• Colors: Purple Color

আগামী ১ মে আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস উপলক্ষে রাজধানীর নয়াপল্টনে এক বিশাল সমাবেশের ডাক দিয়েছে জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল। ওই দিন দুপুরে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে এই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) সন্ধ্যায় বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান এই কর্মসূচি ঘোষণা করেন।

তিনি বলেন, সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ও বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

নজরুল ইসলাম খান বলেন, দেশের জাতীয় অর্থনীতি ও দৈনন্দিন জীবনে শ্রমজীবী মানুষের অবদান অনস্বীকার্য। বিএনপি সবসময়ই মেহনতি মানুষের পাশে ছিল এবং ভবিষ্যতেও থাকবে।

শ্রমিকদের অধিকার প্রসঙ্গে বিএনপির এই নেতা বলেন, নির্বাচনী ইশতেহারে শ্রমজীবী মানুষের কল্যাণে যেসব প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছিল, সেগুলো পূরণে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। এরই মধ্যে সরকার ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ মওকুফ করেছে। ১ মে-র সমাবেশ থেকে শ্রমজীবী মানুষের বিভিন্ন দাবি ও প্রয়োজনীয়তার কথা সরকারপ্রধানের কাছে তুলে ধরা হবে বলেও তিনি জানান।

সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, পহেলা মে-র সমাবেশ সফল করতে ব্যাপক প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে। এতে রাজধানী ও আশপাশের এলাকা থেকে বিপুলসংখ্যক শ্রমিক যোগ দেবেন বলে আশা করছেন আয়োজকরা।

চট্টগ্রাম ও মিকেল চাকমা, রাঙামাটি

ঢাকার ধামরাইয়ে ঘরে ঢুকে এসএসসি পরীক্ষার্থী নাহিদা আক্তারকে (১৬) কুপিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। 

বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) বিকেলে পৌরসভার লাকুড়িয়াপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। 

নিহত নাহিদা আক্তারের মা লিজা আক্তার একজন প্রবাসী আর বাবা নুর হোসেন বরিশালে থাকেন। তিনি নানীর সঙ্গে থাকেন এবং ধামরাই সেন্ট্রাল স্কুলের বানিজ্য বিভাগ থেকে চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছিলেন। 

নিহত নাহিদার পরিবারের সদস্যরা জানান, ঘটনার দিন বিকেলে নাহিদা আক্তার নিজ ঘরে পড়াশোনা করছিলেন। একপর্যায়ে নানী দুধ আনার জন্য বাইরে যান। যাওয়ার আগে তিনি নাহিদাকে ভেতর থেকে ঘরের দড়জা বন্ধ রাখতে এবং তিনি না ফেরা পর্যন্ত অপরিচিত কেউ আসলে দরজা না খোলার নির্দেশ দেন। এরপর বাইরে থেকে ফিরে এসে দেলোয়ারা বেগম ঘরের দরজা খোলা এবং রান্না ঘরে রক্তাক্ত অবস্থায় নাহিদাকে পরে থাকতে দেখে চিৎকার করলে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসেন। পরে নাহিদাকে স্থানীয় একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখান থেকে সাভারের গণস্বাস্থ্য সমাজভিত্তিক মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। 

নিহতের নানী দেলোয়ারা বেগম বলেন, দুধ আনতে গেছিলাম। যাওয়ার আগে দরজার সামনে খারাইয়া (দাঁড়িয়ে) ছিলাম যাতে ভেতর থিকা ছিটকিনি দেয়। কইয়া গেছিলাম কেউ আইলে দড়জা খুলবা না, আমি আইলে আর মামারা আইলে খুলবা। তখন ও বলে নানু আমার গোসল করতে একঘন্টা দেড়ঘন্টা লাগবে তুমি একঘন্টা দেড়ঘন্টা পরে আইয়ো। ফিরা আইয়া দেখি দুয়ার মেলা (দরজা খোলা)। চুলার পাড়ে দেখি লাম্বা হইয়া পইরা রইছে। দেহি কানেরতা নাইকা গলার চেইনও নাইকা। 

