অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, শুধু অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন করলেই হবে না, সেই প্রবৃদ্ধির সুফল সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে হবে। আজ বৃহস্পতিবার সকালে চট্টগ্রামের কাট্টলী দারুচ্ছালাম জামে মসজিদে পবিত্র ঈদুল আজহার নামাজ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, দেশের ভঙ্গুর অর্থনীতিকে সঠিক জায়গায় নিতে সরকার কাজ করছে। দেশকে সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিতে কিছুটা সময় প্রয়োজন। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতির সুফল সাধারণ মানুষকে পেতে হবে।

এবারের কোরবানির ঈদে বাজার পরিস্থিতি অন্যান্য বছরের তুলনায় ভালো ও সহনীয় ছিল বলেও মন্তব্য করেন তিনি। আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘সাধারণত কোরবানির ঈদে দ্রব্যমূল্য বেড়ে যায়। এবার উল্টো কমেছে। আমরা এ ধারা অব্যাহত রাখতে চাই। দ্রব্যমূল্য সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখার চেষ্টা করছি।’

জনগণের উদ্দেশে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘অর্থনীতিকে সঠিক জায়গায় নিতে আমাদের একটু সময় দিন। আমরা নির্বাচিত সরকার। জনগণের কাছেই দায়বদ্ধ। আমরা একটি কল্যাণকর রাষ্ট্র গঠনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি।’

প্রথমবারের মতো শুল্ক-কর আদায়ের ঘাটতি এক লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেল। তাই চলতি অর্থবছরে রেকর্ড পরিমাণ ঘাটতির মুখে পড়ছে দেশের প্রধান রাজস্ব আদায়কারী সংস্থা জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।

এনবিআরের রাজস্ব আদায়ের হালনাগাদ প্রতিবেদন অনুসারে, চলতি অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসে (জুলাই-এপ্রিল) শুল্ক-কর আদায়ে ঘাটতি ১ লাখ ৪ হাজার ৫৩৩ কোটি টাকা, যা যেকোনো সময়ের বিবেচনায় এ যাবৎকালের রেকর্ড ঘাটতি।

কয়েক বছর ধরেই অর্থনীতি চাপের মুখে আছে। ব্যবসা–বাণিজ্যে শ্লথগতি। ফলে রাজস্ব আদায়ের গতিও ভালো নয়। এমন অবস্থায় সরকার অর্থনীতি চাঙা করতে ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা তহবিল দিচ্ছে, যা উদ্যোক্তারা ৭ শতাংশ সুদে এই ঋণ নিতে পারবেন, বাকি ৬ শতাংশ সুদ সরকার ভর্তুকি দেবে।

এমন প্রেক্ষাপটে এনবিআর রেকর্ড ঘাটতির মুখে পড়তে যাচ্ছে। রাজস্ব আদায় বাড়ানোই নতুন সরকারের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। এনবিআর সূত্রে জানা গেছে, চলতি অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে এনবিআরের শুল্ক-কর আদায়ের লক্ষ্য ছিল ৪ লাখ ৩১ হাজার ৪৬১ কোটি টাকা। এ সময়ে এনবিআর আদায় করতে পেরেছে ৩ লাখ ২৬ হাজার ৯২৮ কোটি টাকা, ঘাটতি ১ লাখ কোটি টাকা ছাড়াল।

সংশোধিত বাজেট অনুসারে, চলতি অর্থবছরে এনবিআরকে পাঁচ লাখ তিন হাজার কোটি টাকা আদায় করতে হবে। এর মানে হলো লক্ষ্য অর্জনে চলতি মে ও জুন মাসে পৌনে দুই লাখ কোটি টাকা আদায় করতে হবে। প্রতি মাসে আদায় করতে হবে গড়ে ৮৮ হাজার কোটি টাকা।

কোন খাতে কত আদায়

জুলাই-মার্চ সময়ে আমদানি শুল্ক, মূল্য সংযোজন কর (মূসক বা ভ্যাট) ও আয়কর—এই তিন খাতের মধ্যে কোনো খাতেই লক্ষ্য অর্জিত হয়নি। গত জুলাই-এপ্রিলে সবচেয়ে বেশি ঘাটতি হয়েছে আয়কর খাতে। এ খাতে ঘাটতি ৪৪ হাজার কোটি টাকা। এরপর ভ্যাটে ঘাটতি ৩৫ হাজার ৩০৮ কোটি টাকা। আর শুল্ক আদায়ে ঘাটতি ২৫ হাজার ১৯৩ কোটি টাকা।

এনবিআরের একাধিক কর্মকর্তা জানান, এ বছর নির্বাচন হয়েছে। নতুন সরকার এসেছে। একধরনের রাজনৈতিক উত্তরণ হয়েছে। এ ছাড়া অর্থনীতি চাপে থাকায় ব্যবসা–বাণিজ্য শ্লথ হয়েছে। এসব কারণে শুল্ক-কর আদায় তুলনামূলক কম হয়েছে।

রাজস্ব ঘাটতি হলে কী হয়

রাজস্ব আদায়ে ঘাটতি হলে প্রথমেই সরকারের খরচে টান পড়ে। প্রতিবছর বাজেটের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশের বেশি জোগান দেয় এনবিআর। কিন্তু সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন–ভাতা, দেশি–বিদেশি ঋণের সুদ খরচসহ পরিচালক খরচ হিসেবে বাজেটে বরাদ্দ থাকে। এসব খরচ করতেই হবে। সেখানে কমানোর সুযোগ নেই বললেই চলে। কিন্তু বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আওতায় সরকারে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করে। যেমন চলতি অর্থবছরের দুই লাখ কোটি টাকার এডিপি বাস্তবায়ন করছে।

