ইসরায়েল বিরোধী অবস্থান নিয়েছে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের ১৫ সদস্যের মধ্যে ১৪টি দেশ। গাজায় দুর্ভিক্ষের জন্য সরাসরি তেল আবিবকে দায়ী করে বিবৃতি দিয়েছে ব্রিটেন, ফ্রান্স, রাশিয়া, চীনসহ অন্যরা। বৈঠকে উপত্যকার অনাহারের পরিস্থিতি নিয়ে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়েছেন ইসরায়েল ও আলজেরিয়ার প্রতিনিধি। কেবল যুক্তরাষ্ট্রই বরাবরের মতো পক্ষ নিয়েছে ইসরায়েলের।

বুধবার (২৭ আগস্ট) গাজার দুর্ভিক্ষ পরিস্থিতি তুলে ধরতে অভুক্ত-অপুষ্টিতে ভোগা ফিলিস্তিনি শিশুদের ছবি জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে তুলে ধরেন আলেজেরিয়ার প্রতিনিধি। নিজের ১৩ বছর বয়সী ছেলের কাছে লেখা ইসরায়েলি আগ্রাসনে নিহত সাংবাদিক মরিয়ম আবু দাগ্গার আবেগঘন চিঠিও পড়ে শোনান তিনি।

যদিও আলজেরিয়ার প্রতিনিধির তথ্য-উপাত্তকে মিথ্যা দাবি করেছেন ইসরায়েলি প্রতিনিধি। বলেন, অপুষ্টি নয়, বরং অন্য কোনো রোগে মৃত্যু হয়েছে ফিলিস্তিনি শিশুদের। পাল্টাপাল্টি মন্তব্যে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়েছে দুই দেশের প্রতিনিধি।

জাতিসংঘে নিযুক্ত ইসরায়েলি প্রতিনিধি ড্যানি ড্যানন বলেন, আমি আপনাকে পরামর্শ দেব, কিছু দেখানোর আগে ঘটনাগুলো যাচাই করে নিন। যে ছবিগুলো দেখিয়েছেন- সেই নামগুলো যাচাই করেছি আমরা। আপনার সাথে আলাদা দেখা করে তাদের মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত বলবো। তবে এসব শিশুর সাথে অপুষ্টির কোনো সম্পর্ক নেই।

পাল্টা জবাবে আলজেরিয়ার প্রতিনিধি ওমর বেন্ডজামা বলেন, জাতিসংঘ মহাসচিবের প্রতিবেদনেই ঘটনাগুলো নথিভুক্ত করা হয়েছে। ইন্টিগ্রেটেড ফুড সিকিউরিটি ফেজ ক্লাসিফিকেশনের রিপোর্টে এসব ঘটনার স্পষ্ট উল্লেখও রয়েছে।

এদিনের বৈঠকে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের ১৪ দেশই ইসরায়েলের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। যৌথ বিবৃতিতে তারা সরাসরি অভিযোগ করেছে, গাজায় দুর্ভিক্ষ মানবসৃষ্ট এবং তা তেল আবিবের তৈরি।

ব্রিটিশ প্রতিনিধি বারবারা ওডওয়ার্ড বলেন, আধুনিক ইতিহাসে মধ্যপ্রাচ্যে প্রথমবারের মতো দুর্ভিক্ষ রেকর্ড করা হয়েছে। পুরোটাই মানবসৃষ্ট। গাজার সীমান্তে খাবারের ট্রাক অপেক্ষা করছে। অথচ শিশুরা অপুষ্টিতে মারা যাচ্ছে।

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্র বরাবরের মতোই পক্ষ নিয়েছে বন্ধু ইসরায়েলের। গাজায় দুর্ভিক্ষ ইস্যুতে আইপিসির প্রতিবেদনের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন দেশটির প্রতিনিধি। মার্কিন প্রতিনিধি ডরোথি শিয়া বলেন, আমরা স্বীকার করি গাজায় ক্ষুধা একটি বাস্তব সমস্যা। উল্লেখযোগ্য মানবিক চাহিদা পূরণ করা আবশ্যক। এবং তা যুক্তরাষ্ট্রের অগ্রাধিকার। তবে, দুর্ভাগ্যবশত IPC’র সাম্প্রতিক প্রতিবেদনটি সঠিক নয়।

