উন্নয়ন সহযোগী সংস্থাগুলোর কাছ থেকে মোট ১ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলারের পাঁচটি ঋণ প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে সরকার। এর মধ্যে ১ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলারই ‘নন-কনসেশনাল’ (অনমনীয়); অর্থাৎ কঠিন শর্তের ঋণ।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, এই অর্থের মধ্যে ১ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার রাখা হবে বাজেট সহায়তা হিসেবে, যা জরুরি আর্থিক চাপ মোকাবেলায় ব্যবহার করা হবে।

মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) রাজধানীর শেরে বাংলা নগরে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত নন-কনসেশনাল ঋণসংক্রান্ত স্থায়ী কমিটির সভায় তুলনামূলক কঠিন শর্তের এসব ঋণের অনুমোদন দেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

সভায় উপস্থিত সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, বাজেট সহায়তা প্যাকেজের মধ্যে রয়েছে—এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) থেকে ৪৫০ মিলিয়ন ডলার, জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (জাইকা) থেকে ৫০০ মিলিয়ন ডলার, এশিয়ান ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক (এআইআইবি) থেকে ২৫০ মিলিয়ন ডলার এবং ওপেক ফান্ড ফর ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট (ওএফআইডি) থেকে ১০০ মিলিয়ন ডলার।

ইআরডি কর্মকর্তারা বলছেন, এসব ঋণে সুদের হার বেশি, গ্রেস পিরিয়ড কম এবং পরিশোধের সময়সীমা তুলনামূলক দ্রুত—যা কনসেশনাল ঋণের চেয়ে কঠিন।

জানা গেছে, ‘স্ট্রেংদেনিং ইকোনমিক ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড গভর্ন্যান্স, সাবপ্রোগ্রাম-২’ শীর্ষক কর্মসূচির আওতায় বাংলাদেশকে মোট ৭৫০ মিলিয়ন ডলার দেবে এডিবি। এর মধ্যে ৩০০ মিলিয়ন ডলার কনসেশনাল ঋণ। আর বাকি ৪৫০ মিলিয়ন ডলার তাদের অর্ডিনারি ক্যাপিটাল রিসোর্সেস (ওসিআর) থেকে দেওয়া হবে, যা অত্যন্ত অনমনীয় হিসেবে বিবেচিত। 

সেইসঙ্গে এডিবির সঙ্গে সহ-অর্থায়নকারী হিসেবে ২৫০ মিলিয়ন ডলার দেবে এআইআইবি। এটিকে অত্যন্ত কঠিন ঋণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

এছাড়া, তাৎক্ষণিক রাজস্ব চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় জাইকার কাছ থেকে আরও ৫০০ মিলিয়ন ডলার ঋণ নিচ্ছে সরকার। কর্মকর্তারা জানান, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)-এর সুপারিশ অনুযায়ী সামাজিক সুরক্ষা খাতে ব্যয় বৃদ্ধি, রাজস্ব ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী করা এবং সামষ্টিক অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা আনার লক্ষ্যে ব্যবহার করা হবে এই অর্থ।

সেইসঙ্গে ওপেক ফান্ড ফর ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট থেকে ১০০ মিলিয়ন ডলার (প্রায় ৮৫.৩ মিলিয়ন ইউরো) ঋণ নিচ্ছে সরকার। 

বাজেট সহায়তার বাইরে সাসেক ঢাকা-সিলেট করিডোর সড়ক বিনিয়োগ (ট্রাঞ্চ-২) প্রকল্পের জন্য এডিবির ৩০০ মিলিয়ন ডলারের পৃথক ঋণও অনুমোদন দেওয়া হয়েছে মঙ্গলবার। এই প্রকল্পের আওতায় ঢাকা (কাঁচপুর) থেকে সিলেট পর্যন্ত প্রায় ২১০ কিলোমিটার মহাসড়ক চার লেনে উন্নীত করা হবে। সেখানে ধীরগতির যানবাহনের জন্য আলাদা সার্ভিস লেনও থাকবে। এর লক্ষ্য হলো ঢাকা-সিলেট রুটকে এশিয়ান হাইওয়ে, সাসেক এবং বিমসটেক করিডোরসহ আঞ্চলিক পরিবহন নেটওয়ার্কের সঙ্গে আরও কার্যকরভাবে যুক্ত করা।

