• Colors: Purple Color

বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক) এবং বাংলা একাডেমির যৌথ উদ্যোগে শুরু হতে যাচ্ছে ‘বৈশাখী মেলা ১৪৩৩’। আগামীকাল মঙ্গলবার থেকে এই মেলা শুরু হয়ে চলবে ২০ এপ্রিল পর্যন্ত। সাত দিনব্যাপী এ মেলায় থাকবে ঐতিহ্যবাহী উপকরণ, ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প উদ্যোক্তাদের তৈরি নানা পণ্য, বৈশাখী সাজসজ্জা, মাটির পণ্য, নকশিকাঁথা এবং গ্রামীণ ঐতিহ্যের সমাহার।

আজ সোমবার বাংলা একাডেমিতে এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানান বিসিকের চেয়ারম্যান মো. সাইফুল ইসলাম। এ সময় বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত সবার জন্য মেলা উন্মুক্ত থাকবে। মেলায় পাওয়া যাবে কৃষিজাত দ্রব্য, কারুপণ্য, লোকজ পণ্য, পাটজাত ও চামড়াজাত পণ্য। থাকবে জামদানি, শতরঞ্জি ও শীতলপাটির মতো জিআই পণ্য। এছাড়া কুটির শিল্পজাত সামগ্রী, হস্ত ও মৃৎশিল্পজাত পণ্য, খেলনা, রূপসাজসজ্জার সামগ্রী এবং বিভিন্ন লোকজ খাদ্যদ্রব্য।

আয়োজকদের মতে, মেলায় মোট ১৬০টি স্টল থাকবে। এর মধ্যে রয়েছে চামড়াজাত পণ্যের ৭টি, জামদানির ৬টি, নকশিকাঁথার ৪টি, বস্ত্রের ৪৪টি, শতরঞ্জির ৫টি এবং মণিপুরি শাড়ির ২টি স্টল। এছাড়াও কারুশিল্পী জোন, শিশুদের রাইড ও বিনোদন জোন, পুতুলনাচ, বায়োস্কোপ এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের জন্য ১৩টি স্টল বরাদ্দ রয়েছে। প্রান্তিক কারুশিল্পীদের জন্য ১৩টি, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর জন্য ২টি এবং কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচির জন্য ১টি স্টল বিনামূল্যে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, নববর্ষকে উৎসবমুখর করতে ১৯৭০-এর দশকের শেষার্ধ থেকে বিসিক ও বাংলা একাডেমি যৌথভাবে এই মেলার আয়োজন করে আসছে।

আগামীকাল মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টায় বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে মেলার উদ্বোধন করা হবে। অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী এবং শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

বাংলা নতুন বছরকে বরণ করে নিতে সব প্রস্তুতি প্রায় শেষ হয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদে। নববর্ষ উদযাপনে ‘বৈশাখী শোভাযাত্রার’ জন্য মোটিফ মোরগ, হাতি, দোতারার কাজ প্রায় শেষ হয়েছে। আর ঘোড়া ও পায়রায় চলছে রঙের কাজ।

সোমবার (১৩ এপ্রিল) ‘বৈশাখী শোভাযাত্রা’ আয়োজক কমিটির সদস্য অধ্যাপক ইসরাফিল রতন বলেন, আমাদের কাজ প্রায় শেষ হয়েছে। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) সকাল ৬টার দিকে শোভাযাত্রার জন্য গাড়িতে তোলা হবে।

পয়লা বৈশাখ উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের উদ্যোগে আয়োজিত শোভাযাত্রা বাংলা নববর্ষ উদযাপনের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ। প্রতিবছরের মতো এবারও নানা বয়স ও শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণে উৎসবমুখর হয়ে উঠবে এ আয়োজন। এবার শোভাযাত্রার প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে— ‘নববর্ষের ঐক্য, গণতন্ত্রের পুনরুত্থান’।    

উৎসবের আবহে চারুকলার প্রাঙ্গণ যেন রঙের এক জীবন্ত কর্মশালায় পরিণত হয়েছে। শিল্পীদের তুলির আঁচড়ে প্রাণ পাচ্ছে মোরগ, পায়রা, দোতারাসহ বিভিন্ন প্রতীকী মুখোশ। পাশাপাশি তৈরি হচ্ছে সরা, মাটির টেপা পুতুল এবং জলরঙে আঁকা নান্দনিক পেইন্টিং। প্রতিটি শিল্পকর্মে ফুটে উঠছে বাঙালির ঐতিহ্য, সংগ্রাম ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার বহিঃপ্রকাশ। শিক্ষার্থী ও শিল্পীরা দিন-রাত পরিশ্রম করে শেষ মুহূর্তে রঙের ছোঁয়া বসাচ্ছেন, ঠিক যেন প্রতিটি সৃষ্টিই হয়ে উঠছে একেকটি জীবন্ত বার্তা। 

