যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের ওপর আরোপ করা বাড়তি ২০ শতাংশ পাল্টা শুল্কের বিষয়ে আলোচনা করতে রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) দুই দিনের সফরে ঢাকা আসছেন সে দেশের একটি বাণিজ্য প্রতিনিধিদল। ইউএসটিআরের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক সহকারী ব্রেন্ডান লিঞ্চ এই দলের নেতৃত্ব দেবেন।

পাল্টা শুল্ক ৩৫ শতাংশ থেকে কমে ২০ শতাংশ হলেও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের কোনও আনুষ্ঠানিক চুক্তি হয়নি। তবে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি দফতরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে বাণিজ্য চুক্তির একটি খসড়া তৈরি করা হয়েছে।

খসড়া চুক্তিটি চূড়ান্ত করতে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে বৈঠক করবে ঢাকা সফরে আসা মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধিদল। বৈঠকে পাল্টা শুল্ক কমানো নিয়েও আলোচনা হতে পারে।

মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধিদল ঢাকা সফরকালে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের পাশাপাশি প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস, পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন ও পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়ামের সঙ্গেও বৈঠক করবে।

কাঁচা পাট রফতানি করতে গেলে এখন থেকে সরকারের অনুমতি নিতে হবে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে একটি পরিপত্র জারি করেছে।

বিদ্যমান রফতানি নীতি ২০২৪-২৭–এ শর্ত সাপেক্ষে পণ্য রফতানির একটি তালিকা রয়েছে। এই তালিকায় কাঁচা পাট ছিল না এতদিন। রফতানি নীতি সংশোধন করে পরিপত্রে শর্ত যুক্ত পণ্য তালিকার ১৯ নম্বর ক্রমিকে কাঁচা পাটকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

বাংলাদেশ থেকে কাঁচা পাট রফতানি বন্ধ করার জন্য বাংলাদেশ জুট মিলস অ্যাসোসিয়েশন এবং বাংলাদেশ জুট স্পিনার্স অ্যাসোসিয়েশন গত ২৫ আগস্ট বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীনের কাছে যৌথভাবে একটি আবেদন করে। এই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সরকার বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সিদ্ধান্তটি নিয়েছে।

আবেদনে বলা হয়, বর্তমানে পাটের ভরা মৌসুমে প্রতি মণ পাটের দাম ৩ হাজার ৮০০ টাকা থেকে ৪ হাজার টাকা। অথচ আগের বছরগুলোতে প্রতি মণ পাটের দাম ছিল সর্বোচ্চ ৩ হাজার ২০০ টাকা। পাটশিল্পে অন্যতম কাঁচামাল কাঁচা পাট। এই কাঁচা পাটের অভাবে কারখানাগুলো প্রতিবছর ফেব্রুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত তাদের কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে পারে না। মাঝখানে সুযোগ নিচ্ছে মধ্যস্বত্বভোগীরা।

উল্লেখ্য, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে কাঁচাপাট রফতানি হয়েছে ১০ লাখ বেল।

কোনো ব্যাংক একীভূত হলে সেই ব্যাংকের গ্রাহকদের ভোগান্তি হবে না, কোনো টাকাই নষ্ট হবে না। এমনটা জানিয়েছেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ।

আজ মঙ্গলবার (৯ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠক শেষে এক ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন।

এর আগে, সোমবার (৮ সেপ্টেম্বর) পাঁচ শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকের একীভূত কার্যক্রম বাস্তবায়নের জন্য আট সদস্যের একটি ওয়ার্কিং কমিটি গঠন করে সরকার। একীভূত ব্যাংকের সম্ভাব্য নাম হতে পারে ‘ইউনাইটেড ইসলামী ব্যাংক’।

এ প্রসঙ্গে উপদেষ্টা জানান, পাঁচটি ইসলামী ব্যাংক একীভূত হওয়ার ব্যাপারে নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

তিনি বলেন, জাপানে এক লাখ কর্মী পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। তবে জাপানি ভাষা জানার পাশাপাশি যেকোনো ধরনের দক্ষতা বাড়াতে হবে। সেখানে পিএইচডি করার পর যাতে চাকরি মেলে, সে ব্যাপারেও অনুরোধ করা হয়েছে।

গাড়ি কেনা প্রসঙ্গে সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, আগামী নির্বাচনে দায়িত্ব পালনে মাঠ পর্যায়ে ব্যবহারের জন্য ৩০০ গাড়ি কেনার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। তবে মন্ত্রীদের জন্য গাড়ি কেনার বিষয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের যে প্রস্তাব ছিল, অর্থ মন্ত্রণালয় সেটি বাতিল করেছে।

দুর্যোগ মোকাবিলায় বাংলাদেশের বছরে অন্তত ২৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার প্রয়োজন। তবে আইএমএফ থেকে এক-দুই বিলিয়ন ডলার আনতেই কষ্ট হয়ে যায়— এমনটাই জানিয়েছেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ।

সোমবার (৮ সেপ্টেম্বর) ঢাকার আগারগাঁওয়ের পিকেএসএফ মিলনায়তনে ‘নেভিগেটিং ক্লাইমেট ফাইন্যান্স: মিডিয়া রিপোর্টিং প্রশিক্ষণ’ সেশনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। যৌথভাবে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে পল্লী কর্ম সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ) ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি)।

