ঢাকা

গত তিন দশক ধরে বৈশ্বিক পোশাক ক্রেতাদের প্রধান প্রশ্ন ছিল—কোন দেশে সবচেয়ে কম খরচে, ঠিক সময়ে ও ভালো মানের পণ্য তৈরি করা যায়। এই প্রশ্ন এখনো গুরুত্বপূর্ণ। তবে আগামী পাঁচ বছরে শুধু কম দাম দিয়ে ক্রয়াদেশ (অর্ডার) ধরে রাখা সম্ভব হবে না। এখন ক্রেতারা শুধু উৎপাদন খরচ দেখছেন না; তাঁরা দেখছেন শুল্ক, পণ্যের উৎসবিধি, কাঁচামালের অনুসরণযোগ্যতা, শ্রম অধিকার, পরিবেশগত তথ্য, রাজনৈতিক ঝুঁকি, জ্বালানি ব্যয় এবং প্রয়োজনীয় প্রমাণপত্র সংরক্ষণ ও সরবরাহ করার সক্ষমতা।

বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতের জন্য এটি একই সঙ্গে ‘বড় ঝুঁকি’ ও ‘বড় সুযোগ’। কারণ, বিশ্ববাজার এখন আর শুধু ‘সস্তা উৎপাদন’ খুঁজছে না; তারা খুঁজছে এমন সরবরাহকারী, যারা পণ্য তৈরি করতে পারে, পুরো সরবরাহ শৃঙ্খলের তথ্য দিতে পারে, শ্রম ও পরিবেশগত ঝুঁকি ব্যাখ্যা করতে পারে এবং সময়মতো নির্ভরযোগ্য প্রমাণপত্র জমা দিতে পারে।

ক্রেতারা যা বিবেচনায় নেবেন
আগে অনেক ক্রেতা শুধু কারখানার দেওয়া দাম দেখে ক্রয়াদেশ দিতেন। এখন তাঁরা দেখতে চাইবেন মোট প্রকৃত খরচ, অর্থাৎ পণ্যের দাম, শুল্ক, পরিবহন, বিলম্বের ঝুঁকি, কাগজপত্রের ঘাটতি, কাস্টমসে আটকে যাওয়ার সম্ভাবনা, অনুসরণযোগ্যতার খরচ এবং মাননিয়ন্ত্রণ ও দায়িত্বশীল ব্যবসা পরিচালনার খরচ মিলিয়ে আসল ব্যয় কত দাঁড়ায়।

কোনো কারখানা যদি কম দামে পণ্য তৈরি করতে পারে, কিন্তু কাঁচামালের উৎস, তুলার উৎস, সুতার উৎস, কাপড়ের মিল, রাসায়নিক ব্যবহারের তথ্য, শ্রমিকের অধিকারসংক্রান্ত তথ্য বা পণ্যের গঠন সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য প্রমাণ দিতে না পারে, তাহলে সেই সরবরাহকারী ভবিষ্যতে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হবে। তাই আগামী দিনের প্রতিযোগিতা শুধু কম দামে নয়, বরং কম ঝুঁকির নির্ভরযোগ্য সরবরাহে।

পণ্যের উৎস এখন বড় বাস্তবতা
পণ্যের উৎস এখন ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। আগে অনেক ক্ষেত্রে কোন দেশে কাটিং ও সেলাই হয়েছে, সেটিই পণ্যের উৎস হিসেবে বিবেচিত হতো। কিন্তু এখন সুতা, কাপড়, বোতাম, জিপার ও অন্যান্য উপকরণ কোথা থেকে এসেছে, সেটিও বড় বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপে চীনা উপকরণ, তৃতীয় দেশের মাধ্যমে পণ্য পাঠানো এবং জবরদস্তিমূলক শ্রমের ঝুঁকি নিয়ে নজরদারি বাড়ছে।

এই জায়গায় বাংলাদেশের জন্য একটি বড় সম্ভাবনা রয়েছে। কারণ, বাংলাদেশের নিজস্ব স্পিনিং, নিটিং, ডাইং, ফিনিশিং ও তৈরি পোশাক উৎপাদনের একটি শক্তিশালী ভিত্তি আছে। যদি আমরা স্থানীয় মূল্য সংযোজন আরও বাড়াতে পারি এবং কাঁচামাল থেকে তৈরি পোশাক পর্যন্ত তথ্য প্রমাণসহ দেখাতে পারি, তাহলে অনেক প্রতিযোগী দেশের তুলনায় বাংলাদেশ ভালো অবস্থানে যেতে পারে।

ইইউর বাজারে তথ্য ও প্রমাণ হবে নতুন শর্ত
ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) বাজারে ভবিষ্যতে পণ্যের ডিজিটাল পাসপোর্ট, পরিবেশবান্ধব পণ্য নকশা, মানবাধিকারভিত্তিক যথাযথ যাচাই এবং জবরদস্তিমূলক শ্রম প্রতিরোধ আইন বড় ভূমিকা রাখবে। এর অর্থ হলো, পোশাক তৈরি করলেই হবে না; পণ্যের পেছনের তথ্যও দিতে হবে। কোন ফাইবার ব্যবহৃত হয়েছে, কত শতাংশ পুনর্ব্যবহৃত উপাদান আছে, কোন রাসায়নিক ব্যবহৃত হয়েছে, কোন কারখানায় কোন ধাপ সম্পন্ন হয়েছে, শ্রমিকের অধিকার কীভাবে রক্ষা করা হয়েছে এবং পণ্যের পরিবেশগত প্রভাব কত; এসব তথ্য ক্রেতারা চাইবেন।