চারুকলা অনুষদ প্রাঙ্গণে গিয়ে দেখা যায়, দেয়ালজুড়ে আঁকা হয়েছে নানান চিত্র। এসব দেয়ালচিত্রে উঠে আসছে গ্রামীণ জীবন, লোকজ ঐতিহ্য এবং বাংলার সংস্কৃতির নানা অনুষঙ্গ। 

প্রস্তুতির এই শেষ সময়টুকু দেখতে চারুকলায় ভিড় করছেন নানা বয়সী মানুষ। তরুণ-তরুণীদের পাশাপাশি পরিবার নিয়েও অনেকে ঘুরে দেখছেন পুরো আয়োজন।

নববর্ষ উপলক্ষে বর্ণাঢ্য কর্মসূচির অংশ হিসেবে বৈশাখী শোভাযাত্রা সকাল ৯টায় চারুকলা অনুষদের ৩ নম্বর (উত্তর) গেট থেকে শুরু হবে। সকাল ৮টা থেকে চলবে শোভাযাত্রার প্রস্তুতি। শোভাযাত্রাটি শাহবাগ থানার সামনে গিয়ে ইউ-টার্ন নিয়ে রাজু ভাস্কর্য, দোয়েল চত্বর ও বাংলা একাডেমি হয়ে আবার চারুকলা অনুষদে ফিরে এসে শেষ হবে।

শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণকারীরা শুধু নীলক্ষেত ও পলাশী মোড় দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশ করতে পারবেন। শোভাযাত্রা চলাকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য প্রবেশপথ ও সংলগ্ন সড়ক বন্ধ থাকবে। নিরাপত্তার স্বার্থে অংশগ্রহণকারীদের পরিচয়পত্র সঙ্গে রাখার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

কঠোর নিরাপত্তা নির্দেশনা

পয়লা বৈশাখে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে কোনো ধরনের মুখোশ পরে প্রবেশ করা যাবে না এবং ব্যাগ বহনও নিষিদ্ধ থাকবে। তবে চারুকলা অনুষদে প্রস্তুত করা মুখোশ হাতে নিয়ে প্রদর্শন করা যাবে। শোভাযাত্রায় ইংরেজি প্ল্যাকার্ড ব্যবহার করা যাবে না। পাশাপাশি বেলুন, ফেস্টুন ও আতশবাজি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ভুভুজেলা বাঁশি বাজানো ও বিক্রি না করারও অনুরোধ জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

নববর্ষের দিন ক্যাম্পাসে সব অনুষ্ঠান বিকেল ৫টার মধ্যে শেষ করতে হবে। ওই দিন বিকেল ৫টার পর আর ক্যাম্পাসে প্রবেশ করা যাবে না, শুধু বের হওয়া যাবে। ১৩ এপ্রিল সন্ধ্যা ৭টার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টিকারযুক্ত গাড়ি ছাড়া অন্য কোনো যানবাহন ক্যাম্পাসে ঢুকতে পারবে না। নববর্ষের দিন সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকবে এবং মোটরসাইকেল চালানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে।

বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বসবাসকারীরা নিজেদের গাড়ি চলাচলের জন্য শুধু নীলক্ষেত মোড়সংলগ্ন গেট ও পলাশী মোড়সংলগ্ন গেট ব্যবহার করতে পারবেন।

ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রের সামনে থাকবে বিশ্ববিদ্যালয়ের হেল্প ডেস্ক, কন্ট্রোল রুম ও অস্থায়ী মেডিকেল ক্যাম্প। হাজী মুহম্মদ মুহসীন হল মাঠসংলগ্ন এলাকা, ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রের আশপাশ, দোয়েল চত্বরসংলগ্ন এলাকা এবং কার্জন হল এলাকায় স্থাপন করা হবে মোবাইল পাবলিক টয়লেট।

নিরাপত্তা জোরদারে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন পুলিশের কাছে পর্যাপ্ত সিসি ক্যামেরা ও আর্চওয়ে স্থাপন এবং সেগুলোর সার্বক্ষণিক মনিটরিংয়ের অনুরোধ জানিয়েছে।

 

