নেপালের ধাদিং জেলার গাজুরি এলাকায় রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) গভীর রাতে একটি যাত্রীবাহী বাস ত্রিশুলি নদীতে উল্টে পড়ে কমপক্ষে ১৮ জন নিহত হয়েছেন। দুর্ঘটনায় আরও ২৮ জন আহত হয়েছেন।

নেপালের আধা সামরিক বাহিনী আর্মড পুলিশ ফোর্সের মুখপাত্র বিষ্ণু প্রসাদ ভাট্টা জানিয়েছেন, মোট ৪৬ জন যাত্রী নিয়ে বাসটি পোখরা থেকে রাজধানী কাঠমান্ডু যাওয়ার পথে পিৃথ্বী হাইওয়ের ধাদিং অংশে দুর্ঘটনার শিকার হয়। স্থানীয় সময় রাত ১ টা ৩০ মিনিটে বাসটি নদীতে পড়ে।

দুর্ঘটনার পর নেপালের সেনাবাহিনী, আর্মড পুলিশ ফোর্স এবং নিয়মিত পুলিশ যৌথভাবে উদ্ধার তৎপরতা চালায়। এ ঘটনায় মোট ১৮ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে, যাদের মধ্যে একজন নিউজিল্যান্ডের নাগরিক। আহতদের মধ্যে জাপান এবং নেদারল্যান্ডসের দুই নারী রয়েছেন। আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

প্রাথমিকভাবে পুলিশের ধারণা, বাসটির উচ্চগতিই দুর্ঘটনার মূল কারণ হতে পারে। তবে সঠিক কারণ এখনো নিশ্চিত করা যায়নি।

সূত্র : এএফপি

 

যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টের রায় অমান্য করে আমদানি পণ্যের ওপর জারিকৃত ১০ শতাংশ শুল্ক বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করার ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে এ ঘোষণা দেন তিনি। খবর দ্য গার্ডিয়ানের।

যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আদালত ট্রাম্পের শুল্কনীতি বাতিল করার ঠিক একদিন পরই নতুন করে এই পদক্ষেপটি নিল ট্রাম্প প্রশাসন।

এর আগে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেছিলেন, আদালত যে শুল্ক বাতিল করেছেন তার পরিবর্তে যুক্তরাষ্ট্রে আমদানি হওয়া সব পণ্যের ওপর ১০ শতাংশ হারে শুল্ক আরোপ করা হবে।

তবে, শনিবার ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে তিনি ঘোষণা দেন, এই হার এখন বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করা হবে।

ট্রুথ সোশ্যালে করা ওই পোস্টে ট্রাম্প লিখেছেন, আমি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে ঘোষণা দিচ্ছি যে, আজ থেকেই বিশ্বের সব দেশের ওপর আমাদের আরোপ করা ১০ শতাংশ আমদানি শুল্ক বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করা হলো। অনেক দেশ বছরের পর বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রকে ঠকিয়ে আসছিল এবং এর কোনো বিচারও হচ্ছিল না (যতক্ষণ না আমি ক্ষমতায় এসেছি!)। এখন থেকে আইন মেনেই তাদের ওপর এই বাড়তি কর কার্যকর হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের আইন অনুযায়ী, এই ১৫ শতাংশ শুল্ক আগামী ১৫০ দিন কার্যকর থাকবে। তবে ট্রাম্প জানিয়েছেন, এটিকে স্থায়ী ও আইনি বৈধতা দিতে তার প্রশাসন কাজ করবে।

উল্লেখ্য, গত বছর জরুরি অর্থনৈতিক শক্তি আইন (আইইইপিএ) এর অধীনে বিশ্বের সব দেশের ওপর পারস্পরিক শুল্ক আরোপ করেন ট্রাম্প। এতে করে যুক্তরাষ্ট্রে অনেক পণ্যের দাম বেড়ে গেছে।

মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের অভিমত, ট্রাম্প তার ক্ষমতার অধিক ব্যবহার করেছেন। শুল্ক আরোপের আগে তার কংগ্রেসের অনুমোদন নেওয়া উচিত ছিল।

এ অবস্থায় যুক্তরাষ্ট্রে পণ্য প্রবেশের ক্ষেত্রে একতরফাভাবে বিশ্বজুড়ে যে জরুরি শুল্ক আরোপ করেছিলেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) তা অবৈধ বলে রায় দেন মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট। কিন্তু এই রায়ের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই নতুন করে বাংলাদেশসহ বিশ্বের সব দেশের পণ্যে ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেন ট্রাম্প। এরপর আরও কয়েক ঘণ্টা পর এটি বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করেন তিনি।

 

নিজেদের ভূখণ্ডে সাম্প্রতিক একাধিক আত্মঘাতী হামলার জেরে হঠাৎ আফগানিস্তানের ভেতরে ঢুকে একযোগে বিমান ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে পাকিস্তান। 

রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) এক বিবৃতির মাধ্যমে হামলার বিষয়টি স্বীকারও করেছে পাকিস্তানের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়। খবর আল জাজিরার।

আল-জাজিরাকে আফগান সূত্রগুলো জানিয়েছে, রোববার আফগানিস্তানের দুটি সীমান্তবর্তী প্রদেশ পাকতিকা ও নানগারহারে এই হামলা চালিয়েছে পাকিস্তান। এছাড়া, পাকতিকা প্রদেশে একটি ধর্মীয় স্কুলেও ড্রোন হামলা হয়েছে।

পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী বলছে, হামলাগুলোতে ‘সন্ত্রাসী শিবির ও আস্তানা’ লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। আস্তানাগুলো পাকিস্তান তেহরিক-ই-তালেবান (টিটিপি) এবং তাদের সহযোগীদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে দাবি করা হয়েছে।

আর পাকিস্তানের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় তাদের বিবৃতিতে জানিয়েছে, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সাতটি শিবিরে ‘নির্বাচিত অভিযান’ চালানো হয়েছে। টিটিপি দীর্ঘদিন ধরে পাকিস্তানের ভেতরে হামলার দায়ে অভিযুক্ত। সীমান্ত অঞ্চলে আইএস-এর একটি সহযোগী গোষ্ঠীকেও লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে বলে দাবি করেছে ইসলামাবাদ।

আল-জাজিরা বলছে, পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের বান্নু জেলায় একটি নিরাপত্তা বহরে আত্মঘাতী বোমা হামলার কয়েক ঘণ্টা পরই আফগানিস্তানে একযোগে বিমান ও ড্রোন হামলা চালালো ইসলামাবাদ। বান্নু জেলার ওই হামলায় একজন লেফটেন্যান্ট কর্নেলসহ দুজন সৈনিক প্রাণ হারিয়েছেন।

এর আগে, গত সোমবার বন্দুকধারীদের সহায়তায় এক আত্মঘাতী হামলাকারী বিস্ফোরকভর্তি একটি গাড়ি বাজায়ুরের একটি নিরাপত্তা চৌকির দেয়ালে ধাক্কা দেয়। এতে ১১ জন সৈনিক ও এক শিশু নিহত হয়। পরে পাকিস্তান কর্তৃপক্ষ জানায়, হামলাকারী একজন আফগান নাগরিক ছিল।

