আফগান বাহিনী পাকিস্তানের একটি এফ-১৬ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করেছে বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রচার চলেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে শুক্রবার কিছু ভিডিও ও ছবি শেয়ার করে অনেক আফগান ও ভারতীয় ব্যবহারকারী এই দাবি করেন। তবে এসব দৃশ্য সম্পাদিত বা বিকৃত বলে পাকিস্তানভিত্তিক একটি তথ্য যাচাই–বাছাইকারী প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে।

ফ্যাক্টচেকিং প্রতিষ্ঠান আইভেরিফাই পাকিস্তান এই কনটেন্ট বিশ্লেষণ করে এটিকে মিথ্যা বলেছে। এই সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে আইভেরিফাই পাকিস্তান দৃশ্যগুলোর অসামঞ্জস্য খুঁজে বিশ্লেষণ করেছে, বিমানের সিরিয়াল নম্বরের রেকর্ড যাচাই করেছে এবং একাধিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) শনাক্তকরণ টুলের মাধ্যমে কনটেন্টটি পরীক্ষা করেছে।

বৃহস্পতিবার রাতে প্রতিবেশী দেশ আফগানিস্তান খাইবার পাখতুনখোয়ায় সীমান্তজুড়ে একাধিক স্থানে গুলি চালানোর পর পাকিস্তানের সেনাবাহিনী আফগান তালেবানের বিরুদ্ধে ‘গজব লিল-হক’ অভিযানের নামে রাজধানী কাবুলসহ আফগানিস্তানের কয়েকটি শহরে বিমান হামলা শুরু করে।

শুক্রবার আফগানিস্তানপন্থী একটি এক্স অ্যাকাউন্ট থেকে একটি ভিডিও শেয়ার করা হয়, সেখানে দেখা যায় আগুনে ঘেরা একটি পাকিস্তানি এফ-১৬। ভিডিওটির ক্যাপশন ছিল, ‘বড় ব্রেকিং নিউজ। এটি একটি আমেরিকান তৈরি পাকিস্তানি সামরিক এফ-১৬, যা আফগান প্রতিরক্ষা বাহিনী ভূপাতিত করেছে।’

এ পোস্ট ৭ লাখ ৭৩ হাজার ৭০০ বার দেখা হয়েছে। একই ধরনের দাবিসহ ভিডিওটি পরে অন্যান্য ভারত ও আফগানিস্তানপন্থী অ্যাকাউন্ট থেকে শেয়ার করা হয়। একটি পোস্টে যুদ্ধবিমানের ছবিও শেয়ার করা হয়।

আফগানিস্তানপন্থী একটি অ্যাকাউন্ট থেকে ছবিটি শেয়ার করে ক্যাপশনে লেখা হয়, ‘প্রতিরক্ষা সূত্র জানিয়েছে যে আফগান বাহিনী একটি পাকিস্তানি জেট ভূপাতিত করেছে, যা আফগানিস্তানের ভূখণ্ডে প্রবেশ করেছিল। প্রতিক্ষা সূত্রগুলো এই খবর বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছে।’

এই পোস্ট ২ লাখ ৫৭ হাজার ৬০০ বার দেখা হয়েছে।

একই ভূপাতিত এফ-১৬ যুদ্ধবিমানের আরেকটি ভিডিওও এক্সে শেয়ার করা হয়। তার ক্যাপশনে লেখা হয়, ‘এখানে তার সর্বশেষ ভিডিও।’

ওই পোস্টটি ৮০ হাজার ২০০ দেখা হয়।

ভাইরাল ভিডিও এবং দাবির ব্যাপক জনপ্রিয়তা এবং পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে চলমান সংঘাতের বিষয়ে জনসাধারণের আগ্রহের কারণে এই দাবি যাচাই করার জন্য একটি ফ্যাক্ট-চেক শুরু করা হয়।

