জনগণ নির্বাচনে দুর্নীতিবাজ, চাঁদাবাজ, মামলাবাজ ও দখলদারদের প্রত্যাখ্যান করবে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান।

বিএনপি নেতা-কর্মীদের প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, ‘আমরা বিনয়ের সঙ্গে অনুরোধ করেছি—আপনারা মজলুম ছিলেন, জালিম হবেন না। মজলুমের কষ্ট তো বোঝার কথা। কিন্তু দেখা গেল, বেপরোয়া গতিতে চাঁদাবাজি, দখলবাজি ও মামলাবাজি শুরু হয়ে গেছে।’

আজ রোববার রাজধানী ঢাকার মেরুল বাড্ডায় ডিআইটি প্রজেক্ট খেলার মাঠে ঢাকা-১১ আসনে ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য সমর্থিত প্রার্থী নাহিদ ইসলামের নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে জামায়াতে ইসলামীর আমির এসব কথা বলেন। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

জনসভায় সভাপতিত্ব করেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক।

বাংলাদেশের ভবিষ্যতের দায়িত্ব যুবকদের হাতে তুলে দিতে চান জানিয়ে শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা যুবকদের হাতে বাংলাদেশের দায়িত্ব দিতে চাই। আমরা বেকার ভাতা দিতে চাই না। জুলাইয়ের আন্দোলনে অংশ নেওয়া তরুণেরা কখনো বেকার ভাতা চায়নি। তাদের দাবি ছিল, অধিকার ও ন্যায্য কাজের সুযোগ। তরুণেরা সেদিন রাস্তায় নেমে বলেছিল—আমাদের অধিকার দাও, আমাদের হাতে আমাদের ন্যায্য কাজ তুলে দাও।’

জামায়াত আমির আরও বলেন, এবারের নির্বাচনে জনগণ দুর্নীতিকে লাল কার্ড দেখাবে। চাঁদাবাজদের লাল কার্ড দেখাবে। মামলাবাজদের লাল কার্ড দেখাবে। দখলদারদের লাল কার্ড দেখাবে।

জনগণ আধিপত্যবাদের দাসত্বকেও প্রত্যাখ্যান করবে—বলেন জামায়াত আমির। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ দীর্ঘদিন ধরে যে অপকর্মের মাধ্যমে জনগণকে কষ্ট দিয়েছে, একই ধরনের কর্মকাণ্ড ৬ আগস্টের পর থেকে নতুন করে শুরু হয়েছে।

জনসভায় বক্তব্য দিচ্ছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। রাজধানীর মেরুল বাড্ডায় ডিআইটি প্রজেক্ট খেলার মাঠে, ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
জনসভায় বক্তব্য দিচ্ছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। রাজধানীর মেরুল বাড্ডায় ডিআইটি প্রজেক্ট খেলার মাঠে, ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
 

বড় বড় ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দিয়ে কোটি কোটি টাকা দাবি করা হচ্ছে উল্লেখ করে শফিকুর রহমান বলেন, যারা গত দেড় দশক দেশের মাটিতে ছিলেন না, পালিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ে ছিলেন, ফিরে এসে তারাই এখন মামলা বাণিজ্য করছেন। ৬ আগস্ট থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত এসব অপকর্ম বন্ধ হয়নি। সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে ব্যবসায়ী, এমনকি ফুটপাতে ভিক্ষা করা মানুষও চাঁদাবাজির শিকার হচ্ছেন বলে তিনি অভিযোগ করেন।

শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা কি সন্তানদের বুকে নিয়ে জুলাই মাসে এ জন্য লড়াই করেছিলাম? পুরোনো চাঁদাবাজের বদলে নতুন চাঁদাবাজ তৈরি হবে—এ জন্য তো আন্দোলন হয়নি।” আন্দোলনের মূল দাবি ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’ উল্লেখ করে শফিকুর রহমান বলেন, সমাজের সর্বত্র ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠাই ছিল তরুণদের আকাঙ্ক্ষা।

‘ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠাই লক্ষ্য’ উল্লেখ করে জনসভায় জামায়াতের আমির আরও বলেন, নতুন বাংলাদেশে বিচার একেক জনের জন্য একেক রকম হবে না। সাধারণ মানুষ অপরাধ করলে যেমন বিচার হবে, দেশের প্রধানমন্ত্রী একই অপরাধ করলে, তাঁকেও ছাড় দেওয়া হবে না।

ঋণখেলাপিদের মনোনয়ন দেওয়া নিয়েও প্রশ্ন তোলেন জামায়াতের আমির। তিনি বলেন, ‘৫৯ জন ভয়াবহ ঋণখেলাপি ও ব্যাংক ডাকাতকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে কেন? এদের এমপি বানিয়ে দুর্নীতি দমন হবে—এটা শুনলে হাসি পায়।’ তিনি বলেন, তারা ক্ষমতায় গেলে দুর্নীতির টুঁটি চেপে ধরবে। সেই টুঁটি চেপে ধরা নিজেদের ঘর থেকে শুরু করা প্রয়োজন।

