হোয়াটসঅ্যাপে জন্মদিন বা বিশেষ দিবস উপলক্ষে বন্ধু বা পরিচিত ব্যক্তিদের বার্তা পাঠান অনেকেই। কিন্তু মাঝেমধ্যে ব্যস্ততার কারণে সময়মতো বার্তা পাঠানো আর হয়ে ওঠে না। ফলে বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়। এ সমস্যা সমাধানে আগে থেকে লেখা বার্তা নির্দিষ্ট সময় পর স্বয়ংক্রিয়ভাবে পাঠানোর সুযোগ চালু করতে যাচ্ছে হোয়াটসঅ্যাপ।

শিডিউলড মেসেজেস সুবিধা চালু হলে ব্যবহারকারী ব্যক্তিরা আগে থেকে বার্তা লিখে নির্দিষ্ট তারিখ এবং সময়ে স্বয়ংক্রিয়ভাবে পাঠাতে পারবেন। ফলে জন্মদিনের শুভেচ্ছাসহ গুরুত্বপূর্ণ সব বার্তা সঠিক সময়ে প্রাপকের কাছে পৌঁছানো যাবে। প্রাপকের কাছে পৌঁছানোর আগপর্যন্ত যেকোনো সময় বার্তা সম্পাদনা বা মুছেও ফেলা যাবে। ধারণা করা হচ্ছে, ব্যক্তিগত বা গ্রুপ চ্যাট উভয় ক্ষেত্রেই এ সুবিধা পাওয়া যাবে।

হোয়াটসঅ্যাপের বিভিন্ন সুবিধা নিয়ে কাজ করা প্রতিষ্ঠান ডব্লিউ এ বেটা ইনফো জানিয়েছে, আইওএস ২৬.৭.১০.৭২ সংস্করণের জন্য তৈরি হোয়াটসঅ্যাপের বেটা আপডেটে শিডিউলিং টুল দেখা গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, শিগগিরই নির্বাচিত আইফোন ব্যবহারকারী ব্যক্তিরা পরীক্ষামূলকভাবে সুবিধাটি ব্যবহার করতে পারবেন। পর্যায়ক্রমে সব ব্যবহারকারীদের জন্য সুবিধাটি উন্মুক্ত করা হবে।

প্রসঙ্গত, বর্তমানে হোয়াটসঅ্যাপে শিডিউল কলস সুবিধার মাধ্যমে এক বা একাধিক ব্যক্তিকে কল করার আগাম তারিখ, সময় ও বিষয় জানিয়ে দেওয়া যায়। নির্দিষ্ট ব্যক্তিরা হোয়াটসঅ্যাপে প্রবেশ করলেই শিডিউল কলসের বার্তা দেখতে পান। ফলে তাঁরা নির্দিষ্ট সময়ে হোয়াটসঅ্যাপে যুক্ত হয়ে কথা বলতে পারেন।

সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে

তুলনামূলক কম খরচে উন্নত ক্যামেরা, দ্রুতগতির প্রসেসর ও শক্তিশালী ব্যাটারিযুক্ত স্মার্টফোন কিনতে চান অনেকেই। আর তাই বিশ্বের বিভিন্ন দেশের পাশাপাশি বাংলাদেশেও মিড রেঞ্জের স্মার্টফোনের বাজার বেশ প্রতিযোগিতাপূর্ণ। বিষয়টি মাথায় রেখে গত জানুয়ারিতে বাংলাদেশে তৈরি ‘এক্স৯ডি’ মডেলের স্মার্টফোন উন্মুক্ত করেছে চীনের স্মার্টফোন নির্মাতা প্রতিষ্ঠান অনার। প্রায় এক সপ্তাহ ব্যবহার করে স্মার্টফোনটির উল্লেখযোগ্য দিকগুলো তুলে ধরা হলো—

নকশা

হাতে নেওয়ার পর প্রথমেই মনে হলো, ফোনটি বেশ টেকসই। ম্যাট ফিনিশ ব্যাক প্যানেল থাকায় খুব বেশি হাতের ছাপ পড়ে না ফোনটিতে। আইপি৬৮ ও আইপি৬৯কে রেটিং থাকায় ধুলাবালি, পানি এমনকি উচ্চচাপের পানির স্প্রে থেকেও নিরাপদ থাকে ফোনটি। শুধু তা–ই নয়, ফোনটিতে থাকা ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সর সাইড-মাউন্টেড বেশ দ্রুত ও নির্ভরযোগ্যভাবে কাজ করে।

পর্দা

৬ দশমিক ৭ ইঞ্চির অ্যামোলেড পর্দার ফোনটি ১২০ হার্টজ রিফ্রেশ রেট সমর্থন করে। ফলে স্ক্রল ও অ্যানিমেশন স্বচ্ছন্দে করা যায়। বেজেল এতটাই কম যে স্ক্রিন-টু-বডি রেশিও ফোনটিকে একটি ফ্ল্যাগশিপ লুক দিয়েছে। পর্দার উজ্জ্বলতা বেশি হওয়ায় সরাসরি রোদেও ভিডিও কনটেন্ট দেখতে অসুবিধা হয় না ফোনটিতে।

