ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দেশের ২৯৯টি আসনের ৯০ শতাংশের বেশি কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সারা দেশে এখন মোতায়েন আছে বিভিন্ন বাহিনীর ৯ লাখ ৫৮ হাজার সদস্য।

ভোট গ্রহণের দুই দিন আগে আজ মঙ্গলবার ঢাকার আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে নির্বাচন কমিশনার (ইসি) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ এই তথ্য জানিয়েছেন।

আগামী বৃহস্পতিবার ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ও গণভোট হবে। ৩০০ আসনের মধ্যে একটি আসনে ভোট স্থগিত রয়েছে এক প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে।

৪২ হাজারের বেশি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং সার্বক্ষণিক নজরদারির জন্য সিসি ক্যামেরা বসানোর সিদ্ধান্ত হয়েছিল আগেই।

নির্বাচন কমিশনার সানাউল্লাহ ৯০ শতাংশের কথা বললেও কতটি কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে, তার সুনির্দিষ্টভাবে হিসাব দিতে পারেননি। সংখ্যাটি বুধবার জানানো হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

সিসি ক্যামেরা ছাড়াও সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনে বিভিন্ন কেন্দ্রে প্রয়োজন বিবেচনায় ড্রোন, বডি-ওর্ন ক্যামেরাও ব্যবহার করা হবে বলে তিনি জানান।

প্রেস ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সারা দেশে বিভিন্ন বাহিনীর ৯ লাখ ৫৮ হাজার সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। এ ছাড়া ২ হাজার ৯৮ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও ৬৫৭ জন বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োজিত আছেন।

 নির্বাচনের প্রস্তুতির সর্বশেষ নিয়ে আজ মঙ্গলবার নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের সামনে নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ
নির্বাচনের প্রস্তুতির সর্বশেষ নিয়ে আজ মঙ্গলবার নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের সামনে নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ
 

নির্বাচন কমিশনার সানাউল্লাহ বলেন, ‘বাংলাদেশে এত ফোর্স, এত ক্যাপাসিটি ডেপ্লয় কখনোই করা হয়নি। তাই নির্বাচনে অপ্রীতিকর পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কারণ নেই। এরপরও যদি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটে থাকে, সেটার জন্য আমরা প্রস্তুত আছি।’

নির্বাচনের আগে গত ১৩ ডিসেম্বর থেকে এ পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ৮৫০টি অস্ত্র উদ্ধার করেছে জানিয়ে নির্বাচন কমিশনার বলেন, ‘এই অস্ত্রের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ, আমাদের ধারণা, নির্বাচনে অপব্যবহার করার জন্য আনা হয়েছিল।’

১২ ফেব্রুয়ারি ভোটের দিন প্রতি ২ ঘণ্টা পরপর নির্বাচনের সার্বিক বিষয়ে ইসি জানাবে বলেও জানান নির্বাচন কমিশনার সানাউল্লাহ।

১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ফলাফলের বেশিরভাগই রাতের মধ্যে পাওয়ার প্রত্যাশা করছেন নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে নির্বাচন ভবনে প্রেস ব্রিফিংয়ে এ প্রত্যয় ব্যক্ত করেন নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ।

তিনি জানিয়েছেন, আগামীকাল বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) ব্যালট পেপার ও নির্বাচনী সামগ্রী বিতরণ শুরু হবে, সন্ধ্যার মধ্যে কেন্দ্রে যা ভোটকেন্দ্রে চলে যাবে। সংসদীয় আসন ও গণভোটের ফলাফল একসাথে গণনা হবে এবং ভোটের দিন ব্রিফিং হবে মোট চারবার।

সারাদেশের ভোটের ওপর সংখ্যাগরিষ্ঠের ভিত্তিতে গণভোটের ফলাফল দেওয়া হবে বলেও জানান আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ।

১২ ফেব্রুয়ারি ২৯৯ আসনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেছেন, একটি আসনে ভোট স্থগিত। সাড়ে চারটার পর কেন্দ্রের চৌহদ্দির মধ্যে ভোটার থাকলে তাদেরও ভোট নেয়া হবে। ২ হাজার ২৮ জন প্রার্থী অংশ নিচ্ছেন। যার মধ্যে ৮১ জন নারী প্রার্থী। মোট ৪২ হাজার ৬৫৯ কেন্দ্রে ভোট অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে আনুমানিক ৫০ শতাংশ সাধারণ, বাকি ৫০ শতাংশ গুরুত্বপূর্ণ বা ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র। মোট ভোটার ১২ কোটি ৭৭ লাখের বেশি।

