প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘আমাদের প্রতিহিংসার মানসিকতা বদলাতে হবে। আসুন নিজের চিন্তা কিছুটা পরিবর্তন করার চেষ্টা করি।’
মঙ্গলবার বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে বিএনপি বিটের সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।
তারেক রহমান বলেন, ‘হ্যাঁ, আমার সঙ্গে যা হয়েছে, এখন প্রতিশোধ নিলে সেটা ফেরত পাব না। তাই প্রতিশোধের মানসিকতা থেকে বেরিয়ে আমরা দেশের জন্য কী করতে পারি, সেই চেষ্টা করতে পারি। সাকসেসফুল (সফল) হওয়া পরের ব্যাপার, অন্তত দেশের জন্য কাজ করার মাইন্ডসেট (মানসিকতা) নিয়ে আমরা সামনের দিকে এগিয়ে যাব।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপি সরকার বারবার প্রমাণ করেছে, গণমাধ্যমের সঙ্গে তাদের শত্রুতা নেই। আর তাই বর্তমান সরকার গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে চায়। সরকারের ভুল হতে পারে, গঠনমূলক আলোচনা হোক।’
১৬ জুন দেশের সংবাদপত্রজগতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ দিন উল্লেখ করে সরকারপ্রধান বলেন, ‘এই দিনে বাংলাদেশের সব সংবাদপত্র একসময় বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। হাতে গোনা মাত্র চারটি সংবাদপত্র ছিল। সেখান থেকে আজ আমরা এতগুলো সাংবাদিক ভাইদের সঙ্গে কথা বলছি।’
উল্লেখ্য, প্রতিবছর ১৬ জুন বাংলাদেশে সংবাদপত্রের কালো দিবস হিসেবে পালিত হয়। ১৯৭৫ সালের এই দিনে তৎকালীন বাকশাল সরকার চারটি সরকারি প্রচারপত্র বাদে দেশের সব পত্রিকার প্রকাশনা ও ডিক্লারেশন বাতিল করে দেয়।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ওই সময় সংবাদপত্রের যে গলা চেপে ধরা হয়েছিল, সেটি অন্তত এখন নেই, এই মুহূর্তে নেই। যেভাবে সংবাদপত্রের স্বাধীনতাকে কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। চারটা সংবাদপত্রকে রেখে সব বন্ধ করে দিয়েছিল। একই সময় আমরা দেখেছি, বাংলাদেশের সব রাজনৈতিক দলকে বন্ধ, মানে বিলুপ্ত করে বাকশাল নামে একটা দল গঠন করা হয়েছিল।’
তারেক রহমান বলেন, ‘পরবর্তীতে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান যখন দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পেলেন, তিনি বহুদলীয় গণতন্ত্র চালু করলেন। সংবাদপত্রের ওপর থেকে রেস্ট্রিকশন তুলে নিলেন। পরবর্তী সময় কী হয়েছে, কতটুকু হয়েছে—এটা আপনাদের কথা থেকেও বেরিয়ে এসেছে।’
গণমাধ্যমে সহযোগিতা কামনা করে উপস্থিত সাংবাদিকদের প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাকে অনেক সাহায্য করতে পারেন। শুধু সরকার একা পারবে না, আপনার সহযোগিতা আমার লাগবে। আপনার সহযোগিতা না পেলে আমি বুঝতে পারব না যে কাজটা ভালো হচ্ছে না খারাপ হচ্ছে।’
সরকারপ্রধান বলেন, ‘সবার সহযোগিতা পেলেই অন্তত বুঝতে পারব যে কাজটা ভালো হচ্ছে না খারাপ হচ্ছে। অথবা ভালো কাজের পথটা আপনাদের দেখাতে হবে। অর্থাৎ দেশের কাজে আমাদের প্রত্যেককে এগিয়ে আসতে হবে। এই সহযোগিতাটা আমি আপনাদের কাছে চাইছি। আপনারা সহযোগিতা করলে আমার কাজ সহজ হবে।’
প্রধানমন্ত্রীর উপ–প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনির সঞ্চালনায় মতবিনিময় সভায় তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী, স্পিচ রাইটার এস এ এম মাহফুজুর রহমান, অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন, উপ–প্রেস সচিব হাসান শিপলু, সুজাউদ্দৌলা সুজন, শাহাদাত হোসেন স্বাধীন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
বাসস
, ঢাকা