অর্থ উপদেষ্টা বলেন, জলবায়ু ইস্যুতে অর্থ আসছে না। ২৯ বিলিয়ন ডলারের বেশি তহবিল প্রয়োজন। দুর্যোগ মোকাবিলায় বাংলাদেশের মানুষ এগিয়ে আছে জানিয়ে তিনি বলেন, স্থানীয় লোকেরা নিজেদের প্রচেষ্টায় দুর্যোগ মোকাবিলা করে। এটা ভালো দিক। তবে, কেউ যদি অপেক্ষা করে ঢাকা থেকে ফায়ার সার্ভিসের লোক গিয়ে সহায়তা করবে; তবে তা হবে না।

তিনি বলেন, সাংবাদিকদের ভালো ভূমিকা রাখতে হবে। জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে সাংবাদিকদের কাজ করতে হবে। আমাদের সতর্ক করতে হবে। জাপানের ছাত্ররা দুর্যোগ নিয়ে সচেতন। আমাদেরও সচেতন হতে হবে। দুর্যোগ নিয়ে শিশুদের ছোটবেলা থেকে সচেতন করতে হবে।

এসময় আলোচকরা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ক্ষতি মোকাবিলায় উন্নত বা দায়ী দেশগুলো পর্যাপ্ত অর্থায়ন করছে না, এমনকি প্রতিশ্রুত অর্থায়নও হচ্ছে না। জলবায়ু পরিবর্তন শুধু অর্থনৈতিক ক্ষতি ডেকে আনছে না, সামাজিক খাতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। অথচ তহবিল মিলছে না।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। বলেন, বাংলাদেশ ঝুঁকির দিক থেকে নবম। আঠারো কোটি মানুষ ক্ষতির মুখে। তবে প্রচারনায় তা উঠে আসছে না। এসময় বৈশ্বিক দৃষ্টি আকর্ষণে মিডিয়াকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়।

বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী বলেছেন, আগামী ৩০ বছরের মধ্যে মাতারবাড়ী-মহেশখালীকে সাংহাই-সিঙ্গাপুর বন্দরের মতো উন্নতমানের বন্দর হিসেবে গড়ে তুলতে চায় সরকার। এর ফলে এখান থেকে দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) দেড়শ বিলিয়ন ডলার অবদান রাখবে।

আজ বুধবার (৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস অ্যাকাডেমিতে এক ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন তিনি।

বিডা চেয়ারম্যান বলেন, মাতারবাড়িকে কেন্দ্র করে ১৬ থেকে ১৮ বিলিয়ন ডলার রফতানি হবে। ২০৫৫ সালের মধ্যে ২৫ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান হবে। এতে করে দেশের চেহারা পুরো বদলে যাবে।

তিনি আরও বলেন, গ্যাস বা নিউক্লিয়ার পাওয়ার স্টেশন করার পরিকল্পনা রয়েছে, হবে শিল্প পার্ক। প্রথম ৫ বছরের মধ্যে ডিপসি চালু করা হবে, পরের ৫ বছরে রেল সংযোগ।

এ সময় বিডা চেয়ারম্যান বলেন, ২০৪৩-৪৫ থেকে ২০৫৫ সালের মধ্যে কক্সবাজার ও মহেশখালিকে পুরো এলাকা পর্যটনকেন্দ্রিক করা হবে। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে ১২০ দিনের মধ্যে ভিশন ও মাস্টারপ্ল্যানের খসড়া তৈরি করে দেয়া হবে।

চট্টগ্রাম

রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাক শিল্পসহ সংশ্লিষ্ট খাতগুলোর বকেয়া নগদ সহায়তার বিপরীতে ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা ছাড় দিয়েছে সরকার।

বিজ্ঞাপন
এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ)।

সংগঠনটির সভাপতি মাহমুদ হাসান খান মঙ্গলবার (৩ মার্চ) বিবৃতিতে বলেন, আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে শিল্প মালিকদের ওপর শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা, উৎসব বোনাস এবং ইউটিলিটি বিল পরিশোধের চাপ বেড়েছে। এমন সময়ে নগদ সহায়তার অর্থ ছাড় শিল্পের জন্য বড় স্বস্তি এনে দেবে।

বিজ্ঞাপন
Video Player is loading.

Close Player
বিজিএমইএ জানায়, আটকে থাকা নগদ সহায়তার অর্থ ছাড়ের দাবিতে সংগঠনটির বর্তমান বোর্ড সম্প্রতি সরকারের শীর্ষ পর্যায়, অর্থ মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠক করেছে। এসব আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতেই দ্রুততম সময়ে এ তহবিল অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের জারি করা প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের তৃতীয় কিস্তির প্রথম ধাপে ১৫০০ কোটি টাকা এবং দ্বিতীয় ধাপে ১ হাজার কোটি টাকা মোট ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন

দেশে মজুদ থাকা জ্বালানির পরিমাণ জানালেন বিপিসি চেয়ারম্যান
সংগঠনটি তাদের সদস্য প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিজ নিজ লিয়েন ব্যাংকের সঙ্গে যোগাযোগ করে দ্রুত প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার আহ্বান জানিয়েছে।

