• Colors: Purple Color

দীর্ঘদিনের দাবি ও প্রতীক্ষার পর অবশেষে সিটি করপোরেশন হলো বগুড়া। সোমবার (২০ এপ্রিল) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে বগুড়া সিটি করপোরেশন উদ্বোধন ঘোষণা করেন। এর মধ্য দিয়ে দেশের সিটি কর্পোরেশনের তালিকায় নতুন করে যুক্ত হলো উত্তরাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ এই শহর।

সরকারি সফরসূচি অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী সকালে বগুড়ায় পৌঁছে জেলা ও দায়রা জজ আদালত প্রাঙ্গণে কয়েকটি কর্মসূচিতে অংশ নেন। সেখানে ই-বেইল বন্ড কার্যক্রম উদ্বোধনের পর বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বগুড়াকে সিটি করপোরেশন হিসেবে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন। এসময় স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।

ঘোষণার খবর ছড়িয়ে পড়তেই শহরজুড়ে আনন্দের আবহ তৈরি হয়। বিভিন্ন এলাকায় মিষ্টি বিতরণ, শুভেচ্ছা বিনিময় ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করতে দেখা যায় অনেককে। দীর্ঘদিন ধরে বগুড়াকে সিটি করপোরেশনে উন্নীত করার দাবি জানিয়ে আসা নাগরিক সমাজ, ব্যবসায়ী সংগঠন ও বিভিন্ন পেশাজীবী মহল এ ঘোষণাকে ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখছেন।

বগুড়া উত্তরাঞ্চলের প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত। ঢাকা-রংপুর মহাসড়কের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা এ শহর উত্তরবঙ্গের অন্যতম বাণিজ্যকেন্দ্র। কৃষিপণ্য সরবরাহ, পরিবহন, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও ব্যবসা-বাণিজ্যে বগুড়ার ওপর নির্ভরশীল আশপাশের একাধিক জেলা। সেই তুলনায় নগর সেবার পরিধি দীর্ঘদিন ধরেই সীমিত ছিল বলে অভিযোগ ছিল নাগরিকদের।

ইতিহাস ঘেঁটে দেখা যায়, ১৮৭৬ সালে প্রতিষ্ঠিত বগুড়া পৌরসভা দেশের অন্যতম প্রাচীন পৌর প্রতিষ্ঠান। পরে ধাপে ধাপে এর আয়তন বাড়ানো হয়। ২০০৬ সালে আশপাশের ৪৮টি মৌজা যুক্ত করে পৌর এলাকার আয়তন প্রায় ৬৯ দশমিক ৫৬ বর্গকিলোমিটারে উন্নীত করা হয়। এরপর থেকেই এটিকে সিটি করপোরেশনে রূপান্তরের দাবি জোরালো হতে থাকে।

নগর বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সিটি করপোরেশন হওয়ায় এখন বড় পরিসরে উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ, সড়ক সম্প্রসারণ, ড্রেনেজ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ, স্ট্রিট লাইটিং ও ডিজিটাল নাগরিক সেবা সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি হবে। একই সঙ্গে বাড়বে সরকারি বরাদ্দ পাওয়ার সম্ভাবনাও।

তবে শুধু ঘোষণায় উন্নয়ন হবে না বলেও মত দিয়েছেন সচেতন নাগরিকরা। তাদের দাবি, বগুড়ার যানজট, জলাবদ্ধতা, ফুটপাত দখল, অপরিকল্পিত বাজার ব্যবস্থা, বাস টার্মিনাল সংকট ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধানে কার্যকর পরিকল্পনা নিতে হবে।

স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বলছেন, সিটি করপোরেশন মর্যাদা পাওয়ায় নতুন বিনিয়োগ, আবাসন, শিল্প ও বাণিজ্য সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি হবে। এতে কর্মসংস্থান বাড়তে পারে।

বগুড়াবাসীর কাছে সোমবারের দিনটি তাই শুধু প্রশাসনিক ঘোষণা নয়, একটি নতুন নগর ভবিষ্যতের সূচনা হিসেবেই ধরা দিচ্ছে। এখন দেখার বিষয়, সিটি করপোরেশনের নতুন পরিচয়ে কত দ্রুত বদলে যায় উত্তরাঞ্চলের এই ব্যস্ত শহর।

