• Colors: Purple Color

কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার গৌরীপুর বাজারে চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানে গুলিতে নিহত সুলতান মিয়া হত্যা মামলায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা শাকিব হোসেনকে (রাব্বি) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আদালতের মাধ্যমে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

এদিকে ওই ঘটনার প্রতিবাদে গতকাল মঙ্গলবার বেলা ১১টা থেকে এক ঘণ্টা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করে রাখেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা-কর্মীরা। তাঁরা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের দাউদকান্দির বিশ্বরোড এলাকায় অবস্থান নেন। এতে রাজারহাট থেকে মেঘনা-গোমতী সেতু পর্যন্ত পাঁচ কিলোমিটার এলাকায় তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়। পরে তাঁরা সেনাবাহিনী ও পুলিশের কাছ থেকে আশ্বাস পেয়ে কর্মসূচি প্রত্যাহার করেন।

গণ-অভ্যুত্থানে নিহত সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালক সুলতান মিয়া তিতাস উপজেলার শোলাকান্দি গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গৌরীপুর বাজারে তিনি গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তাঁর স্ত্রী রেহেনা বেগম বাদী হয়ে দাউদকান্দি মডেল থানায় হত্যা মামলা করেন। ওই মামলায় শাকিব হোসেন এজাহারভুক্ত আসামি ছিলেন না। পুলিশ জানায় তদন্তে ওই হত্যাকাণ্ডে শাকিব হোসেন জড়িত বলে প্রমাণ পাওয়া গেছে।

শাকিব হোসেনের ((২৪) সঙ্গে তাঁর ভাই নবীর হোসেনকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁরা তিতাস উপজেলার জিয়ারকান্দি গ্রামের জহির হোসেনের ছেলে। শাকিব বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের দাউদকান্দি উপজেলা কমিটির মুখপত্র। গত বৃহস্পতিবার রাতে দাউদকান্দির গৌরীপুর বাজারে নিজ বাসা থেকে শাকিব ও তাঁর ভাইকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরদিন শুক্রবার তাঁদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।

শাকিবের বড় ভাই জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘শাকিব জীবন বাজি রেখে জুলাই আন্দোলনে অংশ নিয়েছে। আমার ছোট ভাইকে বিনা দোষে ফাঁসানো হয়েছে। টাকার বিনিময়ে কে বা কারা পুলিশকে দিয়ে আমার দুই ভাইকে মামলার মিথ্যা আসামি করেছে। সুলতান মিয়া হত্যা মামলায় এফআইআরএ তাঁদের নাম ছিল না। এখন পুলিশ বলছে তাঁরা তদন্তপ্রাপ্ত আসামি। এটাই কি দেশের গণতন্ত্র?’

এ সম্পর্কে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা গৌরীপুর পুলিশ তদন্তের ইনচার্জ পরিদর্শক মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘মামলার তদন্ত করতে গিয়ে জুলাই যোদ্ধা শাকিব হোসেন ও তাঁর বড় ভাই নবীর হোসেনের নাম পেয়েছি। তাঁরা এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তাঁদের সঙ্গে আরও লোক আছেন। দুই ভাইয়ের সঙ্গে এ মামলার আরও একজন তদন্তকারী আসামিকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।’

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন দাউদকান্দি উপজেলা শাখার আহ্বায়ক আতিকুল ইসলাম (শান্ত) বলেন, ‘জুলাই যোদ্ধা শাকিবকে কেন মধ্যরাতে বিনা নোটিশে, বিনা ওয়ারেন্টে, ফিল্মি স্টাইলে বাসা থেকে তুলে নেওয়া হলো, আমরা তার ব্যাখ্যা জানতে চাই। কার ইশারায় এই কাজ হয়েছে, সে বিষয়ে আমরা পরিষ্কার বক্তব্য শুনতে চাই। নয়ছয় করে এ ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার যদি কোনো অপচেষ্টা করা হয়, তাহলে আন্দোলন আরও তীব্র থেকে তীব্র আকার ধারণ করবে, ইনশা আল্লাহ।’

সিলেট থেকে ৩০ যাত্রী নিয়ে কক্সবাজার যাচ্ছিল হানিফ পরিবহনের একটি বাস। প্রায় ১৩ ঘণ্টা পর চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড পৌঁছায় বাসটি। এরপর তেল শেষ হওয়ায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ওপরই বাসটির ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে যায়। ফলে গন্তব্যে যাওয়া নিয়ে ভোগান্তিতে পড়তে হয় যাত্রীদের।