আজ মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত দেশে ৭ লাখ ৩০ হাজার পোস্টাল ব্যালট দেশে পৌঁছানোর কথা বলা হয় ব্রিফিংয়ে।

আরও বলা হয়, ভোটে থাকছেন ৪৫ হাজার ৩৩০ জন দেশীয় পর্যবেক্ষক। ৯ লাখ ৫৮ হাজার জন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মাঠে থাকছেন। ২ হাজার ১০০ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, ৯৫৭ জন বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করবেন। নজরদারি নিশ্চিতে ৯০ ভাগের বেশি কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা আছে। এছাড়া, ড্রোন, বডিওর্ন ক্যামেরা থাকছে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ২৯৯টি আসনের সবকয়টিতেই ব্যালট পৌঁছে গেছে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ।

মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) নির্বাচনকে কেন্দ্র করে গণমাধ্যমকর্মীদের জন্য মিডিয়া সেন্টারের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

আখতার আহমেদ বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্যে কাজ করছে নির্বাচন কমিশন। শতভাগ শুদ্ধ ভোটার তালিকা প্রকাশ করা সম্ভব হয়নি। আর নতুন রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন চ্যালেঞ্জ ছিলো।

তিনি বলেন, ২৯৯ আসনে সব ব্যালট পৌঁছে গেছে। ভোটগ্রহণের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। মোবাইল ফোন নিয়ে ভোট কেন্দ্রে যাবার বিষয়ের প্রজ্ঞাপনটি আজ প্রত্যাহার করা হবে।

তিনি আরও বলেন, ভোট গণনার ক্ষেত্রে পোস্টাল ব্যালটের গণনা সময়সাপেক্ষ, তবে কোন অবস্থাতেই অতিরিক্ত বিলম্ব করা হবে না।

উল্লেখ্য, ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে ২৯৯টি আসনে নির্বাচন আগামী বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি)। শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী–ঝিনাইগাতী) আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদলের মৃত্যুতে আসনটিতে নির্বাচন স্থগিত করেছে নির্বাচন কমিশন।

 

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে প্রচারণা শেষ করেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ঘরে ফেরার আগে বাবা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত করেছেন তিনি।

সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) রাতে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের জিয়া উদ্যানে দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে কবরের পাশে দাঁড়িয়ে দোয়া ও মোনাজাতে অংশ নেন তারেক রহমান।

এর আগে, এদিনে ঢাকার আটটি স্থানে নির্বাচনি জনসভায় বক্তব্য দেন তিনি।

নির্বাচন কমিশন ঘোষিত তফশিল অনুযায়ী ২২ জানুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই প্রচারণায় বিএনপি চেয়ারম্যান বক্তব্য দিয়েছেন দেশের বিভিন্ন প্রান্তে- বিভাগীয় শহর থেকে প্রত্যন্ত জনপদে। ১৯ দিনে তিনি মোট ৪৩টি জনসভা ও পথসভায় অংশ নিয়েছেন। প্রতিটি সভায় ধানের শীষে ভোট চাওয়ার পাশাপাশি তুলে ধরেছেন বিএনপির রাষ্ট্রচিন্তা, উন্নয়ন পরিকল্পনা ও রাজনৈতিক অঙ্গীকার।

১৯ দিনের প্রচারে প্রথম সিলেট থেকে শুরু করেন তিনি। ২১ জানুয়ারি রাতে ঢাকা থেকে বিমানে সিলেট পৌঁছে প্রথমেই হজরত শাহজালাল (রহ.) ও শাহপরান (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করেন তারেক রহমান। বিমানবন্দর থেকে মাজার- রাস্তার দু’ধারে ছিল হাজার হাজার মানুষের ভিড়। বাসের ভেতর থেকে হাত নেড়ে তাদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।

পরদিন সকালে তরুণদের সঙ্গে ‘দ্য প্ল্যান: ইয়ুথ পলিসি টক’। তারপর আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে প্রথম জনসভা। সেখানেই ঘোষণা- বিএনপি ক্ষমতায় এলে মহানবী (সা.)-এর আদর্শে দেশ পরিচালনা করা হবে, দ্রুত শেষ হবে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের কাজ।

একই দিনে আরও ছয় জেলায় ছুটে গিয়ে জনসভা করেছেন- মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কিশোরগঞ্জ, নরসিংদী ও নারায়ণগঞ্জ।

