পাকিস্তানের জনপ্রিয় শিশু তারকা আহমদ শাহ’র ছোট ভাই উমর শাহ মারা গেছে (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। আজ সোমবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সামাজিক মাধ্যম ইনস্টাগ্রামে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে তাদের পরিবার। তবে কি কারণে মৃত্যুবরণ করেছে সেটা জানায়নি।

রমজানের সম্প্রচার এবং গেম শোতে উপস্থিত থাকায় টেলিভিশন দর্শকদের কাছে পরিচিত ছিলেন দুই ভাই। তাদরে সেই ভাইরাল ভিডিও ‘পিছে তো দেখো’ সামাজিক মাধ্যমে আলোড়ন তোলে। এর মাধ্যমে মূলত বেশ পরিচিত পায় তারা।

ইনস্টাগ্রাম পোস্টে পরিবার জানিয়েছে, উমরের মৃত্যু তাদের দ্বিতীয় ট্র্যাজেডি কেননা এর আগে তাদের কন্যা আয়েশারও মৃত্যু হয়েছিল। একইসঙ্গে তার জন্য দোয়া চেয়েছে।

সাবেক সংবাদ উপস্থাপক রাবিয়া আনমও তার ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে উমর শাহ’র মৃত্যুর খবর শেয়ার করে শোক জানিয়েছেন।

এদিকে, তার মৃত্যুর সংবাদ সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ভক্ত এবং সহকর্মীরা শোক ও সমবেদনা প্রকাশ করেছেন।

উল্লেখ্য, উমর শাহ গত জুলাই মাসে চোখে অপারেশন করিয়েছিলেন। তবে এই মুহূর্তে তার মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যায়নি।

সূত্র: এক্সপ্রেস ট্রিবিউনপাকিস্তান অবজারভার

যুক্তরাষ্ট্র, দক্ষিণ কোরিয়া এবং জাপানের যৌথ সামরিক মহড়া তাদের নিজেদের জন্যই বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে। এমন হুঁশিয়ারি দিয়েছেন উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উনের বোন কিম ইয়ো জং।

রোববার (১৪ সেপ্টেম্বর) দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম কেসিএনএ এ তথ্য জানায়। কিম ইয়ো জং বলেন, যৌথ এই মহড়াকে হুমকি হিসেবে বিবেচনা করছে পিয়ংইয়ং। বেপরোয়া শক্তি প্রদর্শন, দেশগুলোর জন্য নেতিবাচক পরিনতি বয়ে আনবে, বলেও সতর্ক করেন তিনি।

সোমবার থেকে শুরু তিন দেশের বার্ষিক প্রতিরক্ষামূলক মহড়া ‘ফ্রিডম এজ’। পিয়ংইয়ং এর দাবি, উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক কর্মসূচি ও ক্ষেপণাস্ত্রের বিরুদ্ধে আকাশ, নৌ ও সাইবার অপারেশনাল সক্ষমতা বৃদ্ধিই দেশগুলোর উদ্দেশ্য। এটি স্পষ্ট উস্কানি বলেও অভিযোগ করে। তবে সিউল এবং ওয়াশিংটন বলেছে, কেবল প্রতিরক্ষার জন্যই আয়োজিত হচ্ছে এই মহড়া।

সূত্র: আল জাজিরা।

গাজা সিটিতে আগ্রাসনের মাত্রা ও পরিধি আরও বাড়িয়েছে ইসরায়েল। গতকাল শুক্রবার (১৩ সেপ্টেম্বর) নির্বিচার হামলায় উপত্যকাজুড়ে প্রাণ গেছে আরও ৬৫ জনের, যার মধ্যে ১৪ জন একই পরিবারের সদস্য।

গাজা সিটিতে আত-তোয়াম এলাকায় নিজ বাড়িতে ইসরায়েলি বোমা হামলায় নিহত হয়েছে পরিবারটি। গাজার স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার গাজা সিটি এবং উত্তরাঞ্চলে নিহত হয়েছেন ৪৮ জন। আহত হয়েছেন বহু মানুষ।

গাজা সিটিতে বিমান হামলার পাশাপাশি ট্যাংক নিয়ে চলছে পদাতিক সেনাদের স্থল অভিযান। ধ্বংস হয়েছে আরও কয়েকটি বহুতল ভবন। অঞ্চলটিতে হামলার তীব্রতা আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে ইসরায়েলি বাহিনী।

