ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও তামিলনাড়ু রাজ্যে বিপুল উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে বিধানসভা নির্বাচনের ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। গণতন্ত্রের এই উৎসবে শামিল হয়ে ভোটাররা তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে রাজ্যের আগামী পাঁচ বছরের ভাগ্য নির্ধারণের প্রক্রিয়া শুরু করেছেন। পশ্চিমবঙ্গে দুই দফার নির্বাচনের প্রথম পর্যায়ে ব্যাপক ভোট পড়েছে এবং তামিলনাড়ুতে এক দফাতেই সম্পন্ন হয়েছে সবকটি আসনের ভোট।
বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) স্থানীয় সময় সকাল ৭টায় শুরু হওয়া এই ভোট চলে বিকেল ৫টা পর্যন্ত।
পরিসংখ্যান বলছে, পশ্চিমবঙ্গে প্রথম দফায় ভোটারদের উপস্থিতির হার ছিল ৮৯ দশমিক ৯ শতাংশ। উত্তরবঙ্গ থেকে দক্ষিণবঙ্গ—সবখানেই ছিল দীর্ঘ লাইনের দৃশ্য। দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, কোচবিহার, মালদা ও মুর্শিদাবাদের পাশাপাশি নন্দীগ্রামের মতো গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে ভোটারদের ব্যাপক উপস্থিতি ছিল নজরকাড়া। সকাল সাতটা থেকে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে ভোটদান চলেছে।
পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনি প্রচারণায় আজ বড় ভূমিকা রেখেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। কৃষ্ণনগরের জনসভায় তিনি ক্ষমতাসীন তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ করেছেন। তিনি দাবি করেন, গত ৫০ বছরের মধ্যে এবারের নির্বাচন সবচেয়ে শান্তিপূর্ণ। মোদি নির্বাচনি প্রচারণায় ‘পরিবর্তনের পরিবর্তন’ স্লোগান তুলেছেন এবং বিজেপি সরকার গড়ার ডাক দিয়েছেন। রাজ্যটিতে দ্বিতীয় দফা ভোট অনুষ্ঠিত হবে আগামী ২৯ এপ্রিল।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এবারের নির্বাচন পশ্চিমবঙ্গের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ২০২১ সালের নির্বাচনে ১৫২টি আসনের লড়াইয়ে তৃণমূল ৯৩টি এবং বিজেপি ৫৯টি আসন পেয়েছিল। সেই পরিসংখ্যান মাথায় রেখেই এবার উত্তরবঙ্গ দখলে মরিয়া হয়ে উঠেছে বিজেপি। অন্যদিকে চতুর্থবারের মতো ক্ষমতায় ফিরতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তার উন্নয়নের বার্তা নিয়ে সাধারণ মানুষের দ্বারে দ্বারে গেছেন। দুই দফার ভোট শেষে আগামী ৪ মে ফলাফল ঘোষণার পরেই চূড়ান্ত বিজয়ীর নাম জানা যাবে।
এদিকে, দক্ষিণের রাজ্য তামিলনাড়ুর চিত্রটি ছিল ভিন্ন। সেখানে ২৩৪টি আসনের বিধানসভায় রেকর্ড ৮২ দশমিক ২ শতাংশ ভোট পড়েছে। বিশাল এই কর্মযজ্ঞে ভোটার সংখ্যা ছিল পাঁচ কোটি ৭০ লাখের বেশি। এআইডিএমকে ও বিজেপির জোট এবার ডিএমকে ও কংগ্রেস জোটের কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখে পড়েছে। অভিনেতা থেকে রাজনীতিবিদ হয়ে ওঠা থালাপতি বিজয়ের মতো জনপ্রিয় ব্যক্তিত্বের উপস্থিতিও এবারের নির্বাচনে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। প্রায় চার হাজার প্রার্থীর ভাগ্য এখন ব্যালট বাক্সে বন্দি।