• Colors: Purple Color

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের জারি করা অধ্যাদেশগুলোকে আইনে রূপান্তরের লক্ষ্যে জাতীয় সংসদে আজ ‘জুলাই গণঅভ্যূত্থান স্মৃতি জাদুঘর বিল, ২০২৬’, ‘জুলাই গণঅভ্যূত্থানে শহীদ পরিবার এবং জুলাই যোদ্ধাদের কল্যাণ ও পুনর্বাসন বিল, ২০২৬’ এবং ‘ব্যাংক রেজল্যুশন বিল, ২০২৬’সহ মোট ২৪টি বিল পাস হয়েছে। এগুলোর মধ্যে সকালের অধিবেশনে ১০টি বিল পাস হয়েছে।

শুক্রবার (১০ এপ্রিল) পাস হওয়া ২৪টিসহ চলতি অধিবেশনে এ পর্যন্ত ৯১টি বিল পাস হয়েছে বলে জানান, স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের আজ ১৩তম দিনের সকালের অধিবেশনে উত্থাপিত বিলগুলোর ওপর দফাওয়ারী কোনো সংশোধনী প্রস্তাব না থাকায় সংসদে এ বিষয়ে আলোচনা হয়নি। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীরা বিলগুলো উত্থাপন করলে সর্বসম্মতিক্রমে সেগুলো পাস হয়।  অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ, বীর বিক্রম।

অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে জারি করা মোট ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে সংসদের বিশেষ কমিটি ৯৮টি অপরিবর্তিতভাবে এবং ১৫টি সংশোধনসহ পাসের সুপারিশ করে। বাকি ২০টির মধ্যে ৪টি বাতিল এবং ১৬টি আরও শক্তিশালী করে নতুন বিল আকারে আনার সুপারিশ করা হয়।

পাস হওয়া বিলগুলোর মধ্যে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী জাকারিয়া তাহের ‘নারায়ণগঞ্জ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বিল, ২০২৬’;  বরিশাল উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বিল, ২০২৬’; ময়মনসিংহ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বিল, ২০২৬’; ‘কুমিল্লা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বিল, ২০২৬’; ‘রংপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বিল, ২০২৬’; সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমী (সংশোধন) বিল, ২০২৬’ ; পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু বাংলাদেশ বনশিল্প উন্নয়ন কর্পোরেশন বিল, ২০২৬’; ‘বন্য প্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা বিল, ২০২৬’; অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ‘আমানত সুরক্ষা বিল, ২০২৬’; ‘এক্সাইজেস এন্ড সল্ট বিল, ২০২৬’; মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক (সংশোধন) বিল, ২০২৬’;  ‘গ্রামীণ ব্যাংক (সংশোধন) বিল, ২০২৬’; বাংলাদেশ ব্যাংক (সংশোধন) বিল, ২০২৬’; অর্থ ২০২৫-২০২৬ অর্থবছর বিল, ২০২৬’; শিক্ষা মন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি বিল, ২০২৬’ ও বিশ্ববিদ্যালয় সংক্রান্ত কতিপয় আইন (সংশোধন) বিল, ২০২৬’; ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম ‘জাতীয় উপাত্ত ব্যবস্থাপনা বিল, ২০২৬’ ও ‘সাইবার সুরক্ষা বিল, ২০২৬’ মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী এ জেড এম জাহিদ হোসেন ‘নারী ও শিশু নির্যাতন দমন (সংশোধন) বিল, ২০২৬’ মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আজম খান ‘জুলাই গণঅভ্যূত্থানে শহীদ পরিবার এবং জুলাই যোদ্ধাদের কল্যাণ ও পুনর্বাসন বিল, ২০২৬’ পাসের প্রস্তাব উত্থাপন করেন এবং বিলগুলো সর্বসম্মতিক্রমে পাস হয়।

এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ‘মহেশখালী সমন্বিত উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বিল, ২০২৬’; পাসের প্রস্তাব উত্থাপন করেন এবং বিলগুলো সর্বসম্মতিক্রমে পাস হয়।

এদিকে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ‘ব্যাংক রেজল্যুশন বিল, ২০২৬’ সংসদে পাসের জন্য উত্থাপন করার প্রস্তাব করলে ঢাকা-১২ আসনের বিরোধী দলের (জামায়াতে ইসলামী) সদস্য সাইফুল ইসলাম মিলন বিলটি উত্থাপনের বিরোধীতা করে বিলটির ওপর জনমত যাচাইয়ের প্রস্তাব করেন। পরে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম বিষয়টি ভোটে দেন। পরে কন্ঠভোটে জনমত যাচাই প্রস্তাবটি নাকচ হয় এবং বিলটি পাস হয়।

সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর বিল, ২০২৬’ পাসের প্রস্তাব করলে মাদারীপুর-৩ আসনের সরকারি দলের সদস্য আনিছুর রহমান এই বিলের ওপর তিনটি সংশোধন প্রস্তাব করেন। পরে স্পিকার তার সংশোধনীগুলো গ্রহণ করেন। পরে বিলটি সংসদে স্থিরকৃত আকারে পাস হয়।

আজকের অধিবেশনে সর্বশেষ স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন ‘ধুমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ (সংশোধন) বিল, ২০২৬’ পাসের প্রস্তাব করলে তা কন্ঠভোটে পাস হয়। সূত্র: বাসস

 

যুক্তরাজ্যের বাংলাদেশ হাইকমিশনের প্রেস মিনিস্টার পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন আকবর হোসেন। ২০২৪ সালের নভেম্বরে অন্তর্বর্তী সরকার তাকে যুক্তরাজ্যের লন্ডনে বাংলাদেশ হাইকমিশনের প্রেস মিনিস্টার হিসেবে নিয়োগ দিয়েছিল।

শুক্রবার (১০ এপ্রিল) দিবাগত রাতে তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক পোস্টে তিনি বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি ওই পোস্টে উল্লেখ করেন, একান্ত ব্যক্তিগত ও পারিবারিক কারণে লন্ডনে দায়িত্ব পালন করা তার পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। তাই তিনি স্বেচ্ছায় পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। বিষয়টির সাথে অন্য কোনও কিছুর সম্পর্ক নেই বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জারি করা প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছিল, দুই বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক এ নিয়োগ কার্যকর হবে। নিয়োগপ্রাপ্তদের অন্য যে কোনো পেশা, ব্যবসা কিংবা সরকারি, আধা সরকারি বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কর্ম-সম্পর্ক পরিত্যাগের শর্তে দায়িত্ব গ্রহণ করতে হবে।

 

যুগ্ম সচিব পদমর্যাদার বিতর্কিত এক কর্মকর্তাকে নিজ মন্ত্রণালয়ে চাইছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম। এ জন্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে আধা সরকারিপত্র (ডিও) দিয়েছেন তিনি। তবে ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগের তদন্ত চলছে বলে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় তাতে সাড়া দিচ্ছে না।

জনপ্রশাসন–সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, মন্ত্রীর পছন্দের ওই কর্মকর্তা বর্তমানে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন একটি দপ্তরে দায়িত্ব পালন করছেন। অতীতে তাঁর বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়ম ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ ওঠে। এসব অভিযোগের তদন্ত চলছে। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকায় তাকে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ে পদায়ন করা হচ্ছে না।

দুর্নীতির অভিযোগের মুখে থাকা ওই কর্মকর্তার নাম মো. মাহমুদ হাসান। তিনি বর্তমানে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরে (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন অনুবিভাগ) পরিচালক পদে কর্মরত।

নতুন সরকার গঠনের এক সপ্তাহের মধ্যে মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম তাঁর মন্ত্রণালয়ে মাহমুদ হাসানকে পদায়নের জন্য গত ২২ ফেব্রুয়ারি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব এহছানুল হককে চিঠি পাঠান।