সক্ষমতা

অ্যান্ড্রয়েড ১৬ অপারেটিং সিস্টেমের ওপর ভিত্তি করে তৈরি ম্যাজিক ওএসে চলা ফোনটিতে ৪ ন্যানোমিটারের স্ন্যাপড্রাগন ৬ জেন ৪ মডেলের প্রসেসর থাকায় একসঙ্গে একাধিক কাজ করার পাশাপাশি স্বচ্ছন্দে গেম খেলা যায়। তবে দীর্ঘ সময় আকারে বড় গেম খেলার ক্ষেত্রে সামান্য ফ্রেম ড্রপ ও তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেতে দেখা গেছে ফোনটিতে। অর্থাৎ ফোনটি সাধারণ ও মাঝারি পর্যায়ের গেম খেলার জন্য উপযোগী হলেও হার্ডকোর গেমের জন্য তেমন উপযুক্ত নয়।

ক্যামেরা

ফোনটির পেছনে থাকা ১০৮ মেগাপিক্সেলের ক্যামেরা দিয়ে স্বাভাবিক রঙে ভালো মানের ছবি তোলা যায়। রাতে বা কম আলোতে ছবি তোলার জন্য রয়েছে উন্নত ‘নাইট মোড’, যা ছবির নয়েজ কমিয়ে স্বচ্ছতা বাড়ায়। সেলফিপ্রেমীদের জন্য সামনে আছে ১৬ মেগাপিক্সেলের ক্যামেরা, যা ভালো মানের ছবি তোলার জন্য যথেষ্ট। তবে অনেক মিড-রেঞ্জ ফোনে টেলিফটো লেন্স থাকলেও অনার এক্স৯ডি মডেলে লেন্সটি যুক্ত করা হয়নি। এ ছাড়া ভিডিও রেকর্ডিং স্থিতিশীল হলেও ফ্ল্যাগশিপ মানের মতো নয়।

ব্যাটারি

১২ গিগাবাইট র‍্যাম ও ২৫৬ গিগাবাইট ধারণক্ষমতার ফোনটির সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হচ্ছে ৮ হাজার ৩০০ মিলিঅ্যাম্পিয়ার ব্যাটারি। ফলে একবার পুরো চার্জ করলে ফোনটি অনায়াসেই দেড় থেকে দুই দিন ব্যবহার করা সম্ভব। শুধু তা–ই নয়, ৬৬ ওয়াট ফাস্ট চার্জিং প্রযুক্তি থাকায় দ্রুত চার্জও করা যায় ফোনটি।

পড়লেও ভাঙ্গে না

অনারের তথ্য মতে, ‘হাইয়েস্ট স্মার্টফোন ড্রপ’ বিভাগে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে নাম লেখানো ফোনটি ৬.১৩৩ মিটার বা ২০ ফুটের বেশি উচ্চতা থেকে পড়ে গেলেও ভাঙে না। বিষয়টি পরখ করার জন্য ১৬ ফুট উচ্চতা থেকে ফোনটি ফেলে দেখা গেছে, পর্দায় ফাটল বা দাগ পড়েনি।

কানেকটিভিটি ও অডিও

ফোনটির ৫জি কানেকটিভিটি বেশ উন্নত। ওয়াই–ফাই ও ব্লুটুথ সংযোগেও তেমন সমস্যা দেখা যায়নি। স্পিকার আউটপুট ভালো, তবে বেজ ততটা শক্তিশালী নয়। ফোনটির দাম ধরা হয়েছে ৪৬ হাজার ৯৯৯ টাকা।

সোহানুর রহমান

প্রস্তাবিত জাতীয় গণমাধ্যম কমিশন এবং সম্প্রচার কমিশন অধ্যাদেশের খসড়া দেশে মুক্ত গণমাধ্যম বিকাশে জনপ্রত্যাশার প্রতি অন্তর্বর্তী সরকারের বিদায়ী পরিহাস বলে মন্তব্য করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।

আজ শনিবার টিআইবি এক বিবৃতিতে এ কথা বলেছে।

দুর্নীতিবিরোধী সংস্থাটি বলেছে, বাংলাদেশে মুক্ত গণমাধ্যম ও স্বাধীন সম্প্রচার বিকাশে একটি অভিন্ন স্বাধীন ও কার্যকর গণমাধ্যম কমিশনের দাবি দীর্ঘদিনের। যার প্রতিফলন ছিল গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদনেও। কিন্তু প্রতিবেদন হস্তান্তরের দীর্ঘ ১০ মাসের বেশি সময় ধরে এর সুপারিশ বাস্তবায়নে সম্পূর্ণ নির্বিকার থাকা অন্তর্বর্তী সরকার তার মেয়াদের শেষ মুহূর্তে এসে কমিশনের নামে দুটি নতুন সরকারি সংস্থা প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে জাতীয় গণমাধ্যম কমিশন ও সম্প্রচার কমিশন অধ্যাদেশের যে দুটি খসড়া প্রকাশ করেছে, তাতে গভীর হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে টিআইবি।