নিহতের মামা মো. খোকন বলেন, আম্মা (নিহতের নানী) বাসার বাইরে দুধ আনতে যান। দুধ নিয়ে বাসায় এসে দেখেন ফ্লোরে নাহিদা রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। পরে তাকে প্রথমে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়, সেখান থেকে সাভারের গণস্বাস্থ্য সমাজভিত্তিক মেডিকেল কলেজে নিলে ডাক্তার নাহিদাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ধামরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হুদা খান বলেন, সন্ধ্যা ৭টা ৫০ মিনিটের দিকে একজন সংবাদকর্মীর মাধ্যমে ঘটনাটি জানতে পারি। তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোসহ এ ঘটনায় পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন। আশা করছি দ্রুতই ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে।

 

ভয়াল রানা প্লাজা ট্রাজেডির ১৩ বছর আজ। আজকের এদিনে ঘটে যায় দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় দুর্ঘটনা। প্রাণ ঝড়ে হাজারেরও বেশি পোশাক শ্রমিকের। তবে অবহেলায় হাজারো প্রাণ হত্যার বিচার এখনও অনিশ্চিত। সর্বোচ্চ আদালত নির্দেশ দিলেও সাক্ষীই হাজির করতে পারছে না পুলিশ। এদিকে নিহতদের পরিবার তাদের স্বজন ও স্বপ্ন হত্যার বিচার চান। 

২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল। সকাল বেলা, কোনো কিছু বুঝে উঠার আগেই কয়েক হাজার শ্রমিক নিয়ে ধসে পড়ে সাভারের রানা প্লাজা। চার্জশিট অনুযায়ী দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় দুর্ঘটনায় প্রাণ হারায় ১১৩৬ জন। গুরুতর আহত হয় কয়েক হাজার পোশাক শ্রমিক। এমন ভয়াবহ দুর্ঘটনায় বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পের কর্মপরিবেশ ও নিরাপত্তা নিয়ে উঠে বড় প্রশ্ন। নচে চড়ে বসে গোটা বিশ্ব। যদিও সেই ঘটনার কেটে গেছে ১৩ টি বছর। সেদিন সকালের ভয়াবহ স্মৃতি এখনো তাজা আহতদের কাছে। 

রানা প্লাজা ধসের ঘটনায় হাজারো প্রাণ হত্যায় অবহেলার অভিযোগের প্রমাণ পাওয়া যায়। ২০১৫ সালে ভবন মালিক সোহেল রানাসহ ৪১ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেয় সিআইডি। ঢাকার জেলা জজ আদালতে মামলাটির বিচার শুরু হয় ২০১৬ তে। যদিও এরপর একের পর এক আসামি, বিচার স্থগিত চেয়ে হাইকোর্টে যাওয়ায় মামলাটির বিচার থমকে থাকে ২০২২ পর্যন্ত। পরে নানা চড়াই উতরাই পেরিয়ে আবারও শুরু হয় মামলার কার্যক্রম। 

রানা প্লাজা ধসের ঘটনায় করা হত্যা মামলায় সাক্ষী করা হয় ৫৯৪ জনকে। কিন্তু এখন পর্যন্ত সাক্ষ্য দিয়েছেন মাত্র ১৪৫ জন। গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষীদের আদালতে উপস্থিত করতে বারবার আদেশ দিলেও সাক্ষী হাজির করতে পারছে না পুলিশ। দেশের সর্বোচ্চ আদালতের আপিল বিভাগ ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে, ৬ মাসের মধ্যে মামলা শেষ করতে নির্দেশ দিলে তাতেও কর্ণপাত করেননি সাক্ষী, পুলিশ, বিচারক কেউই। 

এদিকে মামলার একমাত্র গ্রেফতার আসামি সোহেল রানার আইনজীবী এখনও মনে করেন রানা নির্দোষ। বলেন, অন্যায়ভাবে আটকে রাখা হয়েছে তাকে। এমন নৃশংস ঘটনার বিচার নিয়েও এখন তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। আগামী ৩০ এপ্রিল এ মামলায় ফের সাক্ষ্যগ্রহণ হওয়ার কথা রয়েছে। যদি রাষ্ট্রপক্ষ আদালতে সাক্ষী হাজির করতে পারে তবেই মামলাটি নিষ্পত্তির দিকে এগিয়ে যাবে। 

