আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট-২০২৬ আয়োজনে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সব প্রস্তুতি এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে। নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার জানিয়েছেন, ভোটগ্রহণের জন্য কমিশন পুরোপুরি প্রস্তুত এবং এখন কেবল ভোটারদের কেন্দ্রে এসে ভোটাধিকার প্রয়োগের অপেক্ষা।
বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা- বাসসকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, আমাদের সব প্রস্তুতি শেষ। ভোটাররা এখন কেন্দ্রে গিয়ে নির্ভয়ে তাদের রায় দেবেন, এটাই আমাদের প্রত্যাশা।
ইসি কমিশনার জানান, দেশের ১১৬টি সংসদীয় আসনে ইতিমধ্যেই ব্যালট পেপার পৌঁছে দেওয়া হয়েছে এবং বাকি আসনগুলোতে আগামী ৭ ফেব্রুয়ারির মধ্যে ব্যালট পৌঁছে যাবে। আদালতের নির্দেশে শেষ মুহূর্তে কিছু প্রার্থীর প্রার্থিতা ফিরে পাওয়ার কারণে কয়েকটি আসনে ব্যালট পুনর্মুদ্রণ করতে হয়েছে, যার ফলে সরবরাহে সামান্য বিলম্ব হয়েছে বলে ইসি সচিবালয় জানিয়েছে। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই তা রিটার্নিং কর্মকর্তাদের দপ্তরে পৌঁছাবে বলে আশ্বস্ত করা হয়েছে।
কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার জানান, বাংলাদেশের ইতিহাসে এর আগে এত বিপুল সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কখনো নির্বাচনী মাঠে দেখা যায়নি। ভোটারদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নির্বাচনের সাতদিন আগে থেকেই সেনাবাহিনী মাঠে থাকবে এবং আনসার সদস্যরা আটদিন দায়িত্ব পালন করবেন। পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা ইতিমধ্যেই দেশজুড়ে সক্রিয় রয়েছেন। এছাড়া নির্বাচনী এলাকায় শান্তি বজায় রাখতে ১ হাজার ৫০ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এবং জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটরা ৮ থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মাঠে থেকে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করবেন।
ইসি সূত্রে জানা গেছে, এবারের নির্বাচনে মোট ভোটারের সংখ্যা ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৭৯৩ জন। যার মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৪৮ লাখের বেশি এবং নারী ভোটার ৬ কোটি ২৮ লাখের ওপরে। তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ১ হাজার ২৩২ জন।
গাজীপুর-২ আসনে সবচেয়ে বেশি ৮ লাখ ৪ হাজার ভোটার এবং ঝালকাঠি-১ আসনে সবচেয়ে কম ২ লাখ ২৮ হাজার ভোটার রয়েছেন। প্রায় ২ হাজার ৩৪ জন প্রার্থী ৩০০টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যেখানে বিএনপি ২৮৮ জন প্রার্থী নিয়ে সবচেয়ে এগিয়ে। তবে শেরপুর-৩ আসনে জামায়াত প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে সেখানে ভোট স্থগিত করা হয়েছে।
নির্বাচন কমিশন প্রত্যাশা করছে এবারের নির্বাচনে অন্তত ৫৫ শতাংশ বা তার বেশি ভোটার উপস্থিত হতে পারেন। দেশি ও বিদেশি প্রায় ৫৬ হাজার পর্যবেক্ষক এই গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করবেন।
প্রবাসীদের সুবিধার্থে পোস্টাল ব্যালটের ব্যবস্থা করা হয়েছে, যেখানে ইতিমধ্যেই বড় সংখ্যক ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন।
এদিকে আগামী ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টায় সকল প্রচার-প্রচারণা বন্ধ হবে, এর ঠিক ৪৮ ঘণ্টা পর ১২ ফেব্রুয়ারি দেশবাসী তাদের পরবর্তী সরকার নির্ধারণে ভোট দেবেন।