টেনশন…টেনশন!
মেহেদী হাসান মিরাজ ক্যাচটা ফেলে দিলেন গালিতে। তাইজুল ইসলাম আর লিটন দাসের ভুল–বোঝাবুঝিতে পরের ক্যাচটার জন্য গেলেনই–না কেউ। শরীরী ভাষায় ভয় ও দুশ্চিন্তার ছাপ স্পষ্ট। সমর্থকদের মনেও প্রশ্ন, কী হচ্ছে এসব!
শেষে অবশ্য যা হওয়ার কথা ছিল, তা–ই হয়েছে। ‘একটা ভালো বলের…’ জন্য যে অপেক্ষা ছিল, তা শেষ হয়েছে তাইজুল ইসলামের হাত ধরে। স্লিপে নাজমুল হোসেনের হাতে ক্যাচ তুলে দিয়েছেন সাজিদ খান।
আগের উইকেটের জন্য ৭২ বলের অপেক্ষা ছিল, পরের দুটির জন্য কেবল ১২ বল। ওই যে একটা উইকেট আরেকটা নিয়ে আসে! শরীফুল ইসলামের বলে মোহাম্মদ রিজওয়ান ৯৪ রান করে বিদায় নিতেই বাংলাদেশ পেয়ে যায় উদ্যাপনের উপলক্ষ। শেষ পর্যন্ত পাকিস্তান থেমেছে ৩৫৮ রানে। ৬ উইকেট নিয়ে জয়ের নায়ক তাইজুল।
গতকাল সালমান আগা আর মোহাম্মদ রিজওয়ানের ১৩৪ রানের জুটি ভয় ধরিয়ে দিয়েছিল বাংলাদেশকে। তবে শেষ বিকেলে দুই উইকেট নিয়ে কালই নিজেদের অস্বস্তি কাটিয়ে দিয়েছিলেন তাইজুল। আজ সকালে বাংলাদেশের জন্য খেলাটা ছিল ৩ উইকেটের, পাকিস্তানের ১২১ রানের।

যদিও সেই আশঙ্কা দূর হতে খুব বেশি সময় লাগেনি। ১৫ মিনিট দেরিতে শুরু হওয়া ম্যাচটা শেষ করতে বাংলাদেশের লেগেছে এক ঘণ্টা। রিজওয়ানের ৯৪ ছাড়া ২৮ রান করেন সাজিদও। এ দুজন ফিরতেই আজ সকালেও বিশ্ব রেকর্ড গড়ে রানতাড়ার যেটুকু সম্ভাবনা ছিল, তা শেষ হয়েছে ৭৮ রানের হারে।

শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে খুররম শাহজাদকে ফিরিয়ে উল্লাসে মেতে ওঠে বাংলাদেশ। বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেটের আড়াই যুগে মনে রাখার মতো একটা স্মৃতিও তৈরি হয়ে গেছে এর মধ্যে। নিজেদের টেস্ট ইতিহাসে এবারই প্রথম কোনো দলকে পরপর চার ম্যাচে হারানো স্বাদ পেল বাংলাদেশ। অথচ এই পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথম ১৩ টেস্টে জয় ছিল না একটিও।
বাংলাদেশ যোগ্যতর দল হিসেবে, তা বোধ হয় না বললেও চলছে। মিরপুর আর সিলেট টেস্ট মিলিয়ে এমন খুব কম সময়ই এসেছে, যখন মনে হয়েছে, পাকিস্তান এগিয়ে গেছে। কোথাও সেই সম্ভাবনা তৈরি হলে বাংলাদেশ ম্যাচে ফিরেছে মুহূর্তেই। প্রতিবারই হার মানতে হয়েছে পাকিস্তানকে। এর ফলে হয়তো ভবিষ্যতের রোমাঞ্চকর এক পথচলার শুরুও হয়ে গেছে।