দেশবাসীসহ বিশ্বের সব বাংলাভাষী মানুষকে পহেলা বৈশাখের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, ‘নববর্ষের এই শুভক্ষণে আমরা যেন সংকীর্ণতা ও স্বার্থপরতার ঊর্ধ্বে উঠে মানবকল্যাণের পথ অনুসরণ করি। নতুন বছরের প্রথম প্রভাতে আমরা অতীতের সব হতাশা ও সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে নতুন উদ্যমে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করি।’

আজ সোমবার সন্ধ্যায় নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক পোস্টে পহেলা বৈশাখের শুভেচ্ছা জানান প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁর পোস্টে লিখেছেন, বিদায় ১৪৩২। স্বাগত বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩। পহেলা বৈশাখ—বাংলা নববর্ষের প্রথম দিন। এ উপলক্ষে আমি দেশবাসীসহ বিশ্বের সব বাংলাভাষী মানুষকে জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন। পহেলা বৈশাখ আমাদের জাতিসত্তার ইতিহাস, সংস্কৃতি ও আত্মপরিচয়ের এক অনন্য প্রতীক। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে এই দিনটি আমাদের জীবনে প্রতি বছর ফিরে আসে নতুনের আহ্বান নিয়ে। নতুন বছরের আগমনে পুরনো জীর্ণতা ও গ্লানি পেছনে ফেলে সামনে এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা জোগায়।

পহেলা বৈশাখের সঙ্গে এ অঞ্চলের কৃষি, প্রকৃতি এবং কৃষিভিত্তিক অর্থনৈতিক কার্যক্রমের সম্পর্ক নিবিড়—এ কথা উল্লেখ করে তারেক রহমান লেখেন, ‘তথ্যপ্রযুক্তির এই সুবর্ণ সময়েও প্রকৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই কৃষক তাঁর ফসল উৎপাদনের দিনক্ষণ ঠিক করে। বাংলার হাজার বছরের ঐতিহ্য, লোকজ সংস্কৃতি, কৃষ্টি ও মূল্যবোধের ধারাবাহিকতা পহেলা বৈশাখের মাধ্যমে নতুন করে উজ্জীবিত হয়। বৈশাখী মেলা, বৈশাখী শোভাযাত্রা, হালখাতার মতো ঐতিহ্যবাহী আয়োজন আমাদের সংস্কৃতির বহুমাত্রিক সৌন্দর্যকে তুলে ধরে এবং আমাদেরকে ঐক্যবোধে উজ্জীবিত করে। বাংলা নববর্ষ আমাদের সামনে এনেছে নতুন প্রত্যাশা ও নতুন সম্ভাবনা। প্রকৃতির নবজাগরণ আর মানুষের অন্তরের আশাবাদ মিলেমিশে সৃষ্টি করে এক প্রাণবন্ত উৎসবমুখর পরিবেশ।’

প্রধানমন্ত্রী লিখেছেন, দীর্ঘ দেড় দশকের ফ্যাসিবাদী শোষণ-শাসনের অবসানের পর গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে যাত্রা শুরু করে নতুন গণতান্ত্রিক সরকার। দায়িত্ব নিয়েই এই সরকার রাষ্ট্র এবং সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের জীবনমান উন্নয়নে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন শুরু করেছে। নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে ইতিমধ্যেই ফ্যামিলি কার্ড, ক্রীড়া কার্ড, খাল খনন কর্মসূচি চালু, ইমাম-মুয়াজ্জিন-খতিব এবং অন্য ধর্মের ধর্মীয় গুরুদের জন্য আর্থিক সহায়তা কর্মসূচি চালু করেছে। বাংলা নববর্ষের প্রথম দিন থেকে শুরু হলো কৃষক কার্ড প্রদান কর্মসূচি। আগামী দিনগুলোতে কৃষক কার্ড বাংলাদেশের কৃষক এবং কৃষি অর্থনীতিতে যুগান্তকারী ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে, বাংলা নববর্ষে এটিই হোক আমাদের প্রত্যয় ও প্রত্যাশা।