ক্ষমতায় গেলে বিদেশে পাচার হওয়া জনগণের অর্থ ফেরত আনার জন্য সর্বাত্মক লড়াই চালানো হবে বলেও জনসভায় প্রতিশ্রুতি দেন শফিকুর রহমান।

ঢাকা

ফরিদপুর সদর উপজেলায় একটি পুকুরে তল্লাশি চালিয়ে লুকিয়ে রাখা চারটি বিদেশি পিস্তলসহ বিপুল অস্ত্র, গুলি উদ্ধার করা হয়েছে।

শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত সদরের কানাইপুর ইউনিয়নের ঢাকা-খুলনা মহাসড়ক-সংলগ্ন কানাইপুর আখ সেন্টারের পুকুরে তল্লাশি চালিয়ে এসব অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।

সেনাবাহিনী, পুলিশ, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা যৌথ অভিযানের মাধ্যমে এই বিপুল অস্ত্র উদ্ধার করে। তবে এ ঘটনায় কাউকে আটক করা যায়নি।

উদ্ধারকৃত অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি চারটি অত্যাধুনিক পিস্তল, দুটি ওয়ান সিঙ্গেল গান, ১৬টি গুলি, শতাধিক রামদা, বল্লম, সরকি ও চাকু। সেনাবাহিনীর ধারণা, আসন্ন নির্বাচনে নাশকতা করার লক্ষ্যে দুর্বৃত্তরা অস্ত্রগুলো মজুত করে রেখেছিল।

ফরিদপুর সেনাক্যাম্প সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বিভিন্ন থানা থেকে লুট হওয়া অস্ত্র মজুত করে রাখার গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সকাল ৯টা থেকে পুকুরটি ঘিরে ফেলে সেনাবাহিনী, বিজিবি ও থানা-পুলিশ। পরে শ্যালো মেশিন দিয়ে পানি সেচ শুরু করা হয়। পানি কমে এলে বেলা সাড়ে ৩টার দিকে ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় জেলেদের সহায়তায় পুকুরে জাল ফেলে অভিযান চালানো হয়। এ সময় একে একে চারটি প্যাকেটে মোড়ানো অবস্থায় অস্ত্রগুলো উদ্ধার হয়।

উদ্ধার অভিযান শেষে ফরিদপুর সদর সেনা ক্যাম্পের কমান্ডার মেজর সোহেল আহমেদ বলেন, আসন্ন নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্য এবং আমাদের সততা ও নিরপেক্ষতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্য কিছু দুষ্কৃতকারী চক্র নির্বাচনের দিন এটা ব্যবহার করা হতে পারে বলে জানতে পারি। যার ধারাবাহিকতায় অস্ত্রগুলো এখানে মজুত করে রাখা হয়। আমরা প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছি, অস্ত্রগুলো থানায় জব্দ করা এবং ৫ আগস্টের পরে লুট হয়ে যায়। এগুলো থানায় হস্তান্তর করা হবে এবং পুলিশ তদন্ত করে জানাতে পারবে তাদের জব্দকৃত অস্ত্র কি না। এ ঘটনায় এখনো জড়িত কাউকে শনাক্ত করা যায়নি।

 

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে ‘নামসর্বস্ব’ বেসরকারি সংস্থা পিপলস অ্যাসোসিয়েশন ফর সোশ্যাল অ্যাডভান্সমেন্টকে (পাশা) ১০ হাজারের বেশি পর্যবেক্ষক কার্ড দেওয়ার সিদ্ধান্ত স্থগিত করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

আজ শনিবার রাতে রাজধানীতে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনার সামনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ইসি সচিব আখতার আহমেদর বরাত দিয়ে এ কথা জানান প্রধান উপদেষ্টার উপ–প্রেস সচিব মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ মজুমদার। এর আগে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়ে এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেই সভায় ইসি সচিবও উপস্থিত ছিলেন।

আবুল কালাম আজাদ মজুমদার বলেন, ‘পাশা’ নামে একটি এনজিও ১০ হাজার নির্বাচন পর্যবেক্ষক নিয়োগ করবে বলে বলেছিল। নির্বাচন কমিশন থেকে তাদের বিষয়ে খোঁজখবর নিয়েছে। খোঁজখবর নিয়ে তাদের সক্ষমতা সম্পর্কে ইসি নিশ্চিত হতে পারেনি। এ জন্য তাদের নির্বাচন পর্যবেক্ষণ কার্ড বিতরণ স্থগিত করা হয়েছে।

আজাদ মজুমদার আরও জানান, এখন পর্যন্ত তাদের ব্যাপারে কোনো রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়নি। তাদের ব্যাপারে অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে।

