• Colors: Purple Color

চুক্তির কয়েকটি ধারা বাংলাদেশের স্বার্থের সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

-পরিকল্পিতভাবে ও ধীরগতিতে পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ।

-যুক্তরাষ্ট্রের তুলা ব্যবহার করলে শূন্য শুল্ক বলা হলেও শর্তাবলি স্পষ্ট নয়।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত পারস্পরিক বাণিজ্যচুক্তি পর্যালোচনা (রিভিউ) করতে হবে। কারণ, চুক্তির বিভিন্ন ধারা বাংলাদেশের স্বার্থবিরোধী। যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টও পাল্টা শুল্ক আরোপকে যে অবৈধ আখ্যা দিয়েছেন, সেটিও কাজে লাগানোর চিন্তা করা যায়। এ জন্য কৌশল নির্ধারণ করা জরুরি। তবে কাজটি করতে হবে ধীরে–সুস্থে এবং পরিকল্পিতভাবে।

দেশের বিশিষ্ট শিল্পপতি, ব্যবসায়ী ও গবেষকেরা আজ বুধবার ঢাকায় সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বৈঠক করে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হওয়া বাণিজ্যচুক্তি নিয়ে এসব পরামর্শ দিয়েছেন। তাঁদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের তুলা ব্যবহার করলে কীভাবে শূন্য শুল্ক পাওয়া যাবে, তা–ও পরিষ্কার হওয়া দরকার। এমনকি এই চুক্তি কীভাবে হলো, তা-ও খোলাসা করা দরকার।

বৈঠকে সরকারের দিক থেকে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির, বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম ও বাণিজ্যসচিব মাহবুবুর রহমান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আরোপিত পাল্টা শুল্ক অবৈধ ঘোষণা করেছেন। এর জবাবে তিনি নতুন বৈশ্বিক শুল্ক আরোপের নির্দেশ দিয়েছেন প্রথমে ১০ শতাংশ, পরে ১৫ শতাংশ। এই শুল্ক এবং দেশটির সঙ্গে বাংলাদেশের সই করা বাণিজ্যচুক্তি নিয়ে করণীয় কী হবে, তা নিয়েই অংশীজনদের সঙ্গে আজ বৈঠক করা হয়।

বৈঠক শেষে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের ডেকেছি। চুক্তিসহ নানা বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। কোন খাতের কী সমস্যা, সেগুলো নিয়েও আলোচনা হয়েছে।’

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকার ৯ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যে পারস্পরিক বাণিজ্যচুক্তি করেছে, সে ব্যাপারেও এখনো বলার মতো অবস্থা তৈরি হয়নি। আমরা দেখছি যে এর পক্ষে-বিপক্ষে কী আছে। একটি চুক্তির পক্ষে-বিপক্ষে দুটি দিক থাকবে, এটাই স্বাভাবিক। আমরা এগুলো পর্যালোচনা করব। এরপর করণীয় ঠিক করব।’

বৈঠকে অংশ নেন ঢাকা চেম্বারের সভাপতি তাসকিন আহমেদ। এরপর যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘চুক্তি যেহেতু হয়েই গেছে এবং দেশটিও যুক্তরাষ্ট্র, ফলে হুট করে কিছু করা যাবে না। যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টের রায়ের আগে আমাদের মতো অনেক দেশ একই ধরনের চুক্তি করেছে। আমরা এখন দেখতে পারি যে তারা কী ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছে। আমাদের পরিকল্পিতভাবে এগোতে হবে।’

শূন্য শুল্ক নিয়ে ধোঁয়াশা

বৈঠকের পর গবেষণাপ্রতিষ্ঠান সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিংয়ের (সানেম) নির্বাহী পরিচালক সেলিম রায়হান বলেন, ‘এটা সত্যি যে চুক্তিটিতে বাংলাদেশের স্বার্থ পুরোপুরিভাবে সংরক্ষিত হয়নি; বরং এতে কিছু উদ্বেগজনক ধারাও আছে। যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট যে রায় দিয়েছেন, তাকে কাজে লাগিয়ে আমরা কোনো সুযোগ নিতে পারি কি না, সেই চেষ্টাও করতে হবে। যুক্তরাষ্ট্রের তুলার ব্যবহার ও বিপরীতে শূন্য শুল্ক নিয়ে বড় ধরনের ধোঁয়াশা আছে। চুক্তি পর্যালোচনা করে এগুলো পরিষ্কার করা দরকার।’