আটকা পড়ে আছে প্রায় ১০ লাখ মানুষ। গাজায় প্রায় দুই বছর ধরে চলা ইসরায়েলি আগ্রাসনে প্রাণহানি প্রায় ৬৩ হাজার।

নেপালে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সাবেক প্রধান বিচারপতি সুশীলা কারকির নাম প্রস্তাব করেছে জেন-জি বিক্ষোভকারীরা। বুধবার (১০ সেপ্টেম্বর) রাতে কাঠমান্ডুতে সভা করে এই সিদ্ধান্ত জানায় তরুণরা।

এদিন সামরিক বাহিনীর হেডকোয়ার্টার্সে সেনাপ্রধানের নেতৃত্বে হয় বিশেষ এই আলোচনা। এতে অনলাইনে বিভিন্ন জেলা থেকে আন্দোলনকারী নতুন প্রজন্মের প্রতিনিধিরা যোগ দেন। সন্ধ্যা থেকে টানা ছয় ঘণ্টা ধরে চলে ম্যারাথন আলোচনা। সেখানে নিজেদের দাবিদাওয়া তুলে ধরে জেন-জি প্রতিনিধিরা।

এ সময়, প্রধানমন্ত্রী-স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ বিক্ষোভকারীদের হত্যায় নির্দেশদাতাদের গ্রেফতার ও সাজার দাবি জানান তারা। সেইসাথে, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান হিসেবে সাবেক প্রধান বিচারপতি সুশীলা কারকির নাম প্রস্তাব করা হয়। পরে জেনজির অনুরোধে দায়িত্ব নিতে সাড়া দিয়েছেন সুশিলা কারকি এমন খবর ছড়িয়ে পড়ে স্থানীয় গণমাধ্যমগুলোতে।

এর আগে, নেপালে সোশ্যাল মিডিয়া বন্ধের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে শুরু হওয়া জেনজিদের আন্দোলন রূপ নেয় সরকার বিরোধী তীব্র বিক্ষোভে। পুলিশের গুলি ও সহিংসতায় প্রাণহানি হয় ৩০ জনের। এর ফলে পদত্যাগ করে পালাতে বাধ্য হন প্রধানমন্ত্রীসহ ক্ষমতাসীনরা।

উল্লেখ্য, দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতির জন্য আলোচিত ছিলেন সাবেক প্রধান বিচারপতি সুশিলা কারকি। সম্প্রতি ঘটে যাওয়া বিক্ষোভে সমর্থনও দেন এই প্রথম নারী প্রধান বিচারপতি। সেইসাথে সরব ছিলেন হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধেও।

হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মিত্র চার্লি কার্ক। বুধবার (১০ সেপ্টেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রের ইউটাহ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত্যু হয় তার। এক প্রতিবেদনে খবরটি নিশ্চিত করেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন।

এদিন শিক্ষার্থীদের এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখছিলেন ৩১ বছর বয়সী কার্ক। সেসময় তাকে লক্ষ্য করে কাছাকাছি একটি ভবনের ছাদ থেকে ছোঁড়া হয় গুলি। পরে হাসপাতালে নেয়ার পর মৃত্যু হয় কার্কের। গুলিবিদ্ধ হওয়ার কয়েক সেকেন্ড আগে যুক্তরাষ্ট্রে বন্দুক সহিংসতা নিয়ে প্রশ্ন করা হয়েছিল তাকে।

হত্যার ঘটনায় শুরুতে এক সন্দেহভাজনকে আটক করা হলেও পরে ছেড়ে দেয়া হয়।

উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রের ডানপন্থি রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে বেশ আলোচিত কার্ক। খুব কম বয়সে প্রতিষ্ঠা করেন টার্নিং পয়েন্ট ইউএসএ নামের একটি সংগঠন। গত মার্কিন নির্বাচনে ট্রাম্পের পক্ষে তরুণ ভোটারদের সমর্থন আদায়ে বিশেষ ভূমিকা রেখেছিলেন তিনি।

অপরদিকে, কার্ককে হত্যার ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। এ ঘটনাকে অত্যন্ত দুঃখজনক বলে আখ্যা দেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগের পরও অস্থিরতা কমছে না নেপালে। এখনও দেশের অনেক জায়গায় বিক্ষোভ করছেন ক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা। ঘটেছে লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা। এই সুযোগে পশ্চিমাঞ্চলীয় দুই জেলায় কারাগার থেকে পালিয়েছেন কয়েকশ বন্দি। বিষয়টি নিশ্চিত করেছে নেপালের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম।