শিল্প সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই অর্থ ছাড় রপ্তানি খাতে তারল্য সংকট মোকাবেলায় সহায়ক হবে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে দেশের তৈরি পোশাক শিল্পের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা ধরে রাখতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

Copied from: https://rtvonline.com/

মধ্যপ্রাচ্যে সংকটের কারণে আজ সোমবার বিশ্ববাজারে তেলের দাম বেড়েছে। ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ায় তেলের দাম আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। কিছু বিশ্লেষক সতর্ক করেছেন, সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে তেলের দাম ১০০ ডলার ছাড়াতে পারে।

এদিকে তেলের দাম বাড়ার সঙ্গে আজ ওয়ালস্ট্রিটে সূচক পতনের আভাস পাওয়া গেছে। ওয়ালস্ট্রিটের ফিউচার সূচক কমে গেছে। ইউরোপেও একই পরিস্থিতি দেখা যাচ্ছে। অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশ বিশেষ পরিস্থিতির কথা বলে শেয়ারবাজার বন্ধ করে দিয়েছে।

বিষয়টি হলো, হরমুজ প্রণালির কাছে অন্তত তিনটি জাহাজে হামলার পর বৈশ্বিক তেলের বাজারে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান হামলার জবাবে ইরান মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে পাল্টা হামলা অব্যাহত রেখেছে। এর মধ্যে জাহাজে হামলার কারণে নতুন করে উদ্বেগ বেড়েছে।

যুক্তরাজ্যের ইউকে মেরিন ট্রেড অপারেশনস (ইউকেএমটিও) জানিয়েছে, দুটি জাহাজ অজ্ঞাতনামা ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জাহাজ দুটিতে আগুন ধরে যায়। তৃতীয় একটি জাহাজের খুব কাছাকাছি একটি অজ্ঞাতনামা ক্ষেপণাস্ত্র বিস্ফোরিত হয়েছে। তবে ওই জাহাজের নাবিকেরা নিরাপদে আছেন।

একই এলাকায় চতুর্থ একটি ঘটনার কথাও ইউকেএমটিও জানিয়েছে, যেখান থেকে জাহাজের কর্মীদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছে, তবে এর কারণ স্পষ্ট নয়। সংস্থাটি আরব উপসাগর ও ওমান উপসাগরজুড়ে ‘একাধিক নিরাপত্তাজনিত ঘটনার’ কথা উল্লেখ করে জাহাজগুলোকে সতর্কতার সঙ্গে চলাচলের পরামর্শ দিয়েছে।

ইরান সতর্ক করে বলেছে, কোনো জাহাজ যেন হরমুজ প্রণালি অতিক্রম না করে। বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাসের প্রায় ২০ শতাংশ এই প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে প্রণালির প্রবেশমুখে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে।

জাহাজ-তথ্য বিশ্লেষণ প্ল্যাটফর্ম কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, অন্তত ১৫০টি ট্যাংকার হরমুজের বাইরে উপসাগরের উন্মুক্ত পানিতে নোঙর ফেলেছে। তবে ইরান ও চীনের কয়েকটি জাহাজ আজ প্রণালি অতিক্রম করেছে।

কেপলারের বিশ্লেষক হোমায়ুন ফালাকশাহি বলেন, ইরানের হুমকির কারণে কার্যত প্রণালিটি বন্ধ হয়ে গেছে। এই পথে চলাচলের ঝুঁকি অনেক। সেই সঙ্গে বিমার ব্যয় হু হু করে বেড়ে যাওয়ায় জাহাজগুলো এই পথ এড়িয়ে চলছে। তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র সম্ভবত নৌপথ সুরক্ষায় উদ্যোগ নেবে; সেটি কার্যকর হলে দামের ঊর্ধ্বগতি ঠেকানো যেতে পারে। কিন্তু দীর্ঘ সময় প্রণালি বন্ধ থাকলে তেলের দাম ‘অনেক’ বাড়তে পারে।

এদিকে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) দাবি করেছে, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের পতাকাবাহী তিনটি ট্যাংকারে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হয়েছে। সেই জাহাজগুলোয় আগুন জ্বলছে। তবে যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্র এ বিষয়ে মন্তব্য করেনি।

জ্বালানি তেল
জ্বালানি তেল, ফাইল ছবি: রয়টার্স

উৎপাদন বাড়াচ্ছে ওপেক

গতকাল রোববার তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোর জোট ওপেক ও সহযোগী দেশগুলো দৈনিক উৎপাদন ২ লাখ ৬ হাজার ব্যারেল বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। লক্ষ্য হলো—সম্ভাব্য মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব কিছুটা হলেও সামাল দেওয়া। যদিও কিছু বিশেষজ্ঞের মতে, এতে বড় ধরনের স্বস্তি না–ও আসতে পারে।

এমএসটি রিসার্চের জ্বালানি গবেষণা বিভাগের প্রধান সাউল কাভনিক বলেন, বাজারে এখনো আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েনি। তাঁর মতে, এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষই তেল পরিবহন ও উৎপাদন অবকাঠামোকে প্রধান লক্ষ্যবস্তু করে হামলা চালায়নি। ফলে পরিস্থিতি কিছুটা স্থিতিশীল। হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হয় কি না, বাজার তা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। চলাচল স্বাভাবিক হলে দাম আবার কমতে পারে।

