জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে কারখানায় ছুটি ঘোষণা করায় বিপুলসংখ্যক শ্রমজীবী মানুষ গ্রামে ফিরতে শুরু করেছেন। একসঙ্গে হাজারো মানুষ বাড়ির পথে ছুটে চলায় গাজীপুরে ঢাকা-টাঙ্গাইল ও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে যানবাহনের চাপ কয়েক গুণ বেড়েছে। থেমে থেমে যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। এতে দুর্ভোগে পড়েছেন ঘরমুখী যাত্রীরা।

আজ মঙ্গলবার সকাল থেকেই গাজীপুরের চন্দ্রা, সফিপুর, মৌচাক ও কোনাবাড়ী এলাকায় দীর্ঘ সারিতে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে বাস, ট্রাক, প্রাইভেট কারসহ বিভিন্ন যানবাহন। স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় কয়েক গুণ বেশি সময় লাগছে গন্তব্যে পৌঁছাতে।

ঢাকা থেকে সিরাজগঞ্জগামী পোশাকশ্রমিক রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘কারখানা থেকে ছুটি পেয়েছি ভোট দেওয়ার জন্য। সকালেই রওনা হয়েছি। কিন্তু চন্দ্রা এলাকায় এসে প্রায় এক ঘণ্টা ধরে যানজটে আটকে আছি। কখন বাড়ি পৌঁছাব, বুঝতে পারছি না।’

গাজীপুরের কোনাবাড়ী থেকে বাসে করে রাজশাহী যাচ্ছিলেন গৃহকর্মী হাসিনা বেগম। তিনি বলেন, ভোট দেওয়ার জন্যই এত কষ্ট করে বাড়ি যাচ্ছেন। কিন্তু রাস্তার এই যানজটে ছোট বাচ্চা নিয়ে খুব ভোগান্তিতে পড়েছেন।

কোনাবাড়ী নাওজোর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সওগাতুল আলম বলেন, লম্বা সময় ছুটি থাকলে মহাসড়কে শত শত পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করেন। কিন্তু এবার পরিস্থিতিটা ভিন্ন রকম। পুলিশের সব সদস্য নির্বাচনের দায়িত্ব পালনে ব্যস্ত। পুলিশের সংখ্যা খুবই কম হওয়ায় চন্দ্রাসহ আশপাশের এলাকায় থেমে থেমে যানবাহন চলাচল করছে। স্বল্পসংখ্যক পুলিশ সদস্য দিয়ে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন তাঁরা।

এদিকে আমাদের টাঙ্গাইলের মির্জাপুর প্রতিনিধি জানান, ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে উত্তরাঞ্চলগামী যাত্রীদের ভিড় অনেক বেড়েছে। অনেকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বাসের জন্য অপেক্ষা করে বাস পাচ্ছেন না। বাধ্য হয়ে অনেকে ট্রাকে চেপে গন্তব্যে যাচ্ছেন। এ সুযোগে বাসের চালক ও সুপারভাইজাররা অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছেন বলে যাত্রীদের অভিযোগ।

যাত্রী ও স্থানীয় মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, উত্তরাঞ্চল থেকে চলতি মৌসুমে সর্ষে আর ধানের আবাদ করতে শ্রমিকেরা টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে আসেন। তাঁরা উপজেলার বিভিন্ন স্থানে থেকে কাজ করেন। আগামী বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এই নির্বাচনে ভোট দিতে আগ্রহীরা গতকাল সোমবার বিকেলে থেকেই বাড়ির উদ্দেশে রওনা হয়েছেন। আজ মঙ্গলবার সকাল থেকে লোকজনের বেশি ভিড় দেখা যাচ্ছে। এ ছাড়া মির্জাপুরের গোড়াই শিল্পাঞ্চলের কারখানায় কর্মরত উত্তরাঞ্চলের শ্রমিকেরাও বাড়ি ফিরছেন। এ কারণে মহাসড়কে যাত্রী ও গাড়ির চাপ বেড়েছে।

সকালে মহাসড়কের দেওহাটা ও মির্জাপুর বাইপাস বাসস্ট্যান্ড ঘুরে দেখা গেছে, উত্তরাঞ্চলগামী যাত্রীদের ভিড় অনেক। তাদের মধ্যে শ্রমিকের সংখ্যাই বেশি।

ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে উত্তরাঞ্চলগামী যাত্রীদের ভিড় বেড়েছে। অনেকে ট্রাকে চেপে গন্তব্যে যাচ্ছেন। মঙ্গলবার সকালে মহাসড়কের মির্জাপুর বাইপাস বাসস্ট্যান্ডের পশ্চিম পাশে
ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে উত্তরাঞ্চলগামী যাত্রীদের ভিড় বেড়েছে। অনেকে ট্রাকে চেপে গন্তব্যে যাচ্ছেন। মঙ্গলবার সকালে মহাসড়কের মির্জাপুর বাইপাস বাসস্ট্যান্ডের পশ্চিম পাশে
 

মির্জাপুর বাইপাস বাসস্ট্যান্ডের পশ্চিম পাশে বাসের জন্য অপেক্ষা করছেন দিনাজপুরগামী যাত্রী সুজন দে। তিনি বলেন, সকাল ছয়টা থেকে তিনি বাসের জন্য অপেক্ষা করছেন। কিন্তু সকাল পৌনে ৮টা পর্যন্ত তিনি বাস পাননি। দু–একটি বাস থামলেও অতিরিক্ত ভাড়া চাওয়া হচ্ছে। এ জন্য কম ভাড়ায় গন্তব্যে যেতে তিনি অপেক্ষা করছেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে মহাসড়কে সময় আর অতিরিক্ত ভাড়া আদায় নিয়ে স্ট্যাটাস দিয়েছেন আশরাফ উদ্দিন আহমেদ। তিনি মির্জাপুর পৌর জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি লিখেছেন, ‘কষ্টে আছে আইজুদ্দিনবাদ, কষ্টে আছে জনগণ। রাতে ঢাকা থেকে মির্জাপুর আসতে সময় লাগছে ১১ ঘণ্টা। রাস্তায় শুধু মানুষ আর মানুষ। কোনো ট্রাফিক নেই। ভাড়া আদায় করছে ৪ গুণ। দেখারও কেউ নেই। বলার কেউ নেই। অতএব কষ্টে নেই আইজুদ্দিন। কষ্টে আছি আমরা। কষ্টে আছে শ্রমিক। কষ্টে আছে বাংলার জনগণ।’

