয়রন অক্সাইডের মতো সহজলভ্য উপাদান দিয়ে তৈরি এই টি-ব্যাগ প্রযুক্তি যদি এ দেশের গ্রামীণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া যায়, তবে খুব সহজেই ঘরে ঘরে প্রতিদিনের খাবার পানিকে শতভাগ নিরাপদ করা সম্ভব হবে।

সূত্র: ফিজিস

জাহিদ হোসাইন খান

হালনাগাদ প্রযুক্তি এবং নজরকাড়া নকশার নতুন মডেলের গাড়ি ও মোটরবাইক নিয়ে আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর কুড়িলের ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) শুরু হয়েছে তিন দিনের আন্তর্জাতিক প্রদর্শনী ‘১৯তম ঢাকা অটো সিরিজ অব এক্সিবিশন্স’। প্রদর্শনীতে একই স্থানে একসঙ্গে চলছে ঢাকা মোটর শো, ঢাকা বাইক শো এবং ইলেকট্রিক ভেহিক্যাল (ইভি) বাংলাদেশ এক্সপো। প্রদর্শনীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন শিল্প মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব এম এ কামাল বিল্লাহ, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশনের (বিআরটিসি) পরিচালক অনুপম সাহা, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) মহাপরিচালক গাজী এ কে এম ফজলুল হক এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব জাবেদ আহমেদ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রদর্শনীর আয়োজক প্রতিষ্ঠান সেমস-গ্লোবালের ইউএসএ অ্যান্ড এশিয়া প্যাসিফিক বিভাগের সভাপতি এবং গ্রুপ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মেহেরুন এন ইসলাম।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অতিথিরা
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অতিথিরা
 

মেহেরুন এন ইসলাম বলেন, চলমান বৈশ্বিক যুদ্ধাবস্থা এবং ক্রমবর্ধমান প্রচলিত জ্বালানি সরবরাহব্যবস্থায় বিঘ্নের কারণে বিকল্প জ্বালানি উৎসের ব্যবহার ক্রমেই গুরুত্ব পাচ্ছে। বৈদ্যুতিক যানবাহনের ব্যবহার যেমন বাড়ছে, তেমনি এই খাতে নতুন ও তুলনামূলক সাশ্রয়ী প্রযুক্তির ব্যবহারও গুরুত্ব পাচ্ছে। আর তাই এই প্রদর্শনী প্রচলিত অটোমোটিভ শিল্পকে যেমন এগিয়ে নিতে ভূমিকা রাখবে, তেমনি নতুন বিকল্প প্রযুক্তি ও সমাধান গ্রহণেও সহায়তা করবে।

প্রদর্শনীতে জাপান, ভারত, চীন, মালয়েশিয়া, জার্মানি, যুক্তরাজ্যসহ ১০টি দেশের বিভিন্ন ব্র্যান্ড ও ৭০টির বেশি প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছে। ফলে সহজেই মিতসুবিশি, টয়োটা, মার্সিডিজ বেঞ্জ, হুন্ডা, এমজি, প্রোটন, চাঙ্গান, গ্যাক মোটরস, ডংফেন প্রভৃতি ব্র্যান্ডের নতুন মডেলের গাড়ি দেখার সুযোগ মিলছে। দুই চাকার বাহনের মধ্যে আছে জিহো বাংলাদেশ, সিএফ মটো বাংলাদেশ, লংজিয়া, ভিমোটো প্রভৃতি। বাণিজ্যিক যানের মধ্যে আছে ফোটন, ফোরল্যান্ড প্রভৃতি। প্রদর্শনীতে আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডের মোটর যন্ত্রাংশও প্রদর্শন করছে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান।

সেমস-গ্লোবালের তথ্যমতে, ঢাকা মোটর শো বাংলাদেশের মোটর, বাইক ও আনুষঙ্গিক যন্ত্রাংশ তথা অটোমোটিভ শিল্পের সবচেয়ে বড় ও একমাত্র আন্তর্জাতিক প্রদর্শনী। এর ফলে ক্রেতা, দর্শক ও উদ্যোক্তারা সহজেই বিভিন্ন ব্র্যান্ডের নতুন মডেলের গাড়ি, যন্ত্রাংশ, আনুষঙ্গিক উপকরণ ও নিত্যনতুন প্রযুক্তির সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।