অবশ্য ব্যয়বহুল বৈদেশিক ঋণ ব্যবস্থাপনা উন্নত করতে বেশ কয়েকটি নীতিগত সিদ্ধান্তও গ্রহণ করা হয়েছে। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, যেখানে কনসেশনাল ঋণ পাওয়া সম্ভব নয় বা বাস্তবসম্মত নয়, সেখানেই অনমনীয় ঋণ অনুমোদন করা হবে। সরকার বা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গ্যারান্টি পাওয়া ঋণগ্রহীতাদের নিজস্ব আয়ের মাধ্যমে ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা দেখাতে হবে।

এছাড়া, অতিরিক্ত শর্তযুক্ত বা বাধ্যতামূলক ডাউন পেমেন্টযুক্ত ঋণ নিরুৎসাহিত করা হবে। সভায় আরও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, অনমনীয় বৈদেশিক ঋণের বার্ষিক ঋণ পরিশোধ ব্যয় রপ্তানি আয়ের ১০ শতাংশ বা সরকারি রাজস্বের ১৫ শতাংশ—এই দুইয়ের মধ্যে যেটি কম, তার নিচে রাখতে হবে। একইসঙ্গে মোট অনমনীয় বৈদেশিক ঋণের পরিমাণ জিডিপির ১০ শতাংশের নিচে রাখতে হবে।

 

  • দেশের ৭৪টি মেডিকেল কলেজ, জেলা, বিশেষায়িত ও জেনারেল হাসপাতালে আইসিইউ শয্যা রয়েছে মোট ১ হাজার ৩৭২টি।
  • শিশুদের পিআইসিইউ শয্যার হিসাব স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে পাওয়া যায়নি।

ঢাকা

ঢাকা

চলতি মাসের প্রথম ২২ দিনেই দেশে রেকর্ড পরিমাণ রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। এপ্রিল মাসের শুরু থেকে এই সময়ের মধ্যে মোট ২৪১ কোটি ৭০ লাখ মার্কিন ডলার সমমূল্যের বৈদেশিক মুদ্রা দেশে এসেছে। 

বৃহস্পতিবার(২৩ এপ্রিল) কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এই তথ্য জানিয়েছেন।

প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, চলতি মাসের প্রথম ২২ দিনে প্রতিদিন গড়ে ১০ কোটি ১৯ লাখ মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। গত বছরের একই সময়ের সঙ্গে তুলনা করলে দেখা যায়, প্রবাসী আয়ের প্রবাহে বড় ধরনের উল্লম্ফন ঘটেছে। গত বছর একই সময়ে দেশে এসেছিল ২০৫ কোটি ৩০ লাখ ডলার। 

চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই থেকে ২২ এপ্রিল পর্যন্ত দেশে মোট ২ হাজার ৮৬২ কোটি ৬০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। এই হিসাব অনুযায়ী গত বছরের একই সময়ের তুলনায় রেমিট্যান্স প্রবাহ ২০ দশমিক ১০ শতাংশ বেড়েছে। এই ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি দেশের বৈদেশিক মুদ্রার সংকট কাটিয়ে উঠতে বড় ধরনের ভূমিকা রাখছে। 

এর আগে গত মার্চ মাসে দেশে ৩৭৫ কোটি ৫০ লাখ ৫০ হাজার ডলারের রেকর্ড পরিমাণ রেমিট্যান্স এসেছিল, যা দেশের ইতিহাসে একক মাসে সর্বোচ্চ।

