• Colors: Purple Color

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের টাম্পায় ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার (ইউএসএফ) দুই বাংলাদেশি পিএইচডি শিক্ষার্থী গত বৃহস্পতিবার থেকে ‘নিখোঁজ’ রয়েছেন।

নিখোঁজ শিক্ষার্থীরা হলেন জামিল লিমন ও নাহিদা এস. বৃষ্টি। তাঁদের বয়স ২৭ বছর। বিশ্ববিদ্যালয়ের পুলিশ বিভাগ গত মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে এই দুই শিক্ষার্থীর নিখোঁজ থাকার তথ্য গণমাধ্যমকে জানায়।

জামিল বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ভূগোল, পরিবেশবিজ্ঞান ও নীতি বিষয়ে পিএইচডি করছেন। অন্যদিকে নাহিদা পিএইচডি করছেন কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে।

বিশ্ববিদ্যালয় পুলিশ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, জামিল ও নাহিদাকে সবশেষ ১৬ এপ্রিল টাম্পায় দেখা গিয়েছিল। সেদিন জামিলকে সবশেষ দেখা যায় সকাল ৯টার দিকে, বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে তাঁর ছাত্রাবাসে।

অন্যদিকে নাহিদাকে সবশেষ দেখা যায় সেদিন সকাল ১০টার দিকে, বিশ্ববিদ্যালয়ের ন্যাচারাল অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্সেস বিল্ডিংয়ে।

বর্তমানে স্থানীয় হিলসবোরো কাউন্টি শেরিফ (পুলিশ) এই দুই নিখোঁজ শিক্ষার্থীকে খুঁজে বের করতে কাজ করছে।

যুক্তরাষ্ট্রের এনবিসিসহ একাধিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়, জামিল ও নাহিদার সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পেরে তাঁদের এক পারিবারিক বন্ধু পরদিন গত শুক্রবার বিকেল পাঁচটার দিকে বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে জানান। এর পরিপ্রেক্ষিতে দুটি নিখোঁজ ডায়েরি করা হয়। অঙ্গরাজ্য ও জাতীয় পর্যায়ের নিখোঁজ ব্যক্তির ডেটাবেজে দুজনের নাম ইতিমধ্যে তালিকাভুক্ত হয়েছে।

বিষয়টি তদন্তাধীন থাকায় পুলিশ কর্তৃপক্ষ এ ব্যাপারে বিস্তারিত আর কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি। তবে নিখোঁজ দুজনের বিষয়ে কোনো তথ্য জানলে তা অবিলম্বে কর্তৃপক্ষকে জানাতে অনুরোধ করেছে পুলিশ।

পুলিশের বরাতে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ফক্স ১৩ টাম্পা বে–এর প্রতিবেদনে বলা হয়, এই দুই শিক্ষার্থী যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্টের (আইসিই) হেফাজতে নেই।

দুই শিক্ষার্থীর নিখোঁজের ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বলেছেন, শক্তিশালী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ছাড়া কার্যকর পররাষ্ট্রনীতি বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। আমরা যুদ্ধের প্রস্তুতি নেই যুদ্ধ করার জন্য নয় বরং যুদ্ধ এড়ানোর জন্য। 

প্রতিরক্ষা খাত নিয়ে বক্তব্যে তিনি বলেন, দেশের আমদানি-রপ্তানি সমুদ্রপথনির্ভর হওয়ায় নৌবাহিনীর সক্ষমতা আরও বাড়ানো জরুরি। একই সঙ্গে বিমানবাহিনীর আধুনিকায়নের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি।

একই সঙ্গে তিনি বলেন, রোহিঙ্গা সংকট একটি জাতীয় সমস্যা এবং এটি সমাধানে সবাইকে সম্পৃক্ত হতে হবে।

সেনাপ্রধান বলেন, জ্বালানি নিরাপত্তা এখন একটি বড় ইস্যু। স্বাধীনতার ৫৪-৫৫ বছরেও দ্বিতীয় রিফাইনারি গড়ে না ওঠায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে।

সেনাপ্রধান বলেন, বর্তমান বিশ্ব অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং। প্রতিনিয়ত নতুন নতুন সংকট তৈরি হচ্ছে। জ্বালানি নিরাপত্তা এখন একটি বড় ইস্যু। দেশে একমাত্র রিফাইনারি ইস্টার্ন রিফাইনারি থাকায় চাহিদার তুলনায় খুব কম পরিমাণ অয়েল পরিশোধন সম্ভব হয় এবং বাকি জ্বালানি উচ্চমূল্যে আমদানি করতে হয়।