ঢাকা বাইক শোতে মোটরবাইক, স্কুটার, ইজিবাইক, হালকা বৈদ্যুতিক যানবাহন এবং আনুষঙ্গিক যন্ত্রাংশ প্রদর্শন করা হচ্ছে। প্রদর্শনী ঘুরে দেখা গেছে, জ্বালানি সমস্যার কারণে বৈদ্যুতিক যানবাহনের প্রতি সাধারণ ক্রেতাদের আগ্রহ আগের তুলনায় অনেকে বেড়েছে। আর তাই দর্শনার্থীদের আগ্রহের কেন্দ্রে রয়েছে বৈদ্যুতিক গাড়ি এবং বাইক।

প্রদর্শনীতে বাণিজ্যিক, বৈদ্যুতিক, ব্যক্তিগত গাড়ি এবং বিক্রয় পরবর্তী যন্ত্রাংশ সংযোজনের উপকরণ প্রদর্শন করা হচ্ছে
প্রদর্শনীতে বাণিজ্যিক, বৈদ্যুতিক, ব্যক্তিগত গাড়ি এবং বিক্রয় পরবর্তী যন্ত্রাংশ সংযোজনের উপকরণ প্রদর্শন করা হচ্ছে
 

প্রদর্শনীর অংশ হিসেবে আইসিসিবির ১ নম্বর হলে বাণিজ্যিক, বৈদ্যুতিক, ব্যক্তিগত গাড়ি এবং বিক্রয় পরবর্তী যন্ত্রাংশ সংযোজনের উপকরণ প্রদর্শন করা হচ্ছে। ২ এবং ৪ নম্বর হলে গাড়ি ও বৈদ্যুতিক যানবাহন প্রদর্শন করা হচ্ছে। ৩ নম্বর হলে দুই চাকার বিভিন্ন মোটর এবং বৈদ্যুতিক বাইকের দেখা মিলছে। রয়েছে পছন্দের গাড়ি ও বাইকের টেস্ট ড্রাইভ করার সুযোগও। ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত চলবে এ প্রদর্শনী।

মঙ্গল গ্রহে জীবনের অস্তিত্ব নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে নাসার কিউরিওসিটি রোভারের সাম্প্রতিক আবিষ্কার। গ্রহটিতে এমন কিছু জৈব অণুর সন্ধান পাওয়া গেছে, যেগুলো পৃথিবীতে জীবনের উৎপত্তির মৌলিক উপাদান হিসেবে বিবেচিত হয়।

বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, মঙ্গলের নিরক্ষরেখার কাছাকাছি একটি প্রাচীন শুকনো হ্রদের তলদেশ থেকে এসব অণু শনাক্ত করা হয়েছে। শনাক্ত হওয়া সাতটি অণুর মধ্যে পাঁচটিই আগে কখনও মঙ্গলে দেখা যায়নি। তবে এগুলো প্রাচীন কোনো জীবনের সঙ্গে সম্পর্কিত, নাকি উল্কাপিণ্ডের মাধ্যমে এসেছে বা ভূ-প্রাকৃতিক প্রক্রিয়ায় সৃষ্টি হয়েছে— সে বিষয়ে এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবুও এই আবিষ্কার থেকে ধারণা করা হচ্ছে, যদি কখনো মঙ্গলে অণুজীবের অস্তিত্ব থেকে থাকে, তবে তার রাসায়নিক চিহ্ন এখনও টিকে থাকতে পারে।

এই গবেষণার নেতৃত্ব দেন যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যোতিভূতত্ত্ববিদ অধ্যাপক অ্যামি উইলিয়ামস। তিনি বলেন, আমরা মনে করছি মঙ্গলে প্রায় ৩৫০ কোটি বছর ধরে সংরক্ষিত থাকা জৈব পদার্থের সন্ধান পেয়েছি। এটা কি জীবন— তা এই তথ্যের ভিত্তিতে নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়।

২০১২ সাল থেকে কিউরিওসিটি রোভারটি মঙ্গলের গেইল ক্রেটার ও মাউন্ট শার্প এলাকায় অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছে। বর্তমানে মঙ্গলের পরিবেশ অত্যন্ত প্রতিকূল— রাতে তাপমাত্রা মাইনাস ১০০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নেমে যায় এবং ঘন বায়ুমণ্ডল না থাকায় সূর্যের তীব্র বিকিরণে আক্রান্ত হয় গ্রহটি। তবে অতীতে সেখানে তরল পানি প্রবাহিত হতো এবং একটি সুরক্ষামূলক বায়ুমণ্ডলও ছিল।

যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের গ্রহবিজ্ঞানী অধ্যাপক অ্যান্ড্রু কোটস বলেন, পৃথিবীতে যখন জীবনের সূচনা হচ্ছিল, তখন মঙ্গলেও জীবনের জন্য প্রয়োজনীয় সব পরিবেশ ছিল। তাই সেখানে জীবন শুরু হয়নি— এমন কোনো কারণ নেই।

তবে বিজ্ঞানীরা এতদিন নিশ্চিত ছিলেন না, প্রায় ৩৭০ থেকে ৪১০ কোটি বছর আগে সম্ভাব্য বাসযোগ্য সময়ের জীবনের রাসায়নিক চিহ্ন এখনো টিকে আছে কিনা।

অ্যামি উইলিয়ামস বলেন, অনেকদিন ধরে ধারণা ছিল, মঙ্গলের কঠিন বিকিরণ পরিবেশে সব জৈব পদার্থ নষ্ট হয়ে গেছে। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে, ভূগর্ভস্থ পরিবেশে জটিল জৈব উপাদান টিকে থাকতে পারে— যা অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক।

রোভারটি তার বিশ্লেষণ যন্ত্র ব্যবহার করে কার্বন-সম্পর্কিত বেশ কিছু যৌগ শনাক্ত করেছে। এর মধ্যে রয়েছে বেঞ্জোথিওফিন, যা সাধারণত উল্কাপিণ্ডের মাধ্যমে গ্রহে পৌঁছায়। এছাড়া নাইট্রোজেনসমৃদ্ধ আরেকটি জৈব যৌগের উপস্থিতির ইঙ্গিত পাওয়া গেছে, যার গঠন ডিএনএ তৈরির পূর্বসূরি উপাদানের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।

উইলিয়ামস বলেন, আমরা যা পেয়েছি এবং ডিএনএর মধ্যে এখনো অনেক ধাপ রয়েছে। এটি ডিএনএ তৈরির একটি মৌলিক উপাদান হতে পারে, কিন্তু পুরো কাঠামো নয়— এটি শুধু ইটের মতো, বাড়ি নয়। এসব অণু ভূ-প্রাকৃতিক প্রক্রিয়াতেও তৈরি হতে পারে।

তিনি আরও বলেন, যে উপাদানগুলো উল্কাপিণ্ডের মাধ্যমে মঙ্গলে এসেছে, একই উপাদান পৃথিবীতেও এসেছে— এবং সেগুলোই সম্ভবত পৃথিবীতে জীবনের ভিত্তি গড়ে তুলেছে।

এই আবিষ্কার ভবিষ্যৎ গবেষণার সম্ভাবনাও বাড়িয়েছে। ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থার ‘রোজালিন্ড ফ্র্যাঙ্কলিন’ রোভার ২০২৮ সালে উৎক্ষেপণের কথা রয়েছে। এই রোভারটি প্রায় দুই মিটার গভীরে ড্রিল করে আরও উন্নত পরীক্ষা চালাতে পারবে, যা জৈব অণুর উৎস সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা দিতে সহায়তা করবে।

গবেষণার ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে ‘নেচার কমিউনিকেশনস’ সাময়িকীতে। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

 

কিছুদিন আগেই দ্বিতীয়বার মা হওয়ার আনন্দ সবার সঙ্গে ভাগ করে নিয়েছেন সোনম কাপুর। এবার সুখবর দিলেন আরও এক বলিউড অভিনেত্রী। মা হতে চলেছেন কারিশমা তান্না। সোমবার একগুচ্ছ ছবি পোস্ট করে দুই থেকে তিন হওয়ার খবর দিলেন তিনি।

ছোট্ট জুতা, মম-ড্যাড লেখা টুপি পরে নানান ভঙ্গিমায় ক্যামেরাবন্দী হবু মা–বাবা কারিশমা–বরুণ ভাঙ্গেরা। খুশি খবর জানিয়ে যৌথ পোস্টে লিখেছেন, ‘মিরাকল ঘটতে চলেছে। আমাদের জীবনের সেরা উপহারটা পাব অগাস্টে।’ খুব শিগগির পরিবারে নতুন সদস্যের পদধূলি পড়তে চলেছে—এ খবর শেয়ার করতেই শুভেচ্ছা আর ভালোবাসায় ভাসছেন যুগল।

এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্টের পরেই কারিশমাকে অভিনন্দন জানাচ্ছেন তাঁর ভক্ত থেকে শুরু করে সহকর্মীরা।

শুভেচ্ছা জানিয়েছেন সহ–অভিনেত্রী খুশি কাপুর। ২০১৭ সালে ‘মম’ ছবির সিকুয়েলে প্রয়াত অভিনেত্রী শ্রীদেবীকন্যা খুশি কাপুরের সঙ্গে স্ক্রিন শেয়ার করেছিলেন কারিশমা। হবু মাকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন বলি ডিভা দিয়া মির্জা থেকে জেসমিন ভাসিন, তাহিরা কাশ্যপ, সোনাল চৌহানসহ আরও অনেকেই।

এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্টের পরেই কারিশমাকে অভিনন্দন জানাচ্ছেন তাঁর ভক্ত থেকে শুরু করে সহকর্মীরা। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্টের পরেই কারিশমাকে অভিনন্দন জানাচ্ছেন তাঁর ভক্ত থেকে শুরু করে সহকর্মীরা। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে

উপেন প্যাটেলের সঙ্গে প্রেম ভাঙতেই বরুণকে বিয়ে করে জীবনের নতুন অধ্যায় শুরু করেন কারিশমা তান্না।

২০২১ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি ব্যবসায়ী বরুণের সঙ্গে বৈবাহিক বন্ধনে বাঁধা পড়েন করিশমা। বিয়ের পাঁচ বছর পর সন্তানসুখ পেতে অধীর আগ্রহে দিন গুনছেন দুজনেই। হিন্দি মেগা থেকে সিনেমা, সিরিজে অভিনয় করে দর্শকমহলে প্রশংসা কুড়িয়েছেন কারিশমা। হিন্দি টেলিভিশনের মাধ্যমেই সফর শুরু করিশমার। ধীরে ধীরে কাজের পরিসর বৃদ্ধি হয়। সিনেমা-সিরিজে অভিনয়ের সুযোগ পান গুজরাটের কন্যা।

হংসল মেহতার ‘স্কুপ’ সিরিজে জাগ্রুতি পাঠকের চরিত্রে অভিনয় করে ব্যাপক সাড়া ফেলেছিলেন। রিয়্যালিটি ‘বিগ বস’-এ মডেল উপেন প্যাটেলের সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়েছিলেন কারিশমা। ২০১৬ সালে সেই প্রেম ভেঙে যায় এবং ২০২২ সালে বরুণকে বিয়ে করে জীবনের নতুন অধ্যায় শুরু করেন অভিনেত্রী।

ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস অবলম্বনে

কারিশমা তান্না। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে
কারিশমা তান্না। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে

স্মার্ট পিভি (ফোটোভোলটাইক) ও এনার্জি স্টোরেজ সিস্টেমের (ইএসএস) ক্ষেত্রে ২০২৬ সালের শীর্ষ ১০টি প্রবণতা (ট্রেন্ড) প্রকাশ করেছে চীনের প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান হুয়াওয়ে। সম্প্রতি হুয়াওয়ে ডিজিটাল পাওয়ার আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে শীর্ষ ১০টি প্রবণতার তথ্য প্রকাশ করা হয়। অনুষ্ঠানে পিভি, উইন্ড পাওয়ার এবং ইএসএস-কে নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ ব্যবস্থার প্রধান শক্তির উৎস হিসেবে দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ ও বাস্তবমুখী দিকনির্দেশনা তুলে ধরা হয়। শিল্পের মানসম্মত উন্নয়ন নিশ্চিত করার বিষয়েও গুরুত্বারোপ করা হয় অনুষ্ঠানে। গতকাল বুধবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানিয়েছে হুয়াওয়ে বাংলাদেশ।  

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, অনুষ্ঠানে হুয়াওয়ে ডিজিটাল পাওয়ারের স্মার্ট পিভি ও ইএসএস প্রোডাক্ট লাইনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ও চিফ মার্কেটিং অফিসার এরিক ঝং জানান, গত এক দশকে পিভি, উইন্ড পাওয়ার এবং ইএসএস খাতে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি হয়েছে। তবে নবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবহার দ্রুত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিদ্যুৎ উৎপাদন, গ্রিড ব্যবস্থাপনা এবং ব্যবহারের ক্ষেত্রে ভারসাম্য ও স্থিতিশীলতা রক্ষা করার নতুন চ্যালেঞ্জ সামনে আসছে।

