• Colors: Purple Color

সরকারি চাকরিজীবীদের মূল বেতন দ্বিগুণের বেশি বাড়ানোর সুপারিশ করে জাতীয় বেতন কমিশন যে প্রতিবেদন দিয়েছে, তা অত্যন্ত ভালো বলে মন্তব্য করেছেন অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেছেন, কমিশনের সুপারিশগুলো পর্যালোচনার জন্য একটি কমিটি গঠন করে যাবে অন্তর্বর্তী সরকার। সেই সঙ্গে বেতন কমিশনের দেওয়া সুপারিশ বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ থাকবে।

আজ মঙ্গলবার সচিবালয়ে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির সভা শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন অর্থ উপদেষ্টা।

পরবর্তী সরকার যে এটা করবে, তার নিশ্চয়তা কী—সাংবাদিকদের এ প্রশ্নে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, ‘টাকাপয়সা দিয়ে যাব। তারপর সুপারিশ করে যাব। আশা করি, এটি সফলভাবে বাস্তবায়িত হবে।’

সরকার কেন এখনই বেতন কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী প্রজ্ঞাপন জারি করছে না—এ প্রশ্নের জবাবে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, ‘গেজেট করা কি সোজা? গেজেট করতে হলে স্পষ্ট করে বলতে হয়, কোনটা কত দেওয়া হবে। মোট কথা, আমরা এই সুপারিশগুলো বাস্তবায়নের জন্য একটি কমিটি করে দিয়ে যাচ্ছি।’

গণভোটের খরচ বিষয়ে জানতে চাইলে সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘এটা আমি জানি না। তবে নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়ার ব্যাপারে আমরা কার্পণ্য করিনি। যে টাকা চেয়েছে, আমরা দিয়ে দিয়েছি। বাড়তি কিছু টাকা চেয়েছে, সেটাও আমি দিয়ে দেওয়ার কথা বলেছি।’

বড় ধরনের দরপতনের পর সম্প্রতি কিছুটা ঘুরে দাঁড়িয়েছিল সোনার বাজার। তবে, সেই পুনরুদ্ধার স্থায়ী হলো না বেশিদিন। দুই দিনের ব্যবধানে এবার বড় ধরনের পতন ঘটতে দেখা গেছে।

শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) ভালো মানের; অর্থাৎ ২২ ক্যারেটের সোনার দাম ভরি প্রতি ৭ হাজার ৬৪০ টাকা কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশনকে (বাজুস)।

এদিন সকাল ১০টার দিকে নতুন করে সোনার দাম সমন্বয় করে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে সংস্থাটি। নতুন করে সমন্বয়ের পর দেশের বাজারে এখন ভরি প্রতি ২২ ক্যারেটের সোনার দাম দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৫৪ হাজার ৪৫০ টাকা।

বাজুসের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) মূল্য কমেছে। ফলে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় সোনার নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।

নতুন মূল্যতালিকা অনুযায়ী, দেশের বাজারে প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের সোনার দাম এখন ২ লাখ ৫৪ হাজার ৪৫০ টাকা। এছাড়া, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম ২ লাখ ৪২ হাজার ৯০৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম ২ লাখ ৮ হাজার ২০২ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনা দাম ১ লাখ ৭০ হাজার ৪১১ টাকা পড়বে।

এর আগে, মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) দুই দফায় সোনার দাম ভরিতে ১৬ হাজার ৩৩০ টাকা বাড়িয়েছিল বাজুস। এতে দেশের বাজারে প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের সোনার দাম দাঁড়িয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। এছাড়া, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম ২ লাখ ৫০ হাজার ১৯৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম ২ লাখ ১৪ হাজার ৪৪৩ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার দাম ১ লাখ ৭৫ হাজার ৪৮৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল।

গত বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) থেকে আজ শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টার আগ পর্যন্ত দেশের বাজারে এ দামেই বিক্রি হয়েছে সোনা।