বাংলাদেশের জনগণের যার যার ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধ ও সংস্কৃতির অন্তর্নিহিত সহনশীলতা, উদারতা ও সম্প্রীতির চর্চা গণতন্ত্রকে আরও শক্তিশালী করবে এবং বহুমতের সহাবস্থানকে সুদৃঢ় করবে উল্লেখ করে তারেক রহমান লিখেন, বিশ্ব আজ নানা সংকট ও সংঘাতে বিপর্যস্ত। এই প্রেক্ষাপটে শান্তি, সহমর্মিতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের চর্চা আরও জরুরি হয়ে উঠেছে। নববর্ষের এই শুভক্ষণে আমরা যেন সংকীর্ণতা ও স্বার্থপরতার ঊর্ধ্বে উঠে মানবকল্যাণের পথ অনুসরণ করি। নতুন বছরের প্রথম প্রভাতে আমরা অতীতের সব হতাশা ও সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে নতুন উদ্যমে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করি।

শুভেচ্ছা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী লিখেছেন, নববর্ষ সবার জীবনে বয়ে আনুক সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি। শুভ নববর্ষ ১৪৩৩।

প্রতিবছর পয়লা বৈশাখে হালখাতা খুলে যেভাবে সব বকেয়া পরিশোধ করা হয়, সেভাবে জাতীয় জীবনের সব বকেয়া পরিশোধ করতে ক্ষমতাসীন বিএনপি সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তাঁর বিবেচনায় এই বকেয়া হচ্ছে জুলাই সনদ।

সংস্কারের বকেয়া রেখেই সরকার নতুন বছরের হালখাতা খুলেছে উল্লেখ করে নাহিদ ইসলাম বলেছেন, অচিরেই গণভোটের গণরায় অনুযায়ী সংস্কার বাস্তবায়ন করতে হবে।

আজ মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর বাংলামোটরের নেভি গলিতে এনসিপির পয়লা বৈশাখের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন নাহিদ ইসলাম।

সবাইকে নববর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘আজকের দিনে আমাদের প্রত্যাশা অনেক বেশি। আমরা চাই, নতুন বাংলাদেশ। নতুন দেশের জন্য আমাদের তরুণ প্রজন্ম রক্ত দিয়েছে, জীবন দিয়েছে।’ এ সময় শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদিকে স্মরণ করেন তিনি।

এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘নববর্ষের এই দিনে, পয়লা বৈশাখে হালখাতা খোলা হয়, যেখানে সব বকেয়া পরিশোধ করা হয়। আমরা চাই, জাতীয় জীবনে আমাদের যত বকেয়া রয়েছে, সেই বকেয়া যাতে পরিশোধ করা হয়। সেই বকেয়া হচ্ছে জুলাই সনদ।’

বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান হয়েছে, নির্বাচন হয়েছে, সবকিছুই হয়েছে। সরকার গঠিত হয়েছে, বিরোধী দল হয়েছে। কিন্তু জনগণ সংস্কারটা পায়নি। ফলে সংস্কারের বকেয়া রেখেই সরকার হালখাতা খুলেছে। নতুন সরকার নতুনভাবে কার্যক্রম করছে। ফলে জনগণের বাকি রয়ে গেছে রক্তের দেনা, রক্তের ঋণ।

নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘আজকের দিনে আমাদের অঙ্গীকার, এই যে নতুন বছর শুরু হচ্ছে, এই নতুন বছরে আমরা সেই বকেয়া পরিশোধ করব। জুলাই সনদকে যারা নানাভাবে অমান্য করার চেষ্টা করছে, গণভোটকে অমান্য করার চেষ্টা করছে, গণভোটকে অশ্রদ্ধা করছে, গণভোটের রায় মানতে চাইছে না, আমরা তাদের বলতে চাই, অচিরেই গণভোটের গণরায় অনুযায়ী সংস্কার বাস্তবায়ন করতে হবে।’

অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশগুলো বাতিল করে বর্তমান সরকার জনগণের সঙ্গে বেইমানি করেছে বলে অভিযোগ করেন নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, ‘আমরা আশা করব, দ্রুত সময়ের মধ্যে নতুনভাবে সেগুলোকে বিল হিসেবে এনে আইনে পরিণত করা হবে।’

সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে দলীয়করণ করে সেগুলোকে ফ্যাসিবাদ প্রতিষ্ঠায় ব্যবহার করা হয়েছিল বলেও এ সময় অভিযোগ করেন নাহিদ। তিনি বলেন, ‘একইভাবে পয়লা বৈশাখসহ অনেকগুলো উৎসবকেও দলীয়করণ করা হয়েছিল। এখন সেই উৎসবগুলোকে আমরা নাগরিক উৎসব হিসেবে উদ্‌যাপন করার চেষ্টা করছি। সংস্কারের লড়াইয়ের সঙ্গে আমাদের সাংস্কৃতিক মুক্তির লড়াইও চলমান থাকবে।’