প্রসঙ্গত, ক্ষুধাকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করায় নেতানিয়াহু প্রশাসনকে সমালোচনায় বিদ্ধ করেছে নিরাপত্তা পরিষদের সদস্যরা। গাজায় অবিলম্বে নিঃশর্ত ও স্থায়ী যুদ্ধবিরতির দাবি তাদের।

মহাসমারোহে আগামী মাসে অনুষ্ঠিতব্য ‘ভিক্টরি ডে’ প্যারেডের প্রস্তুতি নিচ্ছে এশিয়ান পরাশক্তি চীন। দেশটির প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সাথে এবার একই মঞ্চে দেখা যাবে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উন’কে। এতে যোগ দেবেন মোট ২৬ দেশের রাষ্ট্র ও সরকার প্রধান। ১০ হাজার সামরিক সদস্যের কুচকাওয়াজের পাশাপাশি দেখা মিলবে বেইজিংয়ের ভাণ্ডারের অত্যাধুনিক সব সমরাস্ত্রের।

মূলত আগামী ৩ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হবে চীনের ভিক্টরি ডে প্যারেড। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের অবসান এবং জাপানের আত্মসমর্পণের ৮০ বছর পূর্তি উপলক্ষে এবার যেন আয়োজনের কোনো কমতিই নেই। কুচকাওয়াজ ঘিরে এরইমধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়েছে বিশ্বজুড়ে।

বিশাল এই আয়োজন উপলক্ষে একসাথে দেখা যাবে পশ্চিমাবিরোধী নেতাদের। রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ছাড়াও চীনা প্রেসিডেন্টের সঙ্গে মঞ্চে থাকবেন উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উন। ধারণা করা হচ্ছে, এরমধ্য দিয়ে প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক কোনো অঙ্গনে বিশ্বনেতাদের সাথে মিলিত হবেন কিম।

তবে, নিমন্ত্রিত হলেও বেইজিং যাচ্ছেন না দক্ষিণ কোরিয়ার নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট লি জায়ে মিয়ং। অনেকটা নিশ্চিত ইরান, ইন্দোনেশিয়া ও বেলারুশের প্রেসিডেন্টের অংশগ্রহণ। থাকবেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীও।

চীনের ঘোষণা অনুযায়ী, এক ঘণ্টা ১০ মিনিটব্যাপী কুচকাওয়াজে প্রদর্শিত হবে বেইজিংয়ের সমরভাণ্ডারের সবচেয়ে শক্তিশালী এবং অত্যাধুনিক অস্ত্র। যার অস্তিত্ব এখনও বিশ্বের কাছে প্রকাশিত হয়নি। আর তাই, সামরিক বিশ্লেষকদের পুরো নজর এখন এই প্যারেডের দিকেই।

তিয়েনআনমেন স্কয়ারে অনুষ্ঠিত হবে এই প্যারেড। বিভিন্ন ফরমেশনে চোখ জুড়ানো কুচকাওয়াজে অংশ নেবেন চীনা সামরিক বাহিনীর ১০ হাজার সদস্য।

ধারণা করা হচ্ছে, নতুন প্রজন্মের যুদ্ধবিমান, মিসাইল সিস্টেমসহ কাটিং এইজ প্রযুক্তির নানা সামরিক সরঞ্জাম প্রদর্শন করবে বেইজিং।

মার্কিন হুমকি মোকাবেলায় এবার উপকূলে নৌবহর মোতায়েন করলো ভেনেজুয়েলা সরকার। সেই বহরে রয়েছে যুদ্ধজাহাজ, ড্রোনসহ একাধিক নৌযান। এক ভিডিওবার্তায় বিষয়টি নিশ্চিত করেন ভেনেজুয়েলার প্রতিরক্ষামন্ত্রী ভ্লাদিমির পাদ্রিয়ানো।