পরদিন ঢাকা-১৭ আসনের নির্বাচনি সমাবেশ রাজধানীর ভাষানটেক বিআরবি মাঠে। মাঝে শারীরিক অসুস্থতায় কিছুটা ধীরতা এলেও ২৫ জানুয়ারি চট্টগ্রামের পলোগ্রাউন্ডে ফের চেনা ছন্দে। সেখানেই সবচেয়ে কড়া রাজনৈতিক বার্তা- দুর্নীতির টুঁটি চেপে ধরা হবে। সেই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ, খেটে খাওয়া মানুষের নিরাপত্তা আর সারাদেশে খাল খননের ঘোষণা- চট্টগ্রামের বক্তৃতায় একসঙ্গে প্রশাসন ও পরিবেশ দুই দিকই ছুঁয়েছেন তিনি।

ঢাকায় ফেরার পথে ফেনী, কুমিল্লা ও নারায়ণগঞ্জ। তারপর ময়মনসিংহ, গাজীপুর ও উত্তরা। উড়োজাহাজে উত্তরাঞ্চল সফর- রাজশাহী, নওগাঁ ও বগুড়া। দীর্ঘ নির্বাসনের পর প্রথমবার পৈতৃক ভিটায় পা রাখা- বগুড়ায় রাত কাটানো রাজনৈতিক সফর হয়েও ছিল ব্যক্তিগত আবেগে মোড়া।

রংপুরে গিয়ে জুলাই বিপ্লবের শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত ও পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। সিরাজগঞ্জ, টাঙ্গাইল পেরিয়ে যান খুলনা ও যশোর। বরিশালে হেলিকপ্টার থেকে নামা, ফরিদপুরে বিভাগ ঘোষণার প্রতিশ্রুতি ও পদ্মা ব্যারেজের কথা।

তারেক রহমান ফরিদপুরে বিভাগ, ঠাকুরগাঁওয়ে বিমানবন্দর, মেডিকেল কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, ক্যাডেট কলেজ ও তিস্তা মহাপরিকল্পনা দ্রুত বাস্তবায়নের আশ্বাস দিয়েছেন। ঢাকায় ৪০টি খেলার মাঠ, প্রশস্ত সড়ক ও নিরাপদ শহর গড়ার অঙ্গীকার করেছেন। প্রতিটি জনসভায় বক্তব্যের শেষে একই ডাক- সবার আগে বাংলাদেশ।

রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) ও সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) ঢাকার ১৫টি আসনে একের পর এক জনসভা করেছেন- মিরপুর, পল্লবী, তেজগাঁও, বাড্ডা, যাত্রাবাড়ী, লালবাগ। বনানীর কামাল আতাতুর্ক এভিনিউ মাঠে শেষ দিকের জনসভা। প্রচারের ব্যস্ততা থামে সেখানেই। প্রচারণা শেষে তারেক রহমান যান মা ও বাবার কবর জিয়ারতে। তার যে নির্বাচনি প্রচারণা শুরু হয়েছিল হজরত শাহজালালের মাজার জিয়ারতের মধ্য দিয়ে, তা শেষ হলো মা-বাবার কবর জিয়ারত করে ঘরে ফেরা দিয়ে।

 

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরিবেশকে ‘অত্যন্ত ইতিবাচক’ হিসেবে অভিহিত করেছেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশনের প্রধান ইভার্স ইজাবস। তাঁর প্রত্যাশা, একটি অত্যন্ত ভালো, অংশগ্রহণমূলক ও সর্বোপরি বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন হবে।

আজ মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর একটি হোটেলে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে ইভার্স ইজাবস এ আশাবাদের কথা শোনান।

নির্বাচনের পরিবেশ কেমন, তা জানতে চাইলে ইউরোপীয় ইউনিয়নের নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশনের প্রধান বলেন, নির্বাচনের সামগ্রিক পরিবেশ অত্যন্ত ইতিবাচক। সাধারণ পরিবেশটি খুবই আশাব্যঞ্জক। এই অর্থে যে তাঁদের অধিকাংশ আলোচনাসঙ্গী জোর দিয়ে বলেছেন, এটি বাংলাদেশের ইতিহাস ও গণতন্ত্রে একটি নতুন অধ্যায় হওয়া উচিত। এ কারণেই নির্বাচনের সামগ্রিক পরিবেশ ও সাধারণ প্রত্যাশা অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক।

ইভার্স ইজাবস আরও বলেন, ‘আমরা বিশ্বাসযোগ্য ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন দেখতে চাই।’

ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) ২৭টি সদস্য রাষ্ট্র এবং কানাডা, নরওয়ে ও সুইজারল্যান্ড থেকে আসা ২০০ জন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক নিয়ে মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনের মাঠে নামছে ইইউ।
বিজ্ঞাপন

সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) ইউরোপীয় ইউনিয়ন ইলেকশন অবজারবেশন মিশন বাংলাদেশ ২০২৬ এক বার্তায় এ তথ্য জানিয়েছে।

প্রশিক্ষণ শেষে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) ২৭টি সদস্য রাষ্ট্র, কানাডা, নরওয়ে এবং সুইজারল্যান্ড থেকে আগত মোট ২০০ জন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকসহ পূর্ণ প্রস্তুতি নিয়ে নির্বাচনের মাঠে নামছে ইইউ।

বার্তায় জানানো হয়, বর্তমানে সব স্বল্পমেয়াদি পর্যবেক্ষককে নির্বাচনের দিনের কার্যক্রম, ভোট গণনা এবং ফলাফলের তালিকা কিভাবে পর্যবেক্ষণ করতে হবে সে সম্পর্কে ঢাকায় প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।

আজ সারা দেশে সব পর্যবেক্ষক মোতায়েন করা হবে। আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি প্রধান পর্যবেক্ষক ইভার ইজাবস ঢাকায় সংবাদ সম্মেলনে মিশনের প্রাথমিক ফলাফল উপস্থাপন করবেন।

 

শেষ হয়েছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রার্থীদের প্রচারণার সময়। মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৭টায় নির্বাচনী প্রচারণার সময় শেষ হয়।

এর আগে শেষ মুহূর্তের প্রচারণায় বিভিন্ন স্থানে মধ্যরাতেও গণসংযোগ করেন প্রার্থী ও তাদের কর্মী-সমর্থকরা। প্রার্থী ও তাদের কর্মীরা নিজ নির্বাচনি এলাকা ঘুরে ঘুরে গণসংযোগ করেন। সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিয়ে ভোট চান। 

তারা বলেন, শেষ সময়ে প্রতি মিনিট, প্রতি সেকেন্ডও গুরুত্বপূর্ণ। সেই সময়টুকুও ব্যয় করতে চান ভোট প্রার্থনায়। কেউ আবার ভোরের আলো ফোঁটার পরপরই বের হয়ে পড়েন। 

সুষ্ঠু নির্বাচন হলে জয়ের আশা ব্যক্ত করেন প্রত্যেকেই। এদিকে, বিভিন্ন স্থানে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের বিরুদ্ধে অভিযোগও করেন কেউ কেউ। তবে ভোটাররা চান শান্তিপূর্ণ পরিবেশ।

ইসি সচিবালয় সূত্রে জানা যায়, দেশের ৪৯টি জেলায় ইতোমধ্যেই রিটার্নিং অফিসারদের কাছে ব্যালট পেপার পাঠানো হয়েছে এবং বাকি জেলাগুলোতে আজ রোববারের মধ্যে ব্যালট পৌঁছে যাবে। 

সম্প্রতি জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীর মৃত্যুতে শেরপুর-৩ আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বাতিল করে ইসি। এ কারণে আসনটি বাদে ২৯৯টি সংসদীয় আসনে একযোগে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

এবারের নির্বাচনে মোট ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৮৯৯ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার ১৫৪ জন, মহিলা ভোটার ৬ কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ৫২৫ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ১ হাজার ২২০ জন।

নির্বাচন কমিশন থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ৩০০ আসনের মধ্যে সর্বনিম্ন ভোটার ঝালকাঠি-১ আসনে ২ লাখ ২৮ হাজার ৪৩১ জন এবং সর্বোচ্চ ৮ লাখ ৪ হাজার ৩৩৩ জন ভোটার রয়েছে গাজীপুর-২ আসনে। 

এবারের নির্বাচনে মোট ৫১টি রাজনৈতিক দল অংশগ্রহণ করছে এবং নির্বাচনে মোট প্রার্থীর সংখ্যা ২ হাজার ৩৪ জন। এর মধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থী রয়েছেন ২৭৫ জন। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ২৯১ জন প্রার্থী দিয়েছে বিএনপি।

বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় এলে দেশে নারী অধিকার ক্ষতিগ্রস্ত হবে। জামায়াত ক্ষমতায় এলে নারীরা অফিস-আদালত, রাজনীতি কিংবা রাষ্ট্র পরিচালনার গুরুত্বপূর্ণ পদে যেতে পারবে না। এতে নারীরা ঘরে ও বাইরে সম্মান হারাবে এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ সংকুচিত হবে।

আজ সোমবার বিকেলে কুড়িগ্রাম সদরের কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে কুড়িগ্রাম-২ (কুড়িগ্রাম সদর, ফুলবাড়ী ও রাজারহাট) আসনে বিএনপির নির্বাচনী জনসভায় রুহুল কবির রিজভী এ কথা বলেন।

