ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কার্যালয় ও ইসরায়েলি বিমান বাহিনী প্রধানের সদর দপ্তর লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছে ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড (আইআরজিসি)।

ইরানের সংবাদমাধ্যম ফারস নিউজ এজেন্সি আজ সোমবার রেভল্যুশনারি গার্ডের বিবৃতির বরাত দিয়ে এ কথা জানিয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, জায়নবাদী শাসনের অপরাধী প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও বিমানবাহিনী প্রধানের সদর দপ্তরকে নিশানা করে হামলা চালানো হয়েছে। হামলায় ‘খাইবার’ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে।

সূত্র: এএফপি

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের নাতাঞ্জ পারমাণবিক কেন্দ্রটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জাতিসংঘের পরমাণুবিষয়ক পর্যবেক্ষক সংস্থায় নিযুক্ত ইরানের দূত রেজা নাজাফি আজ সোমবার এ কথা বলেছেন। 

আজ আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থার (আইএইএ) ৩৫ সদস্য দেশের বোর্ড অব গভর্নরস–এর বৈঠক হয়। ওই সময় সাংবাদিকদের নাজাফি বলেন, গতকাল তারা আবারও ইরানের শান্তিপূর্ণ ও সুরক্ষিত পারমাণবিক স্থাপনাগুলিতে হামলা করেছে।’

এ সময় রয়টার্সের পক্ষ থেকে জানতে চাওয়া হয়, কোন পারমাণবিক কেন্দ্রগুলোতে হামলা হয়েছে। জবাবে তিনি বলেন, ‘নাতাঞ্জ’।

তথ্যসূত্র: রয়টার্স

ইরানে গত শনিবার থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েল–যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলায় এ পর্যন্ত ৫৫৫ জন নিহত হয়েছে। আজ সোমবার ইরানিয়ান রেড ক্রিসেন্টের এক বিবৃতিতে নিহতের এ সংখ্যা উল্লেখ করা হয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, ‘আমাদের দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে জায়নবাদী ও মার্কিনদের যৌথ সন্ত্রাসী হামলার কারণে এখন পর্যন্ত ১৩১টি শহর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দুঃখজনকভাবে ৫৫৫ জন দেশবাসী নিহত হয়েছে।’

ইরান রেড ক্রিসেন্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টেলিগ্রামে বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে।

তথ্যসূত্র: এএফপি

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল গত শনিবার যৌথ হামলা চালিয়ে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে হত্যা করেছে। দ্রুত পাল্টা জবাব দিতে শুরু করেছে ইরানও। তেহরান বলেছে, তারা ইসরায়েল ও উপসাগরীয় দেশগুলোসহ ওই অঞ্চলের মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার ‘প্রতিশোধ’ নিতে ইরান কী কী অস্ত্র ব্যবহার করেছে বা তাদের হাতে কী কী অস্ত্র আছে, তা একনজরে দেখে নেওয়া যাক।

ইরানের দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র

এ যুদ্ধে ইরানের মূল অস্ত্র তাদের ক্ষেপণাস্ত্র। প্রতিরক্ষা–বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বৃহৎ ও সবচেয়ে বৈচিত্র্যময় ক্ষেপণাস্ত্রের বহর রয়েছে ইরানের হাতে। ইরানের হাতে থাকা ক্ষেপণাস্ত্রের মধ্যে ব্যালিস্টিক এবং ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রও রয়েছে।

ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের বহরটি এমনভাবে তৈরি যে দেশটির হাতে অত্যাধুনিক বিমানবাহিনী না থাকলেও তেহরানকে দূর লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার সক্ষমতা দেয়।

ইরানি কর্মকর্তারা দেশটির ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিকে তাঁদের প্রতিরোধব্যবস্থার মূল স্তম্ভ হিসেবে উপস্থাপন করেন। এর একটি কারণ দেশটির দুর্বল বিমানবাহিনী। ইরানের বিমানবাহিনীর হাতে থাকা যুদ্ধবিমানগুলো বেশ পুরোনো।

