বাহরাইনে মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে ইরান হামলা চালিয়েছে বলে জানিয়েছে ইরানের ইসলামী বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি)। বাহরাইনে জুফায়র ঘাঁটি লক্ষ্য করে এই ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে।

আইআরজিসি বলেছে, কেশমের একটি পানির প্ল্যান্টের ওপর মার্কিন হামলার জবাব হিসেবে এই হামলা চালানো হয়েছে।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এর আগে বলেছিলেন, ওই মার্কিন হামলায় ৩০টি গ্রামের পানি সরবরাহে বাধা সৃষ্টি করেছে।

বাহরাইনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ বলছে, হামলার সময় সাইরেন বেজে উঠেছে। বাসিন্দাদের শান্ত থাকার এবং নিরাপদ আশ্রয় খুঁজে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ঠেকিয়েছে কাতার

কাতার লক্ষ্য করে চালানো ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ঠেকানোর কথা জানিয়েছে দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, কাতার লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে, কাতারের সশস্ত্র বাহিনী সেই হামলা ঠেকিয়েছে।

সূত্র: আল জাজিরা

ইরান নতুন দফার হামলায় হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে বলে জানিয়েছে দেশটির ইসলামী বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি)। ২৫ তম দফার হামলায় এই ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে ইরান।

আইআরজিসির সংক্ষিপ্ত এক বিবৃতির বরাত দিয়ে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম এ কথা জানায়। এতে বলা হয়, আইআরজিসি মার্কিন সামরিক ঘাঁটি এবং সামরিক সহায়তা কেন্দ্রগুলো লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করে হামলা চালিয়েছে। এই অভিযানে হাইপারসোনিক ফাতাহ ক্ষেপণাস্ত্র এবং ব্যালিস্টিক এমাদ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র শব্দের গতির চেয়ে পাঁচ গুণ বেশি গতিতে ছুটতে পারে। ঘণ্টায় এর গতি ৬ হাজার ১৭৪ কিলোমিটার বা ৩ হাজার ৮৩৬ মাইল।

সূত্র: আল জাজিরা

পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থাকে দিকনির্দেশনা দেওয়ার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি রাডার ব্যবস্থা ধ্বংস করে দিয়েছে ইরান। ৩০ কোটি ডলার মূল্যের এই রাডারটি ধ্বংস হওয়ায় ভবিষ্যতে এই অঞ্চলে হামলা ঠেকানোর সক্ষমতা বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। মার্কিন এক কর্মকর্তা এমন তথ্য জানিয়েছেন।

সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়, বাণিজ্যিক স্যাটেলাইট থেকে পাওয়া ছবিগুলো দেখাচ্ছে, যুদ্ধের শুরুর দিনগুলোতে জর্ডানের মুওয়াফফাক সালতি বিমানঘাঁটিতে মার্কিন ‘থাড’ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থায় ব্যবহৃত একটি আরটিএক্স করপোরেশনের ‘এন/টিপিওয়াই–২’ রাডার এবং এর আনুষঙ্গিক সরঞ্জাম ধ্বংস করা হয়েছে। পরে একজন মার্কিন কর্মকর্তাও ‘থাড’–এর প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ধ্বংস হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক চিন্তক প্রতিষ্ঠান ‘ফাউন্ডেশন ফর ডিফেন্স অব ডেমোক্রেসিজ’–এর তথ্য অনুযায়ী, জর্ডানে ইরানের দুটি হামলার খবর পাওয়া গেছে। একটি ২৮ ফেব্রুয়ারি এবং অন্যটি ৩ মার্চ। দুটি হামলাই প্রতিহত করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছিল।

ফাউন্ডেশন ফর ডিফেন্স অব ডেমোক্রেসিজের সামরিক ও রাজনৈতিক শক্তি কেন্দ্রের উপপরিচালক রায়ান ব্রবস্ট বলেন, ‘যদি ধ্বংসের বিষয়টি সত্যি হয়ে থাকে, তবে থাড রাডারের ওপর এই হামলা হবে ইরানের অন্যতম সফল আক্রমণ।’

তবে ব্রবস্ট আরও যোগ করেন, ‘মার্কিন সামরিক বাহিনী এবং তাদের মিত্রদের কাছে আরও রাডার রয়েছে, যা আকাশ ও ক্ষেপণাস্ত্র সুরক্ষা দিতে পারে। ফলে একক কোনো রাডার হারালে সেই ক্ষতি কিছুটা পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব।’

মার্কিন ‘টার্মিনাল হাই অল্টিটিউড এরিয়া ডিফেন্স’–এর (থাড) কাজ হলো বায়ুমণ্ডলের একেবারে শেষ সীমানায় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করা। এর মাধ্যমে তারা প্যাট্রিয়ট ব্যাটারির চেয়েও অনেক বেশি কঠিন ও জটিল হুমকি মোকাবিলা করতে পারে। বর্তমানে এই ‘এন/টিপিওয়াই–২’ রাডারটি অকেজো হয়ে যাওয়ায় ক্ষেপণাস্ত্র ঠেকানোর দায়িত্ব পড়বে প্যাট্রিয়ট ব্যবস্থার ওপর। এটির ‘পিএসি–৩’ ক্ষেপণাস্ত্রের সরবরাহ ইতিমধ্যেই অনেক কমে গেছে।

সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের (সিএসআইএস) তথ্যমতে, দক্ষিণ কোরিয়া, গুয়ামসহ সারা বিশ্বে যুক্তরাষ্ট্রের মাত্র আটটি থাড প্রতিরক্ষাব্যবস্থা রয়েছে। প্রতিটি ব্যবস্থার দাম প্রায় ১০০ কোটি ডলার, যার মধ্যে শুধু রাডারটির দামই ৩০ কোটি ডলার।