গতকাল শুক্রবার ‘এক ব্যক্তিনির্ভর “পাশা” দিচ্ছে ১০ হাজার নির্বাচন পর্যবেক্ষক’ শিরোনামে একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। অনুসন্ধানে দেখা যায়, নিজের বাসার একটি কক্ষকে সংস্থার কার্যালয় বানিয়েছে এক ব্যক্তিনির্ভর ওই সংস্থাটি। এটি সে অর্থে কার্যালয় নয়, মূলত সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক সৈয়দ হুমায়ুন কবীরের বাসা। লোকবল বলতে তিনি একজনই। অথচ এই সংস্থা এবারের সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে ১০ হাজারের বেশি পর্যবেক্ষক দিচ্ছে। এই প্রতিবেদন প্রকাশের পর ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়।

এ বিষয়ে ইসি সূত্র জানায়, প্রতিবেদন প্রকাশের পর তারা ওই সংস্থাটিকে কীভাবে নিবন্ধন দেওয়া হয়েছিল তা খতিয়ে দেখে। তা ছাড়া এই প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা আছে কি না, তা মাঠপর্যায়েও খোঁজ নেয়। সেখান থেকে নেতিবাচক প্রতিবেদন আসে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কোন দল জয়লাভ করবে, কে-ই বা হবেন প্রধানমন্ত্রী; এখন দেশজুড়ে সেই আলোচনা। কারণ ভোটের বাকি আর মাত্র ক'দিন। তেমনই সময়ে সামনে এলো গবেষণাধর্মী প্রতিষ্ঠান সোচ্চার'র একটি জরিপ। সেখানকার তথ্য বলছে, আগামীর বাংলাদেশের সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।   

প্রতিষ্ঠানটি মূলত রাজধানীর চারটি আসন নিয়ে জরিপ করেছে। এরমধ্যে রয়েছে ঢাকা-১১, ১৩, ১৫ এবং ১৭ আসন। উত্তরদাতার তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে মোট ২২৪১ জনের। উচ্চপদস্থ রাজনৈতিক নেতৃত্বের উপস্থিতির কারণে এই এলাকাগুলোকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে বাছাই করা হয়েছে। এতে অংশগ্রহণকারীদের বয়স, লিঙ্গ, শিক্ষা, মাসিক আয় এবং ধর্মীয় পরিচয়ের মতো জনতাত্ত্বিক তথ্যের পাশাপাশি বিশ্লেষণ করা হয়েছে তাদের ভোটদানের ইচ্ছাও।

ঢাকা-১৭ আসন: 

রাজধানীর মধ্যে এই আসনটি সবথেকে হেভিওয়েট। কারণ এই আসন থেকেই নির্বাচন করছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তার প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের ডা. এস এম খালিদুজ্জামান।

এই আসনে সর্বোচ্চ ৩৫% ভোটার বিএনপি জোটকে এবং ৩২% ভোটার জামায়াত জোটকে ভোট দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। জরিপে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ৪৬.৪% মনে করেন বিএনপি জোট জিতবে এবং ২৭.৪% মনে করেন জামায়াত জোট জয়ী হবে।

ঢাকা-১৫ আসন:

এটি রাজধানীর আরেকটি হেভিওয়েট আসন। কারণ এখান থেকেই জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান নির্বাচন করছেন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী ধানের শীষের শফিকুল ইসলাম মিল্টন। এই আসনে জামায়াত জোটের জনপ্রিয়তা সবচেয়ে বেশি, যা ৩৯.৫%। বিএনপি জোটের পক্ষে মত দিয়েছেন ৩০% ভোটার।

এই আসনের ৪৯.২% ভোটার মনে করেন জামায়াত জোট বিজয়ী হবে। যেখানে বিএনপি জোটের জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী ৩২.৫% ভোটার।

ঢাকা-১৩ আসন:

এই আসনটিও হেভিওয়েট প্রার্থী থাকার কারণে আলোচনায়। এখান থেকে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে ভোট করছেন ববি হাজ্জাজ। তার প্রতিপক্ষ ১১দলীয় জোটের প্রার্থী বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মামুনুল হক। 

এই আসনে বিএনপি এবং জামায়াত জোটের মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা দেখা গেছে। এখানে ৩৬.৮% ভোটার বিএনপিকে এবং ৩৪.০% ভোটার জামায়াত জোটকে পছন্দ করেছেন।

ভোটারদের মধ্যে ৪২.৬% মনে করেন বিএনপি জোট জিতবে এবং ৩৯.৬% মনে করেন জামায়াত জোট বিজয়ী হবে।

ঢাকা-১১ আসন:

জরিপের জন্য এই আসন বেছে নেওয়ার কারণ রয়েছে। এই আসন থেকেই নির্বাচন করছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)'র আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তিনি আসনটিতে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী। বিপরীতে ধানের শীষ মার্কায় লড়ছেন এম এ কাইয়ুম। 