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর নতুন সরকারের সময় ঢাকা-ওয়াশিংটন অংশীদারত্ব এগিয়ে নিতে প্রস্তুতি নিচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন। এর অংশ হিসেবে মার্চের প্রথম সপ্তাহে ঢাকা সফরে আসতে পারেন দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক সহকারী মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস পল কাপুর।

কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন গত রোববার পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন ও পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়ামের সঙ্গে আলোচনায় পল কাপুরের পরিকল্পিত সফরের প্রসঙ্গটি তোলেন। আগামী ৬ থেকে ৯ মার্চ ঢাকায় আসার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন পল কাপুর।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে ভারতীয় বংশোদ্ভূত পল কাপুরকে দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী পদের জন্য মনোনীত করেন। পরে ট্রাম্পের এই মনোনয়ন মার্কিন সিনেটের পররাষ্ট্র সম্পর্কবিষয়ক কমিটিতে অনুমোদন পায়। গত অক্টোবরে পল কাপুরের নিয়োগ চূড়ান্ত হয়।

গত বছরের জুন মাসে সিনেটের পররাষ্ট্র সম্পর্কবিষয়ক কমিটির শুনানিতে পল কাপুর বলেছিলেন, দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের পর বাংলাদেশের অর্থনীতি বৃহত্তর। মনোনয়ন নিশ্চিত হলে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা জোরদার, চীনের প্রভাব মোকাবিলা ও বাণিজ্য সম্প্রসারণের জন্য দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গে মার্কিন সহযোগিতা বাড়ানোর লক্ষ্যে কাজ করবেন।

পল কাপুরের মতো ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসনও তাঁর নিয়োগ নিয়ে মার্কিন সিনেটের শুনানিতে চীনের প্রসঙ্গটি নিয়ে কথা বলেছিলেন। আর গত মাসে ঢাকায় কয়েকটি গণমাধ্যমের সঙ্গে মতবিনিময়কালে চীনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ভূরাজনৈতিক প্রতিযোগিতা নিয়ে মন্তব্য করেছিলেন ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসন। এ নিয়ে এক প্রশ্নের উত্তরে ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসন বলেছিলেন, নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে চীনের সঙ্গে যুক্ততার বিষয়ে ঝুঁকির যে বিষয়টি রয়েছে, তা তিনি স্পষ্টভাবে অন্তর্বর্তী সরকার বা নতুন নির্বাচিত সরকারের কাছে তুলে ধরবেন।

কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন সিনেটে ‘থিংক টোয়াইস অ্যাক্ট’ পাস আর যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা কৌশল (এনএসএস) ঘোষণার পর চীনের সঙ্গে দেশটির দ্বৈরথের বিষয়টি বেশ স্পস্ট। ফলে নির্বাচনের পর পল কাপুর ঢাকায় এলে নতুন সরকারের কাছে হোয়াইট হাউস বা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের চীন নিয়ে অবস্থান বেশ খোলামেলাভাবেই তুলে ধরবেন। বিশেষ করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে ট্রাম্প অভিবাসননীতি নিয়ে যা বলতেন, ভিসা বন্ডের মতো নানা পদক্ষেপ নিয়ে তিনি প্রমাণ করেছেন, নিজের অবস্থান থেকে সরেননি। ফলে চীন নিয়ে কঠোর অবস্থানেই থাকবেন ট্রাম্প।

পল কাপুর দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়ার দায়িত্ব নেওয়ার আগে দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতি, নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নেভাল পোস্টগ্র্যাজুয়েট স্কুলে অধ্যাপনা করেছেন।

২০২০-২১ সালে পল কাপুর মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের পরিকল্পনা কর্মকর্তা ছিলেন। সে সময় তিনি দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া, ইন্দো-প্যাসিফিক কৌশল এবং যুক্তরাষ্ট্র-ভারত সম্পর্ক নিয়ে কাজ করেছেন।

এই দায়িত্ব পাওয়ার আগে পল কাপুর যুক্তরাষ্ট্রের ক্লারমন্ট ম্যাককেনা কলেজে শিক্ষকতা করতেন। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনি ভিজিটিং অধ্যাপক ছিলেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের আমহার্স্ট কলেজ থেকে স্নাতক করেন। ইউনিভার্সিটি অব শিকাগো থেকে করেন পিএইচডি।

আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে শতাধিক মানুষকে গুম ও খুনের ঘটনায় সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে করা মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায় প্রথম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দিয়েছেন সাবেক সেনাপ্রধান ইকবাল করিম ভূঁইয়া। আজ সোমবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল–১–এ ইকবাল করিম দ্বিতীয় দিনের মতো জবানবন্দি দেন। বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল–১–এর অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মো.মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

সাবেক সেনাপ্রধান ইকবাল করিম ভূঁইয়ার জবানবন্দি আজ শেষ হয়েছে। ১৮ ফেব্রুয়ারি তাঁকে আসামিপক্ষের আইনজীবীদের জেরার দিন নির্ধারণ করেছেন ট্রাইব্যুনাল। ইকবাল করিম ভূঁইয়ার দেওয়া দ্বিতীয় দিনের জবানবন্দির পূর্ণ বিবরণ এখানে তুলে ধরা হলো—

আমি আমার দায়িত্ব পালনকালে এটাও জানতে পারি যে মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিকের ছত্রচ্ছায়ার ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’–এর কিছু ব্যক্তি নিয়মিত ডিজিএফআইয়ের অফিস ভিজিট করে এবং সেখানে যে সাতটি মিটিং রুম ছিল, তার একটিতে তাদের কাজ করতে দেওয়া হতো। তারা বিভিন্ন সময়ে কিছু ব্যক্তিকে জঙ্গি হিসেবে চিহ্নিত করে তার তালিকা ডিজিএফআইয়ের কাছে দিত। এ লিস্টের ওপর ডিজিএফআই কোনো কার্যকরী ব্যবস্থা নিয়েছে কি না, তা আমার জানা নেই।

সেনাপ্রধানের তথ্য পাওয়ার জন্য অনেক সূত্র রয়েছে। তার অধীনে আর্মি সিকিউরিটি ইউনিট এবং ডাইরেক্টর মিলিটারি ইন্টেলিজেন্স নামে দুটি ব্যক্তি/সংস্থা রয়েছে। এ ছাড়া র‍্যাবের অফিসার এবং অন্য ব্যক্তিদের সাথে আলাপের মাধ্যমে আমি অনেক তথ্য জানতে পারতাম। আমি এসব তথ্যের মাধ্যমে জানতে পারি যে আমাদের সেনাবাহিনীর জুনিয়র অফিসারদের মিসগাইড করা হচ্ছে এবং ভুল পথে পরিচালিত করা হচ্ছে। এ ব্যাপারে আমি তিনটি ঘটনা উল্লেখ করব।

