আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে ইরানের ওপর অনেক নিষেধাজ্ঞা আছে। তা সত্ত্বেও ইরানের তেল বিক্রি থেমে নেই। ইরানের তেলের সবচেয়ে বড় ক্রেতা হচ্ছে চীন।

বাস্তবতা হলো, ডলার এড়িয়ে তেল কেনা চীনের পক্ষে লাভজনক। আমেরিকার নিষেধাজ্ঞার সময়ে ইরান থেকে তেল কিনতে ডলারের বদলে অন্য মুদ্রা ব্যবহার করতে চেয়েছিল চীন। ইরানের মোট তেল রপ্তানির ৯০ শতাংশই কেনে চীন। ২০২৫ সালে চীন জলপথে যত অপরিশোধিত তেল আমদানি করেছে, তার ১৩-১৪ শতাংশ এসেছে ইরান থেকে। একাধিক প্রতিবেদনের সূত্রে এনডিটিভি জানিয়েছে, এই তেলের দাম মেটানো হয়েছে চীনা মুদ্রা ইউয়ানে, তা–ও আবার ঘুরপথে। খবর ভিজ্যুয়াল ক্যাপিটালিস্ট।

ভারতের এনডিটিভিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ম্যাগনাম ফিনভেস্ট সার্ভিসেসের সৌরভ জৈন জানিয়েছেন, এই লেনদেনের পেছনে আছে স্বল্পপরিচিত এক চীনা ব্যাংক, নাম ব্যাংক অব কুনলুন।

চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থার অধীন থাকা এই ব্যাংক মূলত বাণিজ্যিক লেনদেন সম্পন্ন করে থাকে। চীন-ইরান তেল ব্যবসায় আর্থিক লেনদেনের মাধ্যম ছিল এই ব্যাংক। ডলারের বদলে ইউয়ানে তেলের দাম মেটানো এবং ঘুরপথে সেই ইউয়ান চীনের বাজারে নিয়ে আসা, এ প্রক্রিয়ার পরিকল্পনার মূল হোতা এই ব্যাংক।

এনডিটিভির সংবাদ অনুসারে, সরকারিভাবে ইরান থেকে তেল কিনতে পারে না চীন। ইরানের তেলকে মালয়েশিয়ার তেল পরিচয় দিয়ে জাহাজে করে চীনে আনা হয়। নিষেধাজ্ঞা থাকায় ডলারে লেনদেন হলে নজরে পড়ে যাবে। সেই কারণেই কুনলুন ব্যাংকের মাধ্যম ইউয়ানে তেলের দাম মেটানো হতো।

যেহেতু চীনা মুদ্রায় দাম মেটানো হয়েছে, সেহেতু চীনের বাজারেই সেটা খরচ করতে একপ্রকার বাধ্য থাকত ইরান। চীনা যন্ত্রপাতি, বৈদ্যুতিক যন্ত্রাংশ, অবকাঠামোগত সামগ্রী থেকে শুরু করে আরও অনেক কিছু কেনে ইরান। ফলে তেলের জন্য যে টাকা চীন খরচ করে, তা ঘুরপথে চীনের অর্থনীতিতেই প্রবেশ করে।

ইরানের আয়

ভিজ্যুয়াল ক্যাপিটালিস্ট বলছে, ২০২৪ সালে তেল রপ্তানি থেকে ইরানের আয় হয়েছে প্রায় ৩৫ দশমিক ৭৬ বিলিয়ন বা ৩ হাজার ৫৭৬ কোটি ডলার। তবে নিছক বাজারচাহিদার কারণে এই আয়, সেটা বলা যাবে না; বরং এর পেছনে ভূরাজনৈতিক সমীকরণ ছিল স্পষ্ট।

আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার চাপে অনেক দেশ ইরানি তেল আমদানি কমিয়ে দিলেও বেইজিং পিছু হটেনি। ফলত ইরানের রপ্তানির ৯০ শতাংশের বেশি গেছে চীনে—মূল্য প্রায় ৩২ দশমিক ৫ বিলিয়ন বা ৩ হাজার ২৫০ কোটি ডলার। এই নির্ভরতার কারণে চীন কার্যত তেহরানের প্রধান জ্বালানি অংশীদার।