যেসব কারখানা এই তথ্য সঠিকভাবে সংরক্ষণ ও সরবরাহ করতে পারবে, তারা ভবিষ্যতে ক্রেতাদের কাছে বেশি গ্রহণযোগ্য হবে। আর যেসব কারখানা শুধু উৎপাদন করবে, কিন্তু প্রমাণ দিতে পারবে না, তারা ধীরে ধীরে বড় ক্রেতাদের সরবরাহকারী তালিকা থেকে বাদ পড়ার ঝুঁকিতে পড়বে।

জবরদস্তিমূলক শ্রম প্রতিরোধ
জবরদস্তিমূলক শ্রম প্রতিরোধ এখন আর শুধু সামাজিক দায়বদ্ধতার বিষয় নয়; এটি সরাসরি ব্যবসার খরচ ও ঝুঁকির অংশ। কোনো চালান যদি কাগজপত্র বা উৎস প্রমাণের ঘাটতির কারণে আটকে যায়, তাহলে পণ্য দেরিতে পৌঁছাবে, অতিরিক্ত বিমান পরিবহন খরচ হতে পারে, ক্রেতার দোকানে নির্ধারিত সময়ে পণ্য রাখা সম্ভব হবে না এবং ব্যবসায়িক সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

তাই তুলার উৎস, সুতার উৎস, কাপড়ের মিল, লেনদেনের রেকর্ড, সরবরাহকারীর ঘোষণা ও পণ্যের অনুসরণযোগ্যতার তথ্য এখন থেকেই কারখানাগুলোর নিয়মিত ব্যবস্থাপনার অংশ করতে হবে। ভবিষ্যতে এগুলো আলাদা কাজ নয়; এগুলোই ব্যবসার মূল শর্ত হয়ে যাবে।

চীনের বিকল্প ও বাস্তবতা
অনেক ক্রেতা এখন চীনের বিকল্প উৎস খুঁজছে। কিন্তু বিকল্প দেশ খুঁজলেই সমাধান হয়ে যায় না। একটি দেশে শ্রমিক থাকলেই যথেষ্ট নয়; সেখানে কাপড় উৎপাদনের কারখানা, ডাইং, ট্রিমস, বন্দর, নির্ভরযোগ্য জ্বালানি, দক্ষ ব্যবস্থাপনা, কমপ্লায়েন্স ব্যবস্থা ও অর্থায়নের সক্ষমতা থাকতে হয়। এই জায়গায় বাংলাদেশের বড় সুবিধা হলো উৎপাদনের পরিসর, দীর্ঘ অভিজ্ঞতা, নিরাপদ কারখানার ভাবমূর্তি ও পরিবেশবান্ধব কারখানায় নেতৃত্ব।

তবে আমাদের অনেক দুর্বলতাও আছে। জ্বালানি ও গ্যাসসংকট, বন্দরের কম সক্ষমতা, অর্থায়নের উচ্চ ব্যয়, উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি এবং তথ্যভিত্তিক প্রস্তুতির ঘাটতি আমাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। এসব সমস্যা দ্রুত সমাধান না হলে শুধু বড় উৎপাদন সক্ষমতা দিয়ে ভবিষ্যতের বাজার ধরে রাখা কঠিন হবে।

[caption id="attachment_273438" align="alignnone" width="852"] নিজের কারখানায় লেখক শেখ এইচ এম মোস্তাফিজ[/caption]

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা আগামী দিনে পোশাক খাতে পরিকল্পনা, নকশা, উৎপাদন পর্যবেক্ষণ, মজুত ব্যবস্থাপনা, ভার্চ্যুয়াল নমুনা এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণে বড় ভূমিকা রাখবে। তবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এখনই সেলাই, কাপড়, ডাইং, শ্রমিক দক্ষতা বা প্রমাণপত্র ব্যবস্থাপনার বিকল্প নয়। বরং এর ফলে ক্রেতারা সরবরাহকারীদের কাছ থেকে আরও দ্রুত সাড়া, ছোট ক্রয়াদেশ ব্যবস্থাপনা, সঠিক উৎপাদন তথ্য এবং পরিষ্কার ডিজিটাল প্রতিবেদন চাইবে।

যেসব কারখানা উৎপাদনের তথ্য, পরিবেশগত তথ্য, শ্রমিক কল্যাণের তথ্য এবং কাঁচামালের অনুসরণযোগ্যতা দ্রুত ও নির্ভুলভাবে দিতে পারবে, তারাই আগামী দিনে বেশি প্রতিযোগিতামূলক হবে।