আজ বুধবার সকাল সাতটার দিকে সীতাকুণ্ড উপজেলার ভাটিয়ারী ইউনিয়নের বানুর বাজার এলাকায় বাসটির ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে যায়। এর আগে গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সিলেট থেকে রওনা দেয় বাসটি।

আজ সকাল আটটার দিকে সরেজমিনে দেখা যায়, মহাসড়কের ওপরেই বাসটি থেমে আছে। যাত্রীদের কয়েকজন বন্ধ বাসটিতে বসে রয়েছেন। কয়েকজন রাস্তায় দাঁড়িয়ে অন্য কোনো যানবাহনে ওঠার চেষ্টা করছেন। যাত্রীরা জানান, জ্বালানি তেল নিতে বাসটির চালকের সহকারী বালতি নিয়ে আশপাশের ফিলিং স্টেশনে ঘুরছেন। তবে এক ঘণ্টা পার হলেও বাসটির জন্য জ্বালানি তেলের কোনো ব্যবস্থা করা যায়নি।

বাসের যাত্রীদের একজন ওবায়দুর রহমান। তিনি বলেন, কক্সবাজারের টেকনাফে যাওয়ার উদ্দেশে সিলেট থেকে বাসটিতে ওঠেন তিনি। গতকাল সন্ধ্যা ছয়টায় বাসটি যাত্রা শুরু করে। এরপর কয়েকটি ফিলিং স্টেশনে গিয়ে সারিতে অপেক্ষার পর জ্বালানি তেল নিয়েছে বাসটি। ১০ লিটার ২০ লিটার করে তেল দেওয়া হয়। ১০ লিটারের বেশি তেল পেতে দুটি ফিলিং স্টেশনে বাড়তি টাকাও দিয়েছেন চালক। এরপরও জ্বালানি তেল শেষ হয়ে যাওয়ায় বাসের ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে গেল।

বাসের আরেক যাত্রী মোবারক হোসেন বলেন, ‘সকাল ৯টায় কক্সবাজারে আমার পেশাগত একটি প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়ার কথা। অথচ সীতাকুণ্ডেই আটটা বেজে গেল। প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ করতে আদৌ পারব কি না জানি না।’

বাসচালক ওসমান গনি বলেন, সিলেট থেকে কক্সবাজার যেতে তাঁর বাসে ১৬০ লিটার জ্বালানি তেল লাগে। তিনি যাত্রা শুরু করেছেন ৭০ লিটার তেল দিয়ে। পথে অনেক ফিলিং স্টেশনে তেল নেওয়ার চেষ্টা করেছেন। তিনটিতে সামান্য তেল পেয়েছেন। বাকি ফিলিং স্টেশনে দীর্ঘ অপেক্ষার পরও তেল পাননি। তাই বাসের ইঞ্জিন হয়ে গেছে। সীতাকুণ্ড থেকে কক্সবাজার যেতে তাঁর আরও অন্তত ৬০ লিটার জ্বালানি তেল লাগবে।

ওসমান গনি বলেন, ‘কিছু যাত্রী চট্টগ্রামে নামার কথা। ওই যাত্রীদের কয়েকজনকে কিছু টাকাপয়সা দিয়ে লোকাল গাড়িতে তুলে দিচ্ছি। বাকি যাত্রীদের আমাদের কোম্পানির অন্য একটি গাড়িতে তুলে দেব। আর কোনো উপায় নেই। তেলের জন্য চেষ্টা করে যাচ্ছি।’

অন্তর্বর্তী সরকারের সময় মব বা গণপিটুনির মতো ঘটনাকে ভীষণভাবে প্রশ্রয় দেওয়া হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। এই প্রশ্রয় সমাজে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার একটি বিপজ্জনক প্রবণতা তৈরি হয়েছে। বর্তমান সরকার এ ধরনের কর্মকাণ্ডে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে এগোচ্ছে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কঠোর অবস্থানে রয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

বুধবার (১৫ এপ্রিল) বাংলাদেশ সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) সম্মেলন কক্ষে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন।

ডা. জাহেদ বলেন, কোনো অবস্থাতেই গণপিটুনি বা মব জাস্টিস মেনে নেওয়া হবে না। অপরাধী যত বড়ই হোক না কেন, শাস্তি দেওয়ার ক্ষমতা একমাত্র রাষ্ট্রের কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর নয়। আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতা সমাজে অরাজকতা তৈরি করে এবং এটি সম্পূর্ণরূপে দণ্ডনীয় অপরাধ।

তিনি বলেন, অতীতে কিছু সময়ে এসব কর্মকাণ্ডকে প্রশ্রয় দেওয়ার কারণে সমাজে একটি ভুল প্রবণতা তৈরি হয়েছে। মানুষ মনে করছে, চাইলেই কাউকে শাস্তি দেওয়া যায়। এই সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। কেউ গুরুতর অপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত হলেও তাকে পিটিয়ে মারা তো দূরের কথা, শারীরিকভাবে আঘাত করাও আইনসম্মত নয়।