একজন কনিষ্ঠ অফিসার র‍্যাব থেকে প্রত্যাবর্তনের পরে আমার সাথে সাক্ষাৎ করার জন্য আমার অফিসে আসেন। র‍্যাব থেকে যারা ফিরে আসত তাদের আমি প্রথম প্রশ্ন করতাম যে তারা কতজন মানুষ হত্যা করেছে? এই অফিসারকে আমি একই প্রশ্ন করেছিলাম। সে উত্তরে বলল, ছয়জন। আমি জিজ্ঞাসা করলাম ছয়জনকে কি তুমি সরাসরি হত্যা করেছ? উত্তরে সে বলল, দুইজনকে সে সরাসরি হত্যা করেছে এবং বাকি চারজনকে হত্যার সময় সে সেখানে উপস্থিত ছিল। আমি জিজ্ঞাসা করলাম, প্রতি হত্যার জন্য কত টাকা করে পেয়েছ? উত্তরে সে বলল, ১০ হাজার। আমি জিজ্ঞাসা করলাম টাকা নিয়ে কী করেছ? উত্তরে সে বলল, টাকাগুলো সে গ্রামের মসজিদে অনুদান হিসেবে দিয়েছে। আমি অনুধাবন করতে পারলাম যে এই কাজগুলো সে ইচ্ছার বিরুদ্ধে করেছে এবং অপরাধবোধ থেকে সে টাকাগুলো মসজিদে দান করেছে।

দ্বিতীয় ঘটনাতে একজন লেফটেন্যান্ট কর্নেল আমার সাথে সাক্ষাতের জন্য আমার অফিসে আসেন। আমি তাকেও জিজ্ঞাসা করি কয়জনকে হত্যা করেছ? সে বলল, ছয়জন। আমি তাকে জিজ্ঞাসা করলাম কেন করেছ? উত্তরে সে বলল, ঊর্ধ্বতন অফিসারের আদেশ পালন করেছি। আমি তাকে জিজ্ঞাসা করলাম, আমি তোমার ঊর্ধ্বতন অফিসার কি না? সে বলল, ‘হ্যাঁ’। আমি জিজ্ঞেস করলাম, আমি যদি আমার হাগু তোমাকে খেতে বলি খাবে কি না? সে বলল, ‘না’। আমি তাঁকে জিজ্ঞেস করলাম, নিরস্ত্র বেসামরিক ব্যক্তিকে হত্যা করা এবং হাগু খাওয়ার মধ্যে কোনটা নিকৃষ্ট? সে বলল, নিরস্ত্র বেসামরিক ব্যক্তিকে হত্যা করা। আমি তাকে বললাম, তাহলে কেন করেছ? উত্তরে সে নিশ্চুপ থেকেছে।

তৃতীয় ঘটনাতে একজন মেজর, যে আগে আমার সাথে চাকরি করেছে। র‍্যাবে পোস্টিং হওয়ার কিছুদিন পর সে আমার সাথে সেনা ভবনে দেখা করে। তার আগের একটি ঘটনা আমার কর্ণপাত হওয়ার কারণে আমি তাকে সে বিষয়ে জিজ্ঞাসা করি। ঘটনাটি ছিল হোটেল র‌্যাডিসনে চাকরিরত একটি মেয়েকে কিছু দুর্বৃত্ত রাতে বাড়ি ফেরার সময় ধর্ষণ ও হত্যা করে। র‍্যাব, যার মধ্যে ওই মেজরও ছিল, সে ব্যক্তিদের হত্যা করে। আমি তাকে জিজ্ঞাসা করি তুমি আইন নিজের হাতে কেন তুলে নিয়েছ? সে বলল, এই ব্যক্তিগুলো সমাজবিরোধী ব্যক্তি এবং তাদের বেঁচে থাকার কোনো অধিকার নেই। আমি তাকে বললাম, তুমি যে আইন ভঙ্গ করে তাদের হত্যা করেছ, তুমিও তো সমাজবিরোধী ব্যক্তি। সে এরপর নিশ্চুপ হয়ে যায়। পরে আমি তাকে প্রতিজ্ঞা করাই, সে র‍্যাবে আর এই ধরনের কাজ করবে না। কিন্তু হতাশার সাথে দেখি কিছুদিন পর সে ফেসবুকে একটি পোস্ট দিয়েছে, যেখানে দেখা যায় যে শাপলা চত্বরের ধোঁয়াটে পটভূমিতে সে এবং কর্নেল জিয়া একে অপরের কাঁধে হাত রেখে দাঁড়িয়ে আছে। অসংখ্য ইন্টারভিউয়ের মধ্যে এগুলো ছিল অল্প কয়েকটি উদাহরণ।

শাপলা চত্বরের ঘটনাটি আমরা সবাই জানি। তবে সাল ও তারিখ মনে নেই। ওই দিন হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে যে হত্যাকাণ্ড ঘটেছিলম, এটা তার পটভূমিতে তোলা ছবি।

আমি শুনেছি র‍্যাব যাদের হত্যা করত, তাদের পেট চিরে নাড়িভুঁড়ি বের করে ইট–পাথর বেঁধে নদীতে ডুবিয়ে দিত।

র‍্যাবের এসব কর্মকাণ্ড দেখে আমি বিভিন্ন ডিভিশন এবং প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান ভিজিট করতে থাকি এবং অফিসারদের এসব কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকতে মোটিভেট করতে শুরু করি। একপর্যায়ে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর যত কমান্ডিং অফিসার আছে, তাদের ঢাকায় এনে জুনিয়র অফিসারদের প্রতি তাদের কর্তব্য সম্পর্কে সচেতন করি। তাদের স্মরণ করিয়ে দিই শেখ মুজিব এবং জিয়া হত্যার সাথে সম্পৃক্ততার কারণে অনেক অফিসারের ফাঁসি হয়েছে। ১০ ট্রাক অস্ত্র মামলায় আরও কিছু সামরিক অফিসার ফাঁসির দণ্ড মাথায় নিয়ে হাজতবাস করছে।