সিএসআইএস–এর ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞ টম কারাকো বলেন, ‘এগুলো অত্যন্ত দুষ্প্রাপ্য কৌশলগত সম্পদ এবং এটি হারানো এক বিরাট ধাক্কা।’

টমক কারাকো আরও বলেন, ২০১২ সালের লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী সেনাবাহিনীর নয়টি থাড ব্যাটারি প্রয়োজন ছিল। কিন্তু বর্তমানে আছে মাত্র আটটি। তাই হাতের কাছে বাড়তি কোনো ‘টিপিওয়াই–২’ রাডার নেই।

প্রতিটি ‘থাড’ প্রতিরক্ষা ব্যাটারিতে ৯০ জন সেনা, ট্রাকে বসানো ছয়টি লঞ্চার, ৪৮টি ইন্টারসেপ্টর (প্রতি লঞ্চারে ৮টি), একটি টিপিওয়াই–২ রাডার এবং একটি ফায়ার কন্ট্রোল ও যোগাযোগ ইউনিট থাকে। লকহিড মার্টিন করপোরেশনের তৈরি প্রতিটি ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের দাম প্রায় ১ কোটি ৩০ লাখ ডলার।

প্যাসিফিক ফোরাম রিসার্চ ইনস্টিটিউটের জ্যেষ্ঠ ফেলো উইলিয়াম অ্যালবার্ক বলেন, ‘আপনি যদি সমন্বিত আকাশ ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থা চান, তাহলে এটি এমন একটি সরঞ্জাম, যা আপনাকে অবশ্যই যুদ্ধক্ষেত্রে মোতায়েন রাখতে হবে।’

ক্যালিফোর্নিয়ার জেমস মার্টিন সেন্টার ফর নন–প্রলিফারেশন স্টাডিজের গবেষণা অনুযায়ী, যুদ্ধের শুরুর দিকে কাতারে মোতায়েন ‘এএন/এফপিএস–১৩২’ রাডারও ইরানের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। থাড সিস্টেমের মতো এটি স্থানান্তরযোগ্য নয়, বরং একটি স্থায়ী স্থাপনা। এই রাডারটি মূলত অনেক দূর থেকে আগত হুমকি শনাক্ত করতে স্থাপন করা হয়েছে। তবে এটি নিশানায় নিখুঁতভাবে অস্ত্র নিক্ষেপের জন্য উপযুক্ত নয়।

উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের আকাশ ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ইরানের ড্রোন এবং ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্টা হামলায় চাপের মুখে রয়েছে। ফলে মাঝেমধ্যে চাপ সামলানো কঠিন হয়ে পড়ছে। এর ফলে থাড এবং প্যাট্রিয়টের (পিএসি–৩) মতো উন্নত ইন্টারসেপ্টরগুলোর মজুত আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

গত শুক্রবার হোয়াইট হাউসে লকহিড ও আরটিএক্স-এর মতো প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠানগুলো এক বৈঠকে বসেছে। পেন্টাগন এখন তাদের অস্ত্রের উৎপাদন দ্রুত বাড়াতে চাপ দিচ্ছে।

সিএনএন

খুব শিগগির কিউবার পতন হবে বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গতকাল শুক্রবার সকালে সিএনএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প এ কথা বলেছেন।

সিএনএনের উপস্থাপক ডানা ব্যাশকে টেলিফোনে সাক্ষাৎকারটি দিয়েছেন ট্রাম্প। এ সময় তিনি নিজের দ্বিতীয় মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সাফল্যের কথা তুলে ধরেন। একপর্যায়ে ট্রাম্প কিউবার প্রসঙ্গ টেনে এনে বলেন, ‘খুব শিগগির কিউবার পতন ঘটবে। যদিও বিষয়টা অপ্রাসঙ্গিক, তবু বলে রাখছি যে কিউবারও পতন ঘটতে যাচ্ছে। তারা একটি চুক্তি করার জন্য মরিয়া হয়ে আছে।’

ট্রাম্প আরও বলেন, ‘তারা একটি চুক্তি করতে চায়। তাই আমি মার্কোকে (পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও) সেখানকার দায়িত্ব দেব। তারপর দেখব কী হয়।’

তবে এ মুহূর্তে ইরানই তাঁদের অগ্রাধিকারের জায়গা বলে উল্লেখ করেন ট্রাম্প।

এর এক দিন আগে হোয়াইট হাউসে ট্রাম্প বলেছিলেন, কিউবার বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিকদের তাঁদের জন্মভূমি কিউবাতে ফিরে যাওয়াটা এখন শুধু সময়ের ব্যাপার। এর মধ্য দিয়ে তিনি ইঙ্গিত করেছেন, ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের পর ট্রাম্প প্রশাসনের পরবর্তী এজেন্ডা হতে পারে কিউবা।

গত বৃহস্পতিবার নিজের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওকে ইঙ্গিত করে ট্রাম্প বলেন, ‘তিনি খুব ভালো কাজ করছেন। আর আপনার পরবর্তী কাজ হবে বিশেষ করে কিউবাকে নিয়ে, যেটা আমরা করতে চাই।’