শিল্প খাত এখন উন্নয়নকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নেওয়ার পর্যায়ে রয়েছে, যেখানে একক উদ্ভাবন থেকে সরে এসে সমন্বিত অগ্রগতির দিকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পিভি ও এনার্জি স্টোরেজ খাতে অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে হুয়াওয়ে শীর্ষ ১০টি প্রবণতার পূর্বাভাস প্রকাশ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে চারটি ব্যবহারভিত্তিক (সিনারিও-নির্ভর) এবং ছয়টি প্রযুক্তিকেন্দ্রিক উদ্ভাবন।

একনজরে প্রবণতাগুলো দেখে নেওয়া যাক—

১. পিভি, উইন্ড ও ইএসএসের সমন্বয় নবায়নযোগ্য শক্তিকে আরও পূর্বানুমানযোগ্য, নিয়ন্ত্রণযোগ্য ও স্থিতিশীল বিদ্যুৎ উৎসে পরিণত করবে।

২. গ্রিড-ফর্মিং ইএসএস পাওয়ার গ্রিডের স্থিতিশীলতা ও ভারসাম্য নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।

৩. বিদ্যুৎ উৎপাদন, সরবরাহ, ব্যবহার ও সংরক্ষণের সমন্বয় স্থানীয় স্বনির্ভরতা বাড়াবে এবং বৈশ্বিক বিদ্যুৎ ব্যবস্থার সমন্বয়কে শক্তিশালী করবে।

৪. আবাসিক পিভি ও ইএসএস ব্যবস্থায় এআই-সক্ষম (এআই-এনাবলড) থেকে এআই-নেটিভ ব্যবস্থায় রূপান্তর ঘটবে, যা আরও উন্নত অভিজ্ঞতা দেবে।

৫. উচ্চ ফ্রিকোয়েন্সি ও উচ্চ ঘনত্ব পিভি এবং ইএসএস যন্ত্রের ধারণক্ষমতা বৃদ্ধি করবে।
৬. উচ্চ ভোল্টেজ ও নির্ভরযোগ্যতা এলসিওই (লেভেলাইজড কস্ট অব এনার্জি) কমাতে সহায়তা করবে।

৭. ইএসএস মানে কেবল ব্যাটারি নয়, নিরাপদ ও স্থিতিশীল পরিচালনার জন্য সিস্টেম-লেভেল ব্যাটারির ব্যবস্থাপনা অপরিহার্য।

৮. উন্নত গ্রিড-ফর্মিং প্রযুক্তি ব্যবস্থা নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবস্থার নির্মাণকে ত্বরান্বিত করবে।

৯. এআই এজেন্ট নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎকেন্দ্রের স্বয়ংক্রিয় পরিচালনা সম্ভব করবে।

১০. নিরাপত্তার পরিমাপযোগ্য মান নির্ধারণ এনার্জি স্টোরেজ শিল্পে সামগ্রিক নিরাপত্তা বৃদ্ধি করবে।

বিশ্বজুড়ে স্মার্টফোনপ্রেমীদের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে নতুন গ্যালাক্সি এস২৬ সিরিজের স্মার্টফোন উন্মোচন করেছে স্যামসাং। গতকাল বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের সান ফ্রান্সিসকোতে আয়োজিত ‘গ্যালাক্সি আনপ্যাকড’ অনুষ্ঠানে গ্যালাক্সি এস২৬ সিরিজের আওতায় নতুন তিন মডেলের ফ্ল্যাগশিপ স্মার্টফোন প্রদর্শন করে প্রতিষ্ঠানটি। ‘গ্যালাক্সি এস২৬’, ‘এস২৬ প্লাস’ ও ‘এস২৬ আলট্রা’ মডেলের স্মার্টফোনগুলো আগামী ১১ মার্চ থেকে বিভিন্ন দেশে পাওয়া গেলেও আগাম ফরমাশ দেওয়া যাবে।