জানানো হয়, থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে রাজধানী কাঠমান্ডুসহ অন্যান্য শহরে। দেশজুড়ে বিভিন্ন স্থানে এখনও বহাল রয়েছে কারফিউ, যা অব্যাহত থাকবে বৃহস্পতিবার ভোর ৬টা পর্যন্ত। তবে পরিস্থিতি সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে।

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোর সূত্রমতে, রাস্তায় রাস্তায় টহল দিচ্ছে নিরাপত্তাবাহিনীর সদস্যরা। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কাউকে বের হওয়ার অনুমতি দেয়া হচ্ছে না। স্থানীয় সময় বিকাল ৬টা পর্যন্ত বন্ধ রাখা হয়েছে ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। এর আগে, লুটপাতের অভিযোগে ২৬ দৃষ্কৃতিকারীকে আটক করে নিরাপত্তাকর্মীরা। অপরদিকে, সব পক্ষকে সংযত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন নেপালের প্রেসিডেন্ট রামচন্দ্র পাউডেল।

উল্লেখ্য, গত সোমবার (৮ সেপ্টেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম খুলে দেয়া হলে এবং প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলির পদত্যাগের দাবিতে ব্যাপক বিক্ষোভ শুরু হয়। পরে গতকাল পদত্যাগ করেন তিনি।

এরপরই দেশ ছাড়ার গুঞ্জন উঠেছে তাকে ঘিরে। শোনা যাচ্ছে দেশত্যাগ করে দুবাইয়ে অবস্থান নিতে পারেন তিনি। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর বরাতে এমন তথ্য জানিয়েছে ভারতীয় গণমাধ্যমগুলো। বলা হচ্ছে- প্রাইভেট জেট ব্যবহার করে নেপাল ছাড়ার পরিকল্পনা করছেন কেপি শর্মা অলি।

এরও আগে, বালকোটে তার বাসভবনে আগুন ধরিয়ে দেয় বিক্ষোভরত ছাত্র-জনতা। এতে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় নেপালের সাবেক প্রধানমন্ত্রীর বাসা। মঙ্গলবার দায়িত্ব ছাড়ার পরপরই সেনাবাহিনীর একটি হেলিকপ্টারে করে রাজধানী কাঠমাণ্ডু থেকে নিরাপদ স্থানে নেয়া হয় কেপি শর্মা অলিকে।

প্রতিরক্ষামন্ত্রী ও ঘনিষ্ঠ মিত্র সেবাস্তিয়ান লেকোর্নুকে এবার ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী মনোনীত করলেন প্রেসিডেন্ট ইম্যানুয়েল ম্যাকরন।

আস্থা ভোটে পদচ্যুত ফ্রাঁসোয়া বায়রুর স্থলাভিষিক্ত হবেন ৩৯ বছর বয়সী এই নেতা। ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইম্যানুয়েল ম্যাকরনের মেয়াদে সপ্তম প্রধানমন্ত্রীও হতে চলেছেন সেবাস্তিয়ান লেকোর্নু।

স্থানীয় সময় বুধবার (১০ সেপ্টেম্বর) আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমতাগ্রহণ করবেন তিনি। ২০১৭ সালে, ইম্যানুয়েল ম্যাকরনের নির্বাচনী প্রচারণায় যুক্ত ছিলেন তিনি। এর আগে, জাতীয় বাজেট সংক্রান্ত অচলাবস্থার জেরে ফ্রান্সের দুই প্রধানমন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে হয়।

সূত্র: আল জাজিরা।

নেপালের বিক্ষোভকারীরা দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী ঝালনাথ কানালের বাড়িতে আগুন দেওয়ায় তার স্ত্রী রাজ্যলক্ষ্মী চিত্রকর সেখানে আটকে পড়ে নিহত হয়েছেন।

কাঠমান্ডুতে দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী ঝালনাথ খানালের বাড়িতে হামলা চালায় বিক্ষোভকারীরা। এক পর্যায়ে আগুন দেয়া হয় বাড়ির বিভিন্ন স্থানে। এ সময় ভেতরে ছিলেন খানালের স্ত্রীসহ অনেকেই। বাকিরা বের হতে পারলেও আটকা পড়েন খানালের স্ত্রী রাজ্যলক্ষ্মী চিত্রকর।