সেই আধা সরকারিপত্রে বলা হয়, বিসিএস ২২ ব্যাচের প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তা মাহমুদ হাসান একজন পেশাদার, সৎ ও সাহসী কর্মকর্তা। বিগত স্বৈরাচারী আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে তিনি রাজনৈতিক বিবেচনায় দুবার দুই ধাপে পদোন্নতি বঞ্চিত হয়েছিলেন। বিগত সরকারের সময়েও বঞ্চনার শিকার হয়েছেন। একই সঙ্গে পেশাগত ঈর্ষারও শিকার হন তিনি।

এই চিঠির পরই সচিবালয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে দুর্নীতির অভিযোগ থাকার পর একজন কর্মকর্তাকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে আনার চেষ্টা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন কর্মকর্তারা। তাঁরা বলছেন, মন্ত্রীর দপ্তরের মতো সংবেদনশীল জায়গায় এমন একজন কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া হলে তা অস্বস্তিকর বার্তা দিতে পারে।

নতুন সরকার গঠনের এক সপ্তাহের মধ্যে মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম তাঁর মন্ত্রণালয়ে মাহমুদ হাসানকে পদায়নের জন্য গত ২২ ফেব্রুয়ারি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেন। সেখানে মাহমুদ হাসানকে একজন পেশাদার, সৎ ও সাহসী কর্মকর্তা হিসেবে অভিহিত করা হয়। তবে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা বলেন, গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ ও তার সার্বিক রেকর্ড বিবেচনায় নেওয়া হয়। এ প্রেক্ষাপটে মন্ত্রীর সুপারিশটি গ্রহণ করা হচ্ছে না।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা বলেন, গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ ও তার সার্বিক রেকর্ড বিবেচনায় নেওয়া হয়। এ প্রেক্ষাপটে মন্ত্রীর সুপারিশটি গ্রহণ করা হচ্ছে না। এ জন্য আধা সরকারিপত্র দেওয়ার পর দেড় মাস হতে চললেও ওই কর্মকর্তাকে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পদায়ন করা হয়নি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে জনপ্রশাসনের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, মাহমুদ হাসানের অনিয়মের পুরো বিষয়টি ইতিমধ্যে ডাক ও টেলিযোগাযোমন্ত্রীকে জানানো হয়েছে।

বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে এই প্রতিবেদক মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনামের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা চালিয়েও তাঁর বক্তব্য পাননি। প্রতিবেদকের ফোন মন্ত্রী ধরেননি। বিষয়টি তুলে ধরে হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠালেও মন্ত্রী সাড়া দেননি।

সরিয়ে দিয়েছিলেন শারমিন মুরশিদ

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, মাহমুদ হাসানের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে। তিনি তখন সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা শারমিন মুরশিদের একান্ত সচিব (পিএস) ছিলেন। শারমিন মুরশিদ পিএস পদ থেকে মাহমুদ হাসানকে সরিয়ে দিতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে আধা সরকারিপত্র (ডিও) দেন। সেখানে তিনি মাহমুদ হাসানের বিভিন্ন অনিয়মের কথা তুলে ধরেন।

আমার তৎকালীন পিএস মাহমুদ হাসানের কর্মকাণ্ড ছিল বিব্রতকর। তাঁর সম্পর্কে বিভিন্ন জায়গা থেকে অনিয়মের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আসতে থাকে। আমার এপিএসকেও অনিয়মের প্রস্তাব দেয়। আমি চাইনি এমন একজন দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মকর্তা আমার পিএস থাকুক।
শারমিন মুরশিদ, সাবেক উপদেষ্টা