পশ্চিমা দেশগুলোর অভিযোগ, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতা বাড়াচ্ছে এবং ভবিষ্যতে দেশটির পারমাণবিক সক্ষমতায় সহায়ক হয়ে উঠতে পারে। তেহরান এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে।

ইরানের একটি দূরপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দুই থেকে আড়াই হাজার কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে সক্ষম। এর অর্থ, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ইসরায়েল ও উপসাগরীয় অঞ্চলজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিগুলোতে এবং তার বাইরেও পৌঁছাতে সক্ষম।

[caption id="attachment_268652" align="alignnone" width="470"] ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ভান্ডার[/caption]

স্বল্পপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র

ইরানের হাতে স্বল্পপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে, যেগুলো ১৫০ থেকে ৮০০ কিলোমিটার পর্যন্ত উড়ে গিয়ে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম।

শত্রুর ওপর শুরুতেই দ্রুত আঘাত হানতে স্বল্পপাল্লার এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলো দারুণ কার্যকর। এগুলোর নকশাই করা হয়েছে কাছের সামরিক নিশানায় আঘাত করার এবং দ্রুত আঞ্চলিক হামলা চালাতে।

ইরানের স্বল্পপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের মধ্যে রয়েছে ফাতেহ সিরিজের ক্ষেপণাস্ত্র: জলফাগর, কিয়াম-১ ও পুরোনো শাহাব-১/২।

সংকটকালে স্বল্পপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রগুলো প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে বড় অস্ত্র হয়ে ওঠে। কারণ, এগুলো দিয়ে একযোগে হামলা চালানো যায়। এ ছাড়া প্রতিপক্ষ সতর্ক হওয়ার সময় কম পায়, ফলে সেগুলো আগাম প্রতিহত হওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।

মাঝারিপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র

যদি স্বল্পপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ইরানের দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানানোর প্রাথমিক অস্ত্র হয়, তবে মাঝারিপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ‘প্রতিশোধকে’ আঞ্চলিক মাত্রায় দেয়। ইরানের মাঝারিপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রগুলো দেড় থেকে দুই হাজার কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারে।

ইরানের হাতে থাকা মাঝারিপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রগুলো হলো শাহাব-৩, এমাদ, ঘাদর-১, খোররামশাহর সিরিজ এবং সেজিলের মতো ক্ষেপণাস্ত্রব্যবস্থা। এগুলো ইরানের দূরবর্তী লক্ষ্যে আঘাত করার সক্ষমতার ভিত্তি স্থাপন করে।

পাশাপাশি আধুনিক নকশার খেইবার শেকান এবং হজ কাসেমও এই সক্ষমতাকে সমৃদ্ধ করেছে।

একসঙ্গে বিবেচনা করলে ইরানের মাঝারিপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ইসরায়েল, কাতার, বাহরাইন, কুয়েত, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মার্কিন অবকাঠামোতে আঘাত হানতে সক্ষম।

ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র

ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র অপেক্ষাকৃত কম উচ্চতা দিয়ে উড়ে যায়। ফলে সেগুলো ভূপ্রকৃতির সঙ্গে মিলেমিশে যেতে পারে। এ সুবিধার কারণে ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করা এবং সেটিকে অনুসরণ করা প্রায়ই কঠিন হয়ে যায়—বিশেষত যখন এগুলো ড্রোন বা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের সঙ্গে একযোগে ছোড়া হয়, তখন আকাশ সুরক্ষাব্যবস্থা অতিরিক্ত চাপে পড়ে যায়। ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের নকশা মূলত আকাশ সুরক্ষাব্যবস্থাকে ফাঁকি দিতেই করা হয়েছে।