পারিবারিক সূত্র জানায়, আহত রাজ্যলক্ষ্মী চিত্রকরকে উদ্ধার করে কীর্তিপুর বার্ন হাসপাতালে নেয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

নেপালের প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা অলির পদত্যাগের ঘোষণার আগেই সকালে বিক্ষোভকারীরা ভক্তপুরের বালকোট এলাকায় তার ব্যক্তিগত বাসভবনে আগুন ধরিয়ে দেন।

সূত্র: এনডিটিভি নিউজ।

অবশেষে ছাত্র-জনতার তীব্র বিক্ষোভের মুখে পিছু হটতে বাধ্য হলো নেপাল সরকার। তুলে নেয়া হয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা।

সোমবার (৮ সেপ্টেম্বর) রাতে মন্ত্রিসভার বিশেষ বৈঠকে নেয়া হয় এ সিদ্ধান্ত।

যোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক মন্ত্রী পৃথিবী সুবা গুরুং জানিয়ছেন, জেন জি’র আন্দোলন ও দাবির জেরে সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার চালুর বিষয়ে একমত হয়েছেন মন্ত্রীরা।

এর আগে, তীব্র ছাত্র আন্দোলনের মুখে পদত্যাগ করেন নেপালের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রামেশ লেখক। সোমবার সন্ধ্যায়, প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন বালুওয়াতারে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে, প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা অলির কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন তিনি।

মন্ত্রিসভার এক সদস্য জানিয়েছেন, বিক্ষোভ সহিংসতায় ১৯ জনের প্রাণহানি ও চার শতাধিক মানুষ আহত হওয়ায়, নৈতিক কারণে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব ছেড়েছেন রামেশ।

এরও আগে, নেপালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষিদ্ধ করা হয় গত ৪ সেপ্টেম্বর। এ সময় থেকে ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ, ইনস্টাগ্রাম, ইউটিউবসহ ২৬টি সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম বন্ধ ছিল।

সরকারের এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে শুরু হয় ব্যাপক বিক্ষোভ। এই আন্দোলনকে ‘জেন-জি রেভলিউশন’ নাম দিয়েছেন বিক্ষোভকারীরা।

নেপাল সরকারের ভাষ্যমতে, দেশটিতে কিছু প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ভুয়া আইডি ব্যবহারকারীরা ঘৃণা ও গুজব ছড়াচ্ছে, সাইবার অপরাধ করছে এবং সামাজিক সম্প্রীতি নষ্ট করছে।

গত বুধবার পর্যন্ত এসব সামাজিক প্ল্যাটফর্মকে নিবন্ধন করার সবশেষ সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিল নেপাল সরকার। সময় পেরিয়ে যাওয়ার পর বৃহস্পতিবার দেশটির টেলিকমিউনিকেশনস অথরিটিকে (এনটিএ) অনিবন্ধিত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলো বন্ধ করার নির্দেশ দেয়। এর ফলে সরাসরি জনগণের কণ্ঠরোধ করা হচ্ছে বলে দাবি করেন আন্দোলনকারীরা।

সমরাস্ত্রের বাজার বাড়াতে কয়েক দশকের পুরোনো নীতিতে পরিবর্তন আনতে চলেছে যুক্তরাষ্ট্র। গণবিধ্বংসী মারণাস্ত্রের বিক্রি নিয়ন্ত্রণে ১৯৮৭ সালে ৩৫ দেশের মধ্যে হয়েছিলো এমটিসিআর নামের অনানুষ্ঠানিক সমঝোতা। এবার সৌদি আরব ও পূর্ব ইউরোপের দেশগুলোর কাছে অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ড্রোন ও সমরাস্ত্র বিক্রির জন্য নতুন পদক্ষেপ নিতে চলেছে ট্রাম্প প্রশাসন। নীতি পরিবর্তন হলে সৌদি আরবের কাছে শতাধিক রিপার ড্রোন বিক্রি করতে পারে ওয়াশিংটন।

এমকিউ-নাইন রিপার— গোয়েন্দাগিরি, নজরদারি, টার্গেট শনাক্তকরণ কিংবা আক্রমণ, যেকোনো সামরিক অভিযান পরিচালনায় অত্যাধুনিক এই মার্কিন ড্রোনের জুড়ি মেলা ভার।