চীনের বাইরে ক্রেতার তালিকা খুবই সংক্ষিপ্ত। চীনের বাইরে সিরিয়া একমাত্র দেশ, যারা ইরান থেকে ১ বিলিয়ন বা ১০০ কোটি ডলারের বেশি তেল কিনেছে—ইরানের মোট রপ্তানির মাত্র ৩ দশমিক ৩ শতাংশ। এরপর আছে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ভেনেজুয়েলা, যাদের হিস্যা যথাক্রমে প্রায় ২ ও ১ দশমিক ২ শতাংশ। দেখে নেওয়া যাক, ইরানের শীর্ষ ১০ তেল ক্রেতা কোন দেশগুলো—

ইরান সস্তায় তেল বিক্রি করছে

একসময় ইরান অনেক দেশেই তেল রপ্তানি করত। কিন্তু নিষেধাজ্ঞার চাপে সম্প্রতি ইরানের তেল ক্রেতা দেশের তালিকা উল্লেখযোগ্যভাবে ছোট হয়ে গেছে। ২০১০ সালে চীন, জাপান, ভারত, দক্ষিণ কোরিয়া ও একাধিক ইউরোপীয় দেশে ইরানের তেল রপ্তানি হতো। মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে রপ্তানি পুরোপুরি বন্ধ না হলেও ইরানের তেল বাণিজ্যের পরিসর অনেক ছোট হয়ে গেছে। খবর ভিজ্যুয়াল ক্যাপিটালিস্টের।

বর্তমানে নিষেধাজ্ঞা এড়াতে ইরান ‘শ্যাডো ফ্লিট’ বা পুনর্নিবন্ধিত ট্যাংকার ব্যবহার করছে। সেই সঙ্গে জাহাজ থেকে জাহাজে তেল স্থানান্তরের মাধ্যমে উৎস গোপন রাখছে। দামও বড় বিষয়। আন্তর্জাতিক বাজারের মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুডের তুলনায় ইরানের অপরিশোধিত তেল সাধারণত ব্যারেলপ্রতি ৩ থেকে ৯ ডলার কম দামে বিক্রি হয়। উৎপাদন খরচ তুলনামূলকভাবে কম। এই ছাড়ের কারণে তেহরানের বছরে কয়েক বিলিয়ন বা কয়েক শ কোটি ডলার ক্ষতি হচ্ছে। অর্থাৎ হাতে গোনা কয়েকটি ক্রেতা দেশকে ধরে রাখার মূল্য হিসেবে ইরানকে বড় ধরনের ছাড় দিতে হচ্ছে।

ইরান আজ বৃহস্পতিবার ভোরে ইসরায়েলকে নিশানা করে একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে। এর জেরে লাখো ইসরায়েলি বোমা থেকে সুরক্ষা পাওয়ার আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিতে বাধ্য হন। বার্তা সংস্থা রয়টার্স এই তথ্য জানায়।

ইসরায়েলের জরুরি পরিষেবা সংস্থার বরাত দিয়ে এএফপি বলছে, এই ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় হতাহতের কোনো তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

এএফপির প্রতিবেদকেরা জেরুজালেমে একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শুনতে পেয়েছেন।

মার্কিন জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন ইরানে তাদের পরবর্তী লক্ষ্য ও পরিকল্পনা তুলে ধরেছেন। আজ বুধবার মার্কিন প্রতিরক্ষা সদরদপ্তর পেন্টাগনে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের সঙ্গে যৌথ ব্রিফিংয়ে তিনি চলমান অভিযানের সর্বশেষ তথ্য তুলে ধরেন।

জেনারেল কেইন বলেন, ‘আমরা ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থাকে লক্ষ্যবস্তু করছি, যাতে তারা এই অঞ্চলে মার্কিন বাহিনী, মার্কিন স্বার্থ এবং আমাদের সহযোগীদের জন্য হুমকি হয়ে না দাঁড়াতে পারে।’

মার্কিন জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান আরও বলেন, ‘দ্বিতীয়ত, আমরা তাদের (ইরানের) নৌবাহিনী ধ্বংস করছি এবং বিশ্বজুড়ে অভিযান পরিচালনার ক্ষেত্রে তাদের সক্ষমতা ও দক্ষতা কমিয়ে দিচ্ছি।’

জেনারেল কেইন বলেন, ‘তৃতীয়ত আমরা নিশ্চিত করছি যে, ইরান যেন দ্রুত তাদের যুদ্ধ সক্ষমতা বা শক্তি পুনর্গঠন করতে না পারে। অভিযান যত এগোবে, এই ধাপগুলোও সে অনুযায়ী কার্যকর হবে।’

পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে মার্কিন জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান বলেন, পরবর্তী লক্ষ্য হলো ‘ইরানের মূল ভূখণ্ডের আরও গভীরে পর্যায়ক্রমে হামলা চালানো এবং মার্কিন বাহিনীর অভিযান পরিচালনার বাড়তি সুযোগ তৈরি করা।’