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট আরও বলেছিলেন, ‘তিনি (রুবিও) এখন অপেক্ষা করছেন। তবে তিনি বলেছেন, “আগে এটাকে শেষ করি।” আমরা চাইলে সবকিছু একই সময়েও করতে পারতাম, কিন্তু তখন খারাপ কিছু ঘটে যেত। বছরের পর বছর ধরে আপনি যদি বিভিন্ন দেশকে লক্ষ্য করে থাকেন, দেখবেন সবকিছু খুব দ্রুত করতে গেলে খারাপ কিছু ঘটে। আমরা আমাদের দেশের সঙ্গে কোনো খারাপ কিছু ঘটতে দেব না।’

সিএনএন

চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে বিশ্ববাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি বন্ধের কোনো পরিকল্পনা নেই বলে জানিয়েছেন ইরানের সামরিক বাহিনীর একজন মুখপাত্র। ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন ওই মুখপাত্রের এমন বক্তব্য প্রচার করেছে।

তবে নাম প্রকাশ না করা ইরানের ওই মুখপাত্র বলেন, হরমুজ প্রণালি বন্ধ করা না হলেও সেখান দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্কিত জাহাজ চলাচল করতে গেলে সেটাকে নিশানা বানানো হবে।

ওই মুখপাত্র আরও বলেন, ‘আমরা হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করতে ইচ্ছুক কোনো জাহাজকে বাধা দেব না। তবে এর নিরাপত্তার দায়ভার সংশ্লিষ্ট জাহাজকে নিতে হবে।’
‘জায়নবাদী সত্ত্বা (ইসরায়েল) ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কিত কোনো জাহাজ হরমুজ প্রণালি পার হতে গেলে সেটাকে নিশানা করা হবে’—ঘোষণা দিয়েছেন ইরানের ওই মুখপাত্র।

আল–জাজিরার তথ্য অনুযায়ী, জ্বালানি তেল পরিবহনের জন্য বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি ৩৯ কিলোমিটার (২৪ মাইল) দীর্ঘ। পারস্য সাগর আর ওমান সাগরের মধ্য সংযোগ তৈরি করেছে এই প্রণালি। বিশ্বের মোট জ্বালানির এক–ষষ্ঠাংশ এবং এলএনজির এক–তৃতীয়াংশ এই প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হয়ে থাকে।

ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান যৌথ আগ্রাসন এবং তেহরানের পাল্টা জবাবের কারণে বিশ্ববাণিজ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ বর্তমানে কার্যত বন্ধ রয়েছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনের তথ্য, এ পরিস্থিতিতে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহের পাঁচ ভাগের এক ভাগ বন্ধ হয়ে যেতে বসেছে।

 
বিশ্বজুড়ে জাহাজ চলাচলের তথ্য পর্যালোচনাকারী প্রতিষ্ঠান ভোরটেক্সার হিসাব অনুযায়ী, গত জানুয়ারি থেকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে প্রতিদিন গড়ে ২৪টি জাহাজ চলাচল করত। তবে সংঘাত শুরুর পর ১ মার্চ এ সংখ্যা মাত্র ৪-এ নেমে এসেছে।

ভোরটেক্সা ও জাহাজ ট্র্যাকার কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে প্রায় ৩০০টি তেলবাহী ট্যাংকার হরমুজ প্রণালির ভেতরে আটকা পড়ে আছে।

গত সপ্তাহের শুরুর দিকে ইরান সরকার জানিয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইউরোপীয় দেশ বা তাদের মিত্রদের কোনো জাহাজকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচল করতে দেওয়া হবে না। তবে ওই বিবৃতিতে চীনের ব্যাপারে কিছু উল্লেখ করা হয়নি। এখন নতুন করে ইরানের পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের জাহাজকে সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে।

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে স্থলমাইন বিস্ফোরণে আবদুল জব্বার (৫৩) নামের এক ব্যক্তি আহত হয়েছেন। বিস্ফোরণে তাঁর বাঁ পায়ের গোড়ালি পর্যন্ত নিচের অংশটি উড়ে গেছে। গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যা ছয়টার দিকে এ ঘটনা ঘটেছে।

আহত আবদুল জব্বার উপজেলার দোছড়ি ইউনিয়নের পাইনছড়া এলাকার বাসিন্দা। তিনি পেশায় কাঠুরিয়া। তাঁকে চিকিৎসার জন্য কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

মাইন বিস্ফোরণে আবদুল জব্বার আহত হওয়ার বিষয়টি নাইক্ষ্যংছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবদুল বাতেন মৃধা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর আহত জব্বারকে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

২০১৭ সাল থেকে এ পর্যন্ত নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে অন্তত ৬৩ জন মাইন বিস্ফোরণে হতাহত হয়েছেন। এর মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ৫ জনের, পা হারিয়েছেন ৪৮ জন। বাকিদেরও বিভিন্ন অঙ্গহানি হয়েছে। সবচেয়ে বেশি মাইন বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে ২০২৫ ও ২০২৪ সালে। ২০২৪ সালে ১০ জন এবং গত বছর ১৮ জন হতাহত হয়েছেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রত্যক্ষদর্শীদের শেয়ার করা ভিডিও ফুটেজে ইরানের ব্যস্ততম ও প্রধান অভ্যন্তরীণ বিমানবন্দর মেহরাবাদে জ্বলন্ত বিমান ও ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা গেছে।

গতকাল শুক্রবারের স্যাটেলাইট চিত্রে বিমানবন্দরটিতে বেশ কয়েকটি উড়োজাহাজ অবস্থান করতে দেখা গিয়েছিল।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমও বিমানবন্দরের কিছু অংশে হামলা হওয়ার খবর দিয়েছে।

ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী ইরানে ‘নতুন দফায় ব্যাপক বিমান হামলা’ শুরু করার ঘোষণা দেওয়ার পর এ ঘটনা ঘটল।

এর আগে গত ৪ মার্চও এ বিমানবন্দরে হামলা চালিয়েছিল ইসরায়েল। সে সময় তারা দাবি করেছিল, ইসরায়েলি বিমান বাহিনীর জন্য হুমকি—এমন প্রতিরক্ষা ও শনাক্তকরণ ব্যবস্থা ধ্বংস করতে এ হামলা চালানো হয়েছে; যার মধ্যে বিমানবন্দরের হেলিকপ্টার তৈরির অংশটিও ছিল।

নতুন করে চালানো হামলায় বিমানবন্দরের ঠিক কোন কোন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, শুক্রবার রাতের বোমাবর্ষণ আগের তুলনায় অনেক বেশি শক্তিশালী ছিল।

তথ্যসূত্র: বিবিসি

চলমান যুদ্ধে মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন করা মার্কিন বাহিনীর ওপর হামলা চালাতে ইরানকে গোয়েন্দা তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করছে রাশিয়া। গোয়েন্দা কার্যক্রমের বিষয়ে জানাশোনা আছে এমন তিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে ওয়াশিংটন পোস্ট এ দাবি করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের কোনো প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী দেশ এই যুদ্ধে পরোক্ষভাবে হলেও অংশ নিচ্ছে কি না, এই প্রথম তার ইঙ্গিত পাওয়া গেল।

এর আগে এ ধরনের সহযোগিতার বিষয়টি কখনো সামনে আসেনি। ফলে এই সহযোগিতা থেকে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে, দ্রুত বিস্তার লাভ করা এই সংঘাতের সঙ্গে এখন আমেরিকার অন্যতম প্রধান পারমাণবিক শক্তিধর ও উন্নত গোয়েন্দা সক্ষমতাসম্পন্ন এক প্রতিদ্বন্দ্বী জড়িয়ে পড়েছে।

সংবেদনশীল বিষয় হওয়ার কারণে নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই তিন কর্মকর্তা জানান, গত শনিবার যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধজাহাজ, যুদ্ধবিমানসহ বিভিন্ন সামরিক স্থাপনার অবস্থান ইরানকে জানিয়ে দিচ্ছে রাশিয়া।

সংশ্লিষ্ট এক ব্যক্তি বলেন, ‘এটি বেশ বড় আকারের একটি সমন্বিত প্রচেষ্টা বলেই মনে হচ্ছে।’

ইরানকে লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণে রাশিয়ার সহায়তার ব্যাপ্তি ঠিক কতটা, তা পুরোপুরি স্পষ্ট নয়। তবে কর্মকর্তাদের মতে, যুদ্ধ শুরুর এক সপ্তাহ পার হওয়ার আগেই মার্কিন বাহিনীর অবস্থান শনাক্ত করার ক্ষেত্রে ইরানি সামরিক বাহিনীর নিজস্ব সক্ষমতা হ্রাস পেয়েছে।

ইরান আগাম সতর্কবার্তা প্রদানকারী রাডার বা ‘ওভার-দ্য-হরাইজন’ রাডারগুলোতে অত্যন্ত নিখুঁতভাবে আঘাত হানছে। খুবই সুনির্দিষ্টভাবে তারা এ কাজটি করছে। তারা পরিকল্পিতভাবে কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল ব্যবস্থাকে নিশানা বানাচ্ছে।

—দারা ম্যাসিকট, রাশিয়ার সামরিক বাহিনীর বিষয়ে বিশেষজ্ঞ, কার্নেগি এনডাউমেন্ট ফর ইন্টারন্যাশনাল পিস

গত রোববার কুয়েতে ইরানের ড্রোন হামলায় ছয় মার্কিন সেনা নিহত এবং বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। ইরান এ পর্যন্ত মার্কিন সামরিক অবস্থান, দূতাবাস ও বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুতে কয়েক হাজার আত্মঘাতী ড্রোন এবং কয়েক শ ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে। অন্যদিকে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপনা, যুদ্ধজাহাজ এবং দেশটির নেতৃত্বসহ ইরানের দুই হাজারের বেশি লক্ষ্যবস্তুতে যৌথ হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল।

ইরানকে রাশিয়ার সহায়তা দেওয়ার বিষয়ে কোনো মন্তব্য না করে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র অ্যানা কেলি বলেন, ‘ইরান সরকার পুরোপুরি বিধ্বস্ত অবস্থায় রয়েছে। তাদের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সক্ষমতা প্রতিদিন কমছে, নৌবাহিনী নিশ্চিহ্ন হয়ে যাচ্ছে এবং (অস্ত্র) উৎপাদন সক্ষমতা ধ্বংস করা হচ্ছে। এমনকি তাদের প্রক্সি গোষ্ঠীগুলোও সেভাবে লড়াই করতে পারছে না।’

এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা (সিআইএ) এবং মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।

ইরানের অন্যতম শক্তিশালী সমর্থক রাশিয়া ও চীনকে কোনো বার্তা দিতে চান কি না—চলতি সপ্তাহে এমন প্রশ্নের জবাবে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ বলেন, তাঁর দেওয়ার মতো কোনো বার্তা নেই এবং ‘তারা আসলে এখানে কোনো বড় প্রভাবক নয়।’