এর আগে সোমবার সকাল ১০টায় প্রধানমন্ত্রী ঢাকা থেকে বগুড়ার সার্কিট হাউজে পৌঁছান। দিনব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে তিনি জেলা জজ কোর্ট প্রাঙ্গণে আইনজীবী সমিতির নবনির্মিত ভবন উদ্বোধন করেন এবং আদালতের ‘ই-বেইলবন্ড’ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করেন।

 

ঢাকা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনীত ৩৬ জনের তালিকা ঘোষণা করেছে বিএনপি। সেই তালিকায় রয়েছেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্যসহ সাবেক সংসদ সদস্য, বিএনপির নেতাদের স্ত্রী-কন্যা, ছাত্রদলের নেত্রী, পেশাজীবী এবং সামাজিক প্রতিনিধিরা।

সাবেক ১০ সংসদ সদস্য এবারও

ছবিতে বাঁ থেকে সেলিমা রহমান, শিরীন সুলতানা, রাশেদা বেগম (হীরা), রেহানা আক্তার, নিলোফার চৌধুরী (মনি), সুলতানা আহমেদ, বিলকিস ইসলাম, নেওয়াজ হালিমা আরলী, হেলেন জেরিন খান ও শাম্মী আক্তার
ছবিতে বাঁ থেকে সেলিমা রহমান, শিরীন সুলতানা, রাশেদা বেগম (হীরা), রেহানা আক্তার, নিলোফার চৌধুরী (মনি), সুলতানা আহমেদ, বিলকিস ইসলাম, নেওয়াজ হালিমা আরলী, হেলেন জেরিন খান ও শাম্মী আক্তার
 

তালিকায় অভিজ্ঞ রাজনীতিক হিসেবে একাধিক সাবেক সংসদ সদস্য স্থান পেয়েছেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী সেলিমা রহমান, শিরীন সুলতানা, রাশেদা বেগম (হীরা), রেহানা আক্তার, নিলোফার চৌধুরী (মনি), সুলতানা আহমেদ, বিলকিস ইসলাম, নেওয়াজ হালিমা আরলী, হেলেন জেরিন খান ও শাম্মী আক্তার।

সেলিমা রহমানসহ প্রত্যেকে বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির বিভিন্ন পদে আছেন।

বিএনপির নেতাদের স্ত্রী ও কন্যারা

ছবিতে বাঁ থেকে শিরীন সুলতানা, শাকিলা ফারজানা, ফেরদৌসী আহমেদ, বীথিকা বিনতে হোসাইন, সানসিলা জেবরিন ও জহরত আদিব চৌধুরী
ছবিতে বাঁ থেকে শিরীন সুলতানা, শাকিলা ফারজানা, ফেরদৌসী আহমেদ, বীথিকা বিনতে হোসাইন, সানসিলা জেবরিন ও জহরত আদিব চৌধুরী
 

দলীয় নেতাদের স্ত্রী-কন্যাসহ পরিবারের সদস্যরাও মনোনয়ন পেয়েছেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির স্বনির্ভরবিষয়ক সম্পাদক শিরীন সুলতানা। তিনি বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও সংসদ সদস্য খায়রুল কবির খোকনের স্ত্রী।

এ ছাড়া ঢাকা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নিপুণ রায় চৌধুরী (সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরীর মেয়ে), আইনজীবী শাকিলা ফারজানা (সাবেক হুইপ সৈয়দ ওয়াহিদুল আলমের মেয়ে), ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ফেরদৌসী আহমেদ (মিষ্টি)। তিনি প্রয়াত বিএনপির নেতা নাসিরউদ্দিন আহম্মেদ পিন্টুর বোন। বীথিকা বিনতে হোসাইন (শফিউল বারীর স্ত্রী), সানসিলা জেবরিন (তরুণ চিকিৎসক ও শেরপুর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ডা. হযরত আলীর মেয়ে)। আরও রয়েছে সাবেক প্রতিমন্ত্রী এবাদুর রহমান চৌধুরীর মেয়ে জহরত আদিব চৌধুরী। তিনি মোবাইল অপারেটর বাংলালিংকের সাবেক ডেপুটি সিইও (প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা)। তাঁর বাড়ি সিলেটের মৌলভীবাজারে।