আল–জাজিরাকে দেওয়া জামায়াতের আমিরের সাক্ষাৎকারের প্রসঙ্গ টেনে রুহুল কবির বলেন, সম্প্রতি আল–জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জামায়াতের আমির বলেছেন, নারীরা সংসদ সদস্য হতে পারবে, কিন্তু দলের আমির কিংবা রাষ্ট্রের প্রধান হতে পারবে না। এই বক্তব্যই প্রমাণ করে, তারা ক্ষমতায় গেলে নারীদের মর্যাদা কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে। একটি রাজনৈতিক দলের এই অবস্থান নারীবান্ধব রাষ্ট্রের পরিপন্থী।

জামায়াতের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুলে বিএনপির এই নেতা বলেন, জামায়াতের আমির দিন-রাত যে পথ সুবিধাজনক মনে করছেন, সেই পথেই ক্ষমতায় যাওয়ার চেষ্টা করছেন। কিন্তু এতে তাঁদের আসল চরিত্র প্রকাশ পাচ্ছে। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেছেন, ক্ষমতায় গেলে ধাপে ধাপে শরিয়াহভিত্তিক আইন চালু করবেন। এতে বোঝা যায়, তাঁদের কথার কোনো স্থিরতা নেই, জনগণের কাছে দেওয়ার মতো সুস্পষ্ট অঙ্গীকারও নেই। ইসলাম নিয়ে রাজনীতির প্রধান শর্ত হলো ওয়াদা রক্ষা করা। কিন্তু জামায়াতের নেতৃত্ব সেই নৈতিক অবস্থানে নেই। মানুষ ইতিমধ্যে তাদের প্রকৃত চরিত্র বুঝে ফেলেছে।

বিএনপির প্রয়াত চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে কটূক্তির সমালোচনা করে রুহুল কবির রিজভী বলেন, টেলিভিশন খুললেই বিএনপির চেয়ারপারসনের নামে নানা নিন্দামূলক কথাবার্তা শোনা যায়। অথচ ইতিহাস ভুলে গেলে চলবে না। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান না থাকলে বাংলাদেশের মাটিতে জামায়াতে ইসলামী রাজনীতি করার সুযোগ পেত না। আর বেগম খালেদা জিয়া না থাকলে তারা কখনো মন্ত্রিত্বের স্বাদ পেত না। অথচ আজ তাদের মধ্যে কোনো কৃতজ্ঞতা নেই।

বিএনপির ওপর দীর্ঘদিন ধরে নির্যাতন চালানো হয়েছে উল্লেখ করে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব বলেন, স্বৈরাচারী ও দখলদার রাজনীতির সময় পার করে এসেছে বিএনপি। এখন আবার নতুন করে ফ্যাসিবাদ কায়েমের চেষ্টা চলছে। নানা নাটক, ভেলকিবাজি ও তামাশা শুরু হয়েছে। কিন্তু এসব সস্তা ভণ্ডামি দিয়ে জনগণের মন জয় করা যাবে না। আবার যেন দেশে ফ্যাসিবাদ ফিরে না আসে, সে জন্য সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। গণতন্ত্র ও মানুষের ভোটাধিকার রক্ষায় ধানের শীষে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

জনসভায় উপস্থিত ছিলেন কুড়িগ্রাম-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী মো. সোহেল হোসনাইন কায়কোবাদ, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান, যুগ্ম আহ্বায়ক শফিকুল ইসলামসহ বিএনপির কেন্দ্রীয় ও জেলা পর্যায়ের নেতারা।

গোপালগঞ্জ থেকে

আসন্ন গণভোট ও জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটারদের ভোটপ্রদান সহজ করতে ভোটার নম্বর ও ভোটকেন্দ্রের তথ্য জানার জন্য চারটি সহজ পদ্ধতি চালু করেছে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এসব পদ্ধতির মাধ্যমে ভোটাররা দ্রুত ও নির্ভুলভাবে তাদের ভোটার নম্বর ও ভোটকেন্দ্রের তথ্য জানতে পারবেন।

শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান নির্বাচন কমিশনের জনসংযোগ পরিচালক মো. রুহুল আমিন মল্লিক।

পদ্ধতি-১: Smart Election Management BD অ্যাপ

ভোটাররা Smart Election Management BD অ্যাপের মাধ্যমে ভোটার নম্বর ও ভোটকেন্দ্রের তথ্য জানতে পারবেন।