বাংলাদেশের করণীয়
বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতের জন্য এখন সবচেয়ে জরুরি হচ্ছে, কম দামের প্রতিযোগিতা থেকে বের হয়ে নির্ভরযোগ্য, তথ্যভিত্তিক ও দায়িত্বশীল সরবরাহব্যবস্থার দিকে যাওয়া। আমাদের বলতে হবে, বাংলাদেশ শুধু কম দামে পোশাক বানায় না; বাংলাদেশ নিরাপদ, সবুজ, অনুসরণযোগ্য, তথ্যসমৃদ্ধ এবং দায়িত্বশীল পোশাক উৎপাদন করতে পারে।

কারখানাগুলোকে এখন থেকেই কাঁচামালের উৎস অনুসরণ, রাসায়নিক ব্যবস্থাপনা, জ্বালানি দক্ষতা, নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ ব্যবহার, শ্রমিক কল্যাণের প্রমাণ, অভিযোগ নিষ্পত্তিব্যবস্থা, উৎপাদন তথ্য সংরক্ষণ ও পরিবেশগত তথ্য ব্যবস্থাপনায় বিনিয়োগ করতে হবে। একই সঙ্গে বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ সদস্য কারখানাগুলোর জন্য পরিবেশ, সামাজিক ও সুশাসনভিত্তিক তথ্যভান্ডার, মানবাধিকারভিত্তিক যথাযথ যাচাই সহায়তা, পণ্যের ডিজিটাল পাসপোর্ট প্রস্তুতি, সবুজ অর্থায়ন এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি কারখানার সক্ষমতা বৃদ্ধির উদ্যোগ আরও জোরদার করতে হবে।

ভবিষ্যতের প্রতিযোগিতা

আগামী পাঁচ বছর তৈরি পোশাক খাতের জন্য সহজ হবে না। তবে বাংলাদেশ সঠিক প্রস্তুতি নিতে পারলে এটি বড় সুযোগের সময়ও হতে পারে। যাঁরা শুধু কম দামের ক্রয়াদেশ পাওয়ার অপেক্ষায় থাকবেন, তাঁরা চাপের মুখে পড়বেন। আর যাঁরা তথ্য, প্রমাণ, অনুসরণযোগ্যতা, জ্বালানি দক্ষতা, স্থানীয় মূল্য সংযোজন, দ্রুত যোগাযোগ ও দায়িত্বশীল ব্যবসা পরিচালনার সক্ষমতা তৈরি করবেন, তাঁরা ভবিষ্যতের বৈশ্বিক পোশাকবাজারে শক্ত অবস্থান নিতে পারবেন।

সুতরাং আগামী দিনের প্রতিযোগিতা শুধু কত কম দামে পণ্য তৈরি করা যায়—এর ওপর হবে না। প্রতিযোগিতা হবে কতটা নির্ভরযোগ্য, প্রমাণযোগ্য, টেকসই এবং ঝুঁকিমুক্ত সরবরাহ দেওয়া যায়—তার ওপর। বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পকে এখনই সেই ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত হতে হবে।

লেখক: শেখ হোসেন মোহাম্মদ মোস্তাফিজ, পরিচালক, বিজিএমইএ ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক, কিউট ড্রেস ইন্ডাস্ট্রি লিমিটেড

দীর্ঘ চাপ ও অনিশ্চয়তা পেরিয়ে আবারও শক্ত অবস্থানে পৌঁছাতে শুরু করেছে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ। বাংলাদেশ ব্যাংকের সবশেষ তথ্য বলছে, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) হিসাব পদ্ধতি বিপিএম-৬ অনুযায়ী দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ এখন প্রায় ৩১ বিলিয়ন ডলার।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার (৭ মে) পর্যন্ত দেশের মোট বা গ্রস রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩৫ দশমিক ৬২ বিলিয়ন ডলার। আর আইএমএফের নির্ধারিত বিপিএম-৬ পদ্ধতিতে প্রকৃত ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩০ দশমিক ৯৬ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ দেশের রিজার্ভ এখন ৩১ বিলিয়ন ডলারের খুব কাছাকাছি অবস্থান করছে।

অর্থনীতিবিদ ও ব্যাংকাররা বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধি, রফতানি আয় স্থিতিশীল থাকা এবং আমদানি ব্যয়ে কিছুটা নিয়ন্ত্রণ আসার কারণে রিজার্ভ পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। এর ফলে বৈদেশিক লেনদেনের ওপর চাপ কমছে এবং ডলারের বাজারেও ধীরে ধীরে স্থিতিশীলতা ফিরে আসছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, বর্তমানে রিজার্ভ বৃদ্ধির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করছে প্রবাসী আয়। ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স পাঠানোর প্রবণতা বাড়ায় বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহও বেড়েছে। একইসঙ্গে রপ্তানি আয়ও ইতিবাচক ধারায় রয়েছে; বিশেষ করে তৈরি পোশাক খাতের রফতানি প্রবৃদ্ধি, প্রবাসী বাংলাদেশিদের পাঠানো অর্থ এবং বৈদেশিক ঋণ ও উন্নয়ন সহযোগিতার অর্থ ছাড় পাওয়ার কারণে রিজার্ভে ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