যখনই অর্থের জোগানে টান পড়ে, তখন পরিচালন খরচ কমানোর সুযোগ থাকে না। এ সময় সরকারের উন্নয়ন প্রকল্পে খরচ কমায়। এ ছাড়া প্রকল্পের টাকা খরচ করার সক্ষমতাও কম। এডিপির টাকা কমানোই সরকারের হাতে সবচেয়ে ভালো বিকল্প হয়। এ ছাড়া দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের কর-জিডিপি অনুপাত বেশ কম। বর্তমানে তা ৬ থেকে ৭ শতাংশের মধ্যে নেমে এসেছে।

সংস্কার জরুরি

পুরোনো রাজস্ব প্রশাসন দিয়ে এত বিশাল লক্ষ্য অর্জন কঠিন। এ জন্য সংস্কার প্রয়োজন—এ কথা দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছেন অর্থনীতিবিদ ও ব্যবসায়ীরা। রাজস্ব খাত সংস্কার করে অন্তর্বর্তী সরকার যে অধ্যাদেশ জারি করেছিল, তা বিল আকারে জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করেনি বিএনপি সরকার। ফলে অধ্যাদেশটি কার্যকারিতা হারিয়েছে। এখন নতুন করে সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছে নতুন সরকার। ইতিমধ্যে প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসনবিষয়ক উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহর নেতৃত্ব একটি কমিটিও গঠন করা হয়েছে।

বিশ্লেষকেরা বলছেন, কর-জিডিপি অনুপাত বাড়ানো, কর ফাঁকি বন্ধ করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ, করজালের বাইরে থাকা করযোগ্য মানুষকে করের আওতায় আনা, রাজস্ব প্রশাসনের দক্ষতা বাড়ানো, ঘুষ-দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া—এসব পুরোনো সমস্যার সমাধানে মনোযোগী হতে হবে।

এবারের ঈদের ছুটিতে কিছু এটিএম বুথ থেকে টাকা পাওয়া যাচ্ছে না। আবার অনেক ব্যাংকের বুথে অন্য ব্যাংকের কার্ড দিয়ে টাকা উত্তোলন বন্ধ বা সীমিত করা হয়েছে। এ অবস্থায় গতকাল সোমবার থেকে টানা সাত দিনের বন্ধে টাকা পাওয়া নিয়ে শঙ্কা বেড়েছে।

কোরবানির পশু কেনা ও অন্যান্য খরচের কারণে কোরবানির ঈদের আগে নগদ টাকার চাহিদা বেশি থাকে। ফলে এই সময় এটিএমের ভোগান্তিতে গ্রাহকদের উৎকণ্ঠা বেড়েছে।

দুটি কারণে এটিএমে টাকার সংকট শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন ডাচ্‌–বাংলা, দি সিটি, ব্র্যাক ও ইসলামী ব্যাংকের কর্মকর্তারা। তাঁরা জানান, ঈদের ছুটিতে দৈনিক চাহিদা মেটাতে যে পরিমাণ টাকা চাওয়া হয়েছিল, বাংলাদেশ ব্যাংক তার পুরোটা দেয়নি। এ ছাড়া এবার নতুন গভর্নরের স্বাক্ষর করা নোট দেওয়া হয়েছে। এসব নোট মেশিনগুলোর কাছে অপরিচিত, তাই অনেক সময় মেশিনে টাকা আটকে যাচ্ছে।

এদিকে একটি ব্যাংকের প্রযুক্তি বিভাগের কর্মকর্তা জানান, সাধারণত নতুন নোটের সঙ্গে এটিএম যন্ত্র পরিচিত করাতে চার সপ্তাহ সময় লেগে যায়, কিন্তু এবার একদিনও সময় পাওয়া যায়নি। আগের নকশার ওপর শুধু নতুন গভর্নরের স্বাক্ষর থাকায় ধারণা করা হয়েছিল, সমস্যা হবে না। তবে গভর্নরের স্বাক্ষর পরিবর্তনের কারণে যন্ত্রগুলোতে সমস্যা হচ্ছে। ঈদের পর এটা ঠিক হয়ে যাবে।

জানা যায়, ডাচ্‌–বাংলা ব্যাংকের বুথগুলোয় প্রতিদিন প্রায় ১ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন হয়। গতকাল সিআরএম যন্ত্রে প্রায় ৫০০ কোটি টাকা জমা হয়। বাকি টাকার একটা অংশ তারা নিজেরা সংস্থান করে। বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে চাহিদামতো টাকা চেয়েও পাওয়া যায়নি। জানা গেছে, সব ব্যাংকেই একই অবস্থা।

প্রতিবছরের মতো এবারও ঈদের বন্ধে এটিএম বুথসহ অনলাইন মাধ্যমে নিরবচ্ছিন্ন সেবা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান বলেন, ব্যাংকগুলোর সব এটিএম বুথে যথাযথ নিরাপত্তা নিশ্চিত করে সার্বক্ষণিক পর্যাপ্ত টাকা রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বেশির ভাগ বুথ থেকে টাকা পাওয়া যাচ্ছে।

কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে দেশে প্রবাসী আয় বেড়েই চলছে। চলতি মাসের প্রথম ২৩ দিনেই দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ২৯৭ কোটি ৬০ লাখ মার্কিন ডলার। এই হিসাবে প্রতিদিন গড়ে দেশে এসেছে ১২ কোটি ৯৪ লাখ ডলার রেমিট্যান্স।

রোববার (২৪ মে) বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান তথ্য জানিয়েছেন।