নিজেদের অন্যতম ঘনিষ্ঠ অংশীদার ইরান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের কিছু সম্ভাব্য সুবিধা দেখছে ক্রেমলিন। এর মধ্যে রয়েছে তেল বিক্রি করে বাড়তি আয় এবং এমন একটি তীব্র সংকট তৈরি হওয়া, যা ইউক্রেন যুদ্ধ থেকে আমেরিকা ও ইউরোপের মনোযোগ সরিয়ে নেবে।

রুশ সহায়তা সম্পর্কে অবগত দুজন কর্মকর্তা জানান, চীনের সঙ্গে ইরানের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকলেও বেইজিং ইরানকে প্রতিরক্ষা কাজে সহায়তা করছে বলে মনে হচ্ছে না।

ওয়াশিংটনে অবস্থিত চীনের দূতাবাস এ বিষয়ে মন্তব্যের অনুরোধে সাড়া দেয়নি। তবে বেইজিংও এই সংঘাত বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে।

নিখুঁত হামলার সক্ষমতা বেড়েছে ইরানের

বিশ্লেষকদের মতে, কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল অবকাঠামো, রাডার এবং কুয়েতের অস্থায়ী সেনাছাউনির মতো জায়গায় (যেখানে ছয় মার্কিন সেনা নিহত হন) ইরানের সাম্প্রতিক হামলার ধরন গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়ের ইঙ্গিত দেয়। এমনকি গত কয়েক দিনের মধ্যে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসের সিআইএ স্টেশনটিও হামলার শিকার হয়েছে।

কার্নেগি এনডাউমেন্ট ফর ইন্টারন্যাশনাল পিসের রাশিয়ার সামরিক বাহিনীর বিষয়ে বিশেষজ্ঞ দারা ম্যাসিকট বলেন, ইরান আগাম সতর্কবার্তা প্রদানকারী রাডার বা ‘ওভার-দ্য-হরাইজন’ রাডারগুলোতে অত্যন্ত নিখুঁতভাবে আঘাত হানছে। খুবই সুনির্দিষ্টভাবে তারা এ কাজটি করছে। তারা পরিকল্পিতভাবে কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল ব্যবস্থাকে নিশানা বানাচ্ছে।

ম্যাসিকট আরও বলেন, ইরানের হাতে অল্প কিছু সামরিক স্যাটেলাইট রয়েছে এবং নিজস্ব কোনো সমন্বিত স্যাটেলাইট ব্যবস্থা (কনস্টেলেশন) নেই। এ অবস্থায় রাশিয়ার উন্নত মহাকাশ গবেষণা সক্ষমতা থেকে পাওয়া চিত্র ইরানের জন্য অত্যন্ত মূল্যবান। বিশেষ করে ইউক্রেন যুদ্ধের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে ক্রেমলিন এখন নিজেও লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণে অনেক বেশি দক্ষ।

হার্ভার্ড কেনেডি স্কুলের বেলফার সেন্টারের গবেষক নিকোল গ্রাজিউস্কি ইরান-রাশিয়া সহযোগিতা নিয়ে কাজ করেন। তিনি বলেন, ইরানের পাল্টা হামলার লক্ষ্যবস্তু নির্বাচন এবং যুক্তরাষ্ট্র ও মিত্রদের প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ভেঙে দেওয়ার সক্ষমতার মধ্যে একধরনের ‘প্রযুক্তিগত উন্নতি’ দেখা যাচ্ছে।

হামলার পর কাতারের দোহায় যুক্তরাষ্ট্রের আল–উদেইদ বিমানঘাঁটি থেকে ধোঁয়া উড়ছে। ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
হামলার পর কাতারের দোহায় যুক্তরাষ্ট্রের আল–উদেইদ বিমানঘাঁটি থেকে ধোঁয়া উড়ছে। ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ছবি: এএফপি

নিকোল আরও বলেন, ‘তারা আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ভেদ করতে পারছে।’ গত গ্রীষ্মে ইসরায়েলের সঙ্গে ১২ দিনের যুদ্ধের তুলনায় ইরানের হামলার মান অনেক উন্নত হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

ওয়াশিংটন পোস্টকে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলেছেন, পেন্টাগনের হাতে থাকা নিখুঁত অস্ত্র ও আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার ইন্টারসেপ্টর (ক্ষেপণাস্ত্রবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র) দ্রুত ফুরিয়ে আসছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন এই অভিযান অনুমোদনের বিষয়ে ভাবছিলেন, তখন জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন একই উদ্বেগের কথা জানিয়েছিলেন। তবে প্রশাসন কেইনের সেই মূল্যায়নকে খুব একটা গুরুত্ব দিতে চাইছে না।

২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসনের পর থেকে বিভিন্ন দেশ যেভাবে ছায়াযুদ্ধে (প্রক্সি ওয়ার) জড়িয়েছে, রাশিয়ার এই সাম্প্রতিক সহায়তা সেই সমীকরণ বদলে দিচ্ছে। ইউক্রেন যুদ্ধে ইরান, চীন ও উত্তর কোরিয়ার মতো যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলো রাশিয়াকে সরাসরি সামরিক সহায়তা অথবা দেশটির বিশাল প্রতিরক্ষা শিল্পের জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সরবরাহ করে আসছে। অন্যদিকে ইউক্রেনকে শত শত কোটি ডলারের সামরিক সরঞ্জাম দেওয়ার পাশাপাশি রুশ অবস্থান শনাক্ত করতে গোয়েন্দা তথ্য দিয়ে কিয়েভকে সহায়তা করছে যুক্তরাষ্ট্র।