অন্যদিকে, অপ্রয়োজনীয় ও বিলাসপণ্যের আমদানি কমে যাওয়ায় ডলারের ওপর চাপও আগের তুলনায় কিছুটা কমেছে। ফলে, বাজারে অতিরিক্ত ডলার বিক্রি করতে হচ্ছে না কেন্দ্রীয় ব্যাংককে।

বিশ্লেষকদের মতে, রিজার্ভ বাড়ার অর্থ হলো দেশের আমদানি ব্যয় মেটানোর সক্ষমতা শক্তিশালী হওয়া। বর্তমানে যে পরিমাণ রিজার্ভ রয়েছে, তা দিয়ে কয়েক মাসের আমদানি ব্যয় নির্বাহ করা সম্ভব হবে।

রিজার্ভ শক্তিশালী থাকলে আন্তর্জাতিক ঋণদাতা সংস্থা ও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কাছেও ইতিবাচক বার্তা যায়। এতে বৈদেশিক লেনদেনে আস্থা বাড়ে এবং দেশের ক্রেডিট সক্ষমতাও উন্নত হয়।

এছাড়া, রিজার্ভ পরিস্থিতির উন্নতির ফলে ডলারের বাজারেও অস্থিরতা কমতে পারে, যা মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সহায়ক ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা। কারণ ডলারের দাম বেড়ে গেলে আমদানিনির্ভর পণ্যের দামও বাড়ে। এখন রিজার্ভ বাড়ার কারণে সেই চাপ কিছুটা কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০২১ সালে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের বেশি ছিল দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ। তবে, বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, উচ্চ আমদানি ব্যয় এবং ডলারের অস্বাভাবিক চাহিদার কারণে পরবর্তী সময়ে রিজার্ভ দ্রুত কমতে থাকে।

পরিস্থিতি সামাল দিতে বিভিন্ন সময়ে ডলার বিক্রি করে বাজার স্থিতিশীল রাখার চেষ্টা করে বাংলাদেশ ব্যাংক। একইসঙ্গে আমদানি নিয়ন্ত্রণ, বৈধ পথে রেমিট্যান্স বাড়ানো এবং বৈদেশিক ঋণ সহায়তা নিশ্চিত করার নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়।

সাম্প্রতিক সময়ে সেই পদক্ষেপগুলোর ইতিবাচক প্রভাব দৃশ্যমান হতে শুরু করেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

গ্রস ও বিপিএম-৬ রিজার্ভের পার্থক্য

বাংলাদেশ ব্যাংক সাধারণত দুটি ধরনের রিজার্ভ হিসাব প্রকাশ করে।

গ্রস রিজার্ভ হলো কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মোট বৈদেশিক মুদ্রা ও সম্পদের হিসাব। এতে বিভিন্ন তহবিল ও স্বল্পমেয়াদি দায়ও অন্তর্ভুক্ত থাকে।

অন্যদিকে, বিপিএম-৬ রিজার্ভ হচ্ছে আইএমএফের আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী প্রকৃত ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভ। এতে এমন অর্থ বাদ দেওয়া হয়, যা তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবহার করা সম্ভব নয়।

বর্তমানে আন্তর্জাতিকভাবে বিপিএম-৬ হিসাবকেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়। সেই হিসাবে বাংলাদেশের রিজার্ভ ৩১ বিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি পৌঁছানোকে অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

 

ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) ফ্যামিলি কার্ডধারী নিম্ন আয়ের পরিবারের মধ্যে ভর্তুকি মূল্যে বিক্রির জন্য ইন্দোনেশিয়া থেকে ২ কোটি লিটার পরিশোধিত সয়াবিন তেল আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এতে খরচ ধরা হয়েছে ২৮২ কোটি টাকার বেশি।

বৃহস্পতিবার (৭ মে) অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এই তেল কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

উন্মুক্ত দরপত্র (আন্তর্জাতিক) পদ্ধতিতে এ তেল কেনা হচ্ছে। এ ক্রয় কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন টিসিবি।

জানা গেছে, দরপত্র প্রক্রিয়ায় মোট দুটি দরপ্রস্তাব জমা পড়ে। এর মধ্যে একটি প্রস্তাব কারিগরি ও আর্থিকভাবে রেসপনসিভ (গ্রহণযোগ্য) হিসেবে বিবেচিত হয়। প্রক্রিয়া শেষে টেন্ডার ইভ্যালুয়েশন কমিটির (টিইসি) সুপারিশ অনুযায়ী একমাত্র রেসপনসিভ দরদাতা প্রতিষ্ঠান হিসেবে ইন্দোনেশিয়াভিত্তিক প্রতিষ্ঠান পিটি ট্রিনিটি ছায়া এনার্জিকে নির্বাচিত করা হয়েছে।

প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটি প্রতি লিটার ১.১৫১ মার্কিন ডলারে সয়াবিন তেল সরবরাহ করবে। মোট ২ কোটি লিটার তেলের জন্য ব্যয় দাঁড়াবে ২ কোটি ৩০ লাখ ২০ হাজার মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ২৮২ কোটি ৫৭ লাখ ৫ হাজার টাকা।