জরিপে এই আসনে জামায়াত জোট ৪১.৪% সমর্থন নিয়ে এগিয়ে রয়েছে। আর বিএনপি জোটের সমর্থন রয়েছে ৩৭%।

ঢাকা-১১ আসনের ৪৫.৭% ভোটার মনে করেন জামায়াত জোট জয়লাভ করবে। বিপরীতে ৪০.৬% ভোটারের মতে বিএনপি জোটের জয়ের সম্ভাবনা রয়েছে।

জরিপ অনুযায়ী, ঢাকা-১৭ এবং ঢাকা-১৩ আসনে বিএনপি জোট ভোটারদের পছন্দ ও জয়ের সম্ভাবনায় এগিয়ে আছে। অন্যদিকে, ঢাকা-১৫ এবং ঢাকা-১১ আসনে জামায়াত জোট ভোটারদের পছন্দ ও জয়ের সম্ভাবনায় শীর্ষস্থানে রয়েছে।

জরিপে প্রধানমন্ত্রী:

প্রাক-নির্বাচনী জরিপে অংশগ্রহণকারী ভোটারদের মতে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌঁড়ে বিএনপির তারেক রহমান সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছেন। জরিপে 'এই বছর কে প্রধানমন্ত্রী হবেন বলে আপনি মনে করেন?' এই প্রশ্নের উত্তর দেন ভোটাররা। তাদের মধ্যে সর্বোচ্চ ৪২.১% মনে করেন তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হবেন। আর জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমানের পক্ষে মত দিয়েছেন ৩৪.৯% ভোটার।

জরিপে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ১৬.২% ভোটার জানিয়েছেন, তারা এ বিষয়ে নিশ্চিত নন। অংশগ্রহণকারী ৪.১% মন্তব্য করতে রাজি হননি। আর ১.৮% ভোটার নাহিদ ইসলামকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখার সম্ভাবনা প্রকাশ করেছেন।

লিঙ্গভিত্তিক পার্থক্যের চিত্র:

জরিপে অংশ নেওয়া ৪২.৪% পুরুষ ভোটার তারেক রহমানকে এবং ৩৪.৩% ডা. শফিকুর রহমানকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বেছে নিয়েছেন। আর ৪১.৭% নারী ভোটার বিএনপি চেয়ারম্যান এবং ৩৫.৫% জামায়াত আমিরের পক্ষে মতামত দিয়েছেন।

সামগ্রিকভাবে, ঢাকা-১১, ১৩, ১৫ এবং ১৭ আসনের ভোটারদের মধ্যে তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সবচেয়ে শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে উঠে এসেছে জরিপে।

মুন্সিগঞ্জ-৩ (সদর ও গজারিয়া) আসনের সদর উপজেলার মোল্লাকান্দি ইউনিয়নে বিএনপির ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থীর নির্বাচনী প্রচারণায় হামলায় চারজন আহত হয়েছেন। আজ শনিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ইউনিয়নের মুন্সিকান্দি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ধানের শীষ প্রতীকের সমর্থক উজির আলী ও আওলাদ মোল্লার লোকজন এই হামলা চালিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

আহত ব্যক্তিরা হলেন মো. লিজন, নুরুদ্দিন, ফয়সাল হোসেন ও মো. নিরব। তাঁদের মধ্যে লিজন ও নুরুদ্দিনকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

আসনটিতে ধানের শীষের প্রার্থী বিএনপির কেন্দ্রীয় সমাজকল্যাণ–বিষয়ক সম্পাদক মো. কামরুজ্জামান। আর ফুটবল প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছেন সদ্য বহিষ্কৃত জেলা বিএনপির সদস্যসচিব মো. মহিউদ্দিন। মোল্লাকান্দি ইউনিয়নে ফুটবল প্রতীকের পক্ষে কাজ করছেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আতাউর রহমান (মল্লিক) ও ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ওয়াহিদ রায়হান। ধানের শীষ প্রতীকের পক্ষে কাজ করছেন সদর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক উজির আহমেদ ও ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সহসভাপতি আওলাদ হোসেন মোল্লা।

স্থানীয় সূত্র জানায়, শনিবার সকালে ফুটবল প্রতীকের সমর্থকেরা মোল্লাকান্দি ইউনিয়নে বিভিন্ন এলাকায় ভোটের প্রচার শুরু করেন। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তাঁরা মুন্সিকান্দি গ্রামে যান। সে সময় উজির আলী ও আওলাদ মোল্লার লোকজনের সঙ্গে ফুটবল সমর্থকদের কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে উজির আহমেদের লোকজনেরা ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে রামদা, বন্দুক নিয়ে ধাওয়া দেন। এতে দুপক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া হয়। এ সময় ককটেল ও ছররা গুলির আঘাতে অন্তত চারজন আহত হন।