আর গত ৬ ফেব্রুয়ারি ইসলামাবাদের তারলাই কালান এলাকায় খাদিজা তুল কুবরা মসজিদে আত্মঘাতী বোমা হামলায় ৩১ জন নিহত ও ১৭০ জন আহত হয়। এ হামলার দায় স্বীকার করে ইসলামিক স্টেট বা আইএস।

পাকিস্তান বলছে, ইসলামাবাদ, বাজাউর ও বান্নু জেলায় সাম্প্রতিক হামলাগুলো আফগানিস্তানভিত্তিক নেতৃত্বের নির্দেশে চালানো হয়েছে—এমন ‘চূড়ান্ত প্রমাণ’ তাদের হাতে রয়েছে। ইসলামাবাদ বহুবার অভিযোগ করেছে, আফগান ভূখণ্ড ব্যবহার করে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো পাকিস্তানে হামলা চালাচ্ছে। তবে, তালেবান সরকার বরাবরই এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

এদিকে, পাকিস্তানের এই বিমান ও ড্রোন হামলার ঘটনায় জরুরি বৈঠক করেছেন আফগানিস্তানের তালেবান সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা। বৈঠকে পাকিস্তানকে পাল্টা জবাব দেওয়ার ব্যাপারে আলোচনা হয়েছে।

আফগান সরকার এক বিবৃতিতে বলেছে, পাকিস্তান হামলা চালিয়ে আফগানিস্তানের ভৌগলিক অখণ্ডতা লঙ্ঘন করেছে এবং কাবুলের এটির জবাব দেওয়ার অধিকার আছে। কোন সময় প্রতিশোধমূলক হামলা চালানো হবে সেটি তালেবান নেতৃবৃন্দ নির্ধারণ করবে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে বিবৃতিতে।

জানা গেছে, আফগানিস্তানে চালানো সর্বশেষ এ হামলায় এফ-১৬ এবং জেএফ-১৭ থান্ডার যুদ্ধবিমান ব্যবহার করেছে পাকিস্তান।

আফগান তালেবানের মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক পোস্টে জানিয়েছেন, পাকিস্তানের বিমানবাহিনী বেসামরিক মানুষের ওপর হামলা চালিয়েছে। এতে অন্তত ডজনখানেক মানুষের মৃত্যু হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত বছর সীমান্ত এলাকায় বড় ধরনের সংঘর্ষে জড়িয়েছিল আফগানিস্তান ও পাকিস্তান। ওই সংঘাতে দুই দেশই বহু সৈন্য হারিয়েছে। পরে সৌদি আরব, কাতার ও তুরস্কের মতো মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয় দুই দেশ। তবে, পাকিস্তানের সবশেষ হামলার মধ্য দিয়ে দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধের দামামা আবারও বেজে উঠেছে।

 

রাশিয়ার প্রত্যন্ত উদমুর্তিয়া অঞ্চলে একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনকারী কারখানায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর দাবি করেছে ইউক্রেন। শনিবার ইউক্রেনের জেনারেল স্টাফ এ তথ্য জানিয়েছে।

ইউক্রেন জানিয়েছে, দেশটির সেনারা মস্কোর পূর্বে ভটকিনস্কে অবস্থিত রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনকারী কারখানাটিতে হামলা চালিয়েছে। এই কারখানায় ছোট-পরিসরের ইসকান্দার এবং আন্তঃমহাদেশীয় টোপোল-এম ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করা হচ্ছিল। ভটকিনস্ক ইউক্রেন থেকে প্রায় ১ হাজার ৪০০ কিমি দূরে অবস্থিত।

ইউক্রেনের সেনারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম টেলিগ্রামে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা দেশীয়ভাবে তৈরি ও ভূমি থেকে উৎক্ষেপণযোগ্য ফ্লামিঙ্গো ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে। ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, হামলার ফলে কারখানার এলাকায় আগুন ধরে যায়।

রাশিয়ার উদমুর্তিয়া অঞ্চলের গভর্নর আলেকজান্দার ব্রেচালভ আগেই জানিয়েছিলেন, ওই এলাকায় একটি স্থাপনায় রাতে ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে।

টেলিগ্রামে প্রকাশিত এক ভিডিওতে আলেকজান্দার ব্রেচালভ বলেন, ‘হামলার ফলে ক্ষতি ও আহতের ঘটনা ঘটেছে।’ তবে তিনি বিস্তারিত কিছু বলেননি।

উদমুর্তিয়ার রাজধানী ইজেভস্কের বিমানবন্দর এবং আশেপাশের অঞ্চলের শহরের বিমানবন্দরগুলো কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে রাশিয়ার বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ রোসাভিয়াটসিয়া

রাশিয়া তার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে ইউক্রেনের শক্তি অবকাঠামোর ওপর ড্রোন হামলা বাড়িয়েছে। শীতের মাসগুলোতে লাখ লাখ ইউক্রেনীয়ের জন্য বিদ্যুৎ এবং তাপ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। ইউক্রেনও ক্রমেই রাশিয়ার ভেতরে অবস্থিত সামরিক ও জ্বালানি অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু বানাচ্ছে।

ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা রাশিয়ার সামারা অঞ্চলের একটি গ্যাস প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানাতেও হামলা চালিয়েছে। তবে সামারা অঞ্চলের রাশিয়ার কর্মকর্তারা এমন কোনো হামলার খবর প্রকাশ করেননি।

রয়টার্স

যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের বৈশ্বিক পাল্টা শুল্ক আরোপের পদক্ষেপ বাতিল করে রায় দেওয়ার পর খুব দ্রুতই নতুন শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন ট্রাম্প। গতকাল শুক্রবার রাতে সারা বিশ্ব থেকে পণ্য আমদানিতে নতুন করে ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করে একটি নির্বাহী আদেশে সই করেন তিনি।

এবার ১৯৭৪ সালের বাণিজ্য আইনের ‘সেকশন ১২২’ ব্যবহার করে নতুন শুল্ক আরোপ করেছেন ট্রাম্প। এ আইন অনুযায়ী, দেশের বাণিজ্যঘাটতি মোকাবিলায় প্রেসিডেন্ট সাময়িকভাবে ১৫ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করতে পারবেন। আগামী মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) থেকে ১৫০ দিনের জন্য এ শুল্ক কার্যকর হবে।

ট্রাম্পের নতুন ১০ শতাংশ শুল্ক যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় সব বাণিজ্যিক অংশীদার দেশের ওপর কার্যকর হবে। তবে মেক্সিকো ও কানাডা থেকে আসা যেসব পণ্য উত্তর আমেরিকার মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির (ইউএসএমসিএ) শর্ত মেনে চলে, সেগুলো এ শুল্কের আওতামুক্ত থাকবে।
 

এর আগে ১৯৭৭ সালের ইন্টারন্যাশনাল ইমারজেন্সি ইকোনমিক পাওয়ারস অ্যাক্ট (আইইইপিএ) ব্যবহার করে শুল্ক আরোপ করেছিলেন ট্রাম্প। তবে গতকাল দেশটির সর্বোচ্চ আদালতের রায়ে বলা হয়েছে, আইনটি প্রেসিডেন্টকে এ শুল্ক আরোপের ক্ষমতা দেয় না। এ কারণে ওই শুল্ককে অবৈধ ঘোষণা করে রায় দেওয়া হয়।

বিশ্লেষকেরা বলছেন, আদালতের রায়ে আগের শুল্কব্যবস্থা ভেঙে পড়লেও নতুন কৌশলে ট্রাম্প তাঁর বাণিজ্যযুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার পথ প্রশস্ত করলেন।