এ সময় এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া, জাতীয় যুবশক্তির আহ্বায়ক তারিকুল ইসলাম প্রমুখ নাহিদ ইসলামের সঙ্গে ছিলেন৷

কৃষক ভালো থাকলে সমগ্র বাংলাদেশের মানুষ ভালো থাকবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) দুপুরে টাঙ্গাইলে শহীদ মারুফ স্টেডিয়ামে কৃষক কার্ড কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করে এ কথা বলেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান নির্বাচিত সরকারের লক্ষ্যই হচ্ছে, কৃষককে আত্মনির্ভরশীল ও সচ্ছল হিসেবে গড়ে তোলা। সেই জন্যই এই কৃষক কার্ড আমরা দিয়েছি। 

তিনি বলেন, আমি ব্যক্তিগতভাবে বিশ্বাস করি, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিশ্বাস করে, বর্তমান নির্বাচিত সরকার বিশ্বাস করে যে, এই দেশের কৃষক যদি সচ্ছল থাকে, এই দেশের কৃষক যদি বেঁচে থাকে, এই দেশের কৃষক যদি ভালো থাকে তাহলে সমগ্র বাংলাদেশ ভালো থাকতে পারবে। সমগ্র বাংলাদেশের মানুষ ভালো থাকতে পারবে। 

দেশের ১১টি উপজেলায় পরীক্ষামূলকভাবে ১৫ জন প্রান্তিক কৃষকের হাতে ‘কৃষক কার্ড’ তুলে দেয়ার মাধ্যমে সারাদেশে প্রি-পাইলট প্রকল্পের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী।

বেলা ১২টা ২২ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী ল্যাপটপের বাটন চাপার সঙ্গে সঙ্গে টাঙ্গাইলসহ দেশের ১১টি উপজেলার ২২ হাজার ৬৭ জন কৃষকের প্রত্যেকের কাছে মোবাইলের মাধ্যমে ব্যাংক একাউন্টে আড়াই হাজার টাকার নগদ অর্থ চলে যায়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আপনারা নিশ্চয়ই অবগত হয়েছেন যে, কৃষক কার্ডের মাধ্যমে আমরা কৃষকের কাছে সরাসরি ১০টি সুবিধা পৌঁছে দিতে চেষ্টা করব ইনশআল্লাহ। ১০টি সুবিধার মাধ্যমে কৃষক তার অবস্থান অনেক ক্ষেত্রে পরিবর্তন করতে সক্ষম হবেন। 

বিএনপির চেয়ারম্যান দলের নির্বাচনি ইশতেহারের কথা উল্লেখ করে বলেন, এই মঞ্চে যত মানুষ উপস্থিত আছেন হয়তো সবাই সরাসরিভাবে কৃষক বা কৃষির সাথে সম্পৃক্ত নন। কিন্তু আমাদের পরিবারের কেউ না কেউ আছেন, যে মানুষটি কৃষির সাথে সম্পৃক্ত। বাংলাদেশে আমরা যত মানুষ আছি তার মধ্যে চার কোটি পরিবার আছে তাদের পরিবারের কেউ না কেউ কৃষির সাথে সম্পৃক্ত অর্থাৎ এই দেশের প্রধান পেশা হচ্ছে কৃষি।

প্রধানমন্ত্রী জানান, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে সরকার পর্যায়ক্রমে ২ কোটি ৭৫ লক্ষ কৃষকের হাতে কৃষক কার্ড পৌঁছে দেবে।

 

ব্র্যাকের মেধাবিকাশ বৃত্তিতে আবেদন চলছে। ২০২৫-২০২৬ শিক্ষাবর্ষে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এই মেধাবিকাশ বৃত্তির জন্য আবেদন করতে পারবেন। বৃত্তির জন্য নির্বাচিত শিক্ষার্থী এককালীন ২০ হাজার টাকা এবং মাসে ৮ হাজার টাকা বৃত্তি পাবেন।

ব্র্যাক মেধাবিকাশ বৃত্তিসংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গরিব ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষা গ্রহণের পথ সুগম করার জন্য ব্র্যাকের নিজস্ব অর্থায়নে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষে অধ্যয়নরত অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে থাকা শিক্ষার্থীদের জন্য মেধাবিকাশ বৃত্তি কার্যক্রম। এ কার্যক্রমের লক্ষ্য সহানুভূতিশীল, সচেতন ও দক্ষ প্রজন্ম গড়ে তোলা, যারা নিজেদের সফলতার মাধ্যমে দেশের উন্নয়নে সক্রিয় ভূমিকা রাখবে। অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে থাকা পরিবার থেকে আসা মেধাবী শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষায় প্রবেশাধিকার ও শিক্ষা সম্পন্ন করার সুযোগ করে দিতে আর্থিক সহায়তা প্রদান করতে ব্র্যাকের নিজস্ব অর্থায়নে এ কর্মসূচির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