সব মিলিয়ে চলতি বছরে এখন পর্যন্ত (৩৭ দিন) ২৫ বার সোনার দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এর মধ্যে দাম বাড়ানো হয়েছে ১৬ দফা; কমানো হয়েছে ৯ দফা। আর গত ২০২৫ সালে দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার সমন্বয় করা হয়েছিল সোনার দাম; যেখানে ৬৪ বার দাম বাড়ানো হয়েছিল, আর কমানো হয়েছিল ২৯ বার।

বাজুসের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, সোনার বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে আবশ্যিকভাবে সরকার-নির্ধারিত ৫ শতাংশ ভ্যাট ও বাজুস-নির্ধারিত ন্যূনতম মজুরি ৬ শতাংশ যুক্ত করতে হবে। তবে, গহনার ডিজাইন ও মানভেদে মজুরির তারতম্য হতে পারে।

 

বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মেয়াদকালে চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক কোম্পানি ডিপি ওয়ার্ল্ডের কাছে ইজারা দেওয়ার চুক্তি সইয়ের সম্ভাবনা নেই বলে জানিয়েছেন পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) কর্তৃপক্ষের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) এবং বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী।

আজ রোববার রাজধানীর বেইলি রোডের ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান আশিক চৌধুরী। এ সময় উপস্থিত ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।

সংবাদ সম্মেলনে আশিক চৌধুরী জানান, আজ রোববার ডিপি ওয়ার্ল্ডের কাছ থেকে একটি চিঠি পাওয়া গেছে। সকালে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে ওই চিঠি এসেছে। চিঠিতে ডিপি ওয়ার্ল্ড ইজারা চুক্তি নিয়ে চলমান দর–কষাকষির (নেগোসিয়েশন) অগ্রগতির প্রশংসা করেছে এবং এটা নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছে। তারা আশা প্রকাশ করেছে, এই নেগোসিয়েশন ভবিষ্যতে আরও এগোবে এবং সঠিক দিকেই যাবে। নেগোসিয়েশনের অগ্রগতি প্রশংসার পাশাপাশি ডিপি ওয়ার্ল্ড জানিয়েছে, শেয়ার করা খসড়া কনসেশন চুক্তি তারা গ্রহণ করেছে এবং বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনা করেছে। তবে তারা এটি আরও পুনর্মূল্যায়ন (রিভিউ) করার জন্য কিছু সময় চেয়েছে।

আশিক চৌধুরী বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকারের আনুষ্ঠানিক মেয়াদ রয়েছে আর দুই কার্যদিবস। যেহেতু তারা (ডিপি ওয়ার্ল্ড) সময় চেয়েছে, সে কারণে বিষয়টি বর্তমান সরকারের আমল পেরিয়ে নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে গিয়ে নেগোসিয়েশনটি আবারও কন্টিনিউ হতে পারে।’

এ বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আশিক চৌধুরী বলেন, ‘এই সরকারের সময়ে চুক্তি স্বাক্ষর হচ্ছে না, আমার মনে হয়, এটা নিশ্চয়তার মাত্রা বিবেচনায় বলা যায়। কারণ আর দুই কার্যদিবস আছে। এর মধ্যে ওনারা (ডিপি ওয়ার্ল্ড) ফেরত আসবে, তারপর আমরা আমাদের ক্যাবিনেটে নিয়ে এটাকে অনুমোদন করিয়ে স্বাক্ষর করব, সময়ের বিবেচনায় এই প্রক্রিয়াটা খুব কঠিন হবে।’

আশিক চৌধুরী জানান, নিউমুরিং টার্মিনালকে ডিপি ওয়ার্ল্ডের কাছে ইজারা দেওয়া নিয়ে ২০১৯ সালে কাজ শুরু হয়েছিল। গত এক মাসে প্রকল্পটির চূড়ান্ত ধাপের দর–কষাকষি শুরু হয়েছিল।