মূলত, ২০ মিটার দৈর্ঘের বিশাল ডানা নিয়ে ঘণ্টায় প্রায় ৪৮০ কিমি গতিতে ছুঁটতে সক্ষম এই চালকবিহীন আকাশযান। নজরদারির কাজে আকাশে থাকতে পারে একটানা প্রায় ৩০ ঘণ্টা। হেলফায়ার মিসাইল, পেভওয়ে ও লেজার গাইডেড বোমার মতো আধুনিক সমরাস্ত্র সমেত একটানা উড়ান ক্ষমতা ২৩ ঘন্টা। নির্ভুলভাবে হামলা চালাতে সক্ষম সর্বোচ্চ ১ হাজার ৮৫০ কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতে।

এতসব আকর্ষণীয় বৈশিষ্ট্য দেখে অনেক দেশই কিনতে আগ্রহী মার্কিন এই ড্রোন। গেল মে মাসেই, ট্রাম্পের সৌদি আরব সফরে শতাধিক রিপার ড্রোন কেনার আগ্রহ প্রকাশ করে রিয়াদ। ধারণা করা হচ্ছে- প্রায় ১৪২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের সমরাস্ত্র দেশটিতে বিক্রি করতে পারতে ওয়াশিংটন। সৌদি ছাড়াও মার্কিন এই সামরিক আকাশযান কিনতে আগ্রহী ইউরোপ ও প্যাসিফিক অঞ্চলের কয়েকটি দেশ।

কিন্তু ড্রোনসহ অত্যাধুনিক এসব সমরাস্ত্র বিক্রিতে বাধা হয়ে দাড়িয়েছে কয়েক দশকের পুরোনো একটি সমঝোতা। ১৯৮৭ সালে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের ৩৫টি দেশ মিসাইল টেকনোলজি কন্ট্রোল রিজিম বা এমটিসিআর সমঝোতায় সই করে। সে অনুযায়ী, দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন কিংবা এ জাতীয় মারণাস্ত্র পারমানবিক শক্তিধর দেশ ব্যাতীত অন্য দেশগুলোর কাছে বিক্রি করতে পারবে না চুক্তিবদ্ধ দেশগুলো।

পরিচয় গোপন রাখার শর্তে এক মার্কিন কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানায়, পুরোনো এই সমঝোতায় পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে ওয়াশিংটন। নতুন নীততে আন্তর্জাতিক চাহিদা অনুযায়ী এসব সমরাস্ত্র বিক্রি করবে দেশটি। যা তৈরি করা হবে মার্কিন সমরাস্ত্র নির্মাণ প্রতিষ্ঠানগুলোতেই।

বর্তমানে বৈশ্বিক অস্ত্র রফতানিতে মার্কিন ড্রোন নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে দাঁড়িয়েছে তুরস্ক ও চীন।

প্রবাসী বাংলাদেশিদের সবচেয়ে বড় সাংস্কৃতিক ও সামাজিক সমাবেশ ফোবানা সম্মেলনের ৩৯তম আসর শুরু হয়েছে। শুক্রবার (২৯ আগস্ট) যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টার ডুলুথে গ্যাস সাউথ কনভেনশন সেন্টারে শুরু হওয়া তিন দিনব্যাপী এই সম্মেলনে উত্তর আমেরিকার বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য থেকে আগত হাজারও প্রবাসী বাংলাদেশি অংশ নিয়েছেন।

উদ্বোধনী দিনে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। এরপর আলোচকরা প্রবাসী বাংলাদেশিদের ঐক্য, সংস্কৃতি ও আগামী প্রজন্মের কাছে মাতৃভাষা এবং ঐতিহ্য পৌঁছে দেয়ার গুরুত্ব নিয়ে বক্তব্য রাখেন।