এত কিছুর পরও যখন বুঝতে পারি, ক্রসফায়ার থামছে না, তখন আমি ডিজিএফআই, বিজিবি এবং র‍্যাব থেকে অফিসার নিয়ে আসা এবং পোস্টিং করা বন্ধ করে দিই। আমাকে অনেকে মনে করিয়ে দেন যে আমি যা করছি তা বিদ্রোহের শামিল। আমার উত্তর একটাই ছিল যে হাশরের ময়দানে আমাকে আল্লাহর কাছে জবাব দিতে হবে। পোস্টিং বন্ধ করার প্রতিক্রিয়াও ছিল মারাত্মক। আমি প্রতিনিয়ত অফিসার পোস্টিং করার জন্য এমএসপিএমের কাছ থেকে টেলিফোন পেতে থাকি। একসময় র‍্যাবের ডিজি বেনজীর আহমেদ আমার অফিসে আসেন এবং র‍্যাবে অফিসার দেওয়ার জন্য অনুরোধ জানান। আমি তাঁকে কোনো কথা দিইনি। চট্টগ্রামে হোটেল র‌্যাডিসন উদ্বোধনের সময় তদানীন্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পুলিশদের সাথে বৈঠককালে আমাকে ডেকে নেন এবং র‍্যাবে অফিসার দিতে বলেন। অফিসারের স্বল্পতার কারণে র‍্যাবে অফিসার দেওয়া সম্ভব নয় বলে জানাই। আমার অবসর গ্রহণের আগপর্যন্ত এই চাপ অব্যাহত ছিল। কিন্তু আমি আমার সিদ্ধান্তে অটল ছিলাম।

র‍্যাবের কর্মকাণ্ডের কারণে আমার দায়িত্বকালীন সময়টি ছিল অত্যন্ত কষ্টদায়ক। কিছু না করতে পারার বেদনা আমাকে সব সময় আচ্ছন্ন করে রাখত। আজ সুযোগ এসেছে, সেই করতে না পারার কাজটি সম্পন্ন করার। অনেকেই ভাবছেন, আমি সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছি। এ ব্যাপারে আমার ব্যাখ্যা হচ্ছে, আমরা যতই অস্বীকার করার চেষ্টা করি না কেন সেনাবাহিনী কলুষিত হয়েছে। আমাদের উচিত হবে না আমাদের আত্মশুদ্ধির যে সুযোগ এসেছে, তা কোনো অবস্থাতেই হেলায় হারানো। এতে সেনাবাহিনীর গৌরব ক্ষুণ্ন হবে না, বরং সেনাবাহিনী গৌরবের উচ্চ শিখরে আসীন হবে। পুরো জাতি জানবে সেনাবাহিনী কখনো দোষী ব্যক্তিদের ছাড় দেয় না। এতে সেনাবাহিনীর গৌরব এবং সম্মানের সাইনবোর্ডের আড়ালে অফিসারদের অপকর্ম করে পার পেয়ে যাওয়ার প্রবৃত্তি দূর হবে। আমি চাই র‍্যাব অবিলম্বে বিলুপ্ত করা দরকার এবং সেটি সম্ভব না হলে সামরিক সদস্যদের সামরিক বাহিনীতে ফিরিয়ে আনা উচিত। আমি আরও চাই ডিজিএফআইও বিলুপ্ত করা হোক। কারণ, এই সংস্থাটি আয়নাঘরের মতো অপসংস্কৃতি জন্ম দেওয়ার পরে টিকে থাকার বৈধতা হারিয়েছে।

তদন্তকারী কর্মকর্তা আমাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন। এই আমার জবানবন্দি।

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোট গ্রহণের দিন ভোটারদের সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন পঞ্চগড়-১ আসনের (সদর, তেঁতুলিয়া ও আটোয়ারী) ১১–দলীয় ঐক্যজোটের মনোনীত প্রার্থী ও এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম। তিনি বলেছেন, ‘রক্ত দিয়ে দিবেন, জীবন দিয়ে দেবেন, তবুও একটা ভোট চুরি হতে দেবেন না। যে ভোট চুরি করার আশায় আসবে, তার একমাত্র ঠিকানা হবে হাসপাতাল। তাকে বাড়ি থেকে শেষ বিদায় নিয়ে আসতে বলবেন।’

আজ সোমবার সন্ধ্যার আগে পঞ্চগড় জেলা শহরে জালাসী এলাকায় পঞ্চগড় উচ্চবিদ্যালয় মাঠে নির্বাচনী জনসভায় এসব কথা বলেন তিনি। নির্বাচন কমিশনকে হুঁশিয়ারি করে দিয়ে সারজিস আলম আরও বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনসহ সবাইকে বলতে চাই, ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং কিংবা বিন্দুমাত্র কোনো ধরনের নীলনকশা কেউ যদি করে, সর্বশেষ প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পরিণতি যেন তারা মনে রাখে।’

পঞ্চগড়ের জেলা সদর থেকে শুরু করে উপজেলা, ইউনিয়ন থেকে শুরু করে ওয়ার্ড, প্রতিটা জায়গায় তিন-চার-পাঁচজন করে নব্য স্বৈরাচার তৈরি হয়েছে বলে জনসভায় অভিযোগ করেন সারজিস আলম। সারজিস আলম বলেন, ‘আমরা দেখলাম, তাদের হাত দিয়ে পঞ্চগড়ে আবার চাঁদাবাজি হয়, মাদক ব্যবসা হয়, সিন্ডিকেট চলে, মামলা–বাণিজ্য চলে, নিরপরাধ মানুষকে হয়রানি করা হয়, বাড়িতে গিয়ে হুমকি দেওয়া হয়, নির্বাচনের পরে দেখে নেওয়ার ভয় দেখানো হয়।’

সারজিস আরও বলেন, ‘আমরা তাদের স্পষ্ট করে বলতে চাই, অভ্যুত্থান–পরবর্তী বাংলাদেশ আর চব্বিশের আগের বাংলাদেশকে আপনারা এক কাতার করে দেখবেন না। বিগত ষোলো-সতেরো বছরে এই বাংলাদেশে বাস্তববাদী রাজনীতি করার কোনো অভিজ্ঞতা আপনাদের নাই। এই কারণে ২০ বছর আগে আপনারা যেই ধরনের অপসংস্কৃতির নোংরা রাজনৈতিক কালচারের রাজনীতি করেছেন, আপনারা মনে করছেন এখনো সেই রাজনীতি করে আপনারা পার পেয়ে যাবেন।’

বিএনপি নেতাদের ইঙ্গিত করে সারজিস আলম বলেন, ‘তারা নাকি বলছেন, আমাদের বয়স তাদের সন্তানের চেয়ে কম, আমারা নাকি সংসদে প্রতিনিধিত্ব করার উপযুক্ত হইনি। আমি তাদের বলতে চাই, যাদের বয়স আমাদের বাবা-দাদাদের সমান, যারা তাদের নেতা, তারা বাংলাদেশকে মুক্ত করার সময়, এই অভ্যুত্থানের সময় কোথায় লুকিয়ে ছিল। তাদের চেহারাগুলো তো পঞ্চগড়ে দেখা যায় নাই, তাদের চেহারাগুলো তো ঢাকায় দেখা যায় নাই। গর্তের মধ্যে ঢুকে, রুমের মধ্যে ঢুকে নেতাগিরি করার দিন শেষ হয়ে গেছে বাছাধন।’