স্বাধীনতার পাঁচ দশক পার হলেও দ্বিতীয় রিফাইনারি গড়ে না ওঠায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির প্রসঙ্গ টেনে সেনাপ্রধান বলেন, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েল সংশ্লিষ্ট উত্তেজনা এবং হরমুজ প্রণালির মতো গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলের সংকট সরাসরি জ্বালানি সরবরাহে প্রভাব ফেলছে, যার প্রভাব পড়ে সাধারণ মানুষের জীবনে।

প্রতিরক্ষা খাত নিয়ে বক্তব্যে তিনি বলেন, দেশের আমদানি-রপ্তানি সমুদ্রপথনির্ভর হওয়ায় নৌবাহিনীর সক্ষমতা আরও বাড়ানো জরুরি। একই সঙ্গে বিমানবাহিনীর আধুনিকায়নের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি।

সমাপনী বক্তব্যে তিনি আশা প্রকাশ করেন, এনডিসি ভবিষ্যতে এ ধরনের কোর্সের সংখ্যা আরও বাড়াবে এবং অংশগ্রহণকারীরা নিজ নিজ ক্ষেত্রে অর্জিত জ্ঞান কাজে লাগিয়ে দেশের উন্নয়ন ও নিরাপত্তায় ভূমিকা রাখবেন।

গত ৫ থেকে ২৩ এপ্রিল পর্যন্ত অনুষ্ঠিত তিন সপ্তাহব্যাপী ‘ক্যাপস্টোন কোর্স ২০২৬/১’-এর সমাপনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। ক্যাপস্টোন কোর্স ফেলোদের মধ্যে সনদ বিতরণ করেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান।

এই কোর্সে মোট ৪৫ জন ফেলো অংশগ্রহণ করেন। যাদের মধ্যে ছিলেন সংসদ সদস্য, জ্যেষ্ঠ সামরিক ও পুলিশ কর্মকর্তা, খ্যাতনামা শিক্ষাবিদ, জ্যেষ্ঠ চিকিৎসক, সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার উচ্চপদস্থ প্রতিনিধি, কূটনীতিক এবং বিশিষ্ট ব্যবসায়ী প্রতিনিধি।

ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজের কমান্ড্যান্ট লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. ফয়জুর রহমান জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে অব্যাহত সংলাপ ও ঐকমত্য গঠনে গুরুত্ব আরোপ করেন।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, কোর্স চলাকালীন ফেলোদের সক্রিয় ও স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ, কৌশলগত বোঝাপড়া সম্প্রসারণের পাশাপাশি বিভিন্ন খাতের নেতৃত্বের মধ্যে একটি শক্তিশালী জাতীয় মেলবন্ধন গড়ে তুলতে সহায়ক হয়েছে।

ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজের অন্যতম প্রধান প্রশিক্ষণ হিসেবে ক্যাপস্টোন কোর্সটি কৌশলগত সচেতনতা বৃদ্ধি, গঠনমূলক চিন্তাধারার বিকাশ, আন্তঃবিভাগীয় সহযোগিতা জোরদার এবং জাতীয় নিরাপত্তা ও উন্নয়ন বিষয়ক একটি অভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তোলার লক্ষ্যে পরিচালিত হয়।

সমাপনী অনুষ্ঠানে সশস্ত্র বাহিনী ও বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তা, এনডিসির অনুষদ এবং অন্য বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

 

কৃষকেরা যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হন, সেটা নিশ্চিত করা, লোডশেডিং সহনীয় পর্যায়ে রাখা এবং গ্রাম–শহরে বিদ্যুৎবৈষম্য কমাতে রাজধানী ঢাকায় পরীক্ষামূলকভাবে ১১০ মেগাওয়াট লোডশেডিং করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ৩০০ বিধিতে দেওয়া এক বিবৃতিতে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম এ কথা জানান।

বিদ্যুৎ সমস্যার জন্য আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের অব্যবস্থাপনা এবং পর্যাপ্ত জ্বালানি সরবরাহের অভাবকে দায়ী করেন প্রতিমন্ত্রী। লোডশেডিংয়ে মানুষের কষ্টের কারণে সরকারের পক্ষ থেকে দুঃখ প্রকাশ করে তিনি বলেছেন, আজ যে রকম প্রায় ২ হাজার মেগাওয়াট লোডশেডিং দেখা যাচ্ছে বা যে কষ্ট স্বীকার করতে হচ্ছে, এটি আগামী সাত দিনের মধ্যে কমে যাবে।

নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে সরকার চেষ্টা করে যাচ্ছে উল্লেখ করে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী বলেন, এরপরও দেখা যাচ্ছে পর্যাপ্ত জ্বালানি সরবরাহের অভাবে কিছু কিছু জায়গায় লোডশেডিং হচ্ছে। এই বিষয় সহনীয় মাত্রায় আনার জন্য প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে এবং বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে আলোচনাক্রমে রাজধানী ঢাকায় ১১০ মেগাওয়াট প্রাথমিকভাবে, পরীক্ষামূলকভাবে লোডশেডিং করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

অনিন্দ্য ইসলাম বলেন, ‘আমরা মনে করি, শহরের মানুষ আরামে থাকবে এবং গ্রামের মানুষ অর্থাৎ খেটে খাওয়া কৃষক কষ্টে থাকবে, এটি কোনোভাবেই কাম্য নয়। কারণ, জুলাই অভ্যুত্থানের চেতনা ছিল বৈষম্যহীন বাংলাদেশ সমাজ অর্থাৎ শহর এবং গ্রামের মধ্যে কোনো বৈষম্য থাকতে পারে না, সেই বৈষম্যমুক্ত করার জন্য আমরা শহরেও প্রয়োজনে লোডশেডিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। যাতে করে কৃষকেরা তাঁদের সেচের জন্য পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ পেতে পারে।’

বর্তমানে উৎপাদন ক্ষমতা কাগজে কলমে অনেক বেশি থাকলেও বাস্তবতার সঙ্গে সেটির গড়মিল রয়েছে বলে উল্লেখ করেন বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, গতকাল (বুধবার) বিদ্যুতের সর্বোচ্চ চাহিদা ছিল প্রায় ১৬ হাজার মেগাওয়াট। বিপরীতে বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে সক্ষম হয়েছে ১৪ হাজার ১২৬ দশমিক ৩৫ মেগাওয়াট। অর্থাৎ ২ হাজার ৮৬ মেগাওয়াট লোডশেডিং করতে তাঁরা বাধ্য হয়েছেন।

এ ক্ষেত্রে সরকার প্রথম থেকেই একটি নীতি নিয়েছিল উল্লেখ করে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম বলেন, যেহেতু ফসল ওঠার মৌসুমে কোনোভাবেই কৃষকেরা যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হন। ফসলের ক্ষেত্রে সেচের জন্য পর্যাপ্ত ডিজেল এবং বিদ্যুৎ নিরবচ্ছিন্ন রাখার নির্দেশনা প্রধানমন্ত্রী দিয়েছিলেন। সেটি নিশ্চিত করার জন্য তাঁরা চেষ্টা করে যাচ্ছেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমি দেশবাসীর কাছে আজকে এই মহান সংসদে দাঁড়িয়ে তাঁদের এই কষ্টের জন্য তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকারের পক্ষ থেকে আমি বিনয়ের সঙ্গে আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছি। আমি শুধু আপনাদের আশ্বস্ত করতে চাই, আমাদের সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা রয়েছে জনগণের দুঃখ–কষ্ট লাঘব করে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ অব্যাহত রাখা।’

সক্ষমতা থাকলেও বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো উৎপাদনে ব্যর্থ হচ্ছে কেন, এমন প্রশ্ন উঠতে পারে উল্লেখ করে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রতিদিন বাংলাদেশে ৩ হাজার ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের চাহিদা রয়েছে। বর্তমানে উৎপাদন হয় প্রতিদিন ১ হাজার ৬৮৬ মিলিয়ন ঘনফুট। প্রতিদিন গড়ে আমদানি হয় ৯৫০ মিলিয়ন ঘনফুট। সামর্থ্য থাকলেও গ্যাসের আমদানি বাড়ানোর সুযোগ নেই। কারণ, এর জন্য যে অবকাঠামো রয়েছে, রাতারাতি সেই অবকাঠামোর সম্প্রসারণ সম্ভব নয়। এ অবকাঠামো বাড়ানোর জন্য বর্তমান সরকারের ১৮০ দিনের যে অগ্রাধিকার তালিকা রয়েছে, তার মধ্যে দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখা যাবে।

বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘দুটি আমদানিকৃত বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি এবং আরেকটি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নিজেদের মেইনটেন্যান্সের কারণে পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে পারছে না। আশা করছি, আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই তারা পূর্ণ উৎপাদনে যাবে। সে ক্ষেত্রে আজ যে রকম প্রায় ২ হাজার মেগাওয়াট লোডশেডিং আমরা দেখতে পাচ্ছি, কিংবা কষ্ট স্বীকার করছি, এটি আগামী সাত দিনের মধ্যেই কমে যাবে।’