প্রবাসী আয়ের এই প্রবাহ কেবল মার্চ মাসেই সীমাবদ্ধ ছিল না বরং পুরো অর্থবছরজুড়েই একটি স্থিতিশীল অবস্থান লক্ষ্য করা গেছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে ৩০২ কোটি ৭ লাখ ৬০ হাজার ডলার এবং জানুয়ারি মাসে ৩১৭ কোটি ৯ লাখ ৪০ হাজার ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। আগের মাসগুলোর পরিসংখ্যান পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, ডিসেম্বরে এসেছিল ৩২২ কোটি ৬৭ লাখ ডলার এবং নভেম্বরে ২৮৮ কোটি ৯৫ লাখ ২০ হাজার ডলার। এছাড়া অক্টোবর ও সেপ্টেম্বরে যথাক্রমে ২৫৬ কোটি ৩৪ লাখ ৮০ হাজার ও ২৬৮ কোটি ৫৮ লাখ ৮০ হাজার ডলার আয় এসেছে। আগস্ট ও জুলাই মাসেও যথাক্রমে ২৪২ কোটি ১৮ লাখ ৯০ হাজার ও ২৪৭ কোটি ৮০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স এসেছে।

উল্লেখ্য, গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরজুড়ে দেশে প্রবাসীরা সর্বমোট ৩০ দশমিক ৩২ বিলিয়ন বা ৩ হাজার ৩২ কোটি ৮০ লাখ মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছিলেন। এটি ছিল দেশের ইতিহাসে কোনো নির্দিষ্ট অর্থবছরে আসা সর্বোচ্চ প্রবাসী আয়ের রেকর্ড। বর্তমান অর্থবছরেও সেই রেকর্ড ভাঙার সম্ভাবনা নিয়ে আশাবাদী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। মূলত বৈধ পথে অর্থ প্রেরণে প্রবাসীদের ক্রমবর্ধমান আগ্রহ এবং ব্যাংকিং চ্যানেলের সহজলভ্যতার কারণেই এই মাইলফলক স্পর্শ করা সম্ভব হচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

 

ঢাকা

রেমিট্যান্স প্রবাহের এই ইতিবাচক ধারা অব্যাহত রয়েছে চলতি মাস এপ্রিলেও। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্যে দেখা গেছে, এপ্রিলের ১৯ দিনে প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছেন ২ দশমিক ১২ বিলিয়ন (২১২ কোটি ৭০ লাখ) মার্কিন ডলার। বর্তমান বাজারদর অনুযায়ী (প্রতি ডলার ১২২ টাকা ধরে) যার পরিমাণ ২৫ হাজার ৯৪৯ কোটি ৪০ লাখ টাকা।

গত বছরের একই সময়ে এসেছিল ১৭১ কোটি ৯০ লাখ ডলার। সে হিসাবে গত বছরের একই সময়ের চেয়ে চলতি মাসের প্রথম ১৯ দিনে ৪০ কোটি ৮০ লাখ ডলার বা প্রায় ৪ হাজার ৯৭৮ কোটি টাকা বেশি এসেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্র জানিয়েছে, এর আগে দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ প্রবাসী আয় এসেছিল চলতি বছরের মার্চে। ওই সময় প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছিলেন ৩৭৫ কোটি ৫০ লাখ ডলার।

এছাড়া দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স এসেছিল গত বছরের মার্চে, ৩২৯ কোটি ৫৬ লাখ ডলার। তৃতীয় সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স এসেছিল ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, যখন দেশে আসে ৩২২ কোটি ৬৬ লাখ ডলার। আর চতুর্থ সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স আসে চলতি বছরের জানুয়ারিতে, ওই মাসে প্রবাসী আয় ছিল ৩১৭ কোটি মার্কিন ডলার।

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা ও অস্থিরতার প্রভাব বৈদেশিক মুদ্রাবাজারেও পড়তে শুরু করেছিল। সংকটের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে মার্কিন ডলারের চাহিদা বেড়ে যায় এবং স্থানীয় মুদ্রার বিপরীতে ডলারের বিনিময় হারও বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে প্রবাসীরা দেশে পাঠানো ডলারের বিপরীতে তুলনামূলক বেশি টাকা পাচ্ছেন।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংকট দীর্ঘায়িত হলে বিশ্বের অন্য অনেক দেশের মতো বাংলাদেশের অর্থনীতিতেও এর প্রভাব পড়তে পারে। তাই সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলায় বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্ত অবস্থানে রাখার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।