এজন্য Play Store বা App Store থেকে অ্যাপটি ডাউনলোড করে ইনস্টল করতে হবে। ইনস্টল শেষে ড্যাশবোর্ড থেকে ‘ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন’ নির্বাচন করে ‘ভোটকেন্দ্র খুঁজুন’ অপশনে ক্লিক করতে হবে। এরপর এনআইডি নম্বর ও জন্ম তারিখ ইনপুট দিলে ভোটার নম্বর, ভোটার ক্রমিক নম্বর, ভোটকেন্দ্রের নাম ও ঠিকানা প্রদর্শিত হবে।

পদ্ধতি-২: হটলাইন নম্বর ১০৫

ভোটার নম্বর ও ভোটকেন্দ্রের তথ্য জানার জন্য দেশের যে কোনো ভোটার হটলাইন নম্বর ১০৫-এ কল করতে পারবেন।
বিজ্ঞাপন

কল করার পর অপারেটরের সঙ্গে কথা বলতে ৯ প্রেস করতে হবে। এ পদ্ধতিতে তথ্য জানতে ভোটারের এনআইডি নম্বর ও জন্ম তারিখ প্রয়োজন হবে। প্রতিদিন ভোর ৬টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত এই সেবা চালু থাকবে।

পদ্ধতি-৩: এসএমএসের মাধ্যমে

এসএমএসের মাধ্যমে তথ্য জানতে মোবাইলের মেসেজ অপশনে গিয়ে PC <স্পেস> এনআইডি নম্বর লিখে ১০৫ নম্বরে পাঠাতে হবে।

ফিরতি এসএমএসের মাধ্যমে ভোটার নম্বর ও ভোটকেন্দ্রের তথ্য জানানো হবে।

পদ্ধতি-৪: নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইট

নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটের মাধ্যমেও ভোটার নম্বর ও ভোটকেন্দ্রের তথ্য জানা যাবে। এজন্য যেকোনো ব্রাউজার থেকে ecs.gov.bd ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে ‘ভোটকেন্দ্র’ মেনুতে ক্লিক করতে হবে। সেখানে দুটি উপায়ে তথ্য খোঁজা যাবে। প্রথমত, নির্বাচনি এলাকা ও উপজেলা/থানা নির্বাচন করে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রের তালিকা দেখা যাবে।

দ্বিতীয়ত, এনআইডি নম্বর ও জন্ম তারিখ দিয়ে অনুসন্ধান করলে ভোটার নম্বর ও ভোটকেন্দ্রের তথ্য পাওয়া যাবে। এছাড়া ভোটকেন্দ্রের অবস্থান গুগল ম্যাপে দেখার সুবিধাও রয়েছে।

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি গণভোট ও জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

রাজধানীর উত্তর বাড্ডা এলাকার পোস্ট অফিস গলির একটি বাড়ি থেকে শীর্ষ সন্ত্রাসী সুব্রত বাইন ঘনিষ্ঠ সহযোগী মেহেদী হাসান ওরফে দীপুকে গ্রেপ্তার করেছে সেনাবাহিনীর নেতৃত্বাধীন যৌথবাহিনীর একটি বিশেষ দল। পুলিশ বলছে, বাড়িটি মেহেদী হাসানেরই।  ওই বাড়ির তিন তলার একটি ফ্ল্যাট থেকে ১১টি অত্যাধুনিক বিদেশি অস্ত্র ও ৩৯৪টি গুলি উদ্ধার করা হয়েছে।

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) বাড্ডা অঞ্চলের সহকারী কমিশনার আসাদুজ্জামান বলেন, গতকাল শুক্রবার মেহেদী হাসানকে অস্ত্র ও গুলিসহ গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে একটি মামলা হয়েছে।  তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচদিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে।

কে এই সন্ত্রাসী দীপু

পুলিশ সূত্র জানায়, শীর্ষ সন্ত্রাসী সুব্রত বাইনের হয়ে রামপুরা,বনশ্রী, বাড্ডা,ভাটারা,বারিধারা ও গুলশান এলাকার অপরাধ নিয়ন্ত্রণ করে আসছিলেন মেহেদী হাসান দীপু। মেহেদী ও তাঁর সহযোগীদের কাছে আরও অস্ত্র রয়েছে। অস্ত্রগুলো মূলত  সুব্রত বাইন ও আরেক শীর্ষ সন্ত্রাসী মোল্লা মাসুদের। গত বছরের মে মাসে কুষ্টিয়া শহরে যৌথ বাহিনী অভিযানে সুব্রত বাইন ও মোল্লা মাসুদকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে সুব্রত বাইনের হয়ে অপরাধ জগৎ নিয়ন্ত্রণ করে আসছিলেন মেহেদী হাসান।