দেশের ২০ জেলায় আজ বৃহস্পতিবার তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। এর মধ্যে রাজধানী ঢাকাও আছে। রাজধানীতে আজ তাপমাত্রা গতকালের চেয়ে বেড়ে গেছে। তবে দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা গতকালের চেয়ে কমেছে আজ। আবহাওয়া অধিদপ্তর সূত্র বলছে, আগামীকাল শুক্রবার তাপমাত্রার হেরফের হওয়ার সম্ভাবনা কম।

আজ খুলনা বিভাগসহ ২০ জেলায় তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে বলে আবহাওয়া অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে। খুলনার বাইরে বাকি যেসব জেলায় তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে সেগুলো হলো ঢাকায় ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস, ফরিদপুরে ৩৬, মাদারীপুর ৩৬, রাজশাহীতে ৩৭, পাবনায় ৩৬ দশমিক ২, সিরাজগঞ্জে ৩৬ দশমিক ১, বান্দরবানে ৩৬, রাঙামাটিতে ৩৬ দশমিক ৬, ফেনী ও পটুয়াখালীতে ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। খুলনা বিভাগে জেলার সংখ্যা ১০। এর বাইরে ১০ জেলা ধরে মোট ২০ জেলায় আজ তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে।

তাপ থেকে বাঁচতে ভরসা হাতে রাখা ফাইল। এক শিক্ষার্থী এভাবেই রোদের তাপ থেকে বাঁচার চেষ্টা করছে
তাপ থেকে বাঁচতে ভরসা হাতে রাখা ফাইল। এক শিক্ষার্থী এভাবেই রোদের তাপ থেকে বাঁচার চেষ্টা করছে
 

আজ ঢাকার তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গতকাল তাপমাত্রা ছিল ৩৬ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

আজ দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে যশোরে, ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গতকালের তুলনায় আজ সর্বোচ্চ তাপমাত্রা কমেছে। গতকাল দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল রাজশাহীতে, ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এটি ছিল চলতি বছরের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা।

চলতি মাসের শুরু থেকে দেশে তাপপ্রবাহ শুরু হয়। পরে অবশ্য তা কমে আসে। প্রায় এক সপ্তাহ ধরে তাপমাত্রা বাড়ছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর চলতি মাসের আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলেছে, এ মাসে একাধিক তীব্র তাপপ্রবাহ হতে পারে।

তীব্র তাপপ্রবাহে স্বস্তির জন্য জলাশয়ে নামানো হয়েছে মহিষদের। তাদের সঙ্গেই জলকেলিতে মেতে উঠেছে একদল কিশোর। দুপুরে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের আলুকান্দা এলাকায়
তীব্র তাপপ্রবাহে স্বস্তির জন্য জলাশয়ে নামানো হয়েছে মহিষদের। তাদের সঙ্গেই জলকেলিতে মেতে উঠেছে একদল কিশোর। দুপুরে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের আলুকান্দা এলাকায়
 

কোনো এলাকায় তাপমাত্রা ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস হয়ে গেলে সেখানে তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে বলে ধরা হয়। সেই অনুযায়ী আজ রাজশাহী ছাড়া আরও ৯ জেলায় তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। জেলাগুলো হলো যশোর ও সিরাজগঞ্জে ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস, ফরিদপুরে ৩৬ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস, চুয়াডাঙ্গা, কুষ্টিয়া ও পাবনায় ৩৬ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস, রাঙামাটিতে ৩৬ দশমিক ৩, ঢাকায় ৩৬ দশমিক ২ এবং খুলনায় ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

রাজধানীর শাহবাগ থানার সামনে হামলা ও মারধরের শিকার হয়েছেন ডাকসু নেতা যুবাইর বিন নেছারী (এ বি জুবায়ের) ও মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদ। আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর রাজধানীর শাহবাগ থানার সামনে এ ঘটনা ঘটে। ছাত্রদলের নেতা–কর্মীরা এই হামলা করেছেন বলে অভিযোগ করেছে ইসলামী ছাত্রশিবির।

ঘটনার পর এ বি জুবায়ের ও মুসাদ্দিককে উদ্ধার করে শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) কক্ষে নেওয়া হয়। থানার সামনে ছাত্রদলের নেতা–কর্মীসহ বিক্ষুব্ধ একদল লোক অবস্থান নেন।