গত বৃহস্পতিবার ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে বলেছেন, ট্রাম্প প্রশাসন ইরানি ড্রোন থেকে সুরক্ষা পেতে ইউক্রেনের সহায়তা চেয়েছে এবং কিয়েভ এতে সাড়া দিয়ে ‘বিশেষজ্ঞ’ পাঠাবে।

ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ার অন্যতম প্রধান সহযোগী হিসেবে কাজ করেছে ইরান। তারা স্বল্পমূল্যের আত্মঘাতী ড্রোন তৈরির প্রযুক্তি রাশিয়াকে দিয়েছে। এসব ড্রোনকে কিয়েভের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থাকে ব্যতিব্যস্ত রাখতে এবং ইউক্রেনের শহরগুলো রক্ষায় পশ্চিমাদের দেওয়া ইন্টারসেপ্টরের মজুত ফুরিয়ে ফেলতে বারবার ব্যবহার করা হয়েছে।

মস্কো-তেহরান সহযোগিতা সম্পর্কে অবগত এক কর্মকর্তা বলেন, ‘আমরা ইউক্রেনীয়দের যে সহায়তা দিচ্ছি, সে সম্পর্কে রাশিয়া পুরোপুরি সচেতন। আমার মনে হয়, তারা এর প্রতিশোধ নেওয়ার সুযোগ পেয়ে বেশ খুশি।’ তিনি আরও বলেন, রাশিয়ার গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহের মান আমেরিকার সমপর্যায়ের না হলেও তা বিশ্বের অন্যতম সেরাদের একটি।

ওয়াশিংটন পোস্ট এর আগে এক প্রতিবেদনে বলেছিল, নিজেদের অন্যতম ঘনিষ্ঠ অংশীদার ইরান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের কিছু সম্ভাব্য সুবিধা দেখছে ক্রেমলিন। এর মধ্যে রয়েছে তেল বিক্রি করে বাড়তি আয় এবং এমন একটি তীব্র সংকট তৈরি হওয়া, যা ইউক্রেন যুদ্ধ থেকে আমেরিকা ও ইউরোপের মনোযোগ সরিয়ে নেবে।

এই সংঘাতের শুরুর দিকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা নিহত হয়েছেন। ২০২৪ সালের শেষের দিকে সিরিয়ার বিদ্রোহীদের অভ্যুত্থানে দীর্ঘদিনের শাসক বাশার আল-আসাদের পতন এবং গত জানুয়ারিতে মার্কিন সামরিক অভিযানে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরোকে তুলে আনার পর ইরান হতে পারে রাশিয়ার বন্ধুপ্রতিম সরকার হারানো সর্বশেষ দেশ।

তবে বিশ্লেষক ম্যাসিকট মনে করেন, সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপে রাশিয়ার অনীহা আসলে অন্যদিকে মনোযোগ দেওয়ার গুরুত্বেরই লক্ষণ। তিনি বলেন, ক্রেমলিন এটাকে তাদের নিজস্ব সমস্যা বা যুদ্ধ হিসেবে বিবেচনা করছে না। কৌশলগত হিসাব-নিকাশে রাশিয়ার কাছে ইউক্রেন এখনো সবকিছুর ঊর্ধ্বে।

ইরানের শাহেদ সিরিজের ‘কামিকাজে’ ড্রোন এখন যুদ্ধক্ষেত্রে এক ভয়ংকর আতঙ্ক হয়ে উঠেছে। এর রয়েছে জ্বালানিসাশ্রয়ী ইঞ্জিন, রাডার এড়িয়ে যাওয়ার সক্ষমতা এবং ৪০ থেকে ৫০ কেজি বিস্ফোরক বহনের ক্ষমতা। মাত্র ২০ হাজার থেকে ৫০ হাজার মার্কিন ডলার খরচে একেকটি শাহেদ ড্রোন তৈরি করা যায়।

বিপুল পরিমাণে উৎপাদন করা সম্ভব বলে এসব ড্রোন দিয়ে যেকোনো দেশের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থাকে সহজেই দিশেহারা করে দেওয়া সম্ভব।

শাহেদ-১৩১ ও ১৩৬ সিরিজের এসব ড্রোন মূলত সাধারণ মানের ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র। ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংঘাতে ইরান এগুলোকেই প্রতিরোধের প্রধান অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে। শত শত মাইল পথ পাড়ি দিয়ে ড্রোনগুলো সামরিক ঘাঁটি, তেল শোধনাগার ও বেসামরিক স্থাপনায় নিখুঁতভাবে আঘাত হানছে।

হাইপারসনিক গতি বা অত্যাধুনিক স্টিলথ প্রযুক্তির নয়, বরং এ ড্রোনের মূল শক্তি হলো এর বিপুল সংখ্যা। যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি প্যাট্রিয়টের মতো উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থাকে ব্যস্ত রাখতে ইরান শত শত ড্রোনের ‘ঢেউ’ পাঠায়।

ইরানের এক অজ্ঞাত স্থানে সামরিক মহড়ার সময় ড্রোনের দৃশ্য
ইরানের এক অজ্ঞাত স্থানে সামরিক মহড়ার সময় ড্রোনের দৃশ্য, ছবি: রয়টার্স

সংক্ষেপে বললে, ইরানের কৌশল হলো এই ‘উড়ন্ত ক্ষেপণাস্ত্র’ দিয়ে প্রথমে প্রতিপক্ষের রাডার ও আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থাকে অকেজো করে দেওয়া। এরপর বড় ও শক্তিশালী ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে হামলা চালানো, যেন এগুলো অনায়াসেই লক্ষ্যভেদে সফল হয়।

