আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি দেশব্যাপী অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এ উপলক্ষে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’— এই স্লোগান নিয়ে নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণা করতে যাচ্ছে বিএনপি। 

শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে এই ইশতেহার ঘোষণা করবেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। দলটির মিডিয়া সেল জানিয়েছে, বিকেল সাড়ে ৩টায় অনুষ্ঠানটি শুরু হবে। এতে সভাপতিত্ব করবেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং সঞ্চালনা করবেন নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম খান।

জানা গেছে, দুর্নীতিবিরোধী কঠোর অবস্থান, মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের নির্ভুল তালিকা প্রণয়ন এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বিচার নিশ্চিত করার মতো বিষয়গুলো বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে বিএনপির এই ইশতেহারে।

দলীয় সূত্র বলছে, ইশতেহারটি তৈরি করা হয়েছে বিএনপিঘোষিত ‘রাষ্ট্র কাঠামো মেরামতের ৩১ দফা’, প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ‘১৯ দফা’, বেগম খালেদা জিয়ার ‘ভিশন-২০৩০’ এবং ‘জুলাই জাতীয় সনদ’-এর সমন্বয়ে।

এবারের ইশতেহারে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষি কার্ড, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান, পরিবেশ ও পররাষ্ট্র নীতি, প্রতিরক্ষা খাত, পাশাপাশি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বিচার ও আওয়ামী লীগ আমলের শেয়ারবাজার কেলেঙ্কারির তদন্তকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। এছাড়া, খতিব-ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের মাসিক সম্মানীর মতো জনমুখী ইস্যুগুলোও থাকছে। নারী ও তারুণ্যের আকাঙ্ক্ষাকে গুরুত্ব দিয়ে এবং ‘জুলাই জাতীয় সনদ’-এর সমন্বয়ে ইশতেহারের বিষয়বস্তু চূড়ান্ত করা হয়েছে।

ইশতেহারে উল্লেখ থাকছে ১৯৭১ সালের ‘মুক্তিযুদ্ধ’, ১৯৭৫ সালের ‘সিপাহী-জনতার বিপ্লব’, ১৯৯০ সালে ছাত্রদের গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে ‘গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার’ বিষয়গুলোও।

জানা গেছে, স্বাস্থ্যসেবায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনতে বিএনপি এবার তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে এ খাতে জিডিপির ৫ শতাংশ বরাদ্দের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে। প্রতিটি নাগরিকের বিনামূল্যে চিকিৎসা নিশ্চিত করতে প্রবর্তন করা হবে ‘ই-হেলথ কার্ড’। এছাড়া দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পরিকল্পনা অনুযায়ী— মাতৃস্বাস্থ্য, শিশুস্বাস্থ্য এবং প্রাণঘাতী ও জটিল রোগের আধুনিক চিকিৎসায় সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব বা পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (PPP) মডেল গড়ে তোলার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া, তরুণ প্রজন্মের দক্ষতা বৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে বিএনপির ইশতেহারে থাকছে একগুচ্ছ আধুনিক পরিকল্পনা। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো— আইটি পার্কে তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য অফিসের সুবিধা প্রদান, দেশজুড়ে ফ্রি ওয়াইফাই জোন সৃষ্টি এবং আউটসোর্সিং ও ক্ষুদ্র-মাঝারি (SME) শিল্পের বিকাশে সহজ শর্তে ঋণের ব্যবস্থা করা। আন্তর্জাতিক ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম অ্যামাজন ও আলিবাবার সঙ্গে দেশের বাজারকে সংযুক্ত করার কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি থাকছে এতে। এছাড়া, তরুণদের বিশ্ববাজারের উপযুক্ত করে গড়ে তুলতে বিদেশি ভাষা শিক্ষা এবং নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য ‘স্টার্ট-আপ ফান্ড’ গঠনে বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি থাকছে এ ইশতেহারে। শিক্ষাব্যবস্থায় বড় সংস্কারের অংশ হিসেবে মাধ্যমিক পর্যায় থেকেই কারিগরি শিক্ষা অন্তর্ভুক্ত করা এবং যোগ্যতা অনুযায়ী চাকরি নিশ্চিত করতে ‘জব ম্যাচিং’ সেবা চালুর অঙ্গীকারও থাকছে দলটির ইশতেহারে।