 

চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ইজারা দেওয়ার ক্ষেত্রে দেশ ও জনগণের স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়েই সরকার সিদ্ধান্ত নেবে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়, রেলপথ এবং নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।

আজ রোববার দুপুরে চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং টার্মিনালে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন মন্ত্রী। দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথমবার চট্টগ্রাম সফরে এসে দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর ঘুরে দেখেন তিনি।

নৌপরিবহনমন্ত্রী বলেন, এনসিটি পরিচালনায় ডিপি ওয়ার্ল্ডের প্রস্তাব রয়েছে। এই প্রস্তাবের ইতিবাচক সম্ভাবনা আছে। তবে পাশাপাশি কিছু চ্যালেঞ্জও আছে, যার জন্য সতর্ক পর্যালোচনার প্রয়োজন।

শেখ রবিউল আলম বলেন, ‘ইতিমধ্যে শ্রমিকেরা আন্দোলন করছে, তাদের দাবি রয়েছে। আমরা বিষয়টি বিবেচনায় নিচ্ছি। একই সঙ্গে আমাদের বৃহত্তর জাতীয় স্বার্থও নিশ্চিত করতে হবে। বৃহত্তর অর্থনৈতিক লাভের বিষয়টি স্পষ্ট হলে দেশপ্রেমের জায়গা থেকে শ্রমিকেরা নমনীয়তা দেখাবেন বলে আশা করা যায়।’

উল্লেখ্য, নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) দীর্ঘ মেয়াদে বিদেশি কোম্পানির হাতে পরিচালনার প্রক্রিয়া শুরু করেছিল আওয়ামী লীগ সরকার। বিগত অন্তর্বর্তী সরকার এসে এই প্রক্রিয়া প্রায় গুছিয়ে আনে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের বন্দর পরিচালনাকারী কোম্পানি ডিপিওয়ার্ল্ডের সঙ্গে দর-কষাকষি শুরু হয়। জাতীয় নির্বাচনের আগে এই প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে আন্দোলনে নামেন বন্দরের শ্রমিকেরা। শ্রমিক আন্দোলনের মুখে ইজারাপ্রক্রিয়া স্থগিত করা হয়।

নৌপরিবহনমন্ত্রী বলেন, বন্দরের কিছু নতুন প্রকল্প পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) পদ্ধতিতে শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি ল্যান্ডলর্ড মডেল নিয়েও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের কিছু প্রতিষ্ঠান আগ্রহ দেখিয়েছে। তারা বিনিয়োগ ও প্রযুক্তিগত সহায়তা দিতে চায়। এতে কনটেইনার টার্মিনালগুলোর কার্যক্রম আরও দক্ষভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হবে।

চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা আরও বৃদ্ধির সুযোগ রয়েছে মন্তব্য করে নৌপরিবহনমন্ত্রী বলেন, ‘চট্টগ্রাম বন্দর যেভাবে এগিয়েছে, সেটা ইতিবাচক। তবে আরও অনেক কিছু করার সুযোগ আছে। আমরা চাই, সমন্বিতভাবে কাজ করে এই সম্ভাবনাগুলোকে কাজে লাগাতে।’

সাংবাদিকদের ব্রিফিং করার সময় নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান, সংসদ সদস্য শাহাদাত হোসেন সেলিম, নৌপরিবহনসচিব জাকারিয়া, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এস এম মনিরুজ্জামানসহ সংশ্লিষ্ট খাতের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ঢাকা

আবাসন ব্যবসায়ীদের সংগঠন বাংলাদেশ রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশনের (রিহ্যাব) ২০২৬-২৮ মেয়াদের নতুন সভাপতি হয়েছেন গ্লোরিয়াস ল্যান্ডস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টসের চেয়ারম্যান মো. আলী আফজাল। তিনি ২৩২ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন।