চুক্তি করার প্রক্রিয়া নিয়ে বৈঠকে প্রশ্ন তুলেছেন বলে জানান সেলিম রায়হান। তিনি বলেন, ‘প্রক্রিয়া নিয়ে কথা বলেছি এ কারণে যে এটা থেকে শিক্ষা নিতে হবে। ভবিষ্যতে একই জাতীয় চুক্তি করার ক্ষেত্রে যেন প্রশ্ন না ওঠে, সেটা হচ্ছে চাওয়া।’

সংবাদ সম্মেলনে বাণিজ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের এ বিষয়টি এখনো বিকাশমান। দেশটির সর্বোচ্চ আদালত আগের ধার্য করা শুল্কের ব্যাপারে না ঘোষণা করেছেন। আমরা বিভিন্ন মাধ্যমে শুধু ঘোষণা শুনেছি, সরকারি পর্যায়ে লিখিত কিছু পাইনি।’ যুক্তরাষ্ট্রের আইন অনুযায়ী, ১৫০ দিনের মধ্যে দেশটির কংগ্রেসের কাছ থেকে অনুমোদন নিতে হবে। আর বাদ বাকি যা, আমরা টিভিতে দেখেছি।’

চুক্তি কি তড়িঘড়ি করা হয়েছিল

অন্তর্বর্তী সরকার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তির বিষয়গুলো গোপন করেছে ও তড়িঘড়ি করে চুক্তি করেছে কি না—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘চুক্তির আলোচনার সময় নন-ডিসক্লোজার অ্যাগ্রিমেন্ট (এনডিএ) ছিল, তবে এ চুক্তিতে সংবেদনশীল বিষয় ছিল। যাদের সঙ্গে চুক্তি, দেশটাও আমাদের জন্য অনেক সংবেদনশীল। ফলে নানা কারণেই এই পরিস্থিতিতে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত মন্তব্য করা ঠিক হবে না।’

বৈঠকের পর বাংলাদেশ নিট পোশাক উৎপাদক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিকেএমইএ) সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তির একটা ভালো দিক হচ্ছে দেশটির তুলা ব্যবহার করে উৎপাদিত তৈরি পোশাক রপ্তানিতে পাল্টা শুল্ক শূন্য হবে। এ জন্য কী কী শর্ত মানতে হবে, সেটি জানা দরকার। তৈরি পোশাক খাতের জন্য মার্কিন চুক্তি যদি দেশের জন্য ভালো না হয়, তাহলে সেটি পুনর্বিবেচনা করার অনুরোধ করেছি বৈঠকে।’

বৈঠকে আরও যাঁরা অংশ নিয়েছেন

বৈঠকে এফবিসিসিআইয়ের প্রশাসক আবদুর রহিম খান ও সাবেক সভাপতি মীর নাসির হোসেন, বিজিএমইএর সভাপতি মাহমুদ হাসান খান, মেট্রো চেম্বারের সভাপতি কামরান টি রহমান, বিটিএমএর সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল, বাংলাদেশ চেম্বারের সভাপতি আনোয়ার-উল-চৌধুরী, ওষুধ শিল্প সমিতির সভাপতি আবদুল মুক্তাদির, সিরামিক উৎপাদক ও রপ্তানিকারক সমিতির সভাপতি মইনুল ইসলাম, হিমায়িত খাদ্য রপ্তানিকারক সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ শাহজাহান চৌধুরী প্রমুখ।

আরও উপস্থিত ছিলেন মেঘনা গ্রুপের চেয়ারম্যান মোস্তফা কামাল, ট্রান্সকম গ্রুপের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) সিমিন রহমান, সিটি গ্রুপের পরিচালক শম্পা রহমান, সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন, রিসার্চ অ্যান্ড পলিসি ইন্টিগ্রেশন ফর ডেভেলপমেন্টের (র‍্যাপিড) চেয়ারম্যান এম এ রাজ্জাক প্রমুখ।

দ্রব্যমূল্য ও চাঁদাবাজি প্রসঙ্গ

বর্তমান দ্রব্যমূল্য পরিস্থিতি নিয়ে মন্ত্রী বলেন, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় যেসব পণ্য আমদানি তদারকি করে, সেগুলোর দাম বাজারে স্বাভাবিক রয়েছে। তবে কিছু পণ্য একসঙ্গে অনেকে কেনার কারণে দাম বেড়েছে। সেগুলো অবশ্য সবজিজাতীয়। তিনি বলেন, রমজানের শুরুতে অনেকে একসঙ্গে এক মাসের বাজার করেন। বিক্রেতারাও পরিস্থিতি ও শূন্যতার সুযোগ নেন। ৪০-৫০ টাকার লেবু ১২০ টাকা হয়ে গেছে ওই পরিস্থিতিতে। এরপর কিন্তু ঠিকই আবারও আগের দামে ফিরে এসেছে।