শিক্ষা খাতের উন্নয়নে ইশতেহারে জিডিপির ৫ শতাংশ বরাদ্দের জোরালো প্রতিশ্রুতি দিতে যাচ্ছে বিএনপি। শিক্ষাব্যবস্থাকে বৈশ্বিক মানে উন্নীত করতে একটি উচ্চপর্যায়ের ‘শিক্ষা সংস্কার কমিশন’ গঠন করা হবে। পাঠ্যক্রমে আন্তর্জাতিক চাহিদাকে গুরুত্ব দিয়ে ইংরেজি ও বাংলার পাশাপাশি তৃতীয় একটি বিদেশি ভাষা শেখা বাধ্যতামূলক করার পরিকল্পনা থাকছে দলটির।

এছাড়া শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়া রোধে বিনামূল্যে স্কুল ড্রেস প্রদান এবং প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে শতভাগ সন্ত্রাস ও মাদকমুক্ত করার কঠোর অঙ্গীকার করা হয়েছে। নারী শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য সুরক্ষা সামগ্রীসহ ‘ভেন্ডিং মেশিন’ স্থাপনের যুগান্তকারী উদ্যোগ নেবে দলটি।

পাশাপাশি শিক্ষকদের সামাজিক ও আর্থিক মর্যাদা বৃদ্ধিতেও বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে বিএনপি। ইশতেহারে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের জন্য আকর্ষণীয় বেতন কাঠামো প্রবর্তনের পাশাপাশি তাদের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে বিশেষ কল্যাণমূলক কর্মসূচির আওতায় নিয়ে আসার জোরালো অঙ্গীকার করা হয়েছে।

বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঘোষণা করেছেন, এবার বৈদেশিক কর্মসংস্থানকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেবে বিএনপি। তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, বিএনপি সরকার গঠন করতে পারলে আগামী ৫ বছরে দক্ষ ও অদক্ষ মিলিয়ে মোট এক কোটি জনশক্তি বিদেশে পাঠানোর কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

পরিবেশ রক্ষা ও জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় বিএনপির ইশতেহারে এক বিশাল সবুজ বিপ্লবের পরিকল্পনাও রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে। এতে আগামী ৫ বছরের মধ্যে দেশজুড়ে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ এবং পরিবেশবান্ধব ও টেকসই ‘সবুজ কর্মসংস্থান’ সৃষ্টির এক বলিষ্ঠ অঙ্গীকার করা হয়েছে। শিল্পকারখানার বর্জ্য ও পরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার অঙ্গীকারও থাকছে বিএনপির ইশতেহারে।

বিএনপির ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ ইশতেহারে জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানসহ বিগত স্বৈরাচারী আমলের সকল মানবতাবিরোধী অপরাধের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার সুস্পষ্ট প্রতিশ্রুতিও থাকছে। বিশেষ করে, যেসব হত্যাকাণ্ডের তদন্ত এখনও শুরু হয়নি, সেগুলো অবিলম্বে শুরু করে দায়ীদের দ্রুত বিচারিক প্রক্রিয়ায় আনা হবে। পাশাপাশি, গুমের মতো জঘন্য অপরাধ চিরতরে বন্ধ করতে এবং এর প্রতিকার নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী কঠোর আইন প্রণয়ন ও আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের অঙ্গীকার করা হয়েছে।

বিএনপির এবারের ইশতেহারের অন্যতম বিশেষ আকর্ষণ বা ‘চমক’ হতে যাচ্ছে স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালী ও জবাবদিহিমূলক করার এক অভিনব পরিকল্পনা। স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে কার্যকর করতে প্রতি বছর অন্তত একবার উন্মুক্ত স্থানে ‘উন্নয়ন জনসভা’ আয়োজনের প্রতিশ্রুতি থাকছে এতে।