ট্রাম্পের নতুন ১০ শতাংশ শুল্ক যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় সব বাণিজ্যিক অংশীদার দেশের ওপর কার্যকর হবে। তবে মেক্সিকো ও কানাডা থেকে আসা যেসব পণ্য উত্তর আমেরিকার মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির (ইউএসএমসিএ) শর্ত মেনে চলে, সেগুলো এ শুল্কের আওতামুক্ত থাকবে। এ ছাড়া ওষুধশিল্প, অ্যারোস্পেস পণ্য, যাত্রীবাহী গাড়ি, হালকা ট্রাক এবং নির্দিষ্ট কিছু গুরুত্বপূর্ণ খনিজ ও কৃষিপণ্য এ তালিকার বাইরে রাখা হয়েছে।

এদিকে সুপ্রিম কোর্ট আগের শুল্ককে অবৈধ ঘোষণা করায় এখন আমদানিকারকদের থেকে শুল্ক বাবদ আদায় করা শত শত কোটি ডলার নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

পেনসিলভানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের এক প্রাক্কলন অনুযায়ী, এ রায়ের ফলে প্রায় ১৭ হাজার ৫০০ কোটি ডলার ফেরত দিতে হতে পারে। ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসাম এ অর্থকে ‘অবৈধ অর্থ ছিনতাই’ উল্লেখ করে তা অবিলম্বে সুদে-আসলে ফেরত দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তবে ট্রাম্প বলেছেন, এ অর্থ ফেরত দেওয়া হবে কি না, তা নিয়ে বছরের পর বছর মামলা চলবে।

আগের শুল্ক বাতিল হওয়ায় যে ঘাটতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা ছিল, নতুন শুল্ক আরোপের ফলে তা লাঘব হবে।
স্কট বেসেন্ট, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী

ট্রাম্পের নতুন শুল্ক আরোপের ঘোষণায় বিশ্বজুড়ে নতুন করে অস্থিরতা শুরু হয়েছে। কানাডীয় চেম্বার অব কমার্সের প্রেসিডেন্ট ক্যান্ডাস লেং বলেন, ‘কানাডার উচিত আরও কঠোর বাণিজ্যিক চাপের জন্য প্রস্তুত থাকা।’ ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ব্রিটেনও নতুন পরিস্থিতির ওপর গভীর নজর রাখছে।

আদালতের রায়ের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের রাজস্ব খাতে খুব একটা নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না বলে করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট। তাঁর মতে, আগের শুল্ক বাতিল হওয়ায় যে ঘাটতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা ছিল, নতুন শুল্ক আরোপের ফলে তা লাঘব হবে। ব্যবসায়িক গোষ্ঠীগুলো আদালতের রায়কে স্বাগত জানালেও ট্রাম্পের পাল্টা পদক্ষেপে তারা এখন নতুন অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।

ডোনাল্ড ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন দেশের ওপর চাপ প্রয়োগ এবং আলোচনার হাতিয়ার হিসেবে শুল্ক ব্যবহার করছেন। তবে গত বছরের জানুয়ারিতে দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নেওয়ার পর জরুরি অর্থনৈতিক ক্ষমতার নজিরবিহীন ব্যবহার করছেন তিনি। শুল্ক আরোপ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় সব বাণিজ্যিক অংশীদারের ওপর।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্পের আগের শুল্ককে অবৈধ ঘোষণা করায় এখন আমদানিকারকদের থেকে শুল্ক বাবদ আদায় করা শত শত কোটি ডলার নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

ট্রাম্পের পাল্টা শুল্ক আরোপ বিশ্ববাণিজ্যের জন্য বিরাট এক ধাক্কা হয়ে আসে। ওই শুল্ক ঘোষণার সময় ট্রাম্প দিনটিকে আমেরিকার ‘স্বাধীনতা দিবস’ (অর্থনৈতিক) বলে অভিহিত করেছিলেন। কিন্তু বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের জন্য তা বড় দুঃসংবাদ হয়ে আসে।

রয়টার্স

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তিনি ইরানে সীমিত আকারে সামরিক হামলা চালানোর কথা বিবেচনা করছেন। তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করার জন্য একটি চুক্তিতে সম্মত হতে দেশটির নেতাদের ওপর চাপ সৃষ্টির অংশ হিসেবে এমনটা ভাবা হচ্ছে।

মার্কিন কর্মকর্তারা ইরানে সম্ভাব্য হামলার ইঙ্গিত দেওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর গতকাল শুক্রবার একজন সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এসব কথা বলেন।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার ট্রাম্প বলেন, কোনো চুক্তি হবে, নাকি যুক্তরাষ্ট্র সামরিক পদক্ষেপ নেবে, তা সম্ভবত ১০ দিনের মধ্যেই বিশ্ব জানতে পারবে।

সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র ওই অঞ্চলে তাদের সামরিক উপস্থিতি বাড়িয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের ইউরোপীয় মিত্র দেশগুলোর সন্দেহ—ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির পথে এগোচ্ছে। তবে ইরান বরাবর এ অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।

ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করার বিষয়ে মার্কিন ও ইরানি কর্মকর্তারা সুইজারল্যান্ডে বৈঠক করেছেন। আলোচনায় অগ্রগতি হওয়ার কথাও জানিয়েছেন তাঁরা।

গতকাল ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেন, তাঁর দেশ ‘সম্ভাব্য একটি চুক্তির খসড়া’ প্রস্তুত করছে এবং আগামী কয়েক দিনের মধ্যে তা যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

জেনেভায় আলোচনা চলার সময়ও ইরানের আশপাশে মার্কিন বাহিনীকে তাদের উপস্থিতি আরও বাড়াতে দেখা গেছে। মোতায়েন করা সরঞ্জামের তালিকায় বিশ্বের সবচেয়ে বড় যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ডও আছে। এটি অঞ্চলটির দিকে অগ্রসর হচ্ছে বলে মনে হচ্ছে।

বিমানবাহী রণতরি ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনও মোতায়েন করা হচ্ছে। এ ছাড়া আর কিছু ডেস্ট্রয়ার, যুদ্ধজাহাজ ও যুদ্ধবিমানের উপস্থিতি রয়েছে।

ইতিমধ্যে উপগ্রহ চিত্রে দেখা গেছে, ইরান তাদের সামরিক স্থাপনাগুলোর সক্ষমতা বাড়িয়েছে। আর দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বার্তা পোস্ট করে মার্কিন বাহিনীকে হুমকি দিয়েছেন।

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে খামেনি লিখেছেন, ‘তারা বারবার বলছে যে ইরানের দিকে রণতরি পাঠানো হয়েছে। বেশ তো রণতরি অবশ্যই একটি বিপজ্জনক যন্ত্র; কিন্তু রণতরির চেয়েও বিপজ্জনক হলো সেই অস্ত্র, যা এটিকে সমুদ্রের তলদেশে ডুবিয়ে দিতে পারে।’

এর আগে মঙ্গলবার তেহরানে এক অনুষ্ঠানে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি বলেন, ‘বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সেনাবাহিনী এমন এক চপেটাঘাত খেতে পারে, যা থেকে তারা আর সেরে উঠতে পারবে না।’ যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ‘বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সেনাবাহিনী’ দাবি করার পরিপ্রেক্ষিতে খামেনি এ মন্তব্য করেন।