মুন্সিগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক মোহাম্মদ আতাউল করিম প্রথম আলোকে জানান, বেলা পৌনে তিনটার দিকে আহত অবস্থায় দুজনকে হাসপাতালে আনা হয়। তাঁদের শরীরে, পায়ে, চোখে ছররা গুলি অথবা ককটেলের স্প্লিন্টার–জাতীয় কিছুর আঘাতের চিহ্ন ছিল। তাঁদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

ফুটবল প্রতীকের সমর্থক রিয়াদ মল্লিক প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা ফুটবল প্রতীকে প্রচারণা শুরু করেছিলাম। বিনা উসকানিতে উজিরের বাড়িতে ধানের শীষের নির্বাচনী ক্যাম্প থেকে দেশি-বিদেশি অস্ত্র নিয়ে আমাদের ওপর হামলা চালানো হয়। এতে আমাদের চারজন আহত হয়েছেন।’

অভিযোগের বিষয়ে জানতে উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক উজির আহমেদকে মুঠোফোনে কল করা হলে তিনি ধরেননি।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, এলাকার আধিপত্য নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ওয়াহিদ-আতিক মল্লিকদের সঙ্গে উজির-আওলাদদের বিরোধ চলছে। তাঁদের বিরোধে গত বছর নভেম্বরের দিকে তিনজন গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান। সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এ দুটি পক্ষ ধানের শীষ ও ফুটবল প্রতীকে ভাগ হয়েছে। নির্বাচনকে কাজে লাগিয়ে তারা তাদের পূর্ববিরোধের জেরে সংঘর্ষ শুরু করতে চাইছে। এতে করে আবারও এলাকায় আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে।

মুন্সিগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মমিনুল ইসলাম বলেন, ‘খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে এসেছি। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। ঘটনায় সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের গ্রেপ্তার করতে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে। এ ঘটনায় উভয় পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হয়েছে শুনেছি। ঘটনাস্থল থেকে বেশ কয়েকটি গুলির খোসা উদ্ধার করা হয়েছে।’

পুলিশি হামলা ও ভারতীয় ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে রাজধানীর শাহবাগ মোড় অবরোধ করেছেন জুলাই ঐক্যের নেতা-কর্মীরা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে প্রায় অর্ধশত নেতা-কর্মী জাতীয় পতাকা ও বিভিন্ন দাবিসংবলিত প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে শাহবাগ মোড়ে জড়ো হন। এতে রাজধানীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই মোড়ে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়।

এর আগে শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের বিচারের দাবিতে বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেলের পর থেকে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনার সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন ইনকিলাব মঞ্চের নেতা-কর্মী ও নিহতের পরিবারের সদস্যরা। পুলিশের ব্যারিকেডের মুখে তারা রাতভর সেখানে অবস্থান করেন।

পরদিন শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরের পর একই দাবিতে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনার অভিমুখে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করলে আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ জলকামান ও টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করে। এ ঘটনায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) নেত্রী ফাতেম তাসনিম জুমা, ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) সাধারণ সম্পাদক সালাহউদ্দিন আম্মারসহ অন্তত অর্ধশতাধিক নেতা-কর্মী আহত হন।

এদিকে শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে শাহবাগ থেকে আন্দোলনকারীদের একটি অংশ হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের দিকে অগ্রসর হলে পুলিশ তাদের বাধা দেয়। একপর্যায়ে পুলিশ লাঠিচার্জ ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এতে ঢাকা-৮ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী মহিউদ্দিন রনিসহ অন্তত ২০ জন আহত হন। আহতদের চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়।

অন্যদিকে কয়েক ঘণ্টা আন্দোলনের পর শুক্রবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে শাহবাগে ইনকিলাব মঞ্চের অবস্থান কর্মসূচি স্থগিতের ঘোষণা দেওয়া হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নেতাদের আহ্বান এবং সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের কথা বিবেচনা করে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কর্মসূচি স্থগিতের পর আন্দোলনকারীরা শাহবাগ মোড় ছেড়ে দিলে ধীরে ধীরে যান চলাচল স্বাভাবিক হতে শুরু করে।

দেশের প্রায় চার ভাগের তিন ভাগ বা ৭৭ শতাংশ ভোটার মনে করেন, রাস্তা, কালভার্ট নির্মাণ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি হলেই উন্নয়ন নিশ্চিত হয়। অর্থাৎ উন্নয়ন সম্পর্কে ভোটারদের ধারণা এখনো অবকাঠামো নির্মাণকেন্দ্রিক। জাতীয় নির্বাচনে ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রেও বিষয়টি তাঁদের প্রভাবিত করছে।

বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সাম্প্রতিক এক জরিপে এ তথ্য উঠে এসেছে। আজ শনিবার রাজধানীর মহাখালীতে ব্র্যাক সেন্টার ইনে আয়োজিত মিডিয়া ব্রিফিংয়ে ‘নির্বাচনী এলাকায় সবুজ টেকসই অর্থনীতির চালচিত্র ও প্রত্যাশা: প্রার্থী ও ভোটার জরিপের ফলাফল’ শীর্ষক এ জরিপের ফলাফল উপস্থাপন করা হয়।

মিডিয়া ব্রিফিংয়ে জরিপের তথ্য উপস্থাপন করেন সিপিডির গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম। উপস্থিত ছিলেন সিপিডির জ্যেষ্ঠ গবেষণা সহযোগী হেলেন মাশিয়াত, অনুষ্ঠান সহযোগী সামি মোহাম্মদ, মালিহা সাবাহ ও নূর ইয়ানা জান্নাত।

সিপিডির জরিপে দেখা গেছে, উন্নয়ন বলতে অধিকাংশ ভোটার এখনো সড়ক, ব্রিজ, কালভার্ট ও অন্যান্য দৃশ্যমান অবকাঠামো প্রকল্পকেই প্রধান সূচক হিসেবে দেখছেন। পাশাপাশি এসব প্রকল্পের সঙ্গে সরাসরি বা পরোক্ষভাবে কর্মসংস্থান যুক্ত থাকায় তাঁদের বিবেচনা হলো, এসব উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ।

গবেষণায় দেখা গেছে, শহরাঞ্চলের প্রায় ৮৬ শতাংশ ভোটার উন্নয়নের সঙ্গে ব্রিজ ও সড়ক নির্মাণের বিষয়টি ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত করে দেখেন। পার্বত্য চট্টগ্রাম (সিএইচটি), উপকূলীয় অঞ্চল, জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ ও প্রান্তিক অঞ্চলে এ ধারণা প্রবল।

ভোটারদের পাশাপাশি রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের মধ্যেও উন্নয়ন নিয়ে প্রায় একই ধরনের দৃষ্টিভঙ্গি দেখা গেছে। কিছু ক্ষেত্রে দলীয় প্রতিনিধিদের মধ্যে উন্নয়ন ধারণা তুলনামূলকভাবে বিস্তৃত হলেও ভোটারদের ধারণা এখনো মূলত অবকাঠামোকেন্দ্রিক রয়ে গেছে।

সিপিডির জ্যেষ্ঠ গবেষণা সহযোগী হেলেন মাশিয়াত বলেন, বাংলাদেশে সবুজ সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব—৯৫ শতাংশ ভোটার এমন আশাবাদী ধারণা পোষণ করেন।

হেলেন মাশিয়াত বলেন, উন্নয়ন ধারণার এই একমুখী প্রবণতা দীর্ঘ মেয়াদে টেকসই উন্নয়ন, পরিবেশ সুরক্ষা ও জলবায়ু অভিযোজনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোকে আড়ালে ফেলে দিতে পারে। তাঁদের মতে, উন্নয়ন আলোচনায় কর্মসংস্থান ও অবকাঠামোর পাশাপাশি শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পরিবেশ ও জীবনমানের বিষয়গুলোকে আরও বেশি গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

জরিপে ১৫০টি নির্বাচনী এলাকার ৪৫০ জন নির্বাচন প্রার্থী, তাঁদের মনোনীত প্রতিনিধি ও বিভিন্ন জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার ১ হাজার ২০০ ভোটারের মতামত নেওয়া হয়েছে। জরিপে পরিবেশ, সবুজ অর্থনীতি ও সামাজিক উন্নয়ন—এই তিন স্তম্ভে ভোটার ও প্রার্থীদের দৃষ্টিভঙ্গি, প্রত্যাশা ও বাস্তব পরিকল্পনা বিশ্লেষণ করা হয়েছে।

পরিবেশ রক্ষায় সহজ সমাধানের প্রতি ঝোঁক

জরিপে উঠে এসেছে, পরিবেশ রক্ষার উপায় হিসেবে প্রায় ৬১ শতাংশ ভোটার গাছ লাগানো ও প্লাস্টিক ব্যবহার কমানোর ওপর জোর দিয়েছেন। রাজনৈতিক প্রার্থীরাও প্রায় একই ধরনের সমাধানের কথা বলেছেন। গবেষকদের মতে, ভোটারদের মধ্যে একধরনের আচরণগত প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। সেটা হলো, তাঁরা যেটা ব্যক্তিগতভাবে সহজে করতে পারেন, সেটাকেই পরিবেশ রক্ষার মূল সমাধান হিসেবে দেখছেন।
জরিপে দেখা গেছে, নবায়নযোগ্য জ্বালানি সম্পর্কে জানেন—এমন ভোটারের হার ৪৭ শতাংশ। প্রার্থীদের ক্ষেত্রে এই হার প্রায় ৪২ শতাংশ। তবে নবায়নযোগ্য জ্বালানিকে পরিবেশ সুরক্ষা ও টেকসই উন্নয়নের কেন্দ্রীয় উপাদান হিসেবে দেখার ক্ষেত্রে এখনো ঘাটতি আছে বলে গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে।