পুলিশ জানায়, আমলার এজাহারে বলা হয়েছে, গ্রেপ্তার মেহেদী হাসান সুব্রত বাইনের সহযোগী। তিনি দীর্ঘদিন ধরে বাড্ডা, ভাটারাসহ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অস্ত্র-গোলাবারুদ বিক্রি করে আসছিলেন।

নব্বইয়ের দশকে ঢাকার অপরাধজগতের আলোচিত নাম ছিল সুব্রত বাইন। আধিপত্য বিস্তার করে দরপত্র নিয়ন্ত্রণ ও বিভিন্ন স্থানে চাঁদাবাজিতে তাঁর নাম আসা ছিল তখনকার নিয়মিত ঘটনা। এসব কাজ করতে গিয়ে অসংখ্য খুন-জখমের ঘটনাও ঘটেছে।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র বলছে, সুব্রত বাইনের সহযোগী হিসেবে মেহেদী হাসান, ওয়াসির মাহমুদ সাঈদ ওরফে বড় সাঈদ, গোলাম মর্তুজা বাবু ওরফে মধু বাবু,সোহেল ওরফে কান্নি সোহেল কাজ করেন। গত এক বছরে এরা একাধিক খুনের ঘটনা ঘটিয়েছে। এরমধ্যে গত বছরের ২০ মার্চ গুলশানের পুলিশ প্লাজার সামনে ইন্টারনেট সংযোগের ব্যবসার সঙ্গে জড়িত সুমন নামের এক ব্যক্তিকে গুলি করে হত্যা করা হয়। এ হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ওয়াসির মাহমুদ সাঈদকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের দুই মাস পর জামিনে বেরিয়ে আসেন সাঈদ।

মেহেদী হাসানের সঙ্গে বাড্ডা ৩৭ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর মো. জাহাঙ্গীর আলম ও তাঁর ভাই আলমগীরেরও ঘনিষ্ঠতা রয়েছে বলে পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে।

পুলিশ সূত্র জানায়, ৫ আগস্টের পর প্রকাশ্যে আসেন সুব্রত বাইন। প্রতিবেশী দেশ থেকে বেশকিছু অস্ত্র সংগ্রহ করেন। পরে তিনি এলাকায় আধিপত্য বিস্তার শুরু করেন। মেরুল বাড্ডার আবাসিক এলাকার ভেতরে থাকা একটি মাছের আড়ত থেকেই দিনে কয়েক লাখ টাকা চাঁদা তুলতেন সুব্রত বাইন ও তাঁর সহযোগীরা। সুব্রত বাইন গ্রেপ্তারের পর মাছের আড়তটি নিয়ন্ত্রণ করতেন মেহেদী হাসান। এ ছাড়া গাড়ির শো রুমে,তৈরি পোশাক কারখানায়সহ বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে চাঁদাবাজি ও ঝুট ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করতেন তিনি।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) একটি সূত্র বলছে, বাড্ডা,ভাটাররাসহ বিভিন্ন এলাকায় ভাড়াটে খুনি হিসেবে কাজ করতেন মেহেদী হাসান ও তাঁর সহযোগীরা। তাঁরা বিভিন্ন এলাকার সন্ত্রাসীদের কাছে অস্ত্রও ভাড়া দিতেন। সুব্রত বাইনের অস্ত্রগুলো মেহেদী হাসান ও গোলাম মর্তুজা বাবু ওরফে মধু বাবুর কাছে রয়েছে। মধু বাবুর কাছেও আরও অন্তত ১৩ থেকে ১৪টি অস্ত্র রয়েছে।

গত ১৯ এপ্রিল রাতে রাজধানীর হাতিরঝিল থানাধীন নয়াটোলা মোড়ল গলির ‘দি ঝিল ক্যাফে’র সামনে যুবদল নেতা মো. আরিফ সিকদারকে গুলি করা হয়। পরে তিনি চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।  এ হত্যার সঙ্গে সুব্রত বাইনের সহযোগীরা জড়িত ছিল। এই হত্যা মামলায় সুব্রত বাইনের মেয়ে খাদিজা ইয়াসমিনকে রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করে ডিবি পুলিশ।

ডিবি পুলিশের একটি সূত্র বলছে, সুব্রত বাইন কুমিল্লার কারাগারে রয়েছেন। বাবার সঙ্গে দেখা করে সুব্রত বাইনের সহযোগি মেহেদী হাসান, মধু বাবুসহ বিভিন্নজনকে বার্তা পৌঁছে দিতেন খাদিজা ।