আরিফ হোসেন বলেন, চলতি মে মাসের প্রথম ২৩ দিনে দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ২৯৭ কোটি ৬০ লাখ ৫০ হাজার ডলার। আর গত বছরের একই সময়ে এসেছিল ২১০ কোটি ৬০ লাখ ২০ হাজার ডলার। অর্থাৎ বছর ব্যবধানে রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়েছে।
 
চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে ২৩ মে পর্যন্ত দেশে এসেছে ৩ হাজার ২৩০ কোটি ৯০ লাখ ৪০ হাজার ডলার রেমিট্যান্স। বছর ব্যবধানে যা বেড়েছে ২১ দশমিক ২৬ শতাংশ।

নগদ লভ্যাংশের ‘নতুন শর্তে’ চাপে অধিকাংশ ব্যাংক, পুঁজিবাজারে প্রভাবের শঙ্কা

ব্যাংক সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কোরবানির ঈদকে ঘিরে প্রবাসীরা দেশে থাকা তাদের আত্মীয়-স্বজনদের কাছে প্রচুর পরিমাণে অর্থ পাঠাচ্ছেন। এতেই বাড়ছে প্রবাসী আয়ের পরিমাণ।

এর আগে গত এপ্রিলে দেশে এসেছে ৩১২ কোটি ৭৩ লাখ মার্কিন ডলার। আর গত মার্চে দেশে এসেছিল ৩৭৫ কোটি ৫০ লাখ ৫০ হাজার মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স। যা দেশের ইতিহাসে যে কোনো এক মাসের সর্বোচ্চ।

গত ফেব্রুয়ারি ও জানুয়ারি মাসে যথাক্রমে দেশে এসেছে ৩০২ কোটি ৭ লাখ ৬০ হাজার ও ৩১৭ কোটি ৯ লাখ ৪০ হাজার মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স। গত ডিসেম্বরে দেশে রেমিট্যান্স এসেছিল ৩২২ কোটি ৬৭ লাখ ডলার; নভেম্বরে এসেছিল ২৮৮ কোটি ৯৫ লাখ ২০ হাজার ডলার রেমিট্যান্স।

এছাড়া গত অক্টোবর ও সেপ্টেম্বরে দেশে এসেছিল যথাক্রমে ২৫৬ কোটি ৩৪ লাখ ৮০ হাজার ও ২৬৮ কোটি ৫৮ লাখ ৮০ হাজার মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স। আর গত আগস্ট ও জুলাইয়ে যথাক্রমে দেশে এসেছিল ২৪২ কোটি ১৮ লাখ ৯০ হাজার ও ২৪৭ কোটি ৮০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স।

এদিকে, গত ২০২৪-২৫ অর্থবছর জুড়ে দেশে প্রবাসীরা পাঠিয়েছেন ৩০ দশমিক ৩২ বিলিয়ন বা ৩ হাজার ৩২ কোটি ৮০ লাখ মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স, যা দেশের ইতিহাসে কোনো নির্দিষ্ট অর্থবছরে সর্বোচ্চ প্রবাসী আয়ের রেকর্ড।

 

বিদেশি ঋণ পরিশোধে চাপ আরও বেড়েছে। কয়েক বছর আগে থেকে এই চাপ বাড়তে শুরু করে। চলতি অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসেই (জুলাই–এপ্রিল) বিশ্বব্যাংক, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি), জাপানসহ দাতাদের ঋণ শোধের পরিমাণ ৩৮০ কোটি ডলার।

আজ রোববার অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) জুলাই–এপ্রিলের বিদেশি ঋণ পরিস্থিতির হালনাগাদ প্রতিবেদন প্রকাশ করে। সেখানে দেখা গেছে, ওই ১০ মাসে বিদেশি ঋণ ও অনুদান মিলিয়ে এসেছে ৪২৩ কোটি ৬২ লাখ ডলার।

বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আওতায় থাকা প্রকল্পের অনুকূলে দাতাদের কাছ থেকে ঋণ নেয় সরকার। এর হিসাব ইআরডি করে থাকে।

কয়েক বছর ধরে বিদেশি ঋণ পরিশোধে চাপ বেড়েছে। গত অর্থবছরে প্রথমবারের মতো চার বিলিয়ন ডলারের বেশি ঋণ পরিশোধ করতে হয়েছে। গত অর্থবছরে বিদেশি ঋণের সুদ ও আসল মিলিয়ে ৪০৯ কোটি ডলার শোধ করেছে বাংলাদেশ। আগের অর্থবছরে এর পরিমাণ ছিল ৩৩৭ কোটি ডলার।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন, একই ধারায় ঋণের কিস্তি পরিশোধ করতে হলে এ বছর বিদেশি ঋণ শোধের পরিমাণ সাড়ে চার বিলিয়ন ডলার পার হতে পারে।

ইআরডির প্রতিবেদন অনুসারে, চলতি অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে (জুলাই–এপ্রিল) বিদেশি ঋণের আসল ২৪৭ কোটি ডলার ও সুদ ১৩৩ কোটি ডলার শোধ করেছে সরকার। অন্যদিকে ৩৮৪ কোটি ডলার ঋণ হিসেবে ও ৩৯ কোটি ডলার অনুদান হিসেবে পাওয়া গেছে।

ইআরডি সূত্রে জানা গেছে, চলতি অর্থবছরের ১০ মাসে সব মিলিয়ে বাংলাদেশ ২৮০ কোটি ডলারের প্রতিশ্রুতি পেয়েছে। গত অর্থবছরের একই সময়ে ৪২৬ কোটি ডলারের প্রতিশ্রুতি পাওয়া গিয়েছিল। গত এপ্রিলে বিদেশি ঋণের কোনো প্রতিশ্রুতি মেলেনি।