গবেষণায় দেখা যায়, পরিবেশ ও অর্থনীতির তুলনায় সামাজিক স্তম্ভকে সবচেয়ে কম গুরুত্ব দিচ্ছেন ভোটার ও প্রার্থীরা। ভোটারদের কাছে দারিদ্র্য, আয় ও কর্মসংস্থানের চাপ এতটাই প্রবল যে সামাজিক বিষয়গুলো তাঁদের কাছে গৌণ হয়ে উঠছে।

সামাজিক উন্নয়নের প্রশ্নে ভোটারদের অগ্রাধিকার খুবই মৌলিক দুটি বিষয়ে। সেই দুটি বিষয় হলো, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা। সিপিডির মতে, এই বাস্তবতা থেকে দেখা যায়, দেশের বড় একটি অংশ এখনো মৌলিক চাহিদা পূরণের লড়াই করছে।

ঢাকা

ঢাকা-১৪, ১৬ ও ১৮ আসনের মোট ভোটকেন্দ্রের প্রায় ১৮ শতাংশ ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর মিরপুর ক্যাম্প কমান্ডার লে. কর্নেল এস এম ফুয়াদ মাসরুর। এর মধ্যে ঢাকা-১৪ ও ১৬ আসনকে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ বলে জানিয়েছেন তিনি।

শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর মিরপুর ইনডোর স্টেডিয়ামে জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে ঢাকা-১৪, ১৬ ও ১৮ এই তিন আসনের সার্বিক নিরাপত্তা ও নির্বাচন প্রস্তুতি বিষয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।

লে. কর্নেল এস এম ফুয়াদ মাসরুর বলেন, ভোটারদের নির্বিঘ্নে ভোটকেন্দ্রে আসা-যাওয়া নিশ্চিত করতে সেনাবাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক রয়েছে। ঝুঁকির মাত্রা অনুযায়ী ভোটকেন্দ্রগুলোকে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ, মধ্যম ও সাধারণ শ্রেণিতে ভাগ করে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, নির্বাচনকালীন সময়ে যে কোনো বিশৃঙ্খলা বা নাশকতার তথ্য প্রচারের আগে সাংবাদিকদের প্রাথমিক যাচাই করার আহ্বান জানানো হয়েছে, যাতে ভুল তথ্য বা উসকানিমূলক সংবাদ পরিবেশন না হয়।

সেনাবাহিনী নির্বাচনে প্রার্থীদের পাশাপাশি গণমাধ্যমকর্মীদের নিরাপত্তাও নিশ্চিত করবে জানিয়ে, কোথাও ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি মনে হলে তাৎক্ষণিকভাবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানানোর অনুরোধও করেন তিনি।

 

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ঢাকা-১৭ আসনে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পক্ষে নির্বাচনী গণসংযোগে অংশ নিয়েছেন তার মেয়ে ব্যারিস্টার জাইমা রহমান।

শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১২টার দিকে গুলশানের পুলিশ প্লাজা এলাকা থেকে এই গণসংযোগ শুরু করেন তিনি।

গুলশানের বিভিন্ন সড়ক ঘুরে ঘুরে সাধারণ মানুষের কাছে ধানের শীষের পক্ষে ভোট চান জাইমা রহমান। এ সময় তিনি পথচারী, রিকশাচালক, সিএনজি চালক, দোকানদার, ফুটপাতের বিক্রেতা ও শপিং মলে আসা সাধারণ ভোটারদের হাতে নির্বাচনী লিফলেট বিতরণ করেন।

গণসংযোগকালে গুলশান এলাকার বিভিন্ন অফিস ও ব্যাংকের ভেতরেও প্রবেশতিনি। করেন একটি বেসরকারি ব্যাংকের ভেতরে উপস্থিত ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে ধানের শীষের পক্ষে ভোট চান এবং লিফলেট বিতরণ করেন।

ভোটারদের উদ্দেশে জাইমা রহমান বলেন, আমি তারেক রহমানের মেয়ে জাইমা রহমান। আমার বাবা ঢাকা-১৭ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী। আপনাদের কাছে তার পক্ষে ভোট চাই

গণসংযোগে পরিবেশবান্ধব বীজ বিতরণ করতে দেখা যায় তাকে। এসব বীজ লিফলেট মাটিতে বা টবে রোপণ করলে গাছ জন্মাবে বলে জানান তিনি। নির্বাচনী বর্জ্য কমানো এবং পরিবেশ রক্ষার লক্ষ্যে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান জাইমা রহমান।