টিসিবির হিসাব অনুযায়ী, সিএফআরসহ গুদাম পর্যন্ত পরিবহন ও অন্যান্য ব্যয় যুক্ত করে প্রতি লিটার সয়াবিন তেলের খরচ পড়ছে ১৭৮ টাকা ৫৬ পয়সা। যা স্থানীয় বাজারের গড় মূল্য ১৯৫ টাকার তুলনায় লিটারে প্রায় ১৬ টাকা ৪৪ পয়সা কম।

চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে মোট ২৩ কোটি লিটার ভোজ্যতেল ক্রয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ইতোমধ্যে ১২ কোটি ১৬ লাখ ৭৯ হাজার ৩৪ লিটার তেল ক্রয় সম্পন্ন হয়েছে।

 

চলতি মাসের প্রথম ৬ দিনেই দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ৭৫ কোটি ২০ লাখ মার্কিন ডলার। এই হিসাবে প্রতিদিন গড়ে দেশে এসেছে ১২ কোটি ৫৩ লাখ ডলার রেমিট্যান্স।

বৃহস্পতিবার (৭ মে) বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, চলতি মে মাসের প্রথম ৬ দিনে দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ৭৫ কোটি ২০ লাখ ডলার। আর গত বছরের একই সময়ে এসেছিল ৬২ কোটি ৫০ লাখ ডলার। অর্থাৎ বছর ব্যবধানে রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়েছে।

চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে ৬ মে পর্যন্ত দেশে এসেছে ৩ হাজার ৮ কোটি ৫০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স। বছর ব্যবধানে যা বেড়েছে ১৯ দশমিক ৬০ শতাংশ।

এর আগে গত এপ্রিলে দেশে এসেছে ৩১২ কোটি ৭৩ লাখ মার্কিন ডলার। আর গত মার্চে দেশে এসেছিল ৩৭৫ কোটি ৫০ লাখ ৫০ হাজার মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স। যা দেশের ইতিহাসে যে কোনো এক মাসের সর্বোচ্চ।

গত ফেব্রুয়ারি ও জানুয়ারি মাসে যথাক্রমে দেশে এসেছে ৩০২ কোটি ৭ লাখ ৬০ হাজার ও ৩১৭ কোটি ৯ লাখ ৪০ হাজার মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স। গত ডিসেম্বরে দেশে রেমিট্যান্স এসেছিল ৩২২ কোটি ৬৭ লাখ ডলার; নভেম্বরে এসেছিল ২৮৮ কোটি ৯৫ লাখ ২০ হাজার ডলার রেমিট্যান্স।

এছাড়া গত অক্টোবর ও সেপ্টেম্বরে দেশে এসেছিল যথাক্রমে ২৫৬ কোটি ৩৪ লাখ ৮০ হাজার ও ২৬৮ কোটি ৫৮ লাখ ৮০ হাজার মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স। আর গত আগস্ট ও জুলাইয়ে যথাক্রমে দেশে এসেছিল ২৪২ কোটি ১৮ লাখ ৯০ হাজার ও ২৪৭ কোটি ৮০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স।

এদিকে, গত ২০২৪-২৫ অর্থবছর জুড়ে দেশে প্রবাসীরা পাঠিয়েছেন ৩০ দশমিক ৩২ বিলিয়ন বা ৩ হাজার ৩২ কোটি ৮০ লাখ মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স, যা দেশের ইতিহাসে কোনো নির্দিষ্ট অর্থবছরে সর্বোচ্চ প্রবাসী আয়ের রেকর্ড।

 

মে মাসের প্রথম ৩ দিনেই দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ৩১ কোটি ৫০ লাখ মার্কিন ডলার। এই হিসেবে প্রতিদিন গড়ে দেশে এসেছে ১০ কোটি ৫০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স।

সোমবার (৪ মে) বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান তথ্য জানান।

তিনি বলেন, চলতি মে মাসের প্রথম ৩ দিনে দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ৩১ কোটি ৫০ লাখ ডলার। আর গত বছরের একই সময়ে এসেছিল ৮ কোটি ৮০ লাখ ডলার। অর্থাৎ বছর ব্যবধানে রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়েছে।

চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে ৩ মে পর্যন্ত দেশে এসেছে ২ হাজার ৯৬৪ কোটি ৮০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স। বছর ব্যবধানে যা বেড়েছে ২০ দশমিক ৪০ শতাংশ।

এর আগে গত এপ্রিলে দেশে এসেছে ৩১২ কোটি ৭৩ লাখ মার্কিন ডলার। আর গত মার্চে দেশে এসেছিল ৩৭৫ কোটি ৫০ লাখ ৫০ হাজার মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স। যা দেশের ইতিহাসে যে কোনো এক মাসের সর্বোচ্চ।

গত ফেব্রুয়ারি ও জানুয়ারি মাসে যথাক্রমে দেশে এসেছে ৩০২ কোটি ৭ লাখ ৬০ হাজার ও ৩১৭ কোটি ৯ লাখ ৪০ হাজার মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স।