সংখ্যালঘু ও আদিবাসি প্রতিনিধি

বাঁ থেকে আন্না মিনজ, সুবর্ণা সিকদার ঠাকুর, নিপুণ রায় চৌধুরী ও মাধবী মারমা
বাঁ থেকে আন্না মিনজ, সুবর্ণা সিকদার ঠাকুর, নিপুণ রায় চৌধুরী ও মাধবী মারমা

তালিকায় ব্যতিক্রমধর্মী ও সামাজিক প্রতিনিধিত্বও গুরুত্ব পেয়েছে। এর মধ্যে উন্নয়নকর্মী ও আদিবাসী ওঁরাও সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি আন্না মিনজ উল্লেখযোগ্য। তিনি উন্নয়নকর্মী ও আদিবাসী ওঁরাও সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি। আন্না মিনজ ব্র্যাক ইন্টারন্যাশনালের সিনিয়র ডিরেক্টর (প্রোগ্রাম)। নাটোরের বাসিন্দা আন্না মিনজ সুবিধাবঞ্চিত সংখ্যালঘু খ্রিষ্টান সম্প্রদায়সহ ও ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্ব করবেন বলে জানিয়েছেন। তাঁর স্বামী জন গোমেজ বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির ধর্মবিষয়ক সহসম্পাদক।

সংরক্ষিত আসনে সংখ্যালঘু সম্প্রদায় থেকে সুবর্ণা সিকদার ঠাকুর ও মাধবী মারমাও মনোনয়ন পেয়েছেন। এর মধ্যে সুবর্ণা সিকদার গোপালগঞ্জ ও মাধবী মারমা বান্দরবান থেকে। সুবর্ণা সিকদার মথুয়া বহুজন সমাজ ঐক্যজোটের প্রধান উপদেষ্টা। তিনি একজন শিক্ষক। সুবর্ণা সিকদার সংরক্ষিত আসনে মনোনয়ন পাওয়ার খবর প্রকাশ হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুকে নানা রকম তথ্য আসছে। এর মধ্যে তিনি স্থানীয় আওয়ামী লীগের কমিটিতে রয়েছেন বলে আলোচনা চলছে। তবে সুবর্ণা সিকদার বলেন, ‘আমি বিএনপির একজন সমর্থক। কোনো কমিটিতে নেই।’ তাঁর স্বামী পদ্মনাভ ঠাকুর একসময় যুবদলের নেতা ছিলেন।

এ ছাড়া মাধবী মারমা বান্দরবান জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য ও মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক।

নির্বাচনে পরাজিত প্রার্থীরা

সানজিদা ইসলাম (তুলি) ও সাবিরা সুলতানা (মুন্নী)
সানজিদা ইসলাম (তুলি) ও সাবিরা সুলতানা (মুন্নী)
 

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে পরাজিত হয়েছেন, এমন তিনজনকে বিএনপি সংরক্ষিত আসনে মনোনয়ন দিয়েছে। তাঁরা হলেন সানজিদা ইসলাম (তুলি), সাবিরা সুলতানা (মুন্নী) ও সানসিলা জেবরিন (প্রিয়াঙ্কা)।

বাংলাদেশের গুম হওয়া ব্যক্তিদের পরিবারের প্ল্যাটফর্ম ‘মায়ের ডাক’-এর সমন্বয়ক সানজিদা ইসলাম (তুলি) ঢাকা-১৪ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাজিত হন। সাবিরা সুলতানা (যশোর–২) নির্বাচন করেন, আর সানসিলা জেবরিন (শেরপুর-১) আসনে।

ছাত্রদলের নেত্রীরা

ছাত্ররাজনীতি থেকে উঠে আসা কয়েকজন নেত্রীও সংরক্ষিত আসনে মনোনয়ন পেয়েছেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সদস্য ও আইনজীবী আরিফা সুলতানা (রুমা), ছাত্রদলের ছাত্রীবিষয়ক সম্পাদক মানসুরা আক্তার, সাবেক কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সানজিদা ইয়াসমীন (তুলি), মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সদস্য নাদিয়া পাঠান (পাপন), ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শওকত আরা আক্তার (উর্মি), ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সেলিনা সুলতানা (নিশিতা) উল্লেখযোগ্য।

বিগত সময়ে বিএনপির আন্দোলনে ভূমিকার স্বীকৃতি হিসেবে এই তরুণ নেতৃত্বকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

অন্যান্য উল্লেখযোগ্য নাম

এ ছাড়া বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য মাহমুদা হাবিবা, কক্সবাজার জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও আইনজীবী শামীম আরা বেগম (স্বপ্না), বগুড়া জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সুরাইয়া জেরিন, বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য ও মহিলা দলের সহসভাপতি জীবা আমিনা খান, আইনজীবী ফাহিমা নাসরিন, মহিলা দলের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক মমতাজ আলো, মহিলা দলের কেন্দ্রীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক ও রংপুর মহানগর কমিটির সভাপতি রেজেকা সুলতানা, জনপ্রিয় টক শো 'তৃতীয় মাত্রা'র উপস্থাপক ও পরিচালক জিল্লুর রহমানের সহধর্মিনী ফাহমিদা হক রয়েছেন সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির মনোনীতদের তালিকায়।

মিশ্র প্রতিক্রিয়া

সংরক্ষিত নারী আসনের মনোনয়নের তালিকা প্রকাশ পাওয়ার পর দলের ভেতরে–বাইরে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। সংগীতশিল্পী কনক চাঁপা, বেবী নাজনীন, আসমা আজিজসহ আলোচিতদের অনেকে মনোনয়ন পাননি। আবার অনেকের মতে, সব মিলিয়ে অভিজ্ঞতা, পারিবারিকভাবে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা/পারিবারিক রাজনৈতিক পটভূমি, তরুণ নেতৃত্ব এবং সামাজিক বৈচিত্র্যের সমন্বয়ে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।

জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় দাঁড়িয়ে বিএনপি যে জুলাই সনদে সই করেছে, সেই জুলাই সনদের প্রতিটি শব্দ, প্রতিটি অক্ষর এক–এক করে বাস্তবায়ন করবেন বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বগুড়ায় আয়োজিত জনসভায় তিনি আরও বলেন, কিন্তু বারবার পরিষ্কারভাবে এ কথা বলে দেওয়ার পরও কিছু রাজনৈতিক দল সংসদে ও সংসদের বাইরে জনগণকে বিভ্রান্ত করার জন্য কিছু কথাবার্তা বলা শুরু করেছে।

অন্তর্বর্তী সরকার ১১টি কমিশন করেছিল জানিয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেন, ‘১১টি কমিশনের মধ্যে সংবিধান, বিচার, প্রশাসনিক, স্বাস্থ্য, নারী আছে। আজকে ষড়যন্ত্রের গন্ধ পাচ্ছি আমরা। যারা এ সংস্কার সংস্কার করে জনগণকে বিভ্রান্ত করতে চাচ্ছে, যারা জুলাই সনদকে বিভ্রান্ত করতে চাচ্ছে, তারা কিন্ত নারীর স্বাধীনতা বা নারীর উন্নয়ন নিয়ে কোনো কথা বলে না। চিকিৎসা ও ওষুধের জন্য যে কমিশন করা হয়েছিল, সেটা নিয়ে তারা কোনো কথা বলে না। কীভাবে প্রশাসনকে ঠিক করতে হবে, সেইটা তারা বলে না। কীভাবে আইনশৃঙ্খলা ঠিক করতে হবে, সেইটা তারা বলে না। তারা শুধু সংবিধান, সংবিধান বিষয়ে কথা বলে।’

আজ সোমবার সন্ধ্যায় বগুড়ার ঐতিহাসিক আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠে এ জনসভার আয়োজন করে বগুড়া জেলা বিএনপি। বগুড়া জেলা বিএনপির সভাপতি ও বগুড়া-৬ আসনের সংসদ সদস্য রেজাউল করিম বাদশার সভাপতিত্বে জনসভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন বগুড়া-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মোশারফ হোসেন।

‘সজাগ ও সতর্ক থাকতে হবে’

নির্বাচনের সময় যেসব গুপ্ত বিভ্রান্তকারী জনগণকে বিভ্রান্ত করেছে, সেই বিভ্রান্তকারীরা আবারও বিভ্রান্ত করার কাজ শুরু করেছে বলে অভিযোগ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, গতকাল রোববার ময়মনসিংহ বিভাগের একটি জেলায় প্রেমঘটিত একটি ব্যক্তিগত তুচ্ছ ঘটনা ঘটেছে। একটি পারিবারিক ও ব্যক্তিগত ঘটনাকে কারা রাজনৈতিক রূপ দিয়ে দেশে অশান্তি সৃষ্টির চেষ্টা করছে, জনগণ তা দেখেছে।

বগুড়ায় বিএনপি আয়োজিত জনসভায় উপস্থিত মানুষের একাংশ। আজ সোমবার বিকেলে শহরের ঐতিহাসিক আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠে
বগুড়ায় বিএনপি আয়োজিত জনসভায় উপস্থিত মানুষের একাংশ। আজ সোমবার বিকেলে শহরের ঐতিহাসিক আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠে
 

বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীকে ইঙ্গিত করে প্রধানমন্ত্রী জনসভায় বলেন, ‘এদের সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। মুক্তিযুদ্ধের সময় আমরা দেখেছি, তারা কীভাবে দেশের মানুষকে বিভ্রান্তের চেষ্টা করেছে। ১৯৮৬ সালের নির্বাচনে আমরা দেখেছি, তারা কীভাবে দেশের মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেছিল। ১৯৯৬ সালেও আমরা দেখেছি, স্বৈরাচারের সঙ্গে গিয়ে দেশের মানুষকে কীভাবে বিভ্রান্ত করেছিল। ২০০৮ সালেও আমরা দেখেছি, ওয়ান ইলেভেনের সঙ্গে যোগ দিয়ে তারা কীভাবে দেশের মানুষকে বিভ্রান্ত করেছিল।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা দেশের মানুষের জন্য ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড করতে চাই। ইমাম–মুয়াজ্জিনের জন্য ভাতা চালু করতে চাই, খাল খনন ও বৃক্ষ রোপণ করতে চাই। বেকার যুবকদের দেশে–বাইরে কর্মসংস্থান করতে চাই। এই সব ব্যাপারে তারা (বিরোধী দল) কোনো কাজ করে না। নির্বাচনের সময় বলেছিল, “রাখ তোর ফ্যামলি কার্ড”, মনে আছে? জনগণের স্বার্থে যে কাজ, তা তারা রেখে দেয়, ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে নিজেদের ক্ষমতা কীভাবে কুক্ষিগত করতে হবে, সেই কাজের জন্য তারা এখন বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে।’

কৃষক কার্ড, ফ্যামিলি কার্ড, খাল খনন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বৃক্ষরোপণের মতো কর্মসূচির কথা উল্লেখ করে জনসভায় উপস্থিত নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যদি এই কাজগুলো বাস্তবায়ন করতে হয়, তবে ষড়যন্ত্রকারীদের বিরুদ্ধে আপনাদেরকে সজাগ ও সতর্ক থাকতে হবে। কারণ, তাদের অতীত ইতিহাস বলে দেয়, দেশ স্বাধীনের আগে ও পরে তারা কতবার চেষ্টা করেছে দেশের মানুষকে বিভ্রান্ত করতে।’

‘তাদেরকে বিশ্বাস করা যায় না’

১৯৭১ সালে জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ডাক দিয়েছিলেন উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আরও বলেন, ‘যারা দেশের মানুষকে বিভ্রান্ত করতে চাচ্ছে, জুলাই সনদ নিয়ে বিভ্রান্ত করতে চাচ্ছে, তারা তো এ দেশের স্বাধীনতাতেই বিশ্বাস করেনি। এ দেশের অস্তিত্বেই তারা বিশ্বাস করেনি। যারা দেশের অস্বিত্বকেই বিশ্বাস করে না, তাদেরকে বিশ্বাস করা যায় না।’

বগুড়ায় বিএনপি আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ সোমবার বিকেলে শহরের ঐতিহাসিক আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠে
বগুড়ায় বিএনপি আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ সোমবার বিকেলে শহরের ঐতিহাসিক আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠে
 

সারা দেশে তারা গোলযোগ সৃষ্টির পাঁয়তারা করছে অভিযোগ করে তারেক রহমান আরও বলেন, ‘দেশনেত্রী খালেদা জিয়া দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পাওয়ার পর পালিয়ে যাওয়া স্বৈরাচার যেমন বলেছিল, “এক মিনিটও শান্তিতে থাকতে দিব না,” সেই একই ভূত কিন্ত এদের ওপরই সওয়ার করেছে। দেখেন, কেমন আন্দোলন–আন্দোলন কথা বলে আর ব্যক্তি ঘটনাকে রাজনৈতিক রূপ দিতে চায়। ঠিক দিনাজপুরের ইয়াসমিনের ঘটনার মতো। ওই ঘটনাকে রাজনৈতিক রূপ দিয়ে দেশে অশান্তি তৈরি করা হয়েছিল। ১৭২ দিনের হরতাল দিয়েছিল।’

‘যা করব, স্বচ্ছভাবে করব’

২০১৬ সালে বিএনপির তৎকালীন চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ভিশন-২০৩০ ঘোষণা ও পরবর্তীকালে বিএনপির ৩১ দফা সংস্কার প্রস্তাব তুলে ধরার কথা উল্লেখ করে তারেক রহমান জনসভায় বলেন, দেশের অন্য কোনো দল সংস্কারের স–শব্দও উচ্চারণ করেনি স্বৈরাচারের ভয়ে। কিন্ত বিএনপি স্বৈরাচারের রক্তচক্ষুকে উপেক্ষা করে ৩১ দফা সংস্কার প্রস্তাব দিয়েছিল।

গণ-অভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তী সরকারের গঠিত সংস্কার কমিশনে বিএনপি জনগণের পক্ষে মতামত ও প্রস্তাব উপস্থাপন করেছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘আমরা সব সময় বলি, যা করব, স্বচ্ছভাবে করব। কোনো লুকোচুরি নেই। গণতন্ত্রে মতের পার্থক্য থাকবে। আমরা সেখানে অন্যান্য দলের সঙ্গে কতগুলো বিষয়ে দ্বিমত পোষণ করেছি, সেটা জনগণের কাছে আমরা পরিষ্কারভাবে তুলেও ধরেছি, কোন কোন বিষয়ে আমরা একমত, কোন কোন বিষয়ে আমরা দ্বিমত পোষণ করি।’

বগুড়ার উন্নয়নে নানা প্রতিশ্রুতি

প্রধানমন্ত্রী বগুড়ার উন্নয়নের আশ্বাস দিয়ে বলেন, বগুড়া-সিরাজগঞ্জ রেললাইন নির্মাণ বগুড়ার মানুষের অন্যতম প্রধান দাবি। তাঁরা শিগগিরই এ কাজ শুরু করবেন। বগুড়াসহ আশপাশের অঞ্চল কৃষিপ্রধান। তাঁরা চান, কৃষিজাত পণ্য দেশে যেমন থাকবে, তেমন বিদেশেও রপ্তানি হবে। বগুড়া বিমানবন্দরে কার্গো বিমান কীভাবে আসতে পারে, সে কাজ তাঁরা শুরু করে দিয়েছেন। বগুড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজ শিগগির শুরু হবে। সেখানে কৃষি, প্রকৌশল, চিকিৎসাসহ সব বিষয় থাকবে।

তারেক রহমান বলেন, ‘আমি আপনাদের ভাই, আপনাদের সন্তান। যে প্রতিশ্রুতি আমরা নির্বাচনের আগে দিয়েছি, যে পরিকল্পনা আমরা বাস্তবায়ন শুরু করেছি, তা যদি বগুড়ার সন্তান হিসেবে বাস্তবায়ন করতে পারি, তবে নিশ্চয়ই বগুড়ার প্রত্যেক মানুষের গৌরব বৃদ্ধি পাবে। আমি আপনাদের দোয়া যেমন চাই, সমর্থনও চাই।’