সেইসঙ্গে দেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সুসংহত করতে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নীতিকে মূল ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করেছে বিএনপি। এই নীতির আলোকে জাতীয় সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং দেশপ্রেমের মন্ত্রে উজ্জীবিত একটি সুশৃঙ্খল, যুগোপযোগী ও আধুনিক সশস্ত্র বাহিনী গড়ে তোলার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা দলটির নির্বাচনী ইশতেহারে গুরুত্বের সঙ্গে স্থান পাচ্ছে।

বিগত ১৫ বছরে পুঁজিবাজারে ঘটে যাওয়া নানা অনিয়ম ও কারসাজিতে ক্ষতিগ্রস্ত লাখ লাখ বিনিয়োগকারীর স্বার্থ রক্ষায় এবার বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে বিএনপি। এই বিশাল জনগোষ্ঠীর আস্থা ফেরাতে গত ১৫ বছরের সকল অনিয়ম ও দুর্নীতির সুষ্ঠু তদন্তে একটি ‘বিশেষ তদন্ত কমিশন’ গঠনের জোরালো প্রতিশ্রুতি থাকছে দলটির ইশতেহারে।

পাশাপাশি পুঁজিবাজারকে স্থিতিশীল ও শক্তিশালী করতে বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধির কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার অঙ্গীকার করা হয়েছে। এছাড়া, তরুণ প্রজন্মকে পুঁজিবাজার সম্পর্কে সচেতন ও দক্ষ করে তুলতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে শেয়ারবাজার সংক্রান্ত শিক্ষার প্রসার ঘটানোর সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনাও হাতে নিয়েছে বিএনপি।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের লক্ষ্যে বিএনপির ইশতেহারে থাকছে বিশেষ মহাপরিকল্পনা। এতে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে যে, বর্ধিত চাহিদা মেটাতে এবং নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ৩৫ হাজার মেগাওয়াটে উন্নীত করা হবে। জ্বালানি খাতের টেকসই উন্নয়নে আধুনিক প্রযুক্তি ও নতুন বিনিয়োগের ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হবে দলটির পক্ষ থেকে।

এছাড়া, দেশের ডিজিটাল অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে তথ্য ও প্রযুক্তি খাতকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে বিএনপি। দলটির নির্বাচনী ইশতেহারে প্রযুক্তি নির্ভর স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে এই খাতে অন্তত ১০ লাখ নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির এক বিশাল কর্মপরিকল্পনা ও প্রতিশ্রুতি থাকছে।

দেশের যোগাযোগ অবকাঠামোয় বৈচিত্র্য আনতে গ্রামীণ সড়ক উন্নয়নের পাশাপাশি ইশতেহারে থাকছে আধুনিক কিছু উদ্যোগ। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, যানজট নিরসন ও পরিবেশবান্ধব যাতায়াত নিশ্চিত করতে প্রধান সড়কগুলোতে পৃথক লেন এবং জনপ্রিয় যাতায়াত মাধ্যম হিসেবে রাইড শেয়ারিংয়ে ‘সাইকেল সেবা’ চালুর বিশেষ অঙ্গীকার করতে যাচ্ছে বিএনপি।

দেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী ভিতের ওপর দাঁড় করাতে রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের সংস্কারের পরিকল্পনা করছে বিএনপি। দলটির লক্ষ্য হলো রাজস্ব-জিডিপি অনুপাত ১৫ শতাংশে উন্নীত করা। এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে তারা ধাপে ধাপে এগিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে; যার মধ্যে স্বল্পমেয়াদে ২ শতাংশ এবং মধ্যমেয়াদে ১০ শতাংশ পর্যন্ত রাজস্ব প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করার সুনির্দিষ্ট রূপরেখা ইশতেহারে থাকছে।

বিএনপির পক্ষ থেকে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে যে, আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে অবৈধভাবে বিদেশে পাচার করা অর্থ রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ফেরত আনার জন্য সব ধরনের আইনি ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে। একইসঙ্গে ভবিষ্যতে যেকোনো ধরনের অর্থপাচার রোধে এবং আর্থিক খাতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের রূপরেখা ইশতেহারে স্পষ্ট করা হয়েছে।