সম্মেলনে প্রবাসীদের অংশগ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মতো। উত্তর আমেরিকার বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য থেকে আসা হাজারো প্রবাসী বাঙালির পদচারণায় পুরো অনুষ্ঠানস্থল পরিণত হয়েছিল এক টুকরো বাংলাদেশে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট ডেভেলপমেন্ট অথরিটি’ র চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক বিন হারুন, যুক্তরাষ্ট্রের লেফটেন্যান্ট গভর্নর অফ জর্জিয়া বার্ড জোন্স, চার্জ দ্যা অ্যাফেয়ার্স, বাংলাদেশ, সালাউদ্দিন মাহমুদ, কনসোল জেনারেল অব বাংলাদেশ, মায়মি, সেহেলি সাবরিন, জর্জিয়ার সেনেটর শেখ আব্দুর রহমান, সেনেটর নাবিলা ইসলাম, সেনেটর শেলী হেরাল, সিনেটর জস ম্যাকলেইন, জর্জিয়া ফায়ারের চেয়ারম্যান হাসান তারেক দ্বীপ, কনভেনর, ফোবানা ২০২৫ নাহিদুল খান সাহেল, মেম্বার সেক্রেটারি মাহবুবুর রহমান ভূঁইয়া, মোঃ আলমগীর, সেক্রেটারি জেনারেল আবির আলমগীর, চেয়ারপারসন ফোবানা এক্সিকিউটিভ কমিটি মাসুদ রব চৌধুরী, চেয়ারপারসন ফোবানা হোস্ট বিজনেস কমিটি ডিউক খান, কাজী নাহিদ, চীফ কো-অর্ডিনেট এম মওলা দিলু , মোয়াজ্জেম এইচ চৌধুরী, তাসিক আহমেদ, কবি ও বাচিক শিল্পী ভাস্কর ব্যানার্জি, ইঞ্জিনিয়ার আবু বকর হানিফ, যুক্তরাষ্ট্রের একমাত্র বাংলাদেশি মুসলিম জজ আজমেরী হক, মাহবুব রেজা চৌধুরী প্রমূখ।

সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনের অন্যতম আকর্ষণ ছিল বাংলাদেশ এবং যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়ীদের নিয়ে বিজনেস নেটওয়ার্কিং সেমিনার। সেখানে প্রবাসী বাংলাদেশী ও যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়ীদেরকে বাংলাদেশের বিভিন্ন সেক্টরে বিনিয়োগের আহ্বান জানান বিডার চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক বিন হারুন। ওই সেমিনারে তিনি কি- নোট স্পিকার হিসেবে বক্তব্য রাখেন।

এবারের সম্মেলনে বৈচিত্র্যময় সাংস্কৃতিক পরিবেশনার পাশাপাশি ছিল আলোচনা সভা, সাহিত্য আসর, প্রবাসীদের জীবনধারা ও নতুন প্রজন্মের সমস্যাবলী নিয়ে সেমিনার। এছাড়া নাটক, লোকসংগীত, আধুনিক গান, ফ্যাশন শো এবং শিশু-কিশোরদের জন্য বিশেষ অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়।

সম্মেলনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আমন্ত্রিত অতিথিদের মধ্যে ছিলেন জনপ্রিয় শিল্পী, সাংবাদিক, লেখক ও রাজনীতিবিদরা। তাদের অংশগ্রহণে আয়োজনটি আরও প্রাণবন্ত হয়ে উঠে। একই সঙ্গে প্রবাসী ব্যবসায়ী, সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও তরুণ প্রজন্মের উপস্থিতি সম্মেলনকে রূপ দিয়েছে এক মহা মিলনমেলায়।

তিন দিনব্যাপী এ মহোৎসবকে ঘিরে আটলান্টার বাঙালি কমিউনিটিতে বইছে উৎসবের আমেজ। শুধু সাংস্কৃতিক পরিবেশনা নয়, এখানে ছিল বাঙালি খাবার, পোশাক, অলঙ্কার ও বই মেলা। যা পুরো সম্মেলনকে রূপ দিয়েছে এক ক্ষুদ্র বাংলাদেশে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আয়োজক নেতৃবৃন্দ তাদের বক্তব্যে বলেছেন, এই সম্মেলন প্রবাসীদের সাংস্কৃতিক বন্ধন আরও দৃঢ় করবে এবং আগামী প্রজন্মকে মাতৃভাষা ও ঐতিহ্যের সঙ্গে সংযুক্ত রাখতে অনুপ্রাণিত করবে।

তারা আরও বলেন, এই সম্মেলনের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে শুধু সাংস্কৃতিক বন্ধনই দৃঢ় করেনি, বরং তরুণ প্রজন্মকে বাংলাদেশি ঐতিহ্য, শিল্প-সংস্কৃতি ও ইতিহাসের সঙ্গে যুক্ত করারও সুযোগ তৈরি হয়েছে। ফোবানা সম্মেলন আগামী দিনে প্রবাসীদের পরিচয়, ঐক্য ও মূলধারায় সম্পৃক্ততাকে আরও সমৃদ্ধ করবে বলেও তারা প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন।

