• Colors: Purple Color

দেশের বিনিয়োগ পরিবেশকে আরও গতিশীল ও সমন্বিত করতে বড় ধরনের প্রশাসনিক সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এরই অংশ হিসেবে বিডা, বেপজা ও বেজাসহ গুরুত্বপূর্ণ ছয়টি সরকারি সংস্থাকে বিলুপ্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এসব সংস্থাকে একীভূত করে ‘বিনিয়োগ উন্নয়ন সংস্থা’ নামে একটি নতুন দপ্তর গঠন করা হবে।

বিলুপ্ত হতে যাওয়া সংস্থাগুলো হলো— বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা), বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা কর্তৃপক্ষ (বেপজা), বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা), বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষ, সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব (পিপিপি) কর্তৃপক্ষ এবং বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প কর্পোরেশন (বিসিক)।

রোববার (১৯ এপ্রিল) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ৬ সংস্থা বিলুপ্ত করে গঠন করা হচ্ছে বিনিয়োগ উন্নয়ন সংস্থা নামের নতুন দপ্তর; যেখানে থাকবে না কাগুজে নথির চল। চালু করা হবে ডি নথি।

সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, এসব সংস্থা একীভূত করে ‘বিনিয়োগ উন্নয়ন সংস্থা’ নামে একটি নতুন দপ্তর গঠন করা হবে। নতুন এই কাঠামোয় বিনিয়োগ সংক্রান্ত সব সেবা এক ছাতার নিচে আনা হবে এবং কাগজভিত্তিক ফাইলিংয়ের পরিবর্তে চালু করা হবে ডিজিটাল নথি (ডি-নথি) ব্যবস্থা।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বিনিয়োগ প্রক্রিয়াকে সহজ ও দ্রুত করতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে বিনিয়োগ প্রক্রিয়ায় একাধিক দপ্তরের সম্পৃক্ততার কারণে সময়ক্ষেপণ ও জটিলতা তৈরি হয় বলে মনে করছে সরকার।

নতুন কাঠামোতে প্রতিটি ধাপ ডিজিটালাইজড করার পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে বিনিয়োগকারীদের বিভিন্ন দপ্তরে ঘুরতে না হয়। পাশাপাশি ফাইল প্রসেসিংয়ের দীর্ঘসূত্রতা কমিয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ব্যবস্থা রাখা হবে।

এরই মধ্যে সংস্থাগুলো বিলুপ্তি, জনবল পুনর্বিন্যাস, নতুন অর্গানোগ্রাম প্রণয়ন এবং আইনি কাঠামো তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। একাধিক কমিটিও গঠন করা হয়েছে এ প্রক্রিয়া বাস্তবায়নের জন্য।

সব খসড়া ও চূড়ান্ত পরিকল্পনা আগামী ২ জুলাই প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে উপস্থাপন করা হবে বলে জানা গেছে।

 

দেশে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার কারণে অভ্যন্তরীণ নৌপথে লঞ্চের ভাড়া বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে লঞ্চ মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ চলাচল (যাত্রী পরিবহন) সংস্থা। তারা যাত্রীদের ভাড়া ৪২ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়ে আজ রোববার বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানকে (বিআইডব্লিওটিএ) চিঠি পাঠিয়েছে।

লঞ্চ মালিকদের সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মো. বদিউজ্জামান স্বাক্ষরিত সেই চিঠিতে বলা হয়েছে, ১৮ এপ্রিল সরকার ডিজেলের দাম লিটারে ১৫ টাকা বাড়িয়ে ১১৫ টাকা নির্ধারণ করেছে। এর ফলে লঞ্চ পরিচালনার ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। একই সঙ্গে প্লেট, এল, প্রপেলার, ইঞ্জিনের খুচরা যন্ত্রাংশ, ফুয়েলিং রড, গ্যাস, রং ও অন্যান্য যন্ত্রাংশের দামও বৃদ্ধি পেয়েছে। সব মিলিয়ে পরিচালন ব্যয় প্রায় ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