কারা কত দিল

গত ১০ মাসে সবচেয়ে বেশি ঋণছাড় করেছে বিশ্বব্যাংক। সংস্থাটি দিয়েছে প্রায় ৮৪ কোটি ডলার। এরপর আছে রাশিয়া। দেশটি দিয়েছে প্রায় ৮৩ কোটি ডলার। আর এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) দিয়েছে ৭১ কোটি ডলার। চীন ও ভারত ছাড় করেছে যথাক্রমে ৫৩ কোটি ডলার ও ২৫ কোটি ডলার। জাপান দিয়েছে ৪২ কোটি ডলার।

সরকার বাজেটের মাধ্যমে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য বিভিন্ন দাতা সংস্থার কাছ থেকে ঋণ ও অনুদান নেয়। এ ছাড়া বাজেট সহায়তা হিসেবেও ঋণ নিচ্ছে। এ ছাড়া বেসরকারি খাতকেও উন্নয়ন সহযোগীরা ঋণ দেয়।

আগামী শনিবার ব্যাংক খোলা থাকবে। সেদিন ব্যাংকের স্বাভাবিক কার্যক্রম চলবে। লেনদেনের সময়ও স্বাভাবিক থাকবে। রোববারও ব্যাংকের স্বাভাবিক কার্যক্রম চলবে। ফলে ঈদের ছুটির আগে আরও দুই দিন ব্যাংক খোলা থাকবে।

এরপর ২৫ থেকে ৩১ মে পর্যন্ত পবিত্র ঈদুল আজহার ছুটি উপলক্ষে সব সরকারি-বেসরকারি ব্যাংক বন্ধ থাকবে থাকবে। ফলে ঈদুল আজহা উপলক্ষে টানা সাত দিন দেশের তফসিলি ব্যাংক বন্ধ থাকবে। বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে এই তথ্য পাওয়া গেছে।

জানা যায়, ঈদুল আজহা উপলক্ষে শনিবার সাপ্তাহিক ছুটির দিন হলেও দেশের সব সরকারি-বেসরকারি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান খোলা থাকবে। এরপর সোমবার থেকে এসব প্রতিষ্ঠানে ঈদের ছুটি শুরু হবে। এর ফলে শনিবার ও রোববার গ্রাহকেরা ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে সব ধরনের লেনদেন করতে পারবেন।

২৮ মে ঈদুল আজহা উদ্‌যাপিত হবে। এ উপলক্ষে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সাত দিনের ছুটির প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, আধা স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি অফিস ২৫ থেকে ৩১ মে পর্যন্ত বন্ধ থাকবে। একই সঙ্গে শনিবারের সাপ্তাহিক ছুটিও বাতিল করা হয়েছে। এ সিদ্ধান্তের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাংলাদেশ ব্যাংকও সরকারি–বেসরকারি ব্যাংকসহ অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ছুটির নির্দেশনা জারি করেছে।

এদিকে তৈরি পোশাকশিল্প খাতের শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন, বোনাস ও অন্যান্য ভাতা পরিশোধ এবং আমদানি-রপ্তানিসংক্রান্ত ব্যাংকিং কার্যক্রম চালু রাখতে শিল্প–সংশ্লিষ্ট এলাকার বাণিজ্যিক ব্যাংকের শাখাগুলো ২৫ ও ২৬ মে খোলা থাকবে। এসব শাখা সকাল ১০টা থেকে বেলা ৩টা পর্যন্ত খোলা থাকবে। তবে গ্রাহকদের লেনদেন চলবে বেলা একটা পর্যন্ত।

বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে বাংলাদেশ ব্যাংক বৃহস্পতিবার (২১ মে) ছয়টি বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে ১০ কোটি মার্কিন ডলার ক্রয় করেছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, ১২২ টাকা ৭৫ পয়সা দরে ডলার ক্রয় করা হয়েছে। চলতি মে মাসে বাংলাদেশ ব্যাংক এ পর্যন্ত মোট ৫৬ কোটি ৫০ লাখ মার্কিন ডলার ক্রয় করেছে। 

২০২৫-২৬ অর্থবছরে এ পর্যন্ত ৬২৩ কোটি ৮৫ লাখ ডলার মার্কিন ডলার ক্রয় করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

 

পাইকারি পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর পক্ষে সুপারিশ করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) গঠিত কারিগরি কমিটি। পাইকারি দাম বাড়লে ভোক্তা পর্যায়েও দাম বাড়াতে হবে। এটি মূল্যস্ফীতি আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। তাই দাম বাড়ানোর বিরোধিতা করে ভোক্তা প্রতিনিধিরা বলেছেন, বিদ্যুৎ খাতের অযৌক্তিক খরচ ভোক্তার ওপর চাপানো যাবে না।

বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) মূল্যবৃদ্ধির প্রস্তাব নিয়ে অনুষ্ঠিত গণশুনানিতে এমন দাবি করা হয়েছে। আজ বুধবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে এ শুনানির আয়োজন করে বিইআরসি।

গণশুনানিতে বক্তারা বলেন, একের পর এক অপ্রয়োজনীয় প্রকল্প করে খরচ বাড়িয়েছে পিডিবি, যা কাজে লাগছে না। এতে তাদের ঘাটতি বেড়েছে; এ দায় ভোক্তার নয়।