বিস্তৃত সমীক্ষা অনুযায়ী, ইরান ভূমি ও জাহাজ লক্ষ্য করে ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করতে সক্ষম। ইরানের ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের মধ্যে রয়েছে সুমার, ইয়াআলি, কুদস সিরিজ, হোভেইজেহ, পাভেহ ও রা’আদ।

সুমার ক্ষেপণাস্ত্র আড়াই হাজার কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যে আঘাত হানতে পারে।

ড্রোন

ইরানের হাতে থাকা আরেকটি বড় অস্ত্র ড্রোন। এটি ক্ষেপণাস্ত্রের তুলনায় ধীরগতির, কিন্তু দামে সস্তা এবং একবারে অনেকগুলোকে উৎক্ষেপণ করা যায়। একমুখী আক্রমণাত্মক ড্রোন ঢেউয়ের মতো আঘাত হানতে ব্যবহার করা যায়।

একটার পর একটা ড্রোন যখন আসতে থাকে, তখন আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার সক্ষমতা দুর্বল হয়ে পড়ে।

এ ছাড়া ড্রোন হামলার মাধ্যমে বিমানবন্দর, বন্দর ও জ্বালানি স্থাপনাগুলোকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সতর্ক অবস্থায় রাখা যায়। ক্ষেপণাস্ত্রের বেলায় যেটা সম্ভব নয়। বিশ্লেষকদের মতে, যদি যুদ্ধ গভীর হয়, তবে ড্রোন ব্যবহার করে হামলার কৌশল আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

[caption id="attachment_268653" align="alignnone" width="470"] ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কিভাবে কাজ করে[/caption]

ভূগর্ভস্থ ‘ক্ষেপণাস্ত্র শহর’

যুদ্ধে ক্ষেপণাস্ত্রের সংখ্যা গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদি সংঘর্ষে মূল প্রশ্ন হলো—ইরান কতক্ষণ পর্যন্ত আঘাত সহ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে যেতে সক্ষম থাকবে।

তেহরান দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে তাদের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির কয়েকটি অংশকে শক্তিশালী করতে কাজ করেছে। তারা দেশজুড়ে ভূগর্ভস্থ সুড়ঙ্গ, লুকানো ঘাঁটি এবং সুরক্ষিত উৎক্ষেপণকেন্দ্র তৈরি করেছে। এই নেটওয়ার্কের কারণে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ সক্ষমতাকে দ্রুত দুর্বল করা কঠিন হবে।

হরমুজ প্রণালি: আনুষ্ঠানিকভাবে অবরোধ ছাড়াই বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি সম্ভব

ইরানের প্রতিরক্ষা যুদ্ধ কেবল ভূমিতেই সীমাবদ্ধ নয়; উপসাগর এবং হরমুজ প্রণালি ইরানের কৌশলগত যুদ্ধে এক বড় হাতিয়ার। নৌপথে বিশ্ববাণিজ্যের একটি বড় অংশ, বিশেষ করে তেল ও গ্যাস এই পথ দিয়ে পরিবহন করা হয়। ফলে তেহরান চাইলে দ্রুত বৈশ্বিক বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে।

জাহাজ–বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র, জলজ মাইন, ড্রোন এবং দ্রুত আক্রমণে সক্ষম নৌযান পাঠিয়ে ইরান উপসাগর ও হরমুজ প্রণালিতে নৌবাহিনী ও বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা করে পারে।

এ ছাড়া ইরান নিজেদের ‘হাইপারসনিক’ সিস্টেম হিসেবে পরিচিত কিছু প্রযুক্তি, যেমন ফাত্তাহ সিরিজ প্রদর্শন করেছে, যা খুব উচ্চগতিতে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম বলে দাবি করা হয়েছে; যদিও সেগুলোর কার্যক্রম সম্পর্কিত তথ্য স্বাধীনভাবে তেমন একটা পাওয়া যায় না।