নিউইয়র্ক টাইমসসহ বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরান এ পর্যন্ত দুই হাজারের বেশি ড্রোন ছুড়েছে। তবে মার্কিন প্রযুক্তির প্যাট্রিয়ট বা থাড ব্যবস্থার কার্যকারিতাও উল্লেখ করার মতো। সংযুক্ত আরব আমিরাত জানিয়েছে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা এসব ড্রোনের ৯০ শতাংশের বেশি রুখে দিতে পেরেছে। অন্য কিছু দেশ এই সাফল্যের হার ৯৬ শতাংশ পর্যন্ত বলে দাবি করেছে।

আশ্চর্যের বিষয় হলো এসব ড্রোনের বেশির ভাগ ভূপাতিত করা হলেও ইরানের জন্য তা একধরনের জয়। কারণ, মাত্র ২০ হাজার ডলারের একটি ড্রোন ধ্বংস করতে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রায় ৪০ লাখ (৪ মিলিয়ন) ডলার মূল্যের শক্তিশালী রকেট খরচ করতে হয়।

চার বছর আগে শুরু হওয়া রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের সময় থেকেই পশ্চিমা বিশ্ব একটি বড় সমস্যার কোনো সমাধান খুঁজে পাচ্ছে না। তা হলো শাহেদ ড্রোনের উৎপাদন খরচের সঙ্গে একে ঠেকানোর খরচের বিশাল ব্যবধান।

শাহেদ ড্রোন আসলে কী

সহজ কথায়, শাহেদ-১৩১ বা ১৩৬ হলো ছোট ডেল্টা-উইংবিশিষ্ট ক্ষেপণাস্ত্র। এর পেছনে একটি প্রপেলারচালিত ইঞ্জিন থাকে। শাহেদ একটি ফারসি শব্দ, যার অর্থ সাক্ষী। ২০০০-এর দশকের শুরুর দিকে ইরানের ‘শাহেদ এভিয়েশন ইন্ডাস্ট্রিজ’ নামের একটি সংস্থা এই ড্রোন তৈরি শুরু করে।

শাহেদ ড্রোনগুলো নিখুঁতভাবে লক্ষ্যে আঘাত হানতে সক্ষম। উৎক্ষেপণের সময় এতে এককালীন ব্যবহারযোগ্য ‘রকেট-বুস্টার’ যুক্ত থাকে। ড্রোনটি নির্দিষ্ট উচ্চতায় ওঠার পর বুস্টারটি খুলে পড়ে যায় এবং একটি ফোর-সিলিন্ডার পিস্টন ইঞ্জিন সচল হয়। জেট ইঞ্জিনের বদলে প্রপেলার ব্যবহারের ফলে এর গতি কিছুটা কমে যায় (ঘণ্টায় প্রায় ১৮৫ কিমি)।

তবে এই ড্রোন অনেক দূর পর্যন্ত যেতে পারে এবং লক্ষ্যবস্তুর ওপর চক্কর দিয়ে ডাইভ মেরে আঘাত হানতে পারে। এর মাথায় ৬০ থেকে ৯০ কেজি পর্যন্ত বিস্ফোরক বহন করা সম্ভব। আকৃতিতে ছোট হওয়ায় ইরানের প্রায় সব জায়গা থেকে এটি ছোড়া সম্ভব।

ইরানের সেনাবাহিনী ড্রোনের এই ছবিগুলো প্রকাশ করেছে। তেহরান, ১৩ জানুয়ারি, ২০২৪
ইরানের সেনাবাহিনী ড্রোনের এই ছবিগুলো প্রকাশ করেছে। তেহরান, ১৩ জানুয়ারি, ২০২৪ছবি: এএফপি

যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যবহার

২০২৫ সালের জুনে ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে সংঘটিত ১২ দিনের যুদ্ধে এই ড্রোন বড় ভূমিকা রেখেছিল। বর্তমানে ইউক্রেন যুদ্ধেও রাশিয়া বড় পরিসরে এই ড্রোন ব্যবহার করছে। তবে ইউক্রেন এই ড্রোন মোকাবিলায় একটি দক্ষ ‘অ্যান্টি-ড্রোন স্কোয়াড’ তৈরি করেছে।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি পশ্চিম এশিয়ায় এই বিশেষ দল মোতায়েনের প্রস্তাব দিয়েছেন। তবে শর্ত হিসেবে তিনি বলেছেন, পশ্চিমা দেশগুলোকে অবশ্যই ভ্লাদিমির পুতিনকে যুদ্ধবিরতিতে বাধ্য করতে হবে।

কেন এটি শনাক্ত করা কঠিন

ইরানের এসব ড্রোন যেমন সস্তা, তেমনি কার্যকর। এগুলো রাডারে শনাক্ত করাও বেশ কঠিন। খুব সহজে উৎক্ষেপণ করা যায় বলে ঠিক কোন জায়গা থেকে ড্রোনটি ছাড়া হয়েছে, তা ধরা প্রায় অসম্ভব। তবে ওড়ার সময় এর পিস্টন ইঞ্জিনের শব্দ থেকে অনেক সময় উপস্থিতি বোঝা যায়। রাশিয়া অবশ্য এর প্রযুক্তি আরও উন্নত করেছে। ফলে এগুলো রাতেও সমান কার্যকর এবং এদের ডানা রাডার ফাঁকি দিতে আরও বেশি সক্ষম।

তবে শাহেদ ড্রোনের সবচেয়ে বড় প্রভাব হলো এর রণকৌশল। এই ড্রোনের সাফল্য দেখে এখন খোদ যুক্তরাষ্ট্রও একই ধরনের সস্তা ও কার্যকর ড্রোন তৈরির পথে হাঁটতে বাধ্য হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের এই ‘নতুন’ যুদ্ধে ওয়াশিংটন এখন ইরানের শাহেদ ড্রোনের অনুকরণে তৈরি নিজস্ব সংস্করণ মোতায়েন করেছে।