নির্বাচিত হলে পঞ্চগড়ের উন্নয়নে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে সারজিস আলম পঞ্চগড় পৌরসভাকে সবচেয়ে উন্নত মানের পৌরসভা, পঞ্চগড়ে আড়াই শ শয্যার হাসপাতাল পূর্ণাঙ্গ চালু করা, বন্ধ চিনিকল চালু করা, মেডিকেল কলেজ স্থাপন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা, শ্রমিক কল্যাণ ট্রাস্ট গঠন, নদী সুরক্ষা বাঁধ তৈরি, মাদকমুক্ত পঞ্চগড় প্রতিষ্ঠা, পর্যটনশিল্পে সমৃদ্ধ জেলা হিসেবে প্রতিষ্ঠা, পঞ্চগড়ের অন্তত ১০ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান তৈরিসহ নানামুখী উন্নয়ন পরিকল্পনা তুলে ধরেন।

সেই সঙ্গে তিনি প্রশাসনকে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপমুক্ত এবং পঞ্চগড়কে চোর–বাটপার–চাঁদাবাজমুক্ত পঞ্চগড় গড়ে তোলার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। এ ছাড়া বিজয়ী হলে বিএনপির পরাজিত নিরপরাধ নেতা–কর্মীদের কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সম্মানের সাথে রাজনীতি করার সুযোগ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন সারজিস।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে উপদেষ্টা পরিষদের বিশেষ বৈঠক শেষে প্রেস ব্রিফিংকে সম্ভবত শেষ ব্রিফিং বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।

সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত ব্রিফিংয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, গত ১৮ মাসে আমরা সব সময়ই নিউজ যত দ্রুত সম্ভব আপনাদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করেছি। প্রতিটি ঘটনার সঙ্গে সরকারের অবস্থা কী তা আমরা আপনাদের জানিয়েছি।

তিনি আরও বলেন, প্রধান উপদেষ্টার পেজে এমন কোনো নিউজ নেই, যেটা আমরা শেয়ার করিনি। পেজ ২০ কোটি বার ভিউ হয়েছে মিনিমাম, সবকিছু মিলিয়ে।

শফিকুল আলম বলেন, মাঝেমধ্যে বিভিন্ন সময় প্রেস কনফারেন্সের যত কোশ্চেন আপনাদের ছিল, সব কোশ্চেনই আমরা নিয়েছি।

এ সময় প্রেস উইংয়ের আরেক সদস্য আজাদ মজুমদার বলেন, আমরা আপনাদের সহযোগিতা করার চেষ্টা করেছি, আপনাদের সহযোগিতা পেয়েছি। আগামী সপ্তাহে আশা করছি আমরা টেবিলের ওপারে আপনাদের সঙ্গেই থাকব।

আরেক সদস্য ফয়েজ আহমদ বলেন, আমি সব সময় আপনাদের সঙ্গে বেশি ক্লোজ থেকেছি। সম্পূর্ণ পেশাদারত্বের সঙ্গে কাজ করার চেষ্টা করেছি। নানা কারণে আমরা এক্সট্রা অর্ডিনারি অবস্থার মধ্যে দিয়ে গিয়েছি। আমাদের কোনো আচরণে আপনারা কষ্ট পেয়ে থাকলে আমরা সরি।

চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক ইব্রাহিম খোকনকে আটক করেছে পুলিশ। আজ সোমবার সন্ধ্যায় বন্দর এলাকা থেকে তাঁকে আটক করা হয়।

বন্দরে লাগাতার ধর্মঘট কর্মসূচি স্থগিত করার পরই তাঁকে আটক করা হলো। ইব্রাহিম খোকন বন্দর জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলেরও সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। নগর পুলিশের সহকারী কমিশনার (গণমাধ্যম) আমিনুর রশিদ রাতে বলেন, র‌্যাবের একটি দল ইব্রাহিম খোকনকে আটক করে বন্দর থানায় দিয়েছে। যাচাই-বাছাই করে পরবর্তী ব্যবস্থা নিচ্ছে পুলিশ।

বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের অন্যতম সমন্বয়ক ইব্রাহিম খোকনকে চট্টগ্রাম বন্দর এলাকা থেকে আটক করার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে চট্টগ্রাম শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদ (স্কপ)।

বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল ইজারা না দেওয়াসহ চার দফা দাবিতে আন্দোলন করে আসছিলেন বন্দরের কর্মচারীরা। এই আন্দোলনের নেতৃত্বে ছিলেন দুজন। ইব্রাহিম খোকন ছাড়াও হুমায়ুন কবিরও এই আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়ে আসছিলেন। শুরুতে বন্দর জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের ব্যানারে আন্দোলন করলেও পরে চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের ব্যানারে কঠোর আন্দোলন শুরু করেন তাঁরা।

৩১ জানুয়ারি থেকে প্রথমে তিন দিন আট ঘণ্টা করে কর্মবিরতি পালন করে সংগঠনটি। পরে গত মঙ্গলবার লাগাতার কর্মসূচি শুরু হয়। বৃহস্পতিবার নৌপরিবহন উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকের পর দুই দিনের জন্য কর্মসূচি স্থগিত করা হলেও আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার অভিযোগ তুলে রোববার থেকে ধর্মঘটের ডাক দেওয়া হয়েছিল। পরে আজ সোমবার সকাল আটটা থেকে ধর্মঘটও প্রত্যাহার করা হয়েছে।

স্কপের প্রতিবাদ

ইব্রাহিম খোকনকে আটকের প্রতিবাদ জানিয়েছে চট্টগ্রাম শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদ। বিবৃতিতে নেতারা বলেন, প্রশাসন শান্তিপূর্ণ সমাধানের পথ পরিহার করে বারবার শ্রমিকদের সাংঘর্ষিক পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দিচ্ছে। গতকাল বন্দরের পাঁচজন শ্রমিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে আর আজ আবার ইব্রাহিম খোকনকে আটক করে প্রশাসন পরিকল্পিতভাবে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করার উসকানিতে লিপ্ত হয়েছে।

নেতারা আরও বলেন, গতকাল গভীর রাতে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট কর্মসূচি প্রত্যাহারের পর যখন বন্দরের কার্যক্রম স্বাভাবিক ও স্থিতিশীলভাবে চলছিল, ঠিক তখনই প্রশাসনের এমন রহস্যজনক ও নেতিবাচক পদক্ষেপ গভীর সন্দেহের জন্ম দেয়। এটি স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে যে একটি মহল ইচ্ছাকৃতভাবে বন্দর পরিস্থিতি অশান্ত করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে।