তিনি আরও বলেন, কোনো কোনো ক্ষেত্রে প্রশাসনিক ব্যর্থতা থাকতে পারে, তবে সেটি দূর করার জন্য সরকার কাজ করছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আরও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা হয়েছে।

সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে বিশ্বাস করে উল্লেখ করে তিনি বলেন, পরিকল্পিত বা সংগঠিত সহিংসতাকে কঠোরভাবে দমন করা হবে। প্রকৃত অপরাধী ধরা পড়লেও তাকে আইনের আওতায় আনা হবে। গণপিটুনির মাধ্যমে নয়। আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার মানসিকতা পরিহার করতে হবে এবং যে কোনো অভিযোগ বা অপরাধের ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর আস্থা রাখতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি

আগামী ২ মাসে জ্বালানির কোনো সমস্যা হবে না বলে জানিয়েছেন জ্বালানি বিভাগের যুগ্মসচিব মনির হোসেন চৌধুরী। তিনি বলেছেন, দেশে ১ লাখ ১ হাজার ৩৮৫ মেট্রিক টন ডিজেল, ৩১ হাজার ৮২১ মেট্রিক টন অকটেন, ১৮ হাজার ২১১ মেট্রিক টন পেট্রোল এবং ৭৭ হাজার ৫৪৬ মেট্রিক টন জেট ফুয়েল মজুত রয়েছে।

বুধবার (১৫ এপ্রিল) দুপুরে সচিবালয়ে জ্বালানি বিষয়ে এক ব্রিফিংয়ে তিনি এই তথ্য দেন।

জ্বালানি বিভাগের মুখপাত্র বলেন, প্রতিমাসেই জ্বালানির দাম সমন্বয় করা হয়। এপ্রিল মাসেও করা হয়েছে। আগামী মাসে কেমন দাম হবে তা পরিস্থিতি বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত হবে।

তিনি আরও বলেন, পেট্রোল পাম্পে অতিরিক্ত ভিড়-এই সমস্যা ঢাকার বাইরে নেই। ঢাকায় সমস্যাটা দেখা যাচ্ছে। কিন্তু প্যানিক বায়িংয়ের প্রয়োজন নেই। গত বছর একই সময়ে যে তেল পেট্রোল পাম্পগুলোতে দেওয়া হয়েছে, এ বছরও পরিমাণের তেল দেওয়া হচ্ছে। সরবরাহ কোনোভাবেই কমানো হচ্ছে না। এতে তো সমস্যা হওয়ার কথা না।

শিল্প কারখানার ডিজেলে কোনো ঘাটতি নেই বলে জানান জ্বালানি বিভাগের মুখপাত্র। তিনি বলেন, এক্ষেত্রে কোনো প্রতিবন্ধকতা নেই। তালিকা ধরে চাহিদা অনুযায়ী জ্বালানি দেওয়া হচ্ছে। বেসরকারিভাবে ১৪ লাখ মেট্রিক টন জ্বালানি আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

মার্চ ও এপ্রিল মাসে ক্রুড অয়েল আনতে পারেনি সরকার উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, এপ্রিল বা মে মাসের শুরুতে সৌদি আরব থেকে ভিন্ন রুটে ক্রুড অয়েল আসবে।

তিনি আরও বলেন, ইস্টার্ন রিফাইনারিতে বছরে ১৫ লাখ মেট্রিক টন জ্বালানি পরিশোধন করা হয়, যা মোট জ্বালানি চাহিদার এক পঞ্চমাংশ।

সড়কের ফুটপাত ব্যবহার যেন অনুপযোগী হয়ে না পড়ে, সেজন্য তালিকা করে ফুটপাতের ব্যবসায়ীদের সরকার লাইসেন্স দেবে বলে জানিয়েছেন দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক মো. আবদুস সালাম।

বুধবার (১৫ এপ্রিল) ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (ঢামেক) সামনের ফুটপাত দখলমুক্ত করে নান্দনিক পরিবেশ সৃষ্টি শীর্ষক পাইলট প্রকল্পের উদ্বোধন শেষে এ কথা বলেন তিনি।

মো. আবদুস সালাম বলেন, ঢাকা মহানগরীর নাগরিক সব সুবিধা তখনই পাওয়া সম্ভব হবে যখন জনগণ এবং সিটি করপোরেশন ফিফটি ফিফটি কাজ করবে। যেকোনো ব্যবসা করতে সিটি করপোরেশনের অনুমতি নিতে হবে, ফুটপাতে ব্যবসা করলেও আইনি প্রক্রিয়ায় তা করতে হবে।