শ্রীলঙ্কার জলসীমার কাছে ভারত মহাসাগরে একটি ইরানি যুদ্ধজাহাজ ডুবতে শুরু করার পর দেশটির নৌবাহিনী অন্তত ৩০ জন নৌসেনাকে জীবিত উদ্ধার করেছে। বুধবার (৪ মার্চ) শ্রীলঙ্কার সামরিক কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে রয়টার্স এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

শ্রীলঙ্কার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জানান, জাহাজ থেকে জরুরি বিপৎসংকেত পাওয়ার পর দ্রুত উদ্ধারকারী দল পাঠানো হয়। প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও বেশ কিছু নৌসেনাকে প্রাণে রক্ষা করা সম্ভব হয়েছে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিজিথা হেরাথ জানান, ১৮০ জন ক্রু বহনকারী জাহাজটির আহত নৌসেনাদের উদ্ধার করে দক্ষিণাঞ্চলের একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তবে জাহাজ কেন ডুবতে শুরু করেছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি।

দূর্ঘটনাকবলিত জাহাজটি ইরানের নৌবাহিনীর শক্তিশালী ফ্রিগেট ‘আইরিস দেনা’ হিসেবে চিহ্নিত। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ও প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকেরা বলছেন, জাহাজটি শ্রীলঙ্কার গল শহরের কাছাকাছি অবস্থানকালে বিপদের মুখে পড়ে সাহায্য চেয়ে বার্তা পাঠায়।

ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম এখন পর্যন্ত দুর্ঘটনার কারণ সম্পর্কে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়নি। তবে সাম্প্রতিক সময়ে পারস্য উপসাগর ও ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে চলমান সামরিক উত্তেজনার কারণে এই ঘটনার গুরুত্ব বাড়ছে।

আন্তর্জাতিক সামরিক বিশেষজ্ঞরা এটিকে কারিগরি ত্রুটি হিসেবে দেখলেও, অন্তর্ঘাতমূলক হামলার সম্ভাবনাও পুরোপুরি অস্বীকার করা হয়নি।

বর্তমানে উদ্ধার হওয়া নৌসেনাদের চিকিৎসা প্রদান করা হচ্ছে এবং নিখোঁজ বাকি সদস্যদের সন্ধানে তল্লাশি অভিযান অব্যাহত আছে। জাহাজের বর্তমান অবস্থা বা পুরোপুরি ডুবে গেছে কি না, তা নিশ্চিত হতে আরও সময় লাগবে।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

 

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধে ভূমধ্যসাগরে বিমানবাহী রণতরি ‘চার্লস দ্য গল’ পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ। 

ফ্রান্সে জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক ভাষণে প্রেসিডেন্ট মাখোঁ এ নির্দেশ দেন। আগে থেকে রেকর্ড করা ভাষণটি গতকাল মঙ্গলবার দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সম্প্রচার করা হয়।

ভাষণে এমানুয়েল মাখোঁ বলেন, ফ্রান্স একটি জোট গড়ার চেষ্টায় রয়েছে। এ জোট মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান সংকটের কারণে সমুদ্রপথে বিপজ্জনক হয়ে ওঠা জাহাজ চলাচল ব্যবস্থা সুরক্ষিত রাখতে সহায়তা করবে।

ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়া এবং ক্রমবর্ধমান সংঘাতের কারণে সুয়েজ খাল ও লোহিত সাগরে জাহাজ চলাচল হুমকির মুখে পড়েছে। এ বিষয়ে আশু পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।

তথ্যসূত্র: রয়টার্স

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের সাথে ভালো আলোচনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা সফররত যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী পল কাপুর।

বুধবার (৪ মার্চ) সকালে প্রথমে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদের সাথে সাক্ষাৎ করেন তিনি। পরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের সাথে প্রায় ঘণ্টার বৈঠক করেন। এ সময় দুই দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য বাড়ানোসহ নানা ইস্যুতে কথা বলেন তারা।

বেরিয়ে যাওয়ার সময় আনুষ্ঠানিকভাবে গণমাধ্যমের সাথে কথা বলেননি মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে সচিবালয়ে গেছেন পল কাপুর। সেখানে বাণিজ‍্য, বিদ্যুৎ ও অর্থমন্ত্রীর সাথে বৈঠকের কর্মসূচি আছে তার।