বুধবার (২৭ আগস্ট) আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোতেও উঠে আসে এমন তথ্য।

ভ্লাদিমির পাদ্রিয়ানো জানান, ক্যারিবীয় উপকূলে উল্লেখযোগ্য হারে ড্রোন মোতায়েন করা হবে। সেইসাথে থাকবে নৌটহল। আর উত্তর জলসীমায় অবস্থান নেবে নৌবাহিনীর যানগুলো।

এর আগে, কলম্বিয়া সীমান্তে নতুন করে ১৫ হাজার সামরিক সদস্য মোতায়েনের ঘোষণা দেয় লাতিন আমেরিকার দেশটি।

উল্লেখ্য, মাদক বিস্তার ঠেকাতে ভেনেজুয়েলার কাছে সাড়ে চার হাজার সদস্যসহ নৌবহর মোতায়েন করে পেন্টাগন। এরই জেরে একের পর এক পাল্টা পদক্ষেপ নিয়ে যাচ্ছে দেশটি।

আজ থেকে ভারতের ওপর অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করতে যাচ্ছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। সবমিলিয়ে ভারতের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কের হার দাঁড়াবে ৫০ শতাংশে।

ইউএস প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন নির্বাহী আদেশের মধ্য দিয়ে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হচ্ছে। দেশটির হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশনের মাধ্যমে এরই মধ্যে এ সংক্রান্ত নোটিশ জারি করেছে।

ট্রাম্প প্রশাসন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, রাশিয়া থেকে ভারতের অপরিশোধিত তেল কেনার কারণে মস্কো ইউক্রেন যুদ্ধ চালাতে অর্থ পাচ্ছে, আর তারই শাস্তি হিসেবে এই অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হচ্ছে। এর আগে, ১ আগস্ট থেকে কার্যকর হওয়া ২৫ শতাংশ শুল্কের ওপর এ নতুন শুল্ক যোগ হবে।

দেশটি সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, ভারতের প্রায় ৮৭ বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি এ শুল্কে সরাসরি প্রভাবিত হবে, যা দেশের জিডিপির প্রায় ২ দশমিক ৫ শতাংশ।

সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস, ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস।

দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে-মিয়ং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর সঙ্গে প্রথমবারের মতো বৈঠকে বসতে যাচ্ছেন। প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার পর এই সফর তার জন্য বেশ গুরুত্বপূর্ণ।

টোকিওতে জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিগেরু ইশিবা-র সঙ্গে একদিনের বৈঠকের পর লি স্থানীয় সময় রোববার (২৪ আগস্ট) ওয়াশিংটন ডিসি পৌঁছান। সেখানে হোয়াইট হাউসে ট্রাম্পের সঙ্গে একটি আনুষ্ঠানিক বৈঠকে অংশ নেবেন তিনি।

এই বৈঠক এমন এক সময়ে হচ্ছে যখন জুলাই মাসে একটি অপ্রকাশিত বাণিজ্য চুক্তি অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র দক্ষিণ কোরিয়ার ওপর তার পাল্টা শুল্কহার ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৫ শতাংশে নামাতে সম্মত হয়।

এই বৈঠকটি দক্ষিণ কোরিয়ার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ইউন সুক-ইওলের সামরিক আইন জারির ঘোষণার পর দেশজুড়ে রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক বিঘ্নিত হয়েছিল।

বৈঠকে মূল আলোচনা হবে জুলাই মাসের সেই মৌখিক চুক্তিকে কেন্দ্র করে, যার আওতায় দক্ষিণ কোরিয়া যুক্তরাষ্ট্র থেকে ১০০ বিলিয়ন ডলারের জ্বালানি কেনার এবং ৩৫০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

এই বিপুল বিনিয়োগ ছাড়াও দক্ষিণ কোরিয়ার শীর্ষস্থানীয় কোম্পানিগুলোর সরাসরি বিনিয়োগ নিয়েও আলোচনা হবে—যা ট্রাম্প ইতিমধ্যেই উল্লেখ করেছেন।

যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট লি একটি বিশাল প্রতিনিধি দল নিয়ে এসেছেন, যেখানে রয়েছেন দক্ষিণ কোরিয়ার চারটি প্রধান শিল্পগোষ্ঠীর প্রধানরা: স্যামসাং ইলেকট্রনিকস, এসকে গ্রুপ, হুন্দাই মোটর এবং এলজি গ্রুপ।

দক্ষিণ কোরিয়ার দৈনিক মেইল বিজনেস পত্রিকার মতে, এই চার কোম্পানি ইতোমধ্যেই ৯১.২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রে বিনিয়োগ করছে।

সূত্র: আল জাজিরা।

অস্ট্রেলিয়ার ২০টির বেশি শহরে গাজায় যুদ্ধ বন্ধের দাবিতে বিক্ষোভ করেছে হাজারো মানুষ। দেশটির ব্রিসবেন শহরের কেন্দ্রস্থল থেকে হাজারো মানুষ স্থানীয় সময় রোববার (২৪ আগস্ট) ভিক্টোরিয়া ব্রিজ অতিক্রম করে মিছিল করছে। তারা গাজায় চলমান যুদ্ধ বন্ধ, যুদ্ধবিরতি এবং দুর্ভিক্ষ ও অনাহার বন্ধের দাবি জানাচ্ছে।

এই বিক্ষোভটি অস্ট্রেলিয়া জুড়ে অনুষ্ঠিত বহু বিক্ষোভের একটি, যাকে ‘ডে অফ অ্যাকশন’ হিসেবে বর্ণনা করা হচ্ছে। অস্ট্রেলিয়ার রাজধানীসহ ২০টিরও বেশি শহর এই অভিযানে অংশ নিয়েছে।

শহরগুলোতে পুলিশের উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো হলেও, পুরো বিক্ষোভ শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

উল্লেখ্য, শুক্রবার (২২ আগস্ট) প্রথমবারের মতো গাজা সিটি এবং এর আশপাশের এলাকাগুলোতে দুর্ভিক্ষ ঘোষণা করেছে জাতিসংঘ। গাজা উপত্যকার বর্তমান পরিস্থিতি দুর্ভিক্ষের পঞ্চম পর্যায়ে পৌঁছেছে। এ ধাপে চরম ক্ষুধায় বহু মানুষ মারা যেতে পারে। আগামী সেপ্টেম্বরের শেষ নাগাদ দুর্ভিক্ষের এই চরম রূপ খান ইউনিস ও দেইর আল-বালাহসহ আরও কিছু এলাকায় ছড়িয়ে পড়তে পারে। এতে গাজাজুড়ে ৫ লাখেরও বেশি মানুষ দুর্ভিক্ষের কবলে পড়বে।

সূত্র: আল জাজিরা।

বাংলাদেশসহ এশিয়ার পাঁচটি দেশে নির্ধারিত সফর আপাতত বাতিল করেছেন ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি।তার এ সিদ্ধান্ত বৃহস্পতিবার (২১ আগস্ট) বাংলাদেশ সরকারকে জানানো হয়েছে।

এশিয়ার পাঁচটি দেশে সফরের শুরুতে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের আমন্ত্রণে ৩০ আগস্ট ইতালির প্রধানমন্ত্রী মেলোনির ঢাকায় আসার কথা ছিল। পরদিন প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে তার বৈঠক হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত ছিল।

মেলোনির সফর বা‌তিলের কারণ জানতে চাইলে এক কূটনী‌তিক গণমাধ্যমকে জানান, বাংলাদেশসহ এশিয়ার পাঁচটি দেশে সফর বাতিল করেছেন ইতালির প্রধানমন্ত্রী। বাংলাদেশ দিয়ে তার সফর শুরুর কথা ছিল। এরপর সিঙ্গাপুর, ভিয়েতনাম, দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানে যাওয়ার কথা ছিল মেলোনির।