নতুন সিরিজে বড় নকশাগত পরিবর্তনের বদলে হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যারকেন্দ্রিক উন্নয়নে জোর দেওয়া হয়েছে। তিনটি মডেলেই ব্যবহার করা হয়েছে স্যামসাং–উপযোগী কাস্টম চিপসেট ‘স্ন্যাপড্রাগন ৮ এলিট জেন ৫ ফর গ্যালাক্সি’। উন্নত প্রসেসিং সক্ষমতা ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক কাজের গতি বাড়াতে চিপসেটটি বিশেষভাবে অপটিমাইজ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে গ্যালাক্সি এস২৬–এর প্রারম্ভিক মূল্য ৮৯৯ মার্কিন ডলার, এস২৬ প্লাস ১ হাজার ৯৯ ডলার এবং এস২৬ আলট্রা ১ হাজার ২৯৯ ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে। এস২৬ মডেলে এবার আর ১২৮ গিগাবাইট সংস্করণ রাখা হয়নি। ফলে মূল্য গত বছরের তুলনায় ১০০ ডলার বেড়েছে। ফোনগুলো কোবাল্ট ভায়োলেট, স্কাই ব্লু, কালো, সাদা, সিলভার শ্যাডো ও পিংক গোল্ড—এই ছয় রঙে পাওয়া যাবে। এর মধ্যে সিলভার শ্যাডো ও পিংক গোল্ড কেবল অনলাইন সংস্করণ হিসেবে বিক্রি হবে।

গ্যালাক্সি এস২৬ সিরিজের স্মার্টফোনের বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরছেন স্যামসাং ইলেকট্রনিকস আমেরিকার সিনিয়র প্রোডাক্ট এবং প্ল্যাটফর্ম স্ট্র্যাটেজি র‍্যাচেল রবার্টস
গ্যালাক্সি এস২৬ সিরিজের স্মার্টফোনের বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরছেন স্যামসাং ইলেকট্রনিকস আমেরিকার সিনিয়র প্রোডাক্ট এবং প্ল্যাটফর্ম স্ট্র্যাটেজি র‍্যাচেল রবার্টস, রয়টার্স

স্যামসাংয়ের তথ্য অনুযায়ী, গ্যালাক্সি এস২৬–এ রয়েছে ৬ দশমিক ৩ ইঞ্চির অ্যামোলেড পর্দা। এস২৬ প্লাসে ৬ দশমিক ৭ ইঞ্চি এবং এস২৬ আলট্রায় ৬ দশমিক ৯ ইঞ্চির অ্যামোলেড পর্দা রয়েছে। তিনটি মডেলেই ১ থেকে ১২০ হার্টজ পর্যন্ত অ্যাডাপটিভ রিফ্রেশ রেট সমর্থন রয়েছে। আলট্রা মডেলে এস পেন ব্যবহারের সুবিধা বজায় রাখা হয়েছে। এস২৬ ও এস২৬ প্লাসে ১২ গিগাবাইট র‍্যাম এবং ২৫৬ বা ৫১২ গিগাবাইট মেমোরির অপশন রয়েছে। এস২৬ আলট্রা পাওয়া যাবে ১২ বা ১৬ গিগাবাইট র‍্যাম এবং ২৫৬, ৫১২ গিগাবাইট বা ১ টেরাবাইট সংস্করণে। এস২৬ মডেলে ৪ হাজার ৩০০ মিলিঅ্যাম্পিয়ার আওয়ার, এস২৬ প্লাসে ৪ হাজার ৯০০ এবং এস২৬ আলট্রায় ৫ হাজার মিলিঅ্যাম্পিয়ার আওয়ার ক্ষমতার ব্যাটারি ব্যবহার করা হয়েছে। আলট্রা মডেলে প্রথমবারের মতো ৬০ ওয়াট দ্রুত চার্জিং–সুবিধা যুক্ত হয়েছে।

ক্যামেরাব্যবস্থায় আলট্রা মডেলটিকেই সবচেয়ে এগিয়ে রেখেছে স্যামসাং। গ্যালাক্সি এস২৬ ও এস২৬ প্লাসে রয়েছে ৫০ মেগাপিক্সেলের প্রধান ক্যামেরা, ১২ মেগাপিক্সেলের আলট্রাওয়াইড লেন্স, ১০ মেগাপিক্সেলের টেলিফটো লেন্স এবং ১২ মেগাপিক্সেলের সামনের ক্যামেরা। অন্যদিকে এস২৬ আলট্রায় রয়েছে ২০০ মেগাপিক্সেলের প্রধান সেন্সর, ৫০ মেগাপিক্সেলের আলট্রাওয়াইড এবং ৫০ ও ১০ মেগাপিক্সেলের দুটি টেলিফটো লেন্স। এতে সর্বোচ্চ ৫ গুণ অপটিক্যাল জুম সুবিধা পাওয়া যাবে। সেলফির জন্য রয়েছে ১২ মেগাপিক্সেলের সামনের ক্যামেরা।