চাঁদাবাজি–সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, ‘চাঁদাবাজি বন্ধে এত দিন বিভিন্ন সরকার আশ্বাস দিলেও কাজ হয়নি। অপেক্ষা করুন, আমরা কাজ করে দেখাব।’

বন্ধ কলকারখানা আবার চালুর উদ্যোগে সক্রিয় সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান। আজ বৃহস্পতিবার সকালে দায়িত্ব নেওয়ার পর বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে এই আশ্বাসের কথা বলেন তিনি।

সভায় মো. মোস্তাকুর রহমান বলেন, অর্থনীতিকে প্রবৃদ্ধি ও কর্মসংস্থানমুখী করতে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রয়োজনীয় নীতিগত ও আর্থিক সহায়তা দেবে। পাশাপাশি চলমান সংস্কারকাজ অব্যাহত থাকবে।

বৈঠক শেষে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান সাংবাদিকদের নতুন গভর্নরের উদ্ধৃতি দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছেন।

আরিফ হোসেন খান বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর ডেপুটি গভর্নর ও নির্বাহী পরিচালকদের সঙ্গে এক অনানুষ্ঠানিক বৈঠক করেন নতুন গভর্নর। সভায় তিনি জানান, কেন্দ্রীয় ব্যাংক একটি নিয়ন্ত্রক সংস্থা হওয়ায় গণমাধ্যমে বক্তব্য দেওয়ার ক্ষেত্রে সংযমী থাকবেন নতুন গভর্নর। তবে তথ্যপ্রবাহ অব্যাহত রাখতে একজন মুখপাত্রের মাধ্যমে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করা হবে।

অন্তর্বর্তী সরকার ও আগের গভর্নরের সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার প্রচেষ্টার প্রশংসা করে নতুন গভর্নর বলেন, এখন লক্ষ্য হচ্ছে সেই স্থিতিশীলতাকে ভিত্তি করে অর্থনীতিতে গতি ফিরিয়ে আনা। বিশেষ করে গত দেড় বছরে বন্ধ হয়ে যাওয়া শিল্পকারখানাগুলো আবার চালু করতে বাংলাদেশ ব্যাংক নীতিগত সহায়তা, প্রয়োজনীয় অর্থায়নের সুবিধা ও ব্যাংকিং খাতে সমন্বয় জোরদার করবে। এর মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও উৎপাদন বৃদ্ধি সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

যোগদানের পর আজ বৃহস্পতিবার সকালে কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান
যোগদানের পর আজ বৃহস্পতিবার সকালে কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান, ছবি: বাংলাদেশ ব্যাংকের সৌজন্যে
 

সভায় মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে পণ্যের মূল্য স্থিতিশীল রাখাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে বলে উল্লেখ করেন গভর্নর। একই সঙ্গে বিনিয়োগে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে, এমন উচ্চ সুদের হারের বিষয়টি পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও জানান তিনি।

প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসন নিশ্চিত করতে সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া পুরোপুরি নিয়মভিত্তিক ও বৈষম্যহীন করা হবে বলে জানান গভর্নর। কাজের গতি বাড়াতে ‘ডেলিগেশন অব অথরিটি’ বা ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণের মাধ্যমে বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের দায়িত্ব ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা বাড়ানো হবে।

এ ছাড়া সরকারের অন্যান্য নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় জোরদারের ওপর গুরুত্ব আরোপ করে গভর্নর বলেন, সমন্বিত পদক্ষেপের মাধ্যমেই অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা সম্ভব। সবশেষে বাংলাদেশ ব্যাংকের ভাবমূর্তি সমুন্নত রেখে দেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান নবনিযুক্ত গভর্নর।

নতুন গভর্নর ব্যাংকে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করবেন বলে জানিয়েছেন মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান। যেসব কর্মকর্তা এই ‘মব কালচার’এর সঙ্গে জড়িত, মানবসম্পদ নীতিমালা অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকে বুধবার (২৫ফেব্রুয়ারি) ঘটে যাওয়া 'মবের' সঙ্গে জড়িত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান।

বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে বাংলাদেশ ব্যাংকে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন তিনি। 