জাহাজ কোম্পানি কী বলছে

বেসরকারি সামুদ্রিক নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান ভ্যানগার্ড টেক জানিয়েছে, জিব্রাল্টার, পালাউ, মার্শাল দ্বীপপুঞ্জ ও লাইবেরিয়ার পতাকাবাহী জাহাজে হামলা হয়েছে; ইউকেএমটিও যেসব ঘটনার কথা বলেছে, সেগুলোর সঙ্গে এর মিল আছে।

ডেনমার্কভিত্তিক কনটেইনার শিপিং গ্রুপ মেয়ার্সক গতকাল বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা বাব এল-মান্দেব প্রণালি ও সুয়েজ খাল দিয়ে জাহাজ চলাচল সাময়িকভাবে স্থগিত করবে। এ ক্ষেত্রে যা হয়, অর্থাৎ উত্তমাশা অন্তরীপ ঘুরে বিকল্প পথে জাহাজ পাঠাবে তারা।

এদিকে গত শনিবার যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলি হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর গতকাল ইরান ও ইসরায়েল নতুন করে একে অপরের বিরুদ্ধে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়। দুবাই (সংযুক্ত আরব আমিরাত), কাতারের রাজধানী দোহা, বাহরাইন ও কুয়েতে হামলার খবর পাওয়া গেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই আঞ্চলিক অস্থিরতার কারণে জ্বালানি সরবরাহের ব্যবস্থা আরও ঝুঁকির মুখে পড়েছে। এই পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে জ্বালানি তেলের দাম অনেকটাই বেড়ে যেতে পারে।

মার্কিন ও ইউরোপীয় শেয়ারবাজারে সূচক পতনের আভাস পাওয়া যাচ্ছে
মার্কিন ও ইউরোপীয় শেয়ারবাজারে সূচক পতনের আভাস পাওয়া যাচ্ছে, ফাইল ছবি: রয়টার্স

শেয়ারসূচক পতনের আভাস

এদিকে আজ পশ্চিমা পৃথিবীতে সপ্তাহের প্রথম দিনে শেয়ারবাজারের ফিউচার সূচকগুলোর পতন হয়েছে। ওয়ালস্ট্রিটের এসঅ্যান্ডপি ৫০০, নাসডাক কম্পোজিট, ডাও জোনস ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যাভারেজ ফিউচার—সব কটিই প্রায় ১ শতাংশ করে কমেছে। খবর সিএনএনের

তবে তেল কোম্পানিগুলোর ক্ষেত্রে ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে। এক্সন মবিল, শেভরনসহ আরও অনেক জ্বালানি কোম্পানির শেয়ারের আগাম দাম প্রায় ২ শতাংশ করে বেড়েছে। প্রতিরক্ষা খাতের শেয়ারও সামান্য ঊর্ধ্বমুখী ছিল।

ইউরোপেও একই পরিস্থিতি দেখা যাচ্ছে। ইউরোস্টক্স ৫০–সংযুক্ত ফিউচারস ১ দশমিক ৪ শতাংশ কমেছে। জার্মানির ড্যাক্স ফিউচারস নেমেছে ১ দশমিক ৩ শতাংশ। অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কুয়েত ‘বিশেষ পরিস্থিতির’ কথা উল্লেখ করে সাময়িকভাবে শেয়ারবাজারে লেনদেন স্থগিত করেছে।

ফিউচার (ভবিষ্যৎ চুক্তি) হলো এমন ধরনের আর্থিক চুক্তি, যার মাধ্যমে বিনিয়োগকারীরা আগাম নির্ধারিত দামে ভবিষ্যতের কোনো তারিখে শেয়ার, পণ্য বা সূচক কেনাবেচার অঙ্গীকার করেন। বাজার খোলার আগেই ফিউচার লেনদেন দেখে বিনিয়োগকারীরা দিনটি সম্পর্কে আগাম ধারণা পান।

অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে করা শুল্কচুক্তি চরমভাবে বৈষম্যমূলক বলে মন্তব্য করেছে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)। সংস্থাটির গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, ‘চুক্তির শর্ত দেখে আমরা হতভম্ব, স্তম্ভিত। তাই সরকারের উচিত এই চুক্তি থেকে সরে আসা।’

আজ শনিবার রাজধানীর ধানমন্ডিতে সিপিডির কার্যালয়ে আয়োজিত এক মিডিয়া ব্রিফিংয়ে এ কথা বলেন তিনি। ‘নতুন সরকারের অর্থনৈতিক ও সামাজিক খাতে নীতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত: ১৮০ দিনও তারপর’ শীর্ষক এ মিডিয়া ব্রিফিংয়ের আয়োজন করে সিপিডি।