টিআইবি বলেছে, জনপ্রত্যাশা ও গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের সুপারিশের বিপরীতে গিয়ে উদ্দেশ্যমূলকভাবে এ খাতকে অধিকতর নিয়ন্ত্রণের জন্য খসড়া দুটি প্রণয়ন করা এবং মাত্র তিন দিন সময় দিয়ে মতামত চাওয়া অন্তর্বর্তী সরকারের বিদায়ী পরিহাস। একই সঙ্গে শুরু থেকে প্রায় সব ক্ষেত্রে অন্তর্বর্তী সরকারের নিরবচ্ছিন্ন গোপনীয়তার চর্চা ও রাষ্ট্র সংস্কারের নামে সরকারের একাংশের সংস্কার পরিপন্থী অন্তর্ঘাতমূলক অপতৎপরতার উদাহরণ হিসেবেও এটিকে উল্লেখ করছে সংস্থাটি।

প্রসঙ্গত, গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদন জমা দেওয়ার ১০ মাসেও কোনো সুপারিশ বাস্তবায়ন করা হয়নি। অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদের একেবারে শেষ প্রান্তে এসে এখন জাতীয় গণমাধ্যম কমিশন গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা ও সাংবাদিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় ‘জাতীয় গণমাধ্যম কমিশন অধ্যাদেশ, ২০২৬’-এর একটি খসড়া তৈরি করেছে। মতামত নিতে খসড়াটি গত বুধবার মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে। এ বিষয়ে মাত্র তিন দিন অর্থাৎ ৩১ জানুয়ারির মধ্যে মতামত দিতে হবে। তার আগে মঙ্গলবার সম্প্রচার কমিশন গঠনের জন্য সম্প্রচার কমিশন অধ্যাদেশের খসড়াও প্রকাশ করা হয়। অর্থাৎ আলাদা দুটি কমিশন করতে চায় তথ্য মন্ত্রণালয়।

যদিও অন্তর্বর্তী সরকারের গঠন করা গণমাধ্যম সংস্কার কমিশন সংবাদপত্র ও বার্তা সংস্থার জন্য বিদ্যমান প্রেস কাউন্সিল এবং সম্প্রচারমাধ্যম ও অনলাইন গণমাধ্যমের জন্য পূর্বের প্রস্তাবিত সম্প্রচার কমিশনের সমন্বয়ে ‘বাংলাদেশ গণমাধ্যম কমিশন’ গঠনের সুপারিশ করেছিল; যা হবে সরকারের নিয়ন্ত্রণমুক্ত একটি স্বাধীন সংস্থা। প্রস্তাবে বলা হয়, প্রতিষ্ঠানটি গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে কাজ করবে। কিন্তু তথ্য মন্ত্রণালয় ‘জাতীয় গণমাধ্যম কমিশন’ এবং ‘সম্প্রচার কমিশন’ নামে আলাদা কমিশন গঠনের পরিকল্পনা করছে। ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচন। এরপর গঠিত হবে নতুন সরকার। বর্তমান সরকারের মেয়াদও শেষ পর্যায়ে। এ পরিস্থিতিতে তাড়াহুড়ো করে গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের সুপারিশ উপেক্ষা করে আলাদা দুটি কমিশন গঠনের উদ্যোগ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

আজ বিবৃতিতে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, উভয় ক্ষেত্রে প্রস্তাবিত কমিশনের গঠন ও স্ট্যাটাস, কমিশনারদের পদমর্যাদা ও কর্মক্ষমতা, প্রশাসনিক ও আর্থিক ব্যবস্থাপনাসহ সব ক্ষেত্রে সম্পূর্ণভাবে সরকারি, বিশেষ করে আমলাতন্ত্রের কর্তৃত্বাধীন দুটি প্রতিষ্ঠান গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে; যা মুক্ত গণমাধ্যম ও স্বাধীন সম্প্রচার বিকাশের প্রত্যাশার প্রতি অন্তর্বর্তী সরকারের পরিহাসমূলক আচরণের দৃষ্টান্ত। তিনি বলেন, ‘বিষয়টি হতাশাজনক হলেও আমরা মোটেও অবাক হচ্ছি না; কারণ, অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদে গণমাধ্যমের ওপর রাষ্ট্রীয় ও অরাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ, সহিংস কর্মকাণ্ড এবং কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার অপপ্রয়াস নিয়ন্ত্রণে সরকারের ব্যর্থতা, এমনকি অনেক ক্ষেত্রে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ইন্ধনদাতার ভূমিকা দৃশ্যমান ছিল। মেয়াদের শেষ প্রান্তে এসে প্রস্তাবিত খসড়া দুটিতে গণমাধ্যমের স্বাধীনতার প্রত্যাশার প্রতি সরকারের একই রকম প্রতিপক্ষমূলক আচরণের প্রতিফলন ঘটল।’

বিদ্যমান প্রেস কাউন্সিলের নানাবিধ সীমাবদ্ধতা ও সম্প্রচার মাধ্যমসংক্রান্ত অনুরূপ কোনো প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর অনুপস্থিতিতে গণমাধ্যম সংস্কার কমিশন সরকারের নিয়ন্ত্রণমুক্ত একটি অভিন্ন স্বাধীন ‘গণমাধ্যম কমিশন’ গঠনের যে সুপারিশ করেছিল, সরকার সে বিষয়ে বিন্দুমাত্র গুরুত্ব দেখায়নি বলে উল্লেখ করেন ইফতেখারুজ্জামান।