 

মে মাসের জন্য জ্বালানি তেলের দাম অপরিবর্তিত রেখেছে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়। বর্তমান দর অপরিবর্তিত রেখেই মে মাসে ডিজেল, পেট্রোল, অকটেন ও কেরোসিন বিক্রি হবে। 

বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব মো. এনামুল হক স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।

এতে বলা হয়, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের গত ১৮ এপ্রিলের ভোক্তা পর্যায়ে ডিজেলের বিক্রয়মূল্য লিটার প্রতি ১১৫ টাকা, অকটেন ১৪০ টাকা, পেট্রোল ১৩৫ টাকা এবং কেরোসিন ১৩০ টাকা নির্ধারণ করা হয়। যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমে উক্ত মূল্যহার মে মাসের জন্য অপরিবর্তিত রাখা হলো অর্থাৎ, সর্বশেষ নির্ধারিত মূল্যহার আগামী ১ মে থেকেও বলবৎ থাকবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আন্তর্জাতিক বাজার পরিস্থিতি ও সরবরাহ বিবেচনায় নিয়ে ওই মূল্য নির্ধারণ করা হয় এবং তা মে মাসেও অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে জ্বালানি বিভাগের একাধিক কর্মকর্তা জানান, বৈশ্বিক বাজারে দামের ওঠানামা এবং আমদানি ব্যয় বিবেচনায় নিয়েই প্রতি মাসে মূল্য পর্যালোচনা করা হচ্ছে। পরিস্থিতি অনুযায়ী ভবিষ্যতে মূল্য সমন্বয় করা হতে পারে।

 

চলতি মাসের প্রথম ২৯ দিনেই দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ৩০০ কোটি ২০ লাখ বা ৩ দশমিক ০০২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এই হিসাবে প্রতিদিন গড়ে দেশে এসেছে ১০ কোটি ৩৫ লাখ ডলার রেমিট্যান্স। আর গত বছরের একই সময়ে এসেছিল ২৬০ কোটি ৮০ লাখ ডলার। অর্থাৎ বছর ব্যবধানে রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়েছে।

বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এসব তথ্য জানিয়েছেন।

চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে ২৯ এপ্রিল পর্যন্ত দেশে এসেছে ২ হাজার ৯২১ কোটি ডলার রেমিট্যান্স। বছর ব্যবধানে যা বেড়েছে ১৯ দশমিক ৮০ শতাংশ।

এর আগে গত মার্চে দেশে এসেছে ৩৭৫ কোটি ৫০ লাখ ৫০ হাজার মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স। যা দেশের ইতিহাসে যে কোনো এক মাসের সর্বোচ্চ।

গত ফেব্রুয়ারি ও জানুয়ারি মাসে যথাক্রমে দেশে এসেছে ৩০২ কোটি ৭ লাখ ৬০ হাজার ও ৩১৭ কোটি ৯ লাখ ৪০ হাজার মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স। গত ডিসেম্বরে দেশে রেমিট্যান্স এসেছিল ৩২২ কোটি ৬৭ লাখ ডলার; নভেম্বরে এসেছিল ২৮৮ কোটি ৯৫ লাখ ২০ হাজার ডলার রেমিট্যান্স।

এছাড়া গত অক্টোবর ও সেপ্টেম্বরে দেশে এসেছিল যথাক্রমে ২৫৬ কোটি ৩৪ লাখ ৮০ হাজার ও ২৬৮ কোটি ৫৮ লাখ ৮০ হাজার মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স। আর গত আগস্ট ও জুলাইয়ে যথাক্রমে দেশে এসেছিল ২৪২ কোটি ১৮ লাখ ৯০ হাজার ও ২৪৭ কোটি ৮০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স।

এদিকে, গত ২০২৪-২৫ অর্থবছর জুড়ে দেশে প্রবাসীরা পাঠিয়েছেন ৩০ দশমিক ৩২ বিলিয়ন বা ৩ হাজার ৩২ কোটি ৮০ লাখ মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স, যা দেশের ইতিহাসে কোনো নির্দিষ্ট অর্থবছরে সর্বোচ্চ প্রবাসী আয়ের রেকর্ড।

সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নবম পে স্কেল ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের সুপারিশ করেছে তিন বেতন কমিশনের প্রতিবেদন সুপারিশ প্রণয়নে পুনর্গঠিত হওয়া কমিটি। আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থ বছরের বাজেটে এর জন্য বিশেষ বরাদ্দ রাখার নীতিগত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। একইসঙ্গে প্রথম ধাপেই মূল বেতন বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানা গেছে।

এর আগে গত ২১ এপ্রিল জাতীয় বেতন কমিশন, জুডিশিয়াল সার্ভিস পে কমিশন এবং সশস্ত্র বাহিনী বেতন কমিশন সংক্রান্ত সুপারিশ প্রণয়ন কমিটি পুনর্গঠন করে সরকার।

এদিকে কমিটি সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন কাঠামো পুনর্বিন্যাসের জন্য সুপারিশ জমা দিয়েছে বলে অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে।