ডাকসু নেতা মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদের ওপর হামলা। আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর এই হামলা হয়
ডাকসু নেতা মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদের ওপর হামলা। আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর এই হামলা হয়
 

এ বি জুবায়ের ডাকসুর (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ) সমাজসেবা সম্পাদক এবং মুসাদ্দিক ডাকসুর সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক। গত বছরের সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠিত ডাকসু নির্বাচনে ইসলামী ছাত্রশিবিরের সমর্থন নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বিজয়ী হন তাঁরা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ডাকসুর সাধারণ সম্পাদক ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক এস এম ফরহাদ বলেন, ছাত্রদলের নেতা–কর্মীরা বহিরাগতদের নিয়ে এ বি জুবায়ের ও মুসাদ্দিকের ওপর হামলা করেছেন।

এস এম ফরহাদের এ অভিযোগের বিষয়ে ছাত্রদলের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আন্তর্জাতিক সম্পাদক মেহেদী হাসান বলেন, ‘ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে এ বি জুবায়েরসহ ছাত্রশক্তি ও শিবিরের নেতা–কর্মীরা থানায় আসলে সেখানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীরা ও বিক্ষুব্ধ জনতা তাদের মারধরের চেষ্টা করে। কিন্তু সেখানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপনসহ ছাত্রদলের নেতা–কর্মীরা ঢাল হয়ে দাঁড়ায়।’

রাজধানীর শাহবাগ থানার সামনে ডাকসুর নেতা এ বি জুবায়েরের ওপর হামলা। আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর
রাজধানীর শাহবাগ থানার সামনে ডাকসুর নেতা এ বি জুবায়েরের ওপর হামলা। আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর, ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া

কেন এই ঘটনা ঘটল, সে বিষয়ে জানতে চাইলে ইসলামী ছাত্রশিবির নেতা এস এম ফরহাদ বলেছেন, ‘ঈশান চৌধুরী নামে ছাত্রলীগের একটি আইডি থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তাঁর কন্যা জাইমা রহমানকে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ একটি পোস্ট দেওয়া হয়। এর পরে অরণ্য আবির নামে একটি আইডি থেকে পোস্টটি ইসলামী ছাত্রশিবিরের প্যানেল থেকে ডাকসুর কার্যনির্বাহী সদস্য পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা আবদুল্লাহ আল মাহমুদ দেয় বলে প্রচার করা হয়। বিষয়টি মাহমুদ নিজের আইডি থেকে ক্লিয়ার করে।’

এরপরও ছাত্রদল তাঁকে হুমকি দিয়ে আসছিল অভিযোগ করে এস এম ফরহাদ বলেন, ‘মাহমুদ শাহবাগ থানায় ডিজি করতে গেলে তাকে এক ঘণ্টার বেশি সময় বসিয়ে রেখে জিডি নেওয়া হয়নি। এখানে ছাত্রদলের লোকজন বহিরাগতদের নিয়ে মাহমুদকে থানায় আক্রমণ করতে যায়। তখন বিষয়টি সমাধানের জন্য এ বি জুবায়ের, মুসাদ্দিকসহ কয়েকজন থানায় গেলে ছাত্রদলের নেতা–কর্মীরা বহিরাগতদের নিয়ে তাদের ওপর হামলা করে।’

ঘটনার বর্ণনা দিয়ে ছাত্রদলের একজন নেতা বলেন, ‘আমরা জাইমা রহমানকে নিয়ে ভুয়া ফটোকার্ড ছড়ানোর প্রতিবাদে শাহবাগ থানায় আসি। এসে যে এই ফটোকার্ড ছড়িয়েছে, তাকে থানায় জিডি করতে দেখতে পাই। তখন আমরা পুলিশকে বলি তাকে হেফাজতে নিতে। এর কিছুক্ষণ পর ছাত্রদলের নেতা–কর্মীরা থানা থেকে বের হওয়ার সময় ডাকসুর কয়েকজন নেতা উসকানিমূলক কথা বলতে বলতে থানায় প্রবেশ করার চেষ্টা করে। সে সময় এই মারধরের ঘটনা ঘটে।’

হামলাকারীদের হাত থেকে রক্ষায় এ বি জুবায়েরের সামনে এসে দাঁড়ান ছাত্রদলের নেতা নাহিদুজ্জামান শিপন
হামলাকারীদের হাত থেকে রক্ষায় এ বি জুবায়েরের সামনে এসে দাঁড়ান ছাত্রদলের নেতা নাহিদুজ্জামান শিপন, ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া