মো. আলী আফজাল প্রগতিশীল আবাসন ব্যবসায়ী পরিষদের প্যানেল লিডার বা দলপ্রধান। ছয় সহসভাপতি পদের মধ্যে চারটিতে জয়ী হয়েছেন এই প্যানেলের প্রার্থীরা। বাকি দুটি পদে জয়ী হয়েছেন আবাসন ব্যবসায়ী ঐক্য পরিষদের প্রার্থীরা।
সভাপতি পদে আবাসন ব্যবসায়ী ঐক্য পরিষদের প্যানেল লিডার ও রিহ্যাবের বর্তমান সভাপতি মো. ওয়াহিদুজ্জামান পেয়েছেন ১৯৩ ভোট। এ ছাড়া জাগরণ প্যানেলের সভাপতি প্রার্থী মোকাররম হোসেন খান পেয়েছেন ৯০ ভোট। আর স্বতন্ত্র প্রার্থী আবদুল খায়ের সেলিম পেয়েছেন ১২ ভোট।

রিহ্যাবের নির্বাচন গতকাল শনিবার রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে অনুষ্ঠিত হয়
রিহ্যাবের নির্বাচন গতকাল শনিবার রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে অনুষ্ঠিত হয়
 

রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে গতকাল শনিবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। পরে ভোট গণনা শেষে দিবাগত রাত একটার দিকে ফলাফল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। ঘোষিত ফলাফলে দেখা যায়, সিনিয়র সহসভাপতি পদে আবাসন ব্যবসায়ী পরিষদের আবদুর রাজ্জাক ২১৬ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আবাসন ব্যবসায়ী ঐক্য পরিষদের লিয়াকত আলী ভূঁইয়া পেয়েছেন ২১৪ ভোট।

প্রগতিশীল আবাসন ব্যবসায়ী পরিষদ থেকে সহসভাপতি হয়েছেন আবু খালিদ মো. বরকতুল্লাহ, এ এফ এম উবাইদুল্লাহ ও মো. হারুন অর রশিদ। আর আবাসন ব্যবসায়ী ঐক্য পরিষদ থেকে সহসভাপতি হয়েছেন মোহাম্মদ আকতার বিশ্বাস ও মোহাম্মদ মোরশেদুল হাসান (চট্টগ্রাম অঞ্চল)।

নির্বাচিত ২০ পরিচালকের মধ্যে ১১ জন আবাসন ব্যবসায়ী ঐক্য পরিষদের প্রার্থী। বাকি ৯ জন প্রগতিশীল আবাসন ব্যবসায়ী পরিষদ থেকে জয়ী হয়েছেন।

ঢাকা

বাংলাদেশের আর্থিক, রাজস্ব ও বিনিময় হার—এ তিন খাতে ব্যাপক সংস্কার দরকার বলে মনে করছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। সংস্থাটির মতে, তিনটি খাতের প্রতি ক্ষেত্রেই বাংলাদেশের এখনো অনেক কাজ বাকি।

আজ বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা ছয়টায় যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটনে এক সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশি সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আইএমএফের এশিয়া ও প্যাসিফিক বিভাগের পরিচালক কৃষ্ণা শ্রীনিবাসন এ কথা বলেন। ভারত, নেপাল, শ্রীলঙ্কা, দক্ষিণ কোরিয়া প্রভৃতি দেশের সাংবাদিকেরাও এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

১৩ এপ্রিল থেকে ওয়াশিংটনে বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের বসন্তকালীন বৈঠক শুরু হয়েছে, যা ১৮ এপ্রিল শেষ হবে। এ বৈঠকে বাংলাদেশ থেকে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমানসহ মোট ১৪ জন অংশ নিয়েছেন।

জবাবে কৃষ্ণা শ্রীনিবাসন বলেন, ‘আমি বাংলাদেশে গিয়েছিলাম। প্রধানমন্ত্রীসহ অন্যদের সঙ্গে বৈঠক করেছি। বাংলাদেশের সামনে থাকা চ্যালেঞ্জগুলো নিয়ে আমাদের আলোচনা হয়েছে। বলেছি, শক্তিশালী সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে আসা সরকারই উচ্চাভিলাষী সংস্কারকাজ হাতে নিতে পারে। তারা আমাদের কথা শুনেছে। এখন আমরা দেখব তারা কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানায়।’