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নতুন গভর্নর ব্যাংকে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করবেন বলে জানিয়েছেন। যেসব কর্মকর্তা এই 'মব কালচার'-এর সঙ্গে জড়িত, মানবসম্পদ নীতিমালা অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মুখপাত্র বলেন, প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসন নিশ্চিত করতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া পুরোপুরি নিয়মমাফিক ও বৈষম্যহীন করা হবে। কাজের গতি বাড়াতে ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণের কথা বলেছেন গভর্নর। এর মাধ্যমে বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের দায়িত্ব ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা বাড়ানো হবে।

এর আগে, বুধবার গভর্নর আহসান এইচ মনসুরের উপদেষ্টা আহসান উল্লাহকে 'মব' তৈরি করে বের করে দেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা। দুপুর ৩টার দিকে গভর্নর ভবনের সামনেই এ ঘটনা ঘটে।

 

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিদায়ী গভর্নর আহসান এইচ মনসুরের চুক্তির অবশিষ্ট মেয়াদ বাতিল ও নতুন গভর্নর হিসেবে মো. মোস্তাকুর রহমানকে নিয়োগ দেওয়ার পুরো কাজ শেষ হয়েছে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে।

গত সোমবার বিকেলে সচিবালয়ে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সঙ্গে প্রায় দেড় ঘণ্টার বৈঠক করেন আহসান এইচ মনসুর। বৈঠক শেষে আহসান মনসুর সাংবাদিকদের বলেছিলেন, ‘আমরা কী কী সংস্কার করছি, তার একটি সংক্ষিপ্ত বিবরণ অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেছি। এসব কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার ওপর তিনি গুরুত্ব দিয়েছেন। তিনি এ ব্যাপারে খুবই ইতিবাচক।’

অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ গতকাল বুধবার প্রজ্ঞাপন জারি করে আহসান এইচ মনসুরের অবশিষ্ট মেয়াদ বাতিল করে দেয়। ২০২৪ সালের ১৩ আগস্ট চার বছরের জন্য গভর্নর পদে নিয়োগ পাওয়া আহসান মনসুরের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ২০২৮ সালের ১২ আগস্ট। আলাদা প্রজ্ঞাপনে চার বছরের জন্য গভর্নর নিয়োগ দেওয়া হয় ব্যবসায়ী মো. মোস্তাকুর রহমানকে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ, অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রীর সচিবালয়ের দপ্তর ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সূত্রগুলো জানায়, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব নাজমা মোবারেককে গত মঙ্গলবার নতুন গভর্নরের নাম দিয়ে দ্রুততম সময়ের মধ্যে নথি উপস্থাপন প্রক্রিয়া শুরু করার নির্দেশনা দেন অর্থমন্ত্রী।

সূত্রগুলো জানায়, বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইনটেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) প্রধান, বিভিন্ন ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের (এমডি) নিয়োগের ক্ষেত্রে তিনটি নাম উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে উপস্থাপনের চর্চা রয়েছে। গভর্নর নিয়োগের ক্ষেত্রে একটি নামই যায় এবং এবারও সেটাই হয়েছে।

নিয়মানুযায়ী গভর্নরের নিয়োগ বাতিল ও নতুন গভর্নর নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হয় আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ থেকে। একটি সারসংক্ষেপ উপস্থাপন করা হয় অর্থমন্ত্রীর কাছে। অর্থমন্ত্রী সম্মতি দিলে তা যায় প্রধানমন্ত্রীর কাছে। প্রধানমন্ত্রী সম্মতি দিলে রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে জারি হয় বাতিল ও নিয়োগের দুই প্রজ্ঞাপন।

আজ বেলা ৩টা ৩৪ মিনিটে নতুন গভর্নর মোস্তাকুর রহমান সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রীর কার্যালয়ে যান। এ সময় আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব নাজমা মোবারেকও উপস্থিত ছিলেন। বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে অর্থমন্ত্রী ও গভর্নর একসঙ্গে বেরিয়ে চলে যান অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে। যাওয়ার সময় সাংবাদিকেরা গভর্নরের সঙ্গে কথা বলতে চাইলেও তিনি রাজি হননি।

এদিকে হঠাৎ পরিবর্তনের নেপথ্য ঘটনা জানতে অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর কাছে সাংবাদিকেরা প্রশ্ন করেন, বিদায়ী গভর্নর আহসান এইচ মনসুরকে কেন এভাবে বিদায় দিয়ে নতুন গভর্নর নিয়োগ দেওয়া হলো? জবাবে অর্থমন্ত্রী তিনবার বলেন, ‘কিছুই বলার নেই।’