এছাড়া, বেসরকারি খাতে কর্মরত বিশাল জনগোষ্ঠীর সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যুগান্তকারী পদক্ষেপের পরিকল্পনা করছে বিএনপি। বেসরকারি খাতের কর্মীদের কর্মজীবন শেষে বার্ধক্যের দুর্দশা নিরসনে এবং ভবিষ্যৎ আর্থিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে একটি ‘কার্যকর পেনশন ফান্ড’ গঠনের জোরালো প্রতিশ্রুতি থাকছে দলটির নির্বাচনি ইশতেহারে।

দেশের নৌপথ সচল এবং কৃষিতে সেচ সুবিধা বৃদ্ধির লক্ষ্যে তারেক রহমানের সুদূরপ্রসারী মহাপরিকল্পনা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে ইশতেহারে। বিএনপি চেয়ারম্যান প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা ও নাব্য সংকট দূর করতে সারা দেশে ২০ হাজার কিলোমিটার নদী ও খাল খনন, পুনঃখনন এবং দখলকৃত জলাশয় পুনরুদ্ধার করা হবে।

‘ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার’— বিএনপি চেয়ারম্যানের এই উদার ও অন্তর্ভুক্তিমূলক দৃষ্টিভঙ্গিকে সামনে রেখে ধর্মীয় নেতাদের সামাজিক মর্যাদা ও আর্থিক সুরক্ষা নিশ্চিতের পরিকল্পনা করা হয়েছে। ইশতেহারে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে যে, মসজিদের খতিব, ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের মাসিক সরকারি সম্মানী এবং ধর্মীয় উৎসবগুলোতে বিশেষ ভাতার ব্যবস্থা করা হবে।

একইভাবে হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টানসহ সব উপাসনালয়ের প্রধানদের (পুরোহিত, ভান্তে, যাজক প্রমুখ) জন্য মাসিক সম্মানী ও উৎসব ভাতার ব্যবস্থা করার অঙ্গীকার থাকছে। এছাড়া, পাহাড় ও সমতলের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীদের অধিকার রক্ষা এবং সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একটি পৃথক ‘নৃগোষ্ঠী উন্নয়ন অধিদপ্তর’ গঠনের প্রতিশ্রুতিও থাকছে বলে জানা গেছে।

 

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সামনে রেখে আগামী রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) নয়াপল্টনে পূর্বনির্ধারিত নির্বাচনি সমাবেশ বাতিল করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)।

শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

 

তিনি বলেন, ৮ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় পূর্বনির্ধারিত নির্বাচনী সমাবেশ বাতিল করেছে বিএনপি। এর পরিবর্তে ৮ ও ৯ ফেব্রুয়ারি ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের বিভিন্ন প্রান্তে দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান নির্বাচনী বক্তব্য দিতে পারেন।

এসময় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের (জাকসু) নবনির্বাচিত ভিপি আব্দুর রশিদ জিতুসহ কেন্দ্রীয় হল সংসদের বিভিন্ন পর্যায়ের নির্বাচিত ছাত্রনেতারা বিএনপিতে ও ছাত্রদলে যোগ দেন।

পে-স্কেল বাস্তবায়নের দাবিতে পুলিশের বাঁধা উপেক্ষা করে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনা ঘেরাও করেছেন সরকারি কর্মচারীরা। এ অবস্থা এলাকাটিতে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। 

শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী এ তথ্য জানিয়েছেন।

এর আগে সকালে ৯ম পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশ ও দ্রুত বাস্তবায়নের দাবিতে ঢাকার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে জড়ো হন বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের সরকারি চাকরিজীবীরা। সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ শেষে তারা মিছিল নিয়ে প্রধান উপদেষ্টার সরকারি বাসভবন যমুনার দিকে যাত্রা শুরু করেন।