অনুষ্ঠানে খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকারের সময় যখন শুল্কসংক্রান্ত আলাপ-আলোচনা শুরু হয়েছিল, তখন সাধারণ মানুষকে ধারণা দেওয়া হয়েছিল যে শুধু শুল্ক নিয়ে আলোচনা চলছে। পাল্টা শুল্কের হার কীভাবে ৩৫ থেকে ২০ শতাংশে কমিয়ে আনা যাবে, সেটি। এ জন্য কিছু কেনাকাটার (প্রকিউরমেন্ট) চুক্তি করলেই নাকি হয়ে যাবে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত যে চুক্তি হয়েছে, তা দেখে আমরা হতভম্ব, স্তম্ভিত। এই ধরনের চুক্তি কীভাবে একটি অনির্বাচিত সরকার করে যেতে পারল বা এই দায় কীভাবে একটি নির্বাচিত সরকারের কাঁধে দিয়ে যেতে পারল, তা বোধগম্য নয়। কোনো একটি বিষয়ে যদি অন্তর্বর্তী সরকারকে নিন্দা জানানোর থাকে, তাহলে আমি এই একটি চুক্তির জন্য নিন্দা জানাতে চাই।’

ব্রিফিংয়ে নতুন গভর্নর নিয়োগের বিষয়ে সংস্থাটির পক্ষ থেকে বলা হয়, বর্তমান সরকার গভর্নর নিয়োগের ক্ষেত্রে একটি দুর্বল পদক্ষেপ নিয়েছে। একই সঙ্গে প্রক্রিয়াটি অস্বচ্ছ ছিল। সরকার রাজনৈতিক বিবেচনাতেও গভর্নর নিয়োগ দিতে চাইলে এর চেয়ে আরও ভালো নিয়োগ দিতে পারত। নবনিযুক্ত গভর্নরের ক্ষেত্রে বেশ কিছু বিষয়ে আলোচনা-সমালোচনা রয়েছে। সরকার এ ধরনের সমালোচনাগুলো এড়িয়ে আরও ভালো নিয়োগ দিতে পারত। সে ধরনের যোগ্য লোক সরকারের হাতে ছিল।

বড় সমস্যা স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির

দেশের বিদ্যমান অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নতুন সরকারের অগ্রাধিকার বিষয়ে বিভিন্ন খাতভিত্তিক পর্যালোচনা তুলে ধরে সিপিডি। সংস্থাটি বলেছে, সরকারি কাঠামোর বড় সমস্যা সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে দুর্বলতা ও দক্ষতার সংকট। নতুন সরকারকে এটি মোকাবিলা করতে হবে। এ ছাড়া ব্যবসায়ীদের সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির দুর্বলতা। ব্যবসার পরিবেশের ক্ষেত্রে অবকাঠামো, মানবসম্পদ, অর্থায়ন, দুর্নীতি ও অপ্রাতিষ্ঠানিক লেনদেনের মতো চ্যালেঞ্জ রয়েছে। এসব কারণে বিদেশি বিনিয়োগকারীরাও আস্থা পান না।

সিপিডি জানিয়েছে, বিএনপি তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে দ্বিতীয় পদ্মা ও যমুনা সেতু তৈরির মতো কিছু বড় অবকাঠামো প্রকল্পের কথা বলেছে। তবে এ মুহূর্তে সেই আর্থিক সক্ষমতা সরকারের নেই। তাই সরকারের উচিত হবে ধীরে চলো নীতি অনুসরণ করা। ইশতেহারে বিএনপি মোট দেশজ আয়ের (জিডিপি) তুলনায় রাজস্ব আহরণ ৭ থেকে বাড়িয়ে ১০ শতাংশে উন্নীত করবে। এটি যৌক্তিক। তবে এ ক্ষেত্রে কর ন্যায্যতা নিশ্চিত ও করব্যবস্থা আরও স্বচ্ছ করতে হবে।

কয়লা উত্তোলন নয়

অনুষ্ঠানে খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে বাংলাদেশে বর্তমানে একাধিক সমস্যা রয়েছে। যার মধ্যে অতিমূল্যায়িত চাহিদা প্রক্ষেপণ ও প্রয়োজনীয় গ্যাস সরবরাহের সংকট অন্যতম। বিএনপির নির্বাচনী পথনকশায় নতুন করে দেশের কয়লা উত্তোলনের একধরনের ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। এ প্রসঙ্গে গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, কয়লা উত্তোলন দেশের জ্বালানি রূপান্তরের ক্ষেত্রে বড় প্রতিবন্ধকতা তৈরি করবে। সরকারের উচিত হবে এমন উদ্যোগ থেকে সরে আসা। আর গ্যাস–সংকট সমাধানে এলএনজি (তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস) আমদানি কোনো সমাধান হতে পারে না।

সরকারকে দুই পায়ে চলার পরামর্শ

সরকারি কার্যক্রমের তদারকি ও জবাবদিহি নিশ্চিতে সংসদের ভূমিকা বাড়ানোর পরামর্শ দেন খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম। তিনি বলেন, সরকার যদি দুই পায়ে কাজ করে, তাহলে এক পা হলো নির্বাহী বিভাগ, আরেক পা সংসদ। সংসদীয় স্থায়ী কমিটি, বিশেষ করে আর্থিক–সংক্রান্ত কমিটিগুলো স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারলে তা সরকারের জবাবদিহি নিশ্চিতের বড় সুযোগ তৈরি করবে।