ত‌বে ইউক্রেন যুদ্ধের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মধ্যে আলোচনায় ন্যাটোভুক্ত দেশগুলোর অন্যতম শীর্ষ নেতা হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন কর‌ছে ইতা‌লি। সেই ব্যস্ততার কারণে এ‌শিয়া সফর বা‌তিল করেছে তি‌নি।

ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধে রাশিয়ার হয়ে অংশগ্রহণকারী উত্তর কোরিয়ার সেনাদের ‘বীর’ আখ্যা দিয়েছেন সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উন। বৃহস্পতিবার (২১ আগস্ট) দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন কেসিএনএ’তে প্রচার করা হয় এ খবর।

সংবাদমাধ্যমটি জানায়, উত্তর কোরীয় সেনা কর্মকর্তাদের সাথে সাক্ষাৎ করেন কিম। ধন্যবাদ জানিয়েছেন বিদেশে দায়িত্ব পালনকারী সেনা কর্মকর্তাদের। রাশিয়ার কুরস্কে যেভাবে উত্তর কোরীয় সেনারা বিভিন্ন কমব্যাট ইউনিটের নেতৃত্ব দিচ্ছে, তার প্রশংসা করেন কিম।

এর আগে, ইউক্রেন যুদ্ধে নিহত উত্তর কোরীয় সেনাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান তিনি। রাষ্ট্রীয় সম্মাননা জানানো হয় নিহত সেনাদের প্রতি।

ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধে অংশগ্রহণের জন্য ১০ হাজারের বেশি উত্তর কোরীয় সেনাকে রাশিয়ায় পাঠানো হয়েছে। আরও একটি বহর পাঠানোর পরিকল্পনার কথাও শোনা গেছে।

ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাথে বৈঠক চলাকালে ধনকুবের ইলন মাস্কের প্রশংসা করলেন ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি। আর এতেই যেন মুখ গোমড়া হয়ে গেল মার্কিন প্রেসিডেন্টের।

ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে সোমবার (১৮ আগস্ট) হোয়াইট হাউসে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভোলদেমির জেলেনস্কি ও গুরুত্বপূর্ণ ইউরোপীয় নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই বৈঠকেই ঘটে ঘটনাটি।

মঙ্গলবার (১৯ আগস্ট) ‘দ্য ইকোনমিক টাইমস’ -এর এক প্রতিবেদনে উঠে আসে এ তথ্য।

প্রতিবেদনে বলা হয়, যুদ্ধক্ষেত্রে ইউক্রেনকে প্রযুক্তিগত সহায়তা দেয়ায় মাস্কের মালিকানাধীন স্টারলিংককে ধন্যবাদ জানান মেলোনি। আর সেকথা শোনার সাথে সাথেই মলিন হয়ে যায় ট্রাম্পের চেহারা। মেলোনির বক্তব্যের পুরোটা সময় মুখ কালো করে নিঃশব্দে বসে থাকতে দেখা যায় তাকে।

এ সময়, ট্রাম্পের প্রতিক্রিয়া দেখে বিষয়টা সম্ভবত আঁচ করতে পারেন মেলোনি। এরপর মাস্ককে ধন্যবাদ দেওয়ার কারণ সম্পর্কে বিশদ বর্ণনা করেন তিনি।

ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানিয়ে বক্তব্য শুরু করলেও, পরিস্থিতি সামাল দিতে পরে আরেক দফা ধন্যবাদ জানান মেলোনি।

উল্লেখ্য, গত নির্বাচনে ট্রাম্পের পক্ষে প্রচারণা চালিয়েছিলেন মাস্ক। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্টের কর ও ব্যয় সংক্রান্ত বিল নিয়ে দূরত্ব বাড়ে একসময়ের ঘনিষ্ঠ দুই বন্ধুর সম্পর্কে।