এরপর বেলা ১১টার দিকে মিছিলটি হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের পাশের সড়কে পৌঁছালে পুলিশ ব্যারিকেড দেয়। আন্দোলনকারীরা ব্যারিকেড ভেঙে সামনে এগোতে চাইলে পুলিশ বাধা দেয়। এ সময় উভয়পক্ষের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি শুরু হয়, যা পরে সংঘর্ষে রূপ নেয়।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ টিয়ার গ্যাসের শেল, জলকামান ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। এতে মিছিল ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। তবে কিছু সময় পর আবারও আন্দোলনকারীরা জড়ো হয়ে যমুনা অভিমুখে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করেন। ফলে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

বেলা সাড়ে ১১টার পর থেকে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনা অভিমুখী সড়কে এ সংঘর্ষ চলে। এরপর আবারও থেকে থেমে সংঘর্ষ চলে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ার গ্যাস, জলকামান ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করে। উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী। সেখানে তিনি ১৪৪ ধারা জারির তথ্য দেন।

 

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের (জাকসু) সহ-সভাপতি (ভিপি) আবদুর রশিদ জিতুসহ হল সংসদের বিভিন্ন পর্যায়ের নির্বাচিত নেতারা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলে (বিএনপি) যোগদান করেছেন।

শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর নয়পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানায় দলটি।

আবদুর রশিদ জিতু ছাড়াও ছাত্রদলে যোগ দিয়েছে জাকসুর বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা। তারা হলেন- শহিদ সালাম বরকত হলের ভিপি মারুফ হাসান ও জিএস মাসুদ রানা মিন্টু এবং আ ফ ম কামালউদ্দিন হলের এজিএস রিপন মন্ডল।  নবাব সলিমুল্লাহ হলের ভিপি ইবনে শিহাব, আল বেরুনী হলের ভিপি রিফাত আহমেদ শাকিল, আফম কামালউদ্দিন হলের ভিপি জিএম এম রায়হান কবীর, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলের ভিপি অমিত বনিক, নওয়াব ফয়জুননেসা হলের ভিপি বুবলি আহমেদ, বেগম খালেদা জিয়া হলের ভিপি ফারহানা বিথি, মীর মোশাররফ হোসেন হলের জিএস শাহরিয়ার নাজিম রিয়াদ, শহীদ রফিক জব্বার হলের জিএস শরীফুল ইসলাম।

উল্লেখ্য, এর আগে দীর্ঘ ৩৩ বছর পর গত ১১ সেপ্টেম্বর জাকসু ও হল সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ হয়। সকাল ৯টায় শুরু হয়ে বিকেল ৫টা পর্যন্ত চলে ভোটগ্রহণ। নির্বাচনে কেন্দ্রীয় সংসদের ২৫ পদের ২০টিতেই ছাত্রশিবির সমর্থিত ‘সমন্বিত শিক্ষার্থী জোট’ প্যানেল জয় লাভ করে। বাকি ৫টির দুটিতে স্বতন্ত্র ও বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদ জয়ী হয়।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের (জাকসু) সহ-সভাপতি (ভিপি) আবদুর রশিদ জিতুসহ হল সংসদের বিভিন্ন পর্যায়ের নির্বাচিত নেতারা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলে (বিএনপি) যোগদান করেছেন।

শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর নয়পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানায় দলটি।

আবদুর রশিদ জিতু ছাড়াও ছাত্রদলে যোগ দিয়েছে জাকসুর বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা। তারা হলেন- শহিদ সালাম বরকত হলের ভিপি মারুফ হাসান ও জিএস মাসুদ রানা মিন্টু এবং আ ফ ম কামালউদ্দিন হলের এজিএস রিপন মন্ডল।  নবাব সলিমুল্লাহ হলের ভিপি ইবনে শিহাব, আল বেরুনী হলের ভিপি রিফাত আহমেদ শাকিল, আফম কামালউদ্দিন হলের ভিপি জিএম এম রায়হান কবীর, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলের ভিপি অমিত বনিক, নওয়াব ফয়জুননেসা হলের ভিপি বুবলি আহমেদ, বেগম খালেদা জিয়া হলের ভিপি ফারহানা বিথি, মীর মোশাররফ হোসেন হলের জিএস শাহরিয়ার নাজিম রিয়াদ, শহীদ রফিক জব্বার হলের জিএস শরীফুল ইসলাম।