সিপিডি মনে করে, নতুন সরকারকে সমান্তরালভাবে ১৮০ দিন এবং পরবর্তী ৫ বছরের পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করতে হবে। তবে সরকারি উদ্যোগ যেন মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকে, এটি যেন স্থানীয় সরকার প্রশাসন তথা সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদ পর্যায়েও বাস্তবায়িত হয়।

দেশের বাজারে আজ শনিবার সোনার দাম বাড়ানো হয়েছে। ফলে ২২ ক্যারেটের ভালো মানের সোনার দাম ভরিপ্রতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৬৫ হাজার ৪১৫ টাকা। এর আগে দাম ছিল ২ লাখ ৬১ হাজার ৪১ টাকা। ফলে আজ ভরিপ্রতি সোনার দাম বেড়েছে ৪ হাজার ৩৭৪ টাকা।

এর আগে গত সপ্তাহে দুবার সোনার দাম বাড়ানো হয়। সেবার দুই দফায় সোনার দাম বাড়ানো হয় ৫ হাজার ৪৮২ টাকা। এবার এক দফায় বাড়ল ৪ হাজার টাকার বেশি।

বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) আজ সকালে বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, স্থানীয় বাজারে তেজাবি সোনার (পিওর গোল্ড) দাম বেড়েছে; সে কারণে সোনার দাম বাড়ানো হয়েছে। যদিও মূল কারণ হলো, বিশ্ববাজারে সোনার দাম বেড়ে যাওয়া।

আজ বাজুসের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ভরিপ্রতি ২১ ক্যারেট সোনার দাম দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৫৩ হাজার ৩৪২ টাকা; ১৮ ক্যারেট সোনার দাম ২ লাখ ১৭ হাজার ১২৬ টাকা। এ ছাড়া সনাতনি পদ্ধতির সোনার দাম পড়ছে ভরিপ্রতি ১ লাখ ৭৭ হাজার ৭০১ টাকা।

বিজ্ঞপ্তিতে বাজুস আরও জানায়, সোনার বিক্রয় মূল্যের সঙ্গে আবশ্যিকভাবে সরকার নির্ধারিত ৫ শতাংশ ভ্যাট যুক্ত হবে।

জানুয়ারি মাসের শেষ দিক থেকেই দেশের বাজারে সোনার দামে অস্থিরতা বিরাজ করছে। এমনও হয়েছে, সকালে মূল্যবৃদ্ধির ঘোষণা দিয়ে রাতে আবার কমানো হয়েছে। গত ২৯ জানুয়ারি সোনার দাম ভরিপ্রতি সর্বোচ্চ ১৬ হাজার ২১৩ টাকা বেড়েছিল। এতে ভালো মানের এক ভরি সোনার দাম দাঁড়ায় ২ লাখ ৮৬ হাজার টাকা। দেশের ইতিহাসে এটাই সোনার সর্বোচ্চ দাম।

মূলত বিশ্ববাজারের সঙ্গে তাল মিলিয়ে দেশের বাজারে সোনার দাম বাড়ানো-কমানো হয়। মাঝে কিছুদিন সোনার দাম কমার পর গত সপ্তাহে বিশ্ববাজারে সোনার দাম বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সময় অনুযায়ী, শুক্রবার সোনার স্পট মূল্য আউন্সপ্রতি ১০০ ডলারের বেশি বেড়েছে। ফলে সোনার দাম এখন আউন্সপ্রতি ৫ হাজার ২৭৮ ডলার ১০ সেন্ট।

দুই সপ্তাহ ধরে বিশ্ববাজারে সোনার দাম ওঠানামা করছে। ফলে গত ৩০ দিনে সোনার দাম কমেছে ১৫০ ডলার। যদিও গত ছয় মাসে সোনার দাম বেড়েছে ১ হাজার ৭৬২ ডলার।

বৈশ্বিক ঝুঁকি সূচকে ১৬৪টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ ১৪১তম।

— চলতি অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি কমে ৪.৫% এবং আগামী বছর ৫.৭% হতে পারে।

— সবচেয়ে বড় দুর্বলতা ও ঝুঁকি এখন বাণিজ্যঋণ নিয়ে।

— মূল্যস্ফীতি এখনো বড় বাধা হয়ে আছে

জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং এরপর বিএনপি সরকার গঠনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে রাজনৈতিক স্বস্তি ফিরেছে। তবে গত আগস্টের পর থেকে দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক ঝুঁকি বেড়েছে। এই সময়ে দেশের অর্থনৈতিক ঝুঁকি দশমিক ৪ পয়েন্ট বেড়ে ৭ দশমিক ১–এ দাঁড়িয়েছে, যেখানে এশিয়া–প্যাসিফিক অঞ্চলের গড় ঝুঁকি স্কোর ৫ দশমিক ১। বৈশ্বিক ঝুঁকি সূচকে ১৬৪টি অর্থনীতির মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান এখন ১৪১তম।

বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় স্বাধীন অর্থনৈতিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান অক্সফোর্ড ইকোনমিকসের ‘রাজনৈতিক স্বস্তি ফিরলেও রূপান্তরের ঝুঁকি এখনো আছে’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এই প্রতিবেদনে বলা হয়, শান্তিপূর্ণ নির্বাচন রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা কমালেও আস্থা পুরোপুরি ফিরতে সময় লাগবে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশের সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা দুর্বল হয়েছে। তবে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ক্ষেত্রে ধীরে ধীরে উন্নতি হবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে সংস্থাটি।