বিবৃতিদাতারা হলেন জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিটির সভাপতি এ এম নাজিম উদ্দিন ও সাধারণ সম্পাদক কাজী শেখ নুরুল্লাহ বাহার, শ্রম সংস্কার কমিশনের সদস্য ও টিইউসি চট্টগ্রাম জেলা কমিটির সভাপতি তপন দত্ত, স্কপ চট্টগ্রাম জেলার সমন্বয়ক এস কে খোদা তোতন ও ইফতেখার কামাল খান, ট্রেড ইউনিয়ন সংঘের সভাপতি খোরশেদুল আলম, বিএফটিইউসির সভাপতি কাজী আনোয়ারুল হক, বিএলএফের সভাপতি নুরুল আবসার তৌহিদ, সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্টের নেতা হেলাল উদ্দিন ও বাংলাদেশ জাতীয় শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক জাহেদ উদ্দিন।

ঢাকা

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও কক্সবাজার-১ (চকরিয়া-পেকুয়া) আসনের প্রার্থী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, জামায়াতে ইসলামী প্রতারক দল। এই দল দেশের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে না। তাদের মুখে আবার নতুন করে মুক্তিযুদ্ধের বয়ান শুনতে হচ্ছে। যারা এ দেশের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে না, তারা সঠিক ইতিহাস বলবে না। এখন আবার একজন মুক্তিযোদ্ধা ভাড়ায় এনে প্রমাণ করতে চায় তাদেরও একজন মুক্তিযোদ্ধা আছে।’

আজ বিকেল সাড়ে পাঁচটায় কক্সবাজারের চকরিয়ার শহীদ আবদুল হামিদ পৌর বাস টার্মিনালে আয়োজিত শেষ নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে এ কথা বলেন সালাহউদ্দিন আহমদ। জনসভায় তিনি কক্সবাজারের জন্য উন্নয়ন পরিকল্পনা তুলে ধরে ধানের শীষে ভোট চান।

গণতন্ত্র, সাংবিধানিক সংস্কার এবং দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব রক্ষার স্বার্থে ধানের শীষে ভোট দেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বিএনপি এ দেশের স্বাধীনতার পক্ষের শক্তি। যখনই গণতন্ত্র, সংবিধান ও দেশের সার্বভৌমত্ব মুখ থুবড়ে পড়েছে বিএনপি তা রক্ষা করেছে। সুতরাং দেশ রক্ষার স্বার্থে বিএনপিকে ধানের শীষে ভোট দিয়ে বিজয়ী করতে হবে।

জনসভায় তিনি কক্সবাজারের জন্য একগুচ্ছ পরিকল্পনা তুলে ধরেন। সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘আমি নির্বাচিত হলে কক্সবাজারসহ এ অঞ্চলে বহুমাত্রিক উন্নয়ন হবে। চকরিয়া থেকে সাতটি ইউনিয়নকে আলাদা করে মাতামুহুরী উপজেলা প্রতিষ্ঠা করা হবে। মাতামুহুরী ও চকরিয়ায় একটি করে ক্রীড়া কমপ্লেক্স, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক ছয় লেন, চকরিয়া-পেকুয়া-বাঁশখালী-আনোয়ারা সড়ক চার লেন করা হবে। এ ছাড়া চকরিয়া শহরে বাইপাস সড়ক ও দুটি ফ্লাইওভার করা হবে।’

মন্ত্রী থাকাকালে চকরিয়া-পেকুয়ার উন্নয়ন চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘বদরখালী থেকে বমুবিলছড়ি, খুটাখালী থেকে রাজাখালী পর্যন্ত যত সেতু করেছি, তা গুনতে আমার প্রতিদ্বন্দ্বীর সাত দিন সময় লাগবে। এবার নির্বাচিত হলে আরও অনেক সেতু, সড়ক করা হবে। আঞ্চলিক সড়কগুলো মহাসড়কে পরিণত করা হবে। আমার জন্মই হয়েছে এ দেশের উন্নয়ন ও সেবা করার জন্য। সুতরাং আমাকে উন্নয়ন শিখিয়ে লাভ নেই।’

চকরিয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি এনামুল হকের সভাপতিত্বে জনসভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন সাবেক সংসদ সদস্য হাসিনা আহমদ, তাঁর জ্যেষ্ঠ সন্তান সাঈদ ইব্রাহীম আহমদ, কক্সবাজার জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শামীম আরা, পেকুয়া উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান শাফায়েত আজিজ, জেলা ওলামা দলের সভাপতি আলী হাসান চৌধুরী, চকরিয়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এম মোবারক আলী প্রমুখ।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কার‌ণে আগামী ১১-১২ ফেব্রুয়া‌রি ভিসা দে‌বে না ঢাকার ডেনমার্ক দূতাবাস।

সোমবার (৯ ফেব্রুয়া‌রি) ঢাকার ডে‌নিশ দূতাবাস এক বার্তায় এই তথ্য জা‌নি‌য়ে‌ছে।

ডে‌নিশ দূতাবাস জানায়, বাংলা‌দে‌শের জাতীয় নির্বাচনের কার‌ণে আগামী ১১-১২ ফেব্রুয়া‌রি ভিসা দেওয়া সম্ভব হবে না। ভিসা সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান ভিএফএস গ্লোবাল ভিসা আবেদন নে‌বে না।

 

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী হয়ে ক্ষমতায় গেলে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য যথাসময়ে পে-স্কেল বাস্তবায়নের ঘোষাণা দিয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। 

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ টেলিভিশনে দেয়া ভাষণে এই প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন তিনি।

তারেক রহমান বলেন, প্রতিটি সেক্টর ও প্রতিটি শ্রেণি পেশার মানুষকে লক্ষ্য করে একটি স্বনির্ভর বাংলাদেশ বিনির্মাণের জন্য আমরা আমাদের পরিকল্পনা সাজিয়েছি।

তিরি তার বক্তব্যে বিএনপির প্রতিশ্রুত ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ডের সুবিধার কথা তুলে ধরেন।

দেশের প্রতিটি পরিবারের জন্য ফ্যামিলি কার্ড ইস্যু করার কথা জানায় বিএনপি চেয়ারম্যান। যেখানে প্রথম পর্যায়ে অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে থাকা ও নিম্ন আয়ের সুরক্ষা দিতে ফ্যামিলি কার্ডে প্রতিমাসে আড়াই হাজার টাকা কিংবা সমমূল্যের নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্য সহায়তা দেয়া হবে।