হরমুজ প্রণালি আনুষ্ঠানিকভাবে অবরোধ ছাড়াও ইরান বৈশ্বিক বাজারে প্রভাব ফেলতে সক্ষম। ইরানের বিপ্লবী গার্ডের নামে যদি রেডিও সতর্কবার্তা দেওয়া হয়, তাহলেই তেলবাহী ট্যাংকারগুলোকে হরমুজ প্রণালির বাইরে দাঁড়িয়ে থাকতে হবে, এতে খরচ বাড়বে। পাশাপাশি যুদ্ধের ঝুঁকিবিমার খরচ বাড়াবে। সব মিলিয়ে পণ্য পরিবহনের খরচ অনেক বেড়ে যাবে।

বিপ্লবী গার্ড বলেছে, তারা তিনটি মার্কিন ও ব্রিটিশ তেলের ট্যাংকারে হামলা করেছে।

তেহরানের বার্তা: সীমাহীন যুদ্ধ

ইরানি কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরেই সতর্ক করে আসছেন, যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েল যদি ইরানের ভূখণ্ডে আক্রমণ করে, তা একটি সীমিত অভিযান হিসেবে নয়, বরং বিস্তৃত যুদ্ধের সূচনা হিসেবে গণ্য করা হবে। খামেনিকে হত্যার পর থেকে এ বার্তা আরও কঠোর হয়ে গেছে।

ইরানের বিপ্লবী গার্ড আরও প্রতিশোধের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে এবং ইরান একবারে বড় আঘাতের পরিবর্তে ধারাবাহিকভাবে অভিযান পরিচালনার সংকেত দিচ্ছে। ইরান–সমর্থিত বিভিন্ন বাহিনীও এ যুদ্ধে জড়িয়ে পড়তে শুরু করেছে।

আল–জাজিরা

কুয়েতে বিধ্বস্ত হয়েছে একটি মার্কিন এফ-১৫ যুদ্ধবিমান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে দুর্ঘটনার দৃশ্য।

ভিডিওতে দেখা যায়, কুয়েতের আকাশে উড়তে থাকা একটি মার্কিন 'এফ-১৫' ফাইটার জেট হঠাৎ করে বিধ্বস্ত হয়।

ভিডিও আরও দেখা যায়, অন্তত একজন পাইলট নিরাপদে ইজেক্ট করতে সক্ষম হন। তবে দুর্ঘটনার কারণ সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি মার্কিন সামরিক বাহিনী।

এদিকে ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা কর্মকর্তা আলি লারিজানি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বলেছেন, 'ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো আলোচনা করবে না'।

দেশটির অন্যতম ক্ষমতাধর এই ব্যক্তি গণমাধ্যমে প্রকাশিত সেইসব প্রতিবেদনের জবাবে এ মন্তব্য করেন, যেখানে বলা হয়েছিল যে ইরান মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পুনরায় আলোচনা শুরু করার অনুরোধ জানিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প 'তার ‘মিথ্যা আশ্বাস' দিয়ে অঞ্চলটিকে বিশৃঙ্খলার মধ্যে ঠেলে দিয়েছেন এবং এখন মার্কিন সেনাদের আরও হতাহতের আশঙ্কায় উদ্বিগ্ন,' বলেন লারিজানি।

তিনি আরও বলেন, 'ভ্রান্ত পদক্ষেপের মাধ্যমে তিনি নিজের তৈরি ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ স্লোগানকে 'ইসরায়েল ফার্স্ট' স্লোগানে রূপান্তর করেছেন এবং ইসরায়েলের ক্ষমতার আকাঙ্ক্ষার জন্য মার্কিন সেনাদের বলি দিচ্ছেন।'

লেবাননে ইসরায়েলের হামলায় কমপক্ষে ৩১ জন নিহত এবং ১৪৯ জন আহত হয়েছে। আজ সোমবার লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় দেশটিতে হতাহতের এ সংখ্যা জানিয়েছে। 

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, বৈরুতের দক্ষিণ-পূর্বের শহরতলি ও দক্ষিণ লেবাননে ‘ইসরায়েলি শত্রুদের অভিযানে’ হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, ৩১ নাগরিক নিহত এবং ১৪৯ নাগরিক আহত হয়েছেন।