পুলিশ জানায়, গতকাল মেহেদী হাসানকে গ্রেপ্তারের সময় উত্তর বাড্ডার ওই বাড়ি থেকে অস্ত্র ও গুলি ছাড়াও পিস্তলের ৮টি ম্যাগাজিন, ৩২ টি কার্তুজ, একটি ২২ উজি মেশিনগান রাইফেল, উজি রাইফেলের দুটি ম্যাগাজিন, তিনটি চায়নিজ কুড়াল, একটি টাইগার হান্টিং কমান্ডো চাকু, দুটি ওয়াকিটকি, একটি ওয়াকিটকি ব্যাটারি, তিনটি পিস্তলের সাইড কভার ও একটি ল্যাপটপ উদ্ধার করা হয়েছে।

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট-২০২৬ আয়োজনে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সব প্রস্তুতি এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে। নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার জানিয়েছেন, ভোটগ্রহণের জন্য কমিশন পুরোপুরি প্রস্তুত এবং এখন কেবল ভোটারদের কেন্দ্রে এসে ভোটাধিকার প্রয়োগের অপেক্ষা। 

বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা- বাসসকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, আমাদের সব প্রস্তুতি শেষ। ভোটাররা এখন কেন্দ্রে গিয়ে নির্ভয়ে তাদের রায় দেবেন, এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

ইসি কমিশনার জানান, দেশের ১১৬টি সংসদীয় আসনে ইতিমধ্যেই ব্যালট পেপার পৌঁছে দেওয়া হয়েছে এবং বাকি আসনগুলোতে আগামী ৭ ফেব্রুয়ারির মধ্যে ব্যালট পৌঁছে যাবে। আদালতের নির্দেশে শেষ মুহূর্তে কিছু প্রার্থীর প্রার্থিতা ফিরে পাওয়ার কারণে কয়েকটি আসনে ব্যালট পুনর্মুদ্রণ করতে হয়েছে, যার ফলে সরবরাহে সামান্য বিলম্ব হয়েছে বলে ইসি সচিবালয় জানিয়েছে। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই তা রিটার্নিং কর্মকর্তাদের দপ্তরে পৌঁছাবে বলে আশ্বস্ত করা হয়েছে।

কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার জানান, বাংলাদেশের ইতিহাসে এর আগে এত বিপুল সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কখনো নির্বাচনী মাঠে দেখা যায়নি। ভোটারদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নির্বাচনের সাতদিন আগে থেকেই সেনাবাহিনী মাঠে থাকবে এবং আনসার সদস্যরা আটদিন দায়িত্ব পালন করবেন। পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা ইতিমধ্যেই দেশজুড়ে সক্রিয় রয়েছেন। এছাড়া নির্বাচনী এলাকায় শান্তি বজায় রাখতে ১ হাজার ৫০ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এবং জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটরা ৮ থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মাঠে থেকে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করবেন।

ইসি সূত্রে জানা গেছে, এবারের নির্বাচনে মোট ভোটারের সংখ্যা ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৭৯৩ জন। যার মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৪৮ লাখের বেশি এবং নারী ভোটার ৬ কোটি ২৮ লাখের ওপরে। তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ১ হাজার ২৩২ জন। 

গাজীপুর-২ আসনে সবচেয়ে বেশি ৮ লাখ ৪ হাজার ভোটার এবং ঝালকাঠি-১ আসনে সবচেয়ে কম ২ লাখ ২৮ হাজার ভোটার রয়েছেন। প্রায় ২ হাজার ৩৪ জন প্রার্থী ৩০০টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যেখানে বিএনপি ২৮৮ জন প্রার্থী নিয়ে সবচেয়ে এগিয়ে। তবে শেরপুর-৩ আসনে জামায়াত প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে সেখানে ভোট স্থগিত করা হয়েছে।

নির্বাচন কমিশন প্রত্যাশা করছে এবারের নির্বাচনে অন্তত ৫৫ শতাংশ বা তার বেশি ভোটার উপস্থিত হতে পারেন। দেশি ও বিদেশি প্রায় ৫৬ হাজার পর্যবেক্ষক এই গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করবেন।

প্রবাসীদের সুবিধার্থে পোস্টাল ব্যালটের ব্যবস্থা করা হয়েছে, যেখানে ইতিমধ্যেই বড় সংখ্যক ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন।

এদিকে আগামী ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টায় সকল প্রচার-প্রচারণা বন্ধ হবে, এর ঠিক ৪৮ ঘণ্টা পর ১২ ফেব্রুয়ারি দেশবাসী তাদের পরবর্তী সরকার নির্ধারণে ভোট দেবেন।