বিএনপি চেয়ারম্যান জানান, তার দল সরকার গঠন করতে সক্ষম হলে শিক্ষিত তরুণ-তরুণীদের ছয় মাস থেকে সর্বোচ্চ একবছর কিংবা কংসংস্থান না হওয়া পর্যন্ত বিশেষ আর্থিক ভাতা প্রদান করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

বেকার সমস্যা সমাধানে তারেক রহমান বলেছেন, বেকার সমস্যা নিরসনের লক্ষ্যে ব্যাংক-বীমা-পুঁজিবাজারসহ দেশের অর্থনৈতিক খাতের সার্বিক সংস্কার ও অঞ্চলভিত্তিক ও অর্থনীতিকে চাঙ্গা করা এবং শিল্প ও বাণিজ্যে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধির মাধ্যমে দেশে-বিদেশে এক কোটি কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

নাগরিকের দুয়ারে স্বাস্থসেবা পৌঁছে দিতে এক লাখ 'হেলথ কেয়ার' নিয়োগ দেয়ার কথাও বলেন তিনি। যার মধ্যে ৮০ শতাংশই থাকবেন নারী।

তারেক রহমানের মতে, ফ্যাসিবাদী সরকারের সময় বছরে ১৬ বিলিয়ন ডলার পাচার করা হয়, এটি ঠেকানো গেলে কৃষক কার্ডসহ অন্যান্য খাতে অর্থায়ন অসম্ভব না।

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে নতুন জনমত জরিপ প্রকাশ করেছে এমিনেন্স অ্যাসোসিয়েটস ফর সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট (ইএএসডি) নামের একটি সংস্থা। সাড়ে ৪১ হাজার মানুষের মতামতের ভিত্তিতে প্রকাশিত এই জরিপ বলছে, নির্বাচনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট প্রায় ২০৮টি আসনে জয়লাভ করতে পারে। আর জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন জোটের সম্ভাব্য আসন সংখ্যা ৪৬টি। এ ছাড়া জাতীয় পার্টি ৩টি, অন্যান্য দল ৪টি ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ১৭টি আসনে জয়ী হতে পারেন।

আজ সোমবার বিকেলে রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনের থ্রিডি সেমিনার হলে ইএএসডির এই জরিপের ফলাফল প্রকাশ করা হয়। ইএএসডির দাবি, এবারের নির্বাচন নিয়ে যতগুলো জরিপ হয়েছে, সেগুলোর মধ্যে তাদের এই জরিপটিই সবচেয়ে বড় নমুনার জরিপ।

অনুষ্ঠানে জরিপের ফলাফল উপস্থাপন করেন ইএএসডির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শামীম হায়দার তালুকদার। তিনি জানান, দেশের ৩০০টি সংসদীয় আসনেই প্রাইমারি স্যাম্পলিং ইউনিট (পিএসইউ) পদ্ধতি অনুসরণ করে জরিপটি পরিচালিত হয়েছে। মোট ৪১ হাজার ৫০০ জন উত্তরদাতার তথ্য ‘কোবো টুলবক্স’ ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সংগ্রহ করা হয়। ১৮ জানুয়ারি থেকে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত ১৫০ জন প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত তথ্য সংগ্রহকারী মাঠপর্যায়ে কাজ করেছেন। দেশের বিভিন্ন জনমিতিক ও আঞ্চলিক দৃষ্টিভঙ্গি ধারণ করার জন্য সারা দেশে মোট ২ হাজার ৭৬৬টি পিএসইউ নির্বাচনও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। প্রতিটি পিএসইউ থেকে ধারাবাহিকভাবে ১৫টি পরিবার নির্বাচন করা হয়েছে এবং প্রতিটি পরিবার থেকে একজন যোগ্য উত্তরদাতার সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়েছে, যাতে পদ্ধতিগত ও পক্ষপাতহীন তথ্য সংগ্রহ নিশ্চিত হয়। গ্রামীণ এলাকার জন্য ইউনিয়ন এবং শহরাঞ্চলের জন্য ওয়ার্ডগুলোকে ক্লাস্টার হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে, যা নিশ্চিত করেছে যে এই জরিপে গ্রাম ও শহর উভয় অঞ্চলের মানুষের সমান প্রতিনিধিত্ব রয়েছে।

তিনি জানান, মোট ৪১ হাজার ৫০০ জন উত্তরদাতার মধ্যে ২৬ হাজার ৫৬০ জন পুরুষ (মোট সংখ্যার ৬৪ শতাংশ) এবং ১৪ হাজার ৯২২ জন নারী (মোট সংখ্যার ৩৬ শতাংশ)। জরিপে ১৮-৩০ বছর বয়সী তরুণদের অংশগ্রহণ ছিল মোট ৩৭ দশমিক ২ শতাংশ। জরিপে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ৩১ থেকে ৫০ বছর বয়সী ৪৫ দশমিক ২ শতাংশ, ৩১ থেকে ৪০ বছর বয়সী ২৭ দশমিক ৫ শতাংশ এবং ৪১ থেকে ৫০ বছর বয়সী ১৭ দশমিক ৭ শতাংশ।

জরিপে অংশ নেওয়া সর্বোচ্চ ২১ দশমিক ৯ শতাংশ উত্তরদাতা ছিলেন ব্যবসায়ী। এঁদের মধ্যে বড় ও মাঝারি ব্যবসায়ী ছিলেন ৫ শতাংশ এবং ছোট ব্যবসায়ী ছিলেন ১৬ দশমিক ৯ শতাংশ। পাশাপাশি কৃষি ও গ্রামীণ শ্রমজীবী খাতে মোট অংশগ্রহণকারী ছিল ১৩ দশমিক ২ শতাংশ। অন্যদিকে গৃহস্থালি ও অনানুষ্ঠানিক খাতে মোট অংশগ্রহণকারী ছিল ১৯ দশমিক ১ শতাংশ; শিক্ষার্থীদের মোট অংশগ্রহণকারী ছিল ১৪ দশমিক ৫ শতাংশ।

ফলাফল

ইএএসডির জরিপ অনুযায়ী, রাজনৈতিক পছন্দের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের বেশির ভাগ ভোটারের পছন্দ বিএনপি। সর্বোচ্চ ৬৬ দশমিক ৩ শতাংশ ভোটার বিএনপিকে ভোট দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। এর বিপরীতে ১১ দশমিক ৯ শতাংশ সমর্থন নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে জামায়াতে ইসলামী। এনসিপি ১ দশমিক ৭ শতাংশ এবং অন্যদের মধ্যে জাতীয় পার্টির জনসমর্থন ৪ শতাংশ আর স্বতন্ত্র প্রার্থীদের ক্ষেত্রে এই হার ২ দশমিক ৬ শতাংশ।