রাজস্ব আহরণের বিষয়ে কৃষ্ণা শ্রীনিবাসন বলেন, এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ভালো করেনি। এটি নিম্নস্তরে রয়েছে এবং গত তিন বছরে তার আরও অবনমন ঘটেছে। কিস্তি ছাড়ের বিষয়ে আলোচনা চলছে। এ বিষয়ে হালনাগাদ তথ্য পরে জানানো হবে।

কৃষ্ণা শ্রীনিবাসন বলেন, সহায়তা হওয়া উচিত লক্ষ্যভিত্তিক। আর দরকার সীমিত সম্পদের দক্ষ ব্যবহার। বাংলাদেশের রাজস্ব ভিত্তি তুলনামূলকভাবে ছোট, রাজস্ব আহরণও কম হয়। ফলে সহায়তা দেওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ বেশি চাপে রয়েছে। বাংলাদেশের মানুষও কষ্টে আছে। ফলে যে সম্পদই বাংলাদেশের থাকুক না কেন, তার সর্বোচ্চ লক্ষ্যভিত্তিক ব্যবহার খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

বাংলাদেশকে রাজস্ব সংগ্রহ বাড়ানোর পরামর্শ দিয়ে কৃষ্ণা শ্রীনিবাসন বলেন, আর্থিক খাতের অন্য প্রতিবন্ধকতাগুলোও বিবেচনায় নিতে হবে, যাতে স্বল্প ও দীর্ঘ মেয়াদে প্রবৃদ্ধি বৃদ্ধি করা যায়। তিনি বলেন, এশিয়ার অন্য দেশগুলোর মতো বাংলাদেশও জ্বালানি ধাক্কায় প্রভাবিত হয়েছে। এ কারণে নীতি–সহায়তা এবং কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা চলছে। এ আলোচনা কীভাবে, কতটা এগোয় তা দেখার জন্য অপেক্ষা করতে হবে।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ব্যক্তি ও হিন্দু অবিভক্ত পরিবার ব্যতীত অন্যান্য সব করদাতার জন্য আয়কর রিটার্ন দাখিলের সময়সীমা আরও এক মাস বাড়িয়েছে। এখন ২০২৫–২০২৬ করবর্ষের রিটার্ন জমা দেওয়া যাবে আগামী ১৫ মে পর্যন্ত। অর্থাৎ কোম্পানিগুলো এই সময়সীমার মধ্যে রিটার্ন দিতে পারবে। 

সোমবার (১৩ এপ্রিল ) জারি করা আদেশে এনবিআর এ সিদ্ধান্ত জানায়। 

আদেশে বলা হয়, আয়কর আইন, ২০২৩-এর ধারা ৩৩৪-এর দফা (খ) অনুযায়ী প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এই সময় বৃদ্ধি করা হয়েছে।

এতে উল্লেখ করা হয়, যেসব করদাতার অর্থবছর ৩০ জুন ২০২৫ তারিখে সমাপ্ত হয়েছে— তাদের জন্য নির্ধারিত রিটার্ন দাখিলের শেষ তারিখ পুনরায় এক মাস বাড়িয়ে ১৫ মে নির্ধারণ করা হলো। 

জানা গেছে, করদাতাদের রিটার্ন প্রস্তুত ও দাখিল প্রক্রিয়া সহজতর করা এবং নির্ধারিত সময়ে অধিকসংখ্যক রিটার্ন জমা নিশ্চিত করতেই এই সময় বাড়ানো হয়েছে। 

এ সংক্রান্ত আদেশে সংশ্লিষ্ট সব কর অঞ্চল, কর কমিশনার কার্যালয়, কর আপিল অঞ্চল, বৃহৎ করদাতা ইউনিট, গোয়েন্দা ও তদন্ত ইউনিটসহ এনবিআরের বিভিন্ন দপ্তরে অনুলিপি পাঠানো হয়েছে।