শারমিন মুরশিদ গত ৩০ মার্চ বলেন, ‘আমার তৎকালীন পিএস মাহমুদ হাসানের কর্মকাণ্ড ছিল বিব্রতকর। তাঁর সম্পর্কে বিভিন্ন জায়গা থেকে অনিয়মের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আসতে থাকে। আমার এপিএসকেও অনিয়মের প্রস্তাব দেয়। আমি চাইনি এমন একজন দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মকর্তা আমার পিএস থাকুক।’

শারমিন মুরশিদ আরও বলেন, ‘পিএসের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই আমাকে দিয়ে সন্দেহজনক নথি সই করানোর চেষ্টা করতে থাকে। নথির পুরো চিত্র আমাকে বোঝানো হয়নি।’

মাহমুদ হাসানকে ‘পুরোপুরি দুর্নীতিগ্রস্ত’ আখ্যায়িত করে শারমিন মুরশিদ বলেন, ‘তিনটি গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনেও তাঁর অনিয়মের বিষয়টি উঠে আসে। পরে আমি সতর্ক হয়ে যাই। তাঁকে বিদায় করা ছাড়া আমার আর কোনো উপায় ছিল না।’

নিতে চাননি রিজওয়ানা হাসানও

মাহমুদ হাসান সমাজকল্যাণ উপদেষ্টার একান্ত সচিবের দায়িত্ব পেয়েছিলেন ২০২৪ সালের ২২ আগস্ট। পদায়নের দুই মাসের মধ্যে তাঁকে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে বদলি করা হয়।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, তবে মাহমুদ হাসানকে নিজ মন্ত্রণালয়ে নিতে রাজি হননি তৎকালীন পানিসম্পদ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। তখন বিব্রতকর অবস্থায় পড়তে হয়েছিল জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়কে। পরে সে বদলির আদেশ বাতিল করে তাঁকে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অধীন পল্লী দারিদ্র্য বিমোচন ফাউন্ডেশনে (পিডিবিএফ) ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে বদলি করা হয়।

মাহমুদ হাসানকে অন্তর্বর্তী সরকার আমলে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো হয়েছিল পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে। কিন্তু তৎকালীন পানিসম্পদ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান তাতে আপত্তি তুললে তাঁকে পাঠানো হয়েছিল স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অধীন পল্লী দারিদ্র্য বিমোচন ফাউন্ডেশনে (পিডিবিএফ)। সেখানে তাঁর বিরুদ্ধে বহুমাত্রিক অনিয়ম, দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। তার তদন্ত চলার মধ্যে তাঁকে বদলি করা হয় কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, পিডিবিএফে যাওয়ার পর সেখানেও মাহমুদ হাসানের বিরুদ্ধে বহুমাত্রিক অনিয়ম, দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে জমা পড়া তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগের মধ্যে রয়েছে অবৈধ পদায়ন ও বদলি, নিয়োগ-বাণিজ্য, গাড়ি ও ভবন কেনায় দুর্নীতি। অভিযোগ তদন্তে পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগ একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কমিটির প্রধান, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের অতিরিক্ত সচিব প্রদীপ কুমার মহোত্তম বলেন, অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে মাহমুদ হাসানের বিরুদ্ধে অনিয়মের তদন্ত চলছে। এরই মধ্যে শুনানি হয়েছে।

এসব অভিযোগের মুখে মাহমুদ হাসানকে পিডিবিএফ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরে।

অভিযোগ অস্বীকার মাহমুদ হাসানের

শারমিন মুরশিদের তোলা অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করছেন মাহমুদ হাসান। তিনি দাবি করেছেন, অভিযোগের মুখে নয়, তিনি সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় ছেড়ে এসেছিলেন স্বেচ্ছায়।

আমি দুই মাসের মতো তৎকালীন উপদেষ্টার পিএস ছিলাম। এ দুই মাসে কী করতে পারি? তিনি যে আমার অনিয়ম নিয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে আধা সরকারিপত্র দিয়েছেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। আমি নিজ দায়িত্বে পিএসের পদ থেকে সরে গেছি। অনিয়মের কোনো প্রশ্নই আসে না।
মাহমুদ হাসান, পরিচালক, কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর

মাহমুদ হাসান ৫ এপ্রিল বলেন, ‘আমি দুই মাসের মতো তৎকালীন উপদেষ্টার পিএস ছিলাম। এ দুই মাসে কী করতে পারি? তিনি যে আমার অনিয়ম নিয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে আধা সরকারিপত্র দিয়েছেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। আমি নিজ দায়িত্বে পিএসের পদ থেকে সরে গেছি। অনিয়মের কোনো প্রশ্নই আসে না।’

পিডিবিএফে অনিয়মের বিষয়ে জানতে চাইলে মাহমুদ হাসান পাল্টা দাবি করেন, অনিয়মে বাধা দেওয়ায় তিনি ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছেন।

‘সেখানে একটি সিন্ডিকেট নিয়োগে বাণিজ্য করতে চেয়েছিল। আমার কারণে তাঁরা নিয়োগ বাণিজ্য করতে পারেনি,’ বলেন মাহমুদ হাসান।

প্রতিবাদ ও প্রতিবেদকের বক্তব্য

আজ ১১ এপ্রিল শনিবার প্রথম আলো অনলাইনে প্রকাশিত এই প্রতিবেদনের প্রতিবাদ জানিয়েছেন কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন অনুবিভাগ) পরিচালক মাহমুদ হাসান। তিনি বলেছেন, এই সংবাদ অসত্য, বানোয়াট ও অসৎ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

তাঁর দাবি, পিডিবিএফের স্বার্থান্বেষী সিবিএ সিন্ডিকেট তাদের অন্যায় স্বার্থ চরিতার্থ করতে না পেরে, বিশেষ করে নিয়মিত পদায়ন-বাণিজ্য, নিয়োগ-বাণিজ্য ও পদোন্নতি-বাণিজ্য করতে না পেরে তাঁকে অন্যত্র সরিয়ে দেওয়ার জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে এবং তাঁর বিরুদ্ধে নানা সরকারি দপ্তরে অসত্য বানোয়াট অভিযোগ দায়ের ও অপপ্রচার করা হয়।
মাহমুদ হাসান আরও লিখেছেন, সাবেক উপদেষ্টা শারমিন মুর্শিদের হীন স্বার্থ চরিতার্থ করা তাঁর দ্বারা সম্ভব হবে না বলেই কথিত ও বানোয়াট প্রতিবেদনের অজুহাতে তাঁকে পিডিবিএফে পদায়ন করা হয়। তিনি মূলত উপদেষ্টার চতুরতা বুঝতে পেরে সরে আসেন। কোনো কর্মস্থলে তিনি কোনো অনিয়ম, অন্যায় ও দুর্নীতি করেননি এবং অপশক্তির কাছে আপস করেননি।

প্রতিবেদকের বক্তব্য: অভিযোগ নিয়ে চলা তদন্ত, মন্ত্রীর ডিও এবং সাবেক উপদেষ্টার বক্তব্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি করা হয়েছে। প্রতিবেদনে প্রথম আলোর কোনো বক্তব্য নেই। এটি প্রকাশের আগে মাহমুদ হাসানের বক্তব্য নেওয়া হয়েছে। তিনি অভিযোগ অস্বীকার করেছিলেন।

লেবাননে ইসরায়েলের হামলায় নিহত বাংলাদেশি নারী দীপালি খাতুনের মরদেহ দ্রুত দেশে আনার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। 