ইউক্রেন যুদ্ধে ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর থেকে শাহেদ ড্রোনের ব্যবহার শুরু করে রাশিয়া
ইউক্রেন যুদ্ধে ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর থেকে শাহেদ ড্রোনের ব্যবহার শুরু করে রাশিয়া
 
মার্কিন সেনাবাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এই ড্রোনগুলোকে লুকাস বা লো কস্ট আনক্রিউড কমব্যাট সিস্টেম নামে অভিহিত করেছে। এগুলো ওয়ান-ওয়ে অ্যাটাক ড্রোন বা একমুখী আত্মঘাতী ড্রোন। ইরানের শাহেদ ড্রোনের আদলেই এগুলো তৈরি করা হয়েছে।

একেকটি লুকাস ড্রোনের উৎপাদন খরচ পড়ছে প্রায় ৩৫ হাজার মার্কিন ডলার। শাহেদের মতোই এটি একটি নিখুঁত নিশানার ড্রোন, যা লক্ষ্যবস্তুর ওপর চক্কর কেটে সুযোগ বুঝে আঘাত হানে।

গত বছরের ডিসেম্বরে যুক্তরাষ্ট্র এই কৌশলগত পরিবর্তনের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করে। সে সময় তারা পশ্চিম এশিয়ায় (মধ্যপ্রাচ্য) ‘টাস্কফোর্স স্করপিয়ন স্ট্রাইক’ নামে তাদের প্রথম একমুখী বা আত্মঘাতী ড্রোনের স্কোয়াড্রন চালু করে।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি পদে বাংলাদেশের প্রার্থী পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানকে সমর্থন দিতে ঢাকায় নিযুক্ত কূটনীতিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

শুক্রবার (৬ মার্চ) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় কূটনীতিকদের সম্মানে আয়োজিত ইফতারের তিনি এ আহ্বান জানান।  

প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, মানবাধিকার সুরক্ষা, মত প্রকাশের স্বাধীনতা রক্ষা এবং সহনশীলতার সংস্কৃতি গড়ে তুলতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সরকারের সব স্তরে দুর্নীতি মোকাবেলায় দৃঢ় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

এই ইফতার আয়োজনে ঢাকায় কর্মরত বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, হাইকমিশনার ও কূটনৈতিক মিশনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। এতে বাংলাদেশের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর কূটনৈতিক সম্পর্ক, পারস্পরিক সহযোগিতা এবং বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও জোরদারের বিষয়েও আলোচনা হয়।

 

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চান, ইরান নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ করুক। তিনি বলেছেন, ‘নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ ছাড়া ইরানের সঙ্গে কোনো চুক্তি হবে না।’

নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প এ কথা বলেন। ইরানের আত্মসমর্পণের পর নতুন ‘গ্রহণযোগ্য’ ইরানি নেতাদের নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা ইরানের পুনর্গঠনে সাহায্য করবে।

সূত্র: আল জাজিরা

মধ‍্যপ্রাচ‍্য পরিস্থিতির কারণে বৈশ্বিকভাবে জ্বালানি তেলের সরবরাহ কমে গেছে। এতে দেশেও জ্বালানি তেলের সংকটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। মানুষ আতঙ্কিত হয়ে ফিলিং স্টেশনে ভিড় করছে এবং বেশি বেশি তেল কিনছে। তাই ফিলিং স্টেশন থেকে তেল সরবরাহের সীমা বেঁধে দিয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)।

নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, এখন থেকে একটি মোটরসাইকেল দিনে সর্বোচ্চ ২ লিটার পেট্রল বা অকটেন সংগ্রহ করতে পারবে। ব্যক্তিগত গাড়ির (কার) ক্ষেত্রে এই সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে সর্বোচ্চ ১০ লিটার। এছাড়া এসইউভি বা জিপ এবং মাইক্রোবাসের জন্য প্রতিদিন ২০ থেকে ২৫ লিটারের বেশি তেল দেওয়া হবে না।

বাণিজ্যিক ও গণপরিবহনের ক্ষেত্রেও কঠোরতা অবলম্বন করা হয়েছে; যেখানে একটি লোকাল বাস বা পিকআপ দিনে ৭০ থেকে ৮০ লিটার ডিজেল পাবে। অন্যদিকে দূরপাল্লার বড় বাস, ট্রাক বা কাভার্ডভ্যান দৈনিক ২০০ থেকে ২২০ লিটারের বেশি জ্বালানি নিতে পারবে না।

বিপিসি আরও জানায়, ফিলিং স্টেশন থেকে তেল নেওয়ার সময় প্রত্যেক ভোক্তাকে অবশ্যই রসিদ গ্রহণ করতে হবে। পরবর্তী সময় যখনই কেউ তেল কিনতে আসবেন, তাকে আগের রসিদটি দেখাতে হবে। ডিলারদের ক্ষেত্রেও নিয়ম কড়াকড়ি করা হয়েছে। এখন থেকে ডিলাররা তাদের বর্তমান মজুত এবং বিক্রির সঠিক তথ্য প্রদান সাপেক্ষে ডিপো থেকে তেল সংগ্রহ করতে পারবেন। কোনো অবস্থাতেই নির্ধারিত বরাদ্দের অতিরিক্ত জ্বালানি কোনো ডিলারকে প্রদান করা হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।