আশিক চৌধুরী বলেন, ‘সরকারের বিভিন্ন স্তরে বিষয়টি নিয়ে অত্যন্ত নিবিড়ভাবে কাজ চলমান রয়েছে। সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত আছে এবং এ আলোচনা ও দর–কষাকষি প্রক্রিয়া চলতে থাকবে। তবে পুরো কার্যক্রম সম্পন্ন করতে আরও কিছু সময় প্রয়োজন হতে পারে।’

মূল্যস্ফীতি এখনো কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় না আসায় নীতি সুদহার (পলিসি রেট) অপরিবর্তিত রেখে নতুন মুদ্রানীতি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, মূল্যস্ফীতি ৭ শতাংশে না নামা পর্যন্ত এই সংকোচনমূলক অবস্থান বজায় রাখা হবে।

আজ সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংকের সভাকক্ষে চলতি অর্থবছরের দ্বিতীয়ার্ধের (জানুয়ারি-জুন) মুদ্রানীতি ঘোষণা করেন গভর্নর আহসান এইচ মনসুর। ২০২৪ সালের অক্টোবর থেকে নীতি সুদহার ১০ শতাংশে অপরিবর্তিত রয়েছে।

ঋণের লক্ষ্যমাত্রা ও মুদ্রা সরবরাহ

নতুন মুদ্রানীতিতে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা কিছুটা বাড়িয়ে ধরা হয়েছে। জুন নাগাদ এই প্রাক্কলন ধরা হয়েছে সাড়ে ৮ শতাংশ, যা আগের মুদ্রানীতিতে ছিল ৮ শতাংশ। তবে গত ডিসেম্বর পর্যন্ত এই খাতে প্রকৃত প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৬ দশমিক ১০ শতাংশ।

একনজরে মুদ্রানীতি

• নীতি সুদহার ১০ শতাংশ। • মূল্যস্ফীতি লক্ষ্য: ৭ শতাংশে না আসা পর্যন্ত সংকোচনমূলক নীতি চলবে। • বেসরকারি ঋণ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা বাড়িয়ে সাড়ে ৮ শতাংশ। • মুদ্রা সরবরাহের লক্ষ্যমাত্রা জুন নাগাদ সাড়ে ১১ শতাংশ।

অন্যদিকে সরকারি খাতের ঋণ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা জুন নাগাদ ২১ দশমিক ৬০ শতাংশ ধরা হয়েছে। এ ছাড়া বাজারে মুদ্রা সরবরাহ বা ব্রড মানি বৃদ্ধির প্রাক্কলন করা হয়েছে সাড়ে ১১ শতাংশ। মূলত বাজার থেকে ৪৩০ কোটি ডলার কেনার বিপরীতে ৫০ হাজার কোটি টাকা বাজারে ছাড়ায় মুদ্রা সরবরাহ কিছুটা বাড়তির দিকে রয়েছে বলে জানানো হয়।

আক্ষেপ ও সংস্কারের প্রশ্ন

গভর্নর আহসান এইচ মনসুর বলেন, গভর্নর হিসেবে এই সরকারের আমলে আমি পূর্ণ পেশাদার স্বাধীনতা ভোগ করেছি, কোনো চাপ ছিল না। তবে কিছু আইন সংশোধন না হওয়ায় আমার আক্ষেপ রয়ে গেছে।

তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ ব্যাংক অর্ডার, ব্যাংক কোম্পানি আইন এবং অর্থঋণ আদালত আইন সংশোধনের প্রস্তাব দেওয়া হলেও তা শেষ পর্যন্ত হয়ে ওঠেনি।

পরবর্তী সরকারের সময় সংস্কারকাজ এগিয়ে নিতে না পারলে তিনি দায়িত্বে থাকবেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে গভর্নর হেসেই বলেন, সেটা তখন বোঝা যাবে। সেতুর কাছে গিয়ে বলা যাবে সেতু পার হব কি না। তবে যে সরকারই আসুক, আর্থিক খাতের শৃঙ্খলা রক্ষায় কাজ করতে হবে।

মূল্যস্ফীতি ও রিজার্ভ পরিস্থিতি

দেশের মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে ২০২৪ সালের আগস্টের পর তিন দফায় নীতি সুদহার বাড়িয়ে ১০ শতাংশ করা হয়েছিল। গত নভেম্বরে মূল্যস্ফীতি ১১ দশমিক ৩৮ শতাংশে উঠলেও পরে তা কিছুটা কমে জানুয়ারিতে ৮ দশমিক ৫৮ শতাংশে হয়েছে।

অনুষ্ঠানে ডেপুটি গভর্নর হাবিবুর রহমান বলেন, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় থাকলে বেসরকারি খাতে ঋণের চাহিদা বাড়বে। বর্তমানে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আইএমএফের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি রয়েছে এবং সংস্থাটির সব শর্ত পূরণ করা সম্ভব হয়েছে।

একনজরে মুদ্রানীতি

• নীতি সুদহার ১০ শতাংশ।

• মূল্যস্ফীতি লক্ষ্য: ৭ শতাংশে না আসা পর্যন্ত সংকোচনমূলক নীতি চলবে।

• বেসরকারি ঋণ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা বাড়িয়ে সাড়ে ৮ শতাংশ।

• মুদ্রা সরবরাহের লক্ষ্যমাত্রা জুন নাগাদ সাড়ে ১১ শতাংশ।

চট্টগ্রাম

বাজারে হঠাৎ করে বেড়ে গেছে কাঁচা মরিচের দাম। তিন দিনের ব্যবধানে প্রতি কেজি কাঁচা মরিচে ৬০ থেকে ৮০ টাকা পর্যন্ত দাম বেড়েছে। এর পাশাপাশি লেবু, ফুলকপি, বাঁধাকপি, পেঁপে, লাউয়ের দামও আগের তুলনায় বেড়েছে। বাজারে শাকসবজির জোগানও তুলনামূলক কম। আবার ক্রেতাও কম।

আজ রাত পার হলেই ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ইতিমধ্যে ভোট দিতে বিপুলসংখ্যক লোক ঢাকা ছেড়েছেন। এ সময়ে বিভিন্ন জেলা থেকে ঢাকামুখী যানবাহন চলাচলেও নানা বিধিনিষেধ রয়েছে। সব মিলিয়ে ঢাকায় মরিচসহ বিভিন্ন সবজির সরবরাহ কমেছে। এ কারণে এসব পণ্যের দাম বেড়েছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

আজ বুধবার রাজধানীর মহাখালী কাঁচাবাজার, মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেট ও কারওয়ান বাজার— এই তিন জায়গায় খোঁজ নিয়ে ও ক্রেতা–বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।

বেলা সাড়ে ১১টার দিকে মহাখালী কাঁচাবাজারে গিয়ে দেখা যায়, ওই সময় বাজারটিতে সবজির সব দোকান খোলা ছিল। তবে প্রায় অর্ধেকসংখ্যক মাছের দোকান ও কয়েকটি মুদির দোকান বন্ধ দেখা যায়। জানা গেছে, বন্ধ থাকা দোকানের বিক্রেতারা ভোট দিতে বাড়িতে গেছেন।

নির্বাচনের সময়ে পণ্যের দরদামে কোনো পরিবর্তন আছে কি না, জানতে চাইলে বাজারের সবজি বিক্রেতা আবু বকর বলেন, ‘বাজারে ক্রেতা উপস্থিতি কম। এক–দুই দিন আগে যেসব সবজি এনেছিলাম, সেগুলোই এখনো বিক্রি করছি।’

ওই সময় মহাখালী কাঁচাবাজারে হাতে গোনা কয়েকজন ব্যক্তি পণ্য কিনতে গেছেন। এঁদের একজন সামিউল আলম। তিনি মহাখালীতে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। সামিউল বলেন, ‘আমি এ আসনেরই (ঢাকা–১৭) ভোটার। জরুরি কিছু বাজার করার প্রয়োজন ছিল। পাড়ার দোকান বন্ধ পেয়েছি। এ কারণে বাজারে এলাম।’

মহাখালী কাঁচা বাজারে সবজির বিক্রেতা সবজি নিয়ে বসে আছেন, ক্রেতা নেই বললেই চলে
মহাখালী কাঁচা বাজারে সবজির বিক্রেতা সবজি নিয়ে বসে আছেন, ক্রেতা নেই বললেই চলে
 

মহাখালী থেকে গেলাম মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেটে। সেখানে গিয়ে অবশ্য উল্লেখযোগ্যসংখ্যক ক্রেতার উপস্থিতি দেখা গেল। বিক্রেতারা জানিয়েছেন, মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেটের আশপাশের এলাকায় স্থানীয় ভোটার অনেক বেশি। তাঁরা ভোটের আগের দিন বাজার করতে আসছেন। এ জন্য স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় ক্রেতা উপস্থিতি তেমন একটা কমেনি। তবে আগামীকাল ভোটের দিন বাজারের বেশির ভাগ দোকানপাট বন্ধ থাকবে বলে জানান ব্যবসায়ীরা।

অবশ্য কারওয়ান বাজারে দেখা গেল ভিন্ন চিত্র। অন্যান্য দিনের তুলনায় এখানে কমসংখ্যক সবজির দোকান খোলা দেখা গেছে। কম ছিল ক্রেতাদের উপস্থিতিও। কারওয়ান বাজারের সবজি বিক্রেতা মাহবুব আলম বলেন, ‘মানুষজন তো বেশির ভাগই বাড়ি গেছে। নতুন কোনো সবজিও বাজারে আসেনি। আগে যা কেনা ছিল, সেগুলো বিক্রি করছি।’

দাম বাড়তি যেসব পণ্যের

বাজার ঘুরে দেখা গেছে, গত তিন দিনের ব্যবধানে কাঁচা মরিচের দাম কেজিতে ৬০ থেকে ৮০ টাকা বেড়েছে। তাতে এক কেজি কাঁচা মরিচ এখন বিক্রি হচ্ছে ১৬০ থেকে ২০০ টাকায়। তিনদিন আগে প্রতি কেজি মরিচ ১০০–১২০ টাকায় কেনা যেত।

কয়েক দিন ধরেই বাজারে লেবুর দাম চড়া। বিক্রেতারা জানান, লেবুর মৌসুম শেষ হওয়ায় সরবরাহ কমেছে এবং দাম বেড়েছে। পবিত্র রমজান মাস শুরুর আগেই বাজারে লেবুর দাম চড়া রয়েছে। ফলে রোজায় লেবুর দাম আরও কিছুটা বাড়তে পারে বলে জানান বিক্রেতারা।

কয়েক দোকান ঘুরে দেখা গেছে, বাজারে ৮০ টাকার নিচে কোনো লেবু (হালি) বিক্রি হচ্ছে না। ধরনভেদে প্রতি হালি লেবু ৮০ টাকা থেকে ১৪০ টাকা পর্যন্ত দামে বিক্রি হচ্ছে। তিন সপ্তাহ আগে লেবুর হালি ছিল ৩০–৫০ টাকা।

এ ছাড়া ফুলকপি, বাঁধাকপি, পেঁপে, লাউয়ের দামও আগের তুলনায় ১০–১৫ টাকার মতো বেড়েছে। অন্যান্য সবজির দাম মোটামুটি স্থিতিশীল রয়েছে।

আমাদের অনুসরণ করুন

 

সর্বাধিক পড়ুন

  • সপ্তাহ

  • মাস

  • সব