দুই দিনের সফরে গতকাল মঙ্গলবার রাতে ঢাকায় এসেছেন পল কাপুর। আজ দিনভর ব্যস্ত থাকবেন তিনি, রয়েছে নানা কর্মসূচি।

সৌদি আরবে মার্কিন দূতাবাসে অবস্থিত দেশটির কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার (সিআইএ) স্টেশনে গতকাল সোমবার ড্রোন হামলা হয়েছে। এটি ইরানি ড্রোন ছিল বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত একটি সূত্র আজ মঙ্গলবার রয়টার্সকে এই তথ্য জানিয়েছে।

তবে ওই সূত্র বলেছে, সিআইএর স্টেশনটি সরাসরি হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল—এমন কোনো ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি।

সিআইএ এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।

গত শনিবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে হামলা শুরু করে। জবাবে ইসরায়েল এবং মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইরান। এর মধ্যে সৌদি আরবে সিআইএর স্টেশনে হামলার ঘটনা ঘটল।

সংঘাত চলাকালে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসেও হামলা হয়েছে। সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলেছে, দুটি ড্রোন ব্যবহার করে দূতাবাসটিতে হামলা চালানো হয়। এতে সীমিত আকারে আগুন লাগে। কিছু বস্তুগত ক্ষয়ক্ষতি হয়।

সূত্র: রয়টার্স

সৌদি আরবে মার্কিন দূতাবাসে অবস্থিত দেশটির কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার (সিআইএ) স্টেশনে গতকাল সোমবার ড্রোন হামলা হয়েছে। এটি ইরানি ড্রোন ছিল বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত একটি সূত্র আজ মঙ্গলবার রয়টার্সকে এই তথ্য জানিয়েছে।

তবে ওই সূত্র বলেছে, সিআইএর স্টেশনটি সরাসরি হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল—এমন কোনো ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি।

সিআইএ এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।

গত শনিবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে হামলা শুরু করে। জবাবে ইসরায়েল এবং মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইরান। এর মধ্যে সৌদি আরবে সিআইএর স্টেশনে হামলার ঘটনা ঘটল।

সংঘাত চলাকালে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসেও হামলা হয়েছে। সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলেছে, দুটি ড্রোন ব্যবহার করে দূতাবাসটিতে হামলা চালানো হয়। এতে সীমিত আকারে আগুন লাগে। কিছু বস্তুগত ক্ষয়ক্ষতি হয়।

সূত্র: রয়টার্স

বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক নিয়ে আলোচনার জন্য দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী পল কাপুর আজ বুধবার সকালে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এসেছেন। সকাল ৯টার আগেই তিনি মন্ত্রণালয়ে পৌঁছান।

দিনের শুরুতে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামের সঙ্গে আলোচনা করছেন পল কাপুর। এরপর তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের সঙ্গে আলোচনা করবেন।

পরে পল কাপুর সচিবালয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির এবং জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদের সঙ্গে আলোচনা করবেন।

সন্ধ্যায় ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদলের সঙ্গে মতবিনিময়ের পাশাপাশি সফর উপলক্ষে নৈশভোজে অংশ নেবেন পল কাপুর।

ঢাকা–ওয়াশিংটন কৌশলগত সম্পর্ক আরও জোরদারের লক্ষ্য নিয়ে পল কাপুর গতকাল মঙ্গলবার রাতে ঢাকায় আসেন। গত অক্টোবরে দায়িত্ব নেওয়ার পর এটাই পল কাপুরের প্রথম বাংলাদেশ সফর।

কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, এ সফরে দ্বিপক্ষীয় বিষয়গুলোর পাশাপাশি ভূরাজনৈতিক প্রসঙ্গগুলো আলোচনায় আসবে। ঢাকা-ওয়াশিংটন সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনার প্রেক্ষাপটে ব্যবসা–বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা, ভিসার মতো বিষয়গুলোয় যুক্তরাষ্ট্রের অগ্রাধিকার থাকতে পারে। মূলত গত ফেব্রুয়ারিতে অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে সই করা অ্যাগ্রিমেন্ট অন রেসিপ্রোকাল ট্রেড (আর্ট) চুক্তি মেনে চলার বার্তা থাকবে নতুন সরকারের প্রতি। আর এ কারণে চুক্তির আগে এ বিষয়ে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে আলাদা বৈঠকও করেছে মার্কিন বাণিজ্য দপ্তর।