ভিডিও ও ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করে দাবি করা হয়, পাকিস্তানের জঙ্গি বিমান ভূপাতিত করা হয়েছে
ভিডিও ও ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করে দাবি করা হয়, পাকিস্তানের জঙ্গি বিমান ভূপাতিত করা হয়েছে, ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া

প্রমাণ পাওয়ার জন্য কিওয়ার্ড ধরে অনুসন্ধান করা হয়। কোনো বিশ্বাসযোগ্য আন্তর্জাতিক বা পাকিস্তানের মূলধারার সংবাদমাধ্যম এই ধরনের এফ-১৬ জেট ভূপাতিত হওয়ার খবর প্রকাশ করেছে কি না, সেটি খোঁজা হয়। তবে কোনো ফলাফল পাওয়া যায়নি।

ভাইরাল ভিডিও এবং ছবিগুলোর বিশ্লেষণে বিমানটির চিহ্নে অসামঞ্জস্য দেখা যায়।

ভাইরাল ভিডিওতে বিমানের লেজে সিরিয়াল নম্বর ‘৮৫৫১০’ দেখা যায়। একই সিরিয়াল নম্বর ভিডিওতে বিমানের গায়েও দেখা যায়, যেখানে আসল পাকিস্তান বিমানবাহিনীর এফ-১৬ বিমানের গায়ে কোনো সিরিয়াল নম্বর থাকে না।

ভিডিও ও ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করে দাবি করা হয়, পাকিস্তানের জঙ্গি বিমান ভূপাতিত করা হয়েছে
ভিডিও ও ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করে দাবি করা হয়, পাকিস্তানের জঙ্গি বিমান ভূপাতিত করা হয়েছে ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া

তা ছাড়া বিমানের আকারেও সত্যিকারের এফ-১৬ বিমানের ছবির সঙ্গে তুলনা করলে অসামঞ্জস্য দেখা যায়।

ভিডিওটি একাধিক এআই-ডিটেকশন টুলের মাধ্যমে পরীক্ষা করার পর দেখা গেছে, এটি এআই দিয়ে তৈরি।

আইভেরিফাই পাকিস্তান যখন পাকিস্তান বিমানবাহিনীর একজন কর্মকর্তার সঙ্গে মন্তব্যের জন্য যোগাযোগ করে, তিনি ভাইরাল এফ-১৬ ভিডিওতে মূল অসামঞ্জস্যগুলো শনাক্ত করেন।

ডন

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ দেশটির সেনা সদর পরিদর্শন করেছেন। সেখানে সামরিক নেতৃত্বের কাছ থেকে আফগানিস্তান অভিযান পরিস্থিতি সম্পর্কে জেনে নেন তিনি। 

আফগানিস্তানকে হুঁশিয়ার করে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ বলেছেন, আফগানিস্তানের তালেবান সরকারের যে কোনো অপতৎপরতায় ইসলামাবাদের নীতি ‘জিরো টলারেন্স’ (শূন্য সহনশীলতা)। তিনি বলেন, ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের নেতৃত্বে পাকিস্তানি সশস্ত্র বাহিনী সবসময় দেশ রক্ষা করার জন্য প্রস্তুত। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, পাকিস্তান জানে কিভাবে যে কোনো আগ্রাসনের বিরুদ্ধে নিজেকে রক্ষা করতে হয়।

সূত্র: আল জাজিরা

ইরানের উপর হামলার হুমকির মধ্যে মার্কিন নাগরিকদের অবিলম্বে ইসরায়েল ত্যাগের আহ্বান জানিয়েছে ইরানে হামলার আশঙ্কার মধ্যে নিজ নাগরিকদের দ্রুত ইসরায়েল ছাড়তে বলেছে যুক্তরাষ্ট্র।

শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ সংক্রান্ত নির্দেশনা দিয়েছে। এছাড়া আপাতত ইসরায়েলে ভ্রমণ না করতেও বলা হয়েছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নাগরিকদের বলেছে, যতক্ষণ বাণিজ্যিক বিমান চালু আছে, সেই সময়ের মধ্যে ইসরায়েল ছাড়ার পরিকল্পনা করুন।