সরকারি-বেসরকারি সব বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে চুক্তি অনুসারে নির্ধারিত দামে বিদ্যুৎ কিনে নেয় পিডিবি। এরপর তারা উৎপাদন খরচের চেয়ে কিছুটা কমে সরকার নির্ধারিত পাইকারি দামে ছয়টি বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থার কাছে বিক্রি করে। ঘাটতি মেটাতে পিডিবি সরকারের কাছ থেকে ভর্তুকি নেয়। তবে বিতরণ সংস্থাগুলো কোনো ভর্তুকি পায় না। তারা খুচরা দামে ভোক্তার কাছে বিদ্যুৎ বিক্রি করে কোম্পানি চালায়। আগামীকাল বৃহস্পতিবার বিদ্যুতের খুচরা মূল্যবৃদ্ধির প্রস্তাব নিয়ে শুনানির কথা রয়েছে।

পাইকারি পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম ২১ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধির প্রস্তাব দিয়েছে পিডিবি। এটি মূল্যায়ন করে কারিগরি কমিটি বলেছে, বর্তমান দামে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে প্রতি ইউনিটে পিডিবির ঘাটতি হবে ৫ টাকা ৪৭ পয়সা। এটি মেটাতে হলে ভারিত গড়ে ৭৭ দশমিক ৭৮ শতাংশ দাম বাড়ানো প্রয়োজন। তবে আগের ধারাবাহিকতায় সরকারের ভর্তুকি বিবেচনায় নিয়ে মূল্যহার নির্ধারণ করা যেতে পারে। বর্তমান দামে পিডিবির ঘাটতি হতে পারে প্রায় ৬০ হাজার ৩৯৯ কোটি টাকা।

গণশুনানিতে ভোক্তাদের পক্ষ থেকে লিখিত বক্তব্য দিয়েছে ভোক্তা অধিকার সংগঠন কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)। এটি পড়ে শোনানো হয় শুনানিতে। এতে বিদ্যুতের দাম না বাড়ানোর আহ্বান জানিয়ে বলা হয়, বিদ্যুৎ খাতে অদক্ষতা, সিস্টেম লস, বিলম্বিত প্রকল্প, অতিরিক্ত ও লুণ্ঠনমূলক ব্যয় এবং ক্যাপাসিটি চার্জের (বিদ্যুৎকেন্দ্রের ভাড়া) বোঝা সাধারণ ভোক্তার ওপর চাপানো উচিত নয়।

শুনানি শেষে সরকারের কাছ থেকে ভর্তুকির পরিমাণ জানতে চাইবে বিইআরসি। সরকারের ভর্তুকি জানার পর বাকি ঘাটতি সমন্বয়ে দাম বাড়ানো হতে পারে। আগামী জুন থেকেই দাম বাড়ানোর প্রস্তাব করেছে পিডিবি। এ নিয়ে কোনো মত দেয়নি কারিগরি কমিটি।

তবে পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের (আরইবি) লাভজনক ২১টি সমিতির জন্য আলাদা পাইকারি দাম নির্ধারণের প্রস্তাব খারিজ করে দিয়েছে কারিগরি কমিটি। একইভাবে আরইবির বড় গ্রাহকদের কাছ থেকে ডিমান্ড চার্জ পিডিবিকে দেওয়ার প্রস্তাবেরও যৌক্তিকতা দেখছে না কমিটি। এ ছাড়া বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম আগে থেকে অনুমান করা সম্ভব নয় বলে পিডিবির প্রস্তাবিত মাল্টি ইয়ার ট্যারিফ (কয়েক বছরের দাম) নির্ধারণের প্রস্তাব আমলে নেয়নি কমিটি।

দাম বাড়লে জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়বে

গণশুনানিতে ভোক্তাদের পক্ষ থেকে লিখিত বক্তব্য দিয়েছে ভোক্তা অধিকার সংগঠন কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)। এটি পড়ে শোনানো হয় শুনানিতে। এতে বিদ্যুতের দাম না বাড়ানোর আহ্বান জানিয়ে বলা হয়, বিদ্যুৎ খাতে অদক্ষতা, সিস্টেম লস, বিলম্বিত প্রকল্প, অতিরিক্ত ও লুণ্ঠনমূলক ব্যয় এবং ক্যাপাসিটি চার্জের (বিদ্যুৎকেন্দ্রের ভাড়া) বোঝা সাধারণ ভোক্তার ওপর চাপানো উচিত নয়।

সুশাসন ও জবাবদিহি নিশ্চিতের ওপর জোর দিয়ে ভোক্তাদের লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, বিদ্যুতের দাম বাড়লে শিল্প, কৃষি, পরিবহনে খরচ বাড়বে, যা শেষ পর্যন্ত দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির মাধ্যমে সাধারণ মানুষের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। নিম্ন ও মধ্যবিত্তদের আয়ের তুলনায় জীবনযাত্রার ব্যয় অস্বাভাবিক বেড়েছে, তাদের ওপর চরম চাপ সৃষ্টি হবে।

[caption id="attachment_274453" align="alignnone" width="782"] বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) মূল্যবৃদ্ধির প্রস্তাব নিয়ে গণশুনানির আয়োজন করে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট মিলনায়তন, ঢাকা; ২০ মে ২০২৬[/caption]

দেড় দশক ধরে গণশুনানিতে নিয়মিত হাজির হয়ে ভোক্তাদের পক্ষ থেকে প্রস্তাবের চুলচেরা বিশ্লেষণ করতেন ক্যাবের জ্বালানি উপদেষ্টা এম শামসুল আলম। বর্তমান কমিশনের প্রতি অনাস্থা জানিয়ে তিনি শুনানি বর্জন করেছেন। তবে শুনানিতে অধিকাংশ বক্তার কণ্ঠে বারবার এসেছে তাঁর নাম। কমিশনের চেয়ারম্যানও শামসুল আলমের অনুপস্থিতির কথা স্মরণ করেছেন।