উল্লিখিত খসড়া দুটি তড়িঘড়ি করে অধ্যাদেশে প্রণীত না করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে টিআইবি। টিআইবির নির্বাহী পরিচালকের আহ্বান ও প্রত্যাশা করেন, নতুন সংসদ গঠনের পর একটি প্রকৃতপক্ষে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ অভিন্ন গণমাধ্যম কমিশন গঠন করা হবে, যা সর্বোচ্চ পেশাগত উৎকর্ষ নিশ্চিত করে দেশে মুক্ত গণমাধ্যম ও স্বাধীন সম্প্রচার বিকাশের উপযোগী পরিবেশ সৃষ্টি করবে।

মার্কিন বিমানবাহী রণতরি ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন গত শনিবার ওমান উপকূলে অবস্থান করছিল। রণতরিটিকে তখন হরমুজ প্রণালির অভিমুখে উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হতে দেখা যায়।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) কোপার্নিকাস সেন্টিনেল-২ মিশন এই রণতরির ছবি প্রকাশ করেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ডও (সেন্টকম) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ কিছু ছবি শেয়ার করেছে। তাদের দাবি, ছবিগুলোতে গত শনিবার সমুদ্রে অবস্থানরত ওই রণতরিটির কার্যক্রম দেখা গেছে।

কৃত্রিম উপগ্রহ থেকে তোলা ছবিতে আরব সাগরে উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হতে দেখা যাচ্ছে ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনকে। ৭ মার্চ, ২০২৬
কৃত্রিম উপগ্রহ থেকে তোলা ছবিতে আরব সাগরে উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হতে দেখা যাচ্ছে ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনকে। ৭ মার্চ, ২০২৬ছবি: রয়টার্স

ইরানে হামলা শুরু করার আগে ওই অঞ্চলে মোতায়েন করা যুক্তরাষ্ট্রেের দুটি বিমানবাহী রণতরির একটি হলো আব্রাহাম লিংকন। বর্তমানে ইরানি উপকূলের সবচেয়ে কাছাকাছি অবস্থানে থাকা একমাত্র মার্কিন রণতরি এটিই।

সূত্র: রয়টার্স

বাহরাইনের প্রধান তেল শোধনাগারের হামলা হয়েছে। হামলার পর তেল শোধনাগারটির দিক থেকে ঘন ধোঁয়া উঠতে দেখা যায়।

আজ সোমবার প্রত্যক্ষদর্শীর বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স এই তথ্য জানায়। হামলার শিকার বাহরাইন পেট্রোলিয়াম কোম্পানিটি দেশটির প্রধান তেল শোধনাগার। এটি দেশটির জ্বালানি খাতের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রতিষ্ঠান।

প্রত্যক্ষদর্শীর ভাষ্য, সরকারের দিক থেকে প্রথমে বলা হয়েছিল, ইরানি ড্রোন হামলায় তেল শোধনাগারে ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে। লোকজন আহত হয়েছে। পরে তেল শোধনাগারটি থেকে ঘন ধোঁয়া আকাশে উঠতে দেখা যায়।

হামলার পরে কোম্পানিটির পক্ষ থেকে বলা হয়, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে। তাই তারা চুক্তি অনুযায়ী তেল সরবরাহের বাধ্যবাধকতা পূরণ করতে পারছে না।

তথ্যসূত্র: রয়টার্স

নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির অধীনে ইরান সোমবার প্রথম দফায় ইসরায়েলের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি তাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলে দেওয়া এক পোস্টে এই তথ্য জানিয়েছে।

এ ছাড়া আইআরআইবি একটি ক্ষেপণাস্ত্রের ছবি প্রকাশ করেছে। এর গায়ে লেখা, ‘আপনার সেবায় প্রস্তুত, সাইয়্যিদ মোজতবা।’

তথ্যসূত্র: বিবিসি

ইরানের জ্বালানি তেলের গুদামে ইসরায়েলি হামলার পর ঘন কালো মেঘে ছেয়ে গেছে রাজধানী তেহরানের আকাশ। আজ রোববার সকালে ঘুম থেকে উঠে শহরটির প্রায় ১ কোটি মানুষ দেখেছেন আকাশ থেকে ঝরছে অদ্ভুত ‘কালো বৃষ্টি’।

রাজধানী তেহরান থেকে মার্কিন সম্প্রচারমাধ্যম সিএনএনের প্রতিনিধি ফ্রেড প্লিটজেন এমন পরিস্থিতির বর্ণনা দিয়েছেন।

প্লিটজেন বলেন, ‘আপনারা দেখতে পাচ্ছেন এই বৃষ্টি, বৃষ্টির পানি আসলে কালো—মনে হচ্ছে এটি তেলে সিক্ত বা মিশ্রিত।’

রয়টার্সের এক ভিডিওতে তেহরানের শাহরান তেল শোধনাগার থেকে আগুনের শিখা ও ধোঁয়া কুণ্ডলী পাকিয়ে ওপরে উঠতে দেখা গেছে।