এবারের সম্মেলনে ছিল বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল এর বিশেষ সেবা সার্ভিস। বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অব জর্জিয়া এই বিশেষ সার্ভিসটি আয়োজন করেন। পাসপোর্ট নবায়ন, ই পাসপোর্ট, এনআইডি সমস্যা সহ বিভিন্ন ধরনের সেবা দেওয়া হয় সেখানে।

তিন দিনব্যাপী এই সম্মেলনের আয়োজক ছিলেন আটলান্টাভিত্তিক সাহিত্য-সংস্কৃতিক সংগঠন ‘বাংলা ধারা’।

এবারের সম্মেলনের মূল ফোকাস ছিল ‘প্রবাসী প্রজন্মের দৃষ্টিভঙ্গি ও বৈশ্বীকরণে বাংলাদেশের অবস্থান’। এ ছাড়াও যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশিদের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক বাড়ানো, বাংলাদেশিদেরকে দেশটির মূলধারায় সম্পৃক্ত করা এবং শিক্ষা, সামাজিক ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা ছিল সম্মেলনের মূল লক্ষ্য। এবারের সম্মেলনে বেশ কিছু বিষয়কে সামনে নিয়ে আসা হয়েছে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ফেডারেশন অব বাংলাদেশি অ্যাসোসিয়েশন্স ইন নর্থ আমেরিকার (ফোবানা) চেয়ারপারসন মাসুদ রব চৌধুরী বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে সৌহার্দ্য বাড়িয়ে তোলা, নতুন প্রজন্মকে বাংলাদেশের জীবন, শিল্প-সংস্কৃতি, ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেয়াই এই সম্মেলন আয়োজনের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।

এবারের সম্মেলনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ও কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০ জন মেধাবী শিক্ষার্থীকে স্কলারশিপ দেয়া হয়। এছাড়া এবার আটলান্টার ১০ জন নতুন প্রজন্মের মেধাবী শিক্ষার্থীদের এককালীন স্কলারশিপ প্রদান করা হয়।

ফোবানার এক্সিকিউটিভ সেক্রেটারি আবীর আলমগীর বলেন, এবারের সম্মেলনে উত্তর আমেরিকার ২৪টি শহর থেকে সর্বমোট ৭৪টি সংগঠন এবং সংগঠনগুলোর প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেছেন। এছাড়া ছিল উত্তর আমেরিকার বিভিন্ন শহরের সাংগঠনিক সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, বিষয়ভিত্তিক সেমিনার, বইমেলা, সাহিত্য আসর, কাব্য জলসা, বিভিন্ন পণ্যের স্টল, ইয়ুথ ফোরাম, বিজনেস নেটওয়ার্কিং ইভেন্টস এবং বাংলাদেশের জনপ্রিয় তারকা শিল্পীদের অংশগ্রহণে সংগীতানুষ্ঠান।

সম্মেলনের তৃতীয় শেষ দিনে ফোবানার সাধারণ সভার পর ঘোষণা করা হবে কাউন্সিলরদের ভোটের মাধ্যমে আগামী বছরের জন্য নির্বাচিত নতুন কমিটির সদস্যদের নাম।

সম্মেলনে জানানো হয়, আগামী বছর ২০২৬ সালের ৪০তম ফোবানা সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার লস অ্যাঞ্জেলেসে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ফোবানা ২০২৫ এর কনভেনর নাহিদুল খান সাহেল বলেন, ফোবানা সম্মেলন মানে প্রবাসীদের একটি মিলনমেলা।

তিনি আরও বলেন, ফোবানা সম্মেলনে শুধু সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানই নয়, মানবিক বিষয়েও কাজ করা হয়। তবে ফোবানা কোনো রাজনৈতিক সংগঠন নয়। এখানে দলমত নির্বিশেষে সবার অংশগ্রহণ থাকে। প্রবাসে নতুন প্রজন্মের সঙ্গে দেশীয় সংস্কৃতির পরিচয় করিয়ে দেওয়াও এই সম্মেলনের বড় অর্জন।

তিনি বলেন, এবারের সম্মেলনে বেশ কয়েকটি বিষয়কে সামনে নিয়ে আসা হয়েছে। এসব বিষয় নিয়ে এবারের সেমিনারগুলো অনুষ্ঠিত হয়।