[caption id="attachment_268380" align="alignnone" width="933"] ইসরায়েলে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবি, ফাইল ছবি: রয়টার্স[/caption]

বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আলোচনা হয়। কিন্তু সেখানে স্পষ্ট কোনো সমাধানে পৌঁছাতে পারেনি দুই পক্ষ। তবে আগামী সপ্তাহে আবারও আলোচনায় বসতে পারে ওয়াশিংটন ও তেহরান।যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মধ্যপ্রাচ্যে দুটি রণতরীসহ এক ডজন যুদ্ধজাহাজ, এরসঙ্গে কয়েক ডজন যুদ্ধবিমান জড়ো করেছেন। আশঙ্কা করা হচ্ছে, ইরানের সঙ্গে আলোচনা ব্যর্থ হলে ট্রাম্প হামলার নির্দেশ দেবেন।

এরআগে, ইসরায়েলে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক হুকাবি দূতাবাসের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের অবহিত করেন যারা ইসরায়েল ছাড়তে চান তারা যেন আজই চলে যান।

দূতাবাসের স্টাফদের কাছে পাঠানো ইমেইলে হুকাবি বলেছেন, যে দেশেরই বিমানের টিকিটের পাবেন সেখানকার টিকিট কাটুন। এরপর সেখান থেকে যুক্তরাষ্ট্রে চলে যাবেন। কিন্তু আগে ইসরায়েল থেকে বের হওয়ার ব্যবস্থা করুন।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে শর্ত দিচ্ছে তাদের পারমাণবিক কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ করে দিতে হবে। এমনকি দেশটির প্রধান তিনটি পারমাণবিক কেন্দ্র ভেঙে ফেলতেও বলেছে তারা। যুক্তরাষ্ট্র বলছে, ইরানের সঙ্গে যদি এখন কোনো চুক্তি হয় তাহলে এটির মেয়াদ অনির্দিষ্টকাল হবে। তবে ইরান একটি নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য পারমাণবিক কার্যক্রম বন্ধ রাখার ওপর জোর দিচ্ছে।

 

জেনেভা

সিউল

ইরানে হামলা চালানো হবে কি না, তা নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে গিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্রমেই বিরক্ত হয়ে পড়ছেন বলে জানা গেছে। প্রেসিডেন্টকে জানানো হয়েছে, সেখানে যেকোনো হামলা ‘এক দফা বা চূড়ান্ত কোনো আঘাত’ হবে না। বরং এমন পদক্ষেপে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের এক দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, ইরানে বিমান হামলার নির্দেশ দেওয়ার বিষয়টি অনেকাংশে ট্রাম্পের দুই বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনারের মতামতের ওপর নির্ভর করছে। তেহরান তাদের পরমাণু অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা ত্যাগের বিষয়ে কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিলম্ব করছে কি না, তা খতিয়ে দেখবেন এ দুই প্রতিনিধি।

সিবিএস নিউজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সামরিক প্রভাব খাটানোর সীমাবদ্ধতা নিয়ে ট্রাম্পের মধ্যে বিরক্তি বাড়ছে বলে তাঁর সহকারীরা জানিয়েছেন।

ইরানে বেশ বড় ধরনের আঘাত হানা হবে—ট্রাম্প তাঁর উপদেষ্টাদের কাছে এমন পরিকল্পনা চেয়েছেন, যাতে দুর্বল হয়ে ইরানি নেতারা আলোচনায় বসতে বাধ্য হবেন। তবে সামরিক পরিকল্পনাকারীরা সতর্ক করে জানিয়েছেন, এ ধরনের হামলার মাধ্যমে এ লক্ষ্য অর্জনের কোনো নিশ্চয়তা নেই।

হামলার বিষয়ে প্রেসিডেন্ট এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেননি। আগামী বৃহস্পতিবার জেনেভায় দুই পক্ষের মধ্যে চূড়ান্ত পর্যায়ের আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। এর আগে চলতি সপ্তাহেই ইরান তাদের সর্বশেষ প্রস্তাব পাঠাবে। এ বিষয়ে প্রস্তুতি নিচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন। কর্মকর্তাদের মতে, জেনেভার এই আলোচনা সংকটের অবসানে ‘শেষ চেষ্টা’ হতে যাচ্ছে।

ইরানের ইসফাহান প্রদেশের দোরচেহ শহরে একটি ফলের বাজারে সেনাবাহিনীর হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে দুই সামরিক পাইলট ও দুই দোকানি নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার সকালে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

সরকারি সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, শহরটিতে সেনাবাহিনীর একটি বড় বিমানঘাঁটি রয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, যান্ত্রিক ত্রুটির কারণেই হেলিকপ্টারটি বিধ্বস্ত হয়েছে।

আর্মি এভিয়েশন ট্রেনিং সেন্টার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, নিহত দুই সেনাসদস্য হলেন পাইলট কর্নেল হামিদ সারভাজাদ আর কো-পাইলট মেজর মোজতবা কিয়ানি।

হেলিকপ্টারটি বিধ্বস্ত হওয়ার পরপরই তাতে আগুন ধরে যায়। এতে বাজারের দোকানে কাজ করা দুজন ব্যক্তি ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান।

আর্মি এভিয়েশন ট্রেনিং সেন্টার জানিয়েছে, দুর্ঘটনার সঠিক কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত চলছে। স্থানীয় বিচার বিভাগীয় প্রধান আসাদুল্লাহ জাফারি জানান, তিনি এ ঘটনায় একটি মামলা করেছেন এবং তদন্ত কর্মকর্তাদের ঘটনাস্থলে পাঠিয়েছেন।

এর আগে এক সপ্তাহের কম সময় আগে ইরানের পশ্চিমাঞ্চলীয় হামাদান প্রদেশে একটি প্রশিক্ষণ মিশনের সময় বিমানবাহিনীর একটি যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়। যুদ্ধবিমানটি যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি পুরোনো এফ-৪ মডেলের ছিল বলে জানা গেছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের কয়েক দশকের নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরান তাদের পুরোনো সামরিক ও বেসামরিক উড়োজাহাজগুলো আধুনিকায়ন করতে পারছে না। এ কারণে দেশটিতে প্রায়ই এ ধরনের দুর্ঘটনা ঘটছে।

উত্তর কোরিয়ার শাসক দল একটি গুরুত্বপূর্ণ সভায় আগামী বছরের নীতি নির্ধারণ করছে। এর মধ্যেই খবর এল, নেতা কিম জং–উনের বোন কিম ইয়ো জং পদোন্নতি পেয়েছেন। এটাকে কিম পরিবারের ক্ষমতা আরও পাকাপোক্ত করার উদ্যোগ হিসেবে বলা হচ্ছে।

আজ মঙ্গলবার উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা কেসিএনএ জানিয়েছে, কিম ইয়ো জং আগে শাসক দল ওয়ার্কার্স পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির একটি বিভাগের উপপরিচালক ছিলেন। এখন তাঁকে ‘পরিচালক’ করা হয়েছে। তবে কিম ইয়ো ঠিক কোন বিভাগের দায়িত্ব পেয়েছেন, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

পিয়ংইয়ংয়ে পাঁচ বছর পরপর হওয়া বিশেষ দলীয় কংগ্রেস চলছে। পাঁচ হাজার প্রতিনিধির এ সভায় কিম জং–উন আবার দলের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন।

দক্ষিণ কোরিয়ার গোয়েন্দা সংস্থার মতে, কিম জং–উনের কিশোরী কন্যা কিম জু আয়েকেও উত্তরসূরি হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে। ১৯৪০ সাল থেকেই এই কিম পরিবার উত্তর কোরিয়া শাসন করছে।

কিম ইয়ো জংয়ের ভূমিকা

কিম ইয়ো জং দীর্ঘ সময় ধরে উত্তর কোরিয়া সরকারের প্রধান কণ্ঠস্বর হিসেবে কাজ করছেন। বিশেষ করে দক্ষিণ কোরিয়ার বিরুদ্ধে কঠোর হুমকি বা উসকানিমূলক বিবৃতির জন্য তিনি পরিচিত। তবে সম্প্রতি সীমান্ত নিয়ে দক্ষিণ কোরিয়ার দুঃখ প্রকাশকে তিনি ইতিবাচকভাবে মূল্যায়ন করেছেন, যা ছিল বেশ ব্যতিক্রম।

উত্তর কোরিয়ায় নেতার ভাইবোনদের অবস্থান সাধারণত খুব একটা নিরাপদ থাকে না। কিন্তু কিম ইয়ো জং এখনো বেশ দাপটের সঙ্গে টিকে আছেন। ২০১৭ সালে সৎ বড় ভাইকে হত্যার অভিযোগ উঠেছিল কিম জং–উনের বিরুদ্ধে।

সাবেক নেতা কিম জং ইলের ভাই শৈশবে মারা যান। আরেক সৎ ভাইকে বছরের পর বছর নির্বাসনে থাকতে হয়েছে।

পারমাণবিক অস্ত্র বা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে কিম জং–উন এখনো বিস্তারিত কিছু জানাননি। তবে উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা বলছে, সম্মেলনে দেশের দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য নিয়ে আলোচনা চলছে। কিম জং–উন আগেই জানিয়েছিলেন, এ সভায় তিনি দেশের পারমাণবিক শক্তি আরও বৃদ্ধির পরিকল্পনা স্পষ্ট করবেন।

ভারতের ঝাড়খণ্ডের চাতরা জেলায় সাতজন আরোহী নিয়ে একটি এয়ার অ্যাম্বুলেন্স বিধ্বস্ত হয়েছে। বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রক সংস্থা ডিরেক্টরেট জেনারেল অব সিভিল এভিয়েশন (ডিজিসিএ) সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানায়।

ডিজিসিএর বরাতে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, রেডবার্ড এয়ারওয়েজ প্রাইভেট লিমিটেড পরিচালিত একটি বিচক্রাফ্ট সি৯০ বিমানটি সন্ধ্যা ৭টা ১১ মিনিটে ঝাড়খণ্ডের রাজধানী রাঁচি থেকে দিল্লির উদ্দেশ্যে উড্ডয়ন করে। উড্ডয়নের প্রায় ২৩ মিনিট পর বিমানটির সঙ্গে রাডার ও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

বিবৃতিতে বলা হয়, কলকাতার এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের সঙ্গে যোগাযোগের পর ভারতীয় সময় সন্ধ্যা ৭টা ৩৪ মিনিটে বারাণসীর প্রায় ১০০ নটিক্যাল মাইল দক্ষিণ-পূর্বে বিমানটি রাডার ও যোগাযোগের বাইরে চলে যায়।

প্যাক্স ম্যানিফেস্ট অনুযায়ী, বিমানে দুইজন পাইলট, একজন রোগী, দুইজন পরিচর্যাকারী, একজন চিকিৎসক এবং একজন প্যারামেডিকসহ মোট সাতজন আরোহী ছিলেন। দুর্ঘটনাগ্রস্ত বিমানটির টেল নম্বর ছিল ভিটি-এজেভি।

ডিজিসিএ আরও জানায়, জেলা প্রশাসনের অনুসন্ধান ও উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে। দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে এয়ারক্রাফট এক্সিডেন্ট ইনভেস্টিগেশন ব্যুরো (এএআইবি) এর একটি দল পাঠানো হচ্ছে। তদন্ত শেষ হলে বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে।

জানা গেছে, ৪১ বছর বয়সী এক ব্যক্তি গুরুতর দুর্ঘটনায় ৬৩ শতাংশ দগ্ধ হন এবং তাকে আইসিইউতে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছিল। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে দিল্লিতে স্থানান্তর করতেই এই এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে নেওয়া হয়েছিল।