প্লিটজেন আরও বলেন, ‘হামলার পর আজ সকালে ইরানি রাজধানীতে এমন তেলমিশ্রিত বৃষ্টি ঝরছে।’

এর আগে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় তারা তেহরানের এমন কিছু জ্বালানি স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে, যেখান থেকে সামরিক খাতসহ বিভিন্ন গ্রাহকদের কাছে জ্বালানি সরবরাহ করা হয়।

আপনারা দেখতে পাচ্ছেন এই বৃষ্টি, বৃষ্টির পানি আসলে কালো—মনে হচ্ছে এটি তেলে সিক্ত বা মিশ্রিত।
— ফ্রেড প্লিটজেন, তেহরানে সিএনএনের প্রতিনিধি

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক ভিডিওতে তেহরানের শাহরান তেল শোধনাগার থেকে আগুনের শিখা ও ধোঁয়া কুণ্ডলী পাকিয়ে ওপরে উঠতে দেখা গেছে।

এক বিবৃতিতে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) বলেছে, ‘এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ হামলা, যা ইরানের ‘‘সন্ত্রাসী’’ শাসনের সামরিক অবকাঠামোর ক্ষতি আরও গভীর করার ক্ষেত্রে এক বাড়তি পদক্ষেপ।’

সিএনএন

কুয়েত কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দেশটিতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার ঘটনায় দুই সীমান্তরক্ষী নিহত হয়েছেন। এ হামলার জেরে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

কুয়েতের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, আজ রোববারও তারা ‘শত্রুপক্ষীয় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা’ প্রতিহত করছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে সামরিক বাহিনী জানায়, ‘কুয়েতের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বর্তমানে শত্রুপক্ষীয় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা মোকাবিলা করছে।’ ওই এলাকায় যে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যাচ্ছে, তা আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে হামলা প্রতিহত করারই ফল বলে জানানো হয়।

কুয়েতের পাশাপাশি সৌদি আরব ও কাতারও আজ নতুন করে হামলার খবর দিয়েছে।

কুয়েতের জাতীয় তেল কোম্পানি ‘সতর্কতামূলক ব্যবস্থা’ হিসেবে তাদের অপরিশোধিত তেল উৎপাদন কমানোর ঘোষণা দিয়েছে।

কুয়েতের সামরিক বাহিনী বলেছে, আজ তারা ‘একঝাঁক শত্রুপক্ষীয় ড্রোনের’ বিরুদ্ধে পাল্টা ব্যবস্থা নিয়েছে, যেগুলো দেশটির আকাশসীমায় অনুপ্রবেশ করেছিল।

তথ্যসূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রকে সহায়তার জন্য মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাজ্যের বিমানবাহী রণতরি মোতায়েনের দরকার নেই।

গতকাল শনিবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প এ কথা বলেন।

যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি বিবৃতির পর ট্রাম্পের কাছ থেকে এমন বক্তব্য এল।

বিবৃতিতে বলা হয়, যুক্তরাজ্যের দুটি প্রধান বিমানবাহী রণতরির একটি এইচএমএস প্রিন্স অব ওয়েলসকে পূর্ণ প্রস্তুতিতে রাখা হয়েছে।

ট্রাম্প তাঁর পোস্টে লেখেন, যুক্তরাষ্ট্রের এককালের মহান মিত্র যুক্তরাজ্য, সম্ভবত সব মিত্রের চেয়ে সেরা, অবশেষে মধ্যপ্রাচ্যে দুটি বিমানবাহী রণতরি পাঠানোর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে ভাবছে।

ট্রাম্প তাঁর পোস্টে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারকে খোঁচা মারেন। লেখেন, ‘ঠিক আছে, প্রধানমন্ত্রী স্টারমার। আমাদের আর এগুলোর (রণতরি) প্রয়োজন নেই। কিন্তু আমরা মনে রাখব। আমরা এমন মানুষ চাই না, যারা যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর যখন আমরা ইতিমধ্যে জিতেছি, তখন যোগ দেয়।’

তথ্যসূত্র: আল–জাজিরা

আঁচ করা হচ্ছিল আগে থেকে, ফলাফলও মিলে যাচ্ছে। নেপালে প্রথাগত রাজনৈতিক দলগুলোকে হটিয়ে ক্ষমতায় যাচ্ছে রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টি (আরএসপি), প্রধানমন্ত্রী হতে যাচ্ছেন বালেন্দ্র শাহ।

নেপালের এই নির্বাচনে জেন-জি প্রজন্মের জয় বাংলাদেশে ভোটে একই প্রজন্মের ব্যর্থতাও সামনে আনছে। জেন-জি প্রজন্মের নেতৃত্বে অভ্যুত্থানে ২০২৪ সালের আগস্টে বাংলাদেশে ক্ষমতাচ্যুত হয়েছিল আওয়ামী লীগ। এর এক বছর এক মাস পর একই ধরনের অভ্যুত্থানে ক্ষমতা হারান নেপালের প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা ওলি।