ফাঁস হওয়া এক অডিওতে ইসরায়েলি সামরিক গোয়েন্দা সংস্থার সাবেক প্রধান মেজর জেনারেল অ্যারন হালিভাকে শোনা গেছে গাজায় হাজারো ফিলিস্তিনির মৃত্যুকে ‘প্রয়োজনীয় ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অপরিহার্য’ বলে মন্তব্য করতে।

ইসরায়েলের চ্যানেল ১২-এর প্রকাশিত রেকর্ডিংয়ে হালিভা বলেন, ‘৭ অক্টোবর, ২০২৩ সালে যা ঘটেছে, তার প্রতিটি মানুষের বিনিময়ে ৫০ ফিলিস্তিনির মরতে হবে।’

তিনি আরও দাবি করেন, ‘গাজায় ইতোমধ্যেই ৫০ হাজার মানুষ নিহত হয়েছে, আর এই সংখ্যাটা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য দরকারি ও অপরিহার্য।’

রেকর্ডিংয়ের সময়কাল স্পষ্ট নয়, তবে মার্চেই গাজায় নিহতের সংখ্যা ৫০ হাজার ছাড়িয়েছে। হালিভা বলেন, ‘কোনো বিকল্প নেই—সময়-সময় তাদের একটি ‘নাকবা’র মুখোমুখি হতে হয়, যেন তারা মূল্যটা বুঝতে পারে।’ (নাকবা বা ‘বিপর্যয়’—১৯৪৮ সালে ইসরায়েল প্রতিষ্ঠার সময় প্রায় ৭ লাখ ফিলিস্তিনিকে ঘরছাড়া বা বিতাড়িত করার ঐতিহাসিক ঘটনা।)

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের আক্রমণের সময় হালিভা ছিলেন সামরিক গোয়েন্দা প্রধান। ওই হামলায় ১ হাজার ২শ’ জন নিহত ও ২৫০ জন অপহৃত হন। নেতৃত্বের দায়িত্ব স্বীকার করে তিনি ২০২৪ সালের এপ্রিলে পদত্যাগ করেন, প্রথম উচ্চপদস্থ সেনা কর্মকর্তা হিসেবে।

চ্যানেল ১২ জানায়, রেকর্ডিংগুলো দীর্ঘ আলাপচারিতার অংশ, তবে যার সঙ্গে হালিভা কথা বলেছেন তার পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। এসব কথোপকথনে তিনি দায় চাপান শুধু সেনাবাহিনীর ওপর নয়, ইসরায়েলের রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা সংস্থা শিন বেত-এর ওপরও, যারা বিশ্বাস করেছিল হামাস বড় আকারে আক্রমণ চালাবে না।

চ্যানেল ১২-কে দেওয়া বিবৃতিতে হালিভা বলেন, এসব মন্তব্য ছিল ‘একটি বন্ধ বৈঠকে করা আংশিক কথাবার্তা, যা পুরো প্রেক্ষাপট তুলে ধরে না।’

এদিকে, গাজা দখলের নতুন পরিকল্পনা নিয়ে ইসরায়েল ক্রমবর্ধমান আন্তর্জাতিক সমালোচনার মুখে। নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ক্রিস্টোফার লাক্সন বলেন, প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু ‘বাস্তবতা থেকে সরে গেছেন’ এবং গাজা নগরী দখল ‘সম্পূর্ণরূপে অগ্রহণযোগ্য’। ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন মন্তব্য করেন, ‘নেতানিয়াহুই এখন নিজেই একটি সমস্যা’।

হামাস এক বিবৃতিতে হালিভার মন্তব্যকে নিন্দা জানিয়ে বলেছে, এটি প্রমাণ করে যে ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে অপরাধগুলো ইসরায়েলের রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা নেতৃত্বের উচ্চ পর্যায়ের নীতির অংশ।

জাতিসংঘের একটি বিশেষ কমিটি গত নভেম্বরে এক প্রতিবেদনে জানায়, গাজায় ইসরায়েলের কর্মকাণ্ড গণহত্যার বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। গত মাসে দুটি ইসরায়েলি মানবাধিকার সংস্থাও একই অভিযোগ তোলে। তবে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী এসব অভিযোগকে ‘ভিত্তিহীন’ বলে দাবি করেছে।