ঢামেকের সামনের ফুটপাত দখলমুক্ত করা হয়েছে; তবে তা যেন রক্ষা করা যায়, তার জন্য সবার সহযোগিতা প্রয়োজন জানিয়ে তিনি বলেন, অল্প জায়গায় অধিক দোকান যাতে বসতে না পারে সেজন্য হকার কোথায় বসবে সেটার গাইডলাইন দেওয়া হবে। এক সপ্তাহের মধ্যে পুলিশ জরিপ করে শৃঙ্খলা আনার বিষয়ে কাজ করা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, রাজপথে কেউ কিছু ফেলব না; এই শপথ নিতে হবে প্রতিটি নাগরিককে, তাহলেই ঢাকা শহরকে পরিষ্কার রাখা সম্ভব। রাষ্ট্রের মুখমণ্ডল ঢাকাকে পরিষ্কার রাখতে হবে। চিকুনগুনিয়া, ডেঙ্গু আসার আগেই সবার নিজ নিজ আঙিনা পরিষ্কার রাখতে হবে।

 

ইরান গোপনে একটি চীনা গোয়েন্দা স্যাটেলাইট সংগ্রহ করেছে। এর মাধ্যমে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলা যুদ্ধে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো লক্ষ্যবস্তু বানানোর এক নতুন সক্ষমতা অর্জন করেছে দেশটি।

ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস (এফটি) আজ বুধবার এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে।

প্রতিবেদনটিতে ফাঁস হওয়া ইরানি সামরিক নথির বরাতে বলা হয়েছে, ‘টিইই–০১বি’ নামের এই স্যাটেলাইট চীনা কোম্পানি ‘আর্থ আই’ তৈরি ও উৎক্ষেপণ করেছিল।

চীন স্যাটেলাইটটি মহাকাশে পাঠানোর পর ২০২৪ সালের শেষের দিকে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) অ্যারোস্পেস ফোর্স এর নিয়ন্ত্রণ নেয়।

পত্রিকাটি আরও বলেছে, ইরানি সামরিক কমান্ডাররা এই স্যাটেলাইটকে গুরুত্বপূর্ণ মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলো পর্যবেক্ষণের নির্দেশ দিয়েছিলেন। গত মার্চে ওইসব স্থানে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আগে এবং পরে এ স্যাটেলাইট থেকেই ছবি তোলা হয়েছিল।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, চুক্তির অংশ হিসেবে ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড কোর বেইজিংভিত্তিক কোম্পানি ‘এমপোস্যাট’-এর গ্রাউন্ড স্টেশনগুলো ব্যবহারের সুযোগ পেয়েছে। এর মাধ্যমে তারা এশিয়া ও লাতিন আমেরিকাসহ বিভিন্ন অঞ্চল থেকে স্যাটেলাইটের তথ্য সংগ্রহ করতে পারছে।

তবে রয়টার্স এ খবরের সত্যতা যাচাই করতে পারেনি। হোয়াইট হাউস, সিআইএ, পেন্টাগন কিংবা চীনের কোনো দপ্তরই এ নিয়ে এখনো মুখ খোলেনি। এমনকি সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোও কোনো মন্তব্য করেনি।

এমপোস্যাটের সঙ্গে আইআরজিসির সম্পর্ক নিয়ে হোয়াইট হাউস সরাসরি কিছু বলেনি। তবে এ খবর ট্রাম্পের সেই হুঁশিয়ারির কথা মনে করিয়ে দিয়েছে, যেখানে তিনি বলেছিলেন, ইরানকে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দিলে চীনের ‘বড় সমস্যা’ হবে। এদিকে, চীনা দূতাবাস একে ‘বানোয়াট অপপ্রচার’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে।

তথ্য বলছে, ১৩-১৫ মার্চ ওই স্যাটেলাইট সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান ঘাঁটির ছবি তুলেছিল এবং ১৪ মার্চ ট্রাম্প সেখানে মার্কিন বিমান আক্রান্ত হওয়ার খবর নিশ্চিত করেন। এছাড়াও জর্ডান, বাহরাইন ও ইরাকের মার্কিন ঘাঁটিগুলোর ওপরও ঠিক হামলার সময়েই নজরদারি চালিয়েছিল এই স্যাটেলাইট।

তথ্যসূত্র: রয়টার্স ও মিডল ইস্ট আই

আমাদের অনুসরণ করুন

 

সর্বাধিক পড়ুন

  • সপ্তাহ

  • মাস

  • সব