এরপর গত মাসে বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত হয় সাধারণ নির্বাচন, তাতে অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া তরুণেরা নতুন দল গড়ে অংশ নিলেও বড় প্রভাব ফেলতে পারেননি। কিন্তু নেপালে হয়েছে বিপরীত। জেন-জিদের পছন্দের প্রার্থী বালেন্দ্র শাহর দল ভোটে জিতে পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হতে চলেছেন।

গত বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনের প্রাথমিক ফলাফলে দেখা যাচ্ছে, দেশটির সাধারণ ভোটাররা পুরোনো প্রতিষ্ঠিত দল ও রাজনীতিকদের ওপর থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন। র‌্যাপার থেকে রাজনীতিবিদ বনে যাওয়া বালেন্দ্র শাহর দল আরএসপি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে পার্লামেন্টে বসতে যাচ্ছে।

নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, সরাসরি ফার্স্ট-পাস্ট-দ্য-পোস্ট পদ্ধতিতে ১৬৫টি এবং আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব পদ্ধতিতে ১১০টি আসনের চূড়ান্ত ফল আগামী সপ্তাহের মধ্যে ঘোষণা হওয়ার কথা।

নেপালের প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক প্রভাবশালীদের সরিয়ে দিয়ে ৩৫ বছর বয়সী বালেন্দ্র শাহকে ক্ষমতার দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে দেওয়ার প্রচারণার সূচনা হয়েছিল পশ্চিম কাঠমান্ডুর একটি ছয়তলা ভবন থেকে।

বালেন্দ্র শাহর প্রচার কর্মসূচি সম্পর্কে জানতে রয়টার্স আরএসপির ছয় নেতার সঙ্গে কথা বলেছে। তাতে জানা যাচ্ছে, প্রচারণার বড় অংশই সমন্বয় করা হয় বালাজু এলাকায় অবস্থিত দলটির সদর দপ্তরের ওপরের তিনটি তলা থেকে। আর প্রচারণার খরচের বড় অংশের জোগান এসেছিল প্রবাসী নেপালিদের কাছ থেকে।

আরএসপির জাতীয় প্রচারণা দলের সদস্য বিজ্ঞান গৌতম রয়টার্সকে বলেন, ‘মাঠপর্যায়ে মানুষের কাছ থেকে যে সমর্থন ও ভালোবাসা পেয়েছি, তাতে আমরা অভিভূত।’

নেপালের সাবেক প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা ওলি
নেপালের সাবেক প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা ওলি, ফাইল ছবি: রয়টার্স

প্রতি আট দিনে একটি ভাষণ

আরএসপির রাজনৈতিক প্রচার কৌশলের কেন্দ্রে ছিল রিসার্চ, স্ট্র্যাটেজি অ্যান্ড ডকুমেন্টেশন বিভাগ। ১১ সদস্যের একটি বোর্ডের তত্ত্বাবধানে প্রায় ৩০০ জন দলীয় কর্মী তিনটি দলে ভাগ হয়ে কাজটি করেন।

তিনজন নেতা জানিয়েছেন, জাতীয় পর্যায়ের এসব দল নির্বাচনী কৌশল নির্ধারণ, সমাবেশ আয়োজন, অনলাইন কনটেন্ট তৈরি ও ব্যবস্থাপনা এবং সারা দেশ থেকে প্রচারণা ও জনমতের তথ্য সংগ্রহের কাজ করে।

ভোটের আগে দলটি অত্যন্ত হিসাবি একটি গণমাধ্যম কৌশলও অনুসরণ করে। বালেন্দ্র শাহ প্রতি আট দিনে একটি করে বড় ভাষণ দেন, যাতে প্রতিটি সমাবেশের বার্তা ৬৬০ সদস্যের সোশাল মিডিয়া টিমের মাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে দেওয়া যায়।

এ ছাড়া আরএসপি প্রতিদিন পাঁচ থেকে সাতটি জেলায় রোড শো করে। একই দিনে নেপালের সাতটি প্রদেশের কোনো একটিতে শাহ ভোটারদের সঙ্গে দেখা করতে হাজির হতেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে দলটির এক নেতা বলেন, ‘আপনি যদি বারবার ভাষণ দিতেই থাকেন, মানুষ বিভ্রান্ত হয়ে যায়। আমরা বিরোধী দলগুলোকে আগে কিছু বিষয় তুলতে দিই, তারপর একবারেই জবাব দিই। এতে আমাদের বার্তাটা পরিষ্কার থাকে।’

এই কেন্দ্রীয় প্রচার কর্মসূচি এবং বড় সমাবেশগুলোর আয়োজনের খরচ দল থেকেই করা হয়। নেতারা জানান, যুক্তরাষ্ট্রে থাকা প্রবাসী নেপালিদের কাছ থেকে বড় অঙ্কের অনুদান পেয়েছেন তাঁরা।

তবে প্রত্যেক প্রার্থীকে নিজ নিজ প্রচার কর্মসূচি আয়োজন এবং অর্থায়নের দায়িত্ব নিতে হয় বলে জানিয়েছেন আরএসপির কোষাধ্যক্ষ লিমা অধিকারী।