অক্সফোর্ড ইকোনমিকস পাঁচটি সূচকের ভিত্তিতে অর্থনৈতিক ঝুঁকি পরিমাপ করে। সেগুলো হচ্ছে—বাজার চাহিদা, বাজার ব্যয়, বিনিময় হার, রাষ্ট্রের ঋণমান ও বাণিজ্যঋণ। ঝুঁকি নির্ধারণ করা হয় ১ থেকে ১০ স্কেলে; ১০ মানে সর্বোচ্চ ঝুঁকি।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় দুর্বলতা বাণিজ্যঋণ–সংক্রান্ত। এ ক্ষেত্রে স্কোর সর্বোচ্চ ১০। বিপুল খেলাপি ঋণ, বিশেষ করে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকে; দুর্বল তদারকি এবং সীমিত ঋণতথ্য পরিস্থিতিকে জটিল করেছে। ব্যাংকগুলো বড় ঋণগ্রহীতা ও সেবা খাতকে বেশি ঋণ দিলেও ঝুঁকি কম থাকা সত্ত্বেও গৃহস্থালি ও আবাসন খাত তুলনামূলক কম ঋণ পায়।

উচ্চ সুদের হার ও খেলাপি ঋণের চাপে বাজারের ব্যয়ও বেশি—এই সূচকে স্কোর ৮। বাজার চাহিদায় স্কোর ৭, যেখানে আঞ্চলিক গড় ৫ দশমিক ১। রাজনৈতিক অস্থিরতা, নিয়মকানুন–সংক্রান্ত চ্যালেঞ্জ, উন্নয়ন প্রকল্পে অনিশ্চয়তা এবং প্রবাসী আয়ের বিষয়ে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর ওপর নির্ভরতা বাজার চাহিদায় ঝুঁকি বাড়িয়েছে।

মুদ্রা বিনিময় হার মাঝারি ঝুঁকিতে রয়েছে—স্কোর ৫। ভাসমান বিনিময় হার চালু হলেও বাংলাদেশ ব্যাংক হস্তক্ষেপ করছে। গত বছরের শুরুতে বড় অবমূল্যায়নের পর টাকা কিছুটা স্থিতিশীল হয়েছে। রিজার্ভ ঘুরে দাঁড়ালেও মহামারিপূর্ব অবস্থার নিচে রয়েছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) কর্মসূচির আওতায় সংস্কার অব্যাহত থাকলে মধ্যমেয়াদে স্থিতিশীলতা বাড়তে পারে।

রাষ্ট্রের ঋণমান এখনো উচ্চ ঝুঁকিতে। ব্যাংক খাতের দুর্বলতা, কম মাথাপিছু আয়, প্রতিষ্ঠানগত উদ্বেগ ও প্রতিকূল ব্যবসায়িক পরিবেশ স্কোরকে নিচের দিকে টানছে। জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি দীর্ঘ মেয়াদে সরকারের ঋণমানকে প্রভাবিত করতে পারে। রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা কমলেও কাঠামোগত দুর্বলতা ও সংস্কার–সংক্রান্ত ঝুঁকি রয়ে গেছে।

প্রবৃদ্ধি কমার পূর্বাভাস

ব্যবসা–বাণিজ্যের শ্লথগতি ও উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে চলতি ২০২৫–২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস ৪ দশমিক ৭ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৪ দশমিক ৫ শতাংশ করেছে অক্সফোর্ড ইকোনমিকস। আগামী ২০২৬–২৭ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি ৫ দশমিক ৭ শতাংশে উঠতে পারে বলে ধারণা করা হয়েছে।

২০২৪–২৫ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৪ শতাংশ—করোনা মহামারি ছাড়া গত কয়েক দশকের মধ্যে দুর্বলতম। রাজনৈতিক অস্থিরতা, গণ–অভ্যুত্থানে পটপরিবর্তন, বিভিন্ন জেলায় ভয়াবহ বন্যা এবং বৈদেশিক চাহিদার মন্দা এতে ভূমিকা রেখেছে।

মূল্যস্ফীতি এখনো বড় বাধা। সাময়িকভাবে কমার পর আবার বেড়ে জানুয়ারিতে ৮ দশমিক ৬ শতাংশে (বার্ষিক) উঠেছে, যা অক্টোবরে ছিল ৮ দশমিক ২ শতাংশ। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও রিজার্ভ বাড়াতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক নীতি সুদহার ১০ শতাংশে অপরিবর্তিত রেখেছে। তবে মজুরি প্রবৃদ্ধি প্রায় ৮ শতাংশ হওয়ায় ক্রয়ক্ষমতা কমেছে এবং ভোক্তা চাহিদা সীমিত রয়েছে।