এই গণসংযোগে জাইমা রহমানের সঙ্গে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার পরিচর্যাকারী ফাতেমা খাতুনকেও দেখা যায়। পাশাপাশি নিরাপত্তা সদস্যদের উপস্থিতি থাকলেও জাইমা রহমান সরাসরি সাধারণ মানুষের সঙ্গে মিশে ভোট চাইতে মাঠে নামেন।

গুলশান পুলিশ প্লাজা থেকে শুরু হয়ে গুলশান-১ সার্কেল পর্যন্ত গণসংযোগ চলাকালে তাকে ঘিরে উৎসুক জনতার ভিড় দেখা যায়। এ সময় অনেকেই তার সঙ্গে ছবি তুলতে এগিয়ে আসেন, যা তিনি সানন্দে গ্রহণ করেন।

উল্লেখ্য, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৭ আসনে ধানের শীষ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

 

‘বাংলাদেশকে আমরা ধর্মের ভিত্তিতে বিভক্ত করতে দেব না। ধর্মের ভিত্তিতে বাড়াবাড়ি ইসলাম পছন্দ করে না। কোনো ধার্মিক মানুষ অন্য ধর্মের মানুষের ক্ষতি করতে পারে না। তাঁর সাক্ষী বাংলাদেশের জনগণ। এ দেশে চারটি ধর্মের মানুষ যুগ যুগ ধরে বসবাস করে আসছে। মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ আর খ্রিষ্টান।’

আজ শনিবার দুপুরে হবিগঞ্জে এক জনসভায় এ কথাগুলো বলেন জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। হবিগঞ্জ শহরের সরকারি উচ্চবিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত হয় এ সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা মুখলিছুর রহমান।

শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা দেখে আসছি, এ দেশে বংশানুক্রমে রাজার ছেলে রাজা হয়। আমরা সেই ধারা পাল্টে দিতে চাই। একজন সাধারণ শ্রমিকের সন্তান, সে যদি মেধাবী হয়, তাহলে তার মেধার বিকাশ ঘটিয়ে আমরা চাই, সে হবে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। সেই রাজনীতির ধারা আমরা চালু করতে চাই। এখন তারা জনগণের কাছে আসে ভোটের জন্য। এখন একেকজন দরবেশ-আউলিয়া হয়ে আসেন। তাঁরা আসেন বসন্তের কোকিল হয়ে। বসন্তের সুবাতাস উপভোগ করতে। ইলেকশনের সময় উন্নয়নের ফিরিস্তি দিয়ে পদ্মা-মেঘনা আর কুশিয়ারা নদী ভাসিয়ে দেন। যখন ইলেকশন শেষ হয়ে যায়, তখন আর তাঁদের খুঁজে পাওয়া যায় না।’

জামায়াতের আমির বলেন, বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর একে একে ৫৪টি বছর পার করেছে। একটি জাতিকে ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য যথেষ্ট সময় ছিল। ভিয়েতনাম আমাদের বহু পরে স্বাধীনতা পেয়েছে। ভিয়েতনাম এখন এ অঞ্চলের উন্নয়নের রোল মডেল। কিন্তু বাংলাদেশের কপালে কোনো ভালো উন্নয়ন করা যাচ্ছে না। এখনো বাংলাদেশে সন্ত্রাস হয়। দেশের মানুষের নিরাপত্তা নেই। চাঁদাবাজদের ভয়ে মানুষ অস্থির। দুর্নীতি আমাদের সমাজকে আগাগোড়া ছেয়ে ফেলেছে। এই বাংলাদেশ সবাইকে চেয়েছে।

শফিকুর রহমান বলেন, যে দেশের মানুষের পরিশ্রমের হাতে ছোঁয়ায় ভিন্ন দেশের অর্থনীতির চাকা পালটে যায়। সে দেশের মানুষের ভাগ্যে পাল্টায় না কেন। না পাল্টানোর কারণ হলো অসৎ নেতৃত্ব।

জামায়াত আমির বলেন, ‘আমরা অঙ্গীকার করে নির্বাচনের মাঠে এসেছি। আমরা ক্ষমতায় গেলে চাঁদাবাজের হাত বন্ধ করে দেব। ব্যবসায়ীদের রাতের ঘুম হারাম হবে না। ফুটপাতের হকারকে চোখের পানি ফেলতে হবে না। চাঁদাবাজরা সাহস পাবে না দুর্নীতি করার।’

জনসভায় বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কমিটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব যুবায়ের, খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় আমির ও হবিগঞ্জ-২ আসনের প্রার্থী আবদুল বাসিত, একই দলের মহাসচিব ও হবিগঞ্জ-৪ আসনের প্রার্থী আহমদ আবদুল কাদির, ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী ও হবিগঞ্জ-১ আসনের প্রার্থী সিরাজুল ইসলাম প্রমুখ।