গ্যালাক্সি এস২৬ সিরিজে দুটি ফিচার বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে। ‘ক্রিয়েটিভ স্টুডিও’ নামের একটি সমন্বিত প্ল্যাটফর্মে ছবি ও ভিডিও সম্পাদনার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক টুলগুলো একসঙ্গে করা হয়েছে। আগে বিভিন্ন অ্যাপে ছড়িয়ে থাকা সুবিধাগুলো এখন এক জায়গায় ব্যবহারের সুযোগ মিলবে। অন্যটি ‘প্রাইভেসি ডিসপ্লে’। এ সুবিধায় সরাসরি সামনে থেকে না দেখলে পর্দা অন্ধকার দেখাবে এমনভাবে ডিসপ্লে প্রযুক্তি নকশা করা হয়েছে। ফলে জনসমাগমস্থলে ফোন ব্যবহার করার সময় ব্যক্তিগত তথ্য অন্যের চোখে পড়ার ঝুঁকি কমবে।

এস২৬ আলট্রায় উন্নত কর্নিং গরিলা আর্মার ২ প্রটেকশন গ্লাস, তাপ নিয়ন্ত্রণে নতুন নকশার ভেপার চেম্বার এবং সব এস২৬ কেসে ম্যাগনেটিক কানেকশনের কথা জানিয়েছে স্যামসাং। ক্যামেরা অ্যাপে নতুনভাবে নকশা করা নথি স্ক্যানারও যুক্ত হয়েছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক সহকারী ব্যবহারের ক্ষেত্রে ব্যবহারকারীরা বেছে নিতে পারবেন গুগল জেমিনি, স্যামসাং বিক্সবি এবং পারপ্লেক্সিটি।

সূত্র: ম্যাশেবল

আহসান হাবীব

দেশের বাজারে ‘ইনফিনিক্স স্মার্ট ২০’ মডেলের নতুন স্মার্টফোন এনেছে ইনফিনিক্স। ভয়েজপ্রিন্ট নয়েজ রিডাকশন প্রযুক্তির ফোনটি আশপাশের অপ্রয়োজনীয় শব্দ কমিয়ে ব্যবহারকারীর কণ্ঠ আলাদাভাবে শনাক্ত করতে পারে। ফলে যানজট, বাজার বা গণপরিবহনে থাকা অবস্থায় চারপাশের শব্দ বাধা হয়ে দাঁড়ায় না। ফোনটির দাম ধরা হয়েছে ১২ হাজার ৯৯৯ টাকা। এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে ইনফিনিক্স বাংলাদেশ।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ৬.৭৮ ইঞ্চি পর্দার ফোনটির রিফ্রেশ রেট ১২০ হার্টজ। ফলে ফোনটির পর্দায় সহজেই ভালো মানের ছবি ও ভিডিও দেখা যায়। মিডিয়াটেক হেলিও জি৮১ অক্টা-কোর প্রসেসরে চলা ফোনটিতে ৪ গিগাবাইট র‍্যাম ও ৬৪ গিগাবাইট ধারণক্ষমতা রয়েছে। মিলিটারি-গ্রেড শক রেজিস্ট্যান্স–সুবিধার ফোনটি প্রায় ৫ ফুট ওপর থেকে পড়ে গেলেও ভাঙে না বা ফোনের বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয় না।

ফোনটিতে আলট্রালিংক ফ্রি কল প্রযুক্তি থাকায় আশপাশে নেটওয়ার্ক না থাকলেও স্বল্প দূরত্বে থাকা একই ব্র্যান্ডের হ্যান্ডসেটে ফোনকল করাসহ বার্তা আদান–প্রদান করা যায়। আইপি৬৪ প্রযুক্তিনির্ভর ফোনটি ভিজলে নষ্ট হয় না, ধুলাও জমে না। ফলে হালকা পানির ছিটা বা ধুলাবালুর মধ্যেও ফোনটির স্পর্শনির্ভর পর্দা ভালোভাবে কাজ করে।