রাত পৌনে ৯টায় ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম শাহবাগ থানায় উপস্থিত হন। এর কিছুক্ষণ পর ছাত্রদলের সভাপতি ও পুলিশের রমনা বিভাগের উপকমিশনার মাসুদ আলম এ বি জুবায়েরসহ বাকিদের শাহবাগ থানা জামে মসজিদের ফটক দিয়ে বের করে নিয়ে যান।

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও তামিলনাড়ু রাজ্যে বিপুল উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে বিধানসভা নির্বাচনের ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। গণতন্ত্রের এই উৎসবে শামিল হয়ে ভোটাররা তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে রাজ্যের আগামী পাঁচ বছরের ভাগ্য নির্ধারণের প্রক্রিয়া শুরু করেছেন। পশ্চিমবঙ্গে দুই দফার নির্বাচনের প্রথম পর্যায়ে ব্যাপক ভোট পড়েছে এবং তামিলনাড়ুতে এক দফাতেই সম্পন্ন হয়েছে সবকটি আসনের ভোট।

বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) স্থানীয় সময় সকাল ৭টায় শুরু হওয়া এই ভোট চলে বিকেল ৫টা পর্যন্ত।  

পরিসংখ্যান বলছে, পশ্চিমবঙ্গে  প্রথম দফায় ভোটারদের উপস্থিতির হার ছিল ৮৯ দশমিক ৯ শতাংশ। উত্তরবঙ্গ থেকে দক্ষিণবঙ্গ—সবখানেই ছিল দীর্ঘ লাইনের দৃশ্য। দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, কোচবিহার, মালদা ও মুর্শিদাবাদের পাশাপাশি নন্দীগ্রামের মতো গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে ভোটারদের ব্যাপক উপস্থিতি ছিল নজরকাড়া। সকাল সাতটা থেকে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে ভোটদান চলেছে। 

পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনি প্রচারণায় আজ বড় ভূমিকা রেখেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। কৃষ্ণনগরের জনসভায় তিনি ক্ষমতাসীন তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ করেছেন। তিনি দাবি করেন, গত ৫০ বছরের মধ্যে এবারের নির্বাচন সবচেয়ে শান্তিপূর্ণ। মোদি নির্বাচনি প্রচারণায় ‘পরিবর্তনের পরিবর্তন’ স্লোগান তুলেছেন এবং বিজেপি সরকার গড়ার ডাক দিয়েছেন। রাজ্যটিতে দ্বিতীয় দফা ভোট অনুষ্ঠিত হবে আগামী ২৯ এপ্রিল। 

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এবারের নির্বাচন পশ্চিমবঙ্গের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ২০২১ সালের নির্বাচনে ১৫২টি আসনের লড়াইয়ে তৃণমূল ৯৩টি এবং বিজেপি ৫৯টি আসন পেয়েছিল। সেই পরিসংখ্যান মাথায় রেখেই এবার উত্তরবঙ্গ দখলে মরিয়া হয়ে উঠেছে বিজেপি। অন্যদিকে চতুর্থবারের মতো ক্ষমতায় ফিরতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তার উন্নয়নের বার্তা নিয়ে সাধারণ মানুষের দ্বারে দ্বারে গেছেন। দুই দফার ভোট শেষে আগামী ৪ মে ফলাফল ঘোষণার পরেই চূড়ান্ত বিজয়ীর নাম জানা যাবে।

এদিকে, দক্ষিণের রাজ্য তামিলনাড়ুর চিত্রটি ছিল ভিন্ন। সেখানে ২৩৪টি আসনের বিধানসভায় রেকর্ড ৮২ দশমিক ২ শতাংশ ভোট পড়েছে। বিশাল এই কর্মযজ্ঞে ভোটার সংখ্যা ছিল পাঁচ কোটি ৭০ লাখের বেশি। এআইডিএমকে ও বিজেপির জোট এবার ডিএমকে ও কংগ্রেস জোটের কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখে পড়েছে। অভিনেতা থেকে রাজনীতিবিদ হয়ে ওঠা থালাপতি বিজয়ের মতো জনপ্রিয় ব্যক্তিত্বের উপস্থিতিও এবারের নির্বাচনে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। প্রায় চার হাজার প্রার্থীর ভাগ্য এখন ব্যালট বাক্সে বন্দি।

 

আমাদের অনুসরণ করুন

 

সর্বাধিক পড়ুন

  • সপ্তাহ

  • মাস

  • সব