জাতীয় পতাকা হাতে নেপালের পার্লামেন্ট ভবনে সমবেত বিক্ষোভকারীরা। কাঠমান্ডু, নেপাল, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
জাতীয় পতাকা হাতে নেপালের পার্লামেন্ট ভবনে সমবেত বিক্ষোভকারীরা। কাঠমান্ডু, নেপাল, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ফাইল ছবি: এএফপি

সমতল থেকে পাহাড়ে

নির্বাচনের আগে গত ডিসেম্বরে আরএসপিতে যোগ দেওয়ার আগে বালেন্দ্র শাহ ছিলেন রাজধানী শহর কাঠমান্ডুর মেয়র। ২০২২ সালে তিনি এই পদে নির্বাচিত হন। নেপালের অন্যতম জনপ্রিয় র‍্যাপ তারকা হিসেবে তাঁর লাখ লাখ অনুসারী ছিল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। সেই জনপ্রিয়তা কাজে লাগান তিনি।

গত ১৯ জানুয়ারি নেপালের মাধেশ প্রদেশের রাজধানীতে এক সমাবেশে আরএসপির প্রতিষ্ঠাতা ও টিভি উপস্থাপক থেকে রাজনীতিক হওয়া রবি লামিছানের সঙ্গে মঞ্চে দাঁড়িয়ে বালেন্দ্র শাহ হাজারো মানুষের সামনে বলেছিলেন, ‘একজন মাধেশি ছেলে প্রধানমন্ত্রী হতে যাচ্ছে।’

মাধেশ ও আশপাশের তেরাই সমতল অঞ্চল নেপালের সবচেয়ে জনবহুল এলাকা হলেও দেশটির রাজনীতি দীর্ঘদিন ধরে নিয়ন্ত্রণ করছে কাঠমান্ডু ও আশপাশের পাহাড়ি এলাকার রাজনৈতিক অভিজাতেরা।

বালেন্দ্র শাহর জানুয়ারির ওই বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ভাইরাল হয়। দলটির তিন নেতা জানান, এর মাধ্যমে সেই ধারণাটি জোরদার হয় যে বালেন্দ্র শাহই হতে পারেন সমতল থেকে উঠে আসা প্রথম প্রধানমন্ত্রী।

আরএসপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য বীরেন্দ্র কুমার মেহতা বলেন, ‘আমাদের কাছে পরিষ্কার ছিল যে দেশটি পুরোনো দুর্নীতিগ্রস্ত নেতাদের প্রতি বিরক্ত হয়ে পড়েছে এবং মানুষ বালেন্দ্র শাহ ও রবি লামিছানের মতো তরুণ নেতাদের মধ্যে আশা দেখছে। দল এটাকে একটি সুযোগ হিসেবে দেখেছে।’

নেপালে রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টির প্রচারে বালেন্দ্র শাহকে পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তুলে ধরা হয়েছিল
নেপালে রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টির প্রচারে বালেন্দ্র শাহকে পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তুলে ধরা হয়েছিলছবি: রয়টার্স

বালেন্দ্র শাহ নিজে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন ঝাপা-৫ আসনে। এটি তেরাই অঞ্চলের একটি আসন, যা দীর্ঘদিন সাবেক প্রধানমন্ত্রী, কমিউনিস্ট পার্টি অব নেপালের নেতা কে পি শর্মা অলির দুর্গ হিসেবে পরিচিত। গত সেপ্টেম্বরে গণ–অভ্যুত্থানে ক্ষমতা ছাড়ার আগে তিনি একাধিকবার প্রধানমন্ত্রীর চেয়ারে বসেছিলেন।

নেপালের এই গ্রামীণ এলাকায় শাহ তাঁর প্রচারণার অপ্রচলিত কৌশলই বজায় রেখেছেন। সংবাদমাধ্যমের স্টুডিওতে বসে সাক্ষাৎকার দেওয়ার চেয়ে পথ চলতে চলতে হঠাৎ থেমে ভোটারদের সঙ্গে কথা বলাকে গুরুত্ব দেন তিনি। পুরো আসনে গড়ে তোলা হয় তরুণ স্বেচ্ছাসেবকদের একটি নেটওয়ার্ক।

কাঠমান্ডুতে আরএসপির প্রচারণা দলের সহায়তায় ভোটারদের মতামত ও অভিযোগও সংগ্রহ করা হয়, বিশেষ করে উন্নয়ন প্রকল্প ও শাসনব্যবস্থার নানা বিষয় নিয়ে।

আরএসপির ভাইস চেয়ারম্যান ডি পি আরিয়াল বলেন, ‘নেপালের প্রতিটি অঞ্চলের মানুষ অনুভব করবে যে সরকার তাদেরই এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, সরকার তাদের জন্যই কাজ করছে।’

বালেন্দ্র শাহর সম্ভাব্য সরকার প্রশাসনিক সক্ষমতা বাড়াতে বাইরের বিশেষজ্ঞদেরও যুক্ত করতে চায় বলে জানান আরিয়াল। আর যে তরুণ প্রজন্ম বালেন্দ্র শাহকে ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু করে তুলেছে, তাঁদের বিষয়গুলোও অগ্রাধিকারে থাকবে বলে জানান তিনি।