ইসরায়েলে সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর রকেট হামলার পর লেবাননে এ হামলা হয়। লেবাননে হামলা আরও জোরদার করার হুমকি দিয়েছে ইসরায়েল।

তথ্যসূত্র: এএফপি

লেবাননে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে ইসরায়েলের হামলা

ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর রকেট হামলার জবাবে লেবাননে পাল্টা আক্রমণ শুরু করেছে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী।

আজ সোমবার লেবাননের রাজধানী বৈরুতসহ দেশটির বিভিন্ন প্রান্তে হিজবুল্লাহর লক্ষ্যবস্তুগুলোতে এই হামলা চালানো হয়েছে। খবর রয়টার্স ও আল-জাজিরার।

ইসরায়েলি সেনাবাহিনী এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, উত্তর ইসরায়েলে হিজবুল্লাহর বড় ধরনের রকেট হামলার পর তারা ‘লেবাননজুড়ে’ গোষ্ঠীটির ঘাঁটিতে আঘাত হানছে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘হিজবুল্লাহকে ইসরায়েল রাষ্ট্রের জন্য কোনো হুমকি তৈরি করার সুযোগ দেওয়া হবে না। এই হামলার কঠোর ও শক্তিশালী জবাব দেওয়া হবে।’

আল-জাজিরা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হিজবুল্লাহর শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত বৈরুতের দক্ষিণ শহরতলিতে (দাহিয়েহ) বেশ কয়েকটি শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। ইসরায়েলি যুদ্ধবিমানগুলো ওই এলাকায় মুহুর্মুহু বোমাবর্ষণ করছে।

এর আগে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে হত্যার প্রতিশোধ নিতে ইসরায়েলের হাইফা শহরের একটি সামরিক ঘাঁটিতে হামলার দাবি করেছিল হিজবুল্লাহ।

বিশ্লেষকেরা আশঙ্কা করছেন, ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর এই সরাসরি সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ ও বিস্তৃত করে তুলতে পারে।

লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ৫৩টি গ্রাম ও শহরের বাসিন্দাদের সরে যেতে বলেছে ইসরায়েল

লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ৫৩টি গ্রাম ও শহরের বাসিন্দাদের তাদের ঘরবাড়ি ছেড়ে যেতে নির্দেশ দিয়েছে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী।

গাজায় নির্বিচারে হামলা চালানোর আগে ইসরায়েল এভাবে বাসিন্দাদের সরে যেতে নির্দেশ দিয়েছিল। লেবাননেও বিস্তৃত এলাকার জন্য এমন সতর্কবার্তা দিল দেশটি।

আজ সোমবার লেবাননের রাজধানী বৈরুতসহ দেশটির বিভিন্ন প্রান্তে হিজবুল্লাহর লক্ষ্যবস্তুগুলোতে হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল।

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

ইসরায়েলের দখলকৃত ফিলিস্তিনের জেরুজালেম শহরে আঘাত হেনেছে ইরানের একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র (মিসাইল)। খবর, আল জাজিরার।

সোমবার (২ মার্চ) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, ইরান নতুন করে যেসব ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে, সেগুলোর একটি সরাসরি জেরুজালেমে আঘাত করে।

গণমাধ্যমটির একজন সাংবাদিক ঘটনাস্থল থেকে জানান, পশ্চিম জেরুজালেমে হামলার আগে সতর্কতামূলক সাইরেন বেজে ওঠে। এর কিছুক্ষণ পরই একটি মিসাইল এসে সেখানে আঘাত হানে।

১৯৬৭ সালের ছয়দিনের আরব-ইসরায়েল যুদ্ধের পর ইসরায়েল পূর্ব জেরুজালেম দখল করে নেয়। ফিলিস্তিনিরা পবিত্র এ ভূমির মালিক হলেও বর্তমানে জেরুজালেমের প্রশাসনিক সব ক্ষমতা ইসরায়েলিদের হাতে।