এর মধ্যে ছিল সামাজিক ইস্যু— মানবাধিকার ও সামাজিক-রাজনৈতিক দিক। স্বাস্থ্য ও সুস্থতার বিষয়ে প্রতিরোধমূলক এবং চিকিৎসাগত দিক। প্রযুক্তিতে প্রকৌশল, বিজ্ঞান ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা। শিক্ষা, ক্যারিয়ার ও যোগাযোগে প্রযুক্তির প্রভাব। গঠিত পরিবেশ ও জলবায়ু বিষয়ে স্থাপত্য, পরিকল্পনা, শহরায়ন এবং টেকসই উন্নয়ন। ব্যবসা ও অর্থনীতিতে ব্যবস্থাপনা, অর্থনীতি, উদ্যোক্তা, বাজার এবং অর্থনৈতিক নীতি। শিক্ষা, শিল্প ও সংস্কৃতি্তে পাঠদান, সৃজনশীল শিল্প, ডিজাইন, চলচ্চিত্র, মিডিয়া এবং সাহিত্য। সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য বিষয়ে ঐতিহ্য সংরক্ষণ, ইতিহাস ও সাংস্কৃতিক পরিচয় এবং বাংলাদেশি-আমেরিকানদের মূলধারায় সম্পৃক্ততা।

এবারের সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন স্টেটের যুবক-যুবতী ও নারীদের বড় ধরনের অংশগ্রহণ ছিল চোখে পরার মত।

সম্মেলনের চিফ কো-অর্ডিনেটর দিলু মওলা বলেন, এবারের সম্মেলনের অন্যতম আকর্ষণ ছিল উত্তর আমেরিকার বিভিন্ন শহরের ২৬টি সংগঠনের জমজমাট সাংস্কৃতিক পরিবেশনা।

সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনে বিজনেস নেটওয়ার্কিং সেমিনার শেষে বাংলাদেশী প্রবাসী এবং যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসার ক্ষেত্রে বড় ধরনের অবদান রাখা এবং ফোবানার বিভিন্ন কর্মকান্ডে অবদান রাখার জন্য ১৭ জন বিশিষ্ট ব্যক্তিকে প্রাউড স্পনসর এন্ড কন্ট্রিবিউটরস এওয়ার্ড দেয়া হয়। তাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন আটলান্টার বাংলাদেশী প্রবাসী গ্রেট কেয়ার ডেন্টিস্ট্রি ডাক্তার নাঈম বাসার।

যুক্তরাষ্ট্রে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসকে যোগদানের অনুমতি না দেয়ায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে ইউরোপের বিভিন্ন দেশ।

শনিবার (৩০ আগস্ট) ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে ইউরোপীয় ইউনিয়নের এক বৈঠকে যোগ দিতে এসে নিজেদের প্রতিক্রিয়া জানান এসব দেশের প্রতিনিধিরা। তাদের মধ্যে ছিলেন ফ্রান্স, স্পেন ও আয়ারল্যান্ডের মত দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা।

ফরাসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী জঁ-নোয়েল ব্যারো বলেন, ”জাতিসংঘ একটি নিরপেক্ষ স্থান, যেটা শান্তির জন্য কাজ করে। যেখানে বিরোধ মেটানো হয় আর যুদ্ধ ঠেকানো হয়। সেই অর্থে ৮০ বছর আগে প্রতিষ্ঠিত জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে প্রবেশাধিকারে কোনো ধরনের সীমাবদ্ধতা আরোপ করা যায় না। এ বিষয়ে আমার সহকর্মীদের সঙ্গে আলোচনা করব।”

অপরদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের এমন পদক্ষেপকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে মন্তব্য করেন স্পেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোসে ম্যানুয়েল আলবারেস। আর আয়ারল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইমন হ্যারিস বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের উচিত এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ কড়া ভাষায় প্রতিবাদ জানানো।

উল্লেখ্য, জাতিসংঘে ফিলিস্তিনি প্রতিনিধিদের যোগদান ঠেকাতে নজিরবিহীন পদক্ষেপ নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসসহ ৮০ জন কর্মকর্তার ভিসা প্রত্যাখ্যান ও বাতিল করেছে দেশটি। এর ফলে, আগামী মাসে নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ফিলিস্তিনি প্রতিনিধিদের অংশ নেয়া নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। এই অধিবেশনেই ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেবে ফ্রান্স, যুক্তরাজ্যসহ প্রভাবশালী বেশ কয়েকটি দেশ।