এদিকে, সাভারে রানা প্লাজা ধসে নিহত শ্রমিকদের ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন আহত শ্রমিক, নিহত শ্রমিকদের স্বজন, শিল্প পুলিশ ও বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের নেতা-কর্মীরা। শুক্রবার সকালে ধসে পড়া রানা প্লাজার সামনে নির্মিত অস্থায়ী স্মৃতিস্তম্ভে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। এসময় আহত ও নিহত শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণ দাবি করেন তারা। পাশাপাশি শ্রমিক হত্যার সঙ্গে জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানায় বিভিন্ন সংগঠন। 

সকালে দিবসটি উপলক্ষ্যে রানা প্লাজার সামনে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে শ্রমিক সংগঠনগুলো।

সাতক্ষীরার কালিগঞ্জে ৩ হাজার ৩৬০ কেজি অপরিপক্ব ও ক্ষতিকর রাসায়নিক মিশ্রিত আম বাজারজাত করার সময় জব্দ করে ধ্বংস করেছে যৌথ বাহিনী।

বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) বিকেলে উপজেলার ভাড়াশিমলা ইউনিয়নের শুইলপুর এলাকায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সন ও বিজিবির যৌথভাবে এ অভিযান পরিচালিত হয়।

কালিগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন জানায়, ইথিলিন নামক হরমোন ব্যবহার করে অপরিপক্ব আম পাকিয়ে ঢাকায় পাঠানো হচ্ছে—এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালানো হয়। এ সময় ঢাকাগামী একটি পিকআপ তল্লাশি করে ১৬৮ ক্যারেটে থাকা ৩ হাজার ৩৬০ কেজি আম জব্দ করা হয়। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্দেশে জব্দকৃত আমগুলো শুইলপুর বিজিবি ক্যাম্প সংলগ্ন বেড়িবাঁধ সড়কে রোলার দিয়ে পিষে বিনষ্ট করা হয়।

কালিগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাইনুল ইসলাম খান জানান, ক্ষতিকর রাসায়নিক মিশ্রিত আম পরিবহনের দায়ে পিকআপ চালক শাহিন হোসেনকে এক হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত না হওয়ার শর্তে মুচলেকা নিয়ে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

তবে জব্দকৃত আমে ঠিক কী ধরনের রাসায়নিক ছিল, তার মাত্রা কতটুকু এবং তা পরীক্ষাগারে যাচাই করা হয়েছিল কি না। এ বিষয়ে স্পষ্ট করে কিছু জানানো হয়নি। এ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

 

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হামের লক্ষণ নিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও ৪৭ শিশু ভর্তি হয়েছে। বর্তমানে চিকিৎসাধীন আছে ৭৭ শিশু।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে আজ শুক্রবার সকাল ৮টা পর্যন্ত হামের লক্ষণ নিয়ে নতুন করে ৪৭ শিশু ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভর্তি হয়েছে।

গত ১৭ মার্চ থেকে আজ সকাল পর্যন্ত হামের লক্ষণ নিয়ে ভর্তি হয় ৭৯৫ জন শিশু। এর মধ্যে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছে ৭০২ শিশু। মৃত্যু হয়েছে ১৬ শিশুর। বর্তমানে চিকিৎসাধীন ৭৭ শিশু। গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছে আরও ৩৫টি শিশু।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে এক-দুজন করে হামের লক্ষণ নিয়ে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিভাগে ভর্তি হতে শুরু করে। মার্চের মাঝামাঝি থেকে রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকে। রোগীদের চিকিৎসায় হাসপাতালে ৬৪ শয্যাবিশিষ্ট পৃথক আইসোলেশন ওয়ার্ড আছে। সেখানে তিনটি মেডিকেল টিম গঠন করে চিকিৎসা চলছে।

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) মোহাম্মদ মাইনউদ্দিন খান বলেন, ২৪ ঘণ্টায় আরও নতুন ৪৭ শিশু হামের লক্ষণ নিয়ে ভর্তি হয়েছে। এ সময়ে কোনো শিশু মারা যায়নি।

আমাদের অনুসরণ করুন

 

সর্বাধিক পড়ুন

  • সপ্তাহ

  • মাস

  • সব