আহসান এইচ মনসুরের নিয়োগ বাতিলের দিন গত বুধবারও তিনি বাংলাদেশ ব্যাংকে অফিস করছিলেন। গণমাধ্যমে তাঁর চুক্তি বাতিলের খবর পেয়ে তিনি বাংলাদেশ ব্যাংক ছেড়ে বাসায় চলে যান বলে প্রথম আলোকে জানিয়েছিলেন।

গতকাল বুধবার আহসান এইচ মনসুরের সঙ্গে কথা হয়েছে—এমন কিছু সূত্র জানিয়েছে, সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় একধরনের মব হয়েছে এবং যেটা হয়েছে, তা অপ্রত্যাশিত এবং দুঃখজনক। কারণ, দুদিন আগেই তিনি অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেছেন। ওই দিন বা তারপরের দিনও অর্থমন্ত্রী তাঁকে ইঙ্গিত দিতে পারতেন যে তাঁকে সরিয়ে দেওয়া হবে। জানলে তিনি এক দিনও সময় নিতেন না।

যোগাযোগ করলে আহসান এইচ মনসুর গতকাল কথা বলতে চাননি। তবে তাঁর বরাতে গতকাল একটি সূত্র জানায়, আহসান এইচ মনসুর বলেছেন, কিছু অসম্পূর্ণ কাজ ছিল, এগুলো শেষ করে যেতে পারেননি। কোনো আশাবাদ দেখছেন না তিনি। গভর্নর হাউস ছেড়ে বাসা ভাড়া নেওয়ার খোঁজে দিন কাটিয়েছেন গতকাল। আগামী রোববার তিনি তাঁর সাবেক কর্মস্থল পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট (পিআরআই) কার্যালয়ে যাবেন। আহসান এইচ মনসুর ওই সূত্রটিকে আরও বলেছেন, ‘দেশটিতে জন্ম নিয়েছি বলেই আছি। নইলে কবেই চলে যেতাম।’

মার্চ মাসের জন্য জ্বালানি তেলের দাম অপরিবর্তিত রেখেছে সরকার। প্রতি লিটার পেট্রোল ১১৬ টাকা ও প্রতি লিটার কেরোসিনের দাম ১১২ টাকায় অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।

রোববার (১ মার্চ) এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ‘জ্বালানি তেলের স্বয়ংক্রিয় মূল্য নির্ধারণ নির্দেশিকা (সংশোধিত)’-এর আলোকে মার্চ মাসে ভোক্তা পর্যায়ে প্রতি লিটার ডিজেলের দাম ১০০ টাকা ও অকটেনের দাম প্রতি লিটার ১২০ টাকা অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।

জ্বালানি তেলের এই হার যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে নির্ধারণ ও অনুমোদন করা হয়েছে। এই অপরিবর্তিত মূল্যহার মার্চ মাসজুড়ে কার্যকর থাকবে।

 

প্রবাসী বাংলাদেশিরা সদ্য বিদায়ী ফেব্রুয়ারিতেও ৩ বিলিয়ন বা ৩০০ কোটি ডলারের বেশি রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন। এই সময়ে মোট ৩০২ কোটি ১০ লাখ ডলার দেশে এসেছে। প্রতি ডলার ১২২ টাকা ধরে দেশীয় মুদ্রায় যার পরিমাণ ৩৬ হাজার কোটির বেশি টাকা।

রোববার (১ মার্চ) বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এ তথ্য জানিয়েছেন।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র জানান, ফেব্রুয়ারির ২৮ দিনে দেশে ৩০২ কোটি ১০ লাখ ডলার পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। এই হিসাবে প্রতিদিন গড়ে দেশে এসেছে ১ কোটি ১৬ লাখ ডলার। যেখানে গত বছরের একই সময়ে দেশে ২৫২ কোটি ৮০ লাখ ডলার পাঠিয়েছিলেন প্রবাসীরা।

এর আগে, চলতি বছরের জানুয়ারিতেও দেশে ৩ বিলিয়ন বা ৩০০ কোটি ডলারের বেশি রেমিট্যান্স এসেছিল। ওই সময় দেশে ৩১৭ কোটি ডলার পাঠিয়েছিলেন প্রবাসীরা। যা ছিল দেশের ইতিহাসে এক মাসে প্রবাসীদের পাঠানো তৃতীয় সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স।

তারও আগে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরেও দেশে ৩ বিলিয়ন ডলারের বেশি রেমিট্যান্স এসেছিল। ওই সময় মোট ৩২২ কোটি ৬৬ লাখ ডলার দেশে এসেছিল। যা ছিল দেশের ইতিহাসে এক মাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স।

 

আমাদের অনুসরণ করুন

 

সর্বাধিক পড়ুন

  • সপ্তাহ

  • মাস

  • সব