বাহ্যিক চাপ বাড়ছে

রপ্তানি খাত, বিশেষ করে তৈরি পোশাক নতুন চাপের মুখে। গত বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে ঘুরে দাঁড়ালেও চতুর্থ প্রান্তিকে রপ্তানি কমেছে। যুক্তরাষ্ট্রে আগাম ক্রয়াদেশ কমে আসা এবং জার্মানিসহ ইউরোপে চাহিদা হ্রাসের কারণ। মোট পণ্য রপ্তানির এক–পঞ্চমাংশের গন্তব্য যুক্তরাষ্ট্র ও জার্মানি। সেবা রপ্তানি কমায় প্রভাব আরও বেড়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে তুলনামূলক কম শুল্ক ও নতুন বাণিজ্যচুক্তি স্বল্প মেয়াদে স্বস্তি দিলেও আগামী নভেম্বর স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণ মধ্যমেয়াদে চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে। উত্তরণের পর পণ্য রপ্তানিতে ৯–১২ শতাংশ শুল্ক বসতে পারে, যা প্রতিযোগিতা সক্ষমতা কমাবে।

তবে চলতি বছর দেশে রপ্তানি বাড়তে পারে বলে মনে করছে অক্সফোর্ড ইকোনমিকস। নতুন বাণিজ্যচুক্তি ও যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টের পাল্টা শুল্ক অবৈধ ঘোষণার ফলে ক্রয়াদেশ বাড়তে পারে। নির্বাচনের পর রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা উন্নত হওয়া এবং এলডিসি উত্তরণের আগে বাণিজ্য–সুবিধা বহাল থাকাও সহায়ক হতে পারে।

বৈদেশিক লেনদেন ও বিনিয়োগ

কঠোর মুদ্রানীতি ও আইএমএফ সহায়তায় রিজার্ভ গত বছরের মাঝামাঝি ২২ বিলিয়ন ডলারে ওঠে, যা ২০২৪ সালে ছিল প্রায় ১৭ বিলিয়ন ডলার। তবু বর্তমান রিজার্ভ দিয়ে মাত্র চার মাসের আমদানি ব্যয় মেটানো সম্ভব।

সরকারি ব্যয় সংকোচন ও ঋণের উচ্চ খরচে বিনিয়োগ প্রবৃদ্ধি দুর্বল থাকার আশঙ্কা রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক মূল্যস্ফীতি ৭ শতাংশে না নামা পর্যন্ত নীতি সুদহার ১০ শতাংশে রাখতে চায়। জানুয়ারিতে মূল্যস্ফীতি ৮ দশমিক ৬ শতাংশ থাকায় শিগগিরই স্বাভাবিক অবস্থায় ফেরার সম্ভাবনা কম।

অক্সফোর্ড ইকোনমিকস বলেছে, দীর্ঘ রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার পর আস্থা পুনর্গঠনে সময় লাগবে। ফেব্রুয়ারির নির্বাচন একটি অনিশ্চয়তার উৎস দূর করলেও সংকটে থাকা ব্যাংকগুলোকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তারল্যসহায়তা মুদ্রানীতির কার্যকারিতা ক্ষুণ্ন করেছে।

দেশের অর্থনৈতিক সংকট উত্তরণে ট্যাক্স (কর) ও দেশি–বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ানোই সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার বলে জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, অর্থনৈতিক সংকট কাটাতে ট্যাক্স বাড়াতে হবে। পাশাপাশি দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। সামনে এগুলোই অগ্রাধিকার পাবে। এ ছাড়া বাজেটে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কর্মসংস্থানকে গুরুত্ব দেওয়া হবে।

আজ শুক্রবার বিকেলে চট্টগ্রাম নগরের পতেঙ্গায় প্রস্তাবিত সরকারি হাসপাতালের জন্য নির্ধারিত জমি পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন অর্থমন্ত্রী।

বিনিয়োগ ছাড়া কর্মসংস্থান সম্ভব নয় উল্লেখ করে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, বিএনপির নির্বাচনী কর্মসূচির মধ্যে কর্মসংস্থান একটি বড় কর্মসূচি। সে কারণেই সরকার দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগে জোর দিচ্ছে। আগামী বাজেটেও কর্মসংস্থান সর্বোচ্চ গুরুত্ব পাবে। এটি বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় সব উদ্যোগ নেওয়া হবে।

চট্টগ্রাম–১১ (বন্দর ও পতেঙ্গা) আসনের সংসদ সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, পতেঙ্গা অঞ্চলে কোনো বড় হাসপাতাল না থাকায় দীর্ঘদিন ধরে একটি হাসপাতালের দাবি রয়েছে। সেই দাবির পরিপ্রেক্ষিতে একটি বড় জেনারেল হাসপাতাল স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যেখানে বিশেষায়িত সেবাও থাকবে। পাশাপাশি একটি নার্সিং ইনস্টিটিউট ও টেকনোলজিস্টদের জন্য আলাদা ইনস্টিটিউট স্থাপনের পরিকল্পনাও রয়েছে।

এদিন বিকেলে অর্থমন্ত্রী বানৌজা উল্কার আবাদ অঞ্চল–২–এর পশ্চিম পাশে মেরিন ড্রাইভ–সংলগ্ন মুসলিমাবাদ এলাকায় বাংলাদেশ নৌবাহিনীর অধিগ্রহণকৃত জমি পরিদর্শন করেন। পরে পতেঙ্গায় সরকারি হাসপাতাল নির্মাণের লক্ষ্যে নৌবাহিনীর অধিগ্রহণ করা ১৪ দশমিক ২১ একর জমি সরেজমিন ঘুরে দেখেন।