খরচ বেড়েছে ১ লাখ ৫ হাজার

জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির ফলে যাত্রাপথে অতিরিক্ত এক লাখ ৫ হাজার টাকার মতো খরচ বেড়েছে, বলছেন মালিকেরা। মালিকদের সংস্থাটির মহাসচিব সিদ্দিকুর রহমান একটি উদাহরণ দিয়ে বলেন, ঢাকা থেকে বরিশাল যেতে ৬ থেকে ৭ হাজার লিটার ডিজেল প্রয়োজন হয়। প্রতি লিটার ডিজেলে ১৫ টাকা করে বাড়তি ধরলে ব্যয় বেড়েছে এক লাখ ৫ হাজার টাকা। তাই যাত্রীদের ভাড়া বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। বিআইডব্লিওটিএ কর্মকর্তারা বিষয়টি নিয়ে বসে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা জানিয়েছে বলে জানান তিনি।

লঞ্চমালিকদের প্রস্তাব অনুযায়ী, যাত্রীভাড়া ১০০ কিলোমিটার পর্যন্ত দূরত্বে প্রতি কিলোমিটারে ১ টাকা বাড়িয়ে ৩ টাকা ৭৭ পয়সা নির্ধারণের সুপারিশ করা হয়েছে, যা প্রায় ৩৬ শতাংশ বেশি। আর ১০০ কিলোমিটারের বেশি দূরত্বে প্রতি কিলোমিটারে বর্তমান ১ টাকা বাড়িয়ে ৩ টাকা ৩৮ পয়সা নির্ধারণের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, যা প্রায় ৪২ শতাংশ বেশি। এ ছাড়া সর্বনিম্ন যাত্রীভাড়া ২৯ টাকার পরিবর্তে ৩৫ টাকা নির্ধারণের অনুরোধ করা হয়েছে।

চিঠিতে আরও বলা হয়, সড়ক যোগাযোগব্যবস্থার উন্নতির কারণে অনেক যাত্রী এখন সড়কপথে যাতায়াত পছন্দ করেন। এতে নৌপথে যাত্রীসংখ্যা কমে গেছে। ধারণক্ষমতা অনুযায়ী যাত্রী না পাওয়ায় লঞ্চমালিকেরা আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। এ পরিস্থিতিতে ভাড়া সমন্বয় না করা হলে লঞ্চ ব্যবসা টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়বে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন লঞ্চমালিকেরা।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) নৌপথে ভাড়া নির্ধারণ ও নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। তাদের অনুমোদিত ভাড়ার তালিকা সব নদীবন্দর, টার্মিনাল, ঘাট ও নৌযানে দৃশ্যমান রাখার নির্দেশনা রয়েছে।

যাত্রী পরিবহন সংস্থার চিঠির বিষয়ে বিআইডব্লিউটিএর পরিচালক মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, মাত্রই জ্বালানির মূল্য বেড়েছে। এটা নিয়ে বসে কথা বলে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। তাই ভাড়া বৃদ্ধি করা না–করা বিষয়ে এখনই বলা যাচ্ছে না।

বগুড়ায় পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথমবারের মতো নিজ জেলায় সফরে গেলেন তিনি।

সোমবার (২০ এপ্রিল) সকাল ১০টার দিকে বগুড়ায় পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী।

এদিন, ভোর ৬টায় রাজধানীর গুলশানের বাসভবন থেকে সড়কপথে তিনি বগুড়ার উদ্দেশে রওনা দেন।

এই সফরে প্রধানমন্ত্রী দেশের ১৩তম সিটি করপোরেশন হিসেবে ‘বগুড়া সিটি করপোরেশন’-এর ফলক উন্মোচন করবেন। এছাড়া জেলাজুড়ে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক ও রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নেবেন।

সফরসূচি থেকে জানা যায়, বেলা ১১টায় জেলা আইনজীবী সমিতির নতুন ভবনের ফলক উন্মোচন, বেলা সোয়া ১১টায় জজ আদালতের ই-বেইলবন্ড উদ্বোধন, বেলা সাড়ে ১১টায় বগুড়া পৌরসভাকে নবসৃষ্ট বগুড়া সিটি করপোরেশনের ফলক উন্মোচন, দুপুর পৌনে ১২টায় বগুড়া শহর থেকে গাবতলী উপজেলার বাগবাড়ীতে যাত্রা, বেলা পৌনে ১টায় বাগবাড়ীর জিয়াউর রহমান গ্রাম হাসপাতালে হামের টিকা ক্যাম্পেইন উদ্বোধন করবেন।

বিকেল ৪টায় শহরের ঐতিহাসিক আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠে জেলা বিএনপি আয়োজিত জনসভায় ভাষণ দেবেন তারেক রহমান। জনসভা শেষে তিনি বগুড়া প্রেসক্লাবের নতুন ভবন ও বায়তুর রহমান কেন্দ্রীয় মসজিদের পুনর্নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করবেন।

দিনভর কর্মসূচি শেষে প্রধানমন্ত্রী ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেবেন। পথে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় বগুড়া পল্লী উন্নয়ন একাডেমিতে যাত্রাবিরতি করবেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর এই সফরকে ঘিরে বগুড়া শহর তোরণ, ব্যানার ও ফেস্টুনে সাজানো হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে নেয়া হয়েছে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

চট্টগ্রাম

বগুড়াসহ ৭ জেলায় ই-বেইলবন্ড কার্যক্রমের উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সোমবার (২০ এপ্রিল) সকালে বগুড়া জেলা ও দায়রা জজ আদালত প্রাঙ্গণে এ উদ্বোধন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ফ্যাসিবাদী শাসনামলে ভিন্ন দল-মতের মানুষদের বিনাবিচারে শাস্তি দেওয়া হয়েছে। আইনের শাসনের অপব্যবহার করে মানুষদের নির্যাতন করা হতো। দেশে শুধু আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা নয়, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠাও গুরুত্বপূর্ণ বলে জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, পর্যায়ক্রমে দেশের সব আদালতে ই-বেইলবন্ড কার্যক্রম চালু করা হবে। এই সিস্টেমে দ্রুত বিচারকাজ শেষ হবে বলে আশা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী।

এছাড়াও অহেতুক হয়রানি ও দুর্ভোগ থেকে বিচারপ্রার্থীরা রক্ষা পাবেন বলে মনে করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, বিএনপি এমন বিচারব্যবস্থা চালু করবে, যা প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তা ও সাধারণ মানুষ—সবার জন্য সমান হবে। আইনের দৃষ্টিতে সবার সমান অধিকার প্রতিষ্ঠাই সরকারের লক্ষ্য বলে জানান তিনি

এর আগে, সকাল ১১টার পর বগুড়া জেলা আইনজীবী সমিতির নবনির্মিত ভবনের ফলক উন্মোচন করেন প্রধানমন্ত্রী।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনীত প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেছে বিএনপি। তালিকায় আছেন সেলিমা রহমান, নিপুন রায় চৌধুরী, সানজিদা ইসলাম তুলিসহ মোট ৩৬ জন।  বিএনপির প্রেস উইং সূত্রে এ খবর জানা গেছে।

সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপি প্রার্থীদের নামের তালিকা দেখুন নিচে

সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপি প্রার্থীদের নামের তালিকা

গত ১৭ এপ্রিল সংরক্ষিত নারী আসনের প্রার্থীদের সাক্ষাৎকার শুরু করে বিএনপি। মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার নেন দলটির মনোনয়ন বোর্ডের সদস্যরা। মনোনয়ন পেতে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সাত শতাধিক আবেদন জমা পড়ে।

আগামী ১২ মে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন হবে। জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসন ৫০টি। প্রতি ছয়জন সাধারণ সদস্যের বিপরীতে একটি সংরক্ষিত নারী আসন বণ্টন হবে। সে অনুযায়ী, বিএনপি জোট ৩৬টি, জামায়াত জোট ১৩টি এবং স্বতন্ত্ররা মিলে একটি সংরক্ষিত আসন পাবে।

আমাদের অনুসরণ করুন

 

সর্বাধিক পড়ুন

  • সপ্তাহ

  • মাস

  • সব