ক্যাবের সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবির বলেন, জ্বালানি উপদেষ্টা বর্জন করেছেন। প্রান্তিক মানুষের কথা চিন্তা করে দাম বাড়ানো উচিত নয়। ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সৈয়দ মিজানুর রহমান বলেন, সরকার ভর্তুকি দেয় জনগণের টাকা থেকে। সরকারের মুনাফা করার চিন্তা থেকে দাম বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। বিইআরসির উচিত দেশের স্বার্থে কাজ করা। ভোক্তাদের পক্ষ থেকে দাম কমানোর শুনানি আয়োজনের দাবি করেন সাংবাদিক শুভ কিবরিয়া।

বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সাবেক সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন বলেন, গণশুনানি মানুষের কাছে অগ্রহণযোগ্য হয়ে গেছে। জনগণের ওপর দাম বাড়ানোর প্রভাব হবে মূল আলোচনার বিষয়; অথচ প্রস্তাবে এটি নেই। দাম বাড়ানোর এ প্রস্তাব গ্রহণযোগ্য নয়। বিইআরসিও জনস্বার্থ দেখে না। কোনো অজুহাতে বিদ্যুতের দাম বাড়ানো যাবে না। বিদ্যুতের দাম বাড়লে জিনিসপত্রের দাম বাড়বে, মানুষের অবস্থা ভয়াবহ হবে।

তৈরি পোশাক খাতের সংগঠন বিকেএমইএর পরিচালক জামাল উদ্দিন মিয়া বলেন, বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হলে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা হারাবে তৈরি পোশাক। এমনিতেই রপ্তানি কমছে। তাই বিদ্যুতের মূল্যহার পরিবর্তনের সুযোগ নেই।

বিদ্যুৎকেন্দ্র না চলায় সঞ্চালনের আয় কমে

বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে নিয়ে বিতরণ সংস্থার কাছে বিদ্যুৎ সরবরাহ করে পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ (পিজিবি) পিএলসি। লোকসান ঠেকাতে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ সঞ্চালনের চার্জ ১৮ পয়সা বাড়ানোর দাবি করেছে তারা। এটি প্রায় ১৪ পয়সা বাড়ানোর পক্ষে মত দিয়েছে বিইআরসির কারিগরি কমিটি। তবে পিজিবি পিএলসির কয়েক হাজার কোটি টাকার প্রকল্প নিয়ে প্রশ্ন তোলেন ভোক্তারা।

পিজিবি পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুর রশীদ বলেন, বিতরণ সংস্থার চাহিদার ওপর ভিত্তি করে আর নতুন নির্মিত বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ নিতে প্রকল্প তৈরি করা হয়। পায়রা থেকে একটা নতুন লাইন করার চাপ আছে, ১০০ কোটি ডলার খরচ হবে। মাতারবাড়ি থেকে আরেকটা প্রকল্প করার চাপ আছে। পিজিবি নিজ থেকে প্রকল্প করে না। প্রতিনিয়ত পিডিবির থেকে চাহিদা আসতেই থাকে। অথচ বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রায়ই বন্ধ থাকে। এতে সঞ্চালন লাইন অব্যবহৃত পড়ে থাকে; আয় কমে পিজিবির।

এর জবাবে ভোক্তা প্রতিনিধি শুভ কিবরিয়া বলেন, পিজিবি হাজার হাজার কোটি টাকার প্রকল্প নিয়েছে কার অনুমতিতে। প্রকল্প অনুমোদনের আগে বিইআরসিকে জানানোর কথা, সেটা জানানো হয়নি। তাহলে কেন এ দায় ভোক্তা নেবে।

প্রথম দিনের শুনানি শেষে বিইআরসির চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ বলেন, পাওয়ার গ্রিডের চলমান সব প্রকল্পের ব্যয় হিসাবে নেওয়া হয়নি। যতটুকু খরচ হয়েছে, ততটুকুই হিসাবে নেওয়া হয়েছে। সবার অংশগ্রহণ শুনানিকে ফলপ্রসূ করেছে। কাল খুচরা দামের শুনানি হবে। এরপরও কেউ চাইলে লিখিত মতামত দিতে পারবে। সবার মতামত ও বক্তব্য বিবেচনায় নিয়ে সিদ্ধান্ত নেবে কমিশন।

চলতি বছরের মে মাসের প্রথম ১৯ দিনে দেশে ২৪৮ কোটি ৩০ লাখ মার্কিন ডলারের প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স এসেছে। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ দাঁড়ায় ৩০ হাজার ৪৭৮ কোটি ৮২ লাখ ৫০ হাজার টাকা (প্রতি ডলার ১২২ টাকা ৭৫ পয়সা হিসাবে)।

বুধবার (২০ মে) বিকেলে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, মে মাসের প্রথম ১৯ দিনে প্রতিদিন গড়ে দেশে এসেছে ১৩ কোটি ৭ লাখ ডলার রেমিট্যান্স। গত বছরের একই সময়ে এ পরিমাণ ছিল ১৭৯ কোটি ৩০ লাখ ডলার। ফলে এক বছরের ব্যবধানে প্রবাসী আয়ের প্রবাহে বড় ধরনের বৃদ্ধি পেয়েছে।

চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই থেকে ১৯ মে পর্যন্ত মোট রেমিট্যান্স এসেছে ৩ হাজার ১৮১ কোটি ৬০ লাখ ডলার। আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় এটি ৩৮ দশমিক ৫০ শতাংশ বেশি।