জানা গেছে, এই সুপারিশের ভিত্তিতে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে বিশেষ বরাদ্দ রাখার বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। আর্থিক চাপ বিবেচনায় রেখে নবম পে স্কেল একাধিক ধাপে বাস্তবায়নের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। তবে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকে অনুমোদন এলে ধাপে ধাপে এটি বাস্তবায়ন করা হবে।

প্রথম ধাপে মূল বেতন বৃদ্ধির পরিকল্পনা রয়েছে উল্লেখ করে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অর্থ মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ এক কর্মকর্তা জানান, এরপর পর্যায়ক্রমে চিকিৎসা ভাতাসহ অন্যান্য ভাতা বাড়ানো হতে পারে। তবে সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকেই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে হবে।

সর্বশেষ অষ্টম পে স্কেল ঘোষণা করা হয়েছিল ২০১৫ সালে। এরপর দীর্ঘ ১১ বছর অতিবাহিত হলেও নবম পে স্কেল বাস্তবায়ন হয়নি।

পরে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর নতুন করে পে-কমিশন গঠন করে অন্তর্বর্তী সরকার এবং ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে সুপারিশ জমা দেয় তারা।

সেই সুপারিশ অনুযায়ী, নতুন বেতন কাঠামোয় সর্বনিম্ন বেতন নির্ধারণ করা হয়েছে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ বেতন ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা, যেখানে অনুপাত হবে ১:৮।

১৯৭৩ সালের প্রথম বেতন কমিশনে এই অনুপাত ছিল ১:১৫.৪, আর ২০১৫ সালের অষ্টম পে স্কেলে তা কমে দাঁড়ায় ১:৯.৪। প্রস্তাবিত নতুন কাঠামোয় এই অনুপাত আরও কমিয়ে সর্বনিম্ন পর্যায়ে আনা হয়েছে।

প্রস্তাবে আরও বলা হয়, বর্তমানে ঢাকা সিটি কর্পোরেশন এলাকায় কর্মরত ২০তম গ্রেডের একজন কর্মচারীর মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা, যা ভাতাসহ মোট দাঁড়ায় প্রায় ১৬ হাজার ৯৫০ টাকা। নতুন স্কেলে একই গ্রেডে মূল বেতন ২০ হাজার টাকায় উন্নীত হলে ভাতাসহ মোট আয় বেড়ে প্রায় ৪১ হাজার ৯০৮ টাকায় পৌঁছাতে পারে।

১৯তম থেকে ১ম গ্রেড পর্যন্ত সব স্তরেই ভাতা বাড়ানোর প্রস্তাব রয়েছে, তবে ভারসাম্য বজায় রাখতে এই বৃদ্ধি তুলনামূলকভাবে সীমিত রাখা হতে পারে। যাতায়াত ভাতা, টিফিন ভাতা, ধোলাই ভাতা ও ঝুঁকি ভাতার মতো সুবিধাগুলো নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীরাও পেয়ে থাকেন এবং এসব ক্ষেত্রেও সংশোধনের প্রস্তাব রয়েছে।

তবে গাড়ি সুবিধা নগদায়নের ভাতা (৫ম গ্রেড ও তদূর্ধ্ব) এই হিসাবের মধ্যে ধরা হয়নি। ফলে ১ম থেকে ৯ম গ্রেড পর্যন্ত ভাতা বৃদ্ধির হার তুলনামূলক কম দেখা যেতে পারে।

এছাড়া বর্তমানে চালু থাকা ১০ শতাংশ ও ১৫ শতাংশ বিশেষ ভাতা নতুন বেতন কাঠামোর সঙ্গে সমন্বয়ের সুপারিশ করা হয়েছে।

 

ডিজেল

  • মে মাসের চাহিদা ৩ লাখ ৭০ হাজার টন।

  • দেশে আছে ২ লাখ ৮৯ হাজার টন।

  • মে মাসে আসবে ৩ লাখ ২৯ হাজার টন।

অকটেন

  • মে মাসের চাহিদা ৩৭ হাজার টন।

  • মজুত আছে ৪২ হাজার ৯৩৩ টন।

  • স্থানীয় উৎস থেকে আসবে ২৪ হাজার টন।

  • আমদানি করা হবে ২৬ হাজার টন।

ঢাকা

ঢাকা ব্যাংকের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি) হিসেবে মোকাররম হোসেন চৌধুরীকে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। ঢাকা ব্যাংকের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়েছে।

মোকাররম হোসেন চৌধুরী এর আগে ঢাকা ব্যাংকের সিনিয়র এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট ও সিআরএম বিভাগের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁর রয়েছে ৩৪ বছরের বেশি ব্যাংকিং অভিজ্ঞতা।

মোকাররম হোসেন চৌধুরী ১৯৯২ সালে আরব বাংলাদেশ ব্যাংকে কর্মজীবন শুরু করেন। পরবর্তী সময় দেশি–বিদেশি বিভিন্ন ব্যাংকে কাজ করে ট্রেড ফাইন্যান্স, ক্রেডিট অপারেশনস ও শাখা ব্যবস্থাপনায় দক্ষতা অর্জন করেন।