উল্লেখ্য, এর আগে দীর্ঘ ৩৩ বছর পর গত ১১ সেপ্টেম্বর জাকসু ও হল সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ হয়। সকাল ৯টায় শুরু হয়ে বিকেল ৫টা পর্যন্ত চলে ভোটগ্রহণ। নির্বাচনে কেন্দ্রীয় সংসদের ২৫ পদের ২০টিতেই ছাত্রশিবির সমর্থিত ‘সমন্বিত শিক্ষার্থী জোট’ প্যানেল জয় লাভ করে। বাকি ৫টির দুটিতে স্বতন্ত্র ও বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদ জয়ী হয়।

রাজধানী ঢাকার উত্তর বাড্ডা ও যাত্রাবাড়ীর ধলপুর এলাকায় যৌথ অভিযান চালিয়ে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে সেনাবাহিনী। এসময় বিপুল পরিমাণ অবৈধ অস্ত্র, গোলাবারুদ, মাদক ও নগদ অর্থ উদ্ধার করা হয়েছে।

শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

আইএসপিআর জানায়, উত্তর বাড্ডা এলাকায় পরিচালিত অভিযানে ১টি রাইফেল, ৭টি পিস্তল ও ৩টি রিভলবারসহ বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ ও বিভিন্ন সরঞ্জামাদি উদ্ধার করা হয়। অভিযানে একজনকে আটক করা হয়েছে।

অপরদিকে, যাত্রাবাড়ীর ধলপুর এলাকায় পৃথক অভিযানে ২টি বিদেশি পিস্তল, ১টি রিভলবার, ৩ রাউন্ড গোলাবারুদ, বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য ও নগদ অর্থ উদ্ধার করা হয়। এ অভিযানে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

উদ্ধারকৃত অস্ত্র, গোলাবারুদ, মাদক ও আলামত পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থার জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তরের প্রস্তুতি চলছে।

রাজধানীতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে এবং সন্ত্রাস ও অপরাধ দমনে সেনাবাহিনীর এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে আইএসপিআর।

ঢাকা

কক্সবাজারের টেকনাফে বিএনপির নির্বাচনি প্রচারণা চলাকালে দুর্বৃত্তদের অতর্কিত হামলায় ৩ শিশুসহ ৫ জন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের আলীখালীর রোহিঙ্গা ক্যাম্প সংলগ্ন সড়কে সন্ধ্যা সাড়ে ৭ টার সময় এ গুলির ঘটনা ঘটে।

আহতদের মধ্যে দুই শিশুর অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় রাত ২টার দিকে তাদেরকে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতাল থেকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীর জানান, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে কক্সবাজার-৪ আসনে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকের ২০-২৫ জন সমর্থক একটি মিনিট্রাক (ডাম্পার) থেকে আলীখালীতে সড়কে অবস্থানকালীন নাচগান-স্লোগান দিতে থাকলে উৎসুক জনতা সেখানে ভীড় করেন।

এসময় হঠাৎ অজ্ঞাত দুর্বৃত্তদের ছোঁড়া গুলিতে আশেপাশে থাকা ৫ জন গুলিবিদ্ধ হয় এবং অতর্কিত গুলির শব্দে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লে প্রচারণার গাড়িটি দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে ও উপস্থিত লোকজনের ছোটাছুটি শুরু হয়।

তাৎক্ষণিক আহতদের উদ্ধার করে পার্শ্ববর্তী একটি হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং পরে তাদের কক্সবাজারে প্রেরণ করেন কর্তব্যরত চিকিৎসক।

আহতরা হলেন হ্নীলার ৯ নং ওয়ার্ডের মোচনী গ্রামের বাসিন্দা ভেক্কা মিয়ার ছেলে বাচামিয়া (৪৫), ৮নং ওয়ার্ডের আলীখালী গ্রামের বাসিন্দা নুরুল ইসলামের ছেলে শাহাব উদ্দিন (১১), একই এলাকার আব্দুল জলিলের শিশু কন্যা নুসরাত জান্নাত রাফি (১৮ মাস), আলীখালীর পার্শ্ববর্তী ২৫ নং রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ডি/ফাইভ ব্লকের বাসিন্দা নুর হোসেনের ছেলে আব্দুর রহমান (৩৭) ও ডি/ফোর ব্লকের বাসিন্দা নুরুল হকের ছেলে মোহাম্মদ জিসান (১৩)।

কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ডেকোরেশন শ্রমিক বাচা মিয়া বলেন, আলীখালীর মোহাম্মদ মিয়ার বাড়ির পাশে বিয়ের ডেকোরেশনের (সাজ-সজ্জা) কাজে ছিলাম, একটু দূরে একটি বিএনপির প্রচারণা গাড়ি থেকে বাজানো হচ্ছিলো। হঠাৎ করে গুলি ছোঁড়া হয় , প্রথমে মনে করেছি বারুদের শব্দ। আমার হাতে গুলি লেগেছে, কারা গুলি করেছে বুঝে উঠতে পারিনি।

বাঁ পায়ে গুলিবিদ্ধ আব্দুর রহমান জানান, নামাজ পড়ে এসে সড়কের পাশে একটি দোকানে দাঁড়িয়ে থেকে ভোটের প্রচারণা দেখছিলাম, হঠাৎ গুলির শব্দ শুনি। আমার বাম পায়ে গুলি লাগলে ঘটনাস্থলে লুটিয়ে পড়ি, পরে হাসপাতালে আসি।

গুলিবিদ্ধ দুই শিশু নুসরাত জান্নাত রাফি ও শাহাব উদ্দিনকে চট্টগ্রাম নেওয়া হয়েছে। রাফির মা ছমিরা বেগম জানিয়েছেন কন্যাকে নিয়ে তিনি সড়কের পার্শ্ববর্তী ঘরের দরজায় দাঁড়ালে হঠাৎ রাফির পিঠে দুটি গুলি এসে পড়ে। অন্যদিকে শাহাব উদ্দিনের কোমরে গুলি লেগেছে বলে জানা গেছে।

টেকনাফ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম বলেন, অতর্কিত হামলায় ৫ জন আহত হয়েছে বলে খবর পেয়েছি। ঘটনাস্থলে দ্রুতই পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ক্যাম্প এলাকায় আইনশৃঙ্খলায় নিয়োজিত ১৬ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) অধিনায়ক মোহাম্মদ কাউছার সিকদার জানান, বিএনপি মনোনীত প্রার্থীর একটি প্রচারণা ট্রাক ওই এলাকা দিয়ে যাওয়ার সময় জনসমাগম ঘটে। এসময় দুর্বৃত্তরা হঠাৎ উপস্থিত জনতার ওপর গুলি চালায়।

হামলাকারীদের পরিচয় এখনও জানা যায়নি উল্লেখ করে তিনি জানান, এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাজ করছে।

 

মধ্যরাতে ভূমিকম্পে কেঁপে উঠেছে ভারতের সিকিম অঞ্চল। আজ শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) এ তথ্য দিয়েছে ইন্ডিয়া টিভিসহ দেশটির একাধিক গণমাধ্যম।

দেশটির ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলোজি জানিয়েছে, রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিলো ৪ দশমিক ৫।

ভারতীয় গণমাধ্যমের তথ্য মতে, বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত ১টার দিকে সিকিমের গয়ালশিং এলাকায় অনূভূত হয় এই কম্পন। অল্প সময়ের ব্যবধানে অনুভূত হয় আরও দুটি আফটার শক।

এর মধ্যে একটির কেন্দ্র ছিল সিকিমের গ্যাংটক। বাকি দুটির উৎপত্তিস্থল সিকিমের গেয়ালশিং ও মঙ্গনে। তবে এই ভূমিকম্পে কোনো ক্ষয়ক্ষতির তথ্য পাওয়া যায়নি।

সিকিমের এই ভূমিকম্প বাংলাদেশের কয়েকটি জেলাতেও অনুভূত হয়েছে। এতে নীলফামারি, রাজশাহী, নওগাঁসহ বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের কয়েকটি জেলা কেঁপে ওঠে।