ব্যাংক সংশ্লিষ্টদের মতে, ঈদুল আজহাকে ঘিরে প্রবাসীরা দেশে থাকা পরিবার-স্বজনদের জন্য বাড়তি অর্থ পাঠাচ্ছেন। এর ফলে রেমিট্যান্সের প্রবাহ আরও শক্তিশালী হয়েছে।

এর আগে চলতি বছরের মার্চ মাসে দেশে আসে ৩৭৫ কোটি ৫০ লাখ ৫০ হাজার ডলার, যা বাংলাদেশের ইতিহাসে একক মাসে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স প্রাপ্তির রেকর্ড। এপ্রিল মাসে আসে ৩১২ কোটি ৭৩ লাখ ডলার।

 

আগামীকাল বুধবার ঢাকার প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে দেশের প্রথম ‘ফাইন্যান্সিয়াল অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড রিপোর্টিং (এফএআর) সম্মেলন ২০২৬’ শুরু হতে যাচ্ছে।

দেশের করপোরেট ও আর্থিক খাতে সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়ে এ সম্মেলন যৌথভাবে আয়োজন করেছে ফাইন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং কাউন্সিল (এফআরসি), দি ইনস্টিটিউট অব চার্টার্ড অ্যাকাউনট্যান্টস অব বাংলাদেশ (আইসিএবি) এবং দি ইনস্টিটিউট অব কস্ট অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউনট্যান্টস অব বাংলাদেশ (আইসিএমএবি)। এফআরসি গতকাল সোমবার এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।

সম্মেলনের মূল প্রতিপাদ্য ‘বিশ্বাসযোগ্য আর্থিক প্রতিবেদন: আসল গুরুত্ব কোথায়’। সম্মেলনের প্রধান অতিথি অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বিশেষ অতিথি প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান, বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) সহসভাপতি ও সংসদ সদস্য মো. আবুল কালাম।

দিনব্যাপী সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পর দুটি অধিবেশন রয়েছে। দেশের শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রধান অর্থ কর্মকর্তা (সিএফও), নিরীক্ষক ও নীতিনির্ধারকেরা এতে অংশ নেবেন। বৈশ্বিক বাজারে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে এবং সহজে মূলধন পেতে হলে উন্নত মানের আর্থিক প্রতিবেদন প্রণয়নের কোনো বিকল্প নেই—এমন বার্তাই সম্মেলনের মাধ্যমে তুলে ধরা হবে বলে জানিয়েছে এফআরসি।

এ বিষয়ে এফআরসি চেয়ারম্যান মো. সাজ্জাদ হোসেন ভুইয়া প্রথম বলেন, দেশের চলমান অর্থনৈতিক সংস্কার, ব্যাংক খাতের স্থিতিশীলতা রক্ষা এবং বৈশ্বিক হিসাববিজ্ঞান মানদণ্ডের সঙ্গে দেশীয় করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোর সমন্বয় করার প্রয়োজনীয়তা থেকেই সম্মেলনটির আয়োজন করা হয়েছে। তিনি বলেন, আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য হলো করপোরেট প্রতিষ্ঠান, নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধি করা। এতে ভবিষ্যতে আর্থিক বিবরণীগুলো ব্যবসায়ের প্রকৃত চিত্র তুলে ধরবে।

বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেছেন, ‘আগামী বাজেটে নিঃসন্দেহে পিছিয়ে পড়া মানুষের জন্য বিশেষ উদ্যোগ থাকবে; কিন্তু এই উদ্যোগ কার্যকর করতে হলে অবশ্যই অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা লাগবে। না হলে ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে যে দুই–আড়াই হাজার টাকা দেওয়া হবে, তা মূল্যস্ফীতি সামলাতে চলে যাবে।

দেবপ্রিয় ভট্টাচার্যের মতে, এতে লাভের গুড় পিঁপড়ায় খেয়ে ফেলবে; আর অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা আনতে দক্ষতা বৃদ্ধি ও দুর্নীতি দমন করতে হবে। এ জন্য লাগবে প্রাতিষ্ঠানিক ও নীতি সংস্কার।

আজ সোমবার রাজধানীর গুলশানের একটি হোটেলে এসডিজি বাস্তবায়নে নাগরিক প্ল্যাটফর্ম আয়োজিত ‘জাতীয় বাজেট ২০২৬-২৭: রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি ও নাগরিক প্রত্যাশা’ শীর্ষক প্রাক্-বাজেট সংলাপে এ কথা বলেন দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য।

দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, সরকার পরিবার কার্ড ও কৃষক কার্ডের মতো রাজনৈতিক অঙ্গীকারের বাহ্যিক কিছু জিনিসের কথা বলছে। খাল খনন নিয়ে আলোচনা হচ্ছে।

দেবপ্রিয় ভট্টাচার্যের মতে, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, সুদের হার কমানো, টাকার বিনিময় হার স্থিতিশীল রাখা এবং মানুষের রুটি-রুজি বাড়ানোর মতো অর্থনীতির যে মূল বিষয়গুলো রয়েছে, তা বৃহৎভাবে মনোযোগের ভেতরে আসছে না।

নতুন সরকার কী অবস্থায় অর্থনীতিকে পেয়েছে, তার কোনো প্রামাণ্য দলিল সরকার তৈরি করেননি বলে মন্তব্য করেন দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, অবস্থাদৃষ্টে বাস্তবতার সঙ্গে সংগতিপূর্ণ বাজেট তৈরি হচ্ছে না। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে আমরা বলেছিলাম যে গতানুগতিক বাজেট হচ্ছে। সেই কথাই আবার পুনরাবৃত্তির দিকে যেতে পারে।

দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, বাজেটের প্রাণ হলো সরকারি আর্থিক ব্যবস্থাপনা। এটি সরকার কীভাবে করতে যাচ্ছে সেটি বুঝতে হবে। এবার একটি কঠোর আর্থিক শৃঙ্খলার বাজেট তৈরি করা উচিত ছিল; কিন্তু যে আলোচনা শোনা যাচ্ছে, তাতে মনে হচ্ছে, সেই কঠোরতার দিকে সরকার খুব এগোয়নি।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রী এ জেড এম জাহিদ হোসেন। আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতা ও ঢাকা-১২ আসনের সংসদ সদস্য সাইফুল আলম খান, বিএনপির সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য মাহমুদা হাবীবা, সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান, বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) মহাপরিচালক অধ্যাপক এ কে এনামুল হক, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক শরমিন্দ নীলোর্মি, নিট পোশাকশিল্পের মালিকদের সংগঠন বিকেএমইএর সাবেক সভাপতি ফজলুল হক প্রমুখ।

৪ বছরে ১০ কোটি মানুষ ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় আসবে

চার বছরের মধ্যে দেশের প্রায় ১০ কোটি মানুষকে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বা পারিবারিক সুরক্ষা বলয়ের আওতায় আনা হবে বলে জানিয়েছেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী এ জেড এম জাহিদ হোসেন। এ ছাড়া সরকার আগামী অর্থবছরে অর্থাৎ ২০২৭ সালের জুনের মধ্যে ৪০ লাখ ২০ হাজার পরিবারকে এই কার্ডের আওতায় আনার লক্ষ্য নিয়েছে বলে জানান তিনি।

আর্থিকভাবে সচ্ছল ব্যক্তিরাও পরিবার কার্ড পাবেন জানান সমাজকল্যাণমন্ত্রী। তিনি বলেন, তবে তাঁদের ভাতার টাকা দরিদ্রদের কল্যাণে ব্যয় হবে।

সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘আগামী বাজেটে সরকারের আয়, ব্যয় এবং কীভাবে অর্থায়ন ও ঋণ ব্যবস্থাপনা করছে, সেটি আমরা দেখতে পারি। বাজেটে সরকার সম্পদের পুনর্বণ্টন করতে পারছে কি না, সেটির একটি লিটমাস টেস্ট হয়ে যাবে। এ ছাড়া রাজস্ব ব্যয়ে এবার ১ লাখ ৪০ হাজার কোটি টাকার মতো রাখতে হবে কেবলমাত্র ঋণের সুদ পরিশোধের জন্য, যা বড় ঝুঁকি তৈরি করছে।’

রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের ২ লাখ ৪১ হাজার কোটি টাকার ঋণ বকেয়া আছে জানিয়ে মোস্তাফিজুর রহমান আরও বলেন, এই টাকা তাদের কাছে সুদাসলে সরকারের পাওনা রয়েছে। এসব জায়গায় বড় ধরনের সংস্কার আনতে হবে। তাদের হয় শেয়ারবাজারে নিয়ে আসেন; অথবা ব্যবস্থাপনা বেসরকারি খাতে দিয়ে দেন।

অনুষ্ঠানে নতুন সরকারের তিন মাসের বিনিয়োগ পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন করা হয় বিকেএমইএর সাবেক সভাপতি ফজলুল হককে। জবাবে তিনি বলেন, আস্থার জায়গা হয়তো কিছুটা পুনরুদ্ধার হয়েছে; কিন্তু বিনিয়োগের পরিবেশ এখনো পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। ব্যাংকিং খাতে তারল্যসংকট রয়েছে, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সংকট এখনো কাটেনি। এগুলোর সমাধান না হলে বিনিয়োগ আসবে না।

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমানের স্বাক্ষর সম্বলিত ‘বাংলাদেশের ঐতিহাসিক এবং প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপত্য’ শীর্ষক নতুন ডিজাইন ও সিরিজের ১০০০, ৫০০ ও ১০ টাকা মূল্যমানের ব্যাংক নোট ১৮ মে থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের মতিঝিল অফিস থেকে ইস্যু করা হবে।

সোমবার (১৮ মে) বাংলাদেশ ব্যাংকের ডিপার্টমেন্ট অব কমিউনিকেশনস অ্যান্ড পাবলিকেশনস (ডিসিপি) এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।

এতে বলা হয়, গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমানের স্বাক্ষর সম্বলিত ‘বাংলাদেশের ঐতিহাসিক এবং প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপত্য’ শীর্ষক নতুন ডিজাইন ও সিরিজের ১০০০, ৫০০ ও ১০ টাকা মূল্যমানের ব্যাংক নোট ১৮ মে থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের মতিঝিল অফিস থেকে ইস্যু করা হবে। যা পরবর্তীতে বাংলাদেশ ব্যাংকের অন্যান্য অফিস থেকেও ইস্যু করা হবে।

এরই প্রচলনে দেওয়া নতুন ডিজাইন ও বৈশিষ্ট্যের 'বাংলাদেশের ঐতিহাসিক এবং প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপত্য' শীর্ষক অন্যান্য মূল্যমান (২০, ৫০ ও ১০০) ব্যাংক নোটগুলো গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমানের স্বাক্ষরে পর্যায়ক্রমে ইস্যু করা হবে।

গভর্নর স্বাক্ষরিত ও মুদ্রিত এসব মূল্যমান ব্যাংক নোটের রং, আকৃতি, ডিজাইন ও নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য আগের মতো অপরিবর্তিত থাকবে। এসব নোটগুলোর পাশাপাশি বর্তমানে প্রচলিত সব কাগজে নোট এবং ধাতব মুদ্রাও যথারীতি চালু থাকবে।