নারী ভোটারদের মধ্যে বিএনপির জনপ্রিয়তা বেশি উল্লেখ করে জরিপের ফলাফলে বলা হয়, ৭১ দশমিক ১ শতাংশ নারী ভোটার বিএনপিকে সমর্থন দিচ্ছেন। বিএনপি জোটের প্রতি সর্বোচ্চ সমর্থন চট্টগ্রাম (৭৬ দশমিক ৮ শতাংশ) এবং সিলেটে (৭৫ দশমিক ৬ শতাংশ)। তবে বরিশাল (১৭ দশমিক ৮ শতাংশ) ও খুলনায় (১৮ দশমিক ৬ শতাংশ) জামায়াত জোটের শক্তিশালী অবস্থান লক্ষ করা গেছে। অন্যদিকে উত্তরবঙ্গের রংপুরে জাতীয় পার্টি ৩ শতাংশ ভোটারের সমর্থন পেয়েছে।

আগে নির্বাচনে আওয়ামী লীগে ভোট দেওয়া ভোটারদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ এখন পরিবর্তনের পক্ষে মত দিচ্ছেন, এমনটাও এই জরিপে উঠে এসেছে। শামীম হায়দার তালুকদার বলেন, তাঁদের মধ্যে ৮০ শতাংশ আসন্ন নির্বাচনে বিএনপিকে ভোট দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। একই সঙ্গে আওয়ামী লীগের সাবেক ভোটারদের ১৫ শতাংশ জামায়াতে ইসলামীকে সমর্থন দেওয়ার কথা জানিয়েছেন। বাকি ৫ শতাংশ অন্যান্য রাজনৈতিক দলকে সমর্থন দেওয়ার কথা জানিয়েছেন।

শামীম হায়দার তালুকদার বলেন, জরিপে অংশগ্রহণকারী সর্বোচ্চ ৬৬ দশমিক ৪ শতাংশ মানুষ বিশ্বাস করেন, আসন্ন নির্বাচনের পর বিএনপি জোট সরকার গঠন করতে সক্ষম হবে এবং ৬৬ দশমিক ৩ শতাংশ ভোটার তাঁদের নিজ নিজ আসনে বিএনপি প্রার্থীর জয়ের ব্যাপারে মতামত ব্যক্ত করেছেন। সামগ্রিকভাবে এই জরিপটি দেশের সাধারণ মানুষের রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষা এবং একটি বৃহৎ পরিবর্তনের জন্য বিএনপির প্রতি প্রত্যাশাকেই জোরালোভাবে তুলে ধরেছে।

আগে নির্বাচনে আওয়ামী লীগে ভোট দেওয়া ভোটারদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ এখন পরিবর্তনের পক্ষে মত দিচ্ছেন, এমনটাও এই জরিপে উঠে এসেছে। শামীম হায়দার তালুকদার বলেন, তাঁদের মধ্যে ৮০ শতাংশ আসন্ন নির্বাচনে বিএনপিকে ভোট দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। একই সঙ্গে আওয়ামী লীগের সাবেক ভোটারদের ১৫ শতাংশ জামায়াতে ইসলামীকে সমর্থন দেওয়ার কথা জানিয়েছেন। বাকি ৫ শতাংশ অন্যান্য রাজনৈতিক দলকে সমর্থন দেওয়ার কথা জানিয়েছেন।

এই জরিপের ফলাফল অনুযায়ী এবারের নির্বাচনে সর্বাধিক আসন পেতে পারে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট। জরিপ অনুযায়ী বিএনপি জোট প্রায় ২০৮টি আসনে জয়লাভ করতে পারে। জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটের সম্ভাব্য আসন সংখ্যা ৪৬টি। এ ছাড়া জাতীয় পার্টি ৩টি, অন্যান্য দল ৪টি ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ১৭টি আসনে জয়ী হতে পারেন। একই সঙ্গে ২২টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হাড্ডাহাড্ডি (ক্লোজড কনটেস্ট) হতে পারে।

জরিপে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে সমর্থন করেছেন সর্বাধিক ৬৮ শতাংশ উত্তরদাতা। জামায়াতের আমির শফিকুর রহমানের পক্ষে মত দিয়েছেন ১৪ শতাংশ আর এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের পক্ষে মত দিয়েছেন ২ শতাংশ উত্তরদাতা। এ ছাড়া ১৬ শতাংশ উত্তরদাতা এ বিষয়ে মত প্রকাশ করতে অনিচ্ছুক বলে জানিয়েছেন।

এই জরিপ প্রকাশের অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ইএএসডির উপদেষ্টা কাজী সাইফউদ্দীন বেননূর। জরিপের ফলাফল উপস্থাপনের পর প্যানেল আলোচনায় অংশ নেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের অধ্যাপক রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এ এস এম আমানুল্লাহ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের চেয়ারম্যান শামসুল আলম সেলিম, একই বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের অধ্যাপক নাহরীন আই খান, ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব সিঙ্গাপুরের সহযোগী অধ্যাপক তৌফিক জোয়ার্দার এবং নির্বাচনব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের সাবেক সদস্য মীর নাদিয়া নিভিন।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে নতুন প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছে সরকার। স্থানীয় সরকার বিভাগের অতিরিক্ত সচিব সুরাইয়া আখতার জাহানকে এই পদে নিজ দায়িত্বের অতিরিক্ত হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তিনি মেয়রের ক্ষমতা ও দায়িত্ব পালন করবেন।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন মোহাম্মদ এজাজ। তাঁর স্থলাভিষিক্ত হবেন সুরাইয়া আখতার জাহান।

আজ সোমবার স্থানীয় সরকার বিভাগের এক প্রজ্ঞাপনে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়।

গত বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক হিসেবে মোহাম্মদ এজাজকে এক বছরের জন্য নিয়োগ দিয়েছিল অন্তর্বর্তী সরকার।

প্রজ্ঞাপনে আরও উল্লেখ করা হয়, নিয়োগ করা প্রশাসক সুরাইয়া আখতার জাহান ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়রের ক্ষমতা প্রয়োগ ও দায়িত্ব পালন করবেন। তিনি নিজ দায়িত্বের অতিরিক্ত হিসেবে এই দায়িত্ব পালন করবেন। বিধি অনুযায়ী তিনি কেবল ‘দায়িত্ব ভাতা’ পাবেন। এ ছাড়া অন্য কোনো আর্থিক বা অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা পাবেন না।