গত শনিবার থেকে ইরানে 'অপারেশন এপিক ফিউরি' অভিযান শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ২ হাজার লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এছাড়াও হামলায় ইরানের ১৭টি জাহাজ ধ্বংস করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার।

এক বিবৃতিতে ব্র্যাড কুপার বলেন, ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শুরু হওয়ার ১শ' ঘণ্টা পার হওয়ার আগেই অভূতপূর্ব সাফল্য অর্জন করেছি। এই অভিযানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি বাহিনী ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন, নৌযান এবং কমান্ড অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে।'

ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ও প্রতিরক্ষামন্ত্রীর নির্দেশে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী এমন এক নজিরবিহীন অভিযান পরিচালনা করছে। লক্ষ্য—ইরানের সেই সক্ষমতা ধ্বংস করা, যার মাধ্যমে তারা প্রায় অর্ধশতাব্দী ধরে আমেরিকানদের হুমকির মুখে ফেলছে।

তিনি আরও জানান, এই অভিযানে ৫০ হাজারেরও বেশি সেনা সদস্য, ২০০ যুদ্ধবিমান, দুটি বিমানবাহী রণতরী এবং যুক্তরাষ্ট্রের বোমারু বিমান অংশ নিচ্ছে। পাশাপাশি আরও সামরিক সক্ষমতা যোগ হচ্ছে। 

মার্কিন সিনেটে প্রেসিডেন্টের যুদ্ধ ঘোষণার ক্ষমতা সীমিত করার প্রস্তাবের ওপর ভোটাভুটি অনুষ্ঠিত হবে আজ। বুধবার (৪ মার্চ) প্রস্তাবটি পাস হলে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের যুদ্ধ ঘোষণার ক্ষমতা নিয়ন্ত্রণে আসবে।

বিলটি নিয়ে বিতর্ক শুরু হওয়ার কথা রয়েছে স্থানীয় সময় সকাল ১১টায়। বিকেল ৪টায় ভোটাভুটি অনুষ্ঠিত হবে।

এরই মধ্যে সমালোচনা জোরদার হয়েছে যে, ট্রাম্প কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়াই ইরানে হামলা চালিয়েছেন। মার্কিন কংগ্রেসকে পাশ কাটিয়ে ইরানে এতো বড় হামলায় চালাতে পারেন কিনা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তা নিয়ে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। যদিও কংগ্রেসকে উপেক্ষা করে হামলা শুরুর ঘোষণা দেন ট্রাম্প। দেশটির আইন প্রণেতারা ট্রাম্পের এমন পদক্ষেপ সমর্থন করছেন না বলা জানিয়েছে নিউ ইয়র্ক টাইমস।

এদিকে, ইরান বলছে, এই যুদ্ধে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইসরায়েলকে সন্তুষ্ট করার জন্য কাজ করছে; মার্কিন নাগরিকদের জন্য নয়। 

 

 

 

 

মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে ইরানের সর্বোচ্চ নেতৃত্ব ঘিরে নাটকীয় দাবির প্রেক্ষাপটে। বুধবার (৪ মার্চ) ইরানভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ইরান ইন্টারন্যাশনাল দাবি করেছে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যুর পর তার ছেলে মোজতবা খামেনিকে নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে নির্বাচিত করেছে দেশটির এসেম্বলি অব এক্সপার্ট।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) প্রভাবেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যদিও এ বিষয়ে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম বা সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো নিশ্চিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এর আগে, বার্তাসংস্থা ফার্স নিউজ জানায়, ৮৬ বছর বয়সী আয়াতুল্লাহ খামেনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় নিহত হয়েছেন এবং তাকে মাশহাদ শহরের ইমাম রেজা মাজারে সমাহিত করা হবে। তবে দাফনের নির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণা করা হয়নি।

এদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে অবস্থিত মার্কিন কনস্যুলেট ভবনের নিকটে ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। প্রত্যক্ষদর্শীদের উদ্ধৃতি দিয়ে রয়টার্স জানায়, হামলার পর কনস্যুলেটের আশপাশ এলাকায় ধোঁয়া উঠতে দেখা যায়।

দুবাই মিডিয়া অফিসের এক বিবৃতিতে বলা হয়, ড্রোন হামলা থেকে আগুনের সূত্রপাত হলেও দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে এবং কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

এর আগে, সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসেও হামলার খবর পাওয়া যায়। তবে সেখানেও প্রাণহানির কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।বিশ্লেষকরা বলছেন, এসব ঘটনার প্রেক্ষাপটে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে বড় ধরনের ভূ-রাজনৈতিক সংকটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।