ঢাকা

প্রায় দেড় বছর ধরে অচল থাকার পর জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারপারসন ও চার কমিশনার নিয়োগ দিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। চেয়ারপারসন হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন হাইকোর্টের সাবেক বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী। তিনি অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত গুম–সংক্রান্ত কমিশন অব ইনকোয়ারির (গুম–সংক্রান্ত তদন্ত কমিশন) প্রধান ছিলেন।

বাছাই কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে রাষ্ট্রপতি এ নিয়োগ দিয়েছেন বলে আজ বৃহস্পতিবার আইন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে।

কমিশনারদের মধ্যে দুজন সাবেক গুম–সংক্রান্ত তদন্ত কমিশনের সদস্য। তাঁরা হলেন মো. নূর খান ও নাবিলা ইদ্রিস। বাকি দুজন কমিশনার হলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক মো. শরীফুল ইসলাম ও মানবাধিকারকর্মী ইলিরা দেওয়ান।

২০২৪ সালের আগস্টে গণ-অভ্যুত্থানের মুখে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ওই বছরের নভেম্বরে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের তৎকালীন চেয়ারম্যান ও সদস্যরা পদত্যাগ করেন। এরপর কমিশন পুনর্গঠন করা হয়নি। ফলে মানবাধিকারবিষয়ক রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানটি নিষ্ক্রিয় অবস্থায় পড়ে ছিল। এ নিয়ে সমালোচনা থাকলেও দীর্ঘদিনেও মানবাধিকার কমিশন গঠন করা হয়নি। এখন অন্তর্বর্তী সরকারের একেবারে শেষ পর্যায়ে এসে কমিশনের চেয়ারম্যান ও চার কমিশনার নিয়োগ দিল সরকার।

আসন্ন গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং গ্রীষ্ম মৌসুমে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সেবা নিশ্চিত করতে সিরাজগঞ্জ শহরের বেশ কিছু এলাকায় শুক্রবার বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকবে।

জরুরি মেরামত, রক্ষণাবেক্ষণ এবং লাইনের পাশের গাছের ডালপালা কাটার উদ্দেশ্যে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই পিএলসি (নেসকো)।

বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) নেসকো সিরাজগঞ্জ বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ-২ এর নির্বাহী প্রকৌশলী অশীথ পোদ্দার স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৭টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত মোট ছয় ঘণ্টা সিরাজগঞ্জ দপ্তরের ১১ কেভি মাসুমপুর ও সার্কিট হাউস ফিডারের আওতায় বিদ্যুৎ সরবরাহ সাময়িকভাবে বিচ্ছিন্ন রাখা হবে। মূলত আসন্ন বড় জাতীয় অনুষ্ঠান এবং গরমের মৌসুমে লোডশেডিংমুক্ত বিদ্যুৎ সেবা দেওয়ার লক্ষ্যেই এই আগাম প্রস্তুতিমূলক কাজ হাতে নেওয়া হয়েছে।

এর ফলে সিরাজগঞ্জ শহরের মাসুমপুর, মাসুমপুর কারিগর পাড়া, হাজী আহম্মেদ আলী রোড, বাজার স্টেশন, নিউ মার্কেট, কাচারী পাড়া, বগুড়া বাস স্ট্যান্ড, চক শিয়ালকোল এবং দিয়ার বৈদ্যনাথসহ সংশ্লিষ্ট এলাকায় গ্রাহকরা বিদ্যুৎ পাবেন না। জরুরি এই মেরামত কাজের জন্য বিদ্যুৎ সরবরাহের সাময়িক বিঘ্ন ঘটায় নেসকো কর্তৃপক্ষ গ্রাহকদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছে এবং সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা কামনা করেছে।

নির্ধারিত সময়ের পর কাজ শেষ হওয়া মাত্রই আবারও বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করা হবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে। নির্বাচনকালীন নিরবচ্ছিন্ন সেবা নিশ্চিত করতে এই ধরণের কারিগরি রক্ষণাবেক্ষণ অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করছে প্রতিষ্ঠানটি।