মূলত, এখানেই অবস্থিত পবিত্র আল-আকসা মসজিদ, যা ইসলামের প্রথম কিবলা হিসেবে পরিচিত। সৌদি আরব-এর মক্কা ও মদিনার পর মুসলমানদের কাছে অত্যন্ত পবিত্র স্থান হিসেবে বিবেচিত জেরুজালেম শহর।

করাচি

ইরানের রাজধানী তেহরানে আরও দুটি শক্তিশালী বিস্ফোরণ ঘটেছে বলে জানিয়েছেন বার্তা সংস্থা এএফপির দুজন সাংবাদিক। তেহরানে অবস্থানরত ওই দুই সাংবাদিক বলেন, হামলাস্থল থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরে অবস্থানে থেকে তাঁরা হামলার তীব্রতা অনুভব করেন। হামলার সময় তাঁদের অ্যাপার্টমেন্টের জানালার কাঁচ কেঁপে ওঠে।

স্থানীয় সময় রাত ৯টার দিকে এই বিস্ফোরণগুলো ঘটে। ঠিক একই সময়ে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানিয়েছিল যে, তাদের ওপর হামলা চালানো হচ্ছে। তাৎক্ষণিকভাবে হামলার লক্ষ্যবস্তু কী ছিল তা পরিষ্কার হওয়া যায়নি। তবে রাষ্ট্রীয় টেলিভশনের সম্প্রচার সচল ছিল।

এর আগে ইসরায়েল জানিয়েছিল, তারা নতুন দফায় তেহরানে হামলা শুরু করেছে।

সূত্র: আল জাজিরা

সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবির আল-সালাম নৌঘাঁটিতে একটি গুদাম লক্ষ্য করে দুটি ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান। হামলার সত্যতা নিশ্চিত করে দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট কর্মীরা পরিস্থিতি সামাল দিয়েছে।

মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই হামলার ফলে সাধারণ সরঞ্জাম রাখা দুটি কনটেইনারে আগুন ধরে যায়। তবে এতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

এ ঘটনাকে ‘সুস্পষ্ট আগ্রাসন এবং জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন’ আখ্যা দিয়ে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।

এদিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, আবুধাবির একটি সামরিক ঘাঁটিতে অন্তত দুটি হামলা চালানো হয়েছে। তবে কেন ওই ঘাঁটিতে হামলা চালানো হলো, সে বিষয়ে তারা কিছু জানায়নি।

এর আগে আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, শনিবার সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে তারা ১৬৭টি ক্ষেপণাস্ত্র এবং ৫৪১টি ইরানি ড্রোন হামলা মোকাবিলা করেছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল শনিবার সকালে ইরানে যৌথভাবে হামলা শুরু করে। এ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ দেশটির বেশ কয়েকজন শীর্ষস্থানীয় সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন। হামলার জবাবে ইসরায়েলের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ছুড়ছে ইরান।

বিবিসি

ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইসরায়েলের বেইত শেমেশ শহরে অন্তত নয়জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত অনন্ত ২৭ জন।

এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি ও কাতার ভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা।

ইসরায়েলি জরুরি সেবা কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে আলজাজিরা জানিয়েছে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ৯ জন নিহত হওয়ার পাশাপাশি অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন।

এদিকে, ইরানের হামলায় সংযুক্ত আরব আমিরাতে অন্তত ৩ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে একজন বাংলাদেশি। এছাড়াও আহত হয়েছেন আরও ৫৮ জন।

ইরানের বিরুদ্ধে অভিযানে অংশ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর ৩ জন সদস্য নিহত এবং আরও ৫ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড।

শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে ইরানে হামলা শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। এ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ দেশটির বেশ কয়েকজন শীর্ষস্থানীয় সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তা নিহত হন।

জবাবে ইসরায়েলের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা করে ইরান।