শনিবার (১১ এপ্রিল) বিকেলে ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার লস্কারদিয়া গ্রামে নিজ বাড়িতে সার্বজনীন হিন্দু সম্প্রদায়ের সঙ্গে মতবিনিময়সভা করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। মতবিনিময়সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ তথ্য জানান।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, গত দুই আগে লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় অনেক লোক মারা গেছে। এর মধ্যে আমাদের দেশের নারী দীপালি খাতুন রয়েছেন। এটা খুবই দুঃখজনক। ইতোমধ্যে দীপালির বোন ও তার পরিবারর সঙ্গে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে যোগাযোগ করা হয়েছে। লেবাননে এখন একটা যুদ্ধ অবস্থা বিরাজ করছে। এখন আমাদের ফ্লাইট সুবিধাজনক অবস্থায় নেই যে, এই মুহূর্তে দীপালির মরদেহ আনতে পারব। তবে তার মরদেহ দ্রুত দেশে আনার জন্য কাজ করছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও আমাদের লেবাননের মিশন।

তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে যেসব প্রবাসী আছেন তারা যেন নিরাপদে থাকতে পারেন, সে জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও সরকার সচেষ্ট আছে। আমরা চেষ্টা করছি তাদেরকে নিরাপদ জায়গায় স্থানান্তর করতে। লেবাননে যারা বাংলাদেশের আছেন, তাদের নিরাপদ জায়গায় থাকার ব্যবস্থা করেছি।

শামা ওবায়েদ বলেন, নিরাপত্তার অভাবে যারা দেশে ফিরে আসতে পারছে না, তাদেরকে দেশে আনা ব্যবস্থা করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে বিমানের চার্টার্ড ফ্লাইটে করে কিছু বাংলাদেশিকে ফেরত এনেছি। আরো যারা আসতে চায় তাদেরকেও আসার ব্যবস্থা করছি। অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক—বিভিন্ন দেশে এখন পর্যন্ত নারীসহ ৮ জন নিহত হয়েছেন।

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে দেশে ফেরত আসা বেকারদের পুনর্বাসন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমাদের রেমিট্যান্সযোদ্ধা যারা চাকরি হারিয়ে দেশে ফিরেছেন, তারা যেন আবার কোনো একটি কর্মে লিপ্ত হতে পারেন সে জন্য বাংলাদেশ সরকার দেখবে। আমরাও সচেষ্ট আছি।

মতবিনিয়সভায় উপস্থিত ছিলেন ফরিদপুরের পুলিশ সুপার মো. নজরুল ইসলাম, নগরকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম, সহকারী পুলিশ সুপার মো. মাহমুদুল হাসান, নগরকান্দা থানার ওসি রাসূল সামদানী আজাদ, সালথা থানার ওসি মো. বাবলুর রহমান খান, নগরকান্দা উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি হাবিবুর রহমান বাবুল তালুকদার, সালথা উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মো. সিদ্দিকুর রহমা তালুকদার প্রমুখ।

 

সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী পরিচালিত গণভোট এবং সাধারণ নির্বাচন বা অন্যান্য ভোট এক বিষয় নয় বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

রোববার (১২ এপ্রিল) বিকেলে সচিবালয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে এমনটা জানান তিনি। একইসঙ্গে ১৪২ অনুচ্ছেদের ব্যাখ্যাও দেন তিনি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী পরিচালিত গণভোট এবং সাধারণ নির্বাচন বা অন্যান্য ভোট এক বিষয় নয়। সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার বিশেষ প্রয়োজনে যে গণভোটের বিধান রয়েছে, তার প্রকৃতি ও উদ্দেশ্য সাধারণ ভোটের চেয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন।
এ সময় গত ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে গণভোট অনুষ্ঠানের বিষয়ে তিনি বলেন, গণভোট অধ্যাদেশ অনুসারে আরপিও অনুযায়ী নির্বাচন কমিশন গণভোট অনুষ্ঠান করেছে। সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদ অনুসারে সাংবিধানিক যে গণভোট, এই গণভোট সেই গণভোট না। ১৪২ অনুচ্ছেদ অনুসারে যে গণভোট সেটি হচ্ছে সংবিধানের প্রস্তাবনা আর্টিকেল ৮, ৪৮, ৫৬, ১৪২। এসব আর্টিকেলে যদি কোনো সংশোধনী আসে, তাহলে রাষ্ট্রপতি এটি অনুমোদন করার আগে গণভোট দিতে হবে।
জাতীয় ঐকমত্য কমিশনে এই গণভোটের প্রস্তাব করা হয়েছিল উল্লেখ করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, প্রস্তাবটি আমিই করেছিলাম। তখন আমরা বলেছিলাম জুলাই জাতীয় সনদ স্বাক্ষরিত হবে, সবাই যখন চাচ্ছে এর আইনগত ভিত্তি কি হবে। ওই সময় আইনগত ভিত্তির জন্য আমরা আর কোনো উপায় দেখিনি।

সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদ ও গণভোটের ব্যাখ্যা দিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদ অনুসারে যে গণভোটের কথা বলা হয়েছে, সেটি মূলত সংবিধানের নির্দিষ্ট কিছু মৌলিক কাঠামো বা গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ক্ষেত্রে জনগণের সরাসরি মতামত গ্রহণের একটি বিশেষ পদ্ধতি। একে সাধারণ নির্বাচনের ভোটের সঙ্গে মিলিয়ে ফেলা ঠিক হবে না।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ভবিষ্যতে যদি কোনো গণভোট করতে হয়, তাহলে হয় সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদ অনুসারে করতে হবে অথবা সংবিধানের বাইরে। যেহেতু সংবিধানে এমন কিছু বলা নেই যে, সরকার চাইলে আর কোনো গণভোট করতে পারবে না। সুতরাং, অন্য কোনো বিষয়ে সেটা করতে চাইলে আলাদা একটা আইন পাস করতে হবে। সে হিসেবে তখন যদি প্রয়োজন হয় নতুন গণভোট হতে পারে।

 

চলতি এপ্রিল মাসের প্রথম ১১ দিনেই প্রবাসী আয় এক বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেছে। চলতি মাসে গতকাল শনিবার পর্যন্ত সব মিলিয়ে ১২১ কোটি ৮০ লাখ ডলার এসেছে। শেষ ৩ দিনে এসেছে ২৪ কোটি ডলারের বেশি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে এ তথ্য পাওয়া গেছে। অবশ্য গত বছর এপ্রিল মাসেও প্রায় ১০৩ কোটি ডলার এসেছিল।

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে রেমিট্যান্সের প্রবাহ বেড়েছে। অনিশ্চয়তার কারণে অনেক প্রবাসী দেশে অর্থ পাঠিয়ে দিচ্ছেন। ফলে রেমিট্যান্স–প্রবাহ বেশ বেড়েছে।

গত মার্চ মাসে প্রবাসী আয়ে নতুন রেকর্ড হয়েছে। এ মাসে দেশে ৩ দশমিক ৭৫ বিলিয়ন বা ৩৭৫ কোটি মার্কিন ডলার প্রবাসী আয় এসেছে, যা এযাবৎকালের সর্বোচ্চ। এ আয় গত বছরের মার্চে আসা প্রবাসী আয়ের তুলনায় ১৪ শতাংশ বেশি।

দেশে রমজানের ঈদ এবং মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধের কারণে বাংলাদেশের প্রবাসী নাগরিকেরা বেশি করে অর্থ পাঠিয়েছেন। তাতে দেশে কোনো এক মাসে প্রবাসী আয়ের নতুন রেকর্ড হয়ে গেছে। যুদ্ধের তীব্রতা বাড়লেও এখন পর্যন্ত প্রবাসী আয় আসার গতি বেড়েছে।

প্রবাসী আয় নিয়ে সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংক একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদনটিতে দেখা যায়, তেলসমৃদ্ধ ছয়টি উপসাগরীয় দেশ সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই), কাতার, ওমান, বাহরাইন ও কুয়েত থেকেই আসে মোট প্রবাসী আয়ের অর্ধেক।

আমাদের অনুসরণ করুন

 

সর্বাধিক পড়ুন

  • সপ্তাহ

  • মাস

  • সব