২০০১ সালের ২৫ মার্চ মোকাররম হোসেন ঢাকা ব্যাংকে যোগ দেন। এর পর থেকে তিনি একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নেতৃস্থানীয় পদে দায়িত্ব পালন করেছেন, যার মধ্যে রয়েছে ট্রেড ফাইন্যান্সপ্রধান, আরএমজি ডিভিশনপ্রধান, ক্রেডিটপ্রধান ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ শাখার প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন।

মোকাররম হোসেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ব্যবস্থাপনায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন এবং পরবর্তী সময় ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটি থেকে ফাইন্যান্সে এমবিএ সম্পন্ন করেন।

বোতলজাত ও খোলা সয়াবিন তেলের দাম লিটারে চার টাকা বেড়েছে। আজ বুধবার সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত ভোজ্যতেলের মূল্য পর্যালোচনাসংক্রান্ত এক বৈঠক শেষে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির এ মূল্যবৃদ্ধির ঘোষণা দেন। পরে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাণিজ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, বোতলজাত সয়াবিন তেলের প্রতি লিটারের দাম ১৯৫ টাকা থেকে ৪ টাকা বাড়িয়ে ১৯৯ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ ছাড়া প্রতি লিটার খোলা সয়াবিন তেলের দাম ১৭৬ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৮০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

সয়াবিন তেলের দাম বাড়ানো হলেও পাম তেলের দাম বাড়ানো হয়নি। ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) গতকাল মঙ্গলবারের তথ্য অনুযায়ী, বাজারে ১ লিটার খোলা পাম তেল ১৬১ থেকে ১৬৮ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর প্রতি লিটার খোলা সুপার পাম তেল ১৬৫ থেকে ১৭২ টাকায় বেচাকেনা হচ্ছে।

ভোজ্যতেলের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে ভোজ্যতেল পরিশোধন কারখানামালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স অ্যান্ড বনস্পতি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের সঙ্গে এ বিষয়ে ১২ এপ্রিল বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বৈঠক হয়েছিল। সেদিন বাণিজ্যমন্ত্রী বলেছিলেন, ‘ভোজ্যতেল সংবেদনশীল পণ্য। আমরা ব্যবসায়ীদের সমস্যাগুলো শুনেছি। এগুলো নিয়ে সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে আলোচনা করে খুব দ্রুত একটি বাস্তবসম্মত ও গ্রহণযোগ্য সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হবে, যাতে সরবরাহব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখা যায়।’

আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবৃদ্ধির কথা বলে দেশীয় পরিশোধন কারখানামালিকেরা বেশ কিছুদিন ধরে ভোজ্যতেলের মূল্যবৃদ্ধির দাবি জানিয়ে আসছিলেন। এরপর বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশন (বিটিটিসি) এ প্রস্তাব যাচাই-বাছাই করে। বিটিটিসি কিছুটা দরবৃদ্ধির পক্ষে যৌক্তিকতা আছে বলে মত দেয়।

তবে ভোক্তাদের অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠন কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) ৮ এপ্রিল ‘ভোজ্যতেলের বাজারে কারসাজি ও মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে’ মানববন্ধন করে। ক্যাবের নেতারা তখন বলেন, দেশের বাজারে প্রায় দুই মাস ধরে বোতলজাত সয়াবিন তেলের সরবরাহসংকট চলছে। বোতলের গায়ে লেখা দামের (এমআরপি) চেয়েও বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে কোথাও কোথাও। বোতলজাত সয়াবিনের সংকটের মধ্যে বেড়েছে খোলা সয়াবিন তেলের দামও।

মানববন্ধন থেকে ছয়টি দাবি তুলে ধরে ক্যাব। এগুলো হচ্ছে সরকার নির্ধারিত দামে ভোজ্যতেল বিক্রি অবিলম্বে নিশ্চিত করা, সয়াবিন তেলের বাজারে সক্রিয় সিন্ডিকেট চক্র চিহ্নিত করে অপরাধীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা, বাজারে নিয়মিত ও কার্যকর তদারকি এবং অভিযান পরিচালনা করা, কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি ও মজুতদারির বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া, নন-ফুড গ্রেড ড্রামে তেল সংরক্ষণ ও বিক্রি তাৎক্ষণিকভাবে বন্ধ করা এবং ভোজ্যতেলের জন্য ফুড-গ্রেড পাত্র ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা।

টিসিবির তথ্য অনুযায়ী গতকাল ১ লিটার খোলা সয়াবিন তেলের দাম ছিল ১৮২ থেকে ১৯৩ টাকা। আর ১ লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম ১৯৫ টাকা। এ ছাড়া ৫ লিটার বোতলজাত সয়াবিনের দাম ৯৫০ থেকে ৯৫৫ টাকা। বাজারে যে দামে খোলা সয়াবিন তেল বেচাকেনা হচ্ছে, আজ বাণিজ্যমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী তার দাম কম।

বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স অ্যান্ড বনস্পতি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন বিকেলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, নতুন দাম আজ থেকেই কার্যকর করা হয়েছে।