আবেদনের যোগ্যতা—

*আবেদনকারী শিক্ষার্থীকে ২০২৫-২০২৬ শিক্ষাবর্ষে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য নির্বাচিত হতে হবে;

*পরিবারের মাসিক আয় ২০,০০০ টাকার কম হতে হবে।

শিক্ষার্থী নির্বাচনের মানদণ্ড—

ক. এসএসসি, এইচএসসি বা সমমান পরীক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত হতে হবে

খ. অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে থাকা পরিবার থেকে আসতে হবে

গ. সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য নির্বাচিত হতে হবে

ঘ. ব্র্যাক কর্মসূচির অন্তর্ভুক্ত সদস্যদের সন্তানদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে

ঙ. ব্র্যাক গ্র্যাজুয়েট ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর (যেমন: শারীরিক প্রতিবন্ধী ও আদিবাসী) শিক্ষার্থীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। এ ক্ষেত্রে পরীক্ষার ফলাফলের শর্ত শিথিলযোগ্য।

বৃত্তির পরিমাণ

বৃত্তির জন্য নির্বাচিত শিক্ষার্থীকে এককালীন ২০ হাজার টাকা বৃত্তি প্রদান করবে ব্র্যাক। মাসিক ৮ হাজার টাকা হারে বৃত্তি প্রদান করা হবে।

আবেদনকারীর প্রতি বিশেষ নির্দেশনাবলি—

শিক্ষাবর্ষ/সেশন: এই বৃত্তি শুধু সেই সব শিক্ষার্থীদের জন্য, যাঁরা ২০২৫-২০২৬ শিক্ষাবর্ষে (Session: 2025-26) যেকোনো সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন ভর্তি হয়েছেন।

সঠিক তথ্য প্রদান: আবেদনের প্রতিটি অংশ অত্যন্ত মনোযোগসহকারে পূরণ করতে হবে। বিশেষ করে এসএসসি (SSC) ও এইচএসসি (HSC) পরীক্ষার জিপিএ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষার রেজাল্ট সঠিকভাবে প্রদান নিশ্চিত করতে হবে।

ডকুমেন্ট স্ক্যানিং: প্রয়োজনীয় সব মূল সার্টিফিকেট, ট্রান্সক্রিপ্ট এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি নিশ্চিতকরণ কপির পরিষ্কার স্ক্যান কপি (PDF/JPEG ফরম্যাটে) আপলোড করতে হবে। ঝাপসা বা অস্পষ্ট ছবি আবেদনের অযোগ্য হিসেবে বিবেচিত হবে।

পারিবারিক আয়ের বিবরণ: পরিবারের মাসিক/বার্ষিক আয়ের তথ্য প্রদানের ক্ষেত্রে সত্যতা বজায় রাখতে হবে। প্রয়োজনে পরবর্তী সময়ে এর সাপেক্ষে প্রমাণাদি যাচাই করা হতে পারে।

যোগাযোগের মাধ্যম: ফরমে ব্যবহৃত মোবাইল নম্বর এবং ই–মেইল ঠিকানাটি অবশ্যই সচল থাকতে হবে, যাতে পরবর্তী সময়ে যেকোনো প্রয়োজনে আপনার সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়।

সতর্কীকরণ: ভুল বা অসম্পূর্ণ তথ্য প্রদান করলে যেকোনো পর্যায়ে আবেদনটি বাতিল বলে গণ্য হবে।

**এখানে সংগৃহীত সব তথ্য সম্পূর্ণ গোপনীয় রাখা হবে এবং শুধু বৃত্তির প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার স্বার্থে ব্যবহার করা হবে।

আবেদনপ্রক্রিয়া-

আবেদনের জন্য লিংকে ফরম পূরণ করতে হবে। ভর্তি রসিদ ব্যতীত আবেদন গ্রহণযোগ্য হবে না।

আবেদনের শেষ তারিখ—

২৫ এপ্রিল, ২০২৬

আমাদের অনুসরণ করুন

 

সর্বাধিক পড়ুন

  • সপ্তাহ

  • মাস

  • সব