সূত্র: সিএনএন নিউজ, নিউজ-১২।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিনের মধ্যে আলোচনায় ইউক্রেন যুদ্ধের অবসান নিয়ে কোনও চুক্তি না হওয়ার পর, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভোলদেমির জেলেনস্কি বলেছেন, ভ্লাদিমির পুতিন যুদ্ধবিরতিতে রাজি না হয়ে পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছেন।

গতকাল শনিবার (১৬ আগস্ট) প্রেসিডেন্ট ভোলদেমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, তিনি আগামী সোমবার (১৮ আগস্ট) যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ওয়াশিংটন ডিসিতে সাক্ষাৎ করবেন।

তবে, ওয়াশিংটন ডিসিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে দেখা করার পূর্বে তিনি পুতিনকে নিয়ে সমালোচনা করেন। অবশ্য, পুতিনের সঙ্গে বৈঠকের পর ট্রাম্পের অবস্থানে বড় পরিবর্তন দেখা গেছে—তিনি আর কেবল যুদ্ধবিরতি চান না, বরং সরাসরি একটি স্থায়ী শান্তিচুক্তি করতে চান।

সূত্র: বিবিসি নিউজ।

বহুল প্রতীক্ষিত প্রায় তিন ঘণ্টার বৈঠক শেষে আলাস্কা ছাড়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। করমর্দনের মাধ্যমে বিদায় নেন এই দুই নেতা। খবর রয়টার্সের।

যুক্তরাষ্ট্রের আলাস্কা অঙ্গরাজ্যের অ্যাঙ্কোরেজ শহরের এলমেনডর্ফ-রিচার্ডসন সামরিক ঘাঁটিতে দুইজন একে অপরকে আন্তরিকভাবে ‘শুভ বিদায়’ বলেন ট্রাম্প-পুতিন। দ্বিপাক্ষিক বৈঠক ও সংবাদ সম্মেলনের পরে দোভাষীর মাধ্যমে কথা বলতে এবং বিদায়ী করমর্দন করতে দেখা গেছে তাদের। এয়ার ফোর্স ওয়ানে করে ওয়াশিংটনের উদ্দেশ্যে রওনা হন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। অন্যদিকে, মস্কোর উদ্দেশ্যে উড়াল দেন রুশ প্রেসিডেন্টও।

বড় কোনো ‘ব্রেকথ্রু’ ছাড়াই শেষ হয় ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ভ্লাদিমির পুতিনের মধ্যে বহুল আলোচিত এই বৈঠক। যদিও আলোচনাকে ইতিবাচক আখ্যা দিয়েছে দুই পক্ষই। ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে চুক্তি না হলেও খুব ভালো সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ট্রাম্প। তবে ভ্লাদিমির পুতিন বলেছেন, সংঘাতের প্রাথমিক কারণগুলো আগে দূর করতে হবে। পরবর্তী আলোচনার জন্য ট্রাম্পকে মস্কোতে দাওয়াত দিয়েছেন তিনি।

এর আগে, পুতিনকে বিমানবন্দরে লালগালিচা সংবর্ধনা দেওয়া হয়। তাকে গ্রহণ করার জন্য উপস্থিত ছিলেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। দুই প্রেসিডেন্টই একই সময়ে (বাংলাদেশ সময় শুক্রবার দিবাগত রাত ১টার পর) বিমান থেকে অবতরণ করেন। তারা দুজনই লালগালিচা দিয়ে হেঁটে পরস্পরের কাছে এসে করমর্দন করেন।

প্রসঙ্গত, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সপ্তমবারের মতো মুখোমুখি বৈঠক ছিল। এ বৈঠকে ট্রাম্পের সঙ্গে ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং তার বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ। আর পুতিনের সঙ্গে ছিলেন রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ এবং পুতিনের সহকারী ও মুখপাত্র ইউরি উশাকভ।