‘তরুণদের সম্পৃক্ততা এবং প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহারও আমাদের অগ্রাধিকারগুলোর একটি হবে,’ বলেন তিনি।

রয়টার্স

ইরান বর্তমান আকার ও মাত্রার যুদ্ধ আরও ‘অন্তত’ ছয় মাস চালিয়ে যেতে সক্ষম বলে দাবি করেছেন দেশটির ইসলামী বিপ্লবী গার্ড কোরের (আইআরজিসি) একজন কর্মকর্তা।

ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা ফারস নিউজ এজেন্সির বরাতে আইআরজিসির মুখপাত্র আলি মোহাম্মদ নাইনি এক বিবৃতিতে বলেন, ‘ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সশস্ত্র বাহিনী বর্তমান গতির এই তীব্র যুদ্ধ অন্তত ৬ মাস চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা রাখে।’

এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নাইনির এ বক্তব্য সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মূল্যায়নের সম্পূর্ণ বিপরীত। ট্রাম্প বারবার দাবি করে আসছেন যে ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চালানো অভিযান অত্যন্ত সফল হয়েছে।

চলতি সপ্তাহে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘আমরা এ যুদ্ধে বড় ব্যবধানে জিতছি। আমরা তাদের পুরো ‘‘শয়তানি সাম্রাজ্য’’ গুঁড়িয়ে দিয়েছি।’

আইআরজিসি ইরানের অন্যতম শক্তিশালী ও প্রভাবশালী একটি সংস্থা। সামরিক ও গোয়েন্দা কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি রাজনীতি, শিক্ষা ও অর্থনীতিতেও এ বাহিনীর ব্যাপক প্রভাব রয়েছে।

তথ্যসূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষ্যে বিশ্বের সকল নারীর প্রতি শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, একটি রাষ্ট্রের উন্নয়ন তখনই টেকসই হয়, যখন নারীর অধিকার, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত হয়। এ প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক নারী দিবসের এবারের প্রতিপাদ্য ‘আজকের পদক্ষেপ, আগামীর ন্যায়বিচার, সুরক্ষিত হোক নারী ও কন্যার অধিকার’ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হয়েছে বলে আমি মনে করি।

৮ মার্চ আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষ্যে দেওয়া এক বাণীতে তিনি এসব কথা বলেন।
তারেক রহমান বলেছেন, বিশ্বে জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেক নারী। নারীদের রাষ্ট্র সরকার ও রাজনীতির মূলধারার বাইরে রেখে উন্নয়ন সম্ভব নয়। বিশেষ করে, নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত না হলে ঘরে বাইরে সামগ্রিক উন্নয়নের সুফল সম্ভব নয়।
বাংলাদেশে নারীদের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া যুগান্তকারী ভূমিকা পালন করেছিলেন উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জিয়ার শাসনামলে ১৯৭৬ সালে রাষ্ট্রপতির সচিবালয়ে নারী বিষয়ক দফতর প্রতিষ্ঠা করা হয়। ১৯৭৮ সালে গঠন করা হয় মহিলা বিষয়ক মন্ত্রণালয়, যা পরবর্তীতে খালেদা জিয়ার শাসনামলে ১৯৯৪ সালে ‘মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়’-এ রুপান্তরিত হয়েছিল।
তিনি আরও বলেন, নারীর আর্থ সামাজিক ক্ষমতায়নে খালেদা জিয়া দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত মেয়েদের অবৈতনিক শিক্ষা চালু করেছিলেন। বাংলাদেশে নারীর ক্ষমতায়নে এটি ছিল একটি বৈপ্লবিক সিদ্ধান্ত। একই ধারাবাহিকতায় বর্তমান সরকার নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালু করেছে। সরকার শিক্ষা, অর্থনীতি, স্বাস্থ্য ও রাজনীতিসহ সকল স্তরে নারীর সক্রিয় ও কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে অঙ্গীকারবদ্ধ।
বাণীতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের লক্ষ্য হলো নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে স্নাতকোত্তর পর্যন্ত বিনামূল্যে শিক্ষা চালু করা, উচ্চশিক্ষায় নারীর অংশগ্রহণ বৃদ্ধি, মেয়েদের জন্য ফ্রি স্কুল ইউনিফর্ম, ডিজিটাল লার্নিং সুবিধা এবং আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থা সম্প্রসারণ করা। সরকার নারীর নিরাপত্তা বিধানকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। সাইবার বুলিং ও অনলাইনে নারীর বিরুদ্ধে হয়রানি বন্ধে সরকার কঠোর অবস্থান নিয়েছে।

তারেক রহমান উল্লেখ করেন, তার দল বিএনপি এমন বাংলাদেশ গড়তে চায়, যেখানে নারী-পুরুষ সবাই সমান অধিকার ভোগ করবে। সম্মান ও মর্যাদা এবং নিরাপত্তা নিয়ে পরিবার, রাষ্ট্র ও সমাজে কাজ করবে।

‘আন্তর্জাতিক নারী দিবস’ উপলক্ষ্যে গৃহীত সকল কর্মসূচির সফলতা কামনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী।