• Colors: Purple Color

ঢাকা

চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে (জুলাই-ডিসেম্বর) ২ হাজার ২২৪ কোটি টাকার ব্যবসা করেছে ওষুধ খাতের শীর্ষস্থানীয় দেশীয় কোম্পানি রেনাটা। গত অর্থবছরের একই সময়ে যার পরিমাণ ছিল ২ হাজার ৮৭ কোটি টাকা। সেই হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে কোম্পানিটির ব্যবসা বেড়েছে ১৩৭ কোটি টাকার বা সাড়ে ৬ শতাংশের বেশি। কোম্পানিটির অর্ধবার্ষিক আর্থিক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানি হিসেবে গতকাল রোববার কোম্পানিটি তাদের অর্ধবার্ষিক আর্থিক প্রতিবেদনের গুরুত্বপূর্ণ নানা তথ্য দেশের দুই স্টক এক্সচেঞ্জের মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের জানিয়েছে। এর আগে গত বৃহস্পতিবার কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদের সভায় এই আর্থিক প্রতিবেদন চূড়ান্ত করা হয়।

আর্থিক প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, রেনাটা ও এর সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলো মিলে সম্মিলিতভাবে ২ হাজার ২২৪ কোটি টাকার ব্যবসা করেছে। কোম্পানিটির দুটি সহযোগী প্রতিষ্ঠান রয়েছে। একটি রেনাটা (ইউকে) লিমিটেড, অন্যটি রেনাটা ফার্মাসিউটিক্যালস (আয়ারল্যান্ড) লিমিটেড। রেনাটা (ইউকে) লিমিটেডের আওতায় যুক্তরাজ্যের বাজারে আর রেনাটা ফার্মাসিউটিক্যালস (আয়ারল্যান্ড) লিমিটেডের আওতায় ইউরোপের বিভিন্ন বাজারে ওষুধ রপ্তানি করা হয়। আর মূল কোম্পানি রেনাটা দেশের বাজারের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, অস্ট্রেলিয়াসহ বিভিন্ন দেশে ওষুধ বাজারজাত করা হয়।

আর্থিক প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে দেশের বাজার ও রপ্তানি বাজার মিলিয়ে রেনাটা ২ হাজার ২০৫ কোটি টাকার ব্যবসা করেছে। আর রেনাটা আয়ারল্যান্ড এই সময়ে ব্যবসা করেছে ১৯ কোটি টাকা। রেনাটা ইউকে ব্যবসা করেছে ১৬ লাখ টাকার। সব মিলিয়ে এই তিন কোম্পানি মিলিয়ে ২ হাজার ২২৪ কোটি টাকার ব্যবসা করে। সহযোগী প্রতিষ্ঠানসহ রেনাটার তিন কোম্পানি মিলে চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে মুনাফা করেছে প্রায় ১৫৬ কোটি টাকা। গত অর্থবছরের একই সময়ে যার পরিমাণ ছিল ১২৫ কোটি টাকা। সেই হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে কোম্পানিটির মুনাফা ৩১ কোটি টাকা বা প্রায় ২৫ শতাংশ বেড়েছে।

আর্থিক প্রতিবেদন বিশ্লেষণে দেখা যায়, কোম্পানিটির ব্যবসা যতটা বেড়েছে, তার চেয়ে বেশি প্রবৃদ্ধি হয়েছে মুনাফায়। যার বড় কারণ উৎপাদন ও সুদসহ অন্যান্য আর্থিক খরচ কমে যাওয়া। চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে ২ হাজার ২২৪ কোটি টাকার ব্যবসার বিপরীতে কোম্পানিটির পণ্য উৎপাদন খরচ ছিল ১ হাজার ২৩২ কোটি টাকা, যা মোট ব্যবসার ৫৫ শতাংশ। গত অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে কোম্পানিটির ২ হাজার ৮৭ কোটি টাকার ব্যবসার বিপরীতে উৎপাদন খরচ ছিল ১ হাজার ২০১ কোটি টাকা, যা মোট ব্যবসার ৫৮ শতাংশ। সেই হিসাবে গত অর্থবছরের চেয়ে চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে কোম্পানিটির উৎপাদন খরচ ৩ শতাংশ কমেছে। একই সঙ্গে কমেছে সুদসহ অন্যান্য আর্থিক খরচও। গত অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে এ খাতে কোম্পানিটির খরচ ছিল ৭৯ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরে তা কমে দাঁড়ায় ৭৩ কোটি টাকায়। একদিকে ব্যবসা বেড়েছে, অন্যদিকে বিভিন্ন খাতে খরচ কমেছে। তাতে কোম্পানিটির মুনাফার ক্ষেত্রে চলতি অর্থবছরের প্রথমার্ধে বড় ধরনের প্রবৃদ্ধি হয়।

জানতে চাইলে রেনাটার কোম্পানি সচিব জোবায়ের আলম বলেন, চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে কোম্পানির সুদসহ অন্যান্য আর্থিক খরচ আগের অর্থবছরের চেয়ে সোয়া ৭ শতাংশের বেশি কমেছে। এ ছাড়া উৎপাদন খরচসহ অন্যান্য কিছু খরচও কমেছে। যার ফলে ব্যবসার প্রবৃদ্ধির চেয়ে মুনাফা প্রবৃদ্ধি বেশি হয়েছে।

চট্টগ্রাম

ভোক্তাপর্যায়ে বেসরকারি খাতের তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দাম কেজিতে বাড়ল ৪ টাকা ২১ পয়সা।

চলতি জানুয়ারি মাসের জন্য ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ হাজার ৩৫৬ টাকা। গত মাসে (ডিসেম্বর ২০২৫) দাম ছিল ১ হাজার ৩০৬ টাকা। অর্থাৎ জানুয়ারিতে ১২ কেজিতে দাম বেড়েছে ৫০ টাকা। গত মাসে দাম বেড়েছিল ৫৩ টাকা।

আজ সোমবার বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এই নতুন দাম ঘোষণা করেন। আজ সন্ধ্যা ছয়টা থেকে নতুন দাম কার্যকর হবে বলে জানানো হয়।

সংস্থাটি প্রতি মাসেই এলপিজির দাম নির্ধারণ করে। তবে বাজারে নির্ধারিত দামে এলপিজি বিক্রি হচ্ছে না। এলপিজির ১২ কেজি সিলিন্ডার সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয় গৃহস্থালির কাজে। তবে গত এক মাস ধরে এলপিজির সরবরাহ–সংকট চলছে। প্রতি সিলিন্ডারে ৮০০ থেকে ১ হাজার টাকা বেশি দাম নিচ্ছেন এলপিজি বিক্রেতারা।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বিইআরসির চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ বলেন, দাম নির্ধারণের কারণেই বাড়তি দামের বিষয়টি বোঝা যায়। কমিশন আইন অনুসারে দাম ঘোষণা করছে। বাজারে সরবরাহ কম থাকায় বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে। আমদানি বাড়ানোর চেষ্টা চলছে।

বিইআরসির নতুন দর অনুযায়ী, বেসরকারি এলপিজির মূল্য সংযোজন করসহ (মুসক/ভ্যাট) দাম নির্ধারণ করা হয়েছে প্রতি কেজি ১১৩ টাকা ৪ পয়সা। গত মাসে তা ছিল ১০৮ টাকা ৮৩ পয়সা। অর্থাৎ এই মাসে দাম কেজিতে বেড়েছে ৪ টাকা ৪২ পয়সা।

এই হিসাবে বিভিন্ন আকারের এলপিজি সিলিন্ডারের দাম নির্ধারিত হবে। বাজারে বিভিন্ন আকারের এলপিজি সিলিন্ডার পাওয়া যায়।

সরকারি কোম্পানির সরবরাহ করা এলপিজির সাড়ে ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ৮২৫ টাকা অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। অন্যদিকে গাড়িতে ব্যবহৃত এলপিজির (অটো গ্যাস) দাম প্রতি লিটার ৬২ টাকা ১৪ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। গত মাসে তা ছিল ৫৯ টাকা ৮০ পয়সা।

২০২১ সালের এপ্রিল থেকে এলপিজির দাম নির্ধারণ করে আসছে বিইআরসি। এলপিজি তৈরির মূল উপাদান প্রোপেন ও বিউটেন বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানি করা হয়। প্রতি মাসে এলপিজির এই দুই উপাদানের মূল্য প্রকাশ করে সৌদি আরবের প্রতিষ্ঠান আরামকো। এটি সৌদি কার্গো মূল্য (সিপি) নামে পরিচিত।

এই সৌদি সিপিকে ভিত্তিমূল্য ধরে দেশে এলপিজির দাম সমন্বয় করে বিইআরসি। আমদানিকারক কোম্পানির চালান (ইনভয়েস) মূল্য থেকে গড় করে পুরো মাসের জন্য ডলারের দাম হিসাব করে বিইআরসি।

দেশের বাজারে সোনার দাম আজ সকাল ও বিকেল– দুই বেলা দাম কমল। সকালে ভরিতে কমেছে ৬ হাজার ৫৯০ টাকা। পরে বিকেলে আরেক দফা দাম ৫ হাজার ৪২৪ টাকা কমানো হয়। এর ফলে একদিনেই প্রতি ভরিতে দুই দফায় দাম কমল ১২ হাজার ১৪ টাকা।

এর মানে, ভালো মানের অর্থাৎ ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম কমে হয়েছে ২ লাখ ৪৫ হাজার ৭৬০ টাকা।

বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি আজ বিকেল তিনটার পর দ্বিতীয় দফা নতুন দামের ঘোষণা দেয়। নতুন দাম ৩ টা ৪৫ মিনিয় কার্যকর করা হয়েছে।

এর আগে গতকাল রোববার সন্ধ্যায় ভরিতে দাম ১ হাজার ৯২৫ টাকা কমানো হয়েছিল।

২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম কমানোর পাশাপাশি ২১ ও ১৮ ক্যারেট সোনার দাম ভরিপ্রতি কমেছে। এদিকে সোনার দাম কমলেও রুপার দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার দেশে সোনার দাম ভরিপ্রতি সর্বোচ্চ ১৬ হাজার ২১৩ টাকা বেড়েছিল। তাতে ভালো মানের এক ভরি সোনার দাম বেড়ে হয়েছিল ২ লাখ ৮৬ হাজার টাকা। এটি দেশের ইতিহাসে সোনার সর্বোচ্চ দাম।

করোনার পর গত পাঁচ বছরে দেশে-বিদেশে সোনার দাম দ্রুতগতিতে বেড়েছে। এর মধ্যে দেশের বাজারে ২০২৩ সালের ২১ জুলাই প্রতি ভরি সোনার দাম প্রথম এক লাখ টাকায় ওঠে। তা গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে দেড় লাখ ও অক্টোবরে দুই লাখ টাকার মাইলফলক স্পর্শ করে। গত সপ্তাহে আড়াই লাখ টাকা পেরিয়ে যায়।

এদিকে আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম বেশ চড়া। এখন প্রতি আউন্স সোনার দাম ৪ হাজার ৭০৩ ডলার। ভবিষ্যতেও সোনার দাম বাড়তে পারে বলে পূর্বাভাস দিচ্ছেন বিশ্লেষকেরা।

লন্ডন বুলিয়ন মার্কেট অ্যাসোসিয়েশনের (এলএমবিএ) বার্ষিক পূর্বাভাসের জরিপে বিশ্লেষকেরা বলছেন, ২০২৬ সালে সোনার দাম সর্বোচ্চ ৭ হাজার ১৫০ ডলার পর্যন্ত উঠতে পারে। গড় দাম হতে পারে ৪ হাজার ৭৪২ ডলার। আর স্বাধীন বিশ্লেষক রস নরম্যান মনে করেন, চলতি বছর সোনার দাম ৬ হাজার ৪০০ ডলার পর্যন্ত উঠতে পারে। গড় দাম হতে পারে ৫ হাজার ৩৭৫ ডলার।

বাংলাদেশের বিনিয়োগ এবং রপ্তানি বাণিজ্যে প্রশাসনিক গতিশীলতা আনতে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। এখন থেকে দেশের বিদ্যমান সকল বেসরকারি রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল (ইপিজেড) সরাসরি ‘বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ’ বা বেজার নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত হবে। এই লক্ষ্য অর্জনে সরকার ‘বাংলাদেশ বেসরকারি রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল আইন ১৯৯৬’ বাতিল করে একটি নতুন অধ্যাদেশ জারি করেছে।

মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) আইন মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা ড. মো. রেজাউল করিম গণমাধ্যমকে সরকারের এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের কথা নিশ্চিত করেছেন।

আইন মন্ত্রণালয় থেকে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ‘বাংলাদেশ বেসরকারি রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল রহিতকরণ অধ্যাদেশ ২০২৬’ ইতিমধেই গেজেট আকারে প্রকাশিত হয়েছে। নতুন এই আইনি কাঠামোর ফলে ১৯৯৬ সালের পুরনো আইনের অধীনে প্রতিষ্ঠিত সকল বেসরকারি ইপিজেড এখন থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘বেসরকারি অর্থনৈতিক অঞ্চল’ হিসেবে স্বীকৃত হবে। মূলত দেশের বিনিয়োগ পরিবেশকে একক তদারকির আওতায় এনে আরও শক্তিশালী ও সমন্বিত করতেই সরকার এই বড় ধরণের সংস্কারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

নতুন অধ্যাদেশে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, আইনটি রহিত করা হলেও বিনিয়োগকারীদের ভয়ের কোনো কারণ নেই। আগের আইনের অধীনে প্রাপ্ত সকল লাইসেন্স সম্পূর্ণ বৈধ থাকবে এবং উদ্যোক্তাদের নতুন করে কোনো আবেদন করতে হবে না। একইসঙ্গে বেসরকারি ইপিজেডগুলোতে বিনিয়োগকারীরা আগে যে ধরণের বন্ডেড ও রেয়াতি সুবিধা পেতেন সেগুলোও আগের মতোই বহাল থাকবে। তবে এসব অঞ্চলের সামগ্রিক পরিচালনা ও তদারকি কার্যাবলি এখন থেকে সম্পূর্ণভাবে বেজার ওপর ন্যস্ত থাকবে এবং কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনে যেকোনো প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবে।

প্রশাসনিক পরিবর্তনের বিষয়ে অধ্যাদেশে বলা হয়েছে যে বেসরকারি ইপিজেড পরিচালনার জন্য আগে যে ‘গভর্নর বোর্ড’ ও ‘নির্বাহী সেল’ ছিল তা বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে। তবে সেখানে কর্মরত সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে সরাসরি বেজাতে বদলি করা হবে এবং তাদের চাকরির শর্তাবলি আপাতত আগের মতোই অপরিবর্তিত থাকবে।

এছাড়া বিলুপ্ত হওয়া বোর্ড বা সেলের পক্ষে বা বিপক্ষে চলমান কোনো আইনি লড়াই বা মামলা এখন থেকে বেজার মামলা হিসেবেই পরিচালিত হবে। অবিলম্বে কার্যকর হওয়া এই অধ্যাদেশটি বাংলাদেশের রপ্তানি বাণিজ্য সম্প্রসারণে একটি আধুনিক ও সময়োপযোগী ভিত্তি তৈরি করবে বলে মনে করা হচ্ছে।

আমাদের অনুসরণ করুন

 

সর্বাধিক পড়ুন

  • সপ্তাহ

  • মাস

  • সব