জনসভা শেষে প্রধানমন্ত্রী সন্ধ্যায় বগুড়া প্রেসক্লাবের নবনির্মিত ভবন ও বায়তুর রহমান সেন্ট্রাল মসজিদের পুনঃসংস্কার কাজের উদ্বোধন করেন।

রাজধানীর মহাখালীতে ছুরিকাঘাতে জাতীয় ক্যানসার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের উপপরিচালক আহত হয়েছেন। তাঁর নাম আহমদ হোসেন (৫০)। আজ সোমবার বিকেলে মহাখালীর ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়-সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

আহত অবস্থায় আহমদ হোসেনকে প্রথমে ক্যানসার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। বর্তমানে তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। ঢামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগের আবাসিক চিকিৎসক মোস্তাক আহামেদ বলেন, আহমদ হোসেনের হাত, বাঁ বাহু ও পিঠে ছুরিকাঘাতের জখম রয়েছে।

পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে আহমদ হোসেনের সঙ্গে ঢামেকে আসা এক ব্যক্তি বলেন, দুই মাস আগে ক্যানসার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে যোগ দেন আহমদ হোসেন। এর আগে তিনি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের শৃঙ্খলা কমিটির পরিচালক ছিলেন। ইজিপির মাধ্যমে টেন্ডার পাইয়ে দেওয়ার জন্য দুই সপ্তাহ আগে একজন তাঁকে হুমকি দিয়েছিলেন।

আহত উপপরিচালক আহমদ হোসেন বলেন, বিকেলে ক্যানসার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল থেকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পেছনে বাসায় যাচ্ছিলেন তিনি। এ সময় দুই যুবক তাঁর পথ রোধ করার পর ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায়। হুমকির বিষয়ে জানতে চাইলে প্রথম আলোকে তিনি বলেন, টেন্ডার পাওয়ার জন্য তাঁকে অনেকেই ফোন দিয়েছে।

আজ মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সারাদেশে সকাল ১০টা থেকে শুরু হয়েছে ২০২৬ সালের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমানের পরীক্ষা।

প্রথম দিনে বাংলা প্রথম পত্র পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। পরীক্ষা শুরুর ৩০ মিনিট আগে কেন্দ্রে প্রবেশের নির্দেশনা থাকায় পরীক্ষার্থীরা আরও আগেভাগেই কেন্দ্রে উপস্থিত হয়।  

এবার ৩০ হাজার ৬৬৬টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ১৮ লাখ ৫৭ হাজার শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন। এরমধ্যে ৯ লাখ ৩০ হাজার ৩০৫ জন ছেলে। আর মেয়ে ৯ লাখ ২৭ হাজার ৩৯ জন।

গতকাল সোমবার (২০ এপ্রিল)  সচিবালয়ে ব্রিফিং করেন শিক্ষামন্ত্রী আ. ন. ম এহছানুল হক মিলন ও প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মাহাদী আমিন। তারা জানান, পরীক্ষার সময় ৩ হাজার ৮৮৫টি কেন্দ্রে নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য চিঠি দেওয়া হয়েছে। পরীক্ষার্থীদের নির্বিঘ্নে চলাচলে কেন্দ্র এলাকা যানজটমুক্ত রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পরীক্ষাকেন্দ্রে অহেতুক আতঙ্ক সৃষ্টি না করার আহ্বান জানিয়েছেন শিক্ষা উপদেষ্টা।

এদিকে, ইতোমধ্যে মাধ্যমিক ও সমমান পরীক্ষায় স্বচ্ছ ও নকলমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে গত দুই সপ্তাহের প্রায় প্রতিদিনই জরুরি নির্দেশনা জারি করছে শিক্ষাবোর্ডগুলো। ৩ হাজার ২০৯টি কেন্দ্র আনা হয়েছে সিসি ক্যামেরার আওতায়। 

এ বিষয়ে আন্তঃশিক্ষাবোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ড. খন্দোকার এহসানুল কবির বলেন, অনেক জায়গায় সিসি ক্যামেরা অভ্যস্ত আছে। নতুন জায়গায় কেন্দ্র সচিবদেরকে সেভাবে অনুপ্রাণিত করেছি।

 

আমাদের অনুসরণ করুন

 

সর্বাধিক পড়ুন

  • সপ্তাহ

  • মাস

  • সব