ট্রাম্প সপ্তাহে কয়েকবার সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দেন। কখনো হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে দীর্ঘ আলাপচারিতায় যুক্ত হন, আবার কখনো এয়ারফোর্স ওয়ান উড়োজাহাজে করে ভ্রমণের সময় কথা বলেন।

তবে ট্রাম্পের মন্তব্যগুলো যে সব সময় বাস্তব পদক্ষেপে রূপ নেয়, তা নয়। অনেক সময় সেগুলো একটি অপরটির সঙ্গে সাংঘর্ষিকও হয়।

ট্রাম্প প্রায়ই সাংবাদিকদের মনে করিয়ে দেন যে সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ যেন তাঁর পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে জানতে না পারে, তা নিশ্চিত করতে তিনি তাঁর ভাবনাগুলো নিজের ও কয়েকজন ঘনিষ্ঠ ব্যক্তির মধ্যে সীমিত রাখতে পছন্দ করেন।

গত বৃহস্পতিবার সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপ সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে ট্রাম্প এক প্রতিবেদককে বলেন, ‘আমি এ বিষয়ে আপনাদের সঙ্গে কথা বলব না। আমরা কোনো না কোনোভাবে একটি চুক্তি করব অথবা চুক্তি আদায় করব।’

বড় ধাক্কা খেল যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। নিজের ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করে ট্রাম্প বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ওপর পাল্টা শুল্ক আরোপ করেছিলেন বলে রায় দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট। আজ শুক্রবার দেওয়া এ রায়ের ফলে অর্থনৈতিক উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে ট্রাম্প শুল্ককে যেভাবে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছিলেন, তা আটকে গেল।

সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিদের মধ্যে ছয়জন এ রায়ের পক্ষে মত দিয়েছেন। বিপক্ষে অর্থাৎ ট্রাম্পের পাল্টা শুল্ক আরোপের প্রক্রিয়া সমর্থন করেছেন তিন বিচারপতি। যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আদালতে ট্রাম্পের দল রিপাবলিকান পার্টি সমর্থিত বিচারপতিদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে।

রায়ে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের যে ইন্টারন্যাশনাল ইমারজেন্সি ইকোনোমিক পাওয়ারস অ্যাক্ট (আইইইপিএ) রয়েছে, তা প্রেসিডেন্টকে শুল্ক আরোপের ক্ষমতা দেয় না। এ আইন ব্যবহার করে বিভিন্ন দেশের ওপর পাল্টা শুল্ক আরোপ করেছিলেন ট্রাম্প। দুনিয়াজুড়ে আলোড়ন তৈরি করা এই পাল্টা শুল্ক আরোপের ঘোষণার সময় ট্রাম্প দিনটিকে আমেরিকার ‘স্বাধীনতা দিবস’ বলে অভিহিত করেছিলেন। এর মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র অর্থনৈতিক মুক্তি পাবে বলে দাবি করেছিলেন তিনি।

যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আদালত ওই শুল্ক আরোপকে আইনবহির্ভূত বললেও এর আওতায় এখন পর্যন্ত যে ১৩০ বিলিয়ন ডলার যুক্তরাষ্ট্র আদায় করেছে, তার কী হবে, সে বিষয়ে কিছু বলেননি।

ট্রাম্প দীর্ঘদিন বিভিন্ন দেশের ওপর চাপ প্রয়োগ এবং আলোচনার হাতিয়ার হিসেবে শুল্ককে ব্যবহার করছেন। তবে দ্বিতীয় মেয়াদে গত জানুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নেওয়ার পর জরুরি অর্থনৈতিক ক্ষমতা নজিরবিহীনভাবে ব্যবহার করছেন তিনি। যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় সব বাণিজ্যিক অংশীদারের ওপর নতুন করে শুল্ক আরোপ করেছেন। এর মধ্যে ছিল ‘পাল্টা শুল্ক’। এ ছাড়া মেক্সিকো, কানাডা ও চীনের ওপর আলাদা শুল্ক আরোপ করা হয়েছে।

রায়ের পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের তিনজন কনজারভেটিভ বিচারপতির সঙ্গে যোগ দেন উদারপন্থী তিন বিচারপতি। তাঁদের এই রায়ের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের নিম্ন আদালতের সিদ্ধান্ত বহাল থাকল। এর আগে দেশটির নিম্ন আদালত বলেছিলেন, আইইইপিএর অধীনে ট্রাম্পের আরোপ করা শুল্ক অবৈধ ছিল। আজকের রায়ের বিপক্ষে ছিলেন রক্ষণশীল বিচারপতি ব্রেট ক্যাভানফ, ক্ল্যারেন্স থমাস ও স্যামুয়েল আলিটো।

আদালতের এই রায় নিয়ে পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ইওয়াই–পার্থেননের প্রধান অর্থনীতিবিদ গ্রগরি ডাকো এএফপিকে বলেন, এই সিদ্ধান্তের ফলে গড় শুল্ক হার ১৬ দশমিক ৮ শতাংশ থেকে ৯ দশমিক ৫ শতাংশে নেমে আসতে পারে। তবে এই কমাটা সাময়িক সময়ের জন্য হতে পারে। কারণ, নতুন করে ব্যাপক হারে শুল্ক আরোপের জন্য অন্য পথ খুঁজতে পারে মার্কিন সরকার।

ট্রাম্পের শুল্ক আরোপের ফলে বিশ্ববাণিজ্যে বড় অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছিল। সেদিকে ইঙ্গিত করে শুল্ক নীতিবিষয়ক অলাভজনক সংস্থা ট্যাক্স ফাউন্ডেশনের এরিকা ইয়র্ক বলেন, আদালতে এই রায়ের মাধ্যমে ‘প্রেসিডেন্টের খেয়ালখুশিমতো সর্বব্যাপী শুল্ক আরোপের উচ্চাকাঙ্ক্ষাকে সীমিত করবে’। তবু প্রেসিডেন্টের কাছে শুল্ক আরোপের জন্য অন্যান্য আইনি বিধান ব্যবহার করার সুযোগ রয়ে গেছে।

পাকিস্তানের বাণিজ্যিক রাজধানী করাচিতে পবিত্র রমজান মাসের প্রথম দিনেই এক শোকাবহ ঘটনা ঘটেছে।

বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) সেহরির সময় সোলজারবাজার এলাকার একটি তিনতলা আবাসিক ভবনে শক্তিশালী বিস্ফোরণে নারী ও শিশুসহ অন্তত ১৬ জন নিহত হয়েছেন। এই ঘটনায় আরও অন্তত ১৩ জন গুরুতর আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে। বিস্ফোরণটি এতটাই প্রচণ্ড ছিল যে মুহূর্তের মধ্যেই পুরো ভবনটি ধসে পড়ে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়।

সিন্ধ প্রাদেশিক দুর্যোগ মোকাবিলা দপ্তরের করাচি শাখার প্রধান হাসান খান আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এএফপিকে জানিয়েছেন, স্থানীয় সময় ভোর ৪টার দিকে যখন ভবনের বাসিন্দারা সেহরির প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, ঠিক তখনই এই ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, হঠাৎ বিকট শব্দে এলাকা কেঁপে ওঠে এবং ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে যায় চারপাশ। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, রান্নাঘরের গ্যাস সিলিন্ডার থেকে এই বিস্ফোরণের সূত্রপাত হয়েছে। তবে প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে ইতিমধ্যে তদন্ত শুরু করেছে স্থানীয় প্রশাসন।

ভয়াবহ এই দুর্ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন সিন্ধ প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী মুরাদ আলী শাহ। তিনি নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানানোর পাশাপাশি আহতদের সর্বোত্তম চিকিৎসা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে জরুরি নির্দেশনা দিয়েছেন।

উদ্ধারকর্মীরা দীর্ঘ সময় চেষ্টা চালিয়ে ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে হতাহতদের উদ্ধার করেন। নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে কারণ উদ্ধার অভিযান চলাকালীন অনেকের অবস্থা ছিল অত্যন্ত সংকটজনক।

করাচিতে এই ধরনের ভবন ধসের ঘটনা এবারই প্রথম নয়। এর আগে গত জুলাই মাসে শহরের উপশহর লিয়ারিতে একটি গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণের জেরে ৫ তলা ভবন ধসে ২৭ জনের মৃত্যু হয়েছিল।

বারবার এমন দুর্ঘটনায় শহরের ভবনগুলোর নির্মাণশৈলী ও নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। নগর প্রশাসন ইতিমধ্যে করাচির প্রায় ৬০০টি ভবনকে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করে তালিকাভুক্ত করেছে। কর্তৃপক্ষের মতে, এই ভবনগুলো অত্যন্ত দুর্বলভাবে নির্মিত এবং যে কোনো সময় এগুলো বড় ধরনের দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে।

 

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তেজনার মধ্যেই ইরান নিজেদের সামরিক–পারমাণবিক ক্ষেত্র ও স্থাপনা মেরামত এবং নতুন অবকাঠামো তৈরির কাজ করছে। সম্প্রতি কয়েকটি স্যাটেলাইট ইমেজ পরীক্ষা করে বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, ইরান তাদের একটি সংবেদনশীল সামরিক ক্ষেত্রে নতুন একটি স্থাপনা তৈরির পর সেটির ওপর কংক্রিটের ঢাল তৈরি করে তা মাটি দিয়ে ঢেকে দিয়েছে।

স্যাটেলাইট দিয়ে তোলা এসব ছবিতে দেখা যাচ্ছে, গত বছর ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধের সময় বোমা হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত একটি পারমাণবিক স্থাপনার সুড়ঙ্গের প্রবেশদ্বারগুলো মাটিতে ঢেকে দিয়েছে ইরান। অন্য একটি স্থাপনার কাছে সুড়ঙ্গের প্রবেশদ্বারগুলোকে মজবুত করেছে এবং সংঘর্ষের সময় ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটিগুলো মেরামত করেছে।

গত বছর ইসরায়েলের সঙ্গে ১২ দিনের সংঘাতের সময় ইরানে কয়েকটি পারমাণবিক ও সামরিক স্থাপনায় বোমা হামলা চালিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র।

স্যাটেলাইটে তোলা ছবিতে যেসব পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে—

পারচিন সামরিক কমপ্লেক্স

রাজধানী তেহরান থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার দক্ষিণপূর্বে অবস্থিত পারচিন কমপ্লেক্স ইরানের সবচেয়ে সংবেদনশীল সামরিক ঘাঁটির একটি।

পশ্চিমা গোয়েন্দা সংস্থাগুলো ইঙ্গিত দিয়েছে, তেহরান দুই দশকের বেশি সময় আগে সেখানে পারমাণবিক বোমা বিস্ফোরণ সম্পর্কিত পরীক্ষা চালিয়েছে।

২০২৪ সালের অক্টোবরে ইসরায়েল বারবার ইরানের পারচিন সামরিক কমপ্লেক্সে হামলা চালায়। এখানে ওপরে হামলার আগের এবং নিচে হামলার পরের ছবি
২০২৪ সালের অক্টোবরে ইসরায়েল বারবার ইরানের পারচিন সামরিক কমপ্লেক্সে হামলা চালায়। এখানে ওপরে হামলার আগের এবং নিচে হামলার পরের ছবি, ছবি: রয়টার্স
 

ইরান সব সময়ই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির প্রচেষ্টার অভিযোগ অস্বীকার করেছে। ২০২৪ সালের অক্টোবরে ইসরায়েল বারবার পারচিনে হামলা চালায়।

ওই হামলার আগে ও পরে তোলা স্যাটেলাইট ছবি পরীক্ষা করে দেখা গেছে, হামলায় পারচিনের একটি আয়তাকার ভবন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পরে ২০২৪ সালের ৬ নভেম্বরের ছবিতে দেখা যাচ্ছে, সেখানে পুনর্নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছে।

১২ অক্টোবর ২০২৫ এর ছবিতে সেখানে আরও উন্নয়ন কার্যক্রমের তৎপরতা চিত্রে দেখা যাচ্ছে। সেখানে একটি নতুন ভবনের কাঠামো দেখা যাচ্ছে, তার পাশে দুটি ছোট ভবন। ১৪ নভেম্বরের ছবিতে কাজের অগ্রগতি স্পষ্ট। সেদিনের ছবিতে বড় ভবনের ওপর কংক্রিটের ছাদ বসানো হয়েছে বলে মনে হচ্ছে।

তারপর ১৩ ডিসেম্বরের ছবিতে দেখা যাচ্ছে, স্থাপনার কিছু অংশ ঢেকে গেছে। ১৬ ফেব্রুয়ারির ছবিতে স্থাপনাটি সম্পূর্ণভাবে অদৃশ্য হয়ে গেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কংক্রিটের একটি কাঠামোর আড়ালে সেটিকে লুকিয়ে ফেলা হয়েছে।

ইনস্টিটিউট ফর সায়েন্স অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল সিকিউরিটি (আইএসআইএস) ২২ জানুয়ারি তোলা ছবি বিশ্লেষণ করে দেখিয়েছে, ওই স্থাপনার নতুন নির্মিত ভবনের চারপাশে কংক্রিটের ঢিবির মতো কাঠামো নির্মাণের কাজ অগ্রসর হচ্ছে। তারা ওই স্থাপনাটিকে তলেঘান–২ হিসেবে চিহ্নিত করেছে।

ইস্পাহান পারমাণবিক কমপ্লেক্সের সুড়ঙ্গের প্রবেশপথ মাটিতে ঢাকা

ইস্পাহান কমপ্লেক্স হলো ওই তিনটি ইরানি ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্রের একটি, যেখানে গত বছর জুনে যুক্তরাষ্ট্র বোমা হামলা চালিয়েছিল।

পারমাণবিক জ্বালানি চক্রের অংশ হিসেবে থাকা স্থাপনাগুলোর পাশাপাশি ইস্পাহান কমপ্লেক্সে একটি ভূগর্ভস্থ এলাকা রয়েছে। কূটনীতিকদের ধারণা, ইরানের বেশির ভাগ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ভূগর্ভস্থ ওই এলাকায় সংরক্ষিত আছে।

স্যাটেলাইটের ছবিতে ইস্পাহানের পারমাণবিক কমপ্লেক্সে সুড়ঙ্গ প্রবেশদ্বারগুলো মাটিতে ঢাকা রয়েছে। এই ছবিটি ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ এ তোলা
স্যাটেলাইটের ছবিতে ইস্পাহানের পারমাণবিক কমপ্লেক্সে সুড়ঙ্গ প্রবেশদ্বারগুলো মাটিতে ঢাকা রয়েছে। এই ছবিটি ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ এ তোলা, ছবি: রয়টার্স
 

আইএসআইএস জানিয়েছে, জানুয়ারির শেষ দিকে তোলা ছবিতে ইস্পাহান কমপ্লেক্সের দুটি সুড়ঙ্গ প্রবেশদ্বার মাটিতে ঢাকার নতুন প্রচেষ্টা দেখা গেছে।

৯ ফেব্রুয়ারি হালনাগাদ তথ্যে আইএসআইএস বলেছে, তৃতীয় প্রবেশদ্বারও মাটিতে সম্পূর্ণভাবে ঢেকে গেছে। এর অর্থ, এখন সুড়ঙ্গ কমপ্লেক্সটির সব প্রবেশদ্বার ‘সম্পূর্ণরূপে মাটির নিচে’।

নাতাঞ্জের কাছের কমপ্লেক্সের সুড়ঙ্গের মুখগুলো মজবুত করা হয়েছে

আইএসআইএস জানিয়েছে, স্যাটেলাইট ছবিগুলো ইঙ্গিত দিচ্ছে, ১০ ফেব্রুয়ারি থেকে নাতাঞ্জ কমপ্লেক্সের কাছের একটি পাহাড়ের নিচে থাকা সুড়ঙ্গ কমপ্লেক্সের দুটি প্রবেশপথ ‘শক্তিশালী ও প্রতিরক্ষামূলকভাবে মজবুত’ করার কাজ চলছে।

নাতাঞ্জে ইরানের বাকি দুটি ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্র রয়েছে। পাহাড়ের নিচে থাকা এই সুড়ঙ্গ কমপ্লেক্সটি নাতাঞ্জ কমপ্লেক্স থেকে ২ কিলোমিটার দূরে।

স্যাটেলাইটে তোলা ছবিতে নাতাঞ্জ কমপ্লেক্সের কাছের একটি স্থাপনার দুইটি সুড়ঙ্গ প্রবেশপথকে শক্তিশালী ও মজবুত করার কাজ চলছে। এই ছবিটি ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ এ তোলা
স্যাটেলাইটে তোলা ছবিতে নাতাঞ্জ কমপ্লেক্সের কাছের একটি স্থাপনার দুইটি সুড়ঙ্গ প্রবেশপথকে শক্তিশালী ও মজবুত করার কাজ চলছে। এই ছবিটি ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ এ তোলা, ছবি: রয়টার্স
 

আইএসআইএস আরও বলেছে, স্যাটেলাইট ছবিতে দেখা যাচ্ছে, পুরো কমপ্লেক্সজুড়ে কর্মযজ্ঞ চলছে। ছবিতে সেখানে বহু যানবাহন চলাচল করতে দেখা গেছে। এর মধ্যে ডাম্প ট্রাক, সিমেন্ট মিক্সার এবং অন্যান্য ভারী যন্ত্রপাতিও রয়েছে।

‘পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন’ নামে পরিচিত এই স্থাপনাটি নিয়ে ইরান কী পরিকল্পনা নিয়েছে, তা স্পষ্ট নয় বলেও জানিয়েছে আইএসআইএস।

দক্ষিণ শিরাজের ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি

দক্ষিণ ইরানের শিরাজ শহর থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত এই ঘাঁটিটি মাঝারি-পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণে সক্ষম ইরানের ২৫টি প্রধান ঘাঁটির একটি। ইসরায়েলি সংস্থা আলমা রিসার্চ অ্যান্ড এডুকেশন সেন্টারের মূল্যায়ন অনুযায়ী, গত বছরের যুদ্ধে এই স্থাপনাটি তুলনামূলকভাবে কম ক্ষতির শিকার হয়েছে।

স্যাটেলাইটের ছবিতে ইরানের শিরাজ ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি। বাম দিকের ছবিতে (৩ জুলাই ২০২৫) পুনর্নির্মাণের আগে এবং ডান দিকের ছবিতে (৩০ জানুয়ারি ২০২৬) পুনর্নির্মাণ ও ধ্বংসাবশেষ সরানোর কাজের পর ঘাঁটির অবস্থা দেখা যাচ্ছে

স্যাটেলাইটের ছবিতে ইরানের শিরাজ ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি। বাম দিকের ছবিতে (৩ জুলাই ২০২৫) পুনর্নির্মাণের আগে এবং ডান দিকের ছবিতে (৩০ জানুয়ারি ২০২৬) পুনর্নির্মাণ ও ধ্বংসাবশেষ সরানোর কাজের পর ঘাঁটির অবস্থা দেখা যাচ্ছে,ছবি: রয়টার্স

৩ জুলাই ২০২৫ এবং ৩০ জানুয়ারি তোলা ছবিগুলোর তুলনা করলে দেখা যায়, ঘাঁটির প্রধান লজিস্টিকস এলাকা এবং সম্ভাব্য কমান্ড কম্পাউন্ডে পুনর্নির্মাণ ও ধ্বংসাবশেষ সরানোর কাজ চলছে।

কোম ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি

আলমার মতে, কোম শহর থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার উত্তরে অবস্থিত এই ঘাঁটির ভূপৃষ্ঠের ওপরের অংশ মাঝারি মাত্রার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

গুডহাইন্ডের মতে, ১৬ জুলাই ২০২৫ এবং ১ ফেব্রুয়ারি তোলা ছবিগুলোর তুলনা থেকে দেখা যাচ্ছে, ক্ষতিগ্রস্ত ভবনের ওপর একটি নতুন ছাদ তৈরি করা হয়েছে। ছাদ মেরামতের কাজ ১৭ নভেম্বর শুরু হয়েছিল এবং সম্ভবত ১০ দিনের মধ্যে সম্পন্ন হয়েছে।

রয়টার্স

যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে আজ বৃহস্পতিবার ডোনাল্ড ট্রাম্পের স্বঘোষিত ‘বোর্ড অব পিস’ বা শান্তি পর্ষদের উদ্বোধনী বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। বৈঠকে সদস্যরাষ্ট্রগুলোর প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে গাজা পুনর্গঠনের কৌশল ও অর্থায়নের পরিকল্পনা ঘোষণা করবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

ওয়াশিংটনের ‘ইউএস ইনস্টিটিউট অব পিস’-এ শান্তি পর্ষদের এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিমা মিত্ররা এ পর্ষদ থেকে নিজেদের কিছুটা সতর্ক দূরত্বে রাখলেও মধ্যপ্রাচ্যের বেশ কয়েকটি দেশ এতে যোগ দিচ্ছে।

নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প এই পর্ষদের ‘অসীম সম্ভাবনা’র প্রশংসা করে লিখেছেন, ‘শান্তি পর্ষদ ইতিহাসের সবচেয়ে প্রভাবশালী আন্তর্জাতিক সংস্থা হিসেবে প্রমাণিত হবে।’ ট্রাম্প নিজেই এ পর্ষদের আজীবন চেয়ারম্যান।

তবে সমালোচকেরা এ পর্ষদকে ট্রাম্পের ‘সাম্রাজ্যবাদী এজেন্ডা’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। অনেক বিশ্লেষক মনে করছেন, এই পর্ষদ কার্যত জাতিসংঘকে চ্যালেঞ্জ জানাতেই তৈরি করা হয়েছে।

পর্ষদে কারা থাকছে, কারা থাকছে না

এ পর্ষদের সদস্য হিসেবে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে আমন্ত্রণ জানিয়ে সমালোচনার মুখে পড়েছেন ট্রাম্প। আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) এই দুই নেতার বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন। তবে এ পর্যন্ত শুধু নেতানিয়াহু আনুষ্ঠানিকভাবে এ আমন্ত্রণ গ্রহণ করেছেন; যদিও ‘গাজা নির্বাহী পর্ষদে’ তুরস্ক ও কাতারের কর্মকর্তাদের অন্তর্ভুক্তি নিয়ে তিনি ক্ষুব্ধ।

হোয়াইট হাউস মোট ৫০টি দেশকে এ পর্ষদে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানালেও ৩৫টি দেশ আগ্রহ দেখিয়েছে। এর মধ্যে ২৬টি দেশ প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হিসেবে তালিকায় নাম লিখিয়েছে। অন্যদিকে ১৪টি দেশ আমন্ত্রণ প্রত্যাখ্যান করেছে।

আজ ওয়াশিংটনের বৈঠকে অংশ নিতে যাওয়া দেশগুলোর কয়েকটির জন্য বিষয়টি শুধু কূটনৈতিক নয়; অভ্যন্তরীণ রাজনীতির সঙ্গেও জড়িত। অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড নিয়ে এ উদ্বোধনী বৈঠকে যে সিদ্ধান্ত হবে, তা তাদের নিজ নিজ দেশেও প্রভাব ফেলতে পারে।

তাহলে কারা আসছেন? কারা আসছেন না?

সমালোচকেরা এ শান্তি পর্ষদকে ট্রাম্পের ‘সাম্রাজ্যবাদী এজেন্ডা’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। অনেক বিশ্লেষক মনে করছেন, এ পর্ষদ কার্যত জাতিসংঘকে চ্যালেঞ্জ জানাতেই তৈরি করা হয়েছে।

উদ্বোধনী বৈঠকের এজেন্ডা

উদ্বোধনী বৈঠকের প্রধান লক্ষ্য হলো, গাজা পুনর্গঠন পরিকল্পনা। ইসরায়েলের গণহত্যামূলক যুদ্ধে গাজা বর্তমানে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে; যে যুদ্ধে স্বয়ং যুক্তরাষ্ট্র কূটনৈতিক ও সামরিক সমর্থন দিয়ে আসছে।

পর্ষদের সদস্যরাষ্ট্রগুলোর কাছ থেকে ‘গাজার মানবিক ও পুনর্গঠন প্রচেষ্টায়’ ৫ বিলিয়ন (৫০০ কোটি) ডলার তহবিলের ঘোষণা আসতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। এ ছাড়া গাজায় শান্তি বজায় রাখতে একটি ‘আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনী’ (ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স) গঠনের বিষয়েও বিস্তারিত আলোচনা হবে। গত বছর ঘোষিত ট্রাম্প প্রশাসনের ২০ দফা শান্তি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এই বাহিনী গাজায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব পালন করবে।

এ পরিকল্পনায় গাজায় ধাপে ধাপে যুদ্ধবিরতি, ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের নিরস্ত্রীকরণ ও অন্তর্বর্তী সময়ে গাজা শাসনের জন্য একটি বিশেষজ্ঞ শাসন কাঠামো গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

গত মাসে সুইজারল্যান্ডের দাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) বৈঠকের ফাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে এ শান্তি পর্ষদস্বরূপ উন্মোচন করা হয়েছে। সেখানে ট্রাম্পের জামাতা ও পর্ষদের নির্বাহী সদস্য জ্যারেড কুশনার গাজা পুনর্গঠনে একটি চকচকে রূপরেখা তুলে ধরেন। এর মধ্যে গাজা উপত্যকাকে সমুদ্রসৈকতের অবকাশযাপন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা ও সেখানে বহুতল ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা ছিল। তবে ফিলিস্তিনি অধিকার রক্ষা গোষ্ঠীগুলো একে ‘সাম্রাজ্যবাদী’ পরিকল্পনা বলে প্রত্যাখ্যান করেছে।

শান্তি পর্ষদ ইতিহাসের সবচেয়ে প্রভাবশালী আন্তর্জাতিক সংস্থা হিসেবে প্রমাণিত হবে।ডোনাল্ড ট্রাম্প, মার্কিন প্রেসিডেন্ট

১৫ ফেব্রুয়ারি ট্রাম্প ট্রুথ সোশ্যালে জানান, শান্তি পর্ষদের সদস্যরাষ্ট্রগুলো ‘গাজাবাসীর নিরাপত্তায় ও গাজায় শান্তি বজায় রাখতে আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনী এবং স্থানীয় পুলিশের জন্য হাজার হাজার কর্মী নিয়োগে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়েছে’।

ইসরায়েলি তাণ্ডবে গুঁড়িয়ে যাওয়া গাজা উপত্যকা এবং অধিকৃত পশ্চিম তীরে ধ্বংসযজ্ঞ চালানোর পর ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড পুনর্গঠন করা একটি বিশাল কাজ। জাতিসংঘ মনে করছে, এ কাজে প্রায় ৭০ বিলিয়ন (৭,০০০ কোটি) ডলার প্রয়োজন হবে।

প্রাথমিকভাবে মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা আনার কথা থাকলেও এখন এ পর্ষদ বিশ্বজুড়ে দ্বন্দ্ব–সংঘাত নিরসনের পরিকল্পনা করছে। ট্রাম্প তাঁর পোস্টে আরও বলেন, এ পর্ষদ ‘গাজার বেসামরিক নাগরিকদের জন্য একটি সাহসী দৃষ্টিভঙ্গি উপস্থাপন করবে এবং শেষ পর্যন্ত গাজার গণ্ডি ছাড়িয়ে বিশ্ব শান্তি নিশ্চিত করবে!’

উদ্বোধনী বৈঠকে কারা আসছেন, কারা আসছেন না

হোয়াইট হাউস ৫০টি দেশের প্রতিনিধিকে এ পর্ষদের বৈঠকে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানালেও এ পর্যন্ত ৩৫টি দেশের নেতা আগ্রহ দেখিয়েছেন। অন্তত ১৪টি দেশের নেতারা আমন্ত্রণ প্রত্যাখ্যান করেছেন।

হোয়াইট হাউস মোট ৫০টি দেশকে এ পর্ষদে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানালেও  ৩৫টি দেশ আগ্রহ দেখিয়েছে। এর মধ্যে ২৬টি দেশ প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হিসেবে তালিকায় নাম লিখিয়েছে। অন্যদিকে ১৪টি দেশ আমন্ত্রণ প্রত্যাখ্যান করেছে।
 

ইউরোপ

ইউরোপের দেশগুলো এ পর্ষদ নিয়ে বিভক্ত। বিশেষ করে ট্রাম্পের প্রেসিডেন্সি শেষ হওয়ার পরও তিনি এটির চেয়ারম্যান থাকবেন কি না, তা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে।

ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) জানিয়েছে, তারা পর্ষদে যোগ দিচ্ছে না এবং ইইউ কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লিয়েন বৃহস্পতিবারের আমন্ত্রণ ফিরিয়ে দিয়েছেন। ইউক্রেন যুদ্ধ চলাকালীন পুতিনকে সদস্য হওয়ার আমন্ত্রণ জানানোয় ইউরোপীয় দেশগুলোর জন্য বিষয়টি আরও জটিল হয়েছে; যদিও পুতিন পর্ষদে যোগ দেওয়ার বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেননি।

ইউরোপের গুরুত্বপূর্ণ শক্তি ফ্রান্স, জার্মানি, যুক্তরাজ্য ও স্পেন এ পর্ষদে যোগ দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।

তবে ইউরোপীয় ইউনিয়ন তাদের ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চল বিষয়ক কমিশনার দুব্রাভকা সুইচাকে পর্যবেক্ষক হিসেবে পাঠাচ্ছে। একজন মুখপাত্র বলেছেন, পর্ষদের কর্মকাঠামো নিয়ে প্রশ্ন থাকলেও গাজার শান্তি পরিকল্পনা বাস্তবায়নে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কাজ করবে ইইউ।

ইউরোপীয় ইউনিয়ন ট্রাম্পের শান্তি পর্ষদে সদস্য না হলেও জোট সদস্য হাঙ্গেরি ও বুলগেরিয়া পর্ষদে যোগ দিয়েছে। হাঙ্গেরির প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর অরবান বৈঠকে অংশ নিচ্ছেন। অরবান ট্রাম্পের একজন ঘনিষ্ঠ মিত্র বলে পরিচিত। কসোভো ও আলবেনিয়াও সদস্য হিসেবে যোগ দিচ্ছে।

বৈঠকে ইতালি, সাইপ্রাস, গ্রিস ও রোমানিয়া পর্যবেক্ষক পাঠাচ্ছে। রোমানিয়ার প্রেসিডেন্ট নিকুসর ড্যানও বৈঠকে সরাসরি অংশ নেবেন। পোপ ফ্রান্সিস এই আমন্ত্রণ প্রত্যাখ্যান করে জাতিসংঘের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।

বাস্তবে বিষয়টি (শান্তি পর্ষদে যোগ দেওয়া) যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করা ও ট্রাম্পের মতো অস্থির ব্যক্তিকে অসন্তুষ্ট না করার সঙ্গে বেশি জড়িত। সাম্প্রতিক দশকগুলোতে ফিলিস্তিনের পক্ষে শক্ত অবস্থান নেওয়ার ক্ষেত্রে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর রেকর্ড ভালো নয়।তাহানি মুস্তাফা, ইউরোপিয়ান কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশন্সের ভিজিটিং ফেলো

মধ্যপ্রাচ্য

মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি শক্তিধর দেশ শান্তি পর্ষদে যোগ দিয়েছে। ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিডিওন সার বৈঠকে অংশ নিচ্ছেন। এ ছাড়া ট্রাম্পের দীর্ঘদিনের মিত্র সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই), মরক্কো, বাহরাইন, মিসর, সৌদি আরব, তুরস্ক, জর্ডান, কাতার ও কুয়েত এতে যোগ দিয়েছে। দেশগুলোর প্রতিনিধিরা বৈঠকে অংশ নিচ্ছেন।

ইউরোপিয়ান কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশন্সের মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকা কর্মসূচির ভিজিটিং ফেলো তাহানি মুস্তাফা মতে, আল–জাজিরাকে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিমা মিত্ররা ‘নিয়মভিত্তিক উদার আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা ও বহুপাক্ষিকতা’ ধরে রাখতে চায়। এতে তারা সমান অবস্থান পায়।

তাহানি মুস্তাফা বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো বলছে, তারা বাস্তববাদী হতে চায় এবং গাজার জন্য যা ভালো, সেটাই করতে চায়; যাতে রক্তপাত বন্ধ হয়।

ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের সাবেক এই বিশ্লেষক বলেন, বাস্তবে বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করা ও ট্রাম্পের মতো অস্থির ব্যক্তিকে অসন্তুষ্ট না করার সঙ্গে বেশি জড়িত। সাম্প্রতিক দশকগুলোতে ফিলিস্তিনের পক্ষে শক্ত অবস্থান নেওয়ার ক্ষেত্রে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর রেকর্ড ভালো নয়।

এশিয়া ও ওশেনিয়া

মধ্য এশিয়া থেকে কাজাখস্তান ও উজবেকিস্তানের প্রেসিডেন্টরা সদস্য হিসেবে বৈঠকে অংশ নিচ্ছেন। এ ছাড়া আর্মেনিয়া ও আজারবাইজানের শীর্ষ নেতারাও ওয়াশিংটনে পৌঁছেছেন।

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া থেকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাবো সুবিয়ান্তো ও ভিয়েতনামের কমিউনিস্ট পার্টির সাধারণ সম্পাদক তো লাম অংশ নিচ্ছেন।

দক্ষিণ এশিয়া থেকে একমাত্র দেশ হিসেবে পাকিস্তান পর্ষদে যোগ দিচ্ছে এবং প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ওয়াশিংটনে রয়েছেন। ভারত আমন্ত্রণটি পর্যালোচনা করছে, কিন্তু এখনো যোগ দেয়নি। অন্যদিকে নিউজিল্যান্ড আমন্ত্রণ প্রত্যাখ্যান করেছে। আর অস্ট্রেলিয়া বলেছে, তারা আমন্ত্রণ পর্যালোচনা করে দেখছে।

আল–জাজিরা

ইরানের ওপর সামরিক হামলা চালাতে চলতি সপ্তাহের শেষেই প্রস্তুত থাকতে পারে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী। তবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখনও এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি। বিষয়টি সিএনএনকে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র।

সূত্রগুলো জানায়, হোয়াইট হাউসকে জানানো হয়েছে মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক দিনগুলোতে বিমান ও নৌ শক্তির বড় ধরনের সমাবেশের পর সপ্তাহান্ত নাগাদ হামলার জন্য প্রস্তুত থাকতে পারে মার্কিন সামরিক বাহিনী। তবে ট্রাম্প ব্যক্তিগতভাবে হামলার পক্ষে ও বিপক্ষে-দুই ধরনের যুক্তিই বিবেচনা করছেন। তিনি উপদেষ্টা ও মিত্রদের মতামতও নিচ্ছেন।

বুধবার হোয়াইট হাউসের সিচুয়েশন রুমে জাতীয় নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট শীর্ষ কর্মকর্তারা বৈঠক করেন। একই দিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও জামাতা জ্যারেড কুশনার ট্রাম্পকে ইরানের সঙ্গে তাদের পরোক্ষ আলোচনার বিষয়ে ব্রিফ করেন। তবে সপ্তাহান্তের মধ্যে সিদ্ধান্ত হবে কি না, তা স্পষ্ট নয়।

মঙ্গলবার জেনেভায় সাড়ে তিন ঘণ্টা ধরে নোট আদান-প্রদানের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা হয়। কোনো চূড়ান্ত সমাধান ছাড়াই বৈঠক শেষ হয়। ইরানের প্রধান আলোচক বলেন, উভয় পক্ষ একটি ‘নির্দেশক নীতিমালায়’ একমত হয়েছে। তবে একজন মার্কিন কর্মকর্তা জানান, এখনো অনেক বিস্তারিত বিষয় আলোচনা বাকি।

হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট বলেন, কূটনীতি ট্রাম্পের প্রথম পছন্দ। তবে সামরিক